উত্তম জীবন সঙ্গীনী লাভের কুরআনি দোয়া

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি :

উত্তম জীবন সঙ্গী সবারই প্রত্যাশা। প্রত্যেক নারীই উত্তম স্বামী আর প্রত্যেক পুরুষই উত্তম স্ত্রীর আকাঙ্খা করে। এ প্রত্যাশা পুরণে আল্লাহর ওপর একান্ত আস্থা ও বিশ্বাসের বিকল্প নেই। আল্লাহ তাআলা কুরআনে পাকে উত্তম জীবনসঙ্গী লাভের দোয়া শিখিয়েছেন।

অনেক মানুষই জানতে চায় কিংবা দুঃশ্চিন্তায় থাকে যে, কিভাবে উত্তম স্বামী কিংবা স্ত্রী পাওয়া যায়। আবার বিবাহিত স্বামী-স্ত্রীও জানতে চায় কিভাবে উত্তম সন্তান লাভ করা যায়। তাদের জন্যই এ কুরআনি আমল-

رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا

উচ্চারণ : ‘রাব্বানা হাব্লানা মিন আযওয়াঝিনা ওয়া জুর্রিয়াতিনা কুর্রাতা আইয়ুনিও ওয়াঝআলনা লিলমুত্তাক্বিনা ইমামা।’

অর্থ : ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের এমন স্ত্রী ও সন্তান দান করুন। যারা আমাদের চোখ জুড়িয়ে দেয় আর আমাদেরকে (পুরুষদেরকে) মুত্তাকি লোকদের নেতা বানিয়ে দাও।’ (সুরা ফুরক্বান : আয়াত ৭৪)

যারা মহান আল্লাহর কাছে উত্তম জীবনসঙ্গী লাভের প্রত্যাশা করে, তাদের উচিত মহান আল্লাহর কাছে তারই শেখানো ভাষায় আবেদন করা। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনুল কারিমে বান্দাকে উত্তম স্বামী/স্ত্রী ও সন্তান লাভের দোয়া শিখিয়েছেন। যেসব স্বামী/স্ত্রী ও সন্তান একে অন্যের চোখকে শীতল করবে।

কুরআনুল কারিমের এ আয়াতের আমলে আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক পুরুষকেই এমন উত্তম স্ত্রী ও সন্তান দান করবেন, যাদের দেখে পুরুষদের মন শান্ত হয়ে যাবে।

পক্ষান্তরে যে সব নারী এ দোয়ার আমল করবে, আশা করা যায়, আল্লাহ তাআলা সেসব স্ত্রীদেরকেও নয়নজুড়ানো স্বামী ও সন্তান দান করবেন।

সুতরাং মুসলিম উম্মাহর উচিত আল্লাহ তাআলার শেখানো ভাষায় তারই কাছে উত্তম জীবনসঙ্গী ও সুসন্তান লাভের দোয়া করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআনি আমলের মাধ্যমে উত্তম জীবনসঙ্গী ও সুসন্তান লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

নামাজ ছাড়া দিন শুরু করা না-করার পরিণতি

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

নামাজ মানুষকে কল্যাণের পথে পরিচালিত করে, রিজিকের ফয়সাল দান করে। কুরআনের আয়াত দ্বারা তা প্রমাণিত। তারপরও এমন অনেক মুসলিম রয়েছে যারা নামাজ দ্বারা দিন শুরু করে না। অথচ নামাজ দ্বারা দিনের কাজ শুরু করায় রয়েছে অনেক বড় মর্যাদার ঘোষণা।

ভালো কাজ দিয়ে দিনের কার্যক্রম শুরু করায় রয়েছে কল্যাণ। হাদিসে পাকে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভোরে নামাজ দিয়ে দিন শুরু করা ব্যক্তির প্রশংসা ও মর্যাদা ঘোষণা করেন বলেন- হজরত সালমান ফারসি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ভোরে ফজরের নামাজের দিকে গেল, সে ঈমানের পতাকা বহন করলো। আর যে ভোরে (নামাজ না পড়ে) বাজারের (অন্য কাজের) দিকে গেল, সে ইবলিসের (শয়তানের) ঝাণ্ডা বহন করে নিলো।’ (ইবনে মাজাহ, মিশকাত)

এ হাদিসের ব্যাখ্যায় আল্লামা তিবি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, এ হাদিসের মাধ্যমে দু’টি দলের সুস্পষ্ট পরিচয় পাওয়া যায়।

তাদের প্রথম দলটি হলো- ‘হিজবুল্লাহ’ বা আল্লাহর দল। যারা ভোরে নামাজ দিয়ে দিনটি শুরু করে।

আর দ্বিতীয় দলটি হলো- ‘হিজবুশ শায়তান’ বা শয়তানের দল। যারা দিনের শুরুতে নামাজ বাদ দিয়ে দুনিয়াবি অন্যান্য কাজের মাধ্যমে নিজেদের ব্যস্ত করে তোলে।

সুতরাং ভোর বেলা ঘুম থেকে ওঠে অন্য কোনো কাজ নয়, পাক-পবিত্র হয়ে নামাজ আদায় করাই ঈমানের একান্ত দাবি। কেননা ভোরের নামাজ আদায়কারী ব্যক্তির নামাজ আদায় কিংবা নামাজের উদ্দেশ্যে মসজিদের দিকে গমন ঈমানের পতাকা ওড়ানোর শামিল। আর তারাই আল্লাহর দল হিসেবে পরিচিত।

আর যারা এর বিপরীত কাজে নিজেদের দিন শুরু করে তারা শয়তানের দলে পরিণত হয় এবং নিজেদের দ্বীনকে পর্যদুস্তকারী হিসেবে পরিচিতি পায়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে নিয়মিত ভোরবেলা নামাজের মাধ্যমে তাদের দিন শুরু করার তাওফিক দান করুন। শয়তানের সঙ্গী হওয়ার অপবাদমুক্ত হয়ে আল্লাহর সঙ্গী হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

নামাজ পড়তে ভুলে গেলে বা ঘুমিয়ে পড়লে করনীয়

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

ঈমানের পর নামাজ ইসলামের অন্যতম প্রধান ইবাদত। ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ৫ বার নামাজ আদায় করা ফরজ। আল্লাহ তাআলা মানুষের জন্য প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজ যথা সময়ে আদায় করাকে ফরজ করেছেন। কেউ যদি নামাজ পড়তে ভুলে যায় বা ঘুমিয়ে পড়ে, তবে তার করণীয় কী? এ প্রসঙ্গে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন।

কেননা ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ পরিত্যাগ করা কুফরি। প্রিয়নবীর ঘোষণায় ইসলাম এবং কুফরের মধ্যে পার্থক্যকারী হলো নামাজ। তাই ইচ্ছা করে নয়, বরং ভুলে বা ঘুমিয়ে পড়ার কারণে যদি নামাজ পড়া না হয় তবে করণীয় সম্পর্কে প্রিয়নবী বলেন-

* হজরত আনাস ইবনে মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কোনো ব্যক্তি নামাজ আদায় করতে ভুলে গেলে যখনই তা (নামাজের কথা) স্মরণ হবে, আদায় করে নেবে।’

* হজরত আলি ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, কোনো ব্যক্তি সালাত আদায় করতে ভুলে গেলে সালাতের ওয়াক্ত হোক বা না হোক, যে সময়ই তার মনে পড়বে, সে সময়ই সালাত আদায় করে নেবে।’

* হজরত আবু কাতাদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, লোকেরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে সালাত ভুলে ঘুমিয়ে পড়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, ঘুমের বেলায় (নামাজ না পড়ায়) কোনো গোনাহ নেই, গোনাহ হলো জাগ্রত থাকার সময়। তোমাদের কেউ যদি সালাত আদায় করতে ভুলে যায় বা ঘুমিয়ে পড়ে তবে যে সময়ই মনে পড়বে বা জাগ্রত হবে, তখনই আদায় করে নেবে।’

উল্লেখ্য যে, কোনো ব্যক্তি যদি নামাজের সময় ভুলে নামাজ না আদায় করে বা ঘুমিয়ে যায়। আর যখনই মনে হয় বা ঘুম থেকে জাগ্রত হয়, তখন যদি সূর্য ওঠার বা ডোবার সময় হয়। তবে করণীয় কী?

এ প্রসঙ্গে দু’টি মত পাওয়া যায়- * ইমাম শাফেয়ী, ইমাম আহমদ, ইমাম মালেক ও ইসহাক, ‘সূর্য ওঠার এবং ডোবার সময় মনে হলে বা ঘুম থেকে ওঠলে, সে সময়ই নামাজ আদায় করবে।’

* অপর একদল আলেম বলেন, ‘সূর্য ওঠা বা ডোবা পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত সে সালাত পড়বে না।’ ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহিও এ মতের কথা ব্যক্ত করেছেন।

হজরত আবু বাকারা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, তিনি একদিন আসরের নামাজের আগেই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। শেষে ঠিক সূর্য ডোবার সময় তিনি জেগে ওঠেন। কিন্তু সূর্য পূর্ণভাবে না ডোবা পর্যন্ত নামাজ আদায় করলেন না।’ কুফাবাসী আলেমগণও এ মতটি গ্রহণ করেছেন।

কিন্তু ইমাম তিরমিজি রহমাতুল্লাহ আলাইহি হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহুর মতটি গ্রহণ করেছেন। ইমাম তিরমিজি রহমাতুল্লাহি আলাইহি উল্লেখিত হাদিসগুলো তাঁর নিজ গ্রন্থ জামে আত-তিরমিজিতে উল্লেখ করেছেন।

নামাজ পড়তে ভুলে গেলে বা ঘুমিয়ে যাওয়ার কারণে যথা সময়ে নামাজ পড়তে না পারলে স্মরণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বা ঘুমে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে নামাজ আদায় করে নেয়া।

মধ্যমপন্থা অবলম্বন আল্লাহর পছন্দনীয়

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

মধ্যমপন্থা অবলন্বনকারী ব্যক্তি বলতে ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপনকারীদেরকে বোঝায়। একজন মুসলিমের সৌন্দর্যই হলো তার ভ্রাতৃত্ববোধ, সহনশীলতা ও উদারতা। মধ্যমপন্থা অবলন্বনকারী ব্যক্তিরা সব কিছুতে ধৈর্যশীলতার পরিচয় দিয়ে থাকেন। মধ্যমপন্থা অবলম্বনের মধ্যে আল্লাহর অনুগ্রহ ও কল্যাণ রয়েছে।

আমাদের রাসূল সা: সব পরিবেশ পরিস্থিতি সবরের সাথে মোকাবেলা করতেন। যার ফলে হজরত রাসূল সা:-এর জমানায় মুসলমানেরা সব ক্ষেত্রে সাফল্যে লাভ করত। উগ্রতা, হিংস্রতা, অহঙ্কার ও ক্রোধ মানুষকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়।

মধ্যমপন্থা হলো ব্যক্তি ও পেশাগত জীবনে সাফল্যে লাভের একমাত্র চাবিকাঠি। কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘এভাবেই আমি তোমাদের এক মধ্যমপন্থী মানব দলে পরিণত করেছি, যেন তোমরা দুনিয়ার অন্য মানুষদের ওপর সাক্ষী হয়ে থাকতে পারো’ (সূরা বাকারা : ১৪৩)।

বিশ্বজুড়ে মুসলমান উত্তম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, আথিতেয়তা ও উদারতার জন্য প্রশংসিত। মুসলমানেরা মধ্যমপন্থা অবলম্বনকারী সহনশীল জাতি। মুসলমানদের কাছে পৃথিবীর সব জাতিগোষ্ঠীর লোকজন নিরাপদ। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা: থেকে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসূল সা: এরশাদ করেছেন, ‘প্রকৃত মুসলমান সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা এবং হাত থেকে সব মুসলমান নিরাপদ থাকে’ (বোখারি : ০৯)।

উগ্রপন্থা কিংবা চরমপন্থা হলো শয়তানের পথ। আমাদের নিজেদের ধ্বংসের হাত থেতে রক্ষা করতে হলে অবশ্যই সবাইকে চরমপন্থা পরিহার করে চলতে হবে। শয়তান সবসময় মানুষকে মন্দ কাজের প্রতি উৎসাহিত করে। শয়তানের অনুসারী ব্যক্তি-গোষ্ঠীরা মানুষের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ লাগানোর জন্য সর্বদা চেষ্টা করে। তাই মানুষরূপী শয়তান সম্পর্কে মুমিনদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।

কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইসলামে পরিপূর্ণরূপে দাখিল হও এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের জন্য প্রকাশ্য শক্র’ (সূরা বাকারা : ২০৮)।

বর্তমানে পৃথিবীজুড়ে এক ধরনের অস্থিরতা চলছে। প্রভাবশালীরা নীতি নৈতিকতা ভালোমন্দের বিচার বিশ্লেষণ করছে না। দুর্বলের ওপর সবলের দখল নির্যাতন হামলা মামলা অত্যাচার শোষণ জুলুম কোথাও থেমে নেই। মুসলমানের ঈমান আকিদা ঐতিহ্য ধ্বংস করতে মানুষরূপী শয়তান সদা সর্বদা তৎপর রয়েছে। আজ শয়তানের কুমন্ত্রণায় পড়ে কিছু সংখ্যক মুসলমান যুবক উগ্রবাদ তথা জঙ্গিবাদের সাথে জড়িয়ে পড়ছে, যা মুসলমানের জন্য আশঙ্কার বিষয়।

কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ! তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে উদাসীন না করে। আর যারা এরূপ করে তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত’ (সূরা মুনাফিকুন : ০৯)।

দৈনন্দিন জীবনযাপনের ক্ষেত্রে সবাইকে মাত্রাতিরিক্ত ভোগবিলাস, হিংসা ও নিন্দা পরিহার করে চলতে হবে। আমাদের সবাইকে পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে মধ্যমপন্থা অনুসরণ করতে হবে। কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘হে ঈমানদারগণ! কোনো সম্প্রদায় যেন অপর কোনো সম্প্রদায়কে বিদ্রুপ না করে, হতে পারে তারা বিদ্রুপকারীদের চেয়ে উত্তম। আর কোনো নারীও যেন অন্য নারীকে বিদ্রুপ না করে, হতে পারে তারা বিদ্রুপকারীদের চেয়ে উত্তম’ (সূরা হুজরাত : ১১)।

আজকাল পৃথিবীর সর্বত্রই দুর্বলেরা নির্যাতিত হচ্ছে। বর্তমান সময়ের সব পরিবেশ পরিস্থিতি মোকাবেলায় দুর্বল নির্যাতিত ব্যক্তি-গোষ্ঠীকে অবশ্যই মধ্যমপন্থার অনুসরণ করতে হবে। তা হলে নির্যাতিত দুর্বল ব্যক্তিদের বিজয় আসবে। কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা দুর্বল হয়ো না এবং দুঃখিত হয়ো না, যদি মুমিন হয়ে থাকো তবে বিজয় তোমাদের হবেই’ (সূরা ইমরান : ১৩৯)।

মুহাদ্দিস মাওলানা আবদুল্লাহর ইন্তেকাল

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি :

ঐতিহ্যবাহী জামিয়া সিদ্দীকিয়া তেরাবাজার মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা আব্দুল্লাহ গতকাল ১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার মৃতু্যতে ছাত্র-শিক্ষক ও মুসল্লিদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে।

এপেন্ডেসাইডের ব্যথা নিয়ে শেরপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হন মাওলানা আব্দুল্লাহ। গত ৩১ ডিসেম্বর সকালে মাওলানা আব্দুল্লাহর অপারেশন করা হয়। অপারেশনের সময় তার রক্তচাপ কমে গেলে অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরে তাকে শেরপুর থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে নেয়া হলে সেখানে তিনি ইন্তেকাল করেন।

শেরপুরে শহরে জন্ম নেয়া মাওলানা আব্দুল্লাহ শহরের জামিয়া সিদ্দীকিয়া তেরাবাজার মাদরাসায় দীর্ঘ দিন ধরে সিনিয়র মুহাদ্দিস ও এসআর অফিস জামে মসজিদের ইমাম ও খতিবের দায়িত্ব কৃতিত্বের সঙ্গে পালন করে আসছিলেন। খ্যাতিমান এ মুহাদ্দিস জামিয়া সিদ্দীকিয়াতেই তার শিক্ষা জীবন করেন। শেষ কর্মস্থলও এ দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

মৃত্যুকালে মাওলানা আবদুল্লাহ দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। আজ তার কর্মস্থল জামিয়া সিদ্দীকিয়া তেরাবাজার মাদরাসা ময়দানে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।

আল্লাহ তাআলা ইলমে হাদিসের এ খাদেমকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন।

কবরের সংক্ষিপ্ত বিচার ও ফয়সালার ধরণ

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি :

প্রত্যেক মানুষই মরনশীল। আল্লাহ তাআলার ঘোষণা, প্রতিটি জীবনকেই মৃতু্যর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। হাশরের ময়দানে একত্রিত করা ও বিচার শুরু হওয়ার আগে কবরেই মানুষের সংক্ষিপ্ত হিসাব তথা পরীক্ষা শুরু হবে।

এ কারণেই যারা দুনিয়ার জীবনে আল্লাহকে বেশি ভয় করে তারা আখেরাতের প্রথম মঞ্জলি কবরের জীবন ও সংক্ষিপ্ত বিচারের সম্মুখীন হওয়াকেও বেশি ভয় করে।

তাকওয়াবানদের এ ভয়ের অন্যতম কারণ হলো, যারা কবরের সংক্ষিপ্ত বিচারে পার পেয়ে যাবে, তাদের পরবর্তী ধাপগুলো সহজ হয়ে যাবে। আর যারা কবরের সংক্ষিপ্ত বিচারে আটকে যাবে তাদের দুঃখ ও লাঞ্ছনার শেষ নেই। কবরের এ সংক্ষিপ্ত বিচার তথা প্রশ্নোত্তর পর্ব পরকালীন জীবনের ওপর বিশ্বাসের প্রথম স্তর।

কবরের সংক্ষিপ্ত বিচার
মৃতু্যর পর মৃতব্যক্তিকে যখন প্রথমে কবরে রাখা হবে, তখন মুনকার-নকির নামক অপরিচিত, অদ্ভুত ও বিকট আকৃতির দু’জন ফেরেশতা কবরে আসবেন। যাদেরকে দেখলে মুমিন ব্যক্তি ভয় পাবে না। কিন্তু অপরাধী ব্যক্তিরা অস্বাভাবিক ভয় পাবে।

সেখানে প্রশ্নোত্তর মূলক সংক্ষিপ্ত বিচার শুরু হবে। যারা প্রশ্নের উত্তরগুলো যথাযথ দিতে পারবে, তারাই সফলকাম। আর যারা সংক্ষিপ্ত বিচারালয়ের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে না , তারা ব্যর্থ।

মুনকার-নকির কবরে এসে মৃতব্যক্তিকে শোয়া থেকে উঠিয়ে বসাবে। তারপর ধারাবাহিকভাবে ৩টি প্রশ্ন করবে-

প্রথম প্রশ্ন
مَنْ رَبُّكَ؟
মান রাব্বুকা?
আপনার প্রভু কে?

প্রশ্নের উত্তর
যদি সে ব্যক্তি নেককার হয় তবে বলবে-
رَبِّى الله
আল্লাহ আমার প্রভু।

আর যদি সে মন্দ লোক হয় তবে প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে পারবে না।

দ্বিতীয় প্রশ্ন
مَنْ دِيْنُكَ؟
মান দ্বীনুকা?
আপনার দ্বীন বা জীবন ব্যবস্থা কী?

প্রশ্নের উত্তর
যদি সে ব্যক্তি নেককার হয় তবে বলবে-
دِيْنِىَ الْاِسْلَام
ইসলাম‌ আমার জীবন ব্যবস্থা বা দ্বীন।

আর যদি সে মন্দ লোক হয় তবে প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে পারবে না।

তৃতীয় প্রশ্ন
مَنْ هَذَا الرَّجُل؟
মান হাজার রাজুল?
এই ব্যক্তি কে?

প্রশ্নের উত্তর
যদি সে ব্যক্তি নেককার হয় তবে বলবে-
نَبِيُّنَا مَحَمَّدُ رَّسُوْلُ الله
তিনি আমাদের নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

আর যদি সে মন্দ লোক হয় তবে প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে পারবে না। সে বলবে আমি এ ব্যক্তিকে চিনি না। (নাউজুবিল্লাহ)

সংক্ষিপ্ত বিচারের ফলাফল
যারা এ প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে পারবে। তাদের কবরের সঙ্গে জান্নাতের যোগাযোগ স্থাপন করে দেয়া হবে। জান্নাতের হাওয়া এবং সুঘ্রাণ তাদের কবরে আসতে থাকবে। তাদেরকে বলা হবে-

‘এখন তুমি আরামে ঘুমাও। নতুন বিবাহ করা দম্পতির মতো। যারা মনের সুখে ঘুমোতে থাকে।’ এভাবে তারা কিয়ামত অনুষ্ঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত এক ঘুমে পুরো সময় পার করে দেবে।

আর যারা কবরের সংক্ষিপ্ত বিচারালয়ের ৩টি প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যর্থ হবে তাদের কর্ম অনুযায়ী কিয়ামত অনুষ্ঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত শাস্তি ভোগ করতে থাকবে।

পরিশেষে…
কবরের সফলতা লাভে কুরআনের সুসংবাদ গ্রহণ করাই মুমিন মুসলমানের একান্ত কর্তব্য। আল্লাহ তাআলা সংক্ষিপ্ত বিচারালয়ে মুনকার-নকিরের প্রশ্নের উত্তর সহজ হওয়ার বিষয়গুলো উল্লেখ করেন বলেন-
‘যারা শ্বাস্বত বাণীতে (কালেমায়) বিশ্বাসী, আল্লাহ তাদের দুনিয়া এবং আখেরাতে এ কালেমা তথা ঈমানের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখেন।’ (সুরা ইবরাহিম : আয়াত ২৭)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে পরকালের সংক্ষিপ্ত বিচারালয়ে সফল হওয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত বিচার-ফয়সালায় কামিয়াবি হওয়ার তাওফিক দান করুন। কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আত্মীয়-স্বজনের চেয়ে প্রতিবেশির হক কি বেশি?

কারেন্টনিনউজ ডটকম ডটবিডি :

প্রতিবেশির চেয়ে আত্মীয়-স্বজন প্রতিটি মানুষের কাছেই অনেক আপন। কিন্তু আত্মীয়-স্বজন কখনোই প্রতিবেশির চেয়ে বেশি উপকারে আসে না। কারণ আত্মীয়-স্বজন সবসময় ধারে-কাছে থাকে না। প্রতিবেশিরাই বিপদে-আপদে, দুঃখ-দুর্দশায় একে অপরের কাছে প্রথমে এগিয়ে আসে। প্রতিবেশির যথাযথ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই সামাজিক শান্তি নিশ্চিত হয়।

বিপদের সময় আত্মীয়-স্বজনের আগে প্রতিবেশিরাই খোঁজ-খবর নেয় এবং সেবাযত্ন করে থাকে। শুধু তা-ই নয়, সামাজিক কাজ-কর্ম, বিয়ে-শাদীসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আত্মীয়-স্বজনের চেয়ে প্রতিবেশিরাই উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে থাকে।

যদিও আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারীদেরকে কুরআন-হাদিসে পাকে অভিশপ্ত বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। তথাপিও প্রতিবেশির সঙ্গে সদাচরণের ব্যাপারে কুরআনে পাকে সুস্পষ্ট নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন-
‘কাছের প্রতিবেশি, দূর প্রতিবেশি এবং সঙ্গী-সাথীদের সঙ্গে উত্তম ব্যবহার কর।’ (সুরা নিসা : আয়াত ৩৬)

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হক বা অধিকার হিসেবে প্রতিবেশিকে ৩ ভাগে বিভক্ত করেছেন-
> এক হক বিশিষ্ট প্রতিবেশি। যারা আত্মীয় নয় আবার মুসলিমও নয়।
> দুই হক বিশিষ্ট প্রতিবেশি। যারা আত্মীয় নয়, তবে মুসলিম।
> তিন হক বিশিষ্ট প্রতিবেশি। যারা আত্মীয় এবং মুসলিম।

প্রতিবেশি অমুসলিম হলেও একে অন্যের সহযোগী। একে অপরের সঙ্গে চলা-ফেরা, ওঠা-বসায় পাস্পরিক সহযোগিতা করে থাকে।

আবার প্রতিবেশি মুসলিম হলে এমনিতেই তার দু’টি হক প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। একটি হলো সে প্রতিবেশি হিসেবে খোঁজ-খবর রাখার অধিকার রাখে। আবার মুসলিম হওয়ার কারণে হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী এমনিতেই এক মুসলমানের সঙ্গে অপর মুসলমানের একাধিক ৬টি হক জড়িত বলে হাদিসে প্রিয়নবি ঘোষণা করেছেন।

আবার প্রতিবেশি যদি আত্মীয় হয় তবে সে ক্ষেত্রে উপরোল্লেখিত অধিকারগুলোর সঙ্গে আত্মীয়তার হকও মিলে যায়। কেননা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারীর প্রতি কুরআন এবং হাদিসের একাধিক স্থানে ভয়াবহ ক্ষতির ঘোষণা এসেছে।

সুতরাং প্রতিবেশি সঙ্গে মিলেমিশে থাকা, তাদের সঙ্গে সৌজন্যমূলক আচরণ করা প্রত্যেকের মুসলমানেরই নৈতিক দায়িত্ব। কেননা কাছের এবং দূরেরসহ সব প্রতিবেশির সঙ্গে সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা।

মনে রাখতে হবে
প্রতিবেশিকে কষ্ট দেয়া ঈমানের পরপন্থী কাজ। প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
– যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশিকে কষ্ট না দেয়।’ (মিশকাত)
শুধু এ হাদিসই নয়, বরং প্রিয়নবি ৩বার শপথ করে বলেছেন-
– আল্লাহর শপথ! সে ব্যক্তি ঈমানদার নয় (৩ বার এ শপথ করার পর সাহাবায়ে কেরাম) প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! কে সেই ব্যক্তি? জবাবে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘যার প্রতিবেশি তার অনিষ্ট বা ক্ষতি থেকে নিরাপদ থাকতে পারে না।’ (মিশকাত)

সুতরাং কুরআনের নির্দেশ এবং হাদিসের নির্দেশনা থেকে বুঝা যায়, প্রতিবেশির হক বা অধিকারের প্রতি সেভাবেই লক্ষ্য রাখা উচিত যেভাবে প্রতিবেশিদের একজন অপর জনের বিপদ-আপদে সাহায্যের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আত্মীয়-স্বজনের চেয়েও প্রতিবেশিরাই একে অপরের উপকারে আসে। যদিও আত্মীয় স্বজনের হক বেশি কিন্তু সামাজিক শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে প্রতিবেশির হক বা গুরুত্বও কম নয়। বরং আত্মীয়-স্বজনের অধিকারের চেয়ে প্রতিবেশির প্রতি দ্বায়িত্ববোধ অনেক ক্ষেত্রেই বেশি।

তাই প্রতিবেশির সঙ্গে সদ্ব্যহার করার পাশাপাশি তাদের সামনে-পেছনে মঙ্গল কামনা করা, তাদের কাউকে কোনো ব্যাপারে কষ্ট না দেয়া। সব সময় একে অপরের উপকারের মানসিকতা পোষণ করা। গরিব ও অসহায় প্রতিবেশিকে ধিক্কার বা অবহেলা না করে তাদের প্রতি কোমল হওয়ার পাশাপাশি সর্বাত্মক সাহায্য-সহযোগিতা করা।

প্রিয়নবির এ কথার ব্যাপারে সাবধান থাকতে হবে যে-
‘ওই ব্যক্তি ঈমানদার নয় যে তৃপ্তিসহকারে খাবার গ্রহণ করে অথচ তার প্রতিবেশি তার পাশেই অভুক্ত, খাদ্যাভাবে পড়ে থাকে।’

আল্লাহ তা্আলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক প্রতিবেশির অধিকারগুলোর যথাযথ সম্মান, সম্পর্ক বজায় রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।

হাত থেকে কুরআন মাজিদ পড়ে গেলে কী করবেন?

কারেন্টনউিজ ডটকম ডটবিডি :

ভুল বা বেখেয়ালে হাত অথবা কোনো স্থান থেকে পবিত্র কুরআন মাজিদ পড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। কেননা মানুষ স্বাভাবিকভাবেই ভুল করে থাকে। আল্লাহ তাআলা মানুষকে ইচ্ছা কিংবা অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য প্রার্থনা করলে ক্ষমা করে দেন।

কুরআন আল্লাহ তাআলা কিতাব। আর প্রত্যেক মুসলমানই অন্তর থেকেই পবিত্র কুরআনুল কারিমকে সর্বোচ্চ সম্মান করে থাকে। কোনো ব্যক্তিই চায় না যে পবিত্র কুরআনুল কারিমের বিন্দুমাত্র অসম্মান হোক। তারপরও অনেক সময় ভূলঃবশত হাত থেকে হোক আর কোনো স্থান থেকে হোক কুরআন পড়ে যায়।

কুরআন পড়ে যাওয়া সম্পর্কে এমন অনেক কথাই আমরা শুনে থাকি যে, হাত কিংবা কোনো স্থান থেকে কুরআন পড়ে গেছে, আর তাতে করণীয় কী? এর সাধারণ সমাধান হলো-

হাত থেকে কুরআন পড়ে গেলে যা করবেন
যদি কখনো ভুলে হাত থেকে কিংবা কোনো স্থান থেকে কুরআন মাজিদ নিচের দিকে পড়ে যায়, তবে সঙ্গে সঙ্গে দেরি না করে তা ওঠিয়ে নেয়া এবং পবিত্র কুরআনে চুম্বন করা। এ ভুল কৃতকর্মের ক্ষমা প্রার্থনায় ২ রাকাআত নামাজ আদায় করে নেয়া।

নিচে পড়ে যাওয়ার চেয়েও যে কাজে অসম্মানের
কুরআনের সবচেয়ে বড় অসম্মান হলো তা বন্ধ করে গিলাফে আবদ্ধ করে ঘরে ফেলে রাখা। ন্যূনতম মাসে একবার কুরআন পড়াকে বিরক্ত মনে করা হলো কুরআনের প্রতি সবচেয়ে বড় অসম্মান।

গোনাহের কাজ হলো
এমনকি মুসলিম উম্মাহর সে সব লোকদের জন্য সবচেয়ে বড় গোনাহের কাজ হলো যে, কুরআন পড়া সত্ত্বেও সঠিক বার্তাটি উপলব্ধি না করা। কুরআনের সঠিক কথার আমল না করা। অথচ আল্লাহ তাআলা জীবন পরিচালনার জন্য এ কুরআন অবতীর্ণ করেছেন।

কুরআন থেকে শিক্ষা গ্রহণ না করে তা বক্সে বন্দি করে ফেলে রাখাই সবচেয়ে বড় গোনাহের কাজও বটে।

আফসোস!
বহু মুসলিম এমন আছে যে, যারা অনেক সুরা মুখস্ত জানেন অথচ এ সুরাগুলোর অর্থ এবং হুকুম জানে না। তেলাওয়াতে সেসব নিয়ম-কানুন ও বিধান মুখে উচ্চারিত হয় অথচ কাজ করতে থাকে তার বিপরীত। আর তাতে এসব মানুষের সাওয়াবের চেয়ে পাপই বেশি হয়।

মনে রাখতে হবে
ভুলবশতঃ কারো হাত কিংবা কোনো স্থান থেকে কুরআন পড়ে গেলে, সঙ্গে সঙ্গে তা উঠিয়ে নেয়া এবং তা চুম্বন করা। আর এ ভুলের ক্ষমা প্রার্থনায় ২ রাকআত নামাজ আদায় করে নেয়া।

পাশাপাশি কোনো মুসলমানেরেই উচিত নয় যে, তারা এ পবিত্র গ্রন্থটি গিলাফবদ্ধ অবস্থায় কিংবা বক্সবন্দি করে ঘরে ফেলে রাখা। বরং নির্দিষ্ট একটি সময় করে অর্থসহ পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করাই জরুরি।

কেননা পরকালে বিচার ফয়সালার পর দুনিয়ার সব কুরআন তেলাওয়াতকারীর প্রতি নির্দেশ হবে যে, তুমি কুরআন তেলাওয়াত করতে থাকো। সুতরাং কুরআন তেলাওয়াতকারী যতক্ষণ কুরআন তেলাওয়াত করতে থাকবে তার মর্যাদা তত উঁচু হতে থাকবে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে উল্লেখিত ভুল ও করণীয় গুলোর ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি কুরআনের বিধান বাস্তবায়ন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

হাশরের মাঠে মানুষের অবস্থান যেমন হবে

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি :

মানুষের জীবনকাল আল্লাহ তাআলা কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ। হায়াতের বেশি কোনো মানুষই বাঁচতে পারে না। এটাই মহান আল্লাহ তাআলার সুমহান বিধান।

নির্দিষ্ট জীবনকাল অতিবাহিত করার পর মানুষকে আল্লাহ কাছে ফিরে যেতে হবে। কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার পর পৃথিবীতে আগমনকারী সব মানুষকে হাশরের ময়দানে সমবেত করা হবে।

সেখানে মানুষের জীবনকালের সব কাজের হিসাব-নিকাশ করা হবে। যারা হিসাব গ্রহণের দিন সফলতা লাভ করবে এবং ডান হাতে আমলনামা লাভ করবে তারা হবে সফল। আর যারা জীবনকালের হিসাব প্রদানে ব্যর্থ হবে তাদের জন্য রয়েছে শাস্তি।

মানুষের হিসাব গ্রহণের দিনের বর্ণনা দিয়ে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষকে সত্যের পথে চলার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছেন। মানুষের জীবনকালের হিসাব-নিকাশের বর্ণনাও ওঠে এসেছে এ হাদিসে-

হজরত সাহল ইবনু সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,কেয়ামতের দিন (সব) মানুষকে ধবধবে সাদা রুটির মতো জমিনের ওপর একত্রিত করা হবে। তার মাঝে কারো কোনো পরিচয় থাকবে না। (বুখারি, মুসলিম, মিশকাত)

হিসাব নিকাশে দিনে মানুষের পেরেশানি এত বেশি থাকবে যে, তারা পরস্পরের দিকে তাকানোর কোনো সুযোগ পাবে না। হাদিসে এসেছে-

হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি কেয়ামতের দিন সব মানুষ নগ্ন (খালি) পায়ে উলঙ্গ শরীর নিয়ে খৎনাবিহীন অবস্থায় সমবেত হবে।’
আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসুল! নারী-পুরুষ পরস্পর কি কারো দিকে তাকাবে না?
তিনি (প্রিয়নবি) বললেন, ‘হে আয়েশা! (সে দিন) পরস্পরের দিকে তাকানোর চেয়ে বিষয়টা অনেক কঠিন হবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)

সুতরাং মানুষের উচিত পরকালের হিসাব-নিকাশ প্রদানের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণে আল্লাহর বিধি-বিধান পালনে মনোনিবেশ করা। আল্লাহর একান্ত রহমত কামনা করা। কেননা সেদিন কোনো মানুষই তার রহমত ব্যতিত সফলতা লাভ করতে পারবে না।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তাঁর বিধি-বিধান পালনের একান্ত রহমত লাভের তাওফিক দান করুন। হাশরের ময়দানে ডান হাতে আমলনামা লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ইরান আন্তর্জাতিক হিফজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের আহ্বান

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি :

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক কুরআন হিফজ ও ক্বেরাত প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ বরাবরই ধারাবাহিক সাফল্যে সাক্ষর রেখে চলেছে। আন্তর্জঅতিক হিফজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের এ সুযোগ তৈরি করে দিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ সব সময় অগ্রনী ভূমিকা পালন করে আসছে।

২০১৯ সালের ৮-১৫ এপ্রিল ইরানের রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত হবে ৩৬তম আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতা। এ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি নির্বাচনে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪টি বিভাগে দরখাস্ত আহ্বান করেছে।

যারা অংশগ্রহণ করতে পারবে

> হিফজ বিভাগে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী (নারী-পুরুষ) তাজবিদসহ পূর্ন কুরআন হিফজকারী।
> ক্বেরাত বিভাগে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী শুধু পুরুষ প্রার্থী।
> ক্বেরাত বিভাগে ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সী অন্ধ পুরুষ প্রার্থী।

উল্লেখিত বিভাগগুলোতে উপযুক্ত প্রার্থীরা আগামী ০৬-০১-২০১৯ (রোববার)-এর মধ্যে আবেদন করতে হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দ্বীনি দাওয়াত ও সস্কৃতিক বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ সাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান করা হয়েছে।