[হাদিস ও কুরআনের আলো পর্ব – (৩)] এসো হাদিস ও কুরআনের আয়াত পড়ি ও শিখি এবং তদানুযায়ী আমল করি।

” বিসমিল্লাহির রহমানার রহিম ”
“আসসালামু আলাইকুম”

আমি আজ ও বলছি কোন কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলতে হয় এবং সকলের সামনে কোন কিছু বলার আগে সালাম দিতে হয় এবং তার পর বলতে হয়।

** আজকের আমার পোষ্টে আপনাদের সকলকে স্বাগতম জানাচ্ছি ,,,,,,,

** আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি ভালো আছেন। আমি আলহামদুলিল্লা ভালো আছি আপনাদের দোয়ায় এবং আল্লাহর রহমতে।

** মুসলমান ভাইয়েরা দয়া করে পোষ্ট টি পড়ুন।

আজকের বিষয় ,,

#আজকে আমি আপনাদের সামনে হাদিস ও কুরআনের আলো পর্ব – (৩) নিয়ে হাজির হয়েছি। গত পর্ব – (১) এবং (২) এ আমরা পাঁচটি পাঁচটি করে মোট দশটি হাদিস শিখেছি। তা অনুযায়ী আপনারা আমল করবেন কিন্তু ? অবশ্যই করবেন
এতে করে দুনিয়া ও আখিরাতে শান্তি লাভ করা যাবে।

** আজকে আমরা নতুন পাঁচটি হাদিস পড়ে শিখবো এবং তদানুযায়ী আমল করার অবশ্যই চেষ্টা করবো।

হাদিস গুলো নিচে দেওয়া হলো —
১১.

১২.

১৩.

১৫.

** বন্ধুরা শুধু শুধু হাদিস পড়ে লাভ হবে না যদি তা আমল করা না হয়। তাই আপনারা প্লিজ বাস্তব জীবনে ভালো কিছু যা শিখবেন তা আমল করবেন।

** আজকে এই পর্যন্ত আগামীতে পর্ব (৪) এ আমরা আরো নতুন কিছু হাদিস শিখবো।
** মুসলমান ভাইয়েরা সবাই তোমরা পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করো কি? আমি চেষ্টা করি। না করলে আজ থেকে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করার শুরু করে দিন। দুনিয়া ও আখিরাতে পরিপূর্ন শান্তি লাভের জন্য সৎকর্ম এবং পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করতে হবে। যা ফরজ ইবাদত অর্থাৎ অবশ্যই পালন করতে হবে।
* ১ টি সিজদাহ্ দেওয়ার জন্য পরকাল থেকে মানুষ দুনিয়াতে আসতে চাইবে। *তাহলে ভেবে দেখেন আপনারা। *সবাই প্লিজ নিজের ভালোর জন্য আজ থেকেই পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা শুরু করে দিন।
** পোষ্ট টি পড়ার জন্য আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ ,,,,,

**আল্লাহ হাফেজ**

ইসলামের দৃষ্টিতে তাবিজ-কবচের বিধান

আসসালামু আলাইকুম।আশাকরি সকলেই ভালো আছেন।অনেক দিন পর ট্রিকবিডিতে লিখতে আসলাম।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
আমাদের দেশে কতক পীর-ফকির, আলেম-জাহেল, কি শিক্ষিত, কি অশিক্ষিত অনেকেই তাবিজ-কবচ, তাগা, কড়ি, সামুক, ঝিনুক ও গাছ-গাছালির শিকর-বাকর ইত্যাদি দিয়ে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করেন এবং ইহা বৈধ ও জায়েজ মনে করেন। এ সম্পর্কে বাজারে কিছু বই পুস্তক পাওয়া যায়, সে সব বইয়ে নির্ধারিত বিষয়ে গ্রহণ যোগ্য কোন দলিল নেই, আছে কিছু মনগড়া কিচ্ছা-কাহিনী, অসংখ্য তদবিরের বর্ণনা ও তার বানোয়াট ফাজায়েল। এ সব বই পড়ে কেউ কেউ বিপদাপদ, দুঃখ-কষ্ট, অভাব-অনটন, রোগ, যন্ত্রণা থেকে মুক্তি লাভের আশায় বিভিন্ন তদবির ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ হয় ও তা গ্রহণ করে। তারা এ ধরণের চিকিৎসার মূল্যায়ন ও তার বৈধতা-অবৈধতা সম্পর্কে পুরোপুরি অজ্ঞ। আমি অত্র নিবন্ধের মাধ্যমে এ বিষয়টির তত্ত্ব ও স্বরূপ উদ্ঘাটন এবং ইসলামের দৃষ্টিতে তার হুকুম বর্ণনার প্রয়াস পেয়েছি।

এক. সাহাবি ইমরান বিন হুসাইন রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত : একদা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির হাতে তামার চুড়ি দেখে বললেন, এটা কি? সে বলল: এটা অহেনার অংশ। {অহেনার অর্থ এক প্রকার হাড়, যা থেকে কেটে ছোট ছোট তাবিজ আকারে দেয়া হয়।} তিনি বললেন: এটা খুলে ফেল, কারণ এটা তোমার দূর্বলতা বাড়ানো ভিন্ন কিছুই করবে না। যদি এটা বাঁধা অবস্থায় তোমার মৃত্যু হয়, তবে কখনও তুমি সফল হবে না।‘ ( সুনানে ইবনে মাজাহ,হাদীস নং ৩৫৩১; হাদিসটি সহিহ্)

দুই. উকবা বিন আমের রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূলকে বলতে শুনেছি: ‘যে ব্যক্তি তাবিজ লটকালো, আল্লাহ তাকে পূর্ণতা দেবেন না, আর যে কড়ি ব্যবহার করবে, আল্লাহ তাকে মঙ্গল দান করবেন না।’ [মুসনাদআহমদ, হাদীস নং ১৬৯৫১; আহাইখ আলবানী হাদীসটিকে দাইফ বলেছেন]

তিন. উকবা বিন আমের আল-জোহানি রাদিআল্লাহু আনহু বলেন : ‘একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে একদল লোক উপস্থিত হল। তিনি দলটির নয়জনকে বায়আত করলেন একজনকে করলেন না। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! নয়জনকে বায়আত করলেন একজনকে করলেন না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তার সাথে তাবিজ রয়েছে। অতঃপর তিনি স্বহস্তে তা ছিড়ে ফেললেন এবং তাকে বায়আত করলেন, আর বললেন, যে ব্যক্তি তাবিজ ব্যবহার করল সে শিরক করল।’ [মুসনাদে আহমেদ; হাদীস নং ১৬৯৬৯, শাইখ আলবানীর মতে এই হাদীসটি সহীহ]

চার. একদা হুজায়ফা রাদিআল্লাহু আনহু এক ব্যক্তির হাতে জ্বরের একটি তাগা দেখতে পেয়ে তা কেটে ফেলেন। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করেন : তাদের অধিকাংশ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, তবে শিরক করা অবস্থায়।‘ {ইউসুফ : ১০৬} [তাফসিরে ইবনে কাসির]। এ থেকে প্রমাণিত হয়, সাহাবি হুজায়ফার মতে তাগা ব্যবহার করা শিরক।

পাঁচ. তাবেয়ি আব্দুল্লাহ বিন উকাইম সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি কোন কিছু ধারণ করবে, তাকে ঐ জিনিসের কাছেই সোপর্দ করা হবে।’ [সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং ৪০৭৯; সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং ২০৭২]

ছয়. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহর স্ত্রী জয়নব রাদিআল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদিন আব্দুল্লাহ বাড়িতে এসে আমার গলায় তাগা দেখতে পান। তিনি বললেন, এটা কী? আমি বললাম, এটা পড়া তাগা। এতে আমার জন্য ঝাঁড়-ফুঁক দেয়া হয়েছে। তা নিয়ে তিনি কেটে ফেললেন এবং বললেন, আব্দুল্লাহর পরিবার শিরক থেকে মুক্ত। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: ঝাড়-ফুঁক, সাধারণ তাবিজ ও ভালোবাসা সৃষ্টির তাবিজ ব্যবহার করা নিঃসন্দেহে শিরক।[সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৩৮৮৩; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৩৫৩০]

এ সব দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, তাবিজ ব্যবহার করা হারাম ও শিরক।

তাবিজ ইত্যাদি ব্যবহার করা ছোট শিরক না বড় শিরক?
কেউ যদি তাবিজ-কবচ, মাদুলি-কড়ি, সামুক-ঝিনুক, গিড়া, হাঁড়, তাগা-তামা-লোহা বা অনুরূপ কোন ধাতব বস্তু গলায় বা শরীরের কোথায়ও ধারণ করে এবং এ ধারণা পোষণ করে যে, ঐ গুলো বালা-মুসিবত দূর করার ক্ষেত্রে পরিপূর্ণ ক্ষমতা রাখে, তবে তা বড় শিরক। আর যদি এ ধরনের ধারণা না হয়, তবে তা ছোট শিরক।

শায়খ সুলাইমান বিন আব্দুল্লাহ বলেছেন, বালা-মুসিবত দূর করার উদ্দেশ্যে গিড়া, তাগা পরিধান করা ছোট শিরক। অর্থাৎ যদি তা মাধ্যম বা উসিলা মনে করে ব্যবহার করা হয়। শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বাজ বলেছেন, শয়তানের নাম, হাড়, পূঁতি, পেরেক অথবা তিলিস্মা অর্থাৎ অর্থবিহীন বিদঘুটে শব্দ বা অক্ষর প্রভৃতি বস্তু দিয়ে তাবিজ বানানো ছোট শিরকের অন্তর্ভুক্ত। ফাতহুল মাজিদ গ্রন্থের টীকায় তিনি আরো বলেছেন: তাবিজ ব্যবহার করা জাহেলি যুগের আমল। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় তাবিজ-কবচ অনেক ধর্মের প্রতিকি চিহ্ন ছিল। যেমন হিন্দু পুরোহিতদের মাদুলী ধারণ করা, বিশেষ করে কালী শিবের পূজায়। উয়ারী সম্প্রদায়ের আকীদার অন্যতম প্রতিক ছিল বিভিন্ন ধরণের তাবিজ।

শায়খ হাফেজ হেকমি বলেন: ‌’কুরআন ও হাদিস ব্যতীত, ইহুদিদের তিলিসমাতি, মূর্তি পূজারী, নক্ষত্র পূজারী, ফেরেশতা পূজারী এবং জিনের খিদমত গ্রহণকারী বাতিল পন্থীদের তাবিজ ব্যবহার; অনুরূপভাবে পূঁতি, ধনুকের ছিলা, তাগা এবং লোহার ধাতব চুড়ি ইত্যাদি ব্যবহার করা নিঃসন্দেহে শিরক। কারণ, এগুলো সমস্যা সমাধানের বৈধ উপায় কিংবা বিজ্ঞান সম্মত ঔষধ নয়। এ হল সেসব তাবিজ কবচের হুকুম যাতে কুরাআনের আয়াত, হাদিসের দোয়া দরুদ ইত্যাদি ব্যবহার করা হয় না তার।

কুরআন-হাদিসের তাবিজ :
হ্যাঁ, যে সব তাবিজ-কবচে কুরআন হাদিস ব্যবহার করা হয় সে ব্যাপারে আলেমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। এক শ্রেণীর আলেম কুরআন-হাদিসে বর্ণিত দুআ সমূহের তাবিজ ব্যবহার করা বৈধ মনে করেন। যেমন, সাঈদ বিন মুসাইয়িব, আতা আবু জাফর আল-বাকের, ইমাম মালেক। এক বর্ণনা মতে ইমাম আহমদ, ইবনে আব্দুল বার, বাইহাকি, কুরতুবি, ইবনে তাইমিয়া, ইবনে কাইয়িম এবং ইবনে হাজারও রয়েছেন। তাদের দলিল, আল্লাহ তাআলা বলেন, আর আমি কুরআনে এমন বিষয় নাযিল করেছি যা রোগের সু-চিকিৎসা এবং মুমিনদের জন্য রহমত।‘ [সূরা আল-ইসরা:৮২] “এক কল্যাণময় কিতাব, ইহা আমি তোমার প্রতি অবতীর্ণ করেছি।” [সূরা আস-সাদ:২৯] সাহাবি আব্দুল্লাহ বিন আমরের ব্যক্তিগত আমল সম্পর্কে বর্ণিত আছে, তিনি নিজ ছোট বাচ্চা, যারা দোয়া মুখস্থ করতে অক্ষম, তাদেরকে অনিষ্ট থেকে রক্ষার জন্য গায়ে দোয়ার তাবিজ ঝুলিয়ে দিতেন। দোয়াটি এই:‘আল্লাহর নামে তাঁর পরিপূর্ণ বাণী সমূহের মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। তাঁর গজব ও শাস্তি থেকে, তাঁর বান্দাদের অনিষ্টতা থেকে এবং শয়তানদের কুমন্ত্রণা ও তাদের উপস্থিতি থেকে।’ [ মুসনাদে আহমেদ, হাদীস নংঃ৬৬৯৬; সুনানে তিরিমিজী, হাদীস নং ৩৫২৮; হাদিসটি হাসান]

পক্ষান্তরে অধিকাংশ সাহাবি ও তাদের অনুসারীদের মতে কুরআন ও হাদিসের তাবিজ ব্যবহার করাও নাজায়েজ। তাদের মধ্যে রয়েছেন: আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ, ইবনে আব্বাস, হুযাইফা, উকবা বিন আমের, ইবনে উকাইম, ইব্রাহিম নখয়ি, একটি বর্ণনা অনুযায়ী ইমাম আহমদ, ইবনুল আরাবি, শায়খ আব্দুর রহমান বিন হাসান, শায়খ সুলাইমান বিন আব্দুল ওয়াহহাব, শায়খ আব্দুর রহমান বিন সাদি, হাফেজ আল-হেকমি এবং মুহাম্মদ হামিদ আলফাকি। আর সমসাময়ীক মনীষীদের মধ্যে আছেন শায়খ আলবানি ও শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বাজ। তারা বলেন,

প্রথমত: উল্লেখিত আয়াত দ্বারা তাবিজের বৈধতা প্রমাণিত হয় না। উপরন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআনের দ্বারা চিকিৎসা করার স্বরূপ স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন, আর তা হচ্ছে কুরআন তিলাওয়াত করা এবং সে অনুযায়ী আমল করা। এ ছাড়া কুরআনের আয়াত তাবিজ আকারে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোন প্রমাণ নেই, এমনকি সাহাবাদের থেকেও।

তা ছাড়া ইমাম আবু দাউদ বলেছেন, সাহাবি আব্দুল্লাহ বিন আমেরের বর্ণিত হাদিসের সূত্র (সনদ) হাদিস বিশারদদের নিকট বিশুদ্ধ নয়। আর শুদ্ধ হলেও এটা তার একার আমল, যা অসংখ্য সাহাবির বিপরীত হওয়ার ফলে এবং এর স্বপক্ষে কোন দলিল না থাকার কারণে অন্য সকলের জন্য প্রযোজ্য নয়।

আরেকটি কারণ, যেসব দলিলের মাধ্যমে তাবিজ নিষিদ্ধ প্রমাণিত হয়েছে, সেসব দলিলে পৃথক করে কুরআন-হাদিসের তাবিজ বৈধ বলা হয়নি। যদি বৈধ হত, তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবশ্যই তা বলে দিতেন। যেমন তিনি শিরক মুক্ত ঝাড়-ফুকের ব্যাপারটি অনুমতি দিয়েছেন। মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের ঝাড়-ফুঁক আমার কাছে পেশ কর, ওটা শিরকের আওতাধীন না হলে তাতে কোন বাধা নেই।’ [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২২০০]

পক্ষান্তরে তিনি তাবিজ সম্পর্কে এরূপ কিছু বলেননি।

দ্বিতীয়ত: সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের ছাত্র ইব্রাহিম নখয়ি বলেন, তারা অর্থাৎ আব্দুল্লাহ বিন মাসউদের সঙ্গী-সাথী ও শিষ্যগণ কুরআন বা কুরআনের বাইরের সব ধরণের তাবিজ অপছন্দ করতেন। যেমন আলকামা, আসওয়াদ, আবু ওয়ায়েল, হারেস বিন সোয়ায়েদ, ওবায়দা সালমানি, মাসরুক, রাবি বিন খায়সাম এবং সোয়ায়েদ বিন গাফলাহ প্রমুখ তাবেয়িগণ। [ফতহুল মজিদ]

তৃতীয়ত: অবৈধ পন্থার পথ রুদ্ধ করার জন্য শরিয়ত অনেক বৈধ কাজও নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে, সে হিসেবে নিষিদ্ধ তাবিজ থেকে উম্মতকে হিফাজত করার লক্ষ্যে বৈধ তাবিজও নিষিদ্ধ করা উচিত। কারণ এ পথ খোলা রাখলে বাতিল তাবিজপন্থীরা সাধারণ মানুষের মন আল্লাহর ওপর ভরসা থেকে বিমুখ করে, তাদের লিখিত তাবিজের প্রতি আকৃষ্ট করে ফেলার সুযোগ পাবে। শুধু তাই নয়, ঐ সব শয়তানদের প্ররোচনার কারণে কতক সাধারণ মানুষ ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। আর তারা মানুষের আসক্তি দেখে তাদের সহায়-সম্পদ লুটে নেয়ার ফন্দি আটে। যেমন, তাদেরকে বলে, তোমাদের পরিবারে, ধন সম্পত্তিতে বা তোমার ওপর এরূপ বিপদ আসবে। অথবা বলে, তোমার পিছনে জিন লেগে আছে ইত্যাদি। এভাবে এমন কতগুলো শয়তানি কথা-বার্তা তুলে ধরে যা শুনে সে মনে করে, এ লোক ঠিকই বলছে। সে যথেষ্ট দয়াবান বলেই আমার উপকার করতে চায়। এভাবেই সরলমনা মূর্খ লোকেরা তাদের কথায় বিশ্বাস করে ও অতঃপর ভয়ে অস্থির হয়ে যায়, আর তার কাছে সমাধান তলব করে। তাই তাবিজ কুরআন-হাদিসের হলেও ব্যবহার করা, রুগির বালিশের নীচে রাখা বা দেয়ালে ঝোলানো নাজায়েজ বলাই অধিকতর শ্রেয়।

একটি সংশয়: অনেকে বলে থাকেন, তাবিজ, কবচ ইত্যাদি আমরা দোয়া-দরুদ ও প্রাকৃতিক ঔষধের ন্যায় ব্যবহার করি। যদি তার অনুমোদন থাকে তবে তাবিজ কবচ নিষিদ্ধ কেন?

এর উত্তর হচ্ছে: অসুখ-বিসুখ ও বালা-মুসিবত থেকে মুক্তি পাওয়ার পদ্ধতি দুইটি :

এক. যা সরাসরি কুরআনের আয়াত বা রাসূলের হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। একে শরিয়তি উপায় বা চিকিৎসা (রুকিয়া) বলা যেতে পারে। যেমন ঝাঁড় ফুক ইত্যাদি, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করে দেখিয়েছেন এবং যার বর্ণনা হাদিসের বিভিন্ন কিতাবে রয়েছে। এ গুলো আল্লাহর ইচ্ছায় বান্দার মঙ্গল সাধন বা অমঙ্গল দূর করে।

দুই. প্রাকৃতিক চিকিৎসা অর্থাৎ বস্তু ও তার প্রভাবের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক, যা খুবই স্পষ্ট এমনকি মানুষ সেটা বাস্তবে অনুভব ও উপলব্ধি করতে পারে। যেমন: বিভিন্ন কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি করা ঔষধ। ইসলামি শরিয়ত এগুলো ব্যবহার করার জন্য উৎসাহ প্রদান করেছে। কারণ, এগুলো ব্যবহার করার অর্থই হচ্ছে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা, যিনি এ সব জিনিসে নির্দিষ্ট গুণাবলি দান করেছেন এবং তিনি ইচ্ছা করলে যে কোন সময় এসব বস্তুর গুন ও ক্রিয়া বাতিল করে দিতে পারেন। যেমন তিনি বাতিল করেছিলেন ইব্রাহিমের আলাইহিস সালামের জন্য প্রজ্বলিত অগ্নির দাহন ক্রিয়া। কিন্তু তাবিজ ইত্যাদির মধ্যে আদৌ কোন ফলদায়ক প্রভাব নেই এবং তা কোন অমঙ্গল দূর করতে পারে না। এতে জড় বস্তুর কোন প্রভাবও নেই। তাছাড়া, মহান আল্লাহ এগুলোকে কোন শরয়ি মাধ্যম হিসেবে নির্ধারণ করেননি। মানুষও স্বাভাবিকভাবে এগুলোর কোন প্রভাব প্রতিক্রিয়া দেখে না, অনুভবও করতে পারে না। এ জন্য অনেকে বলেছেন, এগুলোর ওপর ভরসা করা, মুশরিকদের ন্যায় মৃত ব্যক্তি ও মূর্তির ওপর ভরসা করার সমতুল্য; যারা শুনে না, দেখে না, কোন উপকারও করতে পারে না, আর না পারে কোন ক্ষতি করতে। কিন্তু তারা মনে করে, এগুলো আল্লাহর কাছ থেকে তাদের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে, অথবা অমঙ্গল প্রতিহত করবে। আল্লাহ বলেন, ” বল রহমানের শাস্তি থেকে কে তোমাদের রক্ষা করবে দিনে ও রাতে? বরং তারা তাদের পালনকর্তার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখে।”[সূরা আল-আম্বিয়াঃ৪২]

উদাত্ত আহব্বান: এখনো যে সব আলেম-ওলামা তাবিজ-কবচ নিয়ে ব্যস্ত তাদের দরবারে আমাদের সবিনয় অনুরোধ, এর থেকে বিরত থাকুন। বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগ, সাধারণ মানুষ খুব সহজেই টি্ভি চ্যানেল, ইন্টারনেট ও বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারছে যে, তাবিজ-কবচ বৈধ নয় বা ইসলামে এর কোন স্বীকৃতিও নেই। এমতাবস্থায় যারা তাবিজ-কবচ করেন বা বৈধ বলেন তাদের ব্যাপারে তারা বিব্রতকর অবস্থায় পতিত হন। আল-হামদু লিল্লাহ, বর্তমান সময়ে আরবি শিক্ষিত ও সাধারণ শিক্ষিত অনেক ব্যক্তি, বিশেষ করে তরুন প্রজন্ম তাবিজ-কবজের অসারতা বুঝতে পেরে এর বিরোদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। নিজে রিবত থাকছেন এবং অপরকে বিরত থাকার জন্য উদ্বুদ্ধ করছেন। যেহেতু এটা আকীদার বিষয়, তাই এখানে শিথিলতার কোন সুযোগ নেই। অতএব, এ থেকে বিরত থাকার জন্য সবাইকে অনুরোধ করছি। আল্লাহ সহায়।
আজ আর নয়।কোন ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখুন ।আল্লাহ হাফেজ ।

হাদিস,নামাজ,ইসলামিক উক্তি,ভিডিও,ছবি সহ ইসলামিক সকল আপডেট পান খুব সহজেই[কোন আ্যপ ছাড়াই][Don’t Miss]

আসসালামু আলাইকুম, ,
কেমন আছেন ট্রিক বিডি বাসীরা?

আশা করি সবাই ভালই আছেন,,

আজকের পোস্টের বিষয়
নামাজ,হাদিস,সুরা,উক্তি, ইসলামিক ছবি,ভিডিও সহ আরো অনেক কিছু জানতে পারবেন

So Let’s Start

প্রথমে Massenger এ গিয়ে
Islamic Bot BD
লিখে সার্চ করেন

তারপর দেখবেন এইরকম
সেবাসমুহ তে ক্লিক করে আপনি যেটা
পড়তে চান সেটাতে ক্লিক করেন

পড়া শেষ হলে Next এ ক্লিক করবেন
তাহলে পরেরটা আসবে
মেনু থেকে আপনি হাদিস,নামাজ,
আয়াত, উক্তি,ছাড়াও আরো অনেক কিছু জানতে
পারবেন।পছন্দ মতো যেটাতে ক্লিক করবেন সে বিষয়ে
বিভিন্ন ছবি, হাদিস,ভিডিও ইত্যাদি আসবে।
➜সাধারণ সেবাঃ-
১. আয়াতের জন্য a বা ayat লিখুন
২. হাদীসের জন্য h বা hadis লিখুন
৩. উক্তির জন্য u বা ukti লিখুন
৪. নামাজের জন্য n, namaj, namaz
৫. এবং হাদীস ফটোর জন্য hp বা hadis photo লিখুন
বেশী কথা বললাম না।
খুবি ভাল একটা বোট।
কিছু স্ক্রিনশট দিয়ে দিলাম

চমৎকার একটি BOT আপনার অবশ্যই ভালো লাগবে।
Let’s Enjoy
আজকের মতো এ পর্যন্তই,,,,
আমি একজন অল্প জ্ঞান সম্পন্ন মানুষ।
যত টুকু পেরেছি বুঝাতে চেষ্টা করেছি।
তাই ভুল হলে মাফ করবেন।
আর নিজে পাচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করুন।
অন্যকে পড়তে বলুন।
নামাজ পরলে শরীর ও মন ভালো থাকে
বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
আর পোষ্ট টা ভাল লাগলে একটা লাইক দিয়েন
সবসময় ট্রিকবিডির সাথেই থাকুন,,,u

[হাদিস ও কুরআনের আলো পর্ব – (২)] এসো হাদিস ও কুরআনের আয়াত পড়ি ও শিখি এবং তদানুযায়ী আমল করি।

” বিসমিল্লাহির রহমানার রহিম ”
“আসসালামু আলাইকুম”

আমি আজ ও বলছি কোন কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলতে হয় এবং সকলের সামনে কোন কিছু বলার আগে সালাম দিতে হয় তারা পর বলতে হয়।

আজকের আমার পোষ্টে সকলকে স্বাগতম জানাচ্ছি ,,,,,,,

আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি ভালো আছেন। আমি আলহামদুলিল্লা ভালো আছি আল্লাহর রহমতে ।

** মুসলমান ভাইয়েরা দয়া করে পোষ্ট টি পড়ুন।

আজকের বিষয় ,,

আজকে আমি আপনাদের সামনে হাদিস ও কুরআনের আলো পর্ব – (২) নিয়ে হাজির হয়েছি। গত পর্ব -(১) এ আমরা পাঁচটি হাদিস শিখেছি। তা অনুযায়ী আপনারা আমল করছেন তো? অবশ্যই করবেন
এতে করে আপনারা দুনিয়া ও আখিরাতে শান্তি লাভ করতে পারবেন।

আজকে আমরা নতুন পাঁচটি হাদিস পড়ে শিখবো এবং তদানুযায়ী আমল করার অবশ্যই চেষ্টা করবো।

হাদিস গুলো নিচে দেওয়া হলো —
৬.

৭.

৮.

৯.

১০.

** বন্ধুরা শুধু শুধু হাদিস পড়ে লাভ হবে না যদি তা আমল করা না হয়। তাই আপনারা প্লিজ বাস্তব জীবনে ভালো কিছু যা শিখবেন তা আমল করবেন।

* আজকে এই পর্যন্ত আগামীতে পর্ব (৩) এ আমরা আরো নতুন কিছু হাদিস শিখবো।
** মুসলমান ভাইয়েরা সবাই তোমরা পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করো কি? আমি চেষ্টা করি। না করলে আজ থেকেই পাঁচ নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করার মনমানসিকতা নিন। যদি দুনিয়া ও আখিরাতে পরিপূর্ন শান্তি লাভের জন্য সৎকর্ম এবং পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করতে হবে। যা ফরজ ইবাদত অর্থাৎ অবশ্যই পালন করতে হবে। (আমিন)

** পোষ্ট টি পড়ার জন্য আপনাদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি ,,,,,

** আল্লাহ হাফেজ **

মহান আল্লাহ তায়ালার ৯৯ টি নামের অর্থ বাংলায়।(((সকল মুসলিম ভাই -বোনদের একবার হলেও দেখা উচিৎ।)))

আসসালামু আলাইকুম।
আশা করি ভালো আছেন আমি আপনাদের
আল্লাহর ৯৯টি নাম অর্থসহ তুলে ধরার চেষ্টা করব।

নিচে মহান আল্লাহ তায়ালার নাম গুলো অর্থ সহ তুলে ধরা হলো::
১. ﺍﻟﻠﻪ (আল্লাহ)। অর্থ : আল্লাহ, প্রভু।

২. ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦُ (আর-রহমান)। অর্থ : সবচাইতে দয়ালু,
কল্যাণময়, করুণাময়।

৩. ﺍﻟﺮَّﺣِﻴﻢُ (আর-রহিম)। অর্থ : সবচাইতে ক্ষমাশীল।

৪. ﺍﻟْﻤَﻠِﻚُ (আল-মালিক)। অর্থ : অধিপতি।

৫. ﺍﻟْﻘُﺪُّﻭﺱُ (আল-ক্বুদ্দুস)। অর্থ : পূতপবিত্র, নিখুঁত।

৬. ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡُ (আস-সালাম)। অর্থ : শান্তি এবং নিরাপত্তার
উৎস, ত্রাণকর্তা।

৭. ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻦُ (আল-মুমিন)। অর্থ : জামিনদার, সত্য
ঘোষণাকারী।

৮. ﺍﻟْﻤُﻬَﻴْﻤِﻦُ (আল-মুহাইমিন)। অর্থ : অভিভাবক,
প্রতিপালক।

৯. ﺍﻟْﻌَﺰِﻳﺰُ (আল-আযিয)। অর্থ : সর্বশক্তিমান,
সবচেয়ে সম্মানিত।

১০. ﺍﻟْﺠَﺒَّﺎﺭُ (আল-জাব্বার)। অর্থ : দুর্নিবার, সমু”চ,
মহিমান্বিত।

১১. ﺍﻟْﺨَﺎﻟِﻖُ (আল-খলিক)। অর্থ : সৃষ্টিকর্তা।

১২. ﺍﻟْﺒَﺎﺭِﺉُ (আল-বারি)। অর্থ : বিবর্ধনকারী,
নির্মাণকর্তা, পরিকল্পনাকারী।

১৩. ﺍﻟْﻤُﺼَﻮِّﺭُ (আল-মুসাউয়ির)। অর্থ : আকৃতিদানকারী।

১৪. ﺍﻟْﻐَﻔَّﺎﺭُ (আল-গাফফার)। অর্থ: পুনঃমার্জনাকারী।

১৫. ﺍﻟْﻘَﻬَّﺎﺭُ (আল-কাহ্হার)। অর্থ : দমনকারী।

১৬. ﺍﻟْﻮَﻫَّﺎﺏُ (আল-ওয়াহ্হাব)। অর্থ : ¯’াপনকারী।

১৭. ﺍﻟﺮَّﺯَّﺍﻕُ (আর-রজ্জাক।। অর্থ : রিজিকদাতা।

১৮. ﺍﻟْﻔَﺘَّﺎﺡُ (আল-ফাত্তাহ)। অর্থ : প্রারম্ভকারী,
বিজয়দানকারী।

১৯. ﺍﻟْﻌَﻠِﻴﻢُ (আল-আলীম)। অর্থ : সর্বজ্ঞানী,
সর্বদর্শী।

২০. ﺍﻟْﻘَﺎﺑِﺾُ (আল-কাবিদ)। অর্থ : নিয়ন্ত্রণকারী,
সরলপথ প্রদর্শনকারী।

২১. ﺍﻟْﺒَﺎﺳِﻂُ (আল-বাসিত)। অর্থ : প্রসারণকারী।

২২. ﺍﻟْﺨَﺎﻓِﺾُ (আল-খাফিদ)। অর্থ : (অবিশ্বাসীদের)
অপমানকারী।
২৩. ﺍﻟﺮَّﺍﻓِﻊُ (আর-রাফি)। অর্থ : উন্নীতকারী।

২৪. ﺍﻟْﻤُﻌِﺰُّ (আল-মুয়িজ্জিব)। অর্থ : সম্মানপ্রদানকারী।

২৫. ﺍﻟْﻤُﺬِﻝُّ (আল-মুঝিল্ল)। অর্থ : সম্মানহরণকারী।

২৬. ﺍﻟﺴَّﻤِﻴﻊُ (আস-সামীয়ু)। অর্থ : সর্বশ্রোতা।

২৭. ﺍﻟْﺒَﺼِﻴﺮُ (আল-বাসির)। অর্থ : সর্বদ্রষ্টা।

২৮. ﺍﻟْﺤَﻜَﻢُ (আল-হাকাম)। অর্থ : বিচারপতি।

২৯. ﺍﻟْﻌَﺪْﻝُ (আল-আদল)। অর্থ : নিখুঁত।

৩০. ﺍﻟﻠَّﻄِﻴﻒُ (আল-লাতিফ)। অর্থ : অমায়িক।

৩১. ﺍﻟْﺨَﺒِﻴﺮُ (আল-খবির)। অর্থ : সম্যক অবগত।

৩২. ﺍﻟْﺤَﻠِﻴﻢُ (আল-হালিম)। অর্থ : ধৈর্যবান, প্রশ্রয়দাতা।

৩৩. ﺍﻟْﻌَﻈِﻴﻢُ (আল-আযিম)। অর্থ : সুমহান।

৩৪. ﺍﻟْﻐَﻔُﻮﺭُ (আল-গফুর)। অর্থ : মার্জনাকারী।

৩৫. ﺍﻟﺸَّﻜُﻮﺭُ (আশ-শাকুর)। অর্থ : সুবিবেচক।

৩৬. ﺍﻟْﻌَﻠِﻲُّ (আল-আলিই)। অর্থ : মহীয়ান।

৩৭. ﺍﻟْﻜَﺒِﻴﺮُ (আল-কাবীর)। অর্থ : সুমহান।

৩৮. ﺍﻟْﺤَﻔِﻴﻆُ (আল-হাফিজ)। অর্থ : সংরক্ষণকারী।

৩৯. ﺍﻟْﻤُﻘِﻴﺖُ (আল-মুকিত)। অর্থ : লালনপালনকারী।

৪০. ﺍﻟْﺤَﺴِﻴﺐُ (আল-হাসিব)। অর্থ : মীমাংসাকারী।

৪১. ﺍﻟْﺠَﻠِﻴﻞُ (আল-জালিল)। অর্থ : গৌরবান্বিত।

৪২. ﺍﻟْﻜَﺮِﻳﻢُ (আল-কারিম)। অর্থ : উদার, অকৃপণ।

৪৩. ﺍﻟﺮَّﻗِﻴﺐُ (আর-রকিব)। অর্থ : সদা জাগ্রত, অতন্দ্র
পর্যবেক্ষণকারী।

৪৪. ﺍﻟْﻤُﺠِﻴﺐُ (আল-মুজীব)। অর্থ : সাড়া দানকারী,
উত্তরদাতা।

৪৫. ﺍﻟْﻮَﺍﺳِﻊُ (আল-ওয়াসি)। অর্থ : অসীম, সর্বত্র
বিরাজমান।

৪৬. ﺍﻟْﺤَﻜِﻴﻢُ (আল-হাকিম)। অর্থ : সুবিজ্ঞ, সুদক্ষ।

৪৭. ﺍﻟْﻮَﺩُﻭﺩُ (আল-ওয়াদুদ)। অর্থ : স্নেহশীল।

৪৮. ﺍﻟْﻤَﺠِﻴﺪُ (আল-মাজিদ)। অর্থ : মহিমান্বিত।

৪৯. ﺍﻟْﺒَﺎﻋِﺚُ (আল-বাঈস)। অর্থ : পুনরুত্থানকারী।

৫০. ﺍﻟﺸَّﻬِﻴﺪُ (আশ-শাহীদ)। অর্থ : সাক্ষ্যদানকারী।

৫১. ﺍﻟْﺤَﻖُّ (আল-হক)। অর্থ : প্রকৃত সত্য।

৫২. ﺍﻟْﻮَﻛِﻴﻞُ (আল-ওয়াকিল)। অর্থ : সহায় প্রদানকারী, উকিল।

৫৩. ﺍﻟْﻘَﻮِﻱُّ (আল-কুওয়াত)। অর্থ : ক্ষমতাশালী।

৫৪. ﺍﻟْﻤَﺘِﻴﻦُ (আল মাতীন) অর্থ: সুদৃঢ়।

৫৫. ﺍﻟْﻮَﻟِﻲُّ (আল-ওয়ালিই)। অর্থ : বন্ধু, সাহায্যকারী,
শুভাকাক্সক্ষী।
৫৬. ﺍﻟْﺤَﻤِﻴﺪُ (আল-হামিদ)। অর্থ : সকল প্রশংসার
দাবীদার, প্রশংসনীয়।

৫৭. ﺍﻟْﻤُﺤْﺼِﻲ (আল-মুহসি)। অর্থ : বর্ণনাকারী,
গণনাকারী।

৫৮. ﺍﻟْﻤُﺒْﺪِﺉُ (আল-মুব্দি)। অর্থ : অগ্রণী, প্রথম
প্রবর্তক, সৃজনকর্তা।

৫৯. ﺍﻟْﻤُﻌِﻴﺪُ (আল-মুঈদ)। অর্থ : পুন:প্রতিষ্ঠাকারী,
পুনরূদ্ধারকারি।

৬০. ﺍﻟْﻤُﺤْﻴِﻲ (আল-মুহিই)। অর্থ : জীবনদানকারী।

৬১. ﺍﻟْﻤُﻤِﻴﺖُ (আল-মুমীত)। অর্থ : ধ্বংসকারী, মৃত্যু
আনয়নকারী।

৬২. ﺍﻟْﺤَﻲُّ (আল-হাইই)। অর্থ : চিরঞ্জীব,যার
কোনো শেষ নাই।

৬৩. ﺍﻟْﻘَﻴُّﻮﻡُ (আল-কাইয়ুম)। অর্থ : অভিভাবক,
জীবিকানির্বাহ প্রদানকারী।

৬৪. ﺍﻟْﻮَﺍﺟِﺪُ (আল-ওয়াজিদ)। অর্থ : পর্যবেক্ষক।

৬৫. ﺍﻟْﻤَﺎﺟِﺪُ (আল-মাজিদ)। অর্থ : সুপ্রসিদ্ধ।

৬৬. ﺍﻟْﻮَﺍﺣِﺪُ (আল-ওয়াহিদ) ।অর্থ : এক, অনন্য,
অদ্বিতীয়।

৬৭. ﺍﻟﺼَّﻤَﺪُ (আস-সমাদ)। অর্থ : চিরন্তন, অবিনশ্বর,
নির্বিকল্প, সুনিপুণ, স্বয়ং সম্পূর্ণ।

৬৮. ﺍﻟْﻘَﺎﺩِﺭُ (আল-কাদির)। অর্থ : সর্বশক্তিমান।

৬৯. ﺍﻟْﻤُﻘْﺘَﺪِﺭُ (আল-মুকতাদির)। অর্থ : প্রভাবশালী,
সিদ্ধান্তগ্রহণকারী।

৭০. ﺍﻟْﻤُﻘَﺪِّﻡُ (আল-মুকাদ্দিম)। অর্থ : অগ্রগতিতে
সহায়তা প্রদানকারী।

৭১. ﺍﻟْﻤُﺆَﺧِّﺮُ (আল-মুআক্ষির)। অর্থ : বিলম্বকারী।

৭২. ﺍﻟْﺄَﻭَّﻝُ (আল-আউয়াল)। অর্থ : সর্বপ্রথম, যার
কোনো শুরু নাই।

৭৩ ﺍﻟْﺂﺧِﺮُ (আল-আখির)। অর্থ : সর্বশেষ, যার
কোনো শেষ নাই।

৭৪. ﺍﻟﻈَّﺎﻫِﺮُ (আজ-জাহির)। অর্থ : সুস্পষ্ট,
সুপ্রতীয়মান।

৭৫. ﺍﻟْﺒَﺎﻃِﻦُ (আল-বাতিন)। অর্থ : লুকায়িত, অস্পষ্ট,
অন্তর¯’ (যা কিছু দেখা যায় না)।

৭৬. ﺍﻟْﻮَﺍﻟِﻲَ (আল-ওয়ালি)। অর্থ : সুরক্ষাকারী বন্ধু,
অনুগ্রহকারী, বন্ধুত্বপূর্ণ প্রভু।

৭৭. ﺍﻟْﻤُﺘَﻌَﺎﻟِﻲ (আল-মুতাআলী)। অর্থ : সর্বো”চ
মহিমান্বিত, সুউ”চ।

৭৮. ﺍﻟْﺒَﺮُّ (আল-র্বার)। অর্থ : কল্যাণকারী।

৭৯. ﺍﻟﺘَّﻮَّﺍﺏُ (আল-তাওয়াব)। অর্থ : বিনম্র, সর্বদা
আবর্তিতমান।

৮০. ﺍﻟْﻤُﻨْﺘَﻘِﻢُ (আল-মুন্তাকিম)। অর্থ : প্রতিফল
প্রদানকারী।

৮১. ﺍﻟْﻌَﻔُﻮُّ (আল-আফুউ)। অর্থ : শাস্তি মউকুফকারী,
গুনাহ ক্ষমাকারী।

৮২. ﺍﻟﺮَّﺀُﻭﻑُ (আর-রওফ)। অর্থ : সদয়, সমবেদনা
প্রকাশকারী।

৮৩. ﻣَﺎﻟِﻚُ ﺍﻟْﻤُﻠْﻚِ (মালিকুল মুলক)। অর্থ : সার্বভৌম
ক্ষমতার অধিকারী।

৮৪. ﺫُﻭ ﺍﻟْﺠَﻠَﺎﻝِ ﻭَﺍﻟْﺈِﻛْﺮَﺍﻡِ (জুল-জালালি ওয়াল ইকরাম)।
অর্থ : মর্যাদা ও ঔদার্যের প্রভু।

৮৫. ﺍﻟْﻤُﻘْﺴِﻂُ (আল-মুকসিত)। ন্যায়পরায়ণ,
প্রতিদানকারী।

৮৬. ﺍﻟْﺠَﺎﻣِﻊُ (আল-জামি)। অর্থ : একত্র আনয়নকারী,
ঐক্য সাধনকারী।

৮৭. ﺍﻟْﻐَﻨِﻲُّ (আল-গানিই)। অর্থ : ঐশ্বর্যবান, স্বতন্ত্র।

৮৮. ﺍﻟْﻤُﻐْﻨِﻲ (আল-মুগনি)। অর্থ : সমৃদ্ধকারী,
উদ্ধারকারী।

৮৯. ﺍﻟْﻤَﺎﻧِﻊُ (আল-মানি)। অর্থ : প্রতিরোধকারী,
রক্ষাকর্তা।

৯০. ﺍﻟﻀَّﺎﺭُّ (আদ-র্দারু)। অর্থ : যন্ত্রণাদানকারী,
উৎপীড়নকারী।

৯১. ﺍﻟﻨَّﺎﻓِﻊُ (আন-নাফি)। অর্থ : অনুগ্রাহক, উপকর্তা,
হিতকারী।
৯২. ﺍﻟﻨُّﻮﺭُ (আন-নূর)। অর্থ : আলোক।

৯৩. ﺍﻟْﻬَﺎﺩِﻱ (আল-হাদী)। অর্থ : পথপ্রদর্শক।

৯৪. ﺍﻟْﺒَﺪِﻳﻊُ (আল-বাদী)। অর্থ : অতুলনীয়,
অনিধগম্য।

৯৫. ﺍﻟْﺒَﺎﻗِﻲ (আল-বাকী)। অর্থ : অপরিবর্তনীয়,
অনন্ত, অসীম, অক্ষয়।

৯৬. ﺍﻟْﻮَﺍﺭِﺙُ (আল-ওয়ারিস)। অর্থ : সবকিছুর
উত্তরাধিকারী।

৯৭. ﺍﻟﺮَّﺷِﻴﺪُ (আর-রশিদ)। অর্থ : সঠিক পথের
নির্দেশক।

৯৮. ﺍﻟﺼَّﺒُﻮﺭُ (আস-সবুর)। অর্থ : ধৈর্যশীল।

৯৯. ﺍﻟْﻤُﺘَﻜَﺒِّﺮُ (আল-মুতাকাব্বির)। অর্থ : সর্বশ্রেষ্ঠ,
গৌরবান্বিত।

এই পোষ্টটি সংরক্ষিত।

ধন্যবাদ সকলকে।

[ দ্বিতীয় খন্ড ] ব্যবসায়ীক মুনাফা নাকি সুদ….? ব্যবসায়ীক মুনাফা ও সুদ এক নাকি ভিন্ন…? ইসলাম কি বলে।

প্রথম খন্ড

অর্থনৈতিক পতনের মূল কারণ এবং সুদ
লেনদেন বাহ্যিকভাবে
সুদের লাভ দেখতে অনেক, এমনটা
দৃশ্যমান হলেও, বাস্তবে সুদ হচ্ছে
মানব জীবনে
অর্থনৈতিক দেউলিয়ার মূল কারণ।

জডিস রোগ যেমন মানুষের বাহ্যিক
শরীরকে ঠিক রেখে ভেতরে সম্পূর্ণ
ধ্বংস করে দেয়, তেমনিভাবে সুদের
মুনাফা বেশী দেখা গেলেও বাস্তবে
তা মানুষের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে পণ্ড
করে দেয়।

আল্লাহ তা’আলা সুদকে
নিশ্চিহ্ন করেন এবং দান-খায়রাতকে
বর্ধিত করেন। আল্লাহ পছন্দ করেন
না কোন অবিশ্বাসী পাপীকে। এই
বক্তব্য কে সামনে রেখে যদি আমরা
মানুষের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থার
দিকে যদি দৃষ্টি দিই, তাহলে আল্লাহ
তা’আলার এই ঘোষণার বাস্তবতা
এবং সত্যতা আমাদের সামনে আরো।
বেশী সম্পষ্ট হয়ে উঠবে। আল্লাহ
তা’আলা অবশ্যই সুদকে মিটিয়ে
দেন, দান-ছাদাকাকে বাড়য়ে দেন।
সুদ মানুষকে উন্নয়নের পথ দেখায়
না, অবনতির পথ দেখায়।

আজকাল দিন দিন সুদের লেনদেন
বাড়ছে। শিল্প এলাকা থেকে নিয়ে
অজপাড়া গাঁয়ে পর্যন্ত সুদের নানান
রকমের জাল বিছিয়ে দেয়া হয়েছে।
মানুষ প্রতিদিন অজ্ঞানে কিংবা
সজ্ঞানে এসব জালে আটকা পড়ছে।
সুদের কারবার যতই বৃদ্ধি পাচ্ছে
মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা ততই
খারাপ হচ্ছে । ঋণ নিয়ে সুদ
পরিশোধ করতে না পেরে কত মানুষ
মৃত্যুর পথ বেছে নেয়! এ ধরণের
ঘটনা আমাদের চোখের সামনে
অনেক! অথচ মুসলমানদের উন্নতির
যুগে একজন সাধারণ মুসলমানকেও
সুদের ফাঁদে পা দিতে হত না।
সাধারণ মুসলমান প্রত্যেকেই তার
অর্থনৈতিক অবস্থার যিম্নাদার হতে
পারত । না রাষ্ট্র থেকে ঋণ নেয়ার
প্রয়োজন পড়ত, না সুদভিত্ততিক ঋণ
গ্রহণ করার প্রয়োজন পড়ত। কেউ
অর্থনৈতিক সংকটে পড়লে অন্য
মুসলমান ভাইয়েরা এসে সাহায্যের
হাত বাড়িয়ে দিত।

আজকাল উন্নতি এবং প্রযুক্তির যুগে
মানুষ যে হারে অর্থনৈতিক সংকটে।
আছে, সেই যুগে তার ছিটেফোটাও
ছিলো না। এর মূল কারণ হচ্ছে
হালাল ব্যবসা-বাণিজ্য ছেড়ে দেয়া।
মানুষ যতদিন হালালভাবে ব্যবসা
বাণিজ্য করেছে, ততদিন পর্যন্ত
সমাজ সুদমুক্ত এবং পবিত্র ছিল।
কিন্তু মানুষ যখন অতিরিক্ত লাভের
নেশায় হালাল ব্যবসা ছেড়ে দিল, অন্য
দিকে রাষ্ট্র যখন ইসলামি সমাজ
ব্যবস্থাকে ছেড়ে কুক্ষিগত সমাজ
ব্যবস্থা গড়ে তুলল, তখন থেকেই
মানুষের জীবনে সুদের অভিশাপ শুরু
হল। পৃথিবী আজ এই অভিশাপে
ধুকেঁ ধুকেঁ মরছে আর ধ্বংসের দিকে
এগিয়ে যাচেচ্ছ। আল্লাহ তা’আলা
সত্যিই বলেছেন, আল্লাহ সুদকে
মিটিয়ে দেন, ছাদাকা কে বৃদ্ধি করে
দেন । আল্লাহ তা’আলা আমাদের।
সবাইকে সুদের অভিশাপ থেকে।
হেফাযত করুন।

আমিন।

এই টিউন টা যদি আপনার ভাল লাগে, তাহলে আপনার মূল্যবান মন্তব্য করতে ভুলবেন না। আর একটা কথা,ভাল না লাগলে এরিয়ে যান। কমেন্ট এরিয়া দূষিত করার দরকার নাই।

যে কোন প্রয়োজনেঃ
Facebook: K M Faruk islam

মাদক কে

না বলি,

মাদক মুক্ত

সমাজ গড়ি।

এতক্ষন সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ….!!!

[হাদিস ও কুরআনের আলো পর্ব – (১)] এসো হাদিস ও কুরআনের আয়াত পড়ি ও শিখি এবং তদানুযায়ী আমল করি।

“বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম”

“আসসালামু আলাইকুম”

* কোন কিছু কাজ শুরু করার আগে বিসমিল্লাহ বলতে হয় এবং কারো সামনে কোন কিছু বলার আগে সালাম দিয়ে বলতে হয়।

আজকের আমার পোষ্টে আপনাদের সকলকে স্বাগতম জানাচ্ছি ,,,,,,

আপনারা সকলে কেমন আছেন? আশা করি ভালো আছেন। আমি আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।
পাঁচ ওয়া সালাত আদায় করলে শরীর ও মন উভয় ভালো থাকে।

আজকের বিষয়,

আজকে আমি আপনাদের সামনে “কুরআন ও হাদিসের আলো” পর্ব (১) নিয়ে হাজির হয়েছি।

আজকে আমরা পাঁচটি হাদিস সম্পর্কে জানবো এবং তদানুযায়ী আমল করার চেষ্টা করবো।

হাদিসগুলো নিচে দেওয়া হলো —
.১

.২

.৩

.৪

.৫

*বন্ধুরা বাস্তব জীবনে আপনারা অবশ্যই এই হাদিসগুলো মেনে চলবেন।

** আপনারা যারা পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করেন না তাদের আমি বলছি *যদি আপনি দুনিয়া ও আখিরাতে পরিপূর্ণ শান্তি লাভ করতে চান তাহলে আজ থেকেই পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা শুরু করুন।

আগামীতে আমরা আরো নতুন পাঁচটি হাদিস শিখবো, আজ এই পর্যন্ত।

আমিন।

** পোষ্ট টি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ,,,,,

ব্যবসায়ীক মুনাফা নাকি সুদ….? ব্যবসায়ীক মুনাফা ও সুদ এক নাকি ভিন্ন…? ইসলাম কি বলে।

ব্যবসায়িক মুনাফা ও সুদ।
ব্যাবসায়িক মুনাফা এবং সুদের মাঝে সম্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। এ পার্থক্যটা বুঝতে হবে। অনেক মানুষ আছে এ পার্থক্যটা না বুঝেই বলতে থাকে,
ব্যাবসায়িক মুনাফা আর সুদ এক
সমান। উভয়টাকে হালাল মনে করে। যেমনটা কুরআনুল কারীমের তথ্য অনুযায়ী নবীজীর যুগের কাফেররাও বলত।
পার্থক্য না বুঝাটা পার্থক্য না থাকার উপর দলিল নয়; বরং এ পার্থক্য বুঝার জন্যে আহলে ইলমগণের শরণাপন্ন হতে হবে। ব্যবসায়িক মুনাফা, যেটা আছে, সেটা হালাল।
চাই সেই মুনাফা কম হোক কিংবা
বেশী। অবশ্য ইসলাম কোন পণ্যের
উপর অতিরিক্ত মুনাফা সমর্থন করে না। ফিকহি পরিভাষায় যেটাকে গবনে ফাহেশ (মাত্রাতিরিক্ত মুনাফা বলা হয়। ফিকহে ইসলামির দৃষ্টিতে
এই গবনে ফাহেশ মাকরুহে
তাহরিমী।

যেমন ধরুণ, কোন ব্যক্তি দশ গজ
কাপড় বিক্রি করল, পাঁচশত টাকার বিনিময়ে। এখন চাইলে ঐ ব্যক্তি উক্ত দশ গজ কাপড় সাতশত টাকা দিয়েও বিক্রি করতে পারবে। তাতে কোন সমস্যা হবে না। এটা হবে ব্যবসায়িক মুনফা। কারণ পাঁচশত টাকাটা যেভাবে পরিপূর্ণ দশ গজ কাপড়ের বিপরীতে আসে, ঠিক সাতশত টাকাটাও দশ গজ কাপড়ের
বিপরীতে আসে। পার্থক্য হচ্ছে
সাতশত টাকাটাও দশ গজ কাপড়ের বিপরীতে আসে। পার্থক্য হচ্ছে পাঁচশতে মুনাফা কম, সাতশতে মুনাফা বেশী ।

কোন ব্যক্তি যদি কাউকে দশটাকা ঋণ দেয় আর বিনিময়ে পরবর্তিতে তার কাছ থেকে বারো টাকা নেয়, তাহলে এটা সুদ হবে। কেননা দশ টাকাটা তার ঋণের বিপরীতে আসবে। কিন্তু অতিরিক্ত দুই টাকা কোন বিনিময় ছাড়া তার কাছে মুনাফা হিসেবে আসছে। কাজেই এই অতিরিক্ত দুই টাকা সুদ।
এটা হারাম। সুদের পরিমান বেশ
কম হলে তার হকুমের উপর কোন
প্রভাব পড়ে না; এক টাকার সুদের
যে হকুম, একশ টাকার সুদেরও একই হকুম।

(ইসলামি মাইশাত কে বুনয়াদি
উসল : ১৮৪)

[পর্ব ০৩] আসুন সহিহ বুখারী হাদিস গুলো পড়ি ধারাবাহিক ভাবে। দয়া করে আল্লহর নামে পড়ে দেখুন।

আসসালামু আলাইকুম।
আজ আজি এই পোস্টের তৃতীয় পর্ব নিয়ে হাজির হয়েছি।বেশি কিছু বলবো না। চলুন শুরু করা যাক।
হাদিস নং ০৫
حَدَّثَنَا عَبْدَانُ، قَالَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ أَخْبَرَنَا يُونُسُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، ح وَحَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ أَخْبَرَنَا يُونُسُ، وَمَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، نَحْوَهُ قَالَ أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَجْوَدَ النَّاسِ، وَكَانَ أَجْوَدُ مَا يَكُونُ فِي رَمَضَانَ حِينَ يَلْقَاهُ جِبْرِيلُ، وَكَانَ يَلْقَاهُ فِي كُلِّ لَيْلَةٍ مِنْ رَمَضَانَ فَيُدَارِسُهُ الْقُرْآنَ، فَلَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَجْوَدُ بِالْخَيْرِ مِنَ الرِّيحِ الْمُرْسَلَةِ

আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ দানশীল। রমাযানে তিনি আরো অধিক দানশীল হতেন, যখন জিবরীল (‘আঃ) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন। আর রমাযানের প্রতি রাতেই জিবরীল (‘আঃ) তাঁর সাথে দেখা করতেন এবং তারা একে অপরকে কুরআন তিলাওয়াত করে শোনাতেন। নিশ্চয়ই আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রহমতের বায়ু অপেক্ষাও অধিক দানশীল ছিলেন।
হাদিস নং ০৬
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ، قَالَ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَا سُفْيَانَ بْنَ حَرْبٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ هِرَقْلَ أَرْسَلَ إِلَيْهِ فِي رَكْبٍ مِنْ قُرَيْشٍ ـ وَكَانُوا تُجَّارًا بِالشَّأْمِ ـ فِي الْمُدَّةِ الَّتِي كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَادَّ فِيهَا أَبَا سُفْيَانَ وَكُفَّارَ قُرَيْشٍ، فَأَتَوْهُ وَهُمْ بِإِيلِيَاءَ فَدَعَاهُمْ فِي مَجْلِسِهِ، وَحَوْلَهُ عُظَمَاءُ الرُّومِ ثُمَّ دَعَاهُمْ وَدَعَا بِتَرْجُمَانِهِ فَقَالَ أَيُّكُمْ أَقْرَبُ نَسَبًا بِهَذَا الرَّجُلِ الَّذِي يَزْعُمُ أَنَّهُ نَبِيٌّ فَقَالَ أَبُو سُفْيَانَ فَقُلْتُ أَنَا أَقْرَبُهُمْ نَسَبًا‏.‏ فَقَالَ أَدْنُوهُ مِنِّي، وَقَرِّبُوا أَصْحَابَهُ، فَاجْعَلُوهُمْ عِنْدَ ظَهْرِهِ‏.‏ ثُمَّ قَالَ لِتَرْجُمَانِهِ قُلْ لَهُمْ إِنِّي سَائِلٌ هَذَا عَنْ هَذَا الرَّجُلِ، فَإِنْ كَذَبَنِي فَكَذِّبُوهُ‏.‏ فَوَاللَّهِ لَوْلاَ الْحَيَاءُ مِنْ أَنْ يَأْثِرُوا عَلَىَّ كَذِبًا لَكَذَبْتُ عَنْهُ، ثُمَّ كَانَ أَوَّلَ مَا سَأَلَنِي عَنْهُ أَنْ قَالَ كَيْفَ نَسَبُهُ فِيكُمْ قُلْتُ هُوَ فِينَا ذُو نَسَبٍ‏.‏ قَالَ فَهَلْ قَالَ هَذَا الْقَوْلَ مِنْكُمْ أَحَدٌ قَطُّ قَبْلَهُ قُلْتُ لاَ‏.‏ قَالَ فَهَلْ كَانَ مِنْ آبَائِهِ مِنْ مَلِكٍ قُلْتُ لاَ‏.‏ قَالَ فَأَشْرَافُ النَّاسِ يَتَّبِعُونَهُ أَمْ ضُعَفَاؤُهُمْ فَقُلْتُ بَلْ ضُعَفَاؤُهُمْ‏.‏ قَالَ أَيَزِيدُونَ أَمْ يَنْقُصُونَ قُلْتُ بَلْ يَزِيدُونَ‏.‏ قَالَ فَهَلْ يَرْتَدُّ أَحَدٌ مِنْهُمْ سَخْطَةً لِدِينِهِ بَعْدَ أَنْ يَدْخُلَ فِيهِ قُلْتُ لاَ‏.‏ قَالَ فَهَلْ كُنْتُمْ تَتَّهِمُونَهُ بِالْكَذِبِ قَبْلَ أَنْ يَقُولَ مَا قَالَ قُلْتُ لاَ‏.‏ قَالَ فَهَلْ يَغْدِرُ قُلْتُ لاَ، وَنَحْنُ مِنْهُ فِي مُدَّةٍ لاَ نَدْرِي مَا هُوَ فَاعِلٌ فِيهَا‏.‏ قَالَ وَلَمْ تُمْكِنِّي كَلِمَةٌ أُدْخِلُ فِيهَا شَيْئًا غَيْرُ هَذِهِ الْكَلِمَةِ‏.‏ قَالَ فَهَلْ قَاتَلْتُمُوهُ قُلْتُ نَعَمْ‏.‏ قَالَ فَكَيْفَ كَانَ قِتَالُكُمْ إِيَّاهُ قُلْتُ الْحَرْبُ بَيْنَنَا وَبَيْنَهُ سِجَالٌ، يَنَالُ مِنَّا وَنَنَالُ مِنْهُ‏.‏ قَالَ مَاذَا يَأْمُرُكُمْ قُلْتُ يَقُولُ اعْبُدُوا اللَّهَ وَحْدَهُ، وَلاَ تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا، وَاتْرُكُوا مَا يَقُولُ آبَاؤُكُمْ، وَيَأْمُرُنَا بِالصَّلاَةِ وَالصِّدْقِ وَالْعَفَافِ وَالصِّلَةِ‏.‏ فَقَالَ لِلتَّرْجُمَانِ قُلْ لَهُ سَأَلْتُكَ عَنْ نَسَبِهِ، فَذَكَرْتَ أَنَّهُ فِيكُمْ ذُو نَسَبٍ، فَكَذَلِكَ الرُّسُلُ تُبْعَثُ فِي نَسَبِ قَوْمِهَا، وَسَأَلْتُكَ هَلْ قَالَ أَحَدٌ مِنْكُمْ هَذَا الْقَوْلَ فَذَكَرْتَ أَنْ لاَ، فَقُلْتُ لَوْ كَانَ أَحَدٌ قَالَ هَذَا الْقَوْلَ قَبْلَهُ لَقُلْتُ رَجُلٌ يَأْتَسِي بِقَوْلٍ قِيلَ قَبْلَهُ، وَسَأَلْتُكَ هَلْ كَانَ مِنْ آبَائِهِ مِنْ مَلِكٍ فَذَكَرْتَ أَنْ لاَ، قُلْتُ فَلَوْ كَانَ مِنْ آبَائِهِ مِنْ مَلِكٍ قُلْتُ رَجُلٌ يَطْلُبُ مُلْكَ أَبِيهِ، وَسَأَلْتُكَ هَلْ كُنْتُمْ تَتَّهِمُونَهُ بِالْكَذِبِ قَبْلَ أَنْ يَقُولَ مَا قَالَ فَذَكَرْتَ أَنْ لاَ، فَقَدْ أَعْرِفُ أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ لِيَذَرَ الْكَذِبَ عَلَى النَّاسِ وَيَكْذِبَ عَلَى اللَّهِ، وَسَأَلْتُكَ أَشْرَافُ النَّاسِ اتَّبَعُوهُ أَمْ ضُعَفَاؤُهُمْ فَذَكَرْتَ أَنَّ ضُعَفَاءَهُمُ اتَّبَعُوهُ، وَهُمْ أَتْبَاعُ الرُّسُلِ، وَسَأَلْتُكَ أَيَزِيدُونَ أَمْ يَنْقُصُونَ فَذَكَرْتَ أَنَّهُمْ يَزِيدُونَ، وَكَذَلِكَ أَمْرُ الإِيمَانِ حَتَّى يَتِمَّ، وَسَأَلْتُكَ أَيَرْتَدُّ أَحَدٌ سَخْطَةً لِدِينِهِ بَعْدَ أَنْ يَدْخُلَ فِيهِ فَذَكَرْتَ أَنْ لاَ، وَكَذَلِكَ الإِيمَانُ حِينَ تُخَالِطُ بَشَاشَتُهُ الْقُلُوبَ، وَسَأَلْتُكَ هَلْ يَغْدِرُ فَذَكَرْتَ أَنْ لاَ، وَكَذَلِكَ الرُّسُلُ لاَ تَغْدِرُ، وَسَأَلْتُكَ بِمَا يَأْمُرُكُمْ، فَذَكَرْتَ أَنَّهُ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تَعْبُدُوا اللَّهَ، وَلاَ تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا، وَيَنْهَاكُمْ عَنْ عِبَادَةِ الأَوْثَانِ، وَيَأْمُرُكُمْ بِالصَّلاَةِ وَالصِّدْقِ وَالْعَفَافِ‏.‏ فَإِنْ كَانَ مَا تَقُولُ حَقًّا فَسَيَمْلِكُ مَوْضِعَ قَدَمَىَّ هَاتَيْنِ، وَقَدْ كُنْتُ أَعْلَمُ أَنَّهُ خَارِجٌ، لَمْ أَكُنْ أَظُنُّ أَنَّهُ مِنْكُمْ، فَلَوْ أَنِّي أَعْلَمُ أَنِّي أَخْلُصُ إِلَيْهِ لَتَجَشَّمْتُ لِقَاءَهُ، وَلَوْ كُنْتُ عِنْدَهُ لَغَسَلْتُ عَنْ قَدَمِهِ‏.‏ ثُمَّ دَعَا بِكِتَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الَّذِي بَعَثَ بِهِ دِحْيَةُ إِلَى عَظِيمِ بُصْرَى، فَدَفَعَهُ إِلَى هِرَقْلَ فَقَرَأَهُ فَإِذَا فِيهِ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ‏.‏ مِنْ مُحَمَّدٍ عَبْدِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ إِلَى هِرَقْلَ عَظِيمِ الرُّومِ‏.‏ سَلاَمٌ عَلَى مَنِ اتَّبَعَ الْهُدَى، أَمَّا بَعْدُ فَإِنِّي أَدْعُوكَ بِدِعَايَةِ الإِسْلاَمِ، أَسْلِمْ تَسْلَمْ، يُؤْتِكَ اللَّهُ أَجْرَكَ مَرَّتَيْنِ، فَإِنْ تَوَلَّيْتَ فَإِنَّ عَلَيْكَ إِثْمَ الأَرِيسِيِّينَ وَ‏{‏يَا أَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَنْ لاَ نَعْبُدَ إِلاَّ اللَّهَ وَلاَ نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلاَ يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُولُوا اشْهَدُوا بِأَنَّا مُسْلِمُونَ‏}‏ قَالَ أَبُو سُفْيَانَ فَلَمَّا قَالَ مَا قَالَ، وَفَرَغَ مِنْ قِرَاءَةِ الْكِتَابِ كَثُرَ عِنْدَهُ الصَّخَبُ، وَارْتَفَعَتِ الأَصْوَاتُ وَأُخْرِجْنَا، فَقُلْتُ لأَصْحَابِي حِينَ أُخْرِجْنَا لَقَدْ أَمِرَ أَمْرُ ابْنِ أَبِي كَبْشَةَ، إِنَّهُ يَخَافُهُ مَلِكُ بَنِي الأَصْفَرِ‏.‏ فَمَا زِلْتُ مُوقِنًا أَنَّهُ سَيَظْهَرُ حَتَّى أَدْخَلَ اللَّهُ عَلَىَّ الإِسْلاَمَ‏.‏ وَكَانَ ابْنُ النَّاظُورِ صَاحِبُ إِيلِيَاءَ وَهِرَقْلَ سُقُفًّا عَلَى نَصَارَى الشَّأْمِ، يُحَدِّثُ أَنَّ هِرَقْلَ حِينَ قَدِمَ إِيلِيَاءَ أَصْبَحَ يَوْمًا خَبِيثَ النَّفْسِ، فَقَالَ بَعْضُ بَطَارِقَتِهِ قَدِ اسْتَنْكَرْنَا هَيْئَتَكَ‏.‏ قَالَ ابْنُ النَّاظُورِ وَكَانَ هِرَقْلُ حَزَّاءً يَنْظُرُ فِي النُّجُومِ، فَقَالَ لَهُمْ حِينَ سَأَلُوهُ إِنِّي رَأَيْتُ اللَّيْلَةَ حِينَ نَظَرْتُ فِي النُّجُومِ مَلِكَ الْخِتَانِ قَدْ ظَهَرَ، فَمَنْ يَخْتَتِنُ مِنْ هَذِهِ الأُمَّةِ قَالُوا لَيْسَ يَخْتَتِنُ إِلاَّ الْيَهُودُ فَلاَ يُهِمَّنَّكَ شَأْنُهُمْ وَاكْتُبْ إِلَى مَدَايِنِ مُلْكِكَ، فَيَقْتُلُوا مَنْ فِيهِمْ مِنَ الْيَهُودِ‏.‏ فَبَيْنَمَا هُمْ عَلَى أَمْرِهِمْ أُتِيَ هِرَقْلُ بِرَجُلٍ أَرْسَلَ بِهِ مَلِكُ غَسَّانَ، يُخْبِرُ عَنْ خَبَرِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا اسْتَخْبَرَهُ هِرَقْلُ قَالَ اذْهَبُوا فَانْظُرُوا أَمُخْتَتِنٌ هُوَ أَمْ لاَ‏.‏ فَنَظَرُوا إِلَيْهِ، فَحَدَّثُوهُ أَنَّهُ مُخْتَتِنٌ، وَسَأَلَهُ عَنِ الْعَرَبِ فَقَالَ هُمْ يَخْتَتِنُونَ‏.‏ فَقَالَ هِرَقْلُ هَذَا مَلِكُ هَذِهِ الأُمَّةِ قَدْ ظَهَرَ‏.‏ ثُمَّ كَتَبَ هِرَقْلُ إِلَى صَاحِبٍ لَهُ بِرُومِيَةَ، وَكَانَ نَظِيرَهُ فِي الْعِلْمِ، وَسَارَ هِرَقْلُ إِلَى حِمْصَ، فَلَمْ يَرِمْ حِمْصَ حَتَّى أَتَاهُ كِتَابٌ مِنْ صَاحِبِهِ يُوَافِقُ رَأْىَ هِرَقْلَ عَلَى خُرُوجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَنَّهُ نَبِيٌّ، فَأَذِنَ هِرَقْلُ لِعُظَمَاءِ الرُّومِ فِي دَسْكَرَةٍ لَهُ بِحِمْصَ ثُمَّ أَمَرَ بِأَبْوَابِهَا فَغُلِّقَتْ، ثُمَّ اطَّلَعَ فَقَالَ يَا مَعْشَرَ الرُّومِ، هَلْ لَكُمْ فِي الْفَلاَحِ وَالرُّشْدِ وَأَنْ يَثْبُتَ مُلْكُكُمْ فَتُبَايِعُوا هَذَا النَّبِيَّ، فَحَاصُوا حَيْصَةَ حُمُرِ الْوَحْشِ إِلَى الأَبْوَابِ، فَوَجَدُوهَا قَدْ غُلِّقَتْ، فَلَمَّا رَأَى هِرَقْلُ نَفْرَتَهُمْ، وَأَيِسَ مِنَ الإِيمَانِ قَالَ رُدُّوهُمْ عَلَىَّ‏.‏ وَقَالَ إِنِّي قُلْتُ مَقَالَتِي آنِفًا أَخْتَبِرُ بِهَا شِدَّتَكُمْ عَلَى دِينِكُمْ، فَقَدْ رَأَيْتُ‏.‏ فَسَجَدُوا لَهُ وَرَضُوا عَنْهُ، فَكَانَ ذَلِكَ آخِرَ شَأْنِ هِرَقْلَ‏.‏ رَوَاهُ صَالِحُ بْنُ كَيْسَانَ وَيُونُسُ وَمَعْمَرٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ‏.‏

অনুবাদটি দেখে নিনঃ

আবূ সুফিয়ান ইব্‌নু হরব তাকে বলেছেন, রাজা হিরাক্লিয়াস একদা তাঁর নিকট লোক প্রেরণ করলেন। তিনি তখন ব্যবসা উপলক্ষে কুরাইশদের কাফেলায় সিরিয়ায় ছিলেন। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সে সময় আবূ সুফিয়ান ও কুরাইশদের সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সন্ধিতে আবদ্ধ ছিলেন। আবূ সুফিয়ান তার সাথী সহ হিরাক্লিয়াসের নিকট আসলেন এবং দোভাষীকে ডাকলেন। অতঃপর জিজ্ঞেস করলেন, ‘এই যে ব্যক্তি নিজেকে নবী বলে দাবী করে-তোমাদের মাঝে বংশের দিক হতে তাঁর সবচেয়ে নিকটাত্মীয় কে’? আবূ সুফিয়ান বলেন, ‘আমি বললাম, বংশের দিক দিয়ে আমিই তাঁর নিকটাত্মীয়’। তিনি বললেন, ‘তাঁকে আমার অতি নিকটে আন এবং তাঁর সাথীদেরকেও তার পেছনে বসিয়ে দাও’।
অতঃপর তাঁর দোভাষীকে বললেন, ‘তাদের বলে দাও, আমি এর নিকট সে ব্যক্তি সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞেস করব, যদি সে আমার নিকট মিথ্যা বলে, তখন সঙ্গে সঙ্গে তোমরা তাকে মিথ্যুক বলবে। আবূ সুফিয়ান বলেন, ‘আল্লাহর কসম! আমার যদি এ লজ্জা না থাকত যে, তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলে প্রচার করবে, তবে আমি অবশ্যই তাঁর সম্পর্কে মিথ্যা বলতাম’।
অতঃপর তিনি তাঁর সম্পর্কে আমাকে সর্বপ্রথম যে প্রশ্ন করেন তা হলো, ‘বংশমর্যাদার দিক দিয়ে তোমাদের মধ্যে সে কিরূপ?’ আমি বললাম, ‘তিনি আমাদের মধ্যে খুব সম্ভ্রান্ত বংশের’। তিনি বললেন, ‘তোমাদের মধ্যে এর পূর্বে আর কখনো কি কেউ এরূপ কথা বলেছে?’ আমি বললাম, ‘না’। তিনি বললেন, ‘তাঁর পূর্বপুরুষের মধ্যে কেউ কি বাদশাহ ছিলেন?’ আমি বললাম, ‘না’। তিনি বললেন, ‘সম্ভ্রান্ত মর্যাদাবান শ্রেণীর লোকেরা তাঁর অনুসরণ করে, নাকি দুর্বল লোকেরা?’ আমি বললাম, ‘দুর্বল লোকেরা’। তিনি বললেন, ‘তাদের সংখ্যা কি বাড়ছে, না কমছে?’ আমি বললাম, ‘তারা বেড়েই চলছে’। তিনি বললেন, ‘তাঁর ধর্মে ঢুকে কেউ কি অসন্তুষ্ট হয়ে তা ত্যাগ করে?’ আমি বললাম, ‘না’। তিনি বললেন, ‘তাঁর দাবীর পূর্বে তোমরা কি কখনো তাঁকে মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছ?’ আমি বললাম, ‘না’। তিনি বললেন, ‘তিনি কি সন্ধি ভঙ্গ করেন?’ আমি বললাম, ‘না’। তবে আমরা তাঁর সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট সময়ের সন্ধিতে আবদ্ধ আছি। জানি না এর মধ্যে তিনি কি করবেন’। আবূ সুফিয়ান বলেন, ‘এ কথাটি ব্যতীত নিজের পক্ষ হতে আর কোন কথা যোগ করার সু্যোগই আমি পাইনি’। তিনি বললেন, ‘তোমরা তাঁর সঙ্গে কখনো যুদ্ধ করেছ কি?’ আমি বললাম, ‘হ্যাঁ’। তিনি বললেন, ‘তাঁর সঙ্গে তোমাদের যুদ্ধের পরিণাম কি হয়েছে?’ আমি বললাম, ‘তাঁর ও আমাদের মধ্যে যুদ্ধের ফলাফল কুপের বালতির ন্যায়’। কখনো তাঁর পক্ষে যায়, আবার কখনো আমাদের পক্ষে আসে’। তিনি বললেন, ‘তিনি তোমাদের কিসের আদেশ দেন?’ আমি বললাম, ‘তিনি বলেনঃ তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাঁর সঙ্গে কোন কিছুর অংশীদার সাব্যস্ত করো না এবং তোমাদের পূর্বপুরুষরা যা বলে তা ত্যাগ কর। আর তিনি আমাদের সালাত আদায়ের, সত্য বলার, চারিত্রিক নিষ্কলুষতার এবং আত্মীয়দের সঙ্গে সদাচরণ করার নির্দেশ দেন’।
অতঃপর তিনি দোভাষীকে বললেন, ‘তুমি তাকে বল, আমি তোমার নিকট তাঁর বংশ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছি। তুমি তার জবাবে উল্লেখ করেছ যে, তিনি তোমাদের মধ্যে সম্ভ্রান্ত বংশের। প্রকৃতপক্ষে রসূলগণকে তাঁদের কওমের উচ্চ বংশেই পাঠানো হয়ে থাকে। তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি, এ কথা তোমাদের মধ্যে ইতিপূর্বে আর কেউ বলেছে কিনা? তুমি বলেছ, ‘না’। তাই আমি বলছি, পূর্বে যদি কেউ এরূপ বলত, তবে আমি অবশ্যই বলতাম, ইনি এমন এক ব্যক্তি, যিনি তাঁর পুর্বসূরীর কথারই অনুসরণ করছেন। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি, তাঁর পূর্বপুরুষদের মধ্যে কোন বাদশাহ ছিলেন কিনা? তুমি তার জবাবে বলেছ, ‘না’। তাই আমি বলছি যে, তাঁর পূর্বপুরুষের মধ্যে যদি কোন বাদশাহ থাকতেন, তবে আমি বলতাম, ইনি এমন এক ব্যক্তি যিনি তাঁর বাপ-দাদার বাদশাহী ফিরে পেতে চান। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি-এর পূর্বে কখনো তোমরা তাঁকে মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছ কিনা? তুমি বলেছ, ‘না’। এতে আমি বুঝলাম, এমনটি হতে পারে না যে, কেউ মানুষের ব্যাপারে মিথ্যা পরিত্যাগ করবে আর আল্লাহর ব্যাপারে মিথ্যা বলবে। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি, সম্ভ্রান্ত লোক তাঁর অনুসরণ করে, না সাধারণ লোক? তুমি বলেছ, সাধারণ লোকই তাঁর অনুসরণ করে। আর বাস্তবেও এই শ্রেনীর লোকেরাই হন রসূলগণের অনুসারী। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি, তারা সংখ্যায় বাড়ছে না কমছে? তুমি বলেছ, বাড়ছে। প্রকৃতপক্ষে ঈমানে পূর্ণতা লাভ করা পর্যন্ত এ রকমই হয়ে থাকে। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি, তাঁর দীনে প্রবেশ করে কেউ কি অসন্তুষ্ট হয়ে তা ত্যাগ করে? তুমি বলেছ, ‘না’। ঈমানের স্নিগ্ধতা অন্তরের সঙ্গে মিশে গেলে ঈমান এরূপই হয়। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি, তিনি সন্ধি ভঙ্গ করেন কিনা? তুমি বলেছ, ‘না’। প্রকৃতপক্ষে রসূলগণ এরূপই, সন্ধি ভঙ্গ করেন না। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি, তিনি তোমাদের কিসের আদেশ দেন? তুমি বলেছ, তিনি তোমাদের এক আল্লাহর বন্দেগী করা ও তাঁর সঙ্গে অন্য কিছুর অংশীদার স্থাপন না করার নির্দেশ দেন। তিনি তোমাদের নিষেধ করেন মূর্তিপূজা করতে আর তোমাদের আদেশ করেন সালাত আদায় করতে, সত্য বলতে ও সচ্চরিত্র থাকতে। তুমি যা বলেছ তা যদি সত্যি হয়, তবে শীঘ্রই তিনি আমার দু’পায়ের নীচের জায়গার অধিকারী হবেন। আমি নিশ্চিত জানতাম, তাঁর আবির্ভাব হবে; কিন্তু তিনি যে তোমাদের মধ্য হতে হবেন, এ কথা ভাবতে পারিনি। যদি জানতাম, আমি তাঁর নিকট পৌছতে পারব, তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য আমি যে কোন কষ্ট সহ্য করে নিতাম। আর আমি যদি তাঁর নিকট থাকতাম তবে অবশ্যই তাঁর দু’খানা পা ধৌত করে দিতাম। অতঃপর তিনি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সেই পত্রখানি আনার নির্দেশ দিলেন, যা তিনি দিহ্‌ইয়াতুল কালবী (রাঃ)-কে দিয়ে বসরার শাসকের মাধ্যমে হিরাক্লিয়াসের নিকট প্রেরণ করেছিলেন। তিনি তা পড়লেন। তাতে (লেখা) ছিলঃ
বিসমিল্লা-হির রহমা-নির রহীম (পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে)। আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পক্ষ হতে রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের প্রতি। -শান্তি (বর্ষিত হোক) তার প্রতি, যে হিদায়াতের অনুসরণ করে। তারপর আমি আপনাকে ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছি। ইসলাম গ্রহণ করুন, শান্তিতে থাকবেন। আল্লাহ আপনাকে দ্বিগুণ প্রতিদান দান করবেন। আর যদি মুখ ফিরিয়ে নেন, তবে সকল প্রজার পাপই আপনার উপর বর্তাবে।
“হে আহলে কিতাব! এসো সে কথায় যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে এক ও অভিন্ন। তা হল, আমরা যেন আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত না করি, কোন কিছুকেই যেন তাঁর শরীক সাব্যস্ত না করি এবং আমাদের কেউ যেন কাউকে পালনকর্তারূপে গ্রহণ না করে আল্লাহকে ত্যাগ করে। যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তোমরা বল, “তোমরা সাক্ষী থাক, আমারা তো মুসলিম”। (সূরা আল-‘ইমরান ৩/৬৪)
আবূ সুফিয়ান বলেন, ‘হিরাক্লিয়াস যখন তাঁর বক্তব্য শেষ করলেন এবং পত্র পাঠও শেষ করলেন, তখন সেখানে হট্টগোল শুরু হয়ে গেল, চীৎকার ও হৈ-হল্লা চরমে পৌছল এবং আমাদেরকে বের করে দেয়া হলো। আমাদেরকে বের করে দিলে আমি আমার সাথীদের বললাম, আবূ কাবশার [১] ছেলের বিষয় তো শক্তিশালী হয়ে উঠেছে, বনূ আসফার (রোম)-এর বাদশাহও তাকে ভয় পাচ্ছে! তখন থেকে আমি বিশ্বাস রাখতাম, তিনি শীঘ্রই জয়ী হবেন। অবশেষে আল্লাহ তা’আলা আমাকে ইসলাম গ্রহণের তাওফীক দান করলেন।
ইব্‌ন নাতূর ছিলেন জেরুযালেমের শাসনকর্তা এবং হিরাক্লিয়াসের বন্ধু ও সিরিয়ার খৃস্টানদের পাদ্রী। তিনি বলেন, হিরাক্লিয়াস যখন জেরুজালেম আসেন, তখন একদা তাঁকে অত্যন্ত মলিন দেখাচ্ছিল। তাঁর একজন বিশিষ্ট সহচর বলল, ‘আমরা আপনার চেহারা আজ এত মলিন দেখছি, ইব্‌নু নাতূর বলেন, হিরাক্লিয়াস ছিলেন জ্যোতির্বিদ, জ্যোতির্বিদ্যায় তাঁর দক্ষতা ছিল। তারা জিজ্ঞেস করলে তিনি তাদের বললেন, ‘আজ রাতে আমি তারকারাজির দিকে তাকিয়ে দেখতে পেলাম, খতনাকারীদের বাদশাহ আবির্ভূত হয়েছেন। বর্তমান যুগে কোন্‌ জাতি খাতনা করে’? তারা বলল, ‘ইয়াহূদ জাতি ব্যতীত কেউ খাতনা করে না। কিন্তু তাদের ব্যাপারে আপনি মোটেও চিন্তিত হবেন না। আপনার রাজ্যের শহরগুলোতে লিখে পাঠান, তারা যেন সেখানকার সকল ইয়াহূদীকে কতল করে ফেলে’। তারা যখন এ ব্যাপারে ব্যতিব্যস্ত ছিল, তখন হিরাক্লিয়াসের নিকট জনৈক ব্যক্তিকে হাযির করা হলো, যাকে গাস্‌সানের শাসনকর্তা পাঠিয়েছিল। সে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কে খবর দিচ্ছিল। হিরাক্লিয়াস তার কাছ থেকে খবর জেনে নিয়ে বললেন, ‘তোমরা একে নিয়ে গিয়ে দেখ, তার খাতনা হয়েছে কি-না’। তারা তাকে নিয়ে গিয়ে দেখে এসে সংবাদ দিল, তার খতনা হয়েছে। হিরাক্লিয়াস তাকে আরবদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে সে জওয়াব দিল, ‘তারা খাতনা করে’। অতঃপর হিরাক্লিয়াস তাদের বললেন, ইনি [আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)] এ উম্মতের বাদশাহ। তিনি আবির্ভূত হয়েছেন’। আতঃপর হিরাক্লিয়াস রোমে তাঁর বন্ধুর নিকট লিখলেন। তিনি জ্ঞানে তাঁর সমকক্ষ ছিলেন। পরে হিরাক্লিয়াস হিমস চলে গেলেন। হিমসে থাকতেই তাঁর নিকট তাঁর বন্ধুর চিঠি এলো, যা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আবির্ভাব এবং তিনিই যে প্রকৃত নবী, এ ব্যাপারে হিরাক্লিয়াসের মতকে সমর্থন করছিল। তারপর হিরাক্লিয়াস তাঁর হিমসের প্রাসাদে রোমের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের ডাকলেন এবং প্রাসাদের সকল দরজা বন্ধ করার আদেশ দিলে দরজা বন্ধ করা হলো। অতঃপর তিনি সম্মুখে এসে বললেন, হে রোমের অধিবাসী! তোমরা কি মঙ্গল, হিদায়াত এবং তোমাদের রাষ্ট্রের স্থায়িত্ব চাও? তাহলে এই নবীর বায়’আত গ্রহণ কর’। এ কথা শুনে তারা বন্য গাধার ন্যায় দ্রুত নিঃশ্বাস ফেলতে ফেলতে দরজার দিকে ছুটল, কিন্তু তারা তা বন্ধ দেখতে পেল। হিরাক্লিয়াস যখন তাদের অনীহা লক্ষ্য করলেন এবং তাদের ঈমান থেকে নিরাশ হয়ে গেলেন, তখন বললেন, ‘ওদের আমার নিকট ফিরিয়ে আন’। তিনি বললেন, ‘আমি একটু পূর্বে যে কথা বলেছি, তা দিয়ে তোমরা তোমাদের দ্বীনের উপর কতটুকু অটল, কেবল তার পরীক্ষা করছিলাম। এখন তা দেখে নিলাম’। একথা শুনে তারা তাঁকে সাজদাহ করল এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হলো। এটাই ছিল হিরাক্লিয়াসের সর্বশেষ অবস্থা।

ধন্যবাদ

[পর্ব ০১] আসুন সহিহ বুখারী হাদিস গুলো পড়ি ধারাবাহিক ভাবে। দয়া করে আল্লহর নামে পড়ে দেখুন।

আসসালামু আলাইকুম।
সবাই কেমন অাছেন?
আমি আল্লাহর রহমতে ভালোই আছি।
আমি ট্রিকবিডিতে নতুন।
আমি চাচ্ছি ধারাবাহিক ভাবে সহিহ বুখারী শরীফের হাদিস সম্পর্কে আলোচনা করি। তো চলুন আজকে সহিহ বুখারী শরীফের ওহির সূচনা সম্পর্কে আলোচনা করি।
হাদিস নং ০১
حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الأَنْصَارِيُّ، قَالَ أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيُّ، أَنَّهُ سَمِعَ عَلْقَمَةَ بْنَ وَقَّاصٍ اللَّيْثِيَّ، يَقُولُ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ ـ رضى الله عنه ـ عَلَى الْمِنْبَرِ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ “‏ إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى دُنْيَا يُصِيبُهَا أَوْ إِلَى امْرَأَةٍ يَنْكِحُهَا فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ
আমারা যারা আরবি জানিনা তারা বাংলা অর্থ গুলো দেখে নিনঃ

আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ কাজ (এর প্রাপ্য হবে) নিয়ত অনুযায়ী। আর মানুষ তার নিয়ত অনুযায়ী প্রতিফল পাবে। তাই যার হিজরত হবে ইহকাল লাভের অথবা কোন মহিলাকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যে- তবে তার হিজরত সে উদ্দেশ্যেই হবে, যে জন্যে, সে হিজরত করেছে।
( আধুনিক প্রকাশনী- ১, ইসলামিক ফাউনডেশন)
হাদিস নং ০২
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ ـ رضى الله عنها ـ أَنَّ الْحَارِثَ بْنَ هِشَامٍ ـ رضى الله عنه ـ سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ يَأْتِيكَ الْوَحْىُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ أَحْيَانًا يَأْتِينِي مِثْلَ صَلْصَلَةِ الْجَرَسِ ـ وَهُوَ أَشَدُّهُ عَلَىَّ ـ فَيُفْصَمُ عَنِّي وَقَدْ وَعَيْتُ عَنْهُ مَا قَالَ، وَأَحْيَانًا يَتَمَثَّلُ لِيَ الْمَلَكُ رَجُلاً فَيُكَلِّمُنِي فَأَعِي مَا يَقُولُ ‏”‏‏.‏ قَالَتْ عَائِشَةُ رضى الله عنها وَلَقَدْ رَأَيْتُهُ يَنْزِلُ عَلَيْهِ الْوَحْىُ فِي الْيَوْمِ الشَّدِيدِ الْبَرْدِ، فَيَفْصِمُ عَنْهُ وَإِنَّ جَبِينَهُ لَيَتَفَصَّدُ عَرَقًا‏.
বাংলা অনুবাদটি পড়ে নিনঃ
হারিস ইব্‌নু হিশাম (রাঃ) আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- কে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! আপনার নিকট ওয়াহী কিরূপে আসে?’ আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ [কোন কোন সময় তা ঘন্টা বাজার মত আমার নিকট আসে। আর এটি-ই আমার উপর সবচেয়ে বেদনাদায়ক হয় এবং তা শেষ হতেই মালাক (ফেরেশতা) যা বলেন তা আমি মুখস্ত করে নেই, আবার কখনো মালাক মানুষের রূপ ধারণ করে আমার সাথে কথা বলেন। তিনি যা বলেন আমি তা মুখস্ত করে নেই।] ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি তীব্র শীতের সময় ওয়াহী নাযিলরত অবস্থায় তাঁকে দেখেছি। ওয়াহী শেষ হলেই তাঁর ললাট হতে ঘাম ঝরে পড়ত।
হাদিস নং ০৩
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، أَنَّهَا قَالَتْ أَوَّلُ مَا بُدِئَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْوَحْىِ الرُّؤْيَا الصَّالِحَةُ فِي النَّوْمِ، فَكَانَ لاَ يَرَى رُؤْيَا إِلاَّ جَاءَتْ مِثْلَ فَلَقِ الصُّبْحِ، ثُمَّ حُبِّبَ إِلَيْهِ الْخَلاَءُ، وَكَانَ يَخْلُو بِغَارِ حِرَاءٍ فَيَتَحَنَّثُ فِيهِ ـ وَهُوَ التَّعَبُّدُ ـ اللَّيَالِيَ ذَوَاتِ الْعَدَدِ قَبْلَ أَنْ يَنْزِعَ إِلَى أَهْلِهِ، وَيَتَزَوَّدُ لِذَلِكَ، ثُمَّ يَرْجِعُ إِلَى خَدِيجَةَ، فَيَتَزَوَّدُ لِمِثْلِهَا، حَتَّى جَاءَهُ الْحَقُّ وَهُوَ فِي غَارِ حِرَاءٍ، فَجَاءَهُ الْمَلَكُ فَقَالَ اقْرَأْ‏.‏ قَالَ ‏”‏ مَا أَنَا بِقَارِئٍ ‏”‏‏.‏ قَالَ ‏”‏ فَأَخَذَنِي فَغَطَّنِي حَتَّى بَلَغَ مِنِّي الْجَهْدَ، ثُمَّ أَرْسَلَنِي فَقَالَ اقْرَأْ‏.‏ قُلْتُ مَا أَنَا بِقَارِئٍ‏.‏ فَأَخَذَنِي فَغَطَّنِي الثَّانِيَةَ حَتَّى بَلَغَ مِنِّي الْجَهْدَ، ثُمَّ أَرْسَلَنِي فَقَالَ اقْرَأْ‏.‏ فَقُلْتُ مَا أَنَا بِقَارِئٍ‏.‏ فَأَخَذَنِي فَغَطَّنِي الثَّالِثَةَ، ثُمَّ أَرْسَلَنِي فَقَالَ ‏{‏اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ * خَلَقَ الإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ * اقْرَأْ وَرَبُّكَ الأَكْرَمُ‏}‏ ‏”‏‏.‏ فَرَجَعَ بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَرْجُفُ فُؤَادُهُ، فَدَخَلَ عَلَى خَدِيجَةَ بِنْتِ خُوَيْلِدٍ رضى الله عنها فَقَالَ ‏”‏ زَمِّلُونِي زَمِّلُونِي ‏”‏‏.‏ فَزَمَّلُوهُ حَتَّى ذَهَبَ عَنْهُ الرَّوْعُ، فَقَالَ لِخَدِيجَةَ وَأَخْبَرَهَا الْخَبَرَ ‏”‏ لَقَدْ خَشِيتُ عَلَى نَفْسِي ‏”‏‏.‏ فَقَالَتْ خَدِيجَةُ كَلاَّ وَاللَّهِ مَا يُخْزِيكَ اللَّهُ أَبَدًا، إِنَّكَ لَتَصِلُ الرَّحِمَ، وَتَحْمِلُ الْكَلَّ، وَتَكْسِبُ الْمَعْدُومَ، وَتَقْرِي الضَّيْفَ، وَتُعِينُ عَلَى نَوَائِبِ الْحَقِّ‏.‏ فَانْطَلَقَتْ بِهِ خَدِيجَةُ حَتَّى أَتَتْ بِهِ وَرَقَةَ بْنَ نَوْفَلِ بْنِ أَسَدِ بْنِ عَبْدِ الْعُزَّى ابْنَ عَمِّ خَدِيجَةَ ـ وَكَانَ امْرَأً تَنَصَّرَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ، وَكَانَ يَكْتُبُ الْكِتَابَ الْعِبْرَانِيَّ، فَيَكْتُبُ مِنَ الإِنْجِيلِ بِالْعِبْرَانِيَّةِ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَكْتُبَ، وَكَانَ شَيْخًا كَبِيرًا قَدْ عَمِيَ ـ فَقَالَتْ لَهُ خَدِيجَةُ يَا ابْنَ عَمِّ اسْمَعْ مِنَ ابْنِ أَخِيكَ‏.‏ فَقَالَ لَهُ وَرَقَةُ يَا ابْنَ أَخِي مَاذَا تَرَى فَأَخْبَرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَبَرَ مَا رَأَى‏.‏ فَقَالَ لَهُ وَرَقَةُ هَذَا النَّامُوسُ الَّذِي نَزَّلَ اللَّهُ عَلَى مُوسَى صلى الله عليه وسلم يَا لَيْتَنِي فِيهَا جَذَعًا، لَيْتَنِي أَكُونُ حَيًّا إِذْ يُخْرِجُكَ قَوْمُكَ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ أَوَمُخْرِجِيَّ هُمْ ‏”‏‏.‏ قَالَ نَعَمْ، لَمْ يَأْتِ رَجُلٌ قَطُّ بِمِثْلِ مَا جِئْتَ بِهِ إِلاَّ عُودِيَ، وَإِنْ يُدْرِكْنِي يَوْمُكَ أَنْصُرْكَ نَصْرًا مُؤَزَّرًا‏.‏ ثُمَّ لَمْ يَنْشَبْ وَرَقَةُ أَنْ تُوُفِّيَ وَفَتَرَ الْوَحْىُ‏.‏
বাংলা অনুবাদটি পড়ে নিন দয়া করে।
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর নিকট সর্বপ্রথম যে ওয়াহী আসে, তা ছিল নিদ্রাবস্থায় বাস্তব স্বপ্নরূপে। যে স্বপ্নই তিনি দেখতেন তা একেবারে প্রভাতের আলোর ন্যায় প্রকাশিত হতো। অতঃপর তাঁর নিকট নির্জনতা পছন্দনীয় হয়ে দাঁড়ায় এবং তিনি ‘হেরা’র গুহায় নির্জনে অবস্থান করতেন। আপন পরিবারের নিকট ফিরে এসে কিছু খাদ্যসামগ্রী সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার পূর্বে- এভাবে সেখানে তিনি এক নাগাড়ে বেশ কয়েক দিন ‘ইবাদাতে মগ্ন থাকতেন। অতঃপর খাদীজা (রাঃ)-এর নিকট ফিরে এসে আবার একই সময়ের জন্য কিছু খাদ্যদ্রব্য নিয়ে যেতেন। এভাবে ‘হেরা’ গুহায় অবস্থানকালে তাঁর নিকট ওয়াহী আসলো। তাঁর নিকট ফেরেশতা এসে বললো, ‘পাঠ করুন’। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ [“আমি বললাম, ‘আমি পড়তে জানি না।] তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ অতঃপর সে আমাকে জড়িয়ে ধরে এমন ভাবে চাপ দিলো যে, আমার খুব কষ্ট হলো। অতঃপর সে আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললো, ‘পাঠ করুন’। আমি বললামঃ আমি তো পড়তে জানি না’। সে দ্বিতীয় বার আমাকে জড়িয়ে ধরে এমনভাবে চাপ দিলো যে, আমার খুব কষ্ট হলো। অতঃপর সে আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললো, ‘পাঠ করুন’। আমি উত্তর দিলাম, ‘আমি তো পড়তে জানি না’। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, অতঃপর তৃতীয়বারে তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে চাপ দিলেন। তারপর ছেড়ে দিয়ে বললেন, “পাঠ করুন আপনার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। যিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত পিন্ড থেকে, পাঠ করুন, আর আপনার রব অতিশয় দয়ালু”- (সূরা আলাক্ব ৯৬/১-৩)। অতঃপর এ আয়াত নিয়ে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- প্রত্যাবর্তন করলেন। তাঁর হৃদয় তখন কাঁপছিল। তিনি খাদীজা বিন্‌তু খুওয়ায়লিদের নিকট এসে বললেন, ‘আমাকে চাদর দ্বারা আবৃত কর’, ‘আমাকে চাদর দ্বারা আবৃত কর’। তাঁরা তাঁকে চাদর দ্বারা আবৃত করলেন। এমনকি তাঁর শংকা দূর হলো। তখন তিনি খাদীজা (রাঃ) এর নিকট ঘটনাবৃত্তান্ত জানিয়ে তাঁকে বললেন, আমি আমার নিজেকে নিয়ে শংকা বোধ করছি। খাদীজা (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম, কখনই নয়। আল্লাহ আপনাকে কখনো লাঞ্ছিত করবেন না। আপনি তো আত্মীয়–স্বজনের সঙ্গে সদাচরণ করেন, অসহায় দুস্থদের দায়িত্ব বহন করেন, নিঃস্বকে সহযোগিতা করেন, মেহমানের আপ্যায়ন করেন এবং হক পথের দুর্দশাগ্রস্থকে সাহায্য করেন। অতঃপর তাঁকে নিয়ে খাদীজা (রাঃ) তাঁর চাচাত ভাই ওয়ারাকাহ ইব্‌নু নাওফাল ইব্‌নু ‘আবদুল আসাদ ইব্‌নু ‘আবদুল ‘উযযাহ’র নিকট গেলেন, যিনি অন্ধকার যুগে ‘ঈসায়ী ধর্ম গ্রহন করেছিলেন। যিনি ইবরানী ভাষায় লিখতে পারতেন এবং আল্লাহর তাওফীক অনুযায়ী ইবরানী ভাষায় ইনজীল হতে ভাষান্তর করতেন। তিনি ছিলেন অতি বৃদ্ধ এবং অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। খাদীজা (রাঃ) তাঁকে বললেন, ‘হে চাচাত ভাই! আপনার ভাতিজার কথা শুনুন’। ওয়ারাকাহ তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘ভাতিজা! তুমি কী দেখ?’ আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা দেখেছিলেন, সবই বর্ণনা করলেন। তখন ওয়ারাকাহ তাঁকে বললেন, এটা সেই বার্তাবাহক যাকে আল্লাহ মূসা (‘আঃ)- এর নিকট পাঠিয়েছিলেন। আফসোস! আমি যদি সেদিন যুবক থাকতাম। আফসোস ! আমি যদি সেদিন জীবিত থাকতাম, যেদিন তোমার কওম তোমাকে বহিষ্কার করবে’। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, [‘তারা কি আমাকে বের করে দেবে?’] তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, তুমি যা নিয়ে এসেছো অনুরূপ (ওয়াহী) কিছু যিনিই নিয়ে এসেছেন তাঁর সঙ্গেই বৈরিতাপূর্ণ আচরণ করা হয়েছে। সেদিন যদি আমি থাকি, তবে তোমাকে জোরালোভাবে সাহায্য করব। এর কিছুদিন পর ওয়ারাকাহ (‘আঃ) ইন্তিকাল করেন। আর ওয়াহীর বিরতি ঘটে।
হাদিস নং ০৩(বাকি অংশ)
قَالَ ابْنُ شِهَابٍ وَأَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيَّ، قَالَ ـ وَهُوَ يُحَدِّثُ عَنْ فَتْرَةِ الْوَحْىِ، فَقَالَ ـ فِي حَدِيثِهِ ‏”‏ بَيْنَا أَنَا أَمْشِي، إِذْ سَمِعْتُ صَوْتًا، مِنَ السَّمَاءِ، فَرَفَعْتُ بَصَرِي فَإِذَا الْمَلَكُ الَّذِي جَاءَنِي بِحِرَاءٍ جَالِسٌ عَلَى كُرْسِيٍّ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ، فَرُعِبْتُ مِنْهُ، فَرَجَعْتُ فَقُلْتُ زَمِّلُونِي‏.‏ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى ‏{‏يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ * قُمْ فَأَنْذِرْ‏}‏ إِلَى قَوْلِهِ ‏{‏وَالرُّجْزَ فَاهْجُرْ‏}‏ فَحَمِيَ الْوَحْىُ وَتَتَابَعَ ‏”‏‏.‏ تَابَعَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ وَأَبُو صَالِحٍ‏.‏ وَتَابَعَهُ هِلاَلُ بْنُ رَدَّادٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ‏.‏ وَقَالَ يُونُسُ وَمَعْمَرٌ ‏”‏ بَوَادِرُهُ ‏”‏‏.‏
বাংলা অনুবাদ পড়ুন
ওয়াহী স্থগিত হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ একদা আমি হাঁটছি, হঠাৎ আসমান থেকে একটা শব্দ শুনতে পেয়ে আমার দৃষ্টিকে উপরে তুললাম। দেখলাম, সেই ফেরেশতা, যিনি হেরা গুহায় আমার নিকট এসেছিলেন, আসমান ও যমীনের মাঝে একটি আসনে উপবিষ্ট। এতে আমি শংকিত হলাম। অবিলম্বে আমি ফিরে এসে বললাম, ‘আমাকে চাদর দ্বারা আবৃত কর’, ‘আমাকে চাদর দ্বারা আবৃত কর’। অতঃপর আল্লাহ তা’আলা অবতীর্ণ করলেন, “হে বস্ত্রাবৃত রসূল! (১) উঠুন, সতর্ক করুন; আর আপনার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন; এবং স্বীয় পরিধেয় বস্ত্র পবিত্র রাখুন; (৫) এবং অপবিত্রতা থেকে দূরে থাকুন”। (সূরা মুদ‌্দাসসির ৭৪/১-৫) অতঃপর ওয়াহী পুরোদমে ধারাবাহিক অবতীর্ণ হতে লাগল। ‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু ইউসূফ (রহঃ) ও আবূ সালেহ (রহঃ) অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। হিলাল ইব্‌নু রাদদাদ (রহঃ) যুহরী (রহঃ) থেকেও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইউনুস ও মা’মার فواده এর স্থলে بَوَادِرُهُ শব্দ উল্লেখ করেছেন।
আজ এই পর্যন্তই।
আল্লাহ হাফেজ।