প্রশ্নোত্তরে ইসলামী জ্ঞান: পর্ব-২ (বিষয়: আল কুরআন)

প্রশ্নোত্তরে ইসলামী জ্ঞান: (বিষয়: পবিত্র কুরআন) সংকলন ও গ্রন্থনা: মুহা: আবদুল্লাহ্‌ আল কাফী (লিসান্স, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়) ১০০) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনুল কারীমে কতটি সূরা আছে? উত্তরঃ ১১৪টি। ১০১) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের প্রথম সূরার নাম কি? উত্তরঃ সূরা ফাতিহা। ১০২) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের সবচেয়ে বড় সূরার নাম কি? উত্তরঃ সূরা বাকারা। ১০৩) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের সবচেয়ে ছোট […]

রোযার প্রচলিত নিয়তের হুকুম কী?

প্রশ্ন

From: মোঃনেছার উদ্দিন। সরকারি মাদ্রাসা- ই – আলিয়া, ঢাকা
বিষয়ঃ নিয়্যত সংক্রান্ত

প্রশ্নঃ
السلام عليكم ورحمةالله আহলে খবিশের একজন শায়েখের একটা video দেখলাম ওনি আমাদের দেশে প্রচলিত নামাজের নিয়্যত রোজার নিয়্যত এগুলো প্রচন্ড তুচ্ছতাচ্ছিল্ল করলেন। ওনি বল্লেন যে সেহরি খাওয়া হয় ভোররাতে এবং নিয়্যাত করে আছুমা গাদাম মানে আগামীকালের, যারা এই নিয়ত বানিয়েছে তাদেরকে মূর্খ জাহেল বলে তিরস্কার করলেন, এ জাহেলদের কি জবাব দেয়া যায় দয়াকরে হুজুর আপনার নিকট জানতে চাচ্ছি।

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

আমরা আহলে হাদীসদের মাসলাকের বিরোধীতা করি। তাই বলে তাদের ব্যক্তি আক্রমণ করি না। এটা ঠিক নয়। আহলে হাদীসদের আহলে খবীশ বলা উচিত নয়।

আমরা তাদের সব বিষয়ের বিরোধীতা করি না। যেসব বিষয় কুরআন ও সুন্নাহের খেলাফ শুধু সেসবেরই বিরোধীতা করি।

তাদের সঠিক কথাগুলোকে সমর্থন করি। ভুলগুলোকে শুধরে দেই।

যেমন রোযার নিয়ত সংক্রান্ত আমাদের দেশে প্রচলিত যে দুআ রয়েছে “আছুমা গাদাম” বলে এর সত্যিকার কোন প্রমাণ নেই।

তাই এটি পরিত্যাজ্য। নিয়ত মনে মনে করলেই হয়। মুখে বলা জরুরী নয়।

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

The post রোযার প্রচলিত নিয়তের হুকুম কী? appeared first on আহলে হক বাংলা মিডিয়া সার্ভিস.

জমি ক্রয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উকীল নিজের জন্য জমি ক্রয় করে অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেবার হুকুম কী?

প্রশ্ন

From: M M S Hossain
বিষয়ঃ ক্রয়-বিক্রয়

প্রশ্নঃ
আচ্ছালামু আলাইকুম
জনাব আমার থেকে এক ব্যক্তি নয় লক্ষ টাকা এ কথা বলে নিয়েছে যে সে আমাকে অর্ধ কাঠা জায়গা দিবে। এবং পরবর্তীতে জমীন রেজিস্ট্রারির জন্য আরও পঞ্চাশ হাজার টাকা নিয়েছে। কিন্তু সে আমার নামে জমীন রেজিস্ট্রারী করে নাই। বরং তার নিজের নামেই করেছে। কিছু দিন পরে সে আমাকে জমীন বিক্রি না করেই জমীনের আনুমানিক দাম ধরে এগার লক্ষ টাকা প্রদান করে। অথচ সে আমার থেকে মোট সাড়ে নয় লক্ষ টাকা নিয়েছিল।
এমতাবস্হায় আমার জন্য কি আমার দেয়া সাড়ে নয় লক্ষ টাকার অতিরিক্ত(দেড় লক্ষ) টাকা নেয়া হারাম হয়েছে?

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

উত্তরটি বুঝার জন্য দু’টি পারিভাষিক শব্দ বুঝে নিন।

প্রশ্নোক্ত বিষয়ের মাঝে টাকা প্রদানকারী ব্যক্তি আপনি হলেন “মুয়াক্কিল”। আর যাকে জমি ক্রয়ের জন্য দায়িত্ব প্রদান করেছেন, তিনি হলেন আপনার “উকীল”।

নয় লাখ টাকার বিনিময়ে আধা কাঠা জমি ক্রয়ের জন্য যাকে ওকীল বানানো হয়েছে, তিনি যখন মুয়াক্কিলের টাকায়ই জমিটি ক্রয় করেছে। তখন জমিটি মুয়াক্কিলের জন্য হয়ে গেছে।

নিজের নামে উক্ত জমির রেজিষ্ট্রারী করা উকীলের জন্য জায়েজ হয়নি।

তাই টাকা নয়, আধা কাঠা জমি মুয়াক্কিলকে ফেরত দেয়া আবশ্যক।

হ্যাঁ, জমিটি বুঝে পাবার পর যদি মুয়াক্কিল উক্ত জমিটি উকীলের কাছে বিক্রি করে ক্রয় করা টাকার চেয়ে বেশি মূল্যে তাহলে তা ক্রয় করে নেয়া উকীলের জন্য বৈধ হবে।

যেমন প্রশ্নে উল্লেখিত সূরতে নয় লাখ টাকায় ক্রয় করা জমিটি এগার লাখ টাকায় উকীল ক্রয় করে নিলে উক্ত ক্রয় বিক্রয় বিশুদ্ধ হবে। সেই হিসেবে অতিরিক্ত টাকা গ্রহণ মুয়াক্কিলের জন্য জায়েজ হবে।

কিন্তু উপরোক্ত পদ্ধতি ব্যতীত নয় লাখ টাকা প্রদান করে পরবর্তীতে এগার লাখ টাকা গ্রহণ করা সুদ হবে। যা গ্রহণ করা বৈধ হবে না।

তাই আপনার উচিত উকীলের কাছে থেকে প্রথমে জমি বুঝে নেয়া, তারপর ইচ্ছে হলে জমিটি তার কাছে এগার বা তার চেয়ে কমবেশি মূল্যে বিক্রি করে টাকা গ্রহণ করা।

المال الذى قبضه الوكيل بالبيع والشراء وإيفاء الدين واستفائه، والما الذى قبضه الوكيل بقبض العين بحسب وكالته، هو فى حكم الوديعة بيد الوكيل (شرح المجلة لسليم رستم باز-784، رقم المادة-1463)

وإن بشراء شيء بغير عينه فاشراء للوكيل إلا إذا نواه للمؤكل وقت الشراء، أو شراه بماله أى بمال المؤكل (الدر المختار، كتاب الوكالة، باب الوكالة بالبيع والشراء-8/252)

وليس للمودع حق التصرف والاسترباح فى الوديعة (المبسوط للسرخسى، كتاب الوديعة-11/122)

لا يجوز التصرف فى مال غيره بلا إذنه، ولا ولايته (الدر المختار مع الشامى-9/291)

وليس للوكيل بشراء عين شراؤه لنفسه ولا لمؤكل آخر، لأنه يؤدى إلى تغرير الآمر من حيث أنه اعتمد عليه (مجمع الأنهر فى شرح ملتقى الأبحر، باب الوكالة بالبيع والشراء-3/319، البحر الرائق-7/268)

الوكيل بالبيع لا يملك شرءه لنفسه، لأن الواحد لا يكون مشتريا وبائعا، فيبيعه من غيره ثم يشتريه منه، وإن أمره المؤكل أن يبيعه من نفسه وولده الصغير، أو ممن لا تقبل شهادته فباع منهم جاز (رد المحتار-8/257)

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

The post জমি ক্রয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উকীল নিজের জন্য জমি ক্রয় করে অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেবার হুকুম কী? appeared first on আহলে হক বাংলা মিডিয়া সার্ভিস.

জমি ক্রয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উকীল নিজের জন্য জমি ক্রয় করে অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেবার হুকুম কী?

প্রশ্ন

From: M M S Hossain
বিষয়ঃ ক্রয়-বিক্রয়

প্রশ্নঃ
আচ্ছালামু আলাইকুম
জনাব আমার থেকে এক ব্যক্তি নয় লক্ষ টাকা এ কথা বলে নিয়েছে যে সে আমাকে অর্ধ কাঠা জায়গা দিবে। এবং পরবর্তীতে জমীন রেজিস্ট্রারির জন্য আরও পঞ্চাশ হাজার টাকা নিয়েছে। কিন্তু সে আমার নামে জমীন রেজিস্ট্রারী করে নাই। বরং তার নিজের নামেই করেছে। কিছু দিন পরে সে আমাকে জমীন বিক্রি না করেই জমীনের আনুমানিক দাম ধরে এগার লক্ষ টাকা প্রদান করে। অথচ সে আমার থেকে মোট সাড়ে নয় লক্ষ টাকা নিয়েছিল।
এমতাবস্হায় আমার জন্য কি আমার দেয়া সাড়ে নয় লক্ষ টাকার অতিরিক্ত(দেড় লক্ষ) টাকা নেয়া হারাম হয়েছে?

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

উত্তরটি বুঝার জন্য দু’টি পারিভাষিক শব্দ বুঝে নিন।

প্রশ্নোক্ত বিষয়ের মাঝে টাকা প্রদানকারী ব্যক্তি আপনি হলেন “মুয়াক্কিল”। আর যাকে জমি ক্রয়ের জন্য দায়িত্ব প্রদান করেছেন, তিনি হলেন আপনার “উকীল”।

নয় লাখ টাকার বিনিময়ে আধা কাঠা জমি ক্রয়ের জন্য যাকে ওকীল বানানো হয়েছে, তিনি যখন মুয়াক্কিলের টাকায়ই জমিটি ক্রয় করেছে। তখন জমিটি মুয়াক্কিলের জন্য হয়ে গেছে।

নিজের নামে উক্ত জমির রেজিষ্ট্রারী করা উকীলের জন্য জায়েজ হয়নি।

তাই টাকা নয়, আধা কাঠা জমি মুয়াক্কিলকে ফেরত দেয়া আবশ্যক।

হ্যাঁ, জমিটি বুঝে পাবার পর যদি মুয়াক্কিল উক্ত জমিটি উকীলের কাছে বিক্রি করে ক্রয় করা টাকার চেয়ে বেশি মূল্যে তাহলে তা ক্রয় করে নেয়া উকীলের জন্য বৈধ হবে।

যেমন প্রশ্নে উল্লেখিত সূরতে নয় লাখ টাকায় ক্রয় করা জমিটি এগার লাখ টাকায় উকীল ক্রয় করে নিলে উক্ত ক্রয় বিক্রয় বিশুদ্ধ হবে। সেই হিসেবে অতিরিক্ত টাকা গ্রহণ মুয়াক্কিলের জন্য জায়েজ হবে।

কিন্তু উপরোক্ত পদ্ধতি ব্যতীত নয় লাখ টাকা প্রদান করে পরবর্তীতে এগার লাখ টাকা গ্রহণ করা সুদ হবে। যা গ্রহণ করা বৈধ হবে না।

তাই আপনার উচিত উকীলের কাছে থেকে প্রথমে জমি বুঝে নেয়া, তারপর ইচ্ছে হলে জমিটি তার কাছে এগার বা তার চেয়ে কমবেশি মূল্যে বিক্রি করে টাকা গ্রহণ করা।

المال الذى قبضه الوكيل بالبيع والشراء وإيفاء الدين واستفائه، والما الذى قبضه الوكيل بقبض العين بحسب وكالته، هو فى حكم الوديعة بيد الوكيل (شرح المجلة لسليم رستم باز-784، رقم المادة-1463)

وإن بشراء شيء بغير عينه فاشراء للوكيل إلا إذا نواه للمؤكل وقت الشراء، أو شراه بماله أى بمال المؤكل (الدر المختار، كتاب الوكالة، باب الوكالة بالبيع والشراء-8/252)

وليس للمودع حق التصرف والاسترباح فى الوديعة (المبسوط للسرخسى، كتاب الوديعة-11/122)

لا يجوز التصرف فى مال غيره بلا إذنه، ولا ولايته (الدر المختار مع الشامى-9/291)

وليس للوكيل بشراء عين شراؤه لنفسه ولا لمؤكل آخر، لأنه يؤدى إلى تغرير الآمر من حيث أنه اعتمد عليه (مجمع الأنهر فى شرح ملتقى الأبحر، باب الوكالة بالبيع والشراء-3/319، البحر الرائق-7/268)

الوكيل بالبيع لا يملك شرءه لنفسه، لأن الواحد لا يكون مشتريا وبائعا، فيبيعه من غيره ثم يشتريه منه، وإن أمره المؤكل أن يبيعه من نفسه وولده الصغير، أو ممن لا تقبل شهادته فباع منهم جاز (رد المحتار-8/257)

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

The post জমি ক্রয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উকীল নিজের জন্য জমি ক্রয় করে অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেবার হুকুম কী? appeared first on আহলে হক বাংলা মিডিয়া সার্ভিস.

শরীয়তে তালাক দেবার অধিকার কার? তালাকপ্রাপ্ত হবার পর স্বামী বলা বা লিখা যাবে?

প্রশ্ন

শরীয়তে তালাক দেবার অধিকার স্বামীর না স্ত্রীর? তালাক হবার পর মহিলার কী এ অধিকার আছে যে, সে তার স্বামীকে স্বামী বলে বা লিখে?

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

শরীয়তে তালাক দেবার হক শুধু স্বামীকে প্রদান করেছে। তবে স্বামী স্ত্রীকে তালাকের অধিকার প্রদান করলে স্ত্রীও নিজের উপর তালাক পতিত করার অধিকার পায়।

স্বামী স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়ে দিলে স্ত্রী স্বামীর জন্য হারাম হয়ে যায়। স্বামী ও স্ত্রীর মাঝে কোন সম্পর্ক বাকি থাকে না।

তিন তালাকের পরও স্বামীকে স্বামী বলা বা মনে করা জায়েজ নয়।

عن ابن عباس قال اتى النبي صلى الله عليه وسلم رجل فقال يا رسول الله ان سيدي زوجني امته وهو يريد ان يفرق بيني وبينها قال فصعد رسول الله صلى الله عليه وسلم المنبر فقال يا ايها الناس ما بال احدكم يزوج عبده امته ثم يريد ان يفرق بينهما انما الطلاق لمن اخذ بالساق

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রসূল! আমার মনিব তার বাঁদীকে আমার সাথে বিবাহ দিয়েছে। এখন সে আমার ও আমার স্ত্রীর মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে চায়। রাবী বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে আরোহণ করলেন, অতঃপর বলেনঃ হে লোকসকল! তোমাদের কারো এরূপ আচরণ কেন যে, সে তার গোলামের সাথে তার বাঁদীর বিবাহ দেয়, অতঃপর তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে চায়? নারীর ঊরু স্পর্শ করা যার জন্য বৈধ, তালাকের অধিকার তার। [সুনানে ইবনে মাজাহ-১৫১, হাদীস নং-২০৮১]

جعل الطلاق بيد الزوج لا بيد الزوجة

إن الذى يملك الطلاق إنما هو الزوج…. ولا تلملكه الزوجة إلا بتوكيل من الزوج أو تفويض منه (الفقه الأسلامى وأدلته-7/347، 355)

لأن الطلاق لا يكون من النساء (رد المحتار-4/361)

ومحله المنكوحة وأهله زوج عاقل بالغ مستقظ (الدر المختار مع رد المحتار-4/431، هندية-1/348، 353

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

The post শরীয়তে তালাক দেবার অধিকার কার? তালাকপ্রাপ্ত হবার পর স্বামী বলা বা লিখা যাবে? appeared first on আহলে হক বাংলা মিডিয়া সার্ভিস.

সেহরী না খেয়ে লাগাতার রোযা রাখার হুকুম কী?

প্রশ্ন

একটানা না ভেঙ্গে ৩ দিন বা ৭ দিন রোজা রাখা যাবে কি ? যদি আমি রোজা রাখা শুরু করি রবিবার থেকে আর ইফতার করি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ; শারিয়াহর দৃষ্টিকোণ থেকে এটার বৈধতা আছে কি ? বিভিন্ন আওলিয়ার জীবনীতে এমন রোজার উল্লেখ পাওয়া যায়।

এরকম রোজা রাখা কি হারাম নাকি অপছন্দনীয় ?

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

যে ব্যক্তি এমনটি করতে পারে। শারিরীকভাবে অসুস্থ্য হবার সম্ভাবনা না থাকে, তাহলে তার জন্য এমনটি করা জায়েজ আছে। কিন্তু শারিরীকভাবে অসুস্থ্য হয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকলে এমনটি করা জায়েজ হবে না।

وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ [٢:١٩٥]

নিজের জীবনকে ধ্বংসের সম্মুখীন করো না। [সূরা বাকারা-১৯৫]

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ حَمْدَانَ، ثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، ثَنَا حَمَّادُ بْنُ خَالِدٍ، ثَنَا الزُّبَيْرُ بْنُ عَبْدِ اللهِ، عَنْ جَدَّةٍ لَهُ يُقَالُ لَهَا: زَهِيمَةُ، قَالَتْ: «كَانَ عُثْمَانُ يَصُومُ الدَّهْرَ، وَيَقُومُ اللَّيْلَ إِلَّا هَجْعَةً مِنْ أَوَّلِهِ» حلية الأولياء لحافظ ابو نعيم احمد بن عبد الله بن احمد بن اسحاق-1/56

হযরত যুবায়ের বিন আব্দুল্লাহ তার দাদী রুহাইমা থেকে বর্ণনা করেন, উসমান রাঃ সারা বছর রোযা রাখতেন, এবং সারা রাত নামায পড়তেন, তবে শুরু রাতে ঘুমাতেন। (হিলয়াতুল আওয়ালিয়া-১/৫৬]

হযরত উমর বিন খাত্তাব রাঃ এর জীবনীতে ইবনে কাসীর রহঃ লিখেনঃ

كان يصلى بالناس العشاء ثم يدخل بيته فلا يزال يصلى إلى الفجر، وما مات حتى سرد الصوم، (البداية والنهاية-7/135)

তিনি লোকদের সাথে ইশার নামায আদায় করতেন, তারপর ঘরে এসে ফজর পর্যন্ত সারারাত নামায পড়তেন। ধারাবাহিক রোযা রাখা অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেছেন। [আলবিদায়া ওয়াননিহায়া-৭/১৩৫]

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

The post সেহরী না খেয়ে লাগাতার রোযা রাখার হুকুম কী? appeared first on আহলে হক বাংলা মিডিয়া সার্ভিস.

স্রষ্টা ও তাঁর অস্তিত্ব

আল্লামা মনজূর নোমানী রহঃ

আমাদের এবং সমগ্র বিশ্বজগতের মহান কোনো সৃষ্টিকর্তা আছেন এবং তিনিই আপন কুদরতে সবকিছু পরিচালনা করছেন এ-বিশ্বাসটুকুর উপর সকল দ্বীন ও ধর্মের মূল ভিত্তি। যদি কেউ এটুকু মানতে প্রস্তুত না হয়, তাহলে দ্বীন-ধর্মের সব কথাই তার কাছে পাগলের প্রলাপ কিংবা সেকেলে মানুষের অলীক কল্পনা বলে মনে হবে।

যাইহোক আল্লাহর অস্তিত্ব ও বিদ্যমানতা প্রত্যেক ধর্মের মৌলিকতম বিষয়। কোনো ধর্মের প্রতি তাকেই আহ্বান করা যায় যে প্রথমে এ মৌলিক কথাটুকু মেনে নেয়। আর বাস্তবতা হলো, আল্লাহর বিদ্যমানতার অনুভব ও জ্ঞান মানুষের স্বভাব-নিহিত। এজন্য মানুষ নিজের অস্তিত্বের মতোই আল্লাহর অস্তিত্বকে বিশ্বাস করে। দলিল প্রমাণের অপেক্ষা করে না। আর তাই মহাকালের সব মানুষ আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাসী ছিলো। এমনকি নাস্তিকতা ও প্রকৃতিবাদের এ যুগেও ব্যতিক্রম ছাড়া পৃথিবীর প্রায় সব মানুষই আল্লাহর বিদ্যমানতায় বিশ্বাস করে।

বিষয়টি খুব স্পষ্ট হওয়ার কারণে এ নিয়ে কোরআন মাজীদে সরাসরি আলোচনা কম করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন জায়গায় ইশারা ইঙ্গিতে যতটুকু দলিল প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে, তাও একজন সাধারণ মানের আকলমন্দের জন্য যথেষ্ট।

তবে হ্যাঁ, কোরআন দলিল উপস্থাপনের ক্ষেত্রে দার্শনিক যুক্তিতর্কের অবতারণা করেনি। কারণ এর মাধ্যমে শ্রোতাকে লা-জবাব করা যায় কিন্তু তার অন্তরে বিশ্বাসের সুবাতাস প্রবাহিত করা যায় না। তাই দলিল উপস্থাপনের কোরআনী রীতি হলো, মানুষের সুস্থ স্বভাব এবং শুদ্ধ প্রকৃতিকে সম্বোধন করা, বিশ্ব চরাচরের এ বিশাল আয়োজন-আলোড়ন, যার একটি অংশ তুমি নিজে, অনেক কিছু তোমারও চোখের সামনে, এ নিয়ে যদি তুমি ভাবো, তাহলে তুমি নিজেই সেই অন্তর্নিহিত সত্যের সন্ধান পেয়ে যাবে। নিজেই প্রত্যক্ষ করতে পারবে স্পষ্ট অনেক নিদর্শন। তোমার চিন্তা-ফিকির এবং তোমার অনুধ্যানই স্রষ্টার অস্তিত্বের বিষয়ে তোমার অন্তরকে প্রশান্ত করে দিবে। এ আয়াতখানি তেলাওয়াত করো,

إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَالْفُلْكِ الَّتِي تَجْرِي فِي الْبَحْرِ بِمَا يَنْفَعُ النَّاسَ وَمَا أَنْزَلَ اللَّهُ مِنَ السَّمَاءِ مِنْ مَاءٍ فَأَحْيَا بِهِ الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا وَبَثَّ فِيهَا مِنْ كُلِّ دَابَّةٍ وَتَصْرِيفِ الرِّيَاحِ وَالسَّحَابِ الْمُسَخَّرِ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَعْقِلُونَ
নিশ্চয় আসমান ও জমিনের সৃষ্টি কুশলতায়, দিন ও রাতের আবর্তনে, সামুদ্রিক জলযানে, যা মানুষে প্রয়োজনীয় জিনিস বহন করে চলে, আর আল্লাহ তাআলা উপর থেকে যে বৃষ্টি বর্ষণ করে মরে যাওয়া জমিনকে সজীব করে তোলেন এবং সতেজ ভূমিতে সব ধরনের জীবজন্তু ছড়িয়ে দেন তাতে এবং বায়ুমণ্ডলের সঞ্চালন ও সুনিয়ন্ত্রিত মেঘমালার মাঝে আকলমন্দ মানুষের জন্য (আল্লাহ পাকের অস্তিত্বের) বহু নিদর্শন বিদ্যমান। (সূরা ২ বাকারা, আয়াত ১৬৪)

এখানে আসমান-জমিনের নিপুন সৃষ্টি, দিন-রাতের নির্ধারিত গমন-আগমন-রীতি, নৌযানসমূহের বিস্ময়কর চলাচল, বৃষ্টি ও তার প্রভাবে আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং বিশেষ প্রক্রিয়ায় ভূমি ও আকাশের মধ্যে ভাসমান মেঘপুঞ্জের স্থিতি ইত্যাদির প্রতি কোরআন মাজীদ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। হে মানুষ! তুমি এগুলো নিয়ে ভাবো। তোমার বোধবুদ্ধি যদি সুস্থ থাকে, তাহলে তুমি স্বত:স্ফূর্তভাবে বলে উঠবে, এ বিশাল জগত এমনি সৃষ্টি হয়নি। কোনো এক মহীয়ান ও মহা প্রজ্ঞাবান পরাক্রমশালী সত্ত্বা আপন কুদরতে এগুলো সৃষ্টি করেছেন,

إِنَّ اللَّهَ فَالِقُ الْحَبِّ وَالنَّوَى يُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَمُخْرِجُ الْمَيِّتِ مِنَ الْحَيِّ ذَلِكُمُ اللَّهُ فَأَنَّى تُؤْفَكُونَ
নিশ্চয় শষ্যবীজ ও ফলের আঁটি আল্লাহই দীর্ণ করেন (এবং অংকুরোদগম করেন)। মৃত থেকে তিনিই জীবন্তকে বের করে আনেন। আর জীবন্ত থেকে মৃতকে বের করার মালিকও তিনি। ঐ কর্তাই তোমাদের আল্লাহ। তাহলে কোথায় তোমরা মাথা ঠুকে ফিরছো? (সূরা ৬ আনআম, আয়াত ৯৫)

দেখো, একটি আমের আঁটি তুমি মাটি চাপা দিয়ে রাখলে। ঐ আঁটি বা মাটির কোনো ইচ্ছাশক্তি নেই, নেই বিশেষ কোনো অনুভূতি শক্তি। দু’টোই নিষ্প্রাণ। কিন্তু আশ্চর্য! কয়েকদিন পর কী এক অদৃশ্য শক্তির উষ্ণ ছোঁয়ায় মাটির নীচে ঐ আঁটি দীর্ণ হয়ে যায়। রেশমের মতো কোমল অঙ্কুর বের হয় এবং মাটির বুক চিরে ঐ অঙ্কুর আত্মপ্রকাশ করে। একটু ভাবো ঐ নিষ্প্রাণ আটি ফাঁড়লো কে? এর ভিতর প্রাণের অঙ্কুরোদগম করলো কে? সুতার মতো নরম অঙ্কুর কার শক্তিতে মাটি ভেদ করতে সমর্থ হলো? তোমার কি মনে হয়, নিষ্প্রাণ আমের আঁটি এ-কাজগুলি নিজেই করেছে? কারো সাহায্য ব্যতীত এসব এমনিতেই হয়েছে? না, কক্ষনো না। এসব করেছেন কোনো এক মহাপরাক্রমশালী প্রজ্ঞাবান সত্ত্বা। আর তিনিই হলেন আল্লাহ।

তাঁর এ কুদরত প্রাণহীন আঁটি-গুটি আর বীজ-বিচির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং অসংখ্য নিষ্প্রাণ জিনিস থেকে তিনি প্রাণবান জিনিস তৈরি করেন। এমনিভাবে প্রাণবান জিনিস থেকে প্রাণহীন জিনিস বের করে আনেন। প্রাণহীন ডিম থেকে বাচ্চা প্রাণী সৃষ্টি করেন। আবার প্রাণবান মুরগি থেকে নিষ্প্রাণ ডিমও তিনি বের করেন। এগুলো আল্লাহ পাকের কুদরতের স্পষ্ট নিদর্শন। তোমাদের চোখের সামনেই রয়েছে তা। এ থেকে কি আল্লাহর অস্তিত্ব অনুধাবন করা যায় না? চিন্তা করো, কোরআন মাজীদে এসেছে,

وَفِي الْأَرْضِ قِطَعٌ مُتَجَاوِرَاتٌ وَجَنَّاتٌ مِنْ أَعْنَابٍ وَزَرْعٌ وَنَخِيلٌ صِنْوَانٌ وَغَيْرُ صِنْوَانٍ يُسْقَى بِمَاءٍ وَاحِدٍ وَنُفَضِّلُ بَعْضَهَا عَلَى بَعْضٍ فِي الْأُكُلِ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَعْقِلُونَ
পৃথিবীতে আছে পরস্পর সংলগ্ন ভূখণ্ডসমূহ, আঙ্গুর বাগান, শস্যের ময়দান, একই জলসিঞ্চিত জোড়া কাণ্ড এবং এক কাণ্ড বিশিষ্ট খর্জুর বীথি। আর এক ফলের চে অন্য ফলে দান করেছি অধিক স্বাদ ও খাদ্যগুণ। নিশ্চয় জ্ঞানবান লোকদের জন্য এতে (আল্লাহ তাআলার অস্তিত্বের) বহু বহু নিদর্শন রয়েছে। (সূরা ১৩ রাআদ, আয়াত ৪)

এই যে জমিন, যেখানে খাদ্য উৎপাদন হয়। কত বিচিত্র তার অবস্থা। কখনো পাশাপাশি দুটি জমিনও ভিন্ন রকম। একটিতে ফসল ভালো হয়, অন্যটিতে তেমন নয়। একটি গম চাষের উপযোগী তো অন্যটি তুলার উপযুক্ত। এক জমিনে সবজি চাষ হচ্ছে, আবার পাশের জমিনে ঝুলছে আঙ্গুর। তৃতীয় জমিনে ফলছে থোকা থোকা খেজুর! খেজুর গাছও তো সব এক রকম নয়। কোনোটা হাট্টাগাট্টা, কোনোটা ছিপছিপে। অথচ সবগুলির গোড়ায় একই পানি সিঞ্চন করা হয়। এক আলো বাতাসেই তো ওরা বেড়ে ওঠে। তাহলে একেক খেজুরের স্বাদ একেক রকম হয় কেন? এই যে ছোট-বড় উঁচু নিচু নানা পার্থক্য- এ কি কারো কুদরতের কারিশমা ছাড়াই হচ্ছে? কক্ষনো নয়। জমিনের এই যে পার্থক্য, ফসলের এই যে বৈচিত্র, বুদ্ধিমান মানুষের জন্য এতে ভাবনার খোরাক আছে। এর মাধ্যমে সে কুদরতের নিদর্শন প্রত্যক্ষ করতে পারে, পারে হাকীকত পর্যন্ত পৌঁছতে। আল্লাহ পাক বলেন,

أَنَّا صَبَبْنَا الْمَاءَ صَبًّا (٢٥) ثُمَّ شَقَقْنَا الْأَرْضَ شَقًّا (٢٦) فَأَنْبَتْنَا فِيهَا حَبًّا (٢٧) وَعِنَبًا وَقَضْبًا (٢٨) وَزَيْتُونًا وَنَخْلًا (٢٩) وَحَدَائِقَ غُلْبًا (٣٠) وَفَاكِهَةً وَأَبًّا (٣١) مَتَاعًا لَكُمْ وَلِأَنْعَامِكُمْ
মানুষ তার খাদ্যের প্রতি নজর করে দেখুক এবং চিন্তা করুক, আমিই তো পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের ব্যবস্থা করেছি। এরপর জমিনকে বিস্ময়করভাবে বিদীর্ণ করে তাতে খাদ্যশস্য উৎপন্ন করেছি। উৎপন্ন করেছি আঙ্গুর, শাকসবজি আর জয়তুন ও খেজুর। সৃষ্টি করেছি ঘন-নিবিড় বাগবাগিচা, নানা রকম ফলমূল আর তৃণলতা। (সূরা ৮০ আবাসা, আয়াত ২৪-৩১)।

সুতরাং আমার তৈরি খাদ্য গ্রহণকারী মানুষের ভাবা উচিৎ, এই যে রুটি, শাকসবজি আর ফলফলাদি, নানা ধরনের লতাপাতা ও পশুখাদ্য এগুলো কোথা থেকে আসে। কে এগুলোর স্রষ্টা। যে পানি থেকে এগুলোর জন্ম হয়, সে পানিই বা কে বর্ষণ করেন। কার হুকুমে মাটি চাপা দেওয়া বিচি-দানা থেকে চারা বের হয়। মাটি ভেদ করে কোমল চারার অঙ্কুুর উদগত করেন কে।

মানুষ যদি সত্যকে পেতে চায়, তাহলে সে তার খাদ্য নিয়ে ভাবলেই সত্যের দেখা পেয়ে যাবে। আল্লাহ পাক বলছেন,

وَإِنَّ لَكُمْ فِي الْأَنْعَامِ لَعِبْرَةً نُسْقِيكُمْ مِمَّا فِي بُطُونِهِ مِنْ بَيْنِ فَرْثٍ وَدَمٍ لَبَنًا خَالِصًا سَائِغًا لِلشَّارِبِينَ
নিশ্চই গবাদি পশুর ভিতর চিন্তা ভাবনার উপকরণ আছে। এর উদরস্থ মল ও শোনিতের মধ্য হতে বিশুদ্ধ দুধ আমি তোমাদেরকে পান করতে দিই। এ দুধ পান পিয়াসী দের জন্য বড় সুস্বাদু। (সূরা ১৬ নাহল, আয়াত ৬৬)

যে গবাদি পশুর দুধ তুমি পান করো, তা নিয়ে একটু ভাবো, এগুলোর পেটে রক্তনালী আছে, আছে মলমূত্র। সর্বক্ষণই আছে। তবু এর খুব কাছ থেকে গন্ধমুক্ত বিশুদ্ধ দুধ নেমে আসে। এতে না আছে রক্তের চিহ্ন না গোবরের গন্ধ। কত উত্তম আর সুস্বাদু ঐ পানীয়। এটা কার দান? কোনো মানুষ কি ওখানে দুধের মেশিন বসিয়েছে? কারো মাথার বুদ্ধি কি ঐ বিস্ময়কর নিয়ম চালু করেছে? না কক্ষনো না। এসবই আল্লাহ যুল জালালের কুদরতের নিদর্শন। তিনিই আমার আপনার এবং সমগ্র জাহানের একমাত্র সৃষ্টিকর্তা।

আল্লাহ পাক প্রশ্ন করার ঢঙ্গে নিজের অস্তিত্ব সম্পর্কে মর্মস্পর্শী ভাষায়, অতি সংক্ষেপে, প্রশান্তিকরভাবে বলেছেন,

أَفِي اللَّهِ شَكٌّ فَاطِرِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ
আরে! ঐ আল্লাহর অস্তিত্বের ব্যাপারে সন্দেহ, যিনি আকাশমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের স্রষ্টা? (সূরা ১৪ ইবরাহীম, আয়াত ১০)

ঐ দেখো, তোমার চোখের সামনে অনন্ত আকাশ। চন্দ্র-সূর্য আর তারকারাজি। তুমি অনুভব করো সেগুলোর আলো-তাপ। আরো দেখো, দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের মাঠ আর বনবনানী। এগুলো থেকে আহরিত ফসল তুমি ভোগ করো। ফুল দেখে চোখ জুড়োও, ঘ্রাণ শুঁকে আনন্দে মাতোয়ারা হও। আরো কত জিনিস কত কাজে তুমি ব্যবহার করো। একেকটির বৈশিষ্ট্য তুমি একেক কাজে লাগাও।

আচ্ছা বলো, যার একটু আকল আছে, সেকি বলতে পারে, এগুলি নিজের ইচ্ছায় ও সিদ্ধন্তে এমন হয়েগেছে? নাকি বলবে, কোনো শিল্পী-কারিগর বা বৈজ্ঞানিক-দার্শনিক এসব বানিয়েছে? বরং যদি তার আকল ঠিক থাকে, তাহলে সে বলে উঠবে, এসবি কোনো মহীয়ান প্রজ্ঞাবান সত্তার সৃষ্টি-কুশলতার অনুপম নিদর্শন।

وَفِي أَنْفُسِكُمْ أَفَلَا تُبْصِرُونَ (٢١) وَفِي السَّمَاءِ رِزْقُكُمْ وَمَا تُوعَدُونَ
পৃথিবীতে বিশ্বাসী মানুষের জন্যে (বিশ্বাসের) বহু নিদর্শন ছড়িয়ে আছে। খোদ তোমাদের মাঝেও আছে। তবু কি তোমরা তোমাদের চিন্তাশক্তিকে কাজে লাগাবে না? (সূরা ৫১ যারিয়াত, আয়াত ২০-২১)

আল্লাহ বলছেন, আমার পরিচয় পেতে বাইরে যেতে হবে না, তুমি তোমার প্রতি একটু নজর দাও। জন্মগত বিবেচনা শক্তিটুকুই কাজে লাগাও। তুমি তোমার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এবং জীবন ধারণের পদ্ধতি নিয়ে ফিকির করো। প্রথম আমি কী ছিলাম? মাতৃগর্ভে আমাকে আকৃতি দান করলো কে? আমার দেহের খাচায় প্রাণ আসলে কোত্থেকে? চোখে আলো আসলো কেমন করে? কানের পর্দায় শ্রবণশক্তি নিহিত রাখলো কে? আমার নাকে ঘ্রাণশক্তি দিলো কে? আমার জিভে কে দান করলো আস্বাদনশক্তি। কে দিলো আমাকে বাকশক্তি? আমার প্রতি এ দয়া কি আমার মা করেছেন? কোনো ডাক্তার করেছে? না আমি নিজেই করেছি? এরা কেউ করেনি। আরও বড় ভুল হবে, যদি ভাবো, এগুলি নিজে নিজেই হয়েছে, প্রাকৃতিকভাবে কারো ইচ্ছা ছাড়াই হয়েছে। (কারণ কোনো অবোধ জিনিস এমন সুসৃংখল নিয়ম তৈরি করতে পারে না।) আসল বাস্তবতা হলো, এক মহা পরাক্রান্ত প্রজ্ঞাবান সত্তা আমাকে সৃষ্টি করেছেন। তিনিই আমার প্রতি এই অনুগ্রহগুলো করেছেন। অন্য কেউ নয়। নিজে নিজেও নয়।

فَتَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ
অতএব আল্লাহ বড় মহিমাময়, সর্বোত্তম স্রষ্টা তিনি। (সূরা ২৩ মুমিনূন, আয়াত ১৪)

The post স্রষ্টা ও তাঁর অস্তিত্ব appeared first on আহলে হক বাংলা মিডিয়া সার্ভিস.

সেহরী ও রোযার প্রচলিত দুআর কোন ভিত্তি আছে কী?

প্রশ্ন

মুফতী সাহেবের নিকট আমার প্রশ্ন হল, আমাদের দেশে রমজান উপলক্ষ্যে যেসব ক্যালেন্ডার বের হয়, সেসব ক্যালেন্ডারে সেহরী ও ইফতারের দুআ লেখা হয়, এসব দুআর ব্যাপারে জানতে চাই। এর কী কোন ভিত্তি আছে?

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

ইফতারীর দুআর ভিত্তি রয়েছে। হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। ইফতারের সময় দুআ পড়বে, “আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়াআলা রিজকিকা আফতারতু”।

কিন্তু সেহরীর রোযা হিসেবে প্রচলিত দুআটির কোন ভিত্তি নেই। যেমনটি বলা হয় যে, “নাওয়াতুআন আছুমা গাদাম” এ দুআর কোন ভিত্তি নেই।

عَنْ مُعَاذِ بْنِ زُهْرَةَ، أَنَّهُ بَلَغَهُ ” أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا أَفْطَرَ قَالَ: «اللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ، وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ»

মুয়ায ইবনু যুহরা (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তাঁর নিকট হাদীস পৌঁছেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইফতারের সময় বলতেনঃ ‘‘আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া ‘আলা রিযকিকা আফতারতু।’’ অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার উদ্দেশ্যেই সওম পালন করেছি এবং আপনার দেয়া রিযিক দ্বারাই ইফতার করেছি। [সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-২৩৫৮, আলমু’জামুল আওসাত, হাদীস নং-৭৫৪৯, মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-৯৭৪৪]

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

The post সেহরী ও রোযার প্রচলিত দুআর কোন ভিত্তি আছে কী? appeared first on আহলে হক বাংলা মিডিয়া সার্ভিস.

এক বাক্যে তিন তালাক দিলে কয় তালাক পতিত হয়?

প্রশ্ন

আমার প্রশ্ন হল,এক ব্যক্তি এক বাক্যে তিন তালাক প্রদান করলে তিন তালাকই কী পতিত হবে নাকি এক তালাক পতিত হবে?

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

এক বাক্যে বা এক শ্বাসে বা এক বৈঠকে তিন তালাক দিলেও তিন তালাকই পতিত হবে। কিন্তু এভাবে তালাক দেবার কারণে তালাকদাতা গোনাহগারও হবে।

عن محمود بن لبيد قال: أخبر رسول الله صلى الله عليه وسلم عن رجل طلق امرأته ثلاث تطليقات جميعا، فقام غضبان، ثم قال: أيلعب بكتاب الله ,ان ابين أظهركم حتى قام رجل وقال: يا رسول الله صلى الله عليه وسلم ألا اقتله (سنن نسائى، كتاب الطلاق، باب الثلاث المجموعة وما فيه من التغليظ-2/82/ رقم-343)

وطلاق البدعة أن يطلقها ثلاثا بكلمة واحدة (الى قوله) وقع الطلاق وكان عاصيا (هداية، كتاب الطلاق، باب طلاق السنة-2/355)

وأم البدعى: فنوعان، فالذى يعود إلى العدد أن يطلقها ثلاثا فى طهر واحد، بكلمة واحدة، أو بكلمات متفرقة… وفى الهداية: فإذا فعل ذلك وقع الطلاق، وكان عاصيا (تاتارخانية-4/381، رقم-6476، هندية-1/349)

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

The post এক বাক্যে তিন তালাক দিলে কয় তালাক পতিত হয়? appeared first on আহলে হক বাংলা মিডিয়া সার্ভিস.

লক আইফোন ক্রয় এবং ওকীল হিসেবে পণ্য বিক্রয়ের খরচ প্রসঙ্গে

প্রশ্ন

আচ্ছালামুআলাইকুম ওয়াঃ

হযরত কেমন আছেন ?

আমি মোঃ আশরাফুল আলম

নওগাঁ,রাজশাহী

প্রশ্নটি অনেক লম্বা । বিস্তারিত লিখেছি । কারন হক্কুল এবাদ এর বিষয় ।

————-

কিছু দিন পূর্বে আমি একটি লক আইফোন ক্রয় করি সিলেট থেকে ।

লক খুলতে গেলে তারা আমাকে ১৫ দিনের সময় দেয় । ১৫ দিন পর তারা আমাকে মোবাইল বেক করে এবং বলে আরো ১৫ দিন সময় দিলে এই লক খুলে দেয়া যাবে ।

ঘটনা ক্রমে আমার তাবলীগে যাবার কথা হয় ৪০ দিনের জন্য । আমি সিদ্ধান্ত্য নিলাম যে, মোবাইলটি আমি বিক্রয় করে দেব ।

এখানেই ডট কমে এড দিলে একজন মহিলা আমার কাছ থেকে মোবাইল ক্রয় করে ।

সেই মহিলা ছিল খুদে প্রতিবন্ধি এবং তার বাচ্চাও ছিল । তাই সে বলেছিল যে, আমি বাচ্চা নিয়ে এখানে সেখানে যেতে পারব না । আপনি হেল্প করলে আমার উপকার হবে ।

আমি তাকে সব খুলে বলি এবং সবশেষে বলি যে, আপনি যদি খুলতে না পারেন তাহলে আমাকে যেই মোবাইল ইঞ্জিনিয়ার খুলে দিতে চেয়েছিল আমি তার থেকে আপনাকে খুলে দেয়ার চেষ্ট করব । আর ক্রয় করার পর সে দুইদিন নিজের কাছে মোবাইল রেখে দেখেছেও । ঘটনা ক্রমে আমার আর তাবলীগে যাওয়া হয় না ।

যাই হোক সে প্রায় ১মাস চেষ্ট করার পর সেও সেই মোবাইলের লক খুলতে পারেনি ।

আমার কথা বলা অনুযায়ি সে আমাকে মোবাইলটি কুরিয়ারে পাঠিয়ে দেয় ।

আমি ঐ ইঞ্জিনিয়ার এর কাছে নিয়ে গেলে সে বলে যে, এখন লক খোলার অপশন বন্ধ হয়ে গেছে । আমি ঐ মহিলাকে কল করে সেই বিষয় জানিয়ে দিই । আমি তার সহানুভতি হয়ে বলেছিলাম যে, মোবাইলটা কি বিক্রি করে দেব ? সে বলে যে, হ্যা দেন । আমি আবার এখানেই ডট কমে বিজ্ঞপ্তি দিই । পরে একজন আমাকে কল করে । আমি সাথে সাথে ঐ মহিলাকে কল করে জানিয়ে দিই যে, মোবাইলটি একজন ক্রয় করতে চাচ্ছে আমি কি দিয়ে দেব ? সে বলেছিল হ্যা দিয়ে দেন ।

আমি ঐ লোকের সাথে কথা বলার পর ঐ লোক আমাকে মিরপুর যেতে বলে । আমি ঐ লোকের কথা অনুযায়ি মিরপুর চলে যাই। সেখানে গিয়ে জানতে পারি যে, ঐ লোক পুলিশ । তারা আমার কাছে ডকুমেন্ট চায় । আমি দিতে পারিনি । কারন মোবাইল কেনার সময় আমি ঐ লোক থেকে কোন ডকুমেন্ট নেই নাই । যাই হোক সবশেষে ঐ লোক সহ আরো তিনজন লোক একটি পিকআপ গাড়িতে উঠিয়ে গলি গলি ঘুরতে থাকে এবং আমাকে বিভিন্ন ভাবে ভয় দেখাতে থাকে । অবশেষে তারা আমার থেকে ২০ হাজার টাকা দাবি করে । আমি তাদের ১০ হাজারে মানিয়ে নিই এবং ১০ হাজার টাকা তাদের দিয়ে চলে আসি । তারা ১০ হাজার টাকা+মোবাইল রেখে দেয় ।

আমার কাছে ঐ পুলিশদের পিকাপের নাম্বার, মোবাইল নাম্বার (যা দিয়ে আমাকে কল করেছিল) আছে ।

>> এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে যে, এরকম পরিস্থিতে আমি ঐ মহিলার কাজ করতে গিয়ে যেহেতু আমাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হয়েছে । কাজেই এখন কি ঐ ১০ হাজার জরিমানার টাকা কি মহিলার আমাকে দিতে হবে ?

>> আর আমি যেহেতু তার মোবাইল বিক্রি করার কারনে সেখানে গিয়েছি আর মোবাইল পুলিশকে দিতে হয়েছে । কাজেই তার মোবাইলের দাম সমতুল্য টাকা ঐ মহিলাকে আমার দিতে হবে ?

এই মুহূর্তে আসলে শরীয়তের হুকুম কি ? তা জানতে চাই ।

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

প্রশ্নটি জটিল। তাই কিছুটা ব্যাখ্যার সাথে উত্তর দেয়া হচ্ছে।

এক নাম্বার বিষয় হল, লক আইফোন চুরীকৃত হয়ে থাকে। জেনে শুনে চুরি করা মাল ক্রয় করা বৈধ নয়।

عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه و سلم أنه قال : من اشترى سرقة وهو يعلم أنها سرقة فقد اشرك في عارها واثمها ( سنن البيهقى الكبرى-كتاب البيوع، باب كراهية مبايعة من أكثر ماله من الربا أو ثمن المحرم،

অনুবাদ-আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত যে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, যে ব্যক্তি কোন চুরির বস্তু চুরির মাল জেনেও ক্রয় করে তবে সেও সেই অপরাধে এবং গোনাহে শরীক হবে। (মুসনাদে ইসহাক বিন রাহুয়া,হাদীস নং-৪১২, শুয়াবুল ঈমান লিলবায়হাকী, হাদীস নং-৫১১২,মুস্তাদরাক আলাস সাহীহাইন,হাদীস নং-২২৫৩, সুনানুল কুবরা লিলবায়হাকী,হাদীস নং-১০৮২৬,মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা,হাদীস নং-২২০৬০)

দ্বিতীয় বিষয় হল, পণ্যে দোষ থাকলে ক্রেতা উক্ত ত্রুটির কারণে বিক্রিত মালটি ফেরত দিয়ে দিতে পারেন।

واذا حصل الإيجاب والقبول لزم البيع، ولا خيار لواحد منهما إلا من عيب، أو عدم الرؤية (هندية، كتاب البيوع-3/8، الجوهرة النيرة-1/220) تاتارخانية-8/222)

তবে ত্রুটি সম্পর্কে জেনে বুঝেই পণ্যটি ক্রয় করলে তাহলে আর পরবর্তীতে ত্রুটির কারণে ফেরত দেয়া যায় না।

جَهْلُ الْمُشْتَرِي بِوُجُودِ الْعَيْبِ عِنْدَ الْعَقْدِ وَالْقَبْضِ فَإِنْ كَانَ عَالِمًا بِهِ عِنْدَ أَحَدِهِمَا فَلَا خِيَارَ لَهُ، وَمِنْهَا عَدَمُ اشْتِرَاطِ الْبَرَاءَةِ عَنْ الْعَيْبِ فِي الْمَبِيعِ عِنْدَنَا حَتَّى لَوْ اُشْتُرِطَ فَلَا خِيَارَ لِلْمُشْتَرِي كَذَا فِي الْبَدَائِعِ (هندية-3/67)

তৃতীয় বিষয় হল, বিক্রির জন্য নিযুক্ত ওকীল এর হাতে পণ্য হারিয়ে বা নষ্ট হয়ে গেলে মুয়াক্কিলকে জরিমানা দিতে উকীল বাধ্য নয়। কারণ এটি তার কাছে আমানত ছিল। আর আমানত দ্রব্য অনিচ্ছায় বা ওকীলের অবহেলা ব্যতীত নষ্ট হয়ে গেলে এর জরিমানা দিতে হয় না।

ولو كان الموكل دفع الدراهم إلى الوكيل فسرقت من يد الوكيل لا ضمان على الوكيل (تاتارخانية، كتاب الوكالة-12/332، رقم-17662)

চতুর্থ বিষয় হল, ওকীলের যাতায়াত ও প্রয়োজনীয় খরচ মুয়াক্কিলের বহন করা দায়িত্ব।

কিন্তু অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় খরচ মুয়াক্কিলের উপর আবশ্যক নয়।

إذَا وَكَّلَ الرَّجُلُ رَجُلًا أَنْ يَشْتَرِيَ لَهُ كُرَّ حِنْطَةٍ فَاشْتَرَاهُ لَهُ فَاسْتَأْجَرَ بَعِيرًا فَحَمَلَهُ عَلَيْهِ فَإِنْ وَكَّلَهُ أَنْ يَشْتَرِيَ لَهُ حِنْطَةً أَوْ طَعَامًا فِي نَوَاحِي الْمِصْرِ الَّذِي هُمَا فِيهِ فَالْقِيَاسُ أَنْ يَكُونَ مُتَبَرِّعًا فِي النَّقْلِ وَلَا يَرْجِعُ بِالْأَجْرِ وَفِي الِاسْتِحْسَانِ لَا يَصِيرُ ضَامِنًا وَيَرْجِعُ بِالْكِرَاءِ وَإِنْ وَكَّلَهُ أَنْ يَشْتَرِيَ لَهُ حِنْطَةً فِي قَرْيَةٍ مِنْ قُرَى الْمِصْرِ الَّذِي هُمَا فِيهِ يَصِيرُ الْوَكِيلُ مُتَبَرِّعًا وَلَا يَرْجِعُ بِالْكِرَاءِ قِيَاسًا وَاسْتِحْسَانًا (الفتاوى الهندية-3/641)

এবার উত্তরটি বুঝে নিন!

উপরোক্ত চারটি মাসআলা বুঝে থাকলে এবার আপনার প্রশ্নটির উত্তর বুঝা সহজ হবে।

প্রথমত চুরিকৃত মাল জেনেও তা ক্রয় করা আপনার উচিত হয়নি।

দ্বিতীয়ত মহিলার কাছে বিক্রির সময় যদি মোবাইল না খোলার ত্রুটির কথা মহিলাকে জানানো হয়ে থাকে, আর জেনেশুনেই ক্রয় করে থাকে তাহলে ক্রয় বিক্রয় বিশুদ্ধ হয়ে গেছে। তাই সেটি আর ফেরত দেবার অধিকার মহিলার নেই।

তবে এখানে আরেকটি বিষয় লক্ষ্যণীয় হল, মহিলা ত্রুটি তথা লক সারিয়ে দেবার শর্তে যদি ক্রয় করে থাকে, তাহলে লক সারানো সংক্রান্ত যাবতীয় দায়িত্ব আপনার উপর বর্তাবে।

সেই হিসেবে লক সারাতে না পারলে মহিলার জন্য উক্ত মোবাইল ফেরত দেবার অধিকার থাকবে।

কিন্তু যদি লক সারানোর শর্তে ক্রয় না করে থাকে, তাহলে আর ফেরত দিতে পারবে না।

উপরোক্ত দুই সুরতের মাঝে যদি দ্বিতীয় সুরত তথা লক সারানোর শর্তে ক্রয় না করে থাকে, তাহলে ক্রয় বিক্রয় বিশুদ্ধ হয়ে গেছে।

এখন আবার আপনি মহিলাটির ওকীল হিসেবে যখন বিক্রি করতে গেলেন, তখন মোবাইলটি ক্রেতার হাতে হস্তান্তর করতে যাবার আসা যাওয়ার ভাড়া মহিলার জিম্মায় আবশ্যক।

সেই সাথে মোবাইলটি আপনার কাছে মহিলার আমানত থাকায় এর জরিমানা আপনার উপর আবশ্যক হবে না।

আর পুলিশী ঝামেলা যেহেতু উক্ত পন্য বিক্রয়ের সাথে সম্পৃক্ত নয়, বরং আলাদা একটি বিষয়, তাই এর দায়ভার বা জরিমানা মহিলাটির উপর বর্তাবে না।

সংক্ষেপঃ

যাতায়াত ভাড়া মহিলা থেকে নেয়া যাবে।

মোবাইলের মূল্য মহিলাকে ফেরত দেয়া লাগবে না।

পুলিশকে দেয়া ঘুষ মহিলা থেকে আদায় করা যাবে না।

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

The post লক আইফোন ক্রয় এবং ওকীল হিসেবে পণ্য বিক্রয়ের খরচ প্রসঙ্গে appeared first on আহলে হক বাংলা মিডিয়া সার্ভিস.