নামাজের পড়ার যে উপকারিতাগুলো চিন্তাও করেননি

মানুষের দেহ চলমান। সুস্থতার জন্য নড়া-চড়া, হাঁটা-চলা ও ওঠা-বসা দরকার। ৫ ওয়াক্ত সালাতে মসজিদে যাওয়া-আসা করতে হয়। নামাজে ওঠা-বসা করতে হয়। এ সবই উপকারী। ৫ ওয়াক্ত সালাতের জন্য ৫টি সময় রয়েছে। এছাড়াও সুন্নত ও নফল নামাজের সময় রয়েছে। এ সময়গুলোর চিকিৎসা বিজ্ঞানগত উপকারিতা রয়েছে তা চিন্তাও করেননি।

ফজরের সময় ও চিকিৎসা বিজ্ঞান

ফজরের সময় নামাজ আদায় করলে সারা রাত ঘুমের পর হালকা অনুশীলন হয়ে যায়। এ সময় পাকস্থলী খালি থাকে তাই কঠিন অনুশীলন শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এ সময়ে নামাজ আদায় করলে নামাজি অবসাদগ্রস্ততা ও অচলতা থেকে মুক্তি পায়। মস্তিষ্ক ফ্রি হয়ে পুনরায় চিন্তা করার জন্য প্রস্তুত হয়। এ সময়ে নামাজি হেঁটে মসজিদে যায় আর আত্মা পরিচ্ছন্ন, প্রশান্ত পরিবেশ থেকে সূক্ষ্ম অনুভূতি লাভ করে- এসবই উপকারী। এ সময়ে দেহ পরিষ্কার হয়। দাঁত পরিষ্কার, অঙ্গ ধোয়া ও পেশাব-পায়খানা থেকে পবিত্রতা অর্জন হয়ে যায়। এতে জীবাণুর আক্রমণ থেকে বাঁচা যায়। ডা. মাহমুদ চুগতাই বলেন, অন্ত্ররোগ ও আলসার থেকেও বাঁচা যায়। রোমের পাদরি হিলার বলেন, ভোরের নামাজের জন্য ওঠা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যাশ্চর্য প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। (প্রার্থনা গ্রন্থ)

জোহরের সময় ও চিকিৎসা বিজ্ঞান

মানুষ জীবিকার জন্য দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন কাজ করে। এতে ধুলা, ময়লা, বিষাক্ত কেমিকেল শরীরে লাগে। দেহে জীবাণু আক্রমণ করে। ওজু করলে এসব দূর হয় এবং ক্লান্তি দূর হয়ে দেহ পুনর্জীবন লাভ করে। গরমের কারণে সূর্য ঢলে পড়ার সময় বিষাক্ত গ্যাস বের হয়। এ গ্যাস মানবদেহে প্রভাব ফেললে মস্তিষ্ক, পাগলামিসহ বিভিন্ন রোগ হতে পারে। এ সময় ওজু করে নামাজ আদায় করলে এ গ্যাস প্রভাব ফেলতে পারে না ফলে দেহ বিভিন্ন রোগ থেকে বেঁচে যায়। এ সময় আল্লাহ নামাজ ফরয করে আমাদের জন্য অনুগ্রহ করেছেন।

আসরের সময় ও চিকিৎসা বিজ্ঞান

পৃথিবী দুই ধরনের গতিতে চলে। লম্ব ও বৃত্তীয়। যখন সূর্য ঢলতে থাকে তখন পৃথিবীর ঘূর্ণন কমতে থাকে। এমনকি আসরের সময় একেবারেই কমে যায়। এ সময় রাতের অনুভূতি প্রবল হতে থাকে। প্রকৃতির মধ্যে স্থবিরতা এবং অবসাদগ্রস্ততা প্রদর্শিত হতে থাকে। আসরের নামাজের সময় অবচেতন অনুভূতির শুরু হয়। এ সময় নামাজ আদায় করলে অতিরিক্ত অবসাদগ্রস্ততা, অবচেতন অনুভূতির আক্রমণ থেকে বাঁচা যায়। মানসিক চাপ ও অস্থিরতা কমে। নূরানি রশ্মি নামাজিকে প্রশান্তি দান করে।

মাগরিবের সময় ও চিকিৎসা বিজ্ঞান

সারাদিন মানুষ জীবিকার জন্য শ্রম ও কষ্টের মধ্যে কাটায়। মাগরিবের সময় ওজু করে নামাজ আদায়ের ফলে আত্মিক ও দৈহিক প্রশান্তি লাভ হয়। এ সময় নামাজ আদায়ে পরিবারের বাচ্চারাও অংশ গ্রহণ করতে পারে। এতে বাচ্চারা অনুগত, পুণ্যশীল হয়। এ সময় পরিবারের মধ্যে আনন্দের রেশ বয়ে যায়।

এশার সময় ও চিকিৎসা বিজ্ঞান

মানুষ কাজ শেষ করে বাসায় ফিরে রাতে খাবার খায়। এ সময় খেয়ে শুয়ে পড়লে বিভিন্ন রোগ হতে পারে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, অল্প ব্যায়াম করে বিছানায় গেলে কোনো সমস্যা হবে না। এশার নামাজ ব্যায়ামের চেয়েও বেশি উপযোগী। এ নামাজ আদায়ে শান্তি পাওয়া যায়, খাদ্য হজম হয় এবং অস্থিরতা দূর হয়।

তাহাজ্জুদের সময় ও চিকিৎসা বিজ্ঞান

এ সময়ে নামাজ আদায় করা অস্বস্তি, নিদ্রাহীনতা, হার্ট, স্নায়ুর সংকোচন ও বন্ধন এবং মাথার বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা। ডা. মাহমুদ চুগতাই বলেন, যারা দূরের জিনিস দেখে না এ সময়ে নামাজ আদায় করা তাদের চিকিৎসা। এছাড়াও এ সময়ে নামাজ আদায় করলে বুদ্ধি, আনন্দ এবং অসাধারণ শক্তির সৃষ্টি হয় যা নামাজিকে সারাদিন উৎফুল্ল রাখে।

যে আমলে পাপী ব্যক্তির শেষ পরিণতিও ভালো হয়

আল্লাহ তাআলার গুণবাচক নামের রয়েছে অসংখ্য ফজিলতপূর্ণ আমল। এসব আমল যথাযথ পালন করলে দুনিয়া ও পরকালের অনেক উপকার ও ফজিলত অর্জিত হয়।

হাদিসে পাকে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলার ৯৯টি গুণবাচক নাম আছে। যে ব্যক্তি এ গুণবাচক নামগুলোর জিকির করবে; সে জান্নাতে যাবে।’

আল্লাহ তাআলার গুণবাচক নাম সমূহের মধ্যে (اَلْاَخِرُ) ‘আল-আখিরু’ একটি। এ গুণবাচক নামের তাসবিহ বা আমল একজন পাপী ব্যক্তিকে ভালো পরিণতির দিকে ধাবিত করে।

আল্লাহর গুণবাচক নাম (اَلْاَخِرُ) ‘আল-আখিরু’-এর জিকিরের আমল ও ফজিলত তুলে ধরা হলো-
Amal-Topউচ্চারণ : ‘আল-আখিরু’
অর্থ : ‘সব কিছুর শেষেও যিনি থাকবেন।’

আল্লাহর ‍গুণবাচক নাম (اَلْاَوَّلُ)-এর আমল

ফজিলত
>> যে ব্যক্তি পাপ-করতে করতে জীবনের শেষ বয়সে এসে উপনীত হয়েছে সে যেন আল্লাহ তাআলার গুণবাচক নাম (اَلْاَخِرُ) ‘আল-আখিরু’-এর তাসবিহ সর্বক্ষণ পড়তে থাকে; আল্লাহর ইচ্ছায় ওই ব্যক্তির শেষ পরিণতি ভালোই হবে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সবাইকে এ ছোট্ট আমলটি করার মাধ্যমে জীবন সায়াহ্নে ভালো পরিণতি লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

হযরত শাহজালাল (র:) এর বাস্তবে ঘটে যাওয়া অলৌকিক কিছু ঘটনা!

নবী-রাসূল কিংবা অলী-আউলিয়াগণ প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে মাঝে মাঝে এমন কিছু ঘটনার অবতারণা করেছেন, স্বাভাবিক দৃষ্টিকোণ থেকে যেসব ঘটনা একদমই অলৌকিক। নবী-রাসূলগণ যখন এ ধরনের ঘটনার অবতারণা করেন, তখন তাকে বলে মুজিযা। একইরকম ঘটনার অবতারণা যখন কোনো অলী-আউলিয়া করেন, তখন তাকে বলে কারামত। সিলেটের হযরত শাহজালাল (র:) সম্পর্কেও বেশ কিছু অলৌকিক ঘটনা প্রচলিত আছে। সেসব ঘটনা মানুষের মুখে মুখে ফেরে। এগুলোর মাঝে কিছু কিছু গ্রন্থিত হয়ে বই আকারে প্রকাশও হয়েছে।

লোকমুখে প্রচলিত ঘটনাগুলো মানুষভেদে অল্পস্বল্প এদিক সেদিক হয়ে যায়। সেজন্য লোকমুখে প্রচলিত কারামতগুলোকে পাশ কাটিয়ে বইয়ে গ্রন্থিত কিছু ঘটনার আলোকপাত করা হবে এ লেখায়। অনেকগুলো ঘটনার মাঝে কয়েকটি উল্লেখ করা হলো, ধীরে ধীরে বাকিগুলোও উল্লেখ করা হবে।

বিষ যেভাবে শরবত হয়ে গেলো…

হযরত শাহজালাল (র:)-এর জন্মস্থান ইয়েমেন। জন্মস্থান ছেড়ে ভারতবর্ষ অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করছেন এমন সময়ে জন্মভূমির কাছে যাবার খুব ইচ্ছে হলো। সেখানে গেলে বাবা-মায়ের কবরও জিয়ারত করতে পারবেন। উল্লেখ্য, হযরত শাহজালালের (র:) জন্মের আগেই তার পিতা মারা যান এবং জন্মের কয়েক মাসের মাথায় তার মাতাও মারা যান। জন্মভূমিতে যাবার লক্ষ্যে ১২ জন সাথী নিয়ে ইয়েমেনের দিকে রওনা হন তিনি। সে সময় ইয়েমেনের বাদশাহ ছিলেন সুলতান ওমর আশরাফ। ততদিনে হযরত শাহজালাল (র:)-এর জ্ঞান-গরিমা, আধ্যাত্মিকতা ও অলৌকিকতার খবর সারা বিশ্ব বিদিত। ইয়েমেনের বাদশাহও তার ব্যাপারে শুনেছিলেন।

যখন শুনলেন হযরত শাহজালাল (র:) ইয়েমেনে আসছেন তখন তার ইচ্ছে হলো হযরত শাহজালাল (র:)-এর আধ্যাত্মিকতার গভীরতা কতটুকু তা একটু পরীক্ষা করে দেখবেন। সে উদ্দেশ্যে তিনি হযরত শাহজালাল (র:) এবং তার সাথীদেরকে রাজদরবারের মেহমান হিসেবে আমন্ত্রণ করেন। তারা উপস্থিত হলে তাদেরকে শরবত পরিবেশন করা হয়। হযরত শাহজালাল (র:)-কে পরীক্ষা করার জন্য তিনি শরবতের মাঝে বিষ মিশিয়ে রেখেছিলেন।

কিন্তু দেখা গেলো, তার দেয়া শরবত পান করেছেন হযরত শাহজালাল (র:) এবং তার সাথীরা। কিন্তু বিষ পান করার পরেও তাদের কিছু হয়নি, সকলেই সুস্থ। কিন্তু অন্যদিকে স্বয়ং বাদশাহ সাধারণ শরবত খেয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন! প্রচলিত তথ্য অনুসারে, হযরত শাহজালাল (র:) তার আধ্যাত্মিকতার বলে শরবতের বিষের ব্যাপারে জানতে পেরেছিলেন। কিন্তু তারপরেও তিনি শরবত খেয়েছিলেন। তার ভরসা ছিল আল্লাহর উপর। তিনি ভাবলেন, আল্লাহ সবকিছুই পারেন, আমাদের হায়াত থাকলে আল্লাহ চাইলে এই বিষকে নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারেন। অন্যদিকে তিনি চাইলে সাধারণ পানীয়কেও বিষ করে দিতে পারেন।

ইসলামের নিয়ম অনুসারে, খাবারের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলতে হয় এবং এই বাক্যের অনেক অলৌকিক গুণ আছে। তারা সকলে বিসমিল্লাহ বলে সেই শরবত পান করলেন এবং সকলেই নিরাপদ রইলেন। উপরন্তু বিষহীন সাধারণ শরবত পান করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন বাদশাহ। খোদার লীলাখেলা বোঝা বড়ই কঠিন। বিষ হয়ে যায় শরবত আর শরবত হয়ে যায় বিষ। এ ঘটনা দেখে ভীত হয়ে বাদশাহর পুত্র সিংহাসন ছেড়ে দিয়ে হযরত শাহজালাল (র:)-এর সাথে সাথী হয়ে চলে আসেন।

দরগাহের পুকুরের সাথে যমযম কূপের সংযোগ…

সিলেট নগরটি গড়ে উঠেছে সুরমা নদীকে কেন্দ্র করে। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে এ নদীর পানি বেশিরভাগ সময়ই ঘোলা থাকে। যারা সিলেটের সুরমা নদীর কাছে গিয়েছেন, তারা দেখে থাকবেন এর পানি কেমন হলদেটে। পাহাড়ি হলদেটে মাটির কণা এর মাঝে ভাসমান থাকে বলে এটি ঘোলা থাকে। নদীর ধারায় যখন স্রোত থাকে তখন পানির কণা তার সাথে করে কিছু মাটির কণাকেও নিয়ে যেতে পারে। পানি যখন স্থির হয়ে যায় তখন পানির কণার পক্ষে পলির কণা বহন করা সম্ভব হয় না, ফলে পলির কণা নীচের পড়ে যায়। সুরমা নদীতে বেশিরভাগ সময়ই স্রোত বিদ্যমান থাকে।

তখনকার সময় খাবার পানি এখনকার মতো সহজলভ্য ছিল না। এখন নলকূপ আছে, ফিল্টারকরণ পদ্ধতি আছে, তখন এসবের কিছুই ছিল না। সরাসরি নদী থেকেই পানি পান করতে হতো মানুষদেরকে। সিলেট অঞ্চলে পানির অন্যতম উৎস এই সুরমা নদী। কিন্তু এর পানি ঘোলা। পানি ঘোলা মানে এটি দূষিত, এখানের পানি পান করলে মানুষ অসুস্থ হয়ে যাবে। তাই অফুরন্ত একটি উৎস থাকা সত্ত্বেও মানুষ এর পানি পান করতে পারছে না। পানযোগ্য পানির পিপাসায় দিন পার করছে। এমন পরিস্থিতিতে এলাকাবাসী সকলে গেলো সে অঞ্চলের সেরা বুজুর্গ ব্যক্তি হযরত শাহজালাল (র:)-এর কাছে। তিনি সব শুনে আল্লাহর কাছে মোনাজাত করলেন যেন সিলেটবাসীর পানির কষ্ট দূর হয়ে যায়। শুধু দূরই নয়, সবচেয়ে সেরা মানের পানি যেন তারা পায় এ দোয়াও করলেন। তিনি আল্লাহর কাছে চাইলেন মক্কার যমযম কূপের সাথে যেন সিলেটের পানির সংযোগ হয়ে যায়। ফলে সিলেটের মানুষ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পানীয় পান করার সুযোগ পাবে।

কোরআন হাদিসের আলোকে গর্ভবতী নারীদের ওপর চন্দ্রগ্রহণের প্রভাব

আবদুর রহমান। পেশায় নির্মাণ শ্রমিক। সদ্যবিবাহিত ২৫ বছর বয়সী যুবকটি কাজের ফাঁকে নাশতা করার জন্য একটি দোকানে এলেন। এক টুকরা কেক আর একটি কলা খাবেন। একটি জোড়া কলা নিতে গেলে পাশে বসা একজন বৃদ্ধ বলে উঠলেন, ‘না! জোড়া কলা খাবেন না।

খেলে যমজ সন্তান হবে। ’ ‘জোড়া কলা খেলে যমজ সন্তান হবে’—এমন অনেক বিশ্বাস সমাজে প্রচলিত। এগুলোর একটি হলো চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণের সময় গর্ভবতী মা যদি কিছু কাটাকাটি করেন, তাহলে গর্ভস্থ সন্তান কান কাটা বা ঠোঁট কাটা অবস্থায় জন্ম নেয়।

এ সময় গর্ভবতী নারীদের ঘুম বা পানাহার থেকে বারণ করা হয়। আসলে কোরআন ও হাদিসে এ ধরনের বিশ্বাসের অস্তিত্ব কতটুকু? প্রতিনিয়ত মহান আল্লাহ তাআলার অস্তিত্বের জানান দিতে থাকা সৃষ্টিগুলোর বড় দুটি হলো সূর্য ও চন্দ্র। চাঁদের আলোর উৎস হলো সূর্য।

১৩ লাখ ৯৪ হাজার কিলোমিটার ব্যাসের এ নক্ষত্রের সঙ্গে পৃথিবী ও জীবজগতের সম্পর্ক সুনিবিড়। সূর্যের তাপে মহান আল্লাহ সতেজ আর সজীব রেখেছেন পৃথিবীর সব কিছু। উদ্ভিদ এই সূর্যালোক থেকে খাদ্য গ্রহণ করে। যদি পৃথিবীতে সূর্যের তাপ ও আলো না আসত, তাহলে বিপন্ন হতো প্রাণিকুলের জীবন। পুরো পৃথিবী পরিণত হতো একখণ্ড বরফে। অন্যদিকে সূর্য যদি তার ভেতরকার সব তাপ পৃথিবীর ওপর উগড়ে দিত, তাহলেও পৃথিবী পরিণত হতো শ্মশানে।

কোরআন হাদিসের আলোকে গর্ভবতী নারীদের ওপর চন্দ্রগ্রহণের প্রভাব : – পবিত্র কোরআনে গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পেয়েছে সূর্য ও চন্দ্র প্রসঙ্গ। আমরা বাংলায় সূর্যালোক অথবা চন্দ্রালোক বলি। ইংরেজিতে বলি Sunlight এবং Moonlight। কিন্তু পবিত্র কোরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘তিনিই সত্তা, যিনি সূর্যকে কিরণোজ্জ্বল ও চাঁদকে স্নিগ্ধ আলোয় আলোকিত করেছেন। ’ (সুরা ইউনুস : ৫) অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, ‘আর আমি সৃষ্টি করেছি একটি প্রজ্বলিত বাতি। ’

(সুরা নাবা : ১৩) সূর্যের আলোচনায় কোরআনুল কারিমে সব জায়গায়ই ‘প্রজ্বলিত বাতি’, ‘তেজোদীপ্ত’, ‘উজ্জ্বল জ্যোতি’, ‘চমক/ঝলক’, ‘শিখা’ বলা হয়েছে। যার অর্থ সূর্য নিজে দহনক্রিয়ার মাধ্যমে প্রচণ্ড তাপ ও আলো উৎপন্ন করে; পক্ষান্তরে চাঁদের আলোচনায় বলা হয়েছে, ‘স্নিগ্ধ আলো’। বিজ্ঞানও গবেষণা করে ঠিক তা-ই বলেছে।

বিজ্ঞান বলছে, সূর্য তার কেন্দ্রভাগে নিউক্লীয় সংযোজন বিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে ৬২ কোটি মেট্রিক টন হাইড্রোজেন পুড়িয়ে হিলিয়াম উৎপাদন করে। সূর্যপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ৫৭৭৮ কেলভিন বা ৫৫০৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ বিজ্ঞানের বক্তব্যেও সূর্যই তাপশক্তির ও আলোর প্রধান উৎস।

পক্ষান্তরে চাঁদের ব্যাপারে বিজ্ঞানের বক্তব্য হলো, চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নেই। সূর্যের প্রতিফলিত আলোই তার সম্বল। পবিত্র কোরআন আরো স্পষ্ট করে বলছে, ‘আল্লাহ চাঁদকে স্থাপন করেছেন আলোরূপে, আর সূর্যকে স্থাপন করেছেন প্রদীপরূপে। ’ (সুরা নুহ : ১৬)

চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণ হলো আল্লাহ তাআলা কর্তৃক নির্ধারিত একটি প্রক্রিয়া। চাঁদ যখন পরিভ্রমণ অবস্থায় কিছুক্ষণের জন্য পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে পড়ে, তখন পৃথিবীর কোনো দর্শকের কাছে কিছু সময়ের জন্য সূর্য আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে অদৃশ্য হয়ে যায়। এটাই সূর্যগ্রহণ (Solar eclipse) বা কুসুফ। আর পৃথিবী যখন তার পরিভ্রমণ অবস্থায় চাঁদ ও সূর্যের মাঝখানে এসে পড়ে, তখনই পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে চাঁদ কিছুক্ষণের জন্য অদৃশ্য হয়ে যায়। এটাই চন্দ্রগ্রহণ (Lunar eclipse) বা খুসুফ।

সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণ নিয়ে আমাদের সমাজে অনেক কুসংস্কার আছে। ওই সময় খেতে নেই, তৈরি করা খাবার ফেলে দিতে হবে, গর্ভবতী মায়েরা এ সময় যা করেন, তার প্রভাব সন্তানের ওপর পড়ে, চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণের সময় যদি গর্ভবতী নারী কিছু কাটাকাটি করেন, তাহলে গর্ভস্থ সন্তানের ক্ষতি হয়—এটি ভুল বিশ্বাস। এ সময় কোনো নারীকে ঘুম বা পানাহার থেকে বারণ করাও অন্যায়।

ইসলামী শরিয়াহ ও বাস্তবতার সঙ্গে এগুলোর কোনো মিল নেই। জাহেলি যুগেও এ ধরনের কিছু ধারণা ছিল। সেকালে মানুষ ধারণা করত যে চন্দ্রগ্রহণ কিংবা সূর্যগ্রহণ হলে অচিরেই দুর্যোগ বা দুর্ভিক্ষ হবে। চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণ পৃথিবীতে কোনো মহাপুরুষের জন্ম বা মৃত্যুর বার্তাও বহন করে বলে তারা মনে করত।

বিশ্বমানবতার পরম বন্ধু, মহান সংস্কারক, প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সেগুলোকে ভ্রান্ত ধারণা হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রত্যাখ্যান করেছেন। মুগিরা ইবনু শুবা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পুত্র ইবরাহিমের ইন্তিকালের দিনটিতেই সূর্যগ্রহণ হলে আমরা বলাবলি করছিলাম যে নবীপুত্রের মৃত্যুর কারণেই সূর্যগ্রহণ হয়েছে। এসব কথা শুনে নবীজি (সা.) বললেন, ‘সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহ তাআলার অগণিত নিদর্শনের দুটি। কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে চন্দ্রগ্রহণ বা সূর্যগ্রহণ হয় না। ’

(সহিহ বুখারি : ১০৪৩) চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণকে আল্লাহ তাআলার কুদরত হিসেবে অভিহিত করে অন্য হদিসে নবীজি (সা.) সাহাবিদের চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণের সময় নামাজ আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কোনো লোকের মৃত্যুর কারণে কখনো সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। তবে তা আল্লাহ তাআলার নিদর্শনগুলোর দুটি। তোমরা সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হতে দেখলে নামাজে দাঁড়িয়ে যাবে। (সহিহ বুখারি : ৯৮৪)

নবীজি (সা.)-এর হাদিসগুলো থেকে এটিই প্রতীয়মান হয় যে চন্দ্রগ্রহণ বা সূর্যগ্রহণের কোনো প্রভাব সৃষ্টির ওপর পড়ে না। সমাজে প্রচলিত বিশ্বাসগুলো নিছকই কুসংস্কার।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, যদি এর নেতিবাচক কোনো প্রভাব সৃষ্টির ওপর না-ই পড়বে, তাহলে কেন নবীজি (সা.) এ সময় নামাজে দাঁড়িয়ে আল্লাহ তাআলার সাহায্য চাইতে বলেছেন? শুধু নামাজে দাঁড়াতেই বলেননি, বরং চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণে তিনি কিয়ামতের মহাপ্রলয়ের আশঙ্কাও করেছেন। হজরত আবু মুসা (রা.) বলেন, নবীজি (সা.)-এর সময় সূর্যগ্রহণ হলে তিনি এ আশঙ্কায় করলেন যে কিয়ামতের মহাপ্রলয় বুঝি সংঘটিত হবে। তিনি (তাড়াতাড়ি) মসজিদে এলেন।

অত্যন্ত দীর্ঘ কিয়াম, দীর্ঘ রুকু, সিজদাসহ নামাজ আদায় করলেন। (বর্ণনাকারী বলেন) আমি নবীজি (সা.)-কে এমন করতে আগে আর কখনো দেখিনি। অতঃপর তিনি বললেন, ‘আল্লাহর প্রেরিত এসব নিদর্শন কারো মৃত্যু বা জন্মের (ক্ষতি করার) জন্য হয় না। যখন তোমরা তা দেখবে, তখনই আতঙ্কিত হৃদয়ে আল্লাহ তাআলার জিকির ও ইস্তিগফারে মশগুল হবে। ’ (সহিহ মুসলিম : ১৯৮৯) অন্য হাদিসে চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণকে আল্লাহর পক্ষ থেকে ভীতি প্রদর্শন হিসেবে উল্লেখ করে তা থেকে দ্রুত উদ্ধারে সদকা করার কথা বলেছেন।

নবীজি (সা.) তাঁর উম্মতকে চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণে আতঙ্কিত হয়ে তা থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য নামাজের নির্দেশ দিয়েছেন। আধুনিক বিজ্ঞানও বলছে যে সত্যি চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণ পৃথিবীর জন্য আতঙ্কের বিষয়। সৌরজগতে মঙ্গল ও বৃহস্পতির কক্ষপথের মধ্যবলয়ে অ্যাস্টেরয়েড (Asteroid), মিটিওরাইট (Meteorite), উল্কাপিণ্ড প্রভৃতি পাথরের এক সুবিশাল বেল্ট আছে বলে বিজ্ঞানীরা ১৮০১ সালে আবিষ্কার করেন। এ বেল্টে ঝুলন্ত একেকটা পাথরের ব্যাস ১২০ থেকে ৪৫০ মাইল।

গ্রহাণুপুঞ্জের এ পাথরখণ্ডগুলো পরস্পর সংঘর্ষের ফলে অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পাথরখণ্ড প্রতিনিয়ত পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসে। কিন্তু সেগুলো বায়ুমণ্ডলে এসে জ্বলে-পুড়ে ভস্ম হয়ে যায়। কিন্তু গ্রহাণুপুঞ্জের বৃহদাকারের পাথরগুলো যদি পৃথিবীতে আঘাত করে, তাহলে ভয়াবহ হুমকির সম্মুখীন হবে পৃথিবী।

বিজ্ঞানীরা বলেন, সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণের সময় সূর্য, চন্দ্র ও পৃথিবী একই সমান্তরালে, একই অক্ষ বরাবর থাকে বলে এ সময়ই গ্রহাণুপুঞ্জের ঝুলন্ত বড় পাথরগুলো পৃথিবীতে আঘাত হানার আশঙ্কা বেশি। বৃহদাকারের পাথর পৃথিবীর দিকে ছুটে এলে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের পক্ষে তা প্রতিহত করা অসম্ভব। ধ্বংসই হবে পৃথিবীর পরিণতি।

তাই তো মহাবিজ্ঞানী আল্লাহ তাআলার প্রিয়তম হাবিব মুহাম্মদ (সা.) এ সময় আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়েছেন। আমাদের উচিত কুসংস্কারগুলো পরিহার করে সুন্নত অনুযায়ী চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণের সময় এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা চাওয়া।

লেখক : জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কারি ও খতিব, বাইতুশ শফীক মসজিদ, বোর্ড বাজার, গাজীপুর।

আজ রাতেই সেই বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য

পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ, সুপার মুন ও ব্লু-মুন একসঙ্গে চাঁদের এতগুলো রূপ দেখা যাবে আজ রাতে। আর এ কারণে আজ রাতটা হবে অন্যরকম।

আজ রাতের এ বিরল দৃশ্যকে বলা হচ্ছে সুপার ব্লু ব্লাড মুন। বিশ্বের নানা দেশের মানুষ প্রতীক্ষা করছে এক বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগের জন্য। এক অপার্থিব অভিজ্ঞতার সাক্ষী হবে গোটা বিশ্ব। দেখা যাবে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ, সুপার মুন ও ব্লু-মুন। অবলোকন করা যাবে রক্তিম চাঁদ। শেষবার এমনটা ঘটেছিল ১৫২ বছর আগে।

ব্লাড মুন, ব্লু মুন, সুপারমুন
‘তারপর তুমি এলে, মাঠের শিয়রে-চাঁদ;…একদিন হয়েছে যা—তারপর হাতছাড়া হ’য়ে হারায়ে ফুরায়ে গেছে—আজো তুমি তার স্বাদ ল’য়ে আর-একবার তবু দাঁড়ায়েছো এসে!’ বলেছিলেন জীবনানন্দ দাশ ‘কার্তিক মাঠের চাঁদ’কে উদ্দেশ করে। কবিতার এই চাঁদের মতোই দেড় শ বছর আগে ‘হারিয়ে’ যাওয়া এক চাঁদ আগামীকাল আমাদের জানালায় দাঁড়াবে, মাঘী পূর্ণিমার রাতে। এর নাম ‘সুপার ব্লু ব্লাড মুন’। ‘তিন’ রকমের চাঁদ—ব্লাড মুন, ব্লু মুন, সুপারমুন নিয়ে গ্রহণ বলেই এমন নাম। বাংলাদেশ থেকেও সন্ধ্যায় পূর্ব দিগন্তে দেখা যাবে এই রক্তলাল চাঁদ।

বিভিন্ন সংগঠন টেলিস্কোপে এই চাঁদ দেখানোর জন্য নিয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। আগারগাঁও, উত্তরা, পূর্বাচল, কুয়াকাটাসহ নানা জায়গায় তারা স্থাপন করছে পর্যবেক্ষণ ক্যাম্প। সর্বশেষ ১৫২ বছর আগে ১৮৬৬ সালে এমন বিরল দৃশ্য দেখা গিয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেহেতু সুপারমুনে গ্রহণ হচ্ছে, তার লাল রং দেখাবে বেশি উজ্জ্বল। এই ‘ব্লাড মুন’কে অনেকে তাম্রচাঁদও বলছে। কারণ আকাশ পরিষ্কার থাকা সাপেক্ষে চাঁদের রং উজ্জ্বল লাল থেকে তামাটে রং হতে পারে।

যে পূর্ণ চাঁদ পৃথিবীর খুব কাছে চলে আসে তাকে বলে সুপারমুন। নাসার হিসাবে, সাধারণ পূর্ণিমার চাঁদ যত বড় হয় তার চেয়ে ৭ শতাংশ বেশি বড় দেখায় সুপারমুনকে, পৃথিবীর কাছে চলে আসে বলে। ফলে এই চাঁদ জোছনা দেয় ৩০ শতাংশ বেশি। সুপারমুনের সঙ্গে চন্দ্রগ্রহণ বেশি দুর্লভ নয়। যে কারণে এবার ‘সুপার ব্লু ব্লাড মুন’-এর ফিরে আসায় দেড় শতাধিক বছর লেগেছে সেটা হচ্ছে ‘ব্লু মুন’। নীল চাঁদ গুণেমানে সাধারণ চাঁদই। হঠাৎ এক মাসে দ্বিতীয়বার পূর্ণিমা হলে সেই চাঁদকে বলে ‘নীল চাঁদ’। মাসের দ্বিতীয় চাঁদটি সুপারমুন হওয়া, আবার সেই সুপারমুনে গ্রহণ লাগা সৌরঅঙ্কে সহজ নয়! এ কারণেই ‘সুপার ব্লু ব্লাড মুন’ ফিরে আসতে দেড় শ বছর নিয়েছে।

রাতের আকাশ পরিষ্কার থাকলে গ্রহণকালে চন্দ্র নিতে পারে আগুন-লাল চেহারা। ছবি : নাসা

কখন দেখা যাবে :

ঢাকার সময় বুধবার বিকেল ৫টা ৪৮ মিনিটে আংশিক চন্দ্রগ্রহণ শুরু হবে। দিগন্তের কাছে চাঁদ লাল বর্ণ ধারণ করবে। তাই শুধু বিস্তৃত উন্মুক্ত স্থান থেকেই দেখা যাবে। ৬টা ৫১ মিনিটে পূর্ণ গ্রহণ শুরু হবে, চাঁদও উজ্জ্বল লাল দেখাবে। ৭টা ২৯ মিনিটে চাঁদের পূর্ণগ্রাস হয়ে যাবে। পৃথিবীর পুরো ছায়ায় ঢেকে গেছে চাঁদ। ৮টা ৭ মিনিটে পূর্ণ গ্রহণ সমাপ্ত হবে। ৯টা ১১ মিনিটে আংশিক গ্রহণ শেষ হবে। ১০টা ৮ মিনিটে চাঁদের পাশের উপচ্ছায়াও সরে যাবে।

টেলিস্কোপে দেখুন :

আকাশ কুয়াশামুক্ত থাকলে ছাদ বা মাঠ থেকে এ গ্রহণ দেখা যাবে, চন্দ্রগ্রহণ খালি চোখে দেখায় কোনো ঝুঁকিও নেই। তবে যারা টেলিস্কোপে আরো ভালো করে দেখতে চায় তাদের জন্য রয়েছে অনেক উদ্যোগ। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে তাদের মানমন্দিরে এবং কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে পৃথক ক্যাম্প খুলছে। বিজ্ঞান সংগঠন অনুসন্ধিত্সু চক্র রাজধানীর মাণ্ডায় গ্রিন মডেল টাউনে পর্যবেক্ষণকেন্দ্র খুলবে। এই ক্যাম্প থেকে ছবি ও বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে। রাজশাহী, বরিশাল, পঞ্চগড় ও ঝিনাইদহ জেলায়ও তারা ক্যাম্পের ব্যবস্থা করছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রনমিক্যাল সোসাইটি রাজধানীর অদূরে পূর্বাচলের স্বর্ণালি আবাসিক এলাকার ল্যাবএইডের প্রজেক্ট মাঠে পর্যবেক্ষণের আয়োজন করছে।

এদিকে উত্তরার দিয়াবাড়ীর ফ্যান্টাসি আইল্যান্ডে ক্যাম্পের আয়োজন করছে আজাদ টেকনোলজি নামের একটি প্রতিষ্ঠান। সহযোগী হিসেবে থাকছে ইকোট্যুরিজম নেচার স্টাডি অ্যান্ড অ্যাডভেঞ্চার ক্লাব। আজাদ টেকনোলজির মূল কর্ণধার শাফায়াত আজাদ গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, তাঁরা বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে ১০টা ৮ মিনিট পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ ক্যাম্পটি পরিচালনা করবেন। দর্শনার্থীদের জন্য ছয় ইঞ্চি এবং তিন ইঞ্চি ডায়ামিটারের দুটি টেলিস্কোপ থাকবে। এ ছাড়া অনেকে টেলিস্কোপ নিয়ে আসবে একসঙ্গে দেখতে। আজাদ জানান, দিয়াবাড়ী পার্কটি সন্ধ্যা ৬টা থেকে খুলে দেওয়া হবে দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে। টিকিট ছাড়া ঢোকা যাবে। শিশুদের দেখার স্বার্থে কিছু রাইডও সচল রাখবে পার্ক কর্তৃপক্ষ। টিকিট কেটে দেখা যাবে।

কাল সুপার ব্লু ব্লাড মুন নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার দিক থেকে শুরু হয়ে এশিয়া ছাড়িয়ে উত্তর আমেরিকার পশ্চিমাঞ্চল থেকেও কমবেশি দেখা যাবে।

সৌরবর্ষপঞ্জিতে ১২ চান্দ্রমাস থাকে। মাস গড়ে ২৯.৫ দিনের হয়। চান্দ্রমাস কেবল ২৯ বা ৩০ দিনে হয়ে থাকে বলে প্রতিবছরই গড়ে ১১ দিনের মতো কম হয়ে থাকে। গড়ে প্রতি ২ দশমিক ৭ বছর সৌরবর্ষপঞ্জিতে এক মাসে দুটি পূর্ণিমা এবং প্রতি ১৯ বছরে সাতবার দেখা পাওয়া যায় ব্লু মুনের। সাধারণত ১৯ বছর পর বছরে দুইবার ব্লু মুনের দেখা পাওয়া যায়। এর আগে ১৯৯৯ সালের জানুয়ারি ও মার্চ মাসে ব্লু মুনের সাক্ষাৎ মিলেছিল। আগামীকাল ৩১ জানুয়ারি পূর্ণিমা পড়ছে এবং ফেব্রুয়ারি মাস ২৮ দিন যাবে বলে শেষ হবে পূর্ণচন্দ্র ছাড়াই। ফলে আগামী মার্চ মাসেও দুইবার পূর্ণিমা দেখা যাবে, পাওয়া যাবে একটি ব্লু মুন। এরপর একই বছরে দুইবার ব্লু মুন দেখা যাবে ২০৩৭ সালে।

http://www.kalerkantho.com

ড. আতিউর রহমান | রাখাল বালক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর

ড. আতিউর রহমান। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্ণর। বাংলাদেশের রত্ন। ক্ষমতাধর একজন ব্যক্তিত্ব। এতবড় হতে তার কতটা কষ্ট হয়েছে তা তার জীবনী না জানলে বুঝা যেত না। তিনি যেন আরেকবার প্রমাণ করে দেখালেন, বড় হতে ধন নয়, লোকবলও নয়, বরং দরকার চেষ্টা-সাধনা আর একটা সুন্দর স্বপ্ন। তিনি তাঁর স্বপ্নের পথ ধরে হাঁটতে অজকের এই সফলতার শিখরে পৌঁছেছেন।
ছোট বেলায় তিনি ছিলেন একজন রাখাল বালক। দিয়েছেন পান-বিড়ির দোকান । পড়া-শোনার ব্যায়ভার বহন করতে তাকে অনেক বেগ পোহাতে হয়েছে। সে যায়গা থেকে সাধনার ফসল কেটে তিনি হয়েছেন বাংলাদেম ব্যাংকের গভর্ণর। আসুন, তার মুখেই তার আত্মজীবনী শুনি।

ড. আতিউর রহমান_________________________

আমার জন্ম জামালপুর জেলার এক অজপাড়াগাঁয়ে। ১৪ কিলোমিটার দূরের শহরে যেতে হতো হেঁটে বা সাইকেলে চড়ে। পুরো গ্রামের মধ্যে একমাত্র মেট্রিক পাস ছিলেন আমার চাচা মফিজউদ্দিন। আমার বাবা একজন অতি দরিদ্র ভূমিহীন কৃষক। আমরা পাঁচ ভাই, তিন বোন। কোনরকমে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটতো আমাদের।

আমার দাদার আর্থিক অবস্থা ছিলো মোটামুটি। কিন্তু তিনি আমার বাবাকে তার বাড়িতে ঠাঁই দেননি। দাদার বাড়ি থেকে খানিকটা দূরে একটা ছনের ঘরে আমরা এতগুলো ভাই-বোন আর বাবা-মা থাকতাম। মা তার বাবার বাড়ি থেকে নানার সম্পত্তির সামান্য অংশ পেয়েছিলেন। তাতে তিন বিঘা জমি কেনা হয়। চাষাবাদের জন্য অনুপযুক্ত ওই জমিতে বহু কষ্টে বাবা যা ফলাতেন, তাতে বছরে ৫/৬ মাসের খাবার জুটতো। দারিদ্র্য কী জিনিস, তা আমি মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেছি- খাবার নেই, পরনের কাপড় নেই; কী এক অবস্থা !

আমার মা সামান্য লেখাপড়া জানতেন। তার কাছেই আমার পড়াশোনার হাতেখড়ি। তারপর বাড়ির পাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হই। কিন্তু আমার পরিবারে এতটাই অভাব যে, আমি যখন তৃতীয় শ্রেণীতে উঠলাম, তখন আর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকলো না। বড় ভাই আরো আগে স্কুল ছেড়ে কাজে ঢুকেছেন। আমাকেও লেখাপড়া ছেড়ে রোজগারের পথে নামতে হলো।

আমাদের একটা গাভী আর কয়েকটা খাসি ছিল। আমি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওগুলো মাঠে চরাতাম। বিকেল বেলা গাভীর দুধ নিয়ে বাজারে গিয়ে বিক্রি করতাম। এভাবে দুই ভাই মিলে যা আয় করতাম, তাতে কোনরকমে দিন কাটছিল। কিছুদিন চলার পর দুধ বিক্রির আয় থেকে সঞ্চিত আট টাকা দিয়ে আমি পান-বিড়ির দোকান দেই। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দোকানে বসতাম। পড়াশোনা তো বন্ধই, আদৌ করবো- সেই স্বপ্নও ছিল না !

এক বিকেলে বড় ভাই বললেন, আজ স্কুল মাঠে নাটক হবে। স্পষ্ট মনে আছে, তখন আমার গায়ে দেওয়ার মতো কোন জামা নেই। খালি গা আর লুঙ্গি পরে আমি ভাইয়ের সঙ্গে নাটক দেখতে চলেছি। স্কুলে পৌঁছে আমি তো বিস্ময়ে হতবাক! চারদিকে এত আনন্দময় চমৎকার পরিবেশ! আমার মনে হলো, আমিও তো আর সবার মতোই হতে পারতাম। সিদ্ধান্ত নিলাম, আমাকে আবার স্কুলে ফিরে আসতে হবে। নাটক দেখে বাড়ি ফেরার পথে বড় ভাইকে বললাম, আমি কি আবার স্কুলে ফিরে আসতে পারি না ? আমার বলার ভঙ্গি বা করুণ চাহনি দেখেই হোক কিংবা অন্য কোন কারণেই হোক কথাটা ভাইয়ের মনে ধরলো। তিনি বললেন, ঠিক আছে কাল হেডস্যারের সঙ্গে আলাপ করবো।

পরদিন দুই ভাই আবার স্কুলে গেলাম। বড় ভাই আমাকে হেডস্যারের রুমের বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে ভিতরে গেলেন। আমি বাইরে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট শুনছি, ভাই বলছেন আমাকে যেন বার্ষিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগটুকু দেওয়া হয়। কিন্তু হেডস্যার অবজ্ঞার ভঙ্গিতে বললেন, সবাইকে দিয়ে কি লেখাপড়া হয়! স্যারের কথা শুনে আমার মাথা নিচু হয়ে গেল। যতখানি আশা নিয়ে স্কুলে গিয়েছিলাম, স্যারের এক কথাতেই সব ধুলিস্মাৎ হয়ে গেল। তবু বড় ভাই অনেক পীড়াপীড়ি করে আমার পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি যোগাড় করলেন।

পরীক্ষার তখন আর মাত্র তিন মাস বাকি। বাড়ি ফিরে মাকে বললাম, আমাকে তিন মাসের ছুটি দিতে হবে। আমি আর এখানে থাকবো না। কারণ ঘরে খাবার নেই, পরনে কাপড় নেই- আমার কোন বইও নেই, কিন্তু আমাকে পরীক্ষায় পাস করতে হবে।

মা বললেন, কোথায় যাবি ? বললাম, আমার এককালের সহপাঠী এবং এখন ক্লাসের ফার্স্টবয় মোজাম্মেলের বাড়িতে যাবো। ওর মায়ের সঙ্গে আমার পরিচয় আছে। যে ক’দিন কথা বলেছি, তাতে করে খুব ভালো মানুষ বলে মনে হয়েছে। আমার বিশ্বাস, আমাকে উনি ফিরিয়ে দিতে পারবেন না।

দুরু দুরু মনে মোজাম্মেলের বাড়ি গেলাম। সবকিছু খুলে বলতেই খালাম্মা সানন্দে রাজি হলেন। আমার খাবার আর আশ্রয় জুটলো; শুরু হলো নতুন জীবন। নতুন করে পড়াশোনা শুরু করলাম। প্রতিক্ষণেই হেডস্যারের সেই অবজ্ঞাসূচক কথা মনে পড়ে যায়, জেদ কাজ করে মনে; আরো ভালো করে পড়াশোনা করি।

যথাসময়ে পরীক্ষা শুরু হলো। আমি এক-একটি পরীক্ষা শেষ করছি আর ক্রমেই যেন উজ্জীবিত হচ্ছি। আমার আত্মবিশ্বাসও বেড়ে যাচ্ছে। ফল প্রকাশের দিন আমি স্কুলে গিয়ে প্রথম সারিতে বসলাম। হেডস্যার ফলাফল নিয়ে এলেন। আমি লক্ষ্য করলাম, পড়তে গিয়ে তিনি কেমন যেন দ্বিধান্বিত। আড়চোখে আমার দিকে তাকাচ্ছেন। তারপর ফল ঘোষণা করলেন। আমি প্রথম হয়েছি ! খবর শুনে বড় ভাই আনন্দে কেঁদে ফেললেন। শুধু আমি নির্বিকার- যেন এটাই হওয়ার কথা ছিল।

বাড়ি ফেরার পথে সে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। আমি আর আমার ভাই গর্বিত ভঙ্গিতে হেঁটে আসছি। আর পিছনে এক দল ছেলেমেয়ে আমাকে নিয়ে হৈ চৈ করছে, স্লোগান দিচ্ছে। সারা গাঁয়ে সাড়া পড়ে গেল ! আমার নিরক্ষর বাবা, যার কাছে ফার্স্ট আর লাস্ট একই কথা- তিনিও আনন্দে আত্মহারা; শুধু এইটুকু বুঝলেন যে, ছেলে বিশেষ কিছু একটা করেছে। যখন শুনলেন আমি ওপরের ক্লাসে উঠেছি, নতুন বই লাগবে, পরদিনই ঘরের খাসিটা হাটে নিয়ে গিয়ে ১২ টাকায় বিক্রি করে দিলেন। তারপর আমাকে সঙ্গে নিয়ে জামালপুর গেলেন। সেখানকার নবনূর লাইব্রেরি থেকে নতুন বই কিনলাম।

আমার জীবনযাত্রা এখন সম্পূর্ণ বদলে গেছে। আমি রোজ স্কুলে যাই। অবসরে সংসারের কাজ করি। ইতোমধ্যে স্যারদের সুনজরে পড়ে গেছি। ফয়েজ মৌলভী স্যার আমাকে তার সন্তানের মতো দেখাশুনা করতে লাগলেন। সবার আদর, যত্ন, স্নেহে আমি ফার্স্ট হয়েই পঞ্চম শ্রেণীতে উঠলাম। এতদিনে গ্রামের একমাত্র মেট্রিক পাস মফিজউদ্দিন চাচা আমার খোঁজ নিলেন। তার বাড়িতে আমার আশ্রয় জুটলো।

প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে আমি দিঘপাইত জুনিয়র হাইস্কুলে ভর্তি হই। চাচা ওই স্কুলের শিক্ষক। অন্য শিক্ষকরাও আমার সংগ্রামের কথা জানতেন। তাই সবার বাড়তি আদর-ভালোবাসা পেতাম।

আমি যখন সপ্তম শ্রেণী পেরিয়ে অষ্টম শ্রেণীতে উঠবো, তখন চাচা একদিন কোত্থেকে যেন একটা বিজ্ঞাপন কেটে নিয়ে এসে আমাকে দেখালেন। ওইটা ছিল ক্যাডেট কলেজে ভর্তির বিজ্ঞাপন। যথাসময়ে ফরম পুরণ করে পাঠালাম। এখানে বলা দরকার, আমার নাম ছিল আতাউর রহমান। কিন্তু ক্যাডেট কলেজের ভর্তি ফরমে স্কুলের হেডস্যার আমার নাম আতিউর রহমান লিখে চাচাকে বলেছিলেন, এই ছেলে একদিন অনেক বড় কিছু হবে। দেশে অনেক আতাউর আছে। ওর নামটা একটু আলাদা হওয়া দরকার; তাই আতিউর করে দিলাম।

আমি রাত জেগে পড়াশোনা করে প্রস্তুতি নিলাম। নির্ধারিত দিনে চাচার সঙ্গে পরীক্ষা দিতে রওনা হলাম। ওই আমার জীবনে প্রথম ময়মনসিংহ যাওয়া। গিয়ে সবকিছু দেখে তো চক্ষু চড়কগাছ ! এত এত ছেলের মধ্যে আমিই কেবল পায়জামা আর স্পঞ্জ পড়ে এসেছি ! আমার মনে হলো, না আসাটাই ভালো ছিল। অহেতুক কষ্ট করলাম। যাই হোক পরীক্ষা দিলাম; ভাবলাম হবে না। কিন্তু দুই মাস পর চিঠি পেলাম, আমি নির্বাচিত হয়েছি। এখন চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে যেতে হবে।

সবাই খুব খুশি; কেবল আমিই হতাশ। আমার একটা প্যান্ট নেই, যেটা পড়ে যাবো। শেষে স্কুলের কেরানি কানাই লাল বিশ্বাসের ফুলপ্যান্টটা ধার করলাম। আর একটা শার্ট যোগাড় হলো। আমি আর চাচা অচেনা ঢাকার উদ্দেশে রওনা হলাম। চাচা শিখিয়ে দিলেন, মৌখিক পরীক্ষা দিতে গিয়ে আমি যেন দরজার কাছে দাঁড়িয়ে বলি: ম্যা আই কাম ইন স্যার ? ঠিকমতোই বললাম। তবে এত উচ্চস্বরে বললাম যে, উপস্থিত সবাই হো হো করে হেসে উঠলো।

পরীক্ষকদের একজন মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজের অধ্যক্ষ এম. ডাব্লিউ. পিট আমাকে আপাদমস্তক নিরীক্ষণ করে সবকিছু আঁচ করে ফেললেন। পরম স্নেহে তিনি আমাকে বসালেন। মুহূর্তের মধ্যে তিনি আমার খুব আপন হয়ে গেলেন। আমার মনে হলো, তিনি থাকলে আমার কোন ভয় নেই। পিট স্যার আমার লিখিত পরীক্ষার খাতায় চোখ বুলিয়ে নিলেন। তারপর অন্য পরীক্ষকদের সঙ্গে ইংরেজিতে কী-সব আলাপ করলেন। আমি সবটা না বুঝলেও আঁচ করতে পারলাম যে, আমাকে তাদের পছন্দ হয়েছে। তবে তারা কিছুই বললেন না। পরদিন ঢাকা শহর ঘুরে দেখে বাড়ি ফিরে এলাম। যথারীতি পড়াশোনায় মনোনিবেশ করলাম। কারণ আমি ধরেই নিয়েছি, আমার চান্স হবে না।

হঠাৎ তিন মাস পর চিঠি এলো। আমি চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছি। মাসে ১৫০ টাকা বেতন লাগবে। এর মধ্যে ১০০ টাকা বৃত্তি দেওয়া হবে, বাকি ৫০ টাকা আমার পরিবারকে যোগান দিতে হবে। চিঠি পড়ে মন ভেঙে গেল। যেখানে আমার পরিবারের তিনবেলা খাওয়ার নিশ্চয়তা নেই, আমি চাচার বাড়িতে মানুষ হচ্ছি, সেখানে প্রতিমাসে ৫০ টাকা বেতন যোগানোর কথা চিন্তাও করা যায় না !

এই যখন অবস্থা, তখন প্রথমবারের মতো আমার দাদা সরব হলেন। এত বছর পর নাতির (আমার) খোঁজ নিলেন। আমাকে অন্য চাচাদের কাছে নিয়ে গিয়ে বললেন, তোমরা থাকতে নাতি আমার এত ভালো সুযোগ পেয়েও পড়তে পারবে না ? কিন্তু তাদের অবস্থাও খুব বেশি ভালো ছিল না। তারা বললেন, একবার না হয় ৫০ টাকা যোগাড় করে দেবো, কিন্তু প্রতি মাসে তো সম্ভব নয়। দাদাও বিষয়টা বুঝলেন।

আমি আর কোন আশার আলো দেখতে না পেয়ে সেই ফয়েজ মৌলভী স্যারের কাছে গেলাম। তিনি বললেন, আমি থাকতে কোন চিন্তা করবে না। পরদিন আরো দুইজন সহকর্মী আর আমাকে নিয়ে তিনি হাটে গেলেন। সেখানে গামছা পেতে দোকানে দোকানে ঘুরলেন। সবাইকে বিস্তারিত বলে সাহায্য চাইলেন। সবাই সাধ্য মতো আট আনা, চার আনা, এক টাকা, দুই টাকা দিলেন। সব মিলিয়ে ১৫০ টাকা হলো। আর চাচারা দিলেন ৫০ টাকা। এই সামান্য টাকা সম্বল করে আমি মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হলাম। যাতায়াত খরচ বাদ দিয়ে আমি ১৫০ টাকায় তিন মাসের বেতন পরিশোধ করলাম। শুরু হলো অন্য এক জীবন।

প্রথম দিনেই এম. ডাব্লিউ. পিট স্যার আমাকে দেখতে এলেন। আমি সবকিছু খুলে বললাম। আরো জানালাম যে, যেহেতু আমার আর বেতন দেওয়ার সামর্থ্য নেই, তাই তিন মাস পর ক্যাডেট কলেজ ছেড়ে চলে যেতে হবে। সব শুনে স্যার আমার বিষয়টা বোর্ড মিটিংয়ে তুললেন এবং পুরো ১৫০ টাকাই বৃত্তির ব্যবস্থা করে দিলেন। সেই থেকে আমাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এস.এস.সি পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডে পঞ্চম স্থান অধিকার করলাম এবং আরো অনেক সাফল্যের মুকুট যোগ হলো।

আমার জীবনটা সাধারণ মানুষের অনুদানে ভরপুর। পরবর্তীকালে আমি আমার এলাকায় স্কুল করেছি, কলেজ করেছি। যখন যাকে যতটা পারি, সাধ্যমতো সাহায্য সহযোগিতাও করি। কিন্তু সেই যে হাট থেকে তোলা ১৫০ টাকা; সেই ঋণ আজও শোধ হয়নি। আমার সমগ্র জীবন উৎসর্গ করলেও সেই ঋণ শোধ হবে না!

আমরা যারা পড়া-শুনা করি বা পড়া-শুনাকে ভালোবাসি, তাদের অনেক খোরাক রয়েছে এ জীবনী থেকে। উন্নত মানুসিকতা আর অদম্য স্পৃহা মানুষকে সবসময় উপরেই উঠায়। তাকে নিচের সিঁড়ি গুনতে হয় না কখনই।

মুসলিম ভাইয়েরা এতো দোয়া করে কিন্তু দোয়া কবুল হয়না কেনো? যে ১০ কারণে আল্লাহ দোয়ায় সাড়া দেন না।

ইবরাহিম বিন আদহাম (রহ.) (মৃত্য ১৬২ হিজরি) একদিন বসরা শহরের একটি বাজারের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। লোকজন তার পাশে সমবেত হয়ে জিজ্ঞেস করল: হে আবু ইসহাক, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআনে বলেছেন : ‘তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেবো’। (সূরা গাফির, আয়াত :
৬০) কিন্তু আমরা অনেক প্রার্থনা করার পরও আমাদের দোয়া কবুল হচ্ছে না। ইবরাহিম বিন আদহাম (রহ.) বললেন, ‘ওহে বসরার অধিবাসী, দশটি ব্যাপারে তোমাদের অন্তর মরে গেছে।
.
প্রথম :তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে অবগতকিন্তু তাঁর প্রদত্ত কর্তব্যসমূহ পালন করো না।
.
দ্বিতীয় :তোমরা কুরআন পড় কিন্তু সে অনুযায়ী আমল কর না।
.
তৃতীয় :তোমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসার দাবি কর, কিন্তু তাঁর সুন্নাহকে পরিত্যাগ করো।
.
চতুর্থ :তোমরা নিজেদেরকে শয়তানের শত্রু হিসেবে দাবি কর কিন্তু তোমরা তার পদাংক অনুসরণ করো।
.
পঞ্চম :তোমরা জান্নাতে যেতে উদগ্রিব কিন্তু এর জন্য পরিশ্রম করো না।
.
ষষ্ঠ :তোমরা জাহান্নামের ভয়ে আতঙ্কিত কিন্তু পাপের মাধ্যমে
প্রতিনিয়ত তার নিকটবর্তী হচ্ছো।
.
সপ্তম :তোমরা স্বীকার কর মৃত্যু অনিবার্য কিন্তু এর জন্য নিজেকে প্রস্তুত করো না।
.
অষ্টম :তোমরা সর্বদা অন্যের দোষ বের করতে সচেষ্ট, কিন্তু নিজের দোষ-ত্রুটির ব্যাপারে উদাসীন।
.
নবম :তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ উপভোগ কর কিন্তু তার জন্য শুকরিয়া আদায় করো না।
.
দশম :তোমরা মৃতদেহের দাফন সম্পন্ন করার পর তার থেকে শিক্ষা গ্রহণ করো না।
.
(সূত্র : আবু নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া)।
.
লেখক : সৌদি আরব প্রবাসী আলেম।

Gp, Banglalink, Robi & Airtel Free Net Tips – ফ্রী নেট টিপস

চলুন দেখে নেই রাশিফল সম্পর্কে ইসলাম কী বলে?

বিভিন্ন পত্রিকায় রাশি সম্পর্কিত অনেক কিছু দেখা যায়। এই রাশিরগুলোর ভিত্তি কী? মানুষের জীবনে এই রাশিগুলোর কি কোন কার্যকারিতা আছে। রাশি সম্পর্কে ইসলাম কি বলে? আবার অনেক মানুষ দেখা যায় তাদের রাশির সাথে মিল রেখে পাথরের আংটি পরে। এগুলো বিশ্বাস কি ইসলাম সমর্থন করে?
রাশিফলরাশিফল সম্পর্কে ইসলামের ব্যাখ্যা

জ্যোতিষশাস্ত্র চর্চা শুধু হারামই নয় একজন জ্যোতিষবিদের কাছে যাওয়া এবং তার ভবিষ্যদ্বাণী শোনা, জ্যোতিষশাস্ত্রের উপর বই কেনা অথবা একজনের কোষ্ঠী যাচাই ইসলামে সম্পূর্ণ নিষেধ। যেহেতু জ্যোতিষশাস্ত্র প্রধানত ভবিষ্যদ্বাণী করার জন্য ব্যবহৃত হয়, যারা এই বিদ্যা চর্চা করে তাদের জ্যোতিষী বা গণক বলে গণ্য করা হয়। ফলস্বরূপ, যে তার রাশিচক্র খোঁজে সে রাসূল (সা.) প্রদত্ত এই বিবৃতির রায়ের অধীনে পড়ে, হজরত হাফসা (রা.) কর্তৃক বর্নিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যে গণকের কাছে যায় এবং কোন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে তার চল্লিশ দিন ও রাত্রির নামাজ গ্রহণযোগ্য হবে না।” [সহিহ মুসলিম, হাদিস নং- ৫৫৪০]
এমনকি জ্যোতিষের বক্তব্যের সত্যতায় সন্দিহান হওয়া সত্ত্বেও একজনের শুধু তার কাছে যাওয়া এবং প্রশ্ন করার শাস্তি এই হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। যদি কেউ জ্যোতিষ-সংক্রান্ত তথ্যাদির সত্য মিথ্যায় সন্দিহান হয়, তবে সে আল্লাহর পাশাপাশি অন্যরাও হয়তো অদৃশ্য এবং ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে জানে বলে সন্দেহ পোষণ করে। এটা এক ধরনের শিরক। কারণ আল্লাহ স্পষ্ট করে বলেছেন, “অদৃশ্যের কুঞ্জি তাঁহারই নিকট রহিয়াছে, তিনি ব্যতীত কেহ জানে না।” [সূরা আন-আনআমঃ ৫৯]
আরো ইরশাদ হয়েছে, “বল আল্লাহ ব্যতীত আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে কেউই অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান রাখে না।” [সুরা আন-নামল: ৬৫]
যতই জ্যোতিষ বলুক অথবা যা কিছুই জ্যোতিষশাস্ত্রের বইয়ে থাকুক, কেউ তার রাশিচক্রে প্রদত্ত ভবিষ্যদ্বাণী বিশ্বাস করলে সে সরাসরি কুফরি (অবিশ্বাস) করে। কারণ রাসূল (সা.) বলেছেন, ”যে একজন ভবিষ্যতদ্রষ্টা গণকের নিকট গেল এবং সে যা বলে তা বিশ্বাস করল, মুহাম্মদের নিকট যা অবতীর্ণ হয়েছিল সে তা অবিশ্বাস করল।” [সহিহ আবু দাউদ, হাদিস নং-৩৮৯৫]
পূর্বে বর্ণিত হাদিসের মত এই হাদিসে শাব্দিকভাবে গণকের সম্বন্ধে উল্লেখ করা হলেও জ্যোতিষবিদদের জন্যেও সমভাবে প্রযোজ্য। উভয়ই ভবিষ্যতের জ্ঞানের অধিকারী বলে দাবি করে। জ্যোতিষবিদদের দাবি সাধারণ গণকদের তৌহিদের বিরোধিতা করার মত। সে দাবি করে যে মানুষের ব্যক্তিত্ব নক্ষত্র দ্বারা নিরূপিত এবং তাদের ভবিষ্যৎ কর্মকান্ড এবং তাদের জীবনের উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলী নক্ষত্রে লিপিবদ্ধ রয়েছে। সাধারণ গণক দাবি করে যে একটি কাপের তলায় চায়ের পাতায় গঠন অথবাহাতের তালুর রেখা একই বিষয় বলে। উভয় ক্ষেত্রে তারা সৃষ্ট বস্তর বাস্তব বিন্যাসের মধ্যে অদৃশ্যের জ্ঞানের ব্যাখ্যা করার ক্ষমতা দাবি করে।
জ্যোতিষশাস্ত্রে বিশ্বাস এবং রাশিচক্র পরীক্ষা করা পরিস্কারভাবে ইসলামের শিক্ষা এবং বিশ্বাসের বিপক্ষে। যা সম্পূর্ণ হারাম। আল্লাহ কর্তৃক আল্লাহর রাসূলকে (সা.) বলা হয়েছে, “বল, আল্লাহ যাহা ইচ্ছা করেন তাহা ব্যতীত আমার নিজের ভাল মন্দের উপরও আমার কোন অধিকার নেই। আমি যদি অদৃশ্যের খবর জানিতাম তবে তো আমি প্রভূত কল্যাণই লাভ করিতাম এবং কোন অকল্যাণই আমাকে স্পর্শ করিত না। আমিতো শুধু মু’মিন সম্প্রদায়ের জন্য সর্তককারী ও সুসংবাদবাহী।” [সুরা আল-আ’রাফঃ ১৮৮]
সুতরাং, সত্যিকার মুসলমানগণ এই সব ক্ষেত্র থেকে অনেক দূরে থাকতে নৈতিকভাবে বাধ্য। একইভাবে আংটি, গলার হার ইত্যাদির উপর যদি রাশিচক্রের চিহৃ থাকে তবে তা পরা উচিত নয়, এমনকি কেউ তাতে বিশ্বাস না করলেও। এটি একটি বানোয়াট পদ্ধতির অংশ যা কুফর বিস্তার করে এবং একে সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করা উচিত। কোন বিশ্বাসী মুসলমানের রাশিচক্র কি তা জিজ্ঞাসা করা অথবা তার প্রতীকী অনুমান করার চেষ্ট করাও উচিত নয়। কোন পুরুষ অথবা মহিলা কর্তৃক খবরের কাগজের রাশিচক্রের কলাম পড়া অথবা পড়তে শোনাও অনুচিত। যে মুসলমান তার কার্যক্রম নির্ধারণ করতে জ্যোতিষতত্ত্ব সম্বন্ধীয় পূর্বাভাস ব্যবহার করে, তার উচিত আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থণা (তওবা) করা এবং ইসলামের উপর বিশ্বাস নবায়ণ করা। আল্লাহ্ আমাদের সবাইকে শিরক এবং কুফর থেকে বেঁচে থাকার তৌফিক দান করুক। আমিন।

এবার প্রথম পর্বের বিশ্ব ইজতেমা ১২,১৩ ও ১৪ জানুয়ারি আর দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমা ১৯,২০ ও ২১ জানুয়ারি ইনশা-আল্লহ..

আসসালামু আলাইকুম….
ভাই, “ঈমান ইসলামের মূল স্তম্ভ।”

আপনি কি ভাবছেন, ” নামাজ পড়লেইতো হলো, হজ্জ করলেইতো হলো etc etc “. কিন্তু বিষয়টা অতো সুজা নাহ… যদি ইমান না থাকে তবে এ সব আমলের কোনই মূল্য নাই। ঠিক অনেক গুলা শূন্যের পূর্বে একটা এক না থাকলে শুন্য গুলা যেমন মুল্যহীন।

টাকা আয় করতে হলে যেমন পরিশ্রম করা লাগে।
আর এই ঈমান অর্জন করার জন্যও ঠিক পরিশ্রম করা লাগে !!!

যেনো বেশি থেকে বেশি মানুষ আল্লাহর রাস্তায় বের হতে পারে, যেনো সারা বিশ্বের মানুষ ঈমানদার তথা হেদায়েত পেয়ে যায় এ উদ্দেশ্যেই এইবার বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বো ১২-১৪ জানুয়ারি আর দ্বিতীয় পর্বোর ইজতেমা ১৯-২১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ ।

♥ ইজতেমার প্রতি পর্বের শেষ দিন আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে ইনশা-আল্লহ ।গত বৃহস্পতিবার ইজতেমার মাঠে দেশ-বিদেশের মুরব্বিদের পরামর্শ বৈঠকে (মাশওয়ারা) এ তারিখ চূড়ান্ত করা হয়।

♥ আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর রহমতে এদেশে বিশ্ব ইজতেমা ১৯৬৭ সাল থেকে নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

মানুষের দুর্ভোগ সংকট কাটাতে ২০১১ সাল থেকে বিশ্ব ইজতেমা দুই পর্বে ভাগ করে আয়োজন করা হচ্ছে।

চলুন ইজতেমায় অংশগ্রহন করি আর আল্লাহর রাস্তায় বের হই।

তো আলহামদুলিল্লাহ এইবার আমার জেলার (ময়মনসিংহ, শেরপুর-এর) ইজতেমা টঙ্গীতে।

আজ রাতেই রওনা দিবো ইজতেমার উদ্দেশ্যে ইনশা-আল্লহ…!

হাজার টাকা খরচ করে বিদেশ থেকে মানুষ এদেশের ইজতেমায় অংশ নিচ্ছেন। ঘরের কাছেই ইজতেমা ; আমিতো যাচ্ছি, আপনি যাচ্ছেনতো ???
” আল্লাহ হাফিজ ।”

জুমআর দিনের ফযীলত ও বৈশিষ্ট্য – with Reference

১। জুমুআহ অর্থাৎ জমায়েত বা সমাবেশ ও সম্মেলনের দিন। এটি মুসলিমদের সাপ্তাহিক ঈদ ও বিশেষ ইবাদতের দিন। মহানবী (সাঃ) বলেন, “এই দিন হল ঈদের দিন। আল্লাহ মুসলিমদের জন্য তা নির্বাচিত করেছেন। অতএব যে জুমআয় আসে, সে যেন গোসল করে এবং খোশবূ থাকলে তা ব্যবহার করে। আর তোমরা দাঁতন করায় অভ্যাসী হও।” (ইবনে মাজাহ্‌, সুনান ১০৯৮নং)

২। জুমআর দিন সবার চাইতে শ্রেষ্ঠ দিন। এমনকি ঈদুল ফিতর ও আযহা থেকেও শ্রেষ্ঠ।

৩। এই দিনে আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং বেহেশ্‌ত দান করা হয়েছে।
মহানবী (সাঃ) বলেন, “যার উপর সূর্য উদিত হয়েছে তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হল জুমআর দিন। এই দিনে আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনে তাঁকে বেহেশ্তে স্থান দেওয়া হয়েছে এবং এই দিনেই তাঁকে বের করে দেওয়া হয়েছে বেহেশ্‌ত থেকে। (এই দিনেই তাঁর তওবা কবুল করা হয়েছে, তাঁর মৃত্যু হয়েছে এই দিনেই। আর কিয়ামত সংঘটিত হবে এই দিনেই।” (মুসলিম, মালেক, মুঅত্তা, আহমাদ, মুসনাদ, আবূদাঊদ, সুনান, তিরমিযী, সুনান, নাসাঈ, সুনান,হাকেম, মুস্তাদরাক, ইবনে হিব্বান, সহীহ, জামে ৩৩৩৪নং)

তিনি বলেন, “জুমআর দিন সকল দিনের সর্দার এবং আল্লাহর নিকট সবার চেয়ে মহান দিন। এমনকি এ দিনটি আল্লাহর নিকট আযহা ও ফিতরের দিন থেকেও শ্রেষ্ঠ। এই দিনে রয়েছে ৫টি বিশেষ বৈশিষ্ট্য; এই দিনে আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করেছেন, এই দিনে তাঁকে পৃথিবীতে অবতারণ করেছেন, এই দিনে তাঁর ইন্তিকাল হয়েছে, এই দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে, যদি কোন মুসলিম বান্দা সে মুহূর্তে আল্লাহর নিকট কোন কিছু বৈধ জিনিস প্রার্থনা করে, তাহলে আল্লাহ তাকে তা দিয়ে থাকেন। এই দিনে কিয়ামত সংঘটিত হবে। আর প্রত্যেক নৈকট্যপ্রাপ্ত ফিরিশ্‌তা, আকাশ, পৃথিবী, বাতাস, পর্বত, সমুদ্র এই দিনকে ভয় করে।” (ইবনে মাজাহ্‌, সুনান ১০৮৪নং)

৪। এই দিনে মহান আল্লাহ জান্নাতে প্রত্যেক সপ্তাহে বেহেশতী বান্দাগণকে দর্শন দেবেন।
হযরত আনাস (রাঃ) (ولدينا مزيد) এর ব্যাখ্যায় বলেন, ‘মহান আল্লাহ বেহেশতীদের জন্য প্রত্যেক জুমআর দিন জ্যোতিষ্মান হবেন।’ এই দিনের আসমানী ফিরিশ্‌তাবর্গের নিকট নাম হল, ‘য়্যাউমুল মাযীদ।’

৫। এই দিনে গুনাহ মাফ হয়।
হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাঃ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে ওযু করে জুমআর উদ্দেশ্যে (মসজিদে) উপস্থিত হয়। অতঃপর মনোযোগ সহকারে (খুতবাহ্‌) শ্রবণ করে ও নীরব থাকে সেই ব্যক্তির ঐ জুমুআহ থেকে দ্বিতীয় জুমুআহর মধ্যবর্তীকালে সংঘটিত এবং অতিরিক্ত তিন দিনের পাপ মাফ করে দেওয়া হয়। আর যে ব্যক্তি (খুতবা চলাকালে) কাঁকর স্পর্শ করে সে অসার (ভুল) কাজ করে।” (মুসলিম, সহীহ ৮৫৭ নং আবূদাঊদ, সুনান, তিরমিযী, সুনান, ইবনে মাজাহ্‌, সুনান)

৬। এই দিনে এমন একটি সময় আছে, যাতে দুআ কবুল হয়।
মহানবী (সাঃ) বলেন, “জুমআর দিনে এমন একটি (সামান্য) মুহূর্ত আছে, যদি কোন মুসলিম বান্দা নামায পড়া অবস্থায় তা পায় এবং আল্লাহর নিকট কোন মঙ্গল প্রার্থনা করে, তাহলে আল্লাহ তাকে তা দিয়ে থাকেন।” (বুখারী ৯৩৫নং, মুসলিম, মিশকাত ১৩৫৭নং)

এই মুহূর্তের ব্যাপারে বলা হয়েছে যে, তা হল ইমামের মিম্বরে বসা থেকে নিয়ে নামায শেষ হওয়া পর্যন্ত সময়। (মুসলিম, মিশকাত ১৩৫৮নং) অথবা তা হল আসরের পর যে কোন একটি সময়। অবশ্য এ প্রসঙ্গে আরো অন্য সময়ের কথাও অনেকে বলেছেন। (যাদুল মাআদ, ইবনুল কাইয়েম ১/৩৮৯-৩৯০)

৭। এই দিনে দান-খয়রাত করার সওয়াব বেশী।
হযরত কা’ব (রাঃ) বলেন, ‘অন্যান্য সকল দিন অপেক্ষা এই দিনে সদকাহ্‌ করার সওয়াব অধিক।’ (যাদুল মাআদ, ইবনুল কাইয়েম)

৮। জুমআর ফজরের নামায জামাআত সহকারে পড়ার পৃথক বৈশিষ্ট্য আছে।
মহানবী (সাঃ) বলেন, “আল্লাহর নিকটে সব চাইতে শ্রেষ্ঠ নামায হল, জুমআর দিন জামাআত সহকারে ফজরের নামায।” (সিলসিলাহ সহীহাহ, আলবানী ১৫৬৬নং)

৯। এই দিনে বা তার রাতে কেউ মারা গেলে কবরের আযাব থেকে রেহাই পাবে।
মহানবী (সাঃ) বলেন, “যে মুসলিম জুমআর দিন অথবা রাতে মারা যায়, আল্লাহ তাকে কবরের ফিতনা থেকে বাচান।” (আহমাদ, মুসনাদ, তিরমিযী, সুনান, জামে ৫৭৭৩)

_——————————————–_
Read absolute and truth information, its enough althogh smallest,
but huge and big bnd big if not absolute, everything will be vanish .

———
readme2know