প্রশ্নোত্তরে ইসলামী জ্ঞানঃ পর্ব-১ (ঈমান ও আক্বীদা)

প্রশ্নোত্তরে ইসলামী জ্ঞান (১-৯৯) সংকলন ও গ্রন্থনা: মুহা: আবদুল্লাহ্‌ আল কাফী (লিসান্স, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়) ধারাবাহিক-১ ঈমান ও আক্বীদা ১. প্রশ্নঃ আমাদের সৃষ্টিকর্তার নাম কি? উত্তরঃ আল্লাহ্‌। ২. প্রশ্নঃ আল্লাহর কতগুলো নাম রয়েছে? উত্তরঃ আল্লাহ তা’আলার নাম অসংখ্য-অগণিত। ৩. প্রশ্নঃ আমাদের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্‌ কোথায় আছেন? উত্তরঃ সপ্তাকাশের উপর আরশে আযীমে। (সূরা ত্বহাঃ ৫) ৪. প্রশ্নঃ […]

পরিবারে দাওয়াহ : কিছু কৌশল

এই নোটের পাঠকদের মধ্যে বিভিন্ন মানহাজের ভাইবোনেরা আছেন। আসলে আমরা কেউই কিন্তু এই আদর্শিক প্রান্তিকতা থেকে মুক্ত নই। ভালো লাগার দিক থেকে কেউ তাবলীগী, তাসাউউফপন্থী, সালাফী, রেজভী, জামাআতে ইসলামপন্থী, কোন না কোন আদর্শঘেঁষা আমরা সবাই। সবার আদর্শের দালিলিক অংশটুকুর প্রতি শ্রদ্ধা রেখে শুরু করছি। নোটের প্রথমে কিছুটা তবলীগের কথা আছে। বিরক্তি ওভারকাম করে শেষ পর্যন্ত […]

ইসলামের দৃষ্টিতে বিবাহের ক্ষেত্রে মোহর বা কাবিনের গুরুত্ব

>>> ইসলামের দৃষ্টিতে বিবাহের ক্ষেত্রে মোহর বা কাবিনের গুরুত্ব <<<
ইসলামিক শরিয়া মতে সামর্থ্যবান প্রতিটি প্রাপ্ত বয়স্ক নর-নারীর উভয়ের জন্য বিবাহ ওয়াজিব বা আবশ্যক। বিবাহ সম্পর্কে মহান রাব্বুল আলামীন বলেন, "তোমরা নারীদের মধ্য হতে পছন্দমতো বিবাহ কর। দুই, তিন, চার, যদি তাদের সকলের প্রতি ইনসাফ করতে পার। অন্যথায় একটাই।" (সূরা নিসা, আয়াত- ৩)
এবং স্বাভাবিক জীবনেও বিবাহ অত্যন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাইতো হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা বিবাহ কর কেননা তা চক্ষুকে অবনত রাখে, লজ্জাস্থানকে হেফাজত করে।”
বিবাহের জন্য ইসলামি শরিয়াতে কিছু শর্তারোপ করা হয়েছে, তার ভেতর প্রধান মোহর। উক্ত বিষয়টি নিম্নে কোরআন এবং হাদীসের আলোকে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো-
১. মোহরের পরিচয়-
স্ত্রীর লজ্জাস্থান হালাল করার জন্য নির্ধারিত পরিমান টাকা বা কোনো কিছু প্রদান করা। মোহর একজন নারীর অধিকার, কোনো উপহার নয় যে মন চাইলে দিব না হলে দিব না।
২. মোহর সম্পর্কে কোরআনের আয়াত-
সূরা নিসার ৩নং আয়াতে আল্লাহ সূবাহানাহু ওয়াতায়ালা বলেন, "আর তোমরা নারীদের মোহর সন্তুষ্টে চিত্তে দিয়ে দাও, আর তারা যদি খুশি হয়ে তোমাদের জন্য কোনো অংশ ছেড়ে দেয় তাহলে তোমরা তা স্বাচ্ছন্দ্যে খাও,"
এছাড়াও পবিত্র কোরআনের সূরা নিসা- ২৪, সূরা মুমতাহিনার ১০নাম্বার আয়াতেও মোহর প্রদানের কথা উল্লেখিত হয়েছে।
উল্লেখিত আয়াতের মাধ্যমেই প্রমাণিত হচ্ছে যে বিবাহ শুদ্ধির জন্য মোহর প্রদান আবশ্যক।
৩. হাদীসের আলোকে মোহর-
মোহর একজন নারীর হক, যদি কোনো ব্যাক্তি মোহর অনাদায়ের ইচ্ছা নিয়ে বিয়ে করে তাহলে সে ব্যাভিচারী হবে। সে বিষয়েই রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যা মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হয়েছে। রাসূল (সা.) বলেছেন, “যে ব্যাক্তি কোনো মেয়েকে মোহরানা দেওয়ার ওয়াদায় বিয়ে করেছে, কিন্তু মোহরানা দেওয়ার ইচ্ছে নেই, সে কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট ব্যাভিচারী হিসেবে দাঁড়াতে বাধ্য হবে।”
তাই একজন নারীকে বিবাহ করার পর তার সাথে মিলিত হওয়ার পূর্বেই তার হক তাকে বুঝিয়ে দিতে হবে।
মোহরের যে কতটা গুরুতপূর্ণ বিষয়, তা বুখারীর হাদীসই প্রমাণ বহন করে।
সাহল সাদ বলেন আমি অন্যান্য লোকের সাথে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে উপবিষ্ট ছিলাম। তখন এক মহিলা দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল,আমি নিজেকে আপনার জন্য হেবা করলাম, আপনি আমাকে গ্রহণ করুন। কিন্তু রাসূল (সা.) কিছুই বললেন না।
মহিলাটি এরূপ তিনবার বলল, কিন্তু তিনবারই রাসূল চুপ থাকলেন। তখন এক সাহাবী দাঁড়িয়ে বললেন আপনি যদি গ্রহন না করেন তাহলে এই মহিলার সাথে আমার বিয়ে দিয়ে দিন। রাসূল (সা.) জিজ্ঞাসা করলেন তোমার নিকট কি মহিলাকে মোহর দেওয়ার মত কিছু আছে? তিনি বললেন, না।
তখন রাসূল (সা.) বললন তোমার বাড়ি থেকে খোঁজ করে একটি লোহার আংটি হলেও নিয়ে আস। কিন্তু তিনি তাও আনতে পারেনি। তখন রাসূল (সা.) বললেন তোমার কি কোরাআনের কিছু মুখস্ত আছে? তখন তিনি বললেন আমার ঐ ঐ সূরা মুখস্ত আছে। রাসূল (সা.) বললেন, মহিলাকে ওই সূরাগুলো শিখিয়ে দিও, সেটাই তোমার মোহর।
উপরোক্ত হাদীসটি পানির মত পরিষ্কারভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছে যে মহিলাকে মোহর প্রদান করা অত্যাবশ্যক।
কিন্তু দুঃখের বিষয় হলেও সত্যি যে, বর্তমান সমাজ মোহরকে কাবিন বানিয়ে দিয়েছে,আর এর প্রতি তাদের কোনো ভ্রুক্ষেপও নেই যে, তা তাদের আদায় করতে হবে। কনেপক্ষ ছেলে পক্ষকে কাবিন বেশি করার জন্য চাপ দেয়। তারা ভাবে যে তাহলে মনে হয় তাদের মেয়ের সংসার আর ভাঙ্গবে না। অপরদিকে ছেলে পক্ষ মেয়ে পক্ষকে যৌতুক বেশি করার জন্য চাপ দেয়।
বর্তমান সমাজে একজন ছেলে ইসলামিক রীতিনীতি মেনে বিয়ে করতে চাইলে তার জন্যে মেয়ে খুঁজে পাওয়া যায় না। কারণ কোনো পরিবারই তার মেয়েকে কম টাকায় কাবিনে বিয়ে দিতে চায় না এই ভয়ে যে পরে যদি আবার মেয়েকে ছেড়ে দেয়। এর মূল কারন হচ্ছে আমরা ধর্ম থেকে অনেক দূরে সরে গেছি, অথচ আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের বিধানই হচ্ছে নগদ মোহরনায় বিয়ে করা। আমরা যখন ধর্ম থেকে দূরে সরে গেছি তখনই শয়তান এসে আশ্রয় গ্রহণ করেছে এবং সে তার বিধান চালু করে দিয়েছে আর সেটা হচ্ছে যৌতুক।
৪. মোহরের পরিমাণ-
মোহরের পরিমাণ নিয়ে আলেমদের মাঝে মতের অমিল রয়েছে। সুফিয়ান ছাওরী ( রহঃ.), শাফিঈ (রহঃ.), আহমাদ ও ইসহাক ( রহঃ.) বলেছেন, "যে পরিমাণ মোহরে উভয়ে রাজী হবে ততটুকুই মোহর। মালিক ইবনু আনাস (রহঃ.) বলেছেন সর্বনিম্ন মোহর এক দিনারের এক চতুর্থাংশের কম হতে পারে না। (ইবনু মাজাহ- ১৮৮৭)
আবু আজফা (রহঃ.)থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন উমার ইবনুল খত্তাব (রাঃ.)বলেছেন সাবধান! তোমরা নারীদের মোহরানা উচ্ছহারে বৃদ্ধি করো না। কেননা যদি দুনিয়াতে তা সম্মানের বস্তু হতো তবে এ ব্যাপারে নবী (সা.) তোমাদের চেয়ে বেশি উদ্যেগী হতেন। কিন্তু রাসূল (সা.) বার উকিয়ার বেশি পরিমাণ মোহর দিয়ে তার কোনো স্ত্রীকে বিয়ে করেছেন অথবা কোন কন্যাকে করিয়েছেন আমার জানা নেই।
অথচ বর্তমান সমাযে মোহর বেশি না করলে বিয়েই ভেঙ্গে যায়।
৫. মোহর নির্ধান করা ছাড়াই বিবাহ করে মৃত্যু বরণকারীর করণীয়-
মোহর নির্ধারণ করা ছাড়াই বিবাহ করে মৃত্যুবরণকারীর বিষয়ে আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ.) থেকে মাকিল বিন সিনান আল-আশজাঈ বর্ননা করেন, আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ.) কে এক ব্যাক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো যে, সে এক মহিলাকে বিবাহ করার পর তার সাথে সহবাস ও মোহর ধার্য করার পূর্বেই মারা গেছে। রাবী বলেন আব্দুল্লাহ (রাঃ.) বললেন সেই মহিলা মোহর পাবে, মীরাস পাবে, ইদ্দত ও পালন করতে হবে। মাকিল বিন সিনান আল-আশজাঈ দাঁড়িয়ে বললেন, আপনার ফয়সালা আল্লাহর রাসূলের ফয়সালার অনুযায়ী হয়েছে,আল্লাহর রাসূল (সা.) ও বিরওয়া বিনতু ওয়াশিকের ক্ষেত্রে এই ফয়সালাই দিয়েছেন।
কোরআন এবং হাদীসের আলোকে এই কথাই বুঝা যাচ্ছে বিবাহ করার জন্য মোহর প্রধাণ করা আবশ্যক। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সকলকেই তাঁর বিধান মেনে জীবন পরিচালনা করে ইহকালীন শান্তি এবং পরকালীন মুক্তির লাভ করা ও সমাজের সকল স্তরে তার বিধান প্রতিষ্ঠা করার তওফিক দিন। (আমিন)
লেখক: রাসেল আহমাদ বিন জাকির হুসাইন, দাওরা হাদীস(আল-জামিয়া আস-সালাফিয়্যাহ)।

সালাতের দু‘আ ও যিকির

**** সালাতের দু‘আ ও যিকির ****
>>> তাকরীরে তাহরীমার পর দু‘আ <<>> রুকুর দু‘আ ও যিকর <<>> রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে পঠিতব্য দু‘আ <<>> সাজদার দু‘আ <<>> দুই সাজদার মধ্যে পঠিতব্য দু‘আ <<>> তাশাহহুদ বা আত্তাহিয়্যাহু <<>> রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দরূদ পাঠ <<>> সালাম ফিরানোর পূর্বে দু‘আ <<>> সালাম ফিরানো <<>> বিতরের কুনুত <<>> জানাযার সালাতের দু‘আ <<>> কবর যেয়ারতের দু‘আ <<>> সূরা আল-ফাতিহা <<>> আয়াতুল কুরসি <<>> সুরা কাফেরুন <<>> সূরা ইখলাস <<>> সূরা ফালাক <<>> সূরা নাস <<<
قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ مَلِكِ النَّاسِ إِلَهِ النَّاسِ مِنْ شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ
ক্বুল্ আউ-যু বিরাব্বিন্ না—স্, মালিকিন্ না—স্, ইলাহিন্ না—স্, মিন্ শার্ রিল্ ওয়াস্ ওয়া-সিল্ খান্না না—স্, আল্লাযি ইউওয়াস্ ই-সু ফি- সুদু-রিন্ না—স্, মিনাল্ জিন্নাতি ওয়ান্ না—স্
বলুন, আমি পানাহ চাই মানুষের রব কাছে, মানুষের মালিক, মানুষের ইলাহর কাছে, দ্রুত আত্মগোপন কারী কুমন্ত্রণা দাতার অনিষ্ট থেকে, যে মানুষের অন্তরসমূহে কুমন্ত্রণা দেয়, জিন ও মানুষের মধ্যে থেকে।

বেপর্দা নারী মানেই অহংকারী।

>>> বেপর্দা নারী <<<
বেপর্দা নারী মানেই অহংকারী। অহংকারী কারো জন্য স্বামীর আনুগত্য বজায় রাখা খুবই কষ্টকর আর এদের মাঝে খুব কম সংখ্যক নারীই জান্নাতে প্রবেশ করবে। অথচ শিক্ষিত/অশিক্ষিত, আলেম হোক আর জালেম হোক, শতকরা ১০০ ভাগ পুরুষ স্ত্রীর কাছ থেকে আনুগত্য কামনা করে এবং স্ত্রীর অবাধ্যতাকে ঘৃণা করে।
একবার এক সফরে রাসুল (ﷺ) সাহাবাদেরকে নিয়ে একটা পাহাড়ে উঠলেন। সেখানে হঠাৎ তারা একটা কাক দেখতে পেলেন, যার পা ও ঠোট ছিলো লাল। এই ধরণের কাক আসলে খুবই বিরল, দেখতে পাওয়া যায় না বললেই চলে। সাহাবারা এতো বিরল একটা জিনিস দেখে আশ্চর্য হয়ে বলাবলি করতে লাগলেন। রাসুল (ﷺ) বলেন,
وَشَرُّ نِسَائِكُمُ الْمُتَبَرِّجَاتُ الْمُتَخَيِّلاَتُ وَهُنَّ الْمُنَافِقَاتُ لاَ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مِنْهُنَّ إِلاَّ مِثْلُ الْغُرَابِ الأَعْصَمِ
তোমাদের সবচেয়ে খারাপ মেয়ে হলো যারা বেপর্দা, অহংকারী, কপট নারী, তাদের মধ্যে লাল রঙের ঠোঁট ও পা-বিশিষ্ট কাকের মত (বিরল) সংখ্যক জান্নাত যাবে। (বাইহাকী ১৩২৫৬, সহীহ)

দাম্পত্য সম্পর্কের ৫০ টি বিষয় যা আপনার জেনে রাখা প্রয়োজন

দাম্পত্য সম্পর্কের ৫০ টি বিষয় যা আপনার জেনে রাখা প্রয়োজন
১. সুন্দর সম্পর্ক নিজে থেকেই তৈরি হয় না, সেটি তৈরি করতে হয়। তাই আপনাকেও সেটি তৈরি করতে হবে।
২. কর্মক্ষেত্রেই যদি আপনার সবটুকু কর্মক্ষমতা নিঃশেষ করে ফেলেন, তাহলে আপনার দাম্পত্য জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
৩. আপনার উৎফুল্ল আচরণ হতে পারে আপনার জীবনসঙ্গী/জীবনসঙ্গিনীর জন্য খুব দামি একটি উপহার।
৪. কাউকে একইসাথে ভালোবাসা এবং ঘৃণা করা আপনার জন্য অসম্ভব নয়।
৫. আপনার জীবনসঙ্গী/জীবনসঙ্গিনীর ব্যাপারে বন্ধুদের কাছে অভিযোগ করা থেকে বিরত থাকুন। মনে রাখবেন বন্ধুদের প্রতিক্রিয়া আপনার দাম্পত্য সম্পর্কে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
৬. দাম্পত্য জীবনে তা-ই নিয়ম যা দুইজনের পছন্দের ভিত্তিতে ঘটে।
৭. সাময়িক ঝগড়া বিবাদের কারণে দাম্পত্য সম্পর্ক পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায় না। মনের মধ্যে জমে থাকা চাপা ক্ষোভ আর যন্ত্রণাই দাম্পত্য জীবনকে তিলে তিলে ধ্বংস করে দেয়।
৮. দাম্পত্য সম্পর্ক, “কী পেলাম?” –এর হিসেবে মেলানোর জন্য নয়। বরং সঙ্গী বা সঙ্গিনীকে “কী দিতে পেরেছি,” তা-ই দাম্পত্য সম্পর্কের মূলকথা।
৯. “জীবনসঙ্গী/জীবনসঙ্গিনী হিসেবে আমি সর্বোত্তম”-এমনটি মনে হওয়া অতি আত্মবিশ্বাসের লক্ষণ। এমনটি মনে হলে নিজেকে যাচাই করুন।
১০. সংসারের ক্রমাগত আর্থিক সচ্ছলতা অর্থ এই নয় যে, দাম্পত্য জীবনও সুখের মধ্য দিয়ে কাটছে।
১১. যদি বিশ্বাস ভেঙ্গে গিয়ে থাকে, তাহলে সেই বিশ্বাস জোড়া দেওয়ার সময় এখনও পার হয়ে যায়নি। এজন্য যেকোনো সময়ই উপযুক্ত সময়।
১২. অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যা নিয়ে তর্ক হয় তা আসল বিষয় থাকে না।
১৩. ভালোবাসা কেবল অনুভুতি নয়; বরং আমাদের কাজের মাধ্যমেই ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
১৪. বেশি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা মনের হতাশা ও অতৃপ্তিকে বাড়িয়ে দেয়।
১৫. দাম্পত্য জীবনের অনেক তর্কই হয়ত এড়িয়ে যাওয়া যায় না। তবে ক্ষতিকর বিতর্ককে এড়িয়ে যেতেই হবে।
১৬. জীবনসঙ্গী/জীবনসঙ্গিনীর প্রতি আপনার গভীর মনোযোগ পরস্পরের জন্য হতে পারে অমূল্য উপহার।
১৭. অনেক সময় সুখী দম্পতিরাও ভাবেন যে, তারা ভুল মানুষটিকে বিয়ে করেছেন।
১৮. আপনার জীবনসঙ্গী/জীবনসঙ্গিনী আপনাকে সুখী করার শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে না পারলেও তিনি আপনার সুখী হওয়ার ব্যাপারে অবশ্যই সাহায্য করতে পারেন।
১৯. মিথ্যা বলে হয়ত সামান্য কিছু সুবিধা পান। কিন্তু পরিমাণে মিথ্যা বলার জন্য সুবিধার চেয়ে অনেক বেশি চড়া মূল্য দিতে হয়। অতএব, মিথ্যা বলা বর্জন করুন।
২০. আপনার মতামত যে সবসময় সঠিক, এমনটি ভাববেন না।
২১. বছরের পর বছর ধরে যে বিশ্বাস আপনি গড়ে তুলেছেন, তা এক মুহূর্তে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।
২২. সঙ্গী বা সঙ্গিনীর অপরাধবোধকে দীর্ঘায়িত করে তার অনুভূতি নিয়ে খেলা করে আপনি যা পেতে চান, তা কখনোই পাবেন না।
২৩. আপনার বন্ধুদেরকে অবহেলা করবেন না।
২৪. আপনার যদি মনে হয়, ‘তুমিই আমার জন্য সঠিক মানুষটি, যাকে আমি বিয়ে করেছি’, তাহলে আপনি ঠিক পথেই আছেন।
২৫. কোনোকিছু প্রমাণ করতে যাওয়ার প্রলোভনকে দমন করতে পারলে, বস্তুত আপনি অনেক কিছুই প্রমাণ করতে পারলেন।
২৬. আত্মিক উদারতা একটি সুখী দাম্পত্য জীবনের প্রধান ভিত্তি।
২৭. সঙ্গী বা সঙ্গিনী যদি কোনো রক্ষণাত্মক আচরণ করে, তাহলে তার রক্ষণাত্মক হওয়ার পক্ষে আপনিও কিছু কারন দেখাতে পারেন।
২৮. বিয়ে কোন ৫০/৫০ সম্ভাবনা না; বরং এটি হলো ১০০/১০০।
২৯. দাম্পত্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে আপনি কোনোকিছু এখনও পরিশোধ করতে পারেন আবার পরেও পারেন। তবে যতদেরিতে তা করবেন, ততবেশি জরিমানা আপনাকে দিতে হতে পারে।
৩০. সুন্দর বৈবাহিক সম্পর্কের জন্য ত্যাগ স্বীকার করা প্রয়োজন। এমনটি করতে পারলে, আপনি আপনার ত্যাগের চেয়ে ভোগই বেশি করতে পারবেন।
৩১. ক্ষমা কোন সাময়িক গুণ নয়; বরং ক্ষমা একটি চলমান প্রক্রিয়ার নাম।
৩২. দাম্পত্য জীবনের কঠিন সময়গুলো আপনাকে একজন ভালো মানুষ করে তুলবে।
৩৩. বিয়ে অনেকটা রকেট উৎক্ষেপণের মতো। যখন তাতে মাধ্যাকর্ষণ টান পূর্ণ থাকে, তখন ফ্লাইট চলতে খুব সামান্য জ্বালানীর প্রয়োজন হয়।
৩৪. দাম্পত্য জীবনে সাফল্য পেতে হলে, অতীতে কী হয়েছে তা নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে, ভবিষ্যতের করণীয় নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে।
৩৫. আপনার সঙ্গী বা সঙ্গিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন। কৃতজ্ঞতা বোধকে নিজের ভেতর চেপে রাখবেন না।
৩৬. বাস্তবতার খাতিরে মাঝে মাঝে নীরবতা পালন করা একটি অসাধারন উপায়।
৩৭. আপনার সঙ্গী বা সঙ্গিনীর কাছে আপনার সর্বোত্তম প্রশ্নগুলোর একটি হতে পারে, “আমি কীভাবে তোমাকে আরও বেশি ভালোবাসতে পারি?”
৩৮. চাইলেই দাম্পত্য জীবনকে চিরসবুজ করে রাখা যায়।
৩৯. যৌক্তিক অনুমানের ভিত্তিতে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। তবে পদক্ষেপ নেওয়ার পূর্বে অনুমানকে যাচাই করে নেওয়াই আবশ্যক।
৪০. মনের ইচ্ছা বা উদ্দেশ্যই সবকিছু নয়, কিন্তু তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি।
৪১. সার্থক যৌন সম্পর্ক সার্থক দাম্পত্য সম্পর্কের নিশ্চয়তা দেয় না। তবে তা সার্থক দাম্পত্য সম্পর্ক নির্মাণে সহায়তা করে।
৪২. ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করলে তা দাম্পত্য সম্পর্কের ক্ষতি করবে না। তবে সন্দেহজনক বিষয় নিয়ে লুকোচুরি করলে তা দাম্পত্য সম্পর্কের ক্ষতি করবে।
৪৩. সঙ্গী/সঙ্গিনীকে আঁকড়ে ধরে রাখার প্রবণতা এবং ঈর্ষাপরায়ণতার জন্ম হয় ভয় থেকে, ভালোবাসা থেকে নয়।
৪৪. বিশ্বাসযোগ্যতা বিশ্বাসযোগ্যতার জন্ম দেয় এবং বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখার অভ্যাস গড়ে তোলে।
৪৫. আপনার স্বামী বা স্ত্রী যদি কোনোকিছুকে গুরুত্বপূর্ণ ভাবে, তাহলে তা আপানর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
৪৬. দাম্পত্য সম্পর্কে প্রেমাবেগের প্রয়োজন কখনোই ফুরিয়ে যায় না।
৪৭. নতুন সম্পর্কের ঔজ্জ্বল্য সবসময়ই ক্ষণস্থায়ী হয়ে থাকে।
৪৮. নীরবতাও আক্রমণাত্মক হতে পারে যখন তা অস্ত্র হিসাবে ব্যবহৃত হয়।
৪৯. অধিক উত্তম হলো নিজে কীভাবে সঠিক কাজটি করতে পারেন সেদিনে মনোযোগ দেওয়া। তারপর আপনার সঙ্গী বা সঙ্গিনী কী ভুল করেছে সেদিকে মনোযোগ দেওয়া।
৫০. দাম্পত্য সম্পর্ককে মানিয়ে নেওয়া একেবারেই অসম্ভব মনে হলে, কেবল তখনই বিচ্ছেদের দিকে পা বাড়াতে পারেন।
>>> সংগৃহিত <<<