চোগলখুরী, গীবত, ও পরনিন্দা

>>> চোগলখুরী, গীবত, ও পরনিন্দা >> <<>> <<>> <>> <<<যে সব কারণে গীবত বৈধঃসঠিক শরয়ী উদ্দেশ্যে গীবত বৈধ; যখন গীবত ছাড়া সে উদ্দেশ্য পূরণ হওয়া সম্ভবপর হয় না। হাদীসে এসেছে; أَنَّ عَائِشَةَ، أَخْبَرَتْهُ‏.‏ أَنَّهُ، اسْتَأْذَنَ عَلَى النَّبِيِّ ﷺ رَجُلٌ فَقَالَ ‏"‏ ائْذَنُوا لَهُ فَبِئْسَ ابْنُ الْعَشِيرَةِ ‏"‏‏.‏ أَوْ ‏"‏ بِئْسَ أَخُوالْعَشِيرَةِআয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর নিকট আসার অনুমতি চাইল তখন তিনি বললেনঃ তাকে অনুমতি দাও। সে তার বংশের নিকৃষ্ট সন্তান; অথবা বলেছেন; সে তার গোত্রের সর্বাপেক্ষা মন্দ লোক। (বুখারী: ৬০৩২, ৬০৫৪, ৬১৩১; মুসলিম: ৬৪৯০, ৬৪৯১; তিরমিযী: ১৯৯৬; আবূ দাউদ: ৪৭৯১).এ হাদিস দ্বারা ইমাম বুখারী (রহঃ) ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারী ও সন্দিগ্ধ ব্যক্তিদের গীবত করার বৈধতা প্রমাণ করেছেন। গীবত বৈধ-এর কারণ ৬টি, যা নিম্নরূপ:.১। অত্যাচার ও নির্যাতনঃ নির্যাতিত ও অত্যাচারিত ব্যক্তির পক্ষে গীবত করা বৈধ। সে শাসক, বিচারক প্রমুখ (প্রভাবশালী) ব্যক্তি; যারা অত্যাচারীকে উচিত সাজা দিয়ে ন্যায় বিচার করার কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা রাখেন। তাঁদের নিকট নালিশ করবে যে, 'অমুক ব্যক্তি আমার উপর এই অত্যাচার করেছে।'.২। মন্দ কাজের অপসারণ এবং পাপীকে সঠিক পথ ধরানোর কাজে সাহায্য কামনা। বস্ত্ততঃ শরীয়ত বহির্ভূত কর্মকাণ্ড বন্ধ করার ব্যাপারে শক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিকে গিয়ে বলবে যে, 'অমুক ব্যক্তি মন্দ কাজে লিপ্ত; সুতরাং আপনি তাকে তা থেকে বাধা দিন' ইত্যাদি। তবে এর পিছনে কেবল অন্যায় ও মন্দ কাজ থেকে বাধা দেওয়ার একমাত্র উদ্দেশ্য হতে হবে; অন্যথা তা হারাম হবে।.৩। ফতোয়া জানাঃ মুফতি বা আলেমের নিকট গিয়ে বলবে, 'আমার পিতা আমার ভাই বা আমার স্বামী অথবা অমুক ব্যক্তি এই অন্যায় অত্যাচার আমার প্রতি করেছে। তার কি কোন অধিকার আছে? তবে তা থেকে মুক্তি পাবার এবং অন্যায়ের প্রতিকার করার ও নিজ অধিকার অর্জন করার উপায় কি?' অনুরূপ আবেদন পেশ করা। এরূপ বলা প্রয়োজনে বৈধ। তবে সতর্কতামূলক ও উত্তম পন্থা হল, নাম না নিয়ে যদি বলে, 'এক ব্যক্তি বা লোক বা স্বামী এই কাজ করেছে, সে সম্পর্কে আপনি কি বলেন?' নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তির নাম না নিয়ে এরূপ বললে উদ্দেশ্য পূরণ হয়ে যাবে। এ সত্ত্বেও নির্দিষ্ট করে নাম নিয়ে ফতোয়া জিজ্ঞাসা করা বৈধ।.৪। মুসলিমদেরকে মন্দ থেকে সতর্ক করা ও তাদের মঙ্গল কামনা করা। এটা কয়েক ধরণের হতে পারে। তার মধ্যে যেমনঃ(ক) হাদিসের দোষযুক্ত রাবী ও (বিচারকার্যে) সাক্ষীর দোষ-ত্রুটি প্রকাশ করা। সর্বসম্মতিক্রমে এরূপ করা বৈধ; বরং প্রয়োজন বশতঃ ঐরূপ করা অত্যাবশ্যক।.(খ) কোন ব্যক্তির সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক জোড়ার জন্য, কোন ব্যবসায়ে অংশীদারি গ্রহণের উদ্দেশ্যে, কারো কাছে আমানত রাখার জন্য, কারো সাথে আদান-প্রদান করার মানসে অথবা কারো প্রতিবেশী হবার জন্য ইত্যাদি উদ্দেশ্যে পরামর্শ চাওয়া। আর সে ক্ষেত্রে যার নিকট পরামর্শ চাওয়া হয়, তার উচিত প্রকৃত অবস্থা খুলে বলা। বরং হিতাকাঙ্ক্ষী মনোভাব নিয়ে যত দোষ-ত্রুটি থাকবে সব ব্যক্ত করে দেবে। অনুরূপভাবে যখন কোন দ্বীনী জ্ঞান পিপাসুকে দেখবে যে, সে কোন বিদআতী ও মহাপাপী লোকের নিকট জ্ঞানার্জন করতে যাচ্ছে এবং আশংকা বোধ করবে যে, ঐ বিদআতী ও ফাসেক (মহাপাপী) দ্বারা সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তাহলে সে আবশ্যিকভাবে তাকে তার অবস্থা ব্যক্ত করে তার মঙ্গল সাধন করবে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে শর্ত হল যে, এর পিছনে তার উদ্দেশ্য যেন হিতাকাঙ্ক্ষী হয়। এ ব্যাপারটি এমন যে, সাধারণত: এতে ভুল হয়ে থাকে। কখনো বা বক্তা হিংসায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐ কথা বলে। কিন্তু শয়তান তার ব্যাপারটা গোলমাল করে দেয় এবং তার মাথায় গজিয়ে দেয় যে, সে হিত উদ্দেশ্যেই ঐ কাজ করছে (অথচ বাস্তব তার বিপরীত)। এ জন্য মানুষের সাবধান থাকা উচিত।.(গ) যখন কোন উচ্চপদস্থ সরকারী অফিসার, গভর্নর বা শাসক, সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করে। হয় তার অযোগ্যতার কারণে কিংবা পাপাচারী বা উদাসীন থাকার কারণে ইত্যাদি। তাহলে উক্ত ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রনেতার নিকট তার স্বরূপ তুলে ধরা একান্ত কর্তব্য। যাতে সে তার স্থানে অন্য উপযুক্ত কর্মী নিয়োগ করতে পারে কিংবা কমপক্ষে তার সম্পর্কে তার জানা থাকবে এবং সেই অনুযায়ী তার সাথে আচরণ করবে এবং তার প্রতারণা থেকে মুক্ত থাকবে আর সে তাকে সংশোধন হবার জন্য উৎসাহিত করার চেষ্টা করবে, তারপর তাকে পরিবর্তন করে দেবে।.৫। প্রকাশ্যভাবে কেউ পাপাচার বা বিদআতে লিপ্ত হলে তার কথা বলা। যেমন প্রকাশ্যভাবে মদ্য পান করলে, লোকের ধন অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করলে, বলপূর্বক ট্যাক্স বা চাঁদা আদায় করলে, অন্যায়ভাবে যাকাত ইত্যাদি আদায় করলে, অন্যায় কাজের কর্তৃত্ব করলে, তার কেবল সেই প্রকাশ্য অন্যায়ের কথা উল্লেখ করা বৈধ। (যাতে তার অপ-নোদন সম্ভব হয়) পক্ষান্তরে তার অন্যান্য গোপন দোষ-ত্রুটি উল্লেখ করা বৈধ নয়। তবে যদি উল্লিখিত কারণসমূহের মধ্যে অন্য কোন কারণ থাকে। যেমন পূর্বে বর্ণনা করেছি, তাহলে তাও ব্যক্ত করা বৈধ হবে।.৬। প্রসিদ্ধ নাম ধরে পরিচয় দেওয়া। যখন কোন মানুষ কোন মন্দ খেতাব দ্বারা সুপরিচিত হয়ে যাবে; যেমন চোখ-ওঠা, খোঁড়া, কালা, অন্ধ, টেরা ইত্যাদি তখন সেই পরিচায়ক খেতাবগুলি উল্লেখ করা সিদ্ধ। তবে অবমাননা বা হেয় প্রতিপন্ন করার অভিপ্রায়ে সে সব উল্লেখ করা নিষিদ্ধ। পক্ষান্তরে উক্ত পদবী ছাড়া অন্য শব্দ বা নাম দ্বারা যদি পরিচয় দান সম্ভব হয়, তাহলে সেটাই সব চাইতে উত্তম।.এই হল ছয়টি কারণ, যার ভিত্তিতে গীবত করা বৈধ আর এর অধিকাংশ সর্ববাদিসম্মত। (রিয়াদুস সালেহিন: ১৫৩৯)

প্রেম করেছে ইউসুফ নবী তার প্রেমে জুলেখা বিবি গো..।” এইসব ইউসুফ নবীর নামে ডাহা মিথ্যা কথা

গানে গানে শুনা যায়: “প্রেম করেছে ইউসুফ নবী তার প্রেমে জুলেখা বিবি গো..।”এইসব ইউসুফ নবীর নামে ডাহা মিথ্যা কথা। সত্য জানতে সম্পুর্ণ সুরা ইউসুফ পড়ুন। আল্লাহ সত্য বলেছেন; নারীদের ছলনা খুবই মারাত্নক। কুরআনের বাণী;وَلَمَّا بَلَغَ أَشُدَّهُ آتَيْنَاهُ حُكْمًا وَعِلْمًا ۚ وَكَذَٰلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَআর সে (ইউসুফ) যখন পূর্ণ যৌবনে উপনীত হল, আমি তাকে হিকমত ও জ্ঞান দান করলাম এবং এভাবেই আমি ইহসানকারীদের প্রতিদান দিয়ে থাকি।
وَرَاوَدَتْهُ الَّتِي هُوَ فِي بَيْتِهَا عَنْ نَفْسِهِ وَغَلَّقَتِ الْأَبْوَابَ وَقَالَتْ هَيْتَ لَكَ ۚ قَالَ مَعَاذَ اللَّهِ ۖ إِنَّهُ رَبِّي أَحْسَنَ مَثْوَايَ ۖ إِنَّهُ لَا يُفْلِحُ الظَّالِمُونَআর যে মহিলার ঘরে সে ছিল, সে তাকে কুপ্ররোচনা দিল এবং দরজাগুলো বন্ধ করে দিল আর বলল, ‘এসো’। সে বলল, আল্লাহর আশ্রয় (চাই)। নিশ্চয় তিনি আমার মনিব, তিনি আমার থাকার সুন্দর ব্যবস্থা করেছেন। নিশ্চয় যালিমগণ সফল হয় না।وَلَقَدْ هَمَّتْ بِهِ ۖ وَهَمَّ بِهَا لَوْلَا أَنْ رَأَىٰ بُرْهَانَ رَبِّهِ ۚ كَذَٰلِكَ لِنَصْرِفَ عَنْهُ السُّوءَ وَالْفَحْشَاءَ ۚ إِنَّهُ مِنْ عِبَادِنَا الْمُخْلَصِينَআর সে মহিলা তার প্রতি আসক্ত হল, আর সেও তার প্রতি আসক্ত হত, যদি তার রবের স্পষ্ট প্রমাণ প্রত্যক্ষ না করত। এভাবেই, যাতে আমি তার থেকে অনিষ্ট ও অশ্লীলতা দূর করে দেই। নিশ্চয় সে আমার খালেস বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।وَاسْتَبَقَا الْبَابَ وَقَدَّتْ قَمِيصَهُ مِنْ دُبُرٍ وَأَلْفَيَا سَيِّدَهَا لَدَى الْبَابِ ۚ قَالَتْ مَا جَزَاءُ مَنْ أَرَادَ بِأَهْلِكَ سُوءًا إِلَّا أَنْ يُسْجَنَ أَوْ عَذَابٌ أَلِيمٌআর তারা উভয়ে দরজার দিকে দৌড়ে গেল এবং মহিলা পেছন হতে তার জামা ছিঁড়ে ফেলল। আর তারা মহিলার স্বামীকে দরজার কাছে পেল। মহিলা বলল, ‘যে লোক তোমার পরিবারের সাথে মন্দকর্ম করতে চেয়েছে, তাকে কারাবন্দি করা বা যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি দেয়া ছাড়া তার আর কী দন্ড হতে পারে’?قَالَ هِيَ رَاوَدَتْنِي عَنْ نَفْسِي ۚ وَشَهِدَ شَاهِدٌ مِنْ أَهْلِهَا إِنْ كَانَ قَمِيصُهُ قُدَّ مِنْ قُبُلٍ فَصَدَقَتْ وَهُوَ مِنَ الْكَاذِبِينَসে (ইউসুফ) বলল, ‘সে-ই আমাকে কুপ্ররোচনা দিয়েছে’। আর মহিলার পরিবার থেকে এক সাক্ষ্যদাতা সাক্ষ্য প্রদান করল, ‘যদি তার জামা সামনের দিক থেকে ছেঁড়া হয় তাহলে সে (মহিলা) সত্য বলেছে এবং সে (পুরুষ) মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত’।وَإِنْ كَانَ قَمِيصُهُ قُدَّ مِنْ دُبُرٍ فَكَذَبَتْ وَهُوَ مِنَ الصَّادِقِينَআর যদি তার জামা পিছন দিক হতে ছিন্ন করা হয়ে থাকে তাহলে স্ত্রী লোকটি মিথ্যা কথা বলেছে এবং পুরুষটি সত্যবাদী।فَلَمَّا رَأَىٰ قَمِيصَهُ قُدَّ مِنْ دُبُرٍ قَالَ إِنَّهُ مِنْ كَيْدِكُنَّ ۖ إِنَّ كَيْدَكُنَّ عَظِيمٌঅতঃপর গৃহস্বামী যখন দেখল যে, তার জামা পেছন দিক থেকে ছিন্ন, তখন সে বলল, নিশ্চয় এটা তোমাদের ছলনা। নিঃসন্দেহে তোমাদের ছলনা খুবই মারাত্নক।يُوسُفُ أَعْرِضْ عَنْ هَٰذَا ۚ وَاسْتَغْفِرِي لِذَنْبِكِ ۖ إِنَّكِ كُنْتِ مِنَ الْخَاطِئِينَহে ইউসুফ! তুমি এটা উপেক্ষা কর এবং হে নারী! তুমি তোমার অপরাধের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর, নিশ্চয়ই তুমিই অপরাধী।(ইউসুফ, ১২/২২-২৯)

হস্তমৈথুনের হুকুম এবং এটা থেকে বাঁচার উপায়

হস্তমৈথুনের হুকুম এবং এটা থেকে বাঁচার উপায়

হস্তমৈথুনের হুকুম এবং এটা থেকে বাঁচার উপায়
প্রশ্ন: আমার একটি প্রশ্ন আছে, আমি সে প্রশ্নটি পেশ করতে লজ্জাবোধ করছি। এক বোন নতুন ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তিনি প্রশ্নটির জবাব জানতে চান। কুরআন-হাদিসের দলিল ভিত্তিক এ প্রশ্নের জবাব আমার জানা নেই। আমি আশা করব, আপনারা আমাদেরকে সহযোগিতা করবেন। আমি আল্লাহ্র কাছে প্রার্থনা করছি, যদি আমার প্রশ্নটি অশালীন হয় তাহলে তিনি যেন আমাকে ক্ষমা করে দেন। কিন্তু, মুসলিম হিসেবে জ্ঞানার্জনে আমাদের লজ্জাবোধ করা উচিত নয়।
সে বোনের প্রশ্ন হচ্ছে– হস্তমৈথুন করা কি ইসলামে জায়েয?
উত্তর:
আলহামদুলিল্লাহ।
কুরআন ও সুন্নাহ্র দলিলের ভিত্তিতে হস্তমৈথুন করা হারাম:
এক. কুরআনে কারীম:
ইবনে কাছির (রহঃ) বলেন: ইমাম শাফেয়ি এবং যারা তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন তারা সবাই এ আয়াত দিয়ে হস্তমৈথুন হারাম হওয়ার পক্ষে দলিল দিয়েছেন। আয়াতটির ভাবানুবাদ হচ্ছে-
“আর যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে হেফাযত করে। নিজেদের স্ত্রী বা মালিকানাভুক্ত দাসীগণ ছাড়া; এক্ষেত্রে (স্ত্রী ও দাসীর ক্ষেত্রে) অবশ্যই তারা নিন্দিত নয়। যারা এর বাইরে কিছু কামনা করবে তারাই সীমালঙ্ঘনকারী।”[সূরা মুমিনুন, আয়াত: ৫-৬]
ইমাম শাফেয়ি ‘নিকাহ অধ্যায়ে’ বলেন: ‘স্ত্রী বা দাসী ছাড়া অন্য সবার থেকে লজ্জাস্থান হেফাযত করা’ উল্লেখ করার মাধ্যমে স্ত্রী ও দাসী ছাড়া অন্য কেউ হারাম হওয়ার ব্যাপারে আয়াতটি সুস্পষ্ট। এরপরও আয়াতটিকে তাগিদ করতে গিয়ে আল্লাহ্ তাআলা বলেন (ভাবানুবাদ): “যারা এর বাইরে কিছু কামনা করবে তারাই সীমালঙ্ঘনকারী।” সুতরাং স্ত্রী বা দাসী ছাড়া অন্য কোন ক্ষেত্রে পুরুষাঙ্গ ব্যবহার করা বৈধ হবে না, হস্তমৈথুনও বৈধ হবে না। আল্লাহ্ই ভাল জানেন।[ইমাম শাফেয়ি রচিত ‘কিতাবুল উম্ম’]
কোন কোন আলেম এ আয়াত দিয়ে দলিল দেন: “যারা বিবাহে সক্ষম নয়, তারা যেন সংযম অবলম্বন করে যে পর্যন্ত না আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেন।”[সূরা নূর, আয়াত: ৩৩] এ আয়াতে সংযমের নির্দেশ দেয়ার দাবী হচ্ছে– অন্য সবকিছু থেকে ধৈর্য ধারণ করা।
দুই. সুন্নাহ্:
আলেমগণ এ ব্যাপারে আব্দুল্লাহ্ বিন মাসউদ (রাঃ) এর হাদিস দিয়ে দলিল দেন যে, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে আমরা এমন কিছু যুবকে ছিলাম যাদের কিছু ছিল না। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: হে যুবকেরা! তোমাদের মধ্যকার যার ﺑﺎﺀﺓ (বিয়ের খরচ বহন ও শারীরিক সামর্থ্য) রয়েছে সে যেন বিয়ে করে ফেলে। কেননা, তা তার দৃষ্টি নিম্নগামী রাখতে ও লজ্জাস্থানকে হেফাজত করায় সহায়ক হয়। আর যে বিবাহের সামর্থ্য রাখে না, সে যেন রোজা রাখে। কারণ তা যৌন উত্তেজনা প্রশমনকারী।”[সহীহ বুখারী (৫০৬৬)]
শরিয়ত প্রণেতা, বিয়ে করতে অক্ষম হলে কষ্ট হওয়া সত্ত্বেও রোযা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। হস্তমৈথুন করার পরামর্শ দেননি। যদিও হস্তমৈথুনের প্রতি আগ্রহ বেশি থাকে, হস্তমৈথুন করা রোযা রাখার চেয়ে সহজ। কিন্তু তদুপরি তিনি সে অনুমতি দেননি।
এ মাসয়ালায় আরও অনেক দলিল আছে। আমরা এ দলিলগুলো উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করছি।
• হস্তমৈথুনে লিপ্ত ব্যক্তি কিভাবে এর থেকে মুক্তি পেতে পারেন এ সম্পর্ক নিম্নে আমরা কিছু উপদেশ ও পদক্ষেপ উল্লেখ করব:
১। এই অভ্যাস থেকে বাঁচার প্রেরণা যেন হয় আল্লাহ্র নির্দেশ পালন ও তাঁর অবাধ্যতা থেকে বিরত থাকা।
২। স্থায়ী সমাধান তথা বিয়ের মাধ্যমে এ অভ্যাসকে প্রতিরোধ করা। কারণ এটাই ছিল যুবকদের প্রতি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপদেশ।
৩। নানা রকম কু-চিন্তা ও খারাপ ভাবনা থেকে দূরে থাকা। দুনিয়া বা আখেরাতের কল্যাণকর চিন্তায় নিজেকে ব্যস্ত রাখা। কারণ কু-চিন্তাকে বাড়তে দিলে সেটা এক পর্যায়ে কর্মের দিকে নিয়ে যায়। চূড়ান্ত পর্যায়ে তা নিয়ন্ত্রয়ের বাইরে গিয়ে অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়। তখন তা থেকে মুক্ত হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
৪। দৃষ্টিকে নত রাখা। কারণ কোন ব্যক্তি বা অশ্লীল ছবির দিকে দৃষ্টিপাত করা, সেটা জীবিত মানুষের হোক কিংবা আঁকা হোক, বাঁধহীন দৃষ্টি ব্যক্তিকে হারামের দিকে নিয়ে যায়। এ কারণে আল্লাহ্ তাআলা বলেছেন:
“মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে”[সূরা নূর, আয়াত: ৩০]
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
“তুমি দৃষ্টির পর দৃষ্টি দিবে না”[সুনানে তিরমিযি (২৭৭৭), আলবানী হাদিসটিকে ‘হাসান’ বলেছেন]
তাই প্রথম দৃষ্টি, যে দৃষ্টি হঠাৎ করে পড়ে যায় সেটাতে গুনাহ না থাকলেও দ্বিতীয় দৃষ্টি হারাম। এছাড়া যে সব স্থানে যৌন উত্তেজনা জাগিয়ে তোলার উপকরণ বিদ্যমান থাকে সেসব স্থান থেকে দূরে থাকা বাঞ্ছনীয়।
৫। নানাবিধ ইবাদতে মশগুল থাকা। পাপকাজ সংঘটিত হওয়ার মত কোন অবসর সময় না রাখা।
৬। এ ধরণের কু-অভ্যাসের ফলে যেসব শারীরিক ক্ষতি ঘটে থাকে সেগুলো থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা। যেমন- দৃষ্টিশক্তি ও স্নায়ুর দুর্বলতা, প্রজনন অঙ্গের দুর্বলতা, মেরুদণ্ডের ব্যথা ইত্যাদি যেসব ক্ষতির কথা চিকিৎসকরা উল্লেখ করে থাকেন। অনুরূপভাবে বিভিন্ন মানসিক ক্ষতি; যেমন- উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, মানসিক পীড়া অনুভব করা। এর চেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে- নামায নষ্ট করা। যেহেতু বারবার গোসল করা লাগে, যা করা কঠিন। বিশেষতঃ শীতের রাত্রিতে। অনুরূপভাবে রোযা নষ্ট করা।
৭। ভুল দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি পরিতুষ্টি দূর করা। কারণ কিছু কিছু যুবক ব্যভিচার ও সমকামিতা থেকে নিজেকে রক্ষা করার ধুয়া তুলে এই কু-অভ্যাসকে জায়েয মনে করে। অথচ হতে পারে সে যুবক ব্যভিচার ও সমকামিতার নিকটবর্তী হওয়ার কোন সম্ভাবনা নাই।
৮। কঠিন ইচ্ছা ও শক্ত সিদ্ধান্ত দিয়ে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা। শয়তানের কাছে হার না মানা। একাকী না থাকা; যেমন একাকী রাত কাটানো। হাদিসে এসেছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন পুরুষকে একাকী রাত কাটাতে নিষেধ করেছেন।[মুসনাদে আহমাদ, হাদিসটি ‘সহিহুল জামে’ তে রয়েছে]
৯। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশিত প্রতিকার পদ্ধতি গ্রহণ করা; সেটা হচ্ছে– রোযা রাখা। কেননা রোযা যৌন উত্তেজনাকে প্রশমিত করে এবং যৌন চাহিদাকে পরিশীলিত করে। এর সাথে উদ্ভট আচরণ থেকে সাবধান থাকা; যেমন- হস্তমৈথুন পুনরায় না করার ব্যাপারে শপথ করা কিংবা মানত করা। কারণ যদি কেউ পুনরায় করে ফেলে তাহলে সে ব্যক্তি পাকাপোক্ত-শপথ ভঙ্গকারী হিসেবে গণ্য হবে। অনুরূপভাবে যৌন উত্তেজনা নিরোধক ঔষধ সেবন না করা। কেননা এসব ঔষধ সেবনে শারীরিক ঝুঁকি আছে। তাছাড়া যৌন উত্তেজনা একেবারে নিঃশেষ করে ফেলে এমন কিছু সেবন করা থেকে হাদিসে নিষেধাজ্ঞা সাব্যস্ত হয়েছে।
১০। ঘুমানোর সময় ইসলামী আদবগুলো মেনে চলা। যেমন- ঘুমানোর দোয়াগুলো পড়া, ডান পার্শ্বে কাত হয়ে শোয়া, পেটের উপর ভর দিয়ে না-ঘুমানো; যেহেতু এ সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিষেধ আছে।
১১। ধৈর্য ও সংযমের গুণে নিজেকে ভূষিত করা। কারণ হারাম কাজ থেকে ধৈর্য রাখা আমাদের উপর ফরয; যদিও আমাদের মাঝে সেগুলো করার চাহিদা থাকে। আমাদের জানা উচিত, যদি আমরা নিজেকে সংযমী রাখার চেষ্টা করি তাহলে পরিশেষে সেটা ব্যক্তির অবিচ্ছেদ্য আখলাকে পরিণত হবে। যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
“যে ব্যক্তি সংযম অবলম্বন করে আল্লাহ্ তাকে সংযমী বানিয়ে দিবেন, যে ব্যক্তি অমুখাপেক্ষী থাকার চেষ্টা করবেন আল্লাহ্ তাকে অমুখাপেক্ষী বানিয়ে দিবেন, যে ব্যক্তি ধৈর্য রাখার চেষ্টা করবেন আল্লাহ্ তাকে ধৈর্যশীল বানিয়ে দিবেন। কোন মানুষকে ধৈর্যের চেয়ে প্রশস্ত ও কল্যাণকর আর কোন দান দেয়া হয়নি।”[সহিহ বুখারী (১৪৬৯)]
১২। কেউ যদি এই গুনাহটি করে ফেলে তাহলে তার উচিত অনতিবিলম্বে তওবা করা, ক্ষমা প্রার্থনা করা, নেকীর কাজ করা এবং ক্ষমাপ্রাপ্তির ব্যাপারে হতাশ না হওয়া। কেননা এ পাপটি একটি কবিরা গুনাহ।
১৩। সর্বশেষ, নিঃসন্দেহে আল্লাহ্র কাছে ধর্ণা দেয়া, দোয়ার মাধ্যমে তাঁর কাছে মিনতি করা, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা এই কু-অভ্যাস থেকে বাঁচার সবচেয়ে বড় উপায়। কেননা আল্লাহ্ তাআলা দোয়াকারীর ডাকে সাড়া দেন। আল্লাহ্ই ভাল জানেন।
মুফতী: শাইখ মুহাম্মদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ
সূত্র: ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব

মৃত্যুর পর কোন জিনিস আমার, আপনার সঙ্গী হবে

>>> মৃত্যুর পর কোন জিনিস আমার, আপনার সঙ্গী হবে? <<<
আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত; রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন;
يَتْبَعُ الْمَيِّتَ ثَلاَثٌ فَيَرْجِعُ اثْنَانِ وَيَبْقَى وَاحِدٌ يَتْبَعُهُ أَهْلُهُ وَمَالُهُ وَعَمَلُهُ فَيَرْجِعُ أَهْلُهُ وَمَالُهُ وَيَبْقَى عَمَلُهُ

তিনটি জিনিস মৃত ব্যক্তির পিছন পিছন অনুসরণ করে, তারপর দুটি ফিরে আসে এবং একটি তার সাথে থেকে যায়। তার পরিবার-পরিজন, মাল ও আমল তার সাথে যায়। অতঃপর তার পরিজন ও মাল ফিরে আসে এবং তার আমল তার সাথে থেকে যায়। (সহীহ মুসলিম: ৭৩১৪; তিরমিযি: ২৩৭৯; নাসাঈ: ১৯৪১)
.
কি কি উপায় আমরা আমল করতে পারি?
আমলে করার কয়েকটি মাধ্যম আছে, যেমন: ১। অন্তর দিয়ে ২। জবান দিয়ে ৩। শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দিয়ে ৪। অর্থ দিয়ে।
.
✔ ১। অন্তর দিয়ে আমল করা। যেমন: সালাত শুরু করা আগে অন্তর দিয়ে নিয়্যাত করতে হয়। রমযান মাসে সিয়াম শুরু করা আগেও অন্তর দিয়ে নিয়্যাত করতে হয়। এমন কি প্রতিটি ইবাদতের ক্ষেত্রে অন্তর দিয়ে নিয়্যাত করতে হয়। অন্তর দিয়ে নিয়ত করা সুন্নাত অপরদিকে মুখে নিয়্যাত উচ্চারণ করা বিদআত। কারণ নিয়্যাত অন্তরের সাথে সম্পর্কিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন;
ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺍﻷَﻋْﻤَﺎﻝُ ﺑِﺎﻟﻨِّﻴَّﺎﺕِ، ﻭَﺇِﻧَّﻤَﺎ ﻟِﻜُﻞِّ ﺍﻣْﺮِﺉٍ ﻣَﺎ ﻧَﻮَﻯ
প্রত্যেক আমল নিয়্যাতের সাথে সম্পর্কিত আর প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিয়্যাত অনুযায়ী ফলাফল পাবে। (বুখারী: ১)
.
✔ ২। জবান দিয়ে আমল করা। যেমন: সালাতের মধ্যে রুকু, সেজদায় বিভিন্ন তাসবীহ পাঠ করা, কিরাত পড়া। ফরয সালাতের শেষে মনে মনে একা একা বিভিন্ন সুন্নাতী দু‘আ পড়া। এছাড়া সর্বদা বিভিন্ন তাসবীহ পাঠ করা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
كَلِمَتَانِ خَفِيفَتَانِ عَلَى اللِّسَانِ، ثَقِيلَتَانِ فِي الْمِيزَانِ، حَبِيبَتَانِ إِلَى الرَّحْمَنِ
দু’টি বাক্য যা জিহবাতে (উচ্চারণ) অতি সহজ, মীযানে অনেক ভারী আর রহমানের নিকট অতি প্রিয়; তা হচ্ছে-
سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ سُبْحَانَ الِلَّه الْعَظِيمِ
“সুবহা-নাল্লা-হি ওয়াবিহামদি, সুবহা-নাল্লা-হিল্ আযী-ম” অর্থ: পবিত্রতা ও মহিমা আল্লাহর আর প্রশংসাও তাঁর; পবিত্রতা ও মহিমা মহান আল্লাহর। (সহীহুল বুখারী: ৬৪০৬, ৬৬৮২, ৭৫৬৩; সহীহ মুসলিম, মুসনাদে আহমদ)
.
জবান দিয়ে আমলে জন্য এ রকম আরও বহু তাসবীহ রয়েছে। আবার মুখ দিয়ে বিভিন্ন বিদআতি বাক্যও পাঠ করা হয়। যেমন: মিলাদে যে সব বাক্য পাঠ করা হয় তার অধিকাংশ বিদআত। আর মিলাদ হলো একটি বিদআতি আমল। কারণ রাসুল (ﷺ) ও তার সাহাবীগণ তা করেন নাই।
.
✔ ৩। শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দিয়ে আমল করা। যেমন: সালাত আদায় করা। সিয়াম পালন করা ইত্যাদি। সালাতে রুকু করতে, সিজদা করতে, কিয়াম করতে শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ব্যবহার করতে হয়। আর সিজদা করতে হয় শরীরের সাতটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দিয়ে। আবার সিয়াম রাখতেও শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ কাজে লাগাতে হয়। তাই সালাত ও সিয়াম হলো অঙ্গ প্রত্যঙ্গ-এর আমল।
.
✔ ৪। অর্থ দিয়ে আমল করা। যেমন: দান-সাদকাহ করা, যাকাত দেয়া। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন;
اتَّقُوا النَّارَ وَلَوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ فَإِنْ لَمْ تَجِدُوا فَبِكَلِمَةٍ طَيِّبَةٍ
তোমরা জাহান্নামের অগ্নি থেকে নিজেকে বাচাঁও, এক টুকরা খেজুরের বিনিময়ে হলেও। যদি তাও না পাও তবে উত্তম কথার বিনিময়ে হলেও। (সহীহুল বুখারী: হা/৬৫৬৩, ৬৫৪০, ১৪১৭, ৬০২৩, সহিহ মুসলিম: হা/২২৪০, ২২৩৯)
.
✔ ৫। আবার এমন একটি আমল রয়েছে যার জন্য অন্তর, মুখ, শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, এবং অর্থ সবগুলি প্রয়োজন। সেটা হলো হ্জ্জ। সামর্থবান প্রতিটি মুসলিমের জন্য জীবনে একবার হজ্জ করা ফরয। হজ্জের জন্য প্রথমে অন্তরে নিয়্যাত থাকতে হয়। হজ্জে যাওয়ার পর মুখে তালবীয়া পাঠ করতে হয়। শরীরের কষ্ট তো আছেই আর অর্থ ছাড়া হজ্জ করা সম্ভব না। রাসূল (ﷺ) এরশাদ করেন,
تَابِعُوا بَيْنَ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ فَإِنَّهُمَا يَنْفِيَانِ الْفَقْرَ وَالذُّنُوبَ كَمَا يَنْفِى الْكِيرُ خَبَثَ الْحَدِيدِ وَالذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَلَيْسَ لِلْحَجَّةِ الْمَبْرُورَةِ ثَوَابٌ إِلاَّ الْجَنَّةُ
‘তোমরা হজ্জ ও ওমরা পালনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখ। কেননা এতদুভয় দরিদ্রতা এবং গোনাহ দূর করে দেয়, যেমনিভাবে হাপর লোহা ও সোনা-রূপার ময়লা দূর করে। আর ক্ববূল হজ্জের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া কিছুই নয়’ (তিরমিযী, হা/৮১০; ইবনে খুযায়মা, হা/২৫১২; নাসা‘ঈ, হা/২৬৩১)

মহিলাদের সুগন্ধি ব্যবহার করে বাহিরে বের হওয়া নিষেধঃ

মহিলাদের সুগন্ধি ব্যবহার করে বাহিরে বের হওয়া নিষেধঃ
আবূ হুরাইরাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
لَا تَمْنَعُوا إِمَاءَ اللهِ مَسَاجِدَ اللهِ وَلَكِنْ لِيَخْرُجْنَ وَهُنَّ تَفِلَاتٌ
আল্লাহর বান্দীদেরকে আল্লাহর মসজিদে যেতে নিষেধ করো না। কিন্তু বের হওয়ার সময় তারা যেন সুগন্ধি ব্যবহার না করে। (আবূ দাউদ: ৫৬৫)
.
আবূ হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
لَا تُقْبَلُ صَلَاةٌ لِامْرَأَةٍ تَطَيَّبَتْ لِهَذَا الْمَسْجِدِ، حَتَّى تَرْجِعَ فَتَغْتَسِلَ غُسْلَهَا مِنَ الجَنَابَةِ
যে মহিলা খুশবু লাগিয়ে মসজিদে আসে, তার সালাত কবুল হয় না, যতক্ষণ না সে বাড়ী ফিরে ফরয গোসলের ন্যায় গোসল করে। (আবূ দাউদ: ৪১৭৪ ইবনে মাজাহ; ৪০০২)
.
আবূ মূসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ
إِذَا اسْتَعْطَرَتِ الْمَرْأَةُ، فَمَرَّتْ عَلَى الْقَوْمِ لِيَجِدُوا رِيحَهَا، فَهِيَ كَذَا وَكَذَا قَالَ قَوْلًا شَدِيدًا
কোন মহিলা যখন সুগন্ধি লাগিয়ে জনগনকে এর গন্ধ বিলায়ে তাদের পাশ দিয়ে যায়, তখন সে এমন ও এমন। একথা বলে তিনি তার জন্য খুবই কঠিন শব্দ ব্যবহার করেছেন। (আবূ দাউদ: ৪১৭৩, হাসান)
.
আবূ মূসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
كُلُّ عَيْنٍ زَانِيَةٌ وَالْمَرْأَةُ إِذَا اسْتَعْطَرَتْ فَمَرَّتْ بِالْمَجْلِسِ فَهِيَ كَذَا وَكَذَا يَعْنِي زَانِيَةً

প্রত্যেকটি চোখ ব্যভিচারী। কোন মহিলা যদি সুগন্ধি ব্যবহার করে কোন মজলিসের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে তবে সে এমন ও এমন অর্থাৎ সে ব্যভিচারিণী। (তিরমিযী: ২৭৮৬, হাসান)

যেসব বক্তা দ্বীন প্রচার করে কিন্তু নিজে আমল করে না, তাদের পরিণাম

যেসব বক্তা দ্বীন প্রচার করে কিন্তু নিজে আমল করে না, তাদের পরিণামঃ
আল্লাহ বলেন;
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِمَ تَقُولُونَ مَا لا تَفْعَلُونَ كَبُرَ مَقْتًا عِنْدَ اللَّهِ أَنْ تَقُولُوا مَا لا تَفْعَلُونَ
হে মুমিনগণ! তোমরা এমন কথা কেন বল যা তোমরা কর না? আল্লাহর কাছে অত্যন্ত নিন্দনীয় ব্যাপার যে, তোমরা এমন কথা বল যা তোমরা কর না। (আস-সাফ, ৬১/২-৩)
অন্যত্র আল্লাহ বলেন;
أَتَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبِرِّ وَتَنْسَوْنَ أَنْفُسَكُمْ وَأَنْتُمْ تَتْلُونَ الْكِتَابَ ۚ أَفَلَا تَعْقِلُونَ
তোমরা কি মানুষকে সৎকর্মের নির্দেশ দাও, আর নিজেদের কথা ভুলে যাও? অথচ তোমরা কিতাব অধ্যয়ন কর। তবে কি তোমরা কি বুঝবে না? (আল-বাকারাহ, ২/৪৪)
.
আবূ যায়দ উসামাহ ইবনু যায়দ ইবনু হারেসাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি;
يُؤْتَى بالرَّجُلِ يَوْمَ القيَامَةِ فَيُلْقَى في النَّارِ، فَتَنْدَلِقُ أقْتَابُ بَطْنِهِ فَيدُورُ بِهَا كَمَا يَدُورُ الحِمَارُ في الرَّحَى، فَيَجْتَمِعُ إِلَيْه أهْلُ النَّارِ، فَيَقُولُونَ : يَا فُلانُ، مَا لَكَ ؟ أَلَمْ تَكُ تَأمُرُ بالمعْرُوفِ وَتنهَى عَنِ المُنْكَرِ ؟ فَيقُولُ : بَلَى، كُنْتُ آمُرُ بِالمَعْرُوفِ وَلا آتِيهِ، وأنْهَى عَنِ المُنْكَرِ وَآتِيهِ
কিয়ামাত দিবসে এক ব্যক্তিকে উপস্থিত করা হবে। অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। ফলে আগুনে পুড়ে তার নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যাবে। এ সময় সে ঘুরতে থাকবে যেমন গাধা তার চাকা নিয়ে তার চারপাশে ঘুরতে থাকে। এ দেখে জাহান্নামীরা তার চারপাশে এসে একত্রিত হবে এবং তাকে বলবে, হে অমুক ব্যক্তি! তোমার এ অবস্থা কেন? তুমি কি ভালো কাজের আদেশ দিতে না এবং মন্দ কাজ হতে দূরে থাকতে বলতে না? জবাবে সে বলবে, হ্যাঁ, আমি সৎ কাজের আদেশ দিতাম; কিন্তু নিজেই তা পালন করতাম না এবং মন্দ কাজে নিষেধ করতাম, অথচ নিজেই আবার তা করতাম। (সহীহুল বুখারী: ৩২৬৭; সহিহ মুসলিম: ৭৩৭৩)

হিলফুল ফুযুল কি মুসলিমদের বা আহলে হাদীসদের কোন সংগঠন ছিল

হিলফুল ফুযুল কি মুসলিমদের বা আহলে হাদীসদের কোন সংগঠন ছিল? >>>
আরবি حِلْفُ الفُضُول এর উচ্চারণ হিলফুল ফুদু-ল কিন্তু বাংলায় আমরা উচ্চারণ করি হিলফুল ফুজুল। হিলফ শব্দের কয়েকটি অর্থ আছে; সংঘ, বন্ধুত্ব, মৈত্রী, শপথ, কসম, প্রতিজ্ঞা, হলফ, চুক্তি। আর (ফুদু-ল) فُضُول শব্দটি فَضْل (ফাদল) শব্দের বহুবচন। ফাদল অর্থ কল্যান, শান্তি, অবদান, এছাড়াও আরও কয়েকটি অর্থ আছে। হিলফুল ফুজুল এর শাব্দিক অর্থ বিভিন্ন রকম করা যেতে পারে তবে অধিকাংশরাই এর অর্থ করে থাকে শান্তির সংঘ বা কল্যাণের সংগঠন বা কল্যাণের শপথ।
এই সংঘ আরব যুবক হযরত মুহাম্মাদ (ﷺ) প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংঘ পবিত্র মক্কা শহরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মুহাম্মাদ (ﷺ) ইসলাম পুর্বযুগে এই সংঘ প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংগঠনের উদ্দেশ্য ছিল; পীড়িতদের সাহায্য দান, দুঃস্থদের আশ্রয় দান ও অসহায়দের সহায়তা করা। এই সংগঠনের ফলে মক্কায় অনেক বিপর্যয় থেকে রেহাই পায়। কাবা ঘরের কালো পাথর পুনঃপ্রতিষ্ঠার সময়ও এই সংঘ ভুমিকা রাখে। উপরের উল্লেখিত উদ্দেশ্যে এবং ঐ সংগঠনের আদলে সংগঠন হলে কোন দোষ নাই। কিন্তু
.
আহলে হাদীসদের একটি দল সংগঠন করতে হিলফুল ফুযুল-এর দলীল দেয়। এখন প্রশ্ন?
এই সংগঠনের আমির কে ছিল? এই সংগঠনের বায়আত কি নিয়েছিল? এই সংগঠনে কারা মুসলিম ছিল বা কারা আহলে হাদীস ছিল? তদুপরি এই সংগঠনটি ছিল মুহাম্মাদ (ﷺ) এর রিসালাত বা নাবুয়াত পাওয়ার আগের ঘটনা। এটি ইসলাম আসার পূর্বের ঘটনা। এটি ইসলামের দলীল হতে পারে না।
.
রাসূল (ﷺ) রিসালাত বা নাবুয়াত পাওয়ার আগে হেরা গুহায় ধ্যান করেছিলেন। এখন আমাদের জন্য হেরা গুহায় বা অন্য কোন গুহায় মুরাকাবা বা ধ্যান করা কি জায়েয হবে?
ওটাও তো ওনার সীরাত বা জীবনীতে আছে। যদি ধ্যান করা জায়েয না হয় তাহলে রাসূল (ﷺ) এর রিসালাত বা নাবুয়াতের আগের জীবন হিলফুল ফুযুল দিয়ে সংগঠন বা দল তৈরী করার দলীল হয় কিভাবে? আর যদি হিলফুল ফুযুল দিয়ে সংগঠন বা দল তৈরী করা জায়েয হয় তাহলে সুফিদের মুরাকাবা বা ধ্যান করাও জায়েয হবে। নিজের পছন্দের হলে দলীল গ্রহন করবেন আর পছন্দ না হলে গ্রহন করবেন না এটাই তো হলো প্রবৃত্তি। যদি হিলফুল ফুযুল আপনাদের দলীল হয় তাহলে যান বনে-জংগলে বা গুহায় যেয়ে ধ্যান, মুরাকাবা করেন। এতে অনেক ফয়দা হবে।
.
ধ্যান করা বা হিলফুল ফুযুল মুহাম্মাদ (ﷺ) এর জীবনের ঘটনা। ওটা রাসুলের জীবনের ঘটনা নয়।
আল্লাহর বাণী;
كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا
অবশ্যই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ, তাদের জন্য যারা আল্লাহ ও আখিরাত প্রত্যাশা করে আর আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে। আল-আহযাব, ৩৩/২১
উপরের আয়াতে মহান আল্লাহ মুহাম্মদের আদর্শ বলেন নাই বরং বলেছেন আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ। তাই আমাদের আদর্শ হবে মুহাম্মদ (ﷺ) রিসালতের পরের জীবন। হিলফুল ফুযুল এর দলিল দিয়ে যদি প্রত্যেকেই সংগঠন বানানো শুরু করেন আর প্রত্যেক দলে একজন করে আমির থাকে তাহলে মুসলিমদের মধ্যে হবে বহু দল আর ফের্কা
তৈরী হবে। আর এটাই হবে দলাদলী। মহান আল্লাহ বলেন,
إِنَّ ٱلَّذِينَ فَرَّقُواْ دِينَهُمۡ وَكَانُواْ شِيَعٗا لَّسۡتَ مِنۡهُمۡ فِي شَيۡءٍۚ إِنَّمَآ أَمۡرُهُمۡ إِلَى ٱللَّهِ ثُمَّ يُنَبِّئُهُم بِمَا كَانُواْ يَفۡعَلُونَ
‘নিশ্চয় যারা স্বীয় ধর্মকে খণ্ড-বিখণ্ড করেছে এবং অনেক দলে বিভক্ত হয়ে গেছে, তাদের সাথে আপনার কোন সম্পর্ক নেই। তাদের বিষয় আল্লাহ তা‘আলার নিকট সমর্পিত। অতঃপর তিনি তাদেরকে তাদের আমলের হিসাব দিয়ে দিবেন’ (আল-আন‘আম ১৫৯)।
আমাদের সকল মুসলিমকে একটি মাত্র দলে থাকতে হবে, যে দলে রাসুল (ﷺ) তার সাহাবাদেরকে রেখে গিয়েছিলেন সে দলে। অন্য কোন নতুন দল বানানো বা অন্য দলে যাওয়া মানে রাসুলের দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া। হকপন্থী হতে হলে রাসুলের জামআতে শামিল হতে হবে। এর কোন বিকল্প নেই।
.
শায়খ সালেহ ইবনে মুহাম্মাদ আল-লুহা’য়দান হা’ফিজাহুল্লাহ বলেন “সকল মুসলিমকে ঐক্যবদ্ধভাবে হাতে হাত মিলিয়ে এক দল হয়ে থাকতে হবে। কোনো মুসলিমের জন্য কোনো দল, জামাআ’ত বা সংগঠনে যোগ দেওয়া শোভনীয় নয়। এটিই হচ্ছে আল্লাহ নির্দেশিত এবং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রদর্শিত সরল সঠিক পথ। এ সোজা পথ ছেড়ে এখানে-সেখানে যোগ দেওয়ার অর্থই হলো নিজেকে এমন পথে পরিচালিত করা, যার শেষ গন্তব্য ধ্বংস বৈ কিছুই নয়! সেজন্য যুব সমাজের প্রতি আমার নসীহত হচ্ছেঃ তারা শরঈ’ জ্ঞান অর্জন করবে এবং কোনো কিছু বুঝতে সমস্যা হলে যোগ্য ও অভিজ্ঞ উলামায়ে কেরামকে জিজ্ঞেস করবে।”

কুর‘আন-সুন্নাহ্ থেকে নির্বাচিত দো‘আ সমূহ

কুর‘আন-সুন্নাহ্ থেকে নির্বাচিত দো‘আ সমূহ

কুর‘আন-সুন্নাহ্ থেকে নির্বাচিত দো‘আ সমূহ• কুরআনের নির্বাচিত দো‘আ:-১ ﴿ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻇَﻠَﻤۡﻨَﺎٓ ﺃَﻧﻔُﺴَﻨَﺎ ﻭَﺇِﻥ ﻟَّﻢۡ ﺗَﻐۡﻔِﺮۡ ﻟَﻨَﺎ ﻭَﺗَﺮۡﺣَﻤۡﻨَﺎ ﻟَﻨَﻜُﻮﻧَﻦَّ ﻣِﻦَ ﭐﻟۡﺨَٰﺴِﺮِﻳﻦَ ٢٣ ﴾ ‏[ ﺍﻻﻋﺮﺍﻑ : ٢٣ ‏](১) ‘হে আমাদের রব, আমরা নিজদের উপর যুল্ম করেছি। আর যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং আমাদেরকে রহম না করেন তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব।’ [1]-২ ﴿ ﺭَّﺏِّ ﭐﻏۡﻔِﺮۡ ﻟِﻲ ﻭَﻟِﻮَٰﻟِﺪَﻱَّ ﻭَﻟِﻤَﻦ ﺩَﺧَﻞَ ﺑَﻴۡﺘِﻲَ ﻣُﺆۡﻣِﻨٗﺎ ﻭَﻟِﻠۡﻤُﺆۡﻣِﻨِﻴﻦَ ﻭَﭐﻟۡﻤُﺆۡﻣِﻨَٰﺖِۖ ﻭَﻟَﺎ ﺗَﺰِﺩِ ﭐﻟﻈَّٰﻠِﻤِﻴﻦَ ﺇِﻟَّﺎ ﺗَﺒَﺎﺭَۢﺍ ٢٨ ﴾ ‏[ ﻧﻮﺡ : ٢٨ ‏](২) ‘হে আমার রব! আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে, যে আমার ঘরে ঈমানদার হয়ে প্রবেশ করবে তাকে এবং মুমিন নারী-পুরুষকে ক্ষমা করুন এবং ধ্বংস ছাড়া আপনি যালিমদের আর কিছুই বাড়িয়ে দেবেন না।’ [2]-৩ ﴿ ﺭَﺏِّ ﭐﺟۡﻌَﻠۡﻨِﻲ ﻣُﻘِﻴﻢَ ﭐﻟﺼَّﻠَﻮٰﺓِ ﻭَﻣِﻦ ﺫُﺭِّﻳَّﺘِﻲۚ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻭَﺗَﻘَﺒَّﻞۡ ﺩُﻋَﺎٓﺀِ ٤٠ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﭐﻏۡﻔِﺮۡ ﻟِﻲ ﻭَﻟِﻮَٰﻟِﺪَﻱَّ ﻭَﻟِﻠۡﻤُﺆۡﻣِﻨِﻴﻦَ ﻳَﻮۡﻡَ ﻳَﻘُﻮﻡُ ﭐﻟۡﺤِﺴَﺎﺏُ ٤١ ﴾ ‏[ ﺍﺑﺮﺍﻫﻴﻢ : ٤٠، ٤١ ‏](৩) ‘হে আমার রব, আমাকে সালাত কায়েমকারী বানান এবং আমার বংশধরদের মধ্য থেকেও, হে আমাদের রব,আর আমার দো‘আ কবুল করুন। হে আমাদের রব,যেদিন হিসাব কায়েম হবে, সেদিন আপনি আমাকে, আমার পিতামাতাকে ও মুমিনদেরকে ক্ষমা করে দিবেন।’ [3]-৪ ﴿ ﺭَّﺑَّﻨَﺎ ﻋَﻠَﻴۡﻚَ ﺗَﻮَﻛَّﻠۡﻨَﺎ ﻭَﺇِﻟَﻴۡﻚَ ﺃَﻧَﺒۡﻨَﺎ ﻭَﺇِﻟَﻴۡﻚَ ﭐﻟۡﻤَﺼِﻴﺮُ ٤﴾ ‏[ ﺍﻟﻤﻤﺘﺤﻨﺔ : ٤ ‏](৪) ‘হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা আপনার ওপরই ভরসা করি, আপনারই অভিমুখী হই আর প্রত্যাবর্তন তো আপনারই কাছে।’ [4]-৫ ﴿ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻟَﺎ ﺗَﺠۡﻌَﻠۡﻨَﺎ ﻓِﺘۡﻨَﺔٗ ﻟِّﻠَّﺬِﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮُﻭﺍْ ﻭَﭐﻏۡﻔِﺮۡ ﻟَﻨَﺎ ﺭَﺑَّﻨَﺎٓۖ ﺇِﻧَّﻚَ ﺃَﻧﺖَ ﭐﻟۡﻌَﺰِﻳﺰُ ﭐﻟۡﺤَﻜِﻴﻢُ ٥ ﴾ ‏[ ﺍﻟﻤﻤﺘﺤﻨﺔ : ٥ ‏](৫) ‘হে আমাদের রব, আপনি আমাদেরকে কাফিরদের উৎপীড়নের পাত্র বানাবেন না। হে আমাদের রব, আপনি আমাদের ক্ষমা করে দিন। নিশ্চয় আপনি মহাপরাক্রমশালী,প্রজ্ঞাময়।’ [5]-৬ ﴿ ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺏِّ ﭐﺷۡﺮَﺡۡ ﻟِﻲ ﺻَﺪۡﺭِﻱ ٢٥ ﻭَﻳَﺴِّﺮۡ ﻟِﻲٓ ﺃَﻣۡﺮِﻱ ٢٦ ﻭَﭐﺣۡﻠُﻞۡ ﻋُﻘۡﺪَﺓٗ ﻣِّﻦ ﻟِّﺴَﺎﻧِﻲ ٢٧ ﴾ ‏[ ﻃﻪ : ٢٥، ٢٧ ‏](৬) ‘হে আমার রব, আমার বুক প্রশস্ত করে দিন। এবং আমার কাজ সহজ করে দিন। আর আমার জিহবার জড়তা দূর করে দিন।’ [6]-৭ ﴿ ﺭَﺑَّﻨَﺎٓ ﺀَﺍﻣَﻨَّﺎ ﺑِﻤَﺎٓ ﺃَﻧﺰَﻟۡﺖَ ﻭَﭐﺗَّﺒَﻌۡﻨَﺎ ﭐﻟﺮَّﺳُﻮﻝَ ﻓَﭑﻛۡﺘُﺒۡﻨَﺎ ﻣَﻊَ ﭐﻟﺸَّٰﻬِﺪِﻳﻦَ ٥٣ ﴾ ‏[ ﺍﻝ ﻋﻤﺮﺍﻥ : ٥٣ ‏](৭) ‘হে আমাদের রব, আপনি যা নাযিল করেছেন তার প্রতি আমরা ঈমান এনেছি এবং আমরা রাসূলের অনুসরণ করেছি। অতএব,আমাদেরকে সাক্ষ্যদাতাদের তালিকাভুক্ত করুন।’ [7]-৮ ﴿ ﻓَﻘَﺎﻟُﻮﺍْ ﻋَﻠَﻰ ﭐﻟﻠَّﻪِ ﺗَﻮَﻛَّﻠۡﻨَﺎ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻟَﺎ ﺗَﺠۡﻌَﻠۡﻨَﺎ ﻓِﺘۡﻨَﺔٗ ﻟِّﻠۡﻘَﻮۡﻡِ ﭐﻟﻈَّٰﻠِﻤِﻴﻦَ ٨٥ ﻭَﻧَﺠِّﻨَﺎ ﺑِﺮَﺣۡﻤَﺘِﻚَ ﻣِﻦَ ﭐﻟۡﻘَﻮۡﻡِ ﭐﻟۡﻜَٰﻔِﺮِﻳﻦَ ٨٦ ﴾ ‏[ ﻳﻮﻧﺲ : ٨٥، ٨٦ ‏](৮) ‘তখন তারা বলল, ‘আমরা আল্লাহর উপরই তাওয়াক্কুল করলাম। হে আমাদের রব,আপনি আমাদেরকে যালিম কওমের ফিতনার পাত্র বানাবেন না। আর আমাদেরকে আপনার অনুগ্রহে কাফির কওম থেকে নাজাত দিন।’ [8]-৯ ﴿ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﭐﻏۡﻔِﺮۡ ﻟَﻨَﺎ ﺫُﻧُﻮﺑَﻨَﺎ ﻭَﺇِﺳۡﺮَﺍﻓَﻨَﺎ ﻓِﻲٓ ﺃَﻣۡﺮِﻧَﺎ ﻭَﺛَﺒِّﺖۡ ﺃَﻗۡﺪَﺍﻣَﻨَﺎ ﻭَﭐﻧﺼُﺮۡﻧَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﭐﻟۡﻘَﻮۡﻡِ ﭐﻟۡﻜَٰﻔِﺮِﻳﻦَ ١٤٧ ﴾ ‏[ ﺍﻝ ﻋﻤﺮﺍﻥ : ١٤٧ ‏](৯) ‘হে আমাদের রব, আমাদের পাপ ও আমাদের কর্মে আমাদের সীমালঙ্ঘন ক্ষমা করুন এবং অবিচল রাখুন আমাদের পদসমূহকে,আর কাফির কওমের উপর আমাদেরকে সাহায্য করুন’। [9]-১০ ﴿ ﺭَّﺏِّ ﭐﻏۡﻔِﺮۡ ﻭَﭐﺭۡﺣَﻢۡ ﻭَﺃَﻧﺖَ ﺧَﻴۡﺮُ ﭐﻟﺮَّٰﺣِﻤِﻴﻦَ ١١٨﴾ ‏[ ﺍﻟﻤﺆﻣﻨﻮﻥ : ١١٨ ‏](১০) ‘হে আমাদের রব, আপনি ক্ষমা করুন,দয়া করুন এবং আপনিই সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।’ [10]-১১ ﴿ ﺭَﺑَّﻨَﺎٓ ﺀَﺍﺗِﻨَﺎ ﻓِﻲ ﭐﻟﺪُّﻧۡﻴَﺎ ﺣَﺴَﻨَﺔٗ ﻭَﻓِﻲ ﭐﻟۡﺄٓﺧِﺮَﺓِ ﺣَﺴَﻨَﺔٗ ﻭَﻗِﻨَﺎ ﻋَﺬَﺍﺏَ ﭐﻟﻨَّﺎﺭِ ٢٠١ ﴾ ‏[ ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ : ٢٠١ ‏](১১) হে আমাদের রব, আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দিন। আর আখিরাতেও কল্যাণ দিন এবং আমাদেরকে আগুনের আযাব থেকে রক্ষা করুন। [11]-১২ ﴿ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻟَﺎ ﺗُﺆَﺍﺧِﺬۡﻧَﺎٓ ﺇِﻥ ﻧَّﺴِﻴﻨَﺎٓ ﺃَﻭۡ ﺃَﺧۡﻄَﺄۡﻧَﺎۚ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻭَﻟَﺎ ﺗَﺤۡﻤِﻞۡ ﻋَﻠَﻴۡﻨَﺎٓ ﺇِﺻۡﺮٗﺍ ﻛَﻤَﺎ ﺣَﻤَﻠۡﺘَﻪُۥ ﻋَﻠَﻰ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻣِﻦ ﻗَﺒۡﻠِﻨَﺎۚ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻭَﻟَﺎ ﺗُﺤَﻤِّﻠۡﻨَﺎ ﻣَﺎ ﻟَﺎ ﻃَﺎﻗَﺔَ ﻟَﻨَﺎ ﺑِﻪِۦۖ ﻭَﭐﻋۡﻒُ ﻋَﻨَّﺎ ﻭَﭐﻏۡﻔِﺮۡ ﻟَﻨَﺎ ﻭَﭐﺭۡﺣَﻤۡﻨَﺎٓۚ ﺃَﻧﺖَ ﻣَﻮۡﻟَﻯٰﻨَﺎ ﻓَﭑﻧﺼُﺮۡﻧَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﭐﻟۡﻘَﻮۡﻡِ ﭐﻟۡﻜَٰﻔِﺮِﻳﻦَ ٢٨٦ ﴾ ‏[ ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ : ٢٨٦ ‏](১২) ‘হে আমাদের রব, আমাদের উপর বোঝা চাপিয়ে দেবেন না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর চাপিয়ে দিয়েছেন। হে আমাদের রব, আপনি আমাদেরকে এমন কিছু বহন করাবেন না, যার সামর্থ্য আমাদের নেই। আর আপনি আমাদেরকে মার্জনা করুন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন, আর আমাদের উপর দয়া করুন। আপনি আমাদের অভিভাবক। অতএব আপনি কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন।’ [12]-১৩ ﴿ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻟَﺎ ﺗُﺰِﻍۡ ﻗُﻠُﻮﺑَﻨَﺎ ﺑَﻌۡﺪَ ﺇِﺫۡ ﻫَﺪَﻳۡﺘَﻨَﺎ ﻭَﻫَﺐۡ ﻟَﻨَﺎ ﻣِﻦ ﻟَّﺪُﻧﻚَ ﺭَﺣۡﻤَﺔًۚ ﺇِﻧَّﻚَ ﺃَﻧﺖَ ﭐﻟۡﻮَﻫَّﺎﺏُ ٨ ﴾ ‏[ ﺍﻝ ﻋﻤﺮﺍﻥ : ٨ ‏](১৩) ‘হে আমাদের রব, আপনি হিদায়াত দেয়ার পর আমাদের অন্তরসমূহ বক্র করবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদেরকে রহমত দান করুন। নিশ্চয় আপনি মহাদাতা।’[13]-১৪ ﴿ ﻭَﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻳَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻫَﺐۡ ﻟَﻨَﺎ ﻣِﻦۡ ﺃَﺯۡﻭَٰﺟِﻨَﺎ ﻭَﺫُﺭِّﻳَّٰﺘِﻨَﺎ ﻗُﺮَّﺓَ ﺃَﻋۡﻴُﻦٖ ﻭَﭐﺟۡﻌَﻠۡﻨَﺎ ﻟِﻠۡﻤُﺘَّﻘِﻴﻦَ ﺇِﻣَﺎﻣًﺎ ٧٤ ﴾ ‏[ ﺍﻟﻔﺮﻗﺎﻥ : ٧٣ ‏](১৪) ‘হে আমাদের রব, আপনি আমাদেরকে এমন স্ত্রী ও সন্তানাদি দান করুন যারা আমাদের চক্ষু শীতল করবে। আর আপনি আমাদেরকে মুত্তাকীদের নেতা বানিয়ে দিন’। [14]-১৫ ﴿ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﭐﻏۡﻔِﺮۡ ﻟَﻨَﺎ ﻭَﻟِﺈِﺧۡﻮَٰﻧِﻨَﺎ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺳَﺒَﻘُﻮﻧَﺎ ﺑِﭑﻟۡﺈِﻳﻤَٰﻦِ ﻭَﻟَﺎ ﺗَﺠۡﻌَﻞۡ ﻓِﻲ ﻗُﻠُﻮﺑِﻨَﺎ ﻏِﻠّٗﺎ ﻟِّﻠَّﺬِﻳﻦَ ﺀَﺍﻣَﻨُﻮﺍْ ﺭَﺑَّﻨَﺎٓ ﺇِﻧَّﻚَ ﺭَﺀُﻭﻑٞ ﺭَّﺣِﻴﻢٌ ١٠﴾ ‏[ ﺍﻟﺤﺸﺮ : ١٠ ‏](১৫) ‘হে আমাদের রব, আমাদেরকে ও আমাদের ভাই যারা ঈমান নিয়ে আমাদের পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে তাদেরকে ক্ষমা করুন; এবং যারা ঈমান এনেছিল তাদের জন্য আমাদের অন্তরে কোন বিদ্বেষ রাখবেন না; হে আমাদের রব, নিশ্চয় আপনি দয়াবান,পরম দয়ালু।[15]-১৬ ﴿ ﺭَﺑَّﻨَﺎٓ ﺃَﺗۡﻤِﻢۡ ﻟَﻨَﺎ ﻧُﻮﺭَﻧَﺎ ﻭَﭐﻏۡﻔِﺮۡ ﻟَﻨَﺎٓۖ ﺇِﻧَّﻚَ ﻋَﻠَﻰٰ ﻛُﻞِّ ﺷَﻲۡﺀٖ ﻗَﺪِﻳﺮٞ ٨ ﴾ ‏[ ﺍﻟﺘﺤﺮﻳﻢ : ٨ ‏](১৬) ‘হে আমাদের রব, আমাদের জন্য আমাদের আলো পূর্ণ করে দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন; নিশ্চয় আপনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান।’ [16]-১৭ ﴿ ﺭَﺑَّﻨَﺎٓ ﺇِﻧَّﻨَﺎٓ ﺀَﺍﻣَﻨَّﺎ ﻓَﭑﻏۡﻔِﺮۡ ﻟَﻨَﺎ ﺫُﻧُﻮﺑَﻨَﺎ ﻭَﻗِﻨَﺎ ﻋَﺬَﺍﺏَ ﭐﻟﻨَّﺎﺭِ ١٦﴾ ‏[ ﺍﻝ ﻋﻤﺮﺍﻥ : ١٦ ‏](১৭) ‘হে আমাদের রব, নিশ্চয় আমরা ঈমান আনলাম। অতএব, আমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করুন এবং আমাদেরকে আগুনের আযাব থেকে রক্ষা করুন’। [17]-১৮ ﴿ﺭَﺏِّ ﭐﺟۡﻌَﻞۡ ﻫَٰﺬَﺍ ﭐﻟۡﺒَﻠَﺪَ ﺀَﺍﻣِﻨٗﺎ ﻭَﭐﺟۡﻨُﺒۡﻨِﻲ ﻭَﺑَﻨِﻲَّ ﺃَﻥ ﻧَّﻌۡﺒُﺪَ ﭐﻟۡﺄَﺻۡﻨَﺎﻡَ ٣٥﴾ ‏[ ﺍﺑﺮﺍﻫﻴﻢ : ٣٥ ‏](১৮) ‘হে আমার রব, আপনি এ শহরকে নিরাপদ করে দিন এবং আমাকে ও আমার সন্তানদেরকে মূর্তি পূজা থেকে দূরে রাখুন’। [18]-১৯ ﴿ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻟَﺎ ﺗَﺠۡﻌَﻠۡﻨَﺎ ﻣَﻊَ ﭐﻟۡﻘَﻮۡﻡِ ﭐﻟﻈَّٰﻠِﻤِﻴﻦَ ٤٧ ﴾ ‏[ ﺍﻻﻋﺮﺍﻑ : ٤٧ ‏](১৯) ‘হে আমাদের রব, আমাদেরকে যালিম কওমের অন্তর্ভুক্ত করবেন না’। [19]-২০ ﴿ ﺣَﺴۡﺒِﻲَ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﻟَﺎٓ ﺇِﻟَٰﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﻫُﻮَۖ ﻋَﻠَﻴۡﻪِ ﺗَﻮَﻛَّﻠۡﺖُۖ ﻭَﻫُﻮَ ﺭَﺏُّ ﭐﻟۡﻌَﺮۡﺵِ ﭐﻟۡﻌَﻈِﻴﻢِ ١٢٩ ﴾ ‏[ ﺍﻟﺘﻮﺑﺔ : ١٢٩ ‏](২০) ‘আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। আমি তাঁরই উপর তাওয়াক্কুল করেছি। আর তিনিই মহাআরশের রব।’ [20]• হাদীসের নির্বাচিত দো‘আ:.1 ‏« ﺍَﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺃَﻋِﻨِّﺎ ﻋَﻠَﻰ ﺫِﻛْﺮِﻙَ ﻭَﺷُﻜْﺮِﻙَ ﻭَﺣُﺴْﻦِ ﻋِﺒَﺎﺩَﺗِﻚَ ‏»(১) ‘হে আল্লাহ! তোমার যিকর করার,তোমার শুকরিয়া জ্ঞাপন করার এবং তোমার ইবাদত সঠিক ও সুন্দরভাবে সম্পাদন করার কাজে আমাকে সহায়তা কর।’ [21].2 ‏« ﺍَﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺇِﻧِّﻲ ﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺒُﺨْﻞِ، ﻭَﺃُﻋُﻮﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺠُﺒْﻦِ، ﻭَﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻚَ ﻣﻦ ﺃَﻥْ ﺃُﺭَﺩَّ ﺇِﻟَﻰ ﺃَﺭْﺫَﻝِ ﺍﻟْﻌُﻤُﺮِ، ﻭَﺃُﻋُﻮﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦْ ﻓِﺘْﻨَﺔِ ﺍﻟﺪُّﻧْﻴَﺎ، ﻭَ ﻣِﻦْ ﻋَﺬَﺍﺏِ ﺍﻟْﻘَﺒْﺮِ ‏» .(২) ‘হে আল্লাহ! আমি আশ্রয় চাচ্ছি কৃপণতা থেকে এবং আশ্রয় চাচ্ছি কাপুরুষতা থেকে। আর আশ্রয় চাচ্ছি বার্ধক্যের চরম পর্যায় থেকে। দুনিয়ার ফিতনা-ফাসাদ ও কবরের আযাব থেকে।’ [22].3 ‏« ﺍَﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺇِﻧِّﻲ ﻇَﻠَﻤْﺖُ ﻧَﻔْﺴِﻲ ﻇُﻠْﻤﺎً ﻛَﺜِﻴﺮﺍً، ﻭَﻻَ ﻳَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﺬُّﻧُﻮﺏَ ﺇِﻻَّ ﺃَﻧْﺖَ، ﻓَﺎﻏْﻔِﺮْ ﻟِﻲ ﻣَﻐْﻔِﺮَﺓً ﻣِﻦْ ﻋِﻨْﺪِﻙَ، ﻭَﺍﺭْﺣَﻤْﻨِﻲ ﺇِﻧَّﻚَ ﺃَﻧْﺖَ ﺍﻟْﻐَﻔُﻮﺭُ ﺍﻟﺮَّﺣِﻴﻢُ ‏»(৩) ‘হে আল্লাহ, আমি আমার নিজের উপর অনেক বেশি জুলুম করেছি আর তুমি ছাড়া গুনাহ্সমূহ কেউই মাফ করতে পারে না। সুতরাং তুমি তোমার নিজ গুণে মার্জনা করে দাও এবং আমার প্রতি তুমি রহম কর। তুমি তো মার্জনাকারী ও দয়ালু।’ [23].4 ‏« ﺍَﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺣَﺒِّﺐْ ﺇِﻟَﻴْﻨَﺎ ﺍﻹِِﻳﻤَﺎﻥَ ﻭَﺯَﻳِّﻨْﻪُ ﻓِﻲ ﻗُﻠُﻮﺑِﻨَﺎ، ﻭَﻛَﺮِّﻩْ ﺇِﻟَﻴْﻨَﺎ ﺍﻟْﻜُﻔْﺮَ ﻭَﺍﻟْﻔُﺴُﻮﻕَ ﻭَﺍﻟْﻌِﺼْﻴَﺎﻥَ، ﻭَﺍﺟْﻌَﻠْﻨَﺎ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺮَّﺍﺷِﺪِﻳﻦَ، ﺍَﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺗَﻮَﻓَّﻨَﺎ ﻣُﺴْﻠِﻤِﻴﻦَ ﻭَﺃَﺣْﻴِﻨَﺎ ﻣُﺴْﻠِﻤِﻴﻦَ، ﻭَﺃَﻟْﺤِﻘْﻨَﺎ ﺑِﺎﻟﺼَّﺎﻟِﺤِﻴﻦَ ﻏَﻴْﺮَ ﺧَﺰَﺍﻳَﺎ ﻭَﻻَ ﻣَﻔْﺘُﻮﻧِﻴﻦَ ‏» .(৪) ‘হে আল্লাহ! তুমি ঈমানকে আমাদের নিকট সুপ্রিয় করে দাও এবং তা আমাদের অন্তরে সুশোভিত করে দাও। কুফর, অবাধ্যতা ও পাপাচারকে আমাদের অন্তরে ঘৃণিত করে দাও, আর আমাদেরকে হেদায়েত প্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত করে নাও। হে আল্লাহ! আমাদেরকে মুসলমান হিসেবে মৃত্যু দাও। আমাদের মুসলমান হিসেবে বাঁচিয়ে রাখ। লাঞ্ছিত ও বিপর্যস্ত না করে আমাদেরকে সৎকর্মশীলদের সাথে সম্পৃক্ত কর।[24].5 ‏« ﺍَﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺭَﺣْﻤَﺘَﻚَ ﺃَﺭْﺟُﻮ، ﻓَﻼَ ﺗَﻜِﻠْﻨِﻲ ﺇِﻟَﻰ ﻧَﻔْﺴِﻲ ﻃَﺮْﻓَﺔَ ﻋَﻴْﻦٍ، ﻭَﺃَﺻْﻠِﺢْ ﻟِﻲ ﺷَﺄْﻧِﻲ ﻛُﻠَّﻪُ ﻻَ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻَّ ﺃَﻧْﺖَ ‏» .(৫) হে আল্লাহ! তোমারই রহমতের আকাঙ্ক্ষী আমি। সুতরাং এক পলকের জন্যও তুমি আমাকে আমার নিজের ওপর ছেড়ে দিয়ো না। তুমি আমার সমস্ত বিষয় সুন্দর করে দাও। তুমি ভিন্ন প্রকৃত কোনো মা‘বুদ নেই। [25].6 ‏« ﻻَ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻَّ ﺍﻟﻠﻪُ ﺍﻟْﺤَﻠِﻴﻢُ ﺍﻟْﻌَﻈِﻴﻢُ، ﻻَ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻَّ ﺍﻟﻠﻪُ ﺭَﺏُّ ﺍﻟْﻌَﺮْﺵِ ﺍﻟْﻜَﺮِﻳْﻢِ، ﻻَ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻَّ ﺍﻟﻠﻪُ ﺭَﺏُّ ﺍﻟﺴَّﻤَﻮَﺍﺕِ ﻭَﺭَﺏُّ ﺍﻷَﺭْﺽِ ﺭَﺏُّ ﺍﻟْﻌَﺮْﺵِ ﺍﻟْﻌَﻈِﻴﻢِ ‏» .(৬) আল্লাহ ছাড়া কোনো মা‘বুদ নেই, যিনি সহনশীল, মহীয়ান। আল্লাহ ছাড়া কোনো মা‘বুদ নেই, যিনি সুমহান আরশের রব। আল্লাহ ছাড়া কোনো মা‘বুদ নেই। তিনি আকাশমণ্ডলীর রব, যমিনের রব এবং সুমহান আরশের রব। [26].7 ‏« ﺍَﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺃَﻧْﺖَ ﺍﻷَﻭَّﻝُ ﻓَﻠَﻴْﺲَ ﻗَﺒْﻠَﻚَ ﺷَﻲْﺀٌ، ﻭَﺃَﻧْﺖَ ﺍﻵﺧِﺮُ ﻓَﻠَﻴْﺲَ ﺑَﻌْﺪَﻙَ ﺷَﻲْﺀٌ، ﻭَﺃَﻧْﺖَ ﺍﻟﻈَّﺎﻫِﺮُ ﻓَﻠَﻴْﺲَ ﻓَﻮْﻗَﻚَ ﺷَﻲْﺀٌ، ﻭَﺃَﻧْﺖَ ﺍﻟْﺒَﺎﻃِﻦُ ﻓَﻠَﻴْﺲَ ﺩُﻭﻧَﻚَ ﺷَﻲْﺀٌ، ﺍِﻗْﺾِ ﻋَﻨِّﻲ ﺍﻟﺪَّﻳْﻦَ ﻭَﺃَﻏْﻨِﻨِﻲ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻔَﻘْﺮِ ‏» .(৭) ‘হে আল্লাহ! তুমিই প্রথম, তোমার পূর্বে কিছু নেই। তুমিই সর্বশেষ, তোমার পরে কিছু নেই। তুমি সবার ওপর, তোমার ওপরে কিছুই নেই। তুমি সবচে’ কাছের, তোমার চেয়ে নিকটবর্তী কিছুই নেই; তুমি আমার ঋণ পরিশোধ করে দাও আমাকে দারিদ্র্যমুক্ত করে অমুখাপেক্ষী কর।’ [27].8 ‏« ﺍَﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺍﻛْﻔِﻨِﻲ ﺑِﺤَﻼَﻟِﻚَ ﻋَﻦْ ﺣَﺮَﺍﻣِﻚَ، ﻭَﺃَﻏْﻨِﻨِﻲ ﺑِﻔَﻀْﻠِﻚَ ﻋَﻤَّﻦْ ﺳِﻮَﺍﻙَ ‏» .(৮) ‘হে আল্লাহ! তুমি তোমার হারাম বস্তু হতে বাঁচিয়ে তোমার হালাল বস্তু দিয়ে আমার প্রয়োজন মিটিয়ে দাও এবং তোমার অনুগ্রহ দ্বারা সমৃদ্ধ করে। তুমি ভিন্ন অন্য সবার থেকে আমাকে অমুখাপেক্ষী করে দাও।’ [28].9 ‏« ﺍَﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺇِﻧِّﻲ ﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦْ ﻋَﺬَﺍﺏِ ﺟَﻬَﻨَّﻢَ، ﻭَﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦْ ﻋَﺬَﺍﺏِ ﺍﻟْﻘَﺒْﺮِ، ﻭَﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦْ ﺷَﺮِّ ﺍﻟْﻤَﺴِﻴﺢِ ﺍﻟﺪَّﺟَّﺎﻝِ، ﻭَﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦْ ﻓِﺘْﻨَﺔِ ﺍﻟْﻤَﺤْﻴَﺎ ﻭَﺍﻟْﻤَﻤَﺎﺕِ ‏» .(৯) ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার আশ্রয় চাচ্ছি জাহান্নামের আযাব হতে, কবরের আযাব হতে, মসিহ দাজ্জালের অনিষ্ট হতে এবং জীবন মৃত্যুর ফেতনা হতে।’ [29].10 ‏« ﺍَﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺇِﻧِّﻲ ﺃَﺳْﺎَﻟُﻚَ ﺑِﺄَﻧِّﻲ ﺃَﺷْﻬَﺪُ ﺃَﻧَّﻚَ ﺃَﻧْﺖَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻻَ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻَّ ﺃَﻧْﺖَ ﺍﻷَﺣَﺪُ ﺍﻟﺼَّﻤَﺪُ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻟَﻢْ ﻳَﻠِﺪْ ﻭَﻟَﻢْ ﻳُﻮﻟَﺪْ، ﻭَﻟَﻢْ ﻳَﻜُﻦْ ﻟَﻪُ ﻛُﻔْﻮًﺍ ﺃَﺣَﺪٌ ‏» .(১০) ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে চাই;কেননা আমি সাক্ষ্য দিই যে- তুমিই আল্লাহ। তুমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তুমি এক অদ্বিতীয়। সকল কিছুই যার মুখাপেক্ষী। যিনি জন্ম দেননি এবং জন্ম নেননি এবং যার সমকক্ষ কেউ নেই।’ [30].11 ‏« ﺍَﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺇِﻧِّﻲ ﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦْ ﺟَﻬْﺪِ ﺍﻟْﺒَﻼَﺀِ، ﻭَﺳُﻮﺀِ ﺍﻟْﻘَﻀَﺎﺀِ، ﻭَﻣِﻦْ ﺩَﺭَﻙِ ﺍﻟﺸَّﻘَﺎﺀِ، ﻭَﺷَﻤَﺎﺗَﺔِ ﺍﻷَﻋْﺪَﺍﺀِ ‏» .(১১) ‘হে আল্লাহ! আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি বিপদের কষ্ট, নিয়তির অমঙ্গল,দুর্ভাগ্যের স্পর্শ ও বিপদে শত্রু উপহাস হতে।’ [31].12 ‏« ﺍَﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺇِﻧِّﻲ ﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺸِّﻘَﺎﻕِ، ﻭَﺍﻟﻨِّﻔَﺎﻕِ، ﻭَﺳُﻮﺀِ ﺍﻷَﺧْﻼَﻕِ ‏» .(১২) ‘হে আল্লাহ! আমি সকল বিরোধ,কপটতা-মুনাফেকি এবং বদ চরিত্র হতে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’ [32].13 ‏« ﺍَﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺍﻏْﻔِﺮْ ﻟِﻲ ﺫَﻧْﺒِﻲ ﻛُﻠَّﻪُ، ﺩِﻗَّﻪُ ﻭَﺟِﻠَّﻪُ، ﻭَﻋَﻼَﻧِﻴَﺘَﻪُ ﻭَﺳِﺮَّﻩُ، ﻭَﺃَﻭَّﻟَﻪُ ﻭَﺁﺧِﺮَﻩُ ‏» .(১৩) ‘হে আল্লাহ! আমার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দাও ছোট গুনাহ, বড় গুনাহ, প্রকাশ্য ও গোপন গুনাহ, আগের গুনাহ, পরের গুনাহ।’ [33].14 ‏« ﺍَﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺍﻫْﺪِﻧَﺎ ﻓِﻴﻤَﻦْ ﻫَﺪَﻳْﺖَ، ﻭَﻋَﺎﻓِﻨَﺎ ﻓِﻴﻤَﻦْ ﻋَﺎﻓَﻴْﺖَ، ﻭَﺗَﻮَﻟَّﻨَﺎ ﻓِﻴﻤَﻦْ ﺗَﻮَﻟَّﻴْﺖَ، ﻭَﺑَﺎﺭِﻙْ ﻟَﻨَﺎ ﻓِﻴﻤَﺎ ﺃَﻋْﻄَﻴْﺖَ، ﻭَﻗِﻨَﺎ ﺷَﺮَّ ﻣَﺎ ﻗَﻀَﻴْﺖَ، ﺇِﻧَّﻚَ ﺗَﻘْﻀِﻲ ﻭَﻻَ ﻳُﻘْﻀَﻰ ﻋَﻠَﻴْﻚَ، ﻭَﺇِﻧَّﻪُ ﻻَ ﻳَﺬِﻝُّ ﻣَﻦْ ﻭَﺍﻟَﻴْﺖَ،ﻭَﻻ ﻳَﻌﺰُّ ﻣَﻦ ﻋَﺎﺩَﻳﺖَ , ﺗَﺒَﺎﺭَﻛْﺖَ ﺭﺑَّﻨَﺎ ﻭَﺗَﻌَﺎﻟَﻴْﺖَ ‏» .(১৪) ‘হে আল্লাহ! তুমি যাদেরকে হেদায়েত করেছ, আমাদেরকে তাদের অন্তর্ভুক্ত কর। তুমি যাদেরকে নিরাপদ রেখেছ আমাদেরকে তাদের দলভুক্ত কর। তুমি যাদের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছ,আমাদেরকে তাদের দলভুক্ত করো। তুমি আমাদেরকে যা দিয়েছ তাতে বরকত দাও। তুমি যে অমঙ্গল নির্দিষ্ট করেছ তা হতে আমাদেরকে রক্ষা করো। কারণ তুমিই তো ফয়সালা কর। তোমার ওপরে তো কেউ ফয়সালা করার নেই। তুমি যার অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছ, সে কোনো দিন অপমানিত হবে না এবং তুমি যার সাথে শত্রুতা করেছ, সে কখনো সম্মানিত হতে পাবে না। হে আমাদের রব! তুমি বরকতময় ও সুমহান।’ [34].15 ‏« ﺍَﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺍﺟْﻌَﻞْ ﻓِﻲ ﻗَﻠْﺒِﻲ ﻧُﻮﺭًﺍ، ﻭَﻓِﻲ ﺳَﻤْﻌِﻲ ﻧُﻮﺭًﺍ، ﻭَﻓِﻲ ﺑَﺼَﺮِﻱ ﻧُﻮﺭًﺍ، ﻭَﻣِﻦْ ﺑَﻴْﻦِ ﻳَﺪَﻱَّ ﻧُﻮﺭًﺍ، ﻭَﻣِﻦْ ﺧَﻠْﻔِﻲ ﻧُﻮﺭًﺍ، ﻭَﻋَﻦْ ﻳَﻤِﻴﻨِﻲ ﻧُﻮﺭًﺍ، ﻭَﻋَﻦْ ﺷِﻤَﺎﻟِﻲ ﻧُﻮﺭًﺍ، ﻭَﻣِﻦْ ﻓَﻮْﻗِﻲ ﻧُﻮﺭًﺍ، ﻭَﻣِﻦْ ﺗَﺤْﺘِﻲ ﻧُﻮﺭًﺍ، ﻭَﺃَﻋْﻈِﻢْ ﻟِﻲ ﻧُﻮﺭًﺍ ﻳَﺎ ﺭَﺏَّ ﺍﻟْﻌَﺎﻟَﻤِﻴﻦَ ‏» .(১৫) ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার অন্তরে নূর প্রদান কর। আমার কর্ণে নূর দাও। আমার চোখে নূর দাও। আমার সম্মুখে নূর দাও। আমার পশ্চাতে নূর দাও। আমার ডানে নূর দাও। আমার বামে নূর দাও। আমার ওপরে নূর দাও। আমার নিচে নূর দাও। আর হে সৃষ্টিকুলের রব, আমার নূরকে তুমি প্রশস্ত করে দাও।’ [35].16 ‏« ﻳَﺎ ﻣُﻘَﻠِّﺐَ ﺍﻟْﻘُﻠُﻮﺏِ ﺛَﺒِّﺖْ ﻗَﻠْﺒِﻲ ﻋَﻠَﻰ ﺩِﻳﻨِﻚَ ‏» .(১৬) হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! তোমার দীনের ওপর আমার অন্তরকে অবিচল রাখ।[36][1] . আরাফ ২৩।[2] . নূহ : ২৮।[3] . ইবরাহীম : ৪০-৪১।[4] . মুমতাহিনা : ৪।[5] . মুমতাহিনা : ৫।[6] . ত্বা-হা : ২৫-২৭।[7] . আলে-ইমরান : ৫৩।[8] . ইউনুস : ৮৬।[9] . আলে-ইমরান : ১৪৭।[10]. মুমিনুন : ১১৮।[11]. বাকারা : ২০১।[12]. বাকারা : ২৮৬।[13]. আলে-ইমরান : ৮।[14]. ফুরকান : ৭৪।[15]. হাশর : ১০।[16]. তাহরীম : ৮।[17]. আলে-ইমরান : ১৬।[18]. ইবরাহীম : ৩৫।[19]. আরাফ : ৪৭।[20]. তওবা : ১২৯।[21]. হাকিম : ১/৪৯৯।[22]. বুখারী : ৫৮৮৮।[23]. বুখারী : ৫৮৫১।[24]. আহমদ : ১৪৯৪৫।[25]. আবূ দাউদ : ৪৪২৬।[26]. আহমদ : ৩২৮৬।[27]. মুসলিম : ৪৮৮৮।[28]. তিরমিযী : ৩৪৮৬।[29]. মুসলিম : ৯৩০।[30]. তিরমিযী : ৩৩৯৭।[31]. বুখারী : ৫৮৭১।[32]. বুখারী : ৫৩৭৬।[33]. মুসলিম : ৭৪৫।[34]. তিরমিযী : ৪২৬।[35]. মুসলিম : ১২৭৯।[36]. তিরমিযী : ৩৪৪৪।_________________________________________________________________________________

আল-কোরআন ও সুন্নাহ হতে সংকলিত শরীয়তসম্মত উপায়ে ঝাড়-ফুঁক

আল-কোরআন ও সুন্নাহ হতে সংকলিত শরীয়তসম্মত উপায়ে ঝাড়-ফুঁক

শরীয়ত সম্মত উপায়ে ঝাড়-ফুঁক করার শর্তাবলী
১- ঝাড়-ফুঁক হতে হবে আল্লাহর কোরআন অথবা, তাঁর নামসমূহ অথবা তাঁর গুনাবলীসমূহ দ্বারা।
২- ঝাড়-ফুঁক হতে হবে আরবী বা অন্য যে কোনো ভাষায়, যার অর্থ জানা যায়।
৩- এ কথায় দৃঢ় বিশ্বাস রাখতে হবে যে, (রোগ চিকিৎসায়) ঝাড়-ফুঁকের কোনোই ক্ষমতা নাই, বরং রোগ শিফা’র সকল ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলারই।
৪- ঝাড়-ফুঁক যেন হারাম অবস্থায় না হয় অর্থাৎ নাপাক অবস্থায় অথবা, কবর বা পায়খানায় বসে ঝাড়-ফুঁক করা যাবে না।
আল-কোরআনে বর্ণিত ঝাড়-ফুঁক সংক্রান্ত আয়াতসমূহ
১- সূরা আল-ফাতিহা।
﴿ ﺑِﺴۡﻢِ ﭐﻟﻠَّﻪِ ﭐﻟﺮَّﺣۡﻤَٰﻦِ ﭐﻟﺮَّﺣِﻴﻢِ ١ ﭐﻟۡﺤَﻤۡﺪُ ﻟِﻠَّﻪِ ﺭَﺏِّ ﭐﻟۡﻌَٰﻠَﻤِﻴﻦَ ٢ ﭐﻟﺮَّﺣۡﻤَٰﻦِ ﭐﻟﺮَّﺣِﻴﻢِ ٣ ﻣَٰﻠِﻚِ ﻳَﻮۡﻡِ ﭐﻟﺪِّﻳﻦِ ٤ ﺇِﻳَّﺎﻙَ ﻧَﻌۡﺒُﺪُ ﻭَﺇِﻳَّﺎﻙَ ﻧَﺴۡﺘَﻌِﻴﻦُ ٥ ﭐﻫۡﺪِﻧَﺎ ﭐﻟﺼِّﺮَٰﻁَ ﭐﻟۡﻤُﺴۡﺘَﻘِﻴﻢَ ٦ ﺻِﺮَٰﻁَ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺃَﻧۡﻌَﻤۡﺖَ ﻋَﻠَﻴۡﻬِﻢۡ ﻏَﻴۡﺮِ ﭐﻟۡﻤَﻐۡﻀُﻮﺏِ ﻋَﻠَﻴۡﻬِﻢۡ ﻭَﻟَﺎ ﭐﻟﻀَّﺎٓﻟِّﻴﻦَ ٧ ﴾ ‏[ ﺍﻟﻔﺎﺗﺤﺔ : ١، ٧ ‏]
(১) “আল্লাহর নামে শুরু করছি, যিনি পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু। (২) সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা‘আলার জন্য, যিনি সকল সৃষ্টিজগতের একাম্ত পরিচালনাকারী ও মালিক (৩) যিনি পরম দয়ালু, অতিশয় করুণাময়। (৪) যিনি বিচারদিনের মালিক। (৫) আমরা একমাত্র আপনারই ‘ইবাদত করি আর আপনারই নিকট সাহায্য চাই। (৬) আমাদেরকে সরলপথ প্রদান করুন। তাদের পথে, যাদেরকে আপনি নে‘মত দান করেছেন। (৭) তাদের পথে নয়, যারা আপনার পক্ষ হতে গযবপ্রাপ্ত (অর্থাৎ, ইহুদীগণ)। আর তাদের পথেও নয়, যারা পথভ্রষ্ট (গোমরাহ) হয়েছে” (অর্থাৎ, খৃষ্টানগণ)। আমীন।
২- সূরা আল-বাক্বারার ১, ২, ৩, ৪ ও ৫ আয়াত।
﴿ ﺍﻟٓﻢٓ ١ ﺫَٰﻟِﻚَ ﭐﻟۡﻜِﺘَٰﺐُ ﻟَﺎ ﺭَﻳۡﺐَۛ ﻓِﻴﻪِۛ ﻫُﺪٗﻯ ﻟِّﻠۡﻤُﺘَّﻘِﻴﻦَ ٢ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻳُﺆۡﻣِﻨُﻮﻥَ ﺑِﭑﻟۡﻐَﻴۡﺐِ ﻭَﻳُﻘِﻴﻤُﻮﻥَ ﭐﻟﺼَّﻠَﻮٰﺓَ ﻭَﻣِﻤَّﺎ ﺭَﺯَﻗۡﻨَٰﻬُﻢۡ ﻳُﻨﻔِﻘُﻮﻥَ ٣ ﻭَﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻳُﺆۡﻣِﻨُﻮﻥَ ﺑِﻤَﺎٓ ﺃُﻧﺰِﻝَ ﺇِﻟَﻴۡﻚَ ﻭَﻣَﺎٓ ﺃُﻧﺰِﻝَ ﻣِﻦ ﻗَﺒۡﻠِﻚَ ﻭَﺑِﭑﻟۡﺄٓﺧِﺮَﺓِ ﻫُﻢۡ ﻳُﻮﻗِﻨُﻮﻥَ ٤ ﺃُﻭْﻟَٰٓﺌِﻚَ ﻋَﻠَﻰٰ ﻫُﺪٗﻯ ﻣِّﻦ ﺭَّﺑِّﻬِﻢۡۖ ﻭَﺃُﻭْﻟَٰٓﺌِﻚَ ﻫُﻢُ ﭐﻟۡﻤُﻔۡﻠِﺤُﻮﻥَ ٥ ﴾ ‏[ ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ : ١، ٥ ‏]
অর্থাৎ, (১) “আলিফ লা-ম মী-ম (২) এটা সেই কিতাব যার মধ্যে কোনো প্রকার সন্দেহের অবকাশ নেই, যারা আল্লাহভীরু তাদের জন্য পথপ্রদর্শনকারী। (৩) যারা অদেখা বিষয়ের উপর ঈমান আনে এবং সালাত কায়েম করে আর আমি তাদেরকে যে রুযী দান করেছি তা থেকে খরচ করে। (৪) আর তারা ঈমান এনেছে, যে সব কিছু আপনার প্রতি নাযিল হয়েছে এবং যা আপনার পূর্বে নাযিল হয়েছে, আর আখেরাতের প্রতি তারা দৃঢ় বিশ্বাস করে। (৫) তারাই তাদের মালিক ও সার্বিক তত্বাবধানকারী আল্লাহর পক্ষ হতে প্রাপ্ত হেদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত রয়েছে আর এরাই সফলকাম।” (সূরা আল-বাক্বারার ১, ২, ৩, ৪ ও ৫ আয়াত)।
৩- সূরা আল-বাক্বারার ১৬৪ নং আয়াত।
﴿ ﺇِﻥَّ ﻓِﻲ ﺧَﻠۡﻖِ ﭐﻟﺴَّﻤَٰﻮَٰﺕِ ﻭَﭐﻟۡﺄَﺭۡﺽِ ﻭَﭐﺧۡﺘِﻠَٰﻒِ ﭐﻟَّﻴۡﻞِ ﻭَﭐﻟﻨَّﻬَﺎﺭِ ﻭَﭐﻟۡﻔُﻠۡﻚِ ﭐﻟَّﺘِﻲ ﺗَﺠۡﺮِﻱ ﻓِﻲ ﭐﻟۡﺒَﺤۡﺮِ ﺑِﻤَﺎ ﻳَﻨﻔَﻊُ ﭐﻟﻨَّﺎﺱَ ﻭَﻣَﺎٓ ﺃَﻧﺰَﻝَ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﻣِﻦَ ﭐﻟﺴَّﻤَﺎٓﺀِ ﻣِﻦ ﻣَّﺎٓﺀٖ ﻓَﺄَﺣۡﻴَﺎ ﺑِﻪِ ﭐﻟۡﺄَﺭۡﺽَ ﺑَﻌۡﺪَ ﻣَﻮۡﺗِﻬَﺎ ﻭَﺑَﺚَّ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻣِﻦ ﻛُﻞِّ ﺩَﺍٓﺑَّﺔٖ ﻭَﺗَﺼۡﺮِﻳﻒِ ﭐﻟﺮِّﻳَٰﺢِ ﻭَﭐﻟﺴَّﺤَﺎﺏِ ﭐﻟۡﻤُﺴَﺨَّﺮِ ﺑَﻴۡﻦَ ﭐﻟﺴَّﻤَﺎٓﺀِ ﻭَﭐﻟۡﺄَﺭۡﺽِ ﻟَﺄٓﻳَٰﺖٖ ﻟِّﻘَﻮۡﻡٖ ﻳَﻌۡﻘِﻠُﻮﻥَ ١٦٤ ﴾ ‏[ ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ : ١٦٤ ‏]
“নিশ্চয়ই আসমান ও যমীনের সৃষ্টিতে, রাত ও দিনের পরিবর্তনে, সমুদ্রে জাহাজসমুহের চলাচলে মানুষের জন্য কল্যাণ রয়েছে। আর আল্লাহ তা‘আলা আকাশ থেকে যে পানি বর্ষণ করেছেন, তা দ্বারা মৃত যমীনকে সজীব করে তুলেছেন এবং তাতে ছড়িয়ে দিয়েছেন সবরকম জীব-জন্তু। আর আবহাওয়া পরিবর্তনে ও মেঘমালায় যা তাঁরই হুকুমের অধীনে আসমান ও যমীনের মাঝে বিচরণ করে – নিশ্চয়ই সে সমস্ত বিষয়ের মাঝে নিদর্শন রয়েছে বুদ্ধিমান সম্প্রদায়ের জন্য।” (আল-বাকারা, আয়াত নং-১৬৪)।
৪- আয়াতুল-কুরসী (সূরা আল-বাক্বারার ২৫৫ নং আয়াত)।
﴿ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﻟَﺎٓ ﺇِﻟَٰﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﻫُﻮَ ﭐﻟۡﺤَﻲُّ ﭐﻟۡﻘَﻴُّﻮﻡُۚ ﻟَﺎ ﺗَﺄۡﺧُﺬُﻩُۥ ﺳِﻨَﺔٞ ﻭَﻟَﺎ ﻧَﻮۡﻡٞۚ ﻟَّﻪُۥ ﻣَﺎ ﻓِﻲ ﭐﻟﺴَّﻤَٰﻮَٰﺕِ ﻭَﻣَﺎ ﻓِﻲ ﭐﻟۡﺄَﺭۡﺽِۗ ﻣَﻦ ﺫَﺍ ﭐﻟَّﺬِﻱ ﻳَﺸۡﻔَﻊُ ﻋِﻨﺪَﻩُۥٓ ﺇِﻟَّﺎ ﺑِﺈِﺫۡﻧِﻪِۦۚ ﻳَﻌۡﻠَﻢُ ﻣَﺎ ﺑَﻴۡﻦَ ﺃَﻳۡﺪِﻳﻬِﻢۡ ﻭَﻣَﺎ ﺧَﻠۡﻔَﻬُﻢۡۖ ﻭَﻟَﺎ ﻳُﺤِﻴﻄُﻮﻥَ ﺑِﺸَﻲۡﺀٖ ﻣِّﻦۡ ﻋِﻠۡﻤِﻪِۦٓ ﺇِﻟَّﺎ ﺑِﻤَﺎ ﺷَﺎٓﺀَۚ ﻭَﺳِﻊَ ﻛُﺮۡﺳِﻴُّﻪُ ﭐﻟﺴَّﻤَٰﻮَٰﺕِ ﻭَﭐﻟۡﺄَﺭۡﺽَۖ ﻭَﻟَﺎ ﻳَُٔﻮﺩُﻩُۥ ﺣِﻔۡﻈُﻬُﻤَﺎۚ ﻭَﻫُﻮَ ﭐﻟۡﻌَﻠِﻲُّ ﭐﻟۡﻌَﻈِﻴﻢُ ٢٥٥ ﴾ ‏[ ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ : ٢٥٥ ‏]
“আল্লাহ, তিনি ব্যতীত অন্য কোনো সত্য মা‘বুদ নেই, তিনি চিরজীবিত এবং চিরন্তন।
তাকে তন্দ্রা (ঝিমানো) ও ঘূম কখনো স্পর্শ করতে পারে না। আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে সবই তারই, এমন কে আছে যে, তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর নিকট সূপারিশ করতে পারে? (মানুষের) চোখের সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে, সে সবই তিনি জানেন। তিনি যতটুকু ইচ্ছা করেন ততটুকু ব্যতীত তাঁর অনন্ত জ্ঞানের কোনো কিছুকেই কেউ আয়ত্ব করতে পারেনা। তার ‘কুরসী’ সমস্ত আসমান ও যমীনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন কাজ নয়। তিনি সমুন্নত ও মহিয়ান।” (সূরা আল-বাক্বারার ২৫৫ নং আয়াত)।
৫- সূরা আল-বাক্বারার ২৮৫ ও ২৮৬ নং আয়াত।
﴿ ﺀَﺍﻣَﻦَ ﭐﻟﺮَّﺳُﻮﻝُ ﺑِﻤَﺎٓ ﺃُﻧﺰِﻝَ ﺇِﻟَﻴۡﻪِ ﻣِﻦ ﺭَّﺑِّﻪِۦ ﻭَﭐﻟۡﻤُﺆۡﻣِﻨُﻮﻥَۚ ﻛُﻞٌّ ﺀَﺍﻣَﻦَ ﺑِﭑﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻣَﻠَٰٓﺌِﻜَﺘِﻪِۦ ﻭَﻛُﺘُﺒِﻪِۦ ﻭَﺭُﺳُﻠِﻪِۦ ﻟَﺎ ﻧُﻔَﺮِّﻕُ ﺑَﻴۡﻦَ ﺃَﺣَﺪٖ ﻣِّﻦ ﺭُّﺳُﻠِﻪِۦۚ ﻭَﻗَﺎﻟُﻮﺍْ ﺳَﻤِﻌۡﻨَﺎ ﻭَﺃَﻃَﻌۡﻨَﺎۖ ﻏُﻔۡﺮَﺍﻧَﻚَ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻭَﺇِﻟَﻴۡﻚَ ﭐﻟۡﻤَﺼِﻴﺮُ ٢٨٥ ﻟَﺎ ﻳُﻜَﻠِّﻒُ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﻧَﻔۡﺴًﺎ ﺇِﻟَّﺎ ﻭُﺳۡﻌَﻬَﺎۚ ﻟَﻬَﺎ ﻣَﺎ ﻛَﺴَﺒَﺖۡ ﻭَﻋَﻠَﻴۡﻬَﺎ ﻣَﺎ ﭐﻛۡﺘَﺴَﺒَﺖۡۗ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻟَﺎ ﺗُﺆَﺍﺧِﺬۡﻧَﺎٓ ﺇِﻥ ﻧَّﺴِﻴﻨَﺎٓ ﺃَﻭۡ ﺃَﺧۡﻄَﺄۡﻧَﺎۚ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻭَﻟَﺎ ﺗَﺤۡﻤِﻞۡ ﻋَﻠَﻴۡﻨَﺎٓ ﺇِﺻۡﺮٗﺍ ﻛَﻤَﺎ ﺣَﻤَﻠۡﺘَﻪُۥ ﻋَﻠَﻰ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻣِﻦ ﻗَﺒۡﻠِﻨَﺎۚ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻭَﻟَﺎ ﺗُﺤَﻤِّﻠۡﻨَﺎ ﻣَﺎ ﻟَﺎ ﻃَﺎﻗَﺔَ ﻟَﻨَﺎ ﺑِﻪِۦۖ ﻭَﭐﻋۡﻒُ ﻋَﻨَّﺎ ﻭَﭐﻏۡﻔِﺮۡ ﻟَﻨَﺎ ﻭَﭐﺭۡﺣَﻤۡﻨَﺎٓۚ ﺃَﻧﺖَ ﻣَﻮۡﻟَﻯٰﻨَﺎ ﻓَﭑﻧﺼُﺮۡﻧَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﭐﻟۡﻘَﻮۡﻡِ ﭐﻟۡﻜَٰﻔِﺮِﻳﻦَ ٢٨٦ ﴾ ‏[ ﺍﻟﺒﻘﺮﺓ : ٢٨٥، ٢٨٦ ‏]
“রাসুল ঈমান রাখেন ঐ সমস্ত বিষয়ে, যা তার মালিক ও নিয়ন্ত্রক (আল্লাহর) পক্ষ হতে অবতীর্ণ হয়েছে এবং মুমিনরাও। সবাই বিশ্বাস রাখে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেস্তাদের প্রতি, তার কিতাবসমূহের প্রতি এবং তার নবীগণের প্রতি। তারা বলে আমরা তাঁর নবীগণের মধ্যে (ঈমানের ব্যাপারে) কোনো প্রকার পার্থক্য করি
না। তারা বলে: আমরা শ্রবণ করলাম ও আনুগত্য স্বীকার করে নিলাম। হে আমাদের মালিক ও নিয়ন্ত্রক, আমরা আপনারই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি, আপনার দিকেই আমাদেরকে ফিরে যেতে হবে।
কোনো ব্যক্তিকেই আল্লাহ তার সামর্থের বাইরে কোনো কাজের ভার দেন না, সে তাই পাবে যা সে উপার্জন করে, আর যা সে অর্জন করে তা তারই উপর বর্তায়।
হে আমাদের মালিক ও নিয়ন্ত্রক! যদি আমরা ভুলে যাই কিংবা ভুল করি, তাহলে এ জন্য আমাদেরকে ধর-পাকড় করবেন না। হে আমাদের মালিক ও নিয়ন্ত্রক! আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর যেরূপ কঠিন বোঝা অর্পণ করেছেন, আমাদের উপর তদ্রূপ কোনো বোঝা অর্পণ করবেন না।
হে আমাদের মালিক ও নিয়ন্ত্রক! আমাদের শক্তি-সামর্থের বাইরে কোনো বোঝা বহনে আমাদেরকে বাধ্য করবেন না। আপনি আমাদেরকে ক্ষমা করুন, আমাদের প্রতি দয়া করুন, আপনিই আমাদের অভিভাবক, অতএব কাফিরগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন।” (সূরা আল-বাক্বারার ২৮৫ ও ২৮৬ নং আয়াত)।
৬- সূরা আল-‘ইমরানের ১৯০ ও ১৯১ নং আয়াত।
﴿ ﺇِﻥَّ ﻓِﻲ ﺧَﻠۡﻖِ ﭐﻟﺴَّﻤَٰﻮَٰﺕِ ﻭَﭐﻟۡﺄَﺭۡﺽِ ﻭَﭐﺧۡﺘِﻠَٰﻒِ ﭐﻟَّﻴۡﻞِ ﻭَﭐﻟﻨَّﻬَﺎﺭِ ﻟَﺄٓﻳَٰﺖٖ ﻟِّﺄُﻭْﻟِﻲ ﭐﻟۡﺄَﻟۡﺒَٰﺐِ ١٩٠ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻳَﺬۡﻛُﺮُﻭﻥَ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻗِﻴَٰﻤٗﺎ ﻭَﻗُﻌُﻮﺩٗﺍ ﻭَﻋَﻠَﻰٰ ﺟُﻨُﻮﺑِﻬِﻢۡ ﻭَﻳَﺘَﻔَﻜَّﺮُﻭﻥَ ﻓِﻲ ﺧَﻠۡﻖِ ﭐﻟﺴَّﻤَٰﻮَٰﺕِ ﻭَﭐﻟۡﺄَﺭۡﺽِ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻣَﺎ ﺧَﻠَﻘۡﺖَ ﻫَٰﺬَﺍ ﺑَٰﻄِﻠٗﺎ ﺳُﺒۡﺤَٰﻨَﻚَ ﻓَﻘِﻨَﺎ ﻋَﺬَﺍﺏَ ﭐﻟﻨَّﺎﺭِ ١٩١ ﴾ ‏[ ﺍﻝ ﻋﻤﺮﺍﻥ : ١٩٠، ١٩١ ‏]
“নিশ্চয়ই আসমান ও যমীন সৃষ্টিতে ও দিবা-রাত্রির পরিবর্তনে জ্ঞানবানদের জন্য নিদর্শন রয়েছে। যারা দাঁড়িয়ে বসে ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আসমান ও জমিন সৃষ্টির বিষয়ে চিন্তা-গবেষণা করে আর বলে, হে আমাদের রাব্ব্! আপনি এসব বৃথা (অযথা) সৃষ্টি করেননি। অতি পবিত্র আপনি, অতএব আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে বাঁচান।” (আল-‘ইমরানের ১৯০ ও ১৯১ নং আয়াত)।
৭- সূরা আল-আ‘রাফের ৫৪ নং আয়াত।
﴿ ﺇِﻥَّ ﺭَﺑَّﻜُﻢُ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﭐﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻖَ ﭐﻟﺴَّﻤَٰﻮَٰﺕِ ﻭَﭐﻟۡﺄَﺭۡﺽَ ﻓِﻲ ﺳِﺘَّﺔِ ﺃَﻳَّﺎﻡٖ ﺛُﻢَّ ﭐﺳۡﺘَﻮَﻯٰ ﻋَﻠَﻰ ﭐﻟۡﻌَﺮۡﺵِۖ ﻳُﻐۡﺸِﻲ ﭐﻟَّﻴۡﻞَ ﭐﻟﻨَّﻬَﺎﺭَ ﻳَﻄۡﻠُﺒُﻪُۥ ﺣَﺜِﻴﺜٗﺎ ﻭَﭐﻟﺸَّﻤۡﺲَ ﻭَﭐﻟۡﻘَﻤَﺮَ ﻭَﭐﻟﻨُّﺠُﻮﻡَ ﻣُﺴَﺨَّﺮَٰﺕِۢ ﺑِﺄَﻣۡﺮِﻩِۦٓۗ ﺃَﻟَﺎ ﻟَﻪُ ﭐﻟۡﺨَﻠۡﻖُ ﻭَﭐﻟۡﺄَﻣۡﺮُۗ ﺗَﺒَﺎﺭَﻙَ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﺭَﺏُّ ﭐﻟۡﻌَٰﻠَﻤِﻴﻦَ ٥٤ ﴾ ‏[ ﺍﻻﻋﺮﺍﻑ : ٥٤ ‏]
“নিশ্চয়ই তোমাদের রব হচ্ছেন সেই আল্লাহ যিনি আসমান ও যমীনকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠলেন, তিনি দিনকে রাত দ্বারা ঢেকে দেন এমনভাবে যে, ওরা একে অন্যের পিছে পিছে দ্রুতগতিতে খুজে বেড়ায়। আর চন্দ্র, সূর্য ও নক্ষত্ররাজিসহ সবই তার হুকুমের অনুগত। জেনে রাখো, সৃষ্টি করা ও আদেশ করা একমাত্র তাঁরই কাজ। তিনিই বরকতময় আল্লাহ, যিনি সারা জাহানের মালিক, নিয়ন্ত্রক ও নির্বাহক।” (আল-আ‘রাফের ৫৪ নং আয়াত)
৮- সূরা আল-আ‘রাফের ১১৭, ১১৮, ১১৯ নং আয়াত।
﴿ ۞ﻭَﺃَﻭۡﺣَﻴۡﻨَﺎٓ ﺇِﻟَﻰٰ ﻣُﻮﺳَﻰٰٓ ﺃَﻥۡ ﺃَﻟۡﻖِ ﻋَﺼَﺎﻙَۖ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻫِﻲَ ﺗَﻠۡﻘَﻒُ ﻣَﺎ ﻳَﺄۡﻓِﻜُﻮﻥَ ١١٧ ﻓَﻮَﻗَﻊَ ﭐﻟۡﺤَﻖُّ ﻭَﺑَﻄَﻞَ ﻣَﺎ ﻛَﺎﻧُﻮﺍْ ﻳَﻌۡﻤَﻠُﻮﻥَ ١١٨ ﻓَﻐُﻠِﺒُﻮﺍْ ﻫُﻨَﺎﻟِﻚَ ﻭَﭐﻧﻘَﻠَﺒُﻮﺍْ ﺻَٰﻐِﺮِﻳﻦَ ١١٩ ﴾ ‏[ ﺍﻻﻋﺮﺍﻑ : ١١٧، ١١٩ ‏]
“অতঃপর আমরা অহীযোগে বললাম, এবার তোমার লাঠিখানা নিক্ষেপ করো, এটা সঙ্গে সঙ্গে জাদুকররা জাদুবলে যা বানিয়েছিল সেগুলোকে গিলতে লাগল। সুতরাং এভাবে প্রকাশ হয়ে গেল সত্য বিষয় আর তাদের বানোয়াট কর্ম মিথ্যায় প্রতিপন্ন হলো। ফলে, তারা সেখানেই পরাজিত হয়ে গেল এবং অতীব অপদস্থ হল।” (সূরা আল-আ‘রাফের ১১৭, ১১৮, ১১৯ নং আয়াত)।
৯- সূরা ইউনুছের ৭৯, ৮০, ৮১ নং আয়াত।
﴿ ﻭَﻗَﺎﻝَ ﻓِﺮۡﻋَﻮۡﻥُ ﭐﺋۡﺘُﻮﻧِﻲ ﺑِﻜُﻞِّ ﺳَٰﺤِﺮٍ ﻋَﻠِﻴﻢٖ ٧٩ ﻓَﻠَﻤَّﺎ ﺟَﺎٓﺀَ ﭐﻟﺴَّﺤَﺮَﺓُ ﻗَﺎﻝَ ﻟَﻬُﻢ ﻣُّﻮﺳَﻰٰٓ ﺃَﻟۡﻘُﻮﺍْ ﻣَﺎٓ ﺃَﻧﺘُﻢ ﻣُّﻠۡﻘُﻮﻥَ ٨٠ ﻓَﻠَﻤَّﺎٓ ﺃَﻟۡﻘَﻮۡﺍْ ﻗَﺎﻝَ ﻣُﻮﺳَﻰٰ ﻣَﺎ ﺟِﺌۡﺘُﻢ ﺑِﻪِ ﭐﻟﺴِّﺤۡﺮُۖ ﺇِﻥَّ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﺳَﻴُﺒۡﻄِﻠُﻪُۥٓ ﺇِﻥَّ ﭐﻟﻠَّﻪَ ﻟَﺎ ﻳُﺼۡﻠِﺢُ ﻋَﻤَﻞَ ﭐﻟۡﻤُﻔۡﺴِﺪِﻳﻦَ ٨١ ﴾ ‏[ ﻳﻮﻧﺲ : ٧٩، ٨١ ‏]
“আর ফিরআউন বললো: আমার নিকট সমস্ত সুদক্ষ জাদুকরদেরকে নিয়ে এসো। অতঃপর যখন জাদুকররা এলো, তখন মূসা তাদেরকে বললেন: নিক্ষেপ করো, যা কিছু তোমরা নিক্ষেপ করতে চাও। অতঃপর তারা যখন নিক্ষেপ করলো, তখন মূসা বললো: যতো জাদুই তোমরা এনেছ, আল্লাহ নিশ্চয়ই এসব এটাকে পন্ড (ভন্ডুল) করে দিবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ এমন ফাসাদকারীদের ‌‘আমলকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হতে দেন না।” (সূরা ইউনুছের ৭৯, ৮০, ৮১ নং আয়াত)।
১০- সূরা আল-ইসরা (বনী-ইসরাইলের) ৮২ নং আয়াত।
﴿ ﻭَﻧُﻨَﺰِّﻝُ ﻣِﻦَ ﭐﻟۡﻘُﺮۡﺀَﺍﻥِ ﻣَﺎ ﻫُﻮَ ﺷِﻔَﺎٓﺀٞ ﻭَﺭَﺣۡﻤَﺔٞ ﻟِّﻠۡﻤُﺆۡﻣِﻨِﻴﻦَ ﻭَﻟَﺎ ﻳَﺰِﻳﺪُ ﭐﻟﻈَّٰﻠِﻤِﻴﻦَ ﺇِﻟَّﺎ ﺧَﺴَﺎﺭٗﺍ ٨٢ ﴾ ‏[ ﺍﻻﺳﺮﺍﺀ : ٨٢ ‏]
“আর আমরা অবতীর্ণ করি কুরআনে এমন সব বিষয়, যা রোগের শিফা বা সুচিকিৎসা এবং মুমিনদের জন্য রহমত, আর তা জালিমদের ক্ষতিই বৃদ্ধি করে।” (সূরা আল-ইসরা (বনী-ইসরাইলের) ৮২ নং আয়াত)।
১১- সূরা ত্বাহা এর ৬৫, ৬৬, ৬৭, ৬৮ ও ৬৯ নং আয়াত।
﴿ ﻗَﺎﻟُﻮﺍْ ﻳَٰﻤُﻮﺳَﻰٰٓ ﺇِﻣَّﺎٓ ﺃَﻥ ﺗُﻠۡﻘِﻲَ ﻭَﺇِﻣَّﺎٓ ﺃَﻥ ﻧَّﻜُﻮﻥَ ﺃَﻭَّﻝَ ﻣَﻦۡ ﺃَﻟۡﻘَﻰٰ ٦٥ ﻗَﺎﻝَ ﺑَﻞۡ ﺃَﻟۡﻘُﻮﺍْۖ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﺣِﺒَﺎﻟُﻬُﻢۡ ﻭَﻋِﺼِﻴُّﻬُﻢۡ ﻳُﺨَﻴَّﻞُ ﺇِﻟَﻴۡﻪِ ﻣِﻦ ﺳِﺤۡﺮِﻫِﻢۡ ﺃَﻧَّﻬَﺎ ﺗَﺴۡﻌَﻰٰ ٦٦ ﻓَﺄَﻭۡﺟَﺲَ ﻓِﻲ ﻧَﻔۡﺴِﻪِۦ ﺧِﻴﻔَﺔٗ ﻣُّﻮﺳَﻰٰ ٦٧ ﻗُﻠۡﻨَﺎ ﻟَﺎ ﺗَﺨَﻒۡ ﺇِﻧَّﻚَ ﺃَﻧﺖَ ﭐﻟۡﺄَﻋۡﻠَﻰٰ ٦٨ ﻭَﺃَﻟۡﻖِ ﻣَﺎ ﻓِﻲ ﻳَﻤِﻴﻨِﻚَ ﺗَﻠۡﻘَﻒۡ ﻣَﺎ ﺻَﻨَﻌُﻮٓﺍْۖ ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺻَﻨَﻌُﻮﺍْ ﻛَﻴۡﺪُ ﺳَٰﺤِﺮٖۖ ﻭَﻟَﺎ ﻳُﻔۡﻠِﺢُ ﭐﻟﺴَّﺎﺣِﺮُ ﺣَﻴۡﺚُ ﺃَﺗَﻰٰ ٦٩ ﴾ ‏[ ﻃﻪ : ٦٥، ٦٩ ‏]
“তারা বললো: হে মূসা, হয় তুমি নিক্ষেপ করো, অথবা আমরাই প্রথমে নিক্ষেপ করি। মূসা বললো: বরং তোমরাই নিক্ষেপ করো, তাদের জাদুর প্রভাবে হঠাৎ মূসার মনে হলো যে, তাদের দড়ি ও লাঠিগুলো ছুটাছুটি করছে। অতঃপর মূসা তার অন্তরে কিছু ভীতি অনুভব করলো। আমি বললাম: ভয় করো না, তুমিই প্রবল (বিজয়ী হবে)। তোমার ডান হাতে যা আছে, তা নিক্ষেপ করো, এটা তারা যা বানিয়েছে, তা গিলে ফেলবে, তারা যা তৈরী করেছে তা তো শুধু জাদুকরের কৌশল, জাদুকর যেখানেই আসুক সফল হবে না।” (সূরা ত্বাহা এর ৬৫, ৬৬, ৬৭, ৬৮ ও ৬৯ নং আয়াত)।
১২- সূরা আল-মুমিনুনের ১১৫, ১১৬, ১১৭ ও ১১৮ নং আয়াত।
﴿ ﺃَﻓَﺤَﺴِﺒۡﺘُﻢۡ ﺃَﻧَّﻤَﺎ ﺧَﻠَﻘۡﻨَٰﻜُﻢۡ ﻋَﺒَﺜٗﺎ ﻭَﺃَﻧَّﻜُﻢۡ ﺇِﻟَﻴۡﻨَﺎ ﻟَﺎ ﺗُﺮۡﺟَﻌُﻮﻥَ ١١٥ ﻓَﺘَﻌَٰﻠَﻰ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﭐﻟۡﻤَﻠِﻚُ ﭐﻟۡﺤَﻖُّۖ ﻟَﺎٓ ﺇِﻟَٰﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﻫُﻮَ ﺭَﺏُّ ﭐﻟۡﻌَﺮۡﺵِ ﭐﻟۡﻜَﺮِﻳﻢِ ١١٦ ﻭَﻣَﻦ ﻳَﺪۡﻉُ ﻣَﻊَ ﭐﻟﻠَّﻪِ ﺇِﻟَٰﻬًﺎ ﺀَﺍﺧَﺮَ ﻟَﺎ ﺑُﺮۡﻫَٰﻦَ ﻟَﻪُۥ ﺑِﻪِۦ ﻓَﺈِﻧَّﻤَﺎ ﺣِﺴَﺎﺑُﻪُۥ ﻋِﻨﺪَ ﺭَﺑِّﻪِۦٓۚ ﺇِﻧَّﻪُۥ ﻟَﺎ ﻳُﻔۡﻠِﺢُ ﭐﻟۡﻜَٰﻔِﺮُﻭﻥَ ١١٧ ﻭَﻗُﻞ ﺭَّﺏِّ ﭐﻏۡﻔِﺮۡ ﻭَﭐﺭۡﺣَﻢۡ ﻭَﺃَﻧﺖَ ﺧَﻴۡﺮُ ﭐﻟﺮَّٰﺣِﻤِﻴﻦَ ١١٨ ﴾ ‏[ ﺍﻟﻤﺆﻣﻨﻮﻥ : ١١٥، ١١٨ ‏]
“তোমরা কি মনে করেছিলে যে, আমরা তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমার নিকট ফিরে আসবে না? মহিমান্বিত আল্লাহ যিনি সত্যিকারের বাদশাহ, তিনি ব্যতীত কোনো সত্য মা‘বুদ নেই, সম্মানিত ‘আরশের তিনি রব্ব। যে ব্যক্তি আল্লাহর সহিত অন্য মা‘বুদকে ডাকে, ঐ বিষয়ে তার নিকট কোনো প্রমাণ নেই, তার হিসাব তার রাব্বের নিকট আছে, নিশ্চয়ই কাফেররা সফলকাম হবে না। বলো, হে আমার রব্ব, ক্ষমা করুন ও দয়া করুন, দয়ালুদের মধ্যে আপনিই তো শ্রেষ্ঠ দয়ালু।” (সূরা আল-মুমিনুনের ১১৫, ১১৬, ১১৭ ও ১১৮ নং আয়াত)।
১৩- সূরা আস-সাফ্ফাতের ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯ ও ১০ নং আয়াত।
﴿ ﻭَﭐﻟﺼَّٰٓﻔَّٰﺖِ ﺻَﻔّٗﺎ ١ ﻓَﭑﻟﺰَّٰﺟِﺮَٰﺕِ ﺯَﺟۡﺮٗﺍ ٢ ﻓَﭑﻟﺘَّٰﻠِﻴَٰﺖِ ﺫِﻛۡﺮًﺍ ٣ ﺇِﻥَّ ﺇِﻟَٰﻬَﻜُﻢۡ ﻟَﻮَٰﺣِﺪٞ ٤ ﺭَّﺏُّ ﭐﻟﺴَّﻤَٰﻮَٰﺕِ ﻭَﭐﻟۡﺄَﺭۡﺽِ ﻭَﻣَﺎ ﺑَﻴۡﻨَﻬُﻤَﺎ ﻭَﺭَﺏُّ ﭐﻟۡﻤَﺸَٰﺮِﻕِ ٥ ﺇِﻧَّﺎ ﺯَﻳَّﻨَّﺎ ﭐﻟﺴَّﻤَﺎٓﺀَ ﭐﻟﺪُّﻧۡﻴَﺎ ﺑِﺰِﻳﻨَﺔٍ ﭐﻟۡﻜَﻮَﺍﻛِﺐِ ٦ ﻭَﺣِﻔۡﻈٗﺎ ﻣِّﻦ ﻛُﻞِّ ﺷَﻴۡﻄَٰﻦٖ ﻣَّﺎﺭِﺩٖ ٧ ﻟَّﺎ ﻳَﺴَّﻤَّﻌُﻮﻥَ ﺇِﻟَﻰ ﭐﻟۡﻤَﻠَﺈِ ﭐﻟۡﺄَﻋۡﻠَﻰٰ ﻭَﻳُﻘۡﺬَﻓُﻮﻥَ ﻣِﻦ ﻛُﻞِّ ﺟَﺎﻧِﺐٖ ٨ ﺩُﺣُﻮﺭٗﺍۖ ﻭَﻟَﻬُﻢۡ ﻋَﺬَﺍﺏٞ ﻭَﺍﺻِﺐٌ ٩ ﺇِﻟَّﺎ ﻣَﻦۡ ﺧَﻄِﻒَ ﭐﻟۡﺨَﻄۡﻔَﺔَ ﻓَﺄَﺗۡﺒَﻌَﻪُۥ ﺷِﻬَﺎﺏٞ ﺛَﺎﻗِﺐٞ ١٠ ﴾ ‏[ ﺍﻟﺼﺎﻓﺎﺕ : ١، ١٠ ‏]
“সারিবদ্ধভাবে দন্ডায়মান ফিরিশতাদের শপথ, এবং যারা কঠোর পরিচালক, আর যারা যিক্র আবৃতিতে রত (তাদের শপথ)। নিশ্চয়ই তোমাদের মা‘বুদ এক, যিনি আসমান, যমীন এবং এদুয়ের মধ্যবর্তী যা কিছু আছে, এসব কিছুর রব্ব। এ ছাড়াও উদয়স্থানসমুহের ও রব্ব তিনি। আমি নিকটবর্তী আসমানকে নক্ষত্ররাজির শোভা দ্বারা সূশোভিত করেছি, আর সংরক্ষণ করেছি প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তান হতে। ফলে, তারা উর্ধ্ব জগতের কিছু শুনতে পায়না, এবং তাদের প্রতি নিক্ষিপ্ত হয় সকল দিক হতে বিতাড়নের জন্য এবং তাদের জন্য রয়েছে অবিরাম শাস্তি। তবে কেউ হঠাৎ (ছোঁ মেরে) কিছু শুনে ফেললে জলন্ত উল্কাপিন্ড তাদের পিছন দিকে হতে ধাওয়া করে।” (সূরা আস-সাফ্ফাতের ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯ ও ১০ নং আয়াত)।
১৪- সূরা আল- হাশরের ২২ ও ২৩ নং আয়াত।
﴿ ﻫُﻮَ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﭐﻟَّﺬِﻱ ﻟَﺎٓ ﺇِﻟَٰﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﻫُﻮَۖ ﻋَٰﻠِﻢُ ﭐﻟۡﻐَﻴۡﺐِ ﻭَﭐﻟﺸَّﻬَٰﺪَﺓِۖ ﻫُﻮَ ﭐﻟﺮَّﺣۡﻤَٰﻦُ ﭐﻟﺮَّﺣِﻴﻢُ ٢٢ ﻫُﻮَ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﭐﻟَّﺬِﻱ ﻟَﺎٓ ﺇِﻟَٰﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﻫُﻮَ ﭐﻟۡﻤَﻠِﻚُ ﭐﻟۡﻘُﺪُّﻭﺱُ ﭐﻟﺴَّﻠَٰﻢُ ﭐﻟۡﻤُﺆۡﻣِﻦُ ﭐﻟۡﻤُﻬَﻴۡﻤِﻦُ ﭐﻟۡﻌَﺰِﻳﺰُ ﭐﻟۡﺠَﺒَّﺎﺭُ ﭐﻟۡﻤُﺘَﻜَﺒِّﺮُۚ ﺳُﺒۡﺤَٰﻦَ ﭐﻟﻠَّﻪِ ﻋَﻤَّﺎ ﻳُﺸۡﺮِﻛُﻮﻥَ ٢٣ ﴾ ‏[ ﺍﻟﺤﺸﺮ : ٢٢، ٢٣ ‏]
“তিনিই আল্লাহ, তিনি ব্যতীত সত্য কোনো মা‘বুদ নেই। গোপন ও প্রকাশ্য সব কিছুই তিনি জানেন। তিনিই পরম দয়ালু ও অতি দয়াময়। তিনিই আল্লাহ, তিনি ব্যতিত সত্য কোনো মা‘বুদ নেই। তিনি বাদশা, পবিত্র, শান্তি-নিরাপত্তাদাতা, অভিভাবক, পরাক্রমশালী, প্রবল, মহাশ্রেষ্ঠ। মানুষ তাঁর সহিত যা কিছুর শির্ক করছে, সে সব হতে তিনি অতি পবিত্র ও মহান।” (সূরা আল- হাশরের ২২ ও ২৩ নং আয়াত)।
১৫- সূরা আল-ক্বালমের ৫১ নং আয়াত।
﴿ ﻭَﺇِﻥ ﻳَﻜَﺎﺩُ ﭐﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮُﻭﺍْ ﻟَﻴُﺰۡﻟِﻘُﻮﻧَﻚَ ﺑِﺄَﺑۡﺼَٰﺮِﻫِﻢۡ ﻟَﻤَّﺎ ﺳَﻤِﻌُﻮﺍْ ﭐﻟﺬِّﻛۡﺮَ ﻭَﻳَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ ﺇِﻧَّﻪُۥ ﻟَﻤَﺠۡﻨُﻮﻥٞ ٥١ ﻭَﻣَﺎ ﻫُﻮَ ﺇِﻟَّﺎ ﺫِﻛۡﺮٞ ﻟِّﻠۡﻌَٰﻠَﻤِﻴﻦَ ٥٢ ﴾ ‏[ ﺍﻟﻘﻠﻢ : ٥١، ٥٢ ‏]
“আর কাফেররা এমনভাবে আপনার দিকে তাকায় যে, এক্ষুনি তাদের দৃষ্টি দিয়ে আপনাকে ঘায়েল করে দিবে, তারা একথাও বলে যে, নিশ্চয়ই সে (রাসূল) একজন পাগল।” (সূরা আল-ক্বালমের ৫১ নং আয়াত)।
১৬- সূরা জ্বীনের ৩ নং আয়াত।
﴿ ﻭَﺃَﻧَّﻪُۥ ﺗَﻌَٰﻠَﻰٰ ﺟَﺪُّ ﺭَﺑِّﻨَﺎ ﻣَﺎ ﭐﺗَّﺨَﺬَ ﺻَٰﺤِﺒَﺔٗ ﻭَﻟَﺎ ﻭَﻟَﺪٗﺍ ٣ ﴾ ‏[ ﺍﻟﺠﻦ : ٣ ‏]
“(আমার প্রতি) আরও অহি করা হয়েছে যে, আমাদের মালিক ও পরিচালনাকারীর (আল্লাহর) মান-মর্যাদা সম্ভ্রম অতি উর্ধ্বে। তিনি কাহাকেও স্ত্রী বা সন্তান হিসেবে গ্রহন করেননি।”
১৭- সূরা আল-কাফেরুন।
﴿ ﻗُﻞۡ ﻳَٰٓﺄَﻳُّﻬَﺎ ﭐﻟۡﻜَٰﻔِﺮُﻭﻥَ ١ ﻟَﺎٓ ﺃَﻋۡﺒُﺪُ ﻣَﺎ ﺗَﻌۡﺒُﺪُﻭﻥَ ٢ ﻭَﻟَﺎٓ ﺃَﻧﺘُﻢۡ ﻋَٰﺒِﺪُﻭﻥَ ﻣَﺎٓ ﺃَﻋۡﺒُﺪُ ٣ ﻭَﻟَﺎٓ ﺃَﻧَﺎ۠ ﻋَﺎﺑِﺪٞ ﻣَّﺎ ﻋَﺒَﺪﺗُّﻢۡ ٤ ﻭَﻟَﺎٓ ﺃَﻧﺘُﻢۡ ﻋَٰﺒِﺪُﻭﻥَ ﻣَﺎٓ ﺃَﻋۡﺒُﺪُ ٥ ﻟَﻜُﻢۡ ﺩِﻳﻨُﻜُﻢۡ ﻭَﻟِﻲَ ﺩِﻳﻦِ ٦ ﴾ ‏[ ﺍﻟﻜﺎﻓﺮﻭﻥ : ١، ٦ ‏]
“বলো, হে কাফিরগণ! আমি তার ইবাদত করি না যার ইবাদত তোমরা করো এবং তোমরাও তাঁর ইবাদতকারী নও, যাঁর ইবাদত আমি করি, এবং আমি ইবাদতকারী নই তাঁর, যার ইবাদত তোমরা করে আসছো, আর তোমরা তাঁর এবাদতকারী নও, যাঁর ইবাদত আমি করি। তোমাদের দ্বীন (কুফর) তোমাদের জন্য আর আমার দ্বীন (ইসলাম) আমার জন্য।”
১৮- সূরা আল-ইখলাছ।
﴿ ﻗُﻞۡ ﻫُﻮَ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﺃَﺣَﺪٌ ١ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﭐﻟﺼَّﻤَﺪُ ٢ ﻟَﻢۡ ﻳَﻠِﺪۡ ﻭَﻟَﻢۡ ﻳُﻮﻟَﺪۡ ٣ ﻭَﻟَﻢۡ ﻳَﻜُﻦ ﻟَّﻪُۥ ﻛُﻔُﻮًﺍ ﺃَﺣَﺪُۢ ٤ ﴾ ‏[ ﺍﻻﺧﻼﺹ : ١، ٤ ‏]
“বলুন, তিনি আল্লাহ, এক-অদ্বিতীয়, আল্লাহ হলেন – ‘সামাদ’ (তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তার মুখাপেক্ষী), তিনি কাউকেও জন্ম দেন নি এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয় নি, আর তাঁর সমতুল্য কেউই নেই।” (সূরা আল-ইখলাছ)।
১৯- সূরা আল-ফালাক্ব।
﴿ ﻗُﻞۡ ﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﺮَﺏِّ ﭐﻟۡﻔَﻠَﻖِ ١ ﻣِﻦ ﺷَﺮِّ ﻣَﺎ ﺧَﻠَﻖَ ٢ ﻭَﻣِﻦ ﺷَﺮِّ ﻏَﺎﺳِﻖٍ ﺇِﺫَﺍ ﻭَﻗَﺐَ ٣ ﻭَﻣِﻦ ﺷَﺮِّ ﭐﻟﻨَّﻔَّٰﺜَٰﺖِ ﻓِﻲ ﭐﻟۡﻌُﻘَﺪِ ٤ ﻭَﻣِﻦ ﺷَﺮِّ ﺣَﺎﺳِﺪٍ ﺇِﺫَﺍ ﺣَﺴَﺪَ ٥ ﴾ ‏[ ﺍﻟﻔﻠﻖ : ١، ٥ ‏]
“বলুন, আমি আশ্রয় চাই আল্লাহর ভোরের রবের (মালিক ও অধিপতির), তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট হতে, আর অনিষ্ট হতে রাতের অন্ধকারের, যখন তা গভীর হয়। আর অনিষ্ট হতে সে সব নারীদের যারা গিরায় ফুঁক দেয়। আর অনিষ্ট হতে হিংসুকের, যখন সে হিংসা করে।” (সূরা আল-ফালাক্ব)।
২০- সূরা আন-নাস।
﴿ ﻗُﻞۡ ﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﺮَﺏِّ ﭐﻟﻨَّﺎﺱِ ١ ﻣَﻠِﻚِ ﭐﻟﻨَّﺎﺱِ ٢ ﺇِﻟَٰﻪِ ﭐﻟﻨَّﺎﺱِ ٣ ﻣِﻦ ﺷَﺮِّ ﭐﻟۡﻮَﺳۡﻮَﺍﺱِ ﭐﻟۡﺨَﻨَّﺎﺱِ ٤ ﭐﻟَّﺬِﻱ ﻳُﻮَﺳۡﻮِﺱُ ﻓِﻲ ﺻُﺪُﻭﺭِ ﻟﻨَّﺎﺱِ ٥ ﻣِﻦَ ﭐﻟۡﺠِﻨَّﺔِ ﻭَﭐﻟﻨَّﺎﺱِ 6 ﴾ ‏[ ﺍﻟﻨﺎﺱ : ١، ٠ ‏]
“বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি মানুষের রবের, মানুষের অধিপতির, মানুষের মা‘বুদের কাছে, আত্মগোপনকারী কুমন্ত্রণাদাতার নিকট অনিষ্ট হতে, যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে, জিন ও মানুষের মধ্য থেকে। (সূরা আন-নাস)।
সাহীহ হাদীসে বর্ণিত ঝাড়-ফুঁক সংক্রান্ত দো‘আসমূহ
1- সাহীহ মুসলিমে রয়েছে:
ﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻜَﻠِﻤَﺎﺕِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺍﻟﺘَّﺎﻣَّﺎﺕِ ﻣِﻦْ ﺷَﺮِّ ﻣَﺎ ﺧَﻠَﻖَ ‏( ﺻﺤﻴﺢ ﻣﺴﻠﻢ ‏( 4 / 2081 ‏) .
‘আল্লাহর পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের ওসিলায় তাঁর নিকট আমি তিনি যা সৃষ্টি করেছেন সেগুলোর অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই।’ (বিকালে ৩ বার)। (সাহীহ মুসলিম: ৪/২০৮১)।
2- সাহীহ আল-বুখারীতে রয়েছে:
ﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻜَﻠِﻤَﺎﺕِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﻟﺘَّﺎﻣَّﺔِ، ﻣِﻦْ ﻛُﻞِّ ﺷَﻴْﻄَﺎﻥٍ ﻭَﻫَﺎﻣَّﺔٍ، ﻭَﻣِﻦْ ﻛُﻞِّ ﻋَﻴْﻦٍ ﻻَﻣَّﺔٍ ” ‏( ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ‏( 4 / 147(
‘আল্লাহর পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের ওসিলায় সকল শয়তান ও বিষাক্ত জীব-জন্তু থেকে ও যাবতীয় ক্ষতিকর চোখ (বদ নযর) হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’ (সাহীহ আল বুখারী ৪/১৪৭, নং ৩৩৭১)।
3- হিসনূল মুসলিমে রয়েছে:-
‏« ﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻜَﻠِﻤَﺎﺕِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﻟﺘَّﺎﻣَّﺔِ ﺍﻟَّﺘِﻲ ﻟَﺎ ﻳُﺠَﺎﻭِﺯُﻫُﻦَّ ﺑَﺮٌّ ﻭَﻟَﺎ ﻓَﺎﺟِﺮٌ، ﻣِﻦْ ﺷَﺮِّ ﻣَﺎ ﻳَﻨْﺰِﻝُ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀِ، ﻭَﻣِﻦْ ﺷَﺮِّ ﻣَﺎ ﻳَﻌْﺮُﺝُ ﻓِﻴﻬَﺎ، ﻭَﻣِﻦْ ﺷَﺮِّ ﻣَﺎ ﺫَﺭَﺃَ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ، ﻭَﻣِﻦْ ﺷَﺮِّ ﻣَﺎ ﻳَﺨْﺮُﺝُ ﻣِﻨْﻬَﺎ، ﻭَﻣِﻦْ ﺷَﺮِّ ﻓِﺘَﻦِ ﺍﻟﻠَّﻴْﻞِ ﻭَﺍﻟﻨَّﻬَﺎﺭِ، ﻭَﻣِﻦْ ﺷَﺮِّ ﻛُﻞِّ ﻃَﺎﺭِﻕٍ ﺇِﻟَّﺎ ﻃَﺎﺭِﻗًﺎ ﻳَﻄْﺮُﻕُ ﺑِﺨَﻴْﺮٍ ﻳَﺎ ﺭَﺣْﻤَﻦُ ‏» . ‏( ﺣﺼﻦ ﺍﻟﻤﺴﻠﻢ ﻣﻦ ﺃﺫﻛﺎﺭ ﺍﻟﻜﺘﺎﺏ ﻭﺍﻟﺴﻨﺔ ‏( 2 / 141 ‏) .
“আমি আল্লাহর ঐ সকল পরিপূর্ণ বাণীসমূহের সাহায্যে আশ্রয় চাই যা কোনো সৎব্যক্তি বা অসৎ ব্যক্তি অতিক্রম করতে পারে না, — আল্লাহ যা সৃষ্টি করেছেন, অস্তিত্বে এনেছেন এবং তৈরী করেছেন তার অনিষ্ট থেকে। আসমান থেকে যা নেমে আসে তার অনিষ্ট থেকে এবং যা আকাশে উঠে তার অনিষ্ট থেকে, আর যা পৃথিবীতে তিনি সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট থেকে, আর যা পৃথিবী থেকে বেরিয়ে আসে, তার অনিষ্ট থেকে, দিনে রাতে সংঘটিত ফেতনার অনিষ্ট থেকে, আর রাতের বেলায় হঠাৎ করে আগত অনিষ্ট থেকে। তবে রাতে আগত কল্যাণকর আগমনকারী ব্যতীত, হে দয়াময়।” (হিসনুল মুসলিম : ২/১৪১)।
4- হিসনূল মুসলিমে রয়েছে:-
‏« ﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻜَﻠِﻤَﺎﺕِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﻟﺘَّﺎﻣَّﺎﺕِ ﻣِﻦْ ﻏَﻀَﺒِﻪِ ﻭَﻋِﻘَﺎﺑِﻪِ ﻭَﺷَﺮِّ ﻋِﺒَﺎﺩِﻩِ، ﻭَﻣِﻦْ ﻫَﻤَﺰَﺍﺕِ ﺍﻟﺸَّﻴَﺎﻃِﻴﻦِ ﻭَﺃَﻥْ ﻳَﺤْﻀُﺮُﻭﻥِ ‏» . ‏( ﺣﺼﻦ ﺍﻟﻤﺴﻠﻢ ﻣﻦ ﺃﺫﻛﺎﺭ ﺍﻟﻜﺘﺎﺏ ﻭﺍﻟﺴﻨﺔ ‏( 1 78 / ‏) .
“আল্লাহর পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের ওসিলায় আশ্রয় চাই তাঁর রাগ থেকে, তাঁর শাস্তি থেকে, তাঁর বান্দাদের অনিষ্ট থেকে, শয়তানদের কুমন্ত্রণা থেকে এবং তাদের উপস্হিতি থেকে।” (আবু দাউদ: ৪/১২, নং : ৩৮৯৩। সাহীহুত- তিরমিযী ৩/১৭১)।
5- সাহীহ হাদীসে রয়েছে:-
‏« ﺣَﺴْﺒِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻟَﺎ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﻫُﻮَ، ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺗَﻮَﻛَّﻠْﺖُ ﻭَﻫُﻮَ ﺭَﺏُّ ﺍﻟْﻌَﺮْﺵِ ﺍﻟْﻌَﻈِﻴﻢِ ‏» . ‏( 7 ﻣﺮﺍﺕ ‏) . ‏( ﺳﻨﻦ ﺃﺑﻲ ﺩﺍﻭﺩ ‏( 4 / 321 ‏) . ‏( ﺣﺼﻦ ﺍﻟﻤﺴﻠﻢ ﻣﻦ ﺃﺫﻛﺎﺭ ﺍﻟﻜﺘﺎﺏ ﻭﺍﻟﺴﻨﺔ ‏( 1 61 / ‏) .
“আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি ছাড়া আর কোনো সত্য মা‘বুদ নেই, আমি তাঁর উপরই ভরসা করি, আর তিনি মহান আরশের রব্ব।” (৭ বার)। (সূনানে আবু দাউদ ৪/৩২১) ও ( হিসনুল মুসলিম ১/৬১)।
6- সাহীহ মুসলিমে রয়েছে:-
‏« ﺑِﺎﺳْﻢِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺃَﺭْﻗِﻴﻚَ، ﻣِﻦْ ﻛُﻞِّ ﺷَﻲْﺀٍ ﻳُﺆْﺫِﻳﻚَ، ﻣِﻦْ ﺷَﺮِّ ﻛُﻞِّ ﻧَﻔْﺲٍ ﺃَﻭْ ﻋَﻴْﻦِ ﺣَﺎﺳِﺪٍ، ﺍﻟﻠﻪُ ﻳَﺸْﻔِﻴﻚَ ﺑِﺎﺳْﻢِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺃَﺭْﻗِﻴﻚَ ‏» . ‏( ﺻﺤﻴﺢ ﻣﺴﻠﻢ ‏( 4 / 1718 ‏) .
“আল্লাহর নামে আপনাকে ঝাঁড়ফুক করছি, কষ্টদায়ক সকল কিছুর ক্ষতি হতে, যে কোনো মানুষ বা বদনযর অথবা হিংসুকের হিংসার নজর হতে। আল্লাহ আপনাকে শিফা বা রোগমুক্ত করুন, আমি আপনাকে আল্লাহর নামেই ঝাঁড়ফুক করছি।” (সাহীহ মুসলিম: ৪/১৭১৮)।
7- সাহীহ হাদীসে রয়েছে:-
‏« ﺃَﺳْﺄَﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺍﻟْﻌَﻈِﻴﻢَ ﺭَﺏَّ ﺍﻟْﻌَﺮْﺵِ ﺍﻟْﻌَﻈِﻴﻢِ ﺃَﻥْ ﻳَﺸْﻔِﻴَﻚَ ‏» . ‏( ﺳﻨﻦ ﺃﺑﻲ ﺩﺍﻭﺩ ‏( 3 / 187 ‏) .
“আমি মহান আল্লাহর কাছে চাই, যিনি মহান আরশের রব্ব, তিনি যেন আপনাকে রোগ হতে শিফা দান করেন।” (৭ বার পড়বেন)। (আবু-দাউদ, ৩/১৮৭)।
8- সাহীহ মুসলিমে রয়েছে:-
তোমার শরীরের যেখানে ব্যথা রয়েছে সেখানে হাত রেখো এবং তিনবার বলো, বিসমিল্লাহ, তারপর সাতবার বলো,
‏« ﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﺎﻟﻠﻪِ ﻭَﻗُﺪْﺭَﺗِﻪِ ﻣِﻦْ ﺷَﺮِّ ﻣَﺎ ﺃَﺟِﺪُ ﻭَﺃُﺣَﺎﺫِﺭُ ‏» . ‏( ﺻﺤﻴﺢ ﻣﺴﻠﻢ ‏( 4 / 1728 ‏) .
“এই যে ব্যথা আমি অনূভব করছি এবং যার আমি আশংকা করছি, তা থেকে আমি আল্লাহ তা‘আলার এবং তাঁর কুদরতের আশ্রয় প্রার্থনা করছি।” (সাহীহ মুসলিম: ৪/১৭২৮, নং ২২০২)।
9- সাহীহ আল-বুখারীতে রয়েছে:-
‏« ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺭَﺏَّ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ، ﻣُﺬْﻫِﺐَ ﺍﻟﺒَﺎﺱِ، ﺍﺷْﻒِ ﺃَﻧْﺖَ ﺍﻟﺸَّﺎﻓِﻲ، ﻻَ ﺷَﺎﻓِﻲَ ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﻧْﺖَ، ﺷِﻔَﺎﺀً ﻻَ ﻳُﻐَﺎﺩِﺭُ ﺳَﻘَﻤًﺎ ‏» . ‏( ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ‏( 7 / 132 ‏) .
“হে আল্লাহ! হে মানুষের রব্ব, আপনি তাদের কষ্ট, সমস্যা, বিপদদূরকারী। আপনি তাদেরকে শিফা (রোগমুক্ত) করে দিন, আপনিই তো শিফাদানকারী। আপনি ব্যতীত রোগমুক্তকারী কেউই নেই, রোগ হতে এমন শিফা দান করুন, যাতে রোগের কিছুই শরীরে অবশিষ্ট না থাকে।” (সাহীহ আল-বুখারী: ৭/১৩২)।
10- অনুরূপভাবে সাহীহ হাদীসে রয়েছে:
‏« ﺑِﺴْﻢِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻟَﺎ ﻳَﻀُﺮُّ ﻣَﻊَ ﺍﺳْﻤِﻪِ ﺷَﻲْﺀٌ، ﻓِﻲ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ، ﻭَﻟَﺎ ﻓِﻲ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀِ، ﻭَﻫُﻮَ ﺍﻟﺴَّﻤِﻴﻊُ ﺍﻟْﻌَﻠِﻴﻢُ ‏» ، ‏( ﺛَﻠَﺎﺙَ ﻣَﺮَّﺍﺕٍ ‏) . ‏( ﺳﻨﻦ ﺃﺑﻲ ﺩﺍﻭﺩ ‏( 4 / 323 ‏) .
“আল্লাহর নামে, যার নামের সাথে আসমান ও যমীনে কোনো কিছুই কোনো ক্ষতি করতে পারে না। আর তিনি সর্বশ্রোতা, মহাজ্ঞানী।” (৩ বার)।
আবদুল্লাহ ইবন আব্দুর রহমান আল-জিবরীন রহ.
অনুবাদ: আবুল কাসেম মুহাম্মাদ মাসুম বিল্লাহ
সম্পাদনা: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
সূত্র: ইসলামহাউজ

প্রচলিত ইসলামী ব্যাংকের সাথে লেনদেন কতটুকু শরীয়ত সম্মত?

>>>> প্রচলিত ইসলামী ব্যাংকের সাথে লেনদেন কতটুকু শরীয়ত সম্মত? বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকগুলো কি সর্ম্পূণ সুদমুক্ত হতে পেরেছে? <<<<
ইসলামী ব্যাংকগুলোর সাথে লেনদেন করা এবং শরীয়াহ প্রতিপালনের ব্যাপারে তাদের মাঝে চাপ প্রয়োগ করা। একটি ইসলামী ব্যাংকের মান যাচাই এর ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত চলকগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে –
১) শরীয়াহ বোর্ডের সদস্য কারা এবং শরীয়াহ প্রতিপালনের ব্যাপারে তারা কতটুকু কঠোর?
২) ব্যাংকের কর্মচারীরা কতটুকু ইসলামিক। তারা নিয়মিত সালাত আদায় করে নাকি, মহিলা কর্মচারীরা পর্দা মেনে চলেন নাকি, নারী পুরুষের অবাধ এবং অপ্রয়োজনীয় মেলামেশা হয় নাকি এবং সবচেয়ে বড় কথা হল তারা সুদের পাপের ভয়াবহতা উপলব্ধি করে নাকি! সুদের প্রতি ঘৃণা একজন ইসলামী ব্যাংকারের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিৎ।
৩) ব্যাংকের কর্মচারীরা ইসলামী অর্থনীতির স্বাতন্ত্র্য ও সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়াবলী সম্পর্কে সম্যকরূপে অবগত কিনা এবং এটাকেই শ্রেষ্ঠ পদ্ধতি মনে করেন কি না?
৪) ব্যাংকের কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আছে কি না?
অতএব, উপরোক্ত আলোচনায় বলা যায় যে, ইসলামী ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্ত ইসলামী ব্যক্তিত্ব। আর সেটার চরম অভাব আমাদের দেশে রয়েছে ইসলামী শিক্ষার ব্যাপারে বিশাল অজ্ঞতার কারণে। এক্ষেত্রে গ্রাহকদের বিশাল ভূমিকা রয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে সচেতনতা ব্যাংকগুলোকে সেবার মান বৃদ্ধি করতে বাধ্য করবে।
এক নজরে ইসলামী ব্যাংকের হালাল-হারামের চিত্র নিম্নরূপ-
১. মুরাবাহা ক্রয়-বিক্রয়ের বিপরীত আয় – সুদ/হারাম
২. হায়ার পার্চেজ বিনিয়োগের বিপরীত আয় – সুদ/হারাম
৩. বৈদেশিক বাণিজ্যের বিপরীতে আয় – সুদ/হারাম
৪. ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে কমিশন – সন্দেহজনক/হারাম
৫. বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত বাধ্যতামূলক রিজার্ভের বিপরীতে অর্জীত আয় – হারাম
৬. কল মানি মার্কেটের আয় – সুদ / হারাম
৭. ক্রেডিট কার্ড এর বিপরীতে অর্জীত মুনাফা – সুদ / হারাম
৮. রিক্স ফান্ড বাবদ কমিশন – নাজায়েয
৯. লকার সার্ভিসের বিপরীতে আদায়কৃত ভাড়া – হালাল
১০. ডি.ডি.টি.টি – সহ অন্যান্য সার্ভীসচার্জসমূহের বিপরীতে প্রাপ্ত কমিশন/আয় – হালাল
প্রচলিত সুদী ব্যাংকসমূহেরও উপরোক্ত দু’প্রকার আয় হালাল। এক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংকের নিজস্ব কোন কৃতিত্ব নেই।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে যা বুঝা যায়, হালাল-হারাম বিবেচনায় ইসলামী ব্যাংকের আয় এবং প্রচলিত সুদী ব্যাংকের আয়ের মধ্যে কোন প্রকার পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় না। অতএব, ইসলামী ব্যাংক ও সুদী ব্যাংকের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।
শুধুমাত্র পার্থক্য এতটুকুই যে, প্রচলিত সুদী ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের মত ইসলামী বিনিয়োগ পদ্ধতির পরিভাষা গুলো ব্যবহার করে না আর ইসলামী ব্যাংক তা করে থাকে। আরেকটি পার্থক্য হলো এই যে, প্রচলিত সুদী ব্যাংকের শরীয় কাউন্সিল নেই কিন্তু ইসলামী ব্যাংকে নামমাত্র এই শরীয়া কউন্সিল রয়েছে বলা যায়। যেমন পরিভাষা গুলো নিম্নরূপ –
১. মুদারাবা২. মুশারাকা৩. বায়ই মুরাবাহা৪. ব্যয়–ই–সালাম: (অগ্রিম ক্রয়)৫. ব্যয়–ই–মুয়াজ্জাল (বাকীতে বিক্রয়):৬. ইজারা৭. ইজারা বিল–বায়ই (ক্রয়ের চুক্তির ভাড়া):৮. হায়ার পারচেজ আন্ডার শিরকাতুল মিলক (যৌথ মালিকানাভিত্তিক ভাড়ায় ক্রয়–বিক্রয়)৯. কিস্তিতে বিক্রয়১০. ইসতিসনা১১. জু’আলাহ১৩. মুশাকাত১৪. শেয়ার ক্রয়–বিক্রয়১৫. বৈদেশিক মুদ্রার উপস্থিত ক্রয়–বিক্রয়১৬. মেয়াদী অংশগ্রহণকারী সার্টিফিকেট১৬. বিনিয়োগ নীলাম১৮. সরাসরি বিনিয়োগ১৯. স্বাভাবিক মুনাফার হারে বিনিয়োগ২০. করযে হাসানা
ইসলামী ব্যাংকগুলো মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে প্রতারণা করছে। তারা সাধারণ আমানতকারীর সঙ্গে প্রতারণা ও বিশ্বাস নষ্ট করছে। ইসলামী ব্যাংকগুলোতে ইসলাম নেই। এগুলো আমানত সংগ্রহ, বিনিয়োগ, বাণিজ্য কোনো ক্ষেত্রেই ইসলামিক ব্যাংকিং করছে না।
বর্তমানে আমাদের দেশের ইসলামী ব্যাংকগুলো সুদমুক্ত নয়। যার কারনে তাতে ফিক্সড ডিপোজিট বা সেভিংস একাউন্ট খোলা অন্যান্য ব্যাংকের মত নাজায়েয, যতক্ষণ না তারা তাদের সার্বিক কার্যক্রম ইসলামী পদ্ধতিতে পরিচালনা না করে। তবে প্রয়োজনের ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংকগুলোতে কারেন্ট একাউন্ট খোলা জায়েয। আমার জানা মতে, আমাদের দেশের গ্রহণযোগ্য দারুল ইফতাগুলোর তাহক্কীক ও ফাতওয়া এমনই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও বীমা বিভাগের অধ্যাপক এম মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ইসলামী ব্যাংকগুলো আমানত সংগ্রহ, বিনিয়োগসহ আর্থিক ব্যবস্থাপনায় কোন সূচকেই ইসলামী ব্যাংকিং করছে না। তারা অন্যান্য ব্যাংকগুলোর মতো সুদ ভিত্তিক ব্যাংকিং করছে। এটা বিশ্বাসী আমানতকারির সঙ্গে প্রতারণা। তাদের বিশ্বাস নষ্ট করা।তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকগুলোও পরিচালকদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে। কিছু বেশি দায় খয়রাত করে ইসলামী ব্যাংক হিসেবে ফায়দা নিচ্ছে। এটা ঠিক না। ইসলামী ব্যাংকিং হলো, পুঁজি সংগ্রহ করে ছড়িয়ে দেয়া। সেটি করে না কেউ। কেউ মুদি দোকানি, কাজের লোক, বাদাম বিক্রেতাকে ঋণ দেয় না। এ বিষয়ে তিনি আরও মন্তব্য করে বলেন, ব্যাংকগুলো কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা করে না। বেতন কম দেয়। অন্যান্য ব্যাংকের থেকে সুযোগ সুবিধাও বেশি। এভাবে কেন চলবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ইয়াসিন আলী বলেন, ইসলামী ব্যাংকগুলো সঠিক পথে নেই। তারা ব্যবসা করতে মূলত এই ধরনের ব্যাংকিং করছে। ইসলামী ব্যাংকিং চর্চা কেউ করেন না। তিনি আরও বলেন, এমন উদাহরণও দেখেছি, ইসলামী ব্যাংক কলমানি মার্কেট থেকে ৪৫ শতাংশ হারে ঋণ নিয়েছে। এটা কোন ধরনের ইসলামি ব্যাংকিং। এগুলো কি প্রতারণা নয়। মানুষে ঠকানো নয়। সাবেক এই নির্বাহী বলেন, অনেক আমানতকারী বিশ্বাস করে বিনা মুনাফায় অর্থ রাখেন। ইসলামী ব্যাংকগুলোতে এমন আমানত প্রায় ১৫ শতাংশ। কি হয় এসব অর্থের মুনাফা।
বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকগুলো কি সর্ম্পূণ সুদমুক্ত হতে পেরেছে?
এই জনপ্রিয় প্রশ্নের উত্তর হল না। ইসলামী ব্যাংকগুলো সুদভত্তিকি র্অথনতৈকি ব্যবস্থার মাঝে র্কাযক্রম পরচিালনা করে বিধায় তারা দুটি ক্ষেত্রে সুদমুক্ত লনেদনে করতে পারে না –
১) কেন্দ্রীয় ব্যাংকরে সাথে যে বাধ্যতামূলক সঞ্চতি, (SRR) এবং Foreign Currency Clearing Account এ জমাকৃত বৈদশিক মুদ্রার উপরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদ দেয়।
২) বিদেশী ব্যাংকগুলোর সাথে ইসলামী ব্যাংকের যে Nostro Account থাকে, সেটা চলতি হিসাব হলেও Overnight lending থেকে তারা সেখান থেকে সুদ পায়। হাদীসে এসেছে –
عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم إِنَّهَا سَتَأْتِي عَلَى النَّاسِ سِنُونَ خَدَّاعَةٌ يُصَدَّقُ فِيهَا الْكَاذِبُ وَيُكَذَّبُ فِيهَا الصَّادِقُ وَيُؤْتَمَنُ فِيهَا الْخَائِنُ وَيُخَوَّنُ فِيهَا الْأَمِينُ وَيَنْطِقُ فِيهَا الرُّوَيْبِضَةُ قِيلَ وَمَا الرُّوَيْبِضَةُ قَالَ السَّفِيهُ يَتَكَلَّمُ فِي أَمْرِ الْعَامَّةِ
আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “মানুষের নিকট এমন ধোকাব্যঞ্জক যুগ আসবে, যাতে মিথ্যাবাদীকে সত্যবাদীরূপে এবং সত্যবাদীকে মিথ্যাবাদীরূপে পরিগণিত করা হবে। যখন খেয়ানতকারীকে আমানতদার মনে করা হবে এবং আমানতদার আমানতে খেয়ানত করবে। যখন জনসাধারণের ব্যাপারে তুচ্ছ লোক মুখ চালাবে।” [আহমাদ, হাঃ ৭৯১২, ইবনে মাজাহ, হাঃ ৪০৩৬, হাকেম, হাঃ ৮৪৩৯, সহীহুল জামে’, হাঃ ৩৬৫০, হাদীস সম্ভার, হাঃ ১৮৭৭] তাহক্বীক্ব : হাদীসের মান – সহীহ।
সুতরাং, উপরোক্ত হাদীসের আলোকে তাই বলা যায় যে –
(১) বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের নামের পূর্বে শুধু ইসলাম শব্দটি বাকী আছে। এর আভ্যন্তরীণ কর্মকান্ডে ইসলামী আদর্শের নাম নিশানাও নেই।
(২) ইসলামী ব্যাংকের ম্যানুয়েল, বই-পস্তক, গাইড লাইন ইত্যাদিতে কুরআন-সুন্নাহ’য় বর্ণিত ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার মূলনীতিসমূহ লিখিত রয়েছে ঠিকই, কিন্তু বাস্তব কর্মের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই।
(৩) ইসলামী ব্যাংকের বাহ্যিক দিকটা অত্যন্ত সৌন্দর্যমন্ডিত, চাকচিক্যময় হলেও এর ভেতরটা হচ্ছে হিদায়াত ও আল্লাহ ভীতি শূণ্য।
(৪) আর হাদীসের বক্তব্য অনুযায়ী যেসব আলেম দুনিয়ার সামান্য স্বার্থের বিনিময়ে ইসলামের অকাট্য হারাম বিধান সুদকে হালাল বলে ফতোয়া দেয় যা ছিল ইহুদী – খৃষ্টানদের ধর্মগুরু আহবার-রুহবানদের কাজ! তাদের চেয়ে নিকৃষ্ট শ্রেণীর প্রাণী আর কিছু হতে পারে না। এ জাতীয় দুনিয়া ও অর্থপূজারী আলেমদের কারনেই ইসলামী ব্যাংকিং ও ইন্সুরেন্সের নামে ইসলামী অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান গুলো সুদকে হালাল করার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত রয়েছে।
(৫) নিঃসন্দেহে বর্তমান যামানার জন্য এটা এক মহা-ফেতনা। কেননা আল্লাহর হারামকৃত বিষয়কে হালাল এবং হালালকৃত বিষয়কে হারাম করা ইসলামের নামে বড় ধরনের ফেতনা ছাড়া কিছুই নয়। এ ফেতনার কবলে পড়ে ঈমান হারাতে পারেন যে কেউ আর এসব ফেতনায় পড়েই আলেমদের ধ্বংসের কথা উপরোক্ত হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।
বস্তুতঃ প্রচলিত ইসলামী ব্যাংকিংয়ের উক্ত আমল যতই সৌন্দর্য, আকর্ষনীয় ও জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্য হোক না কেন তা কোন অবস্থাতেই আল্লাহর নিকট গ্রহনীয় হতে পারে না। কেননা আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনে স্পষ্টই বলেছেন যে,
قُلْ هَلْ نُنَبِّئُكُمْ بِالْأَخْسَرِينَ أَعْمَالًا
বল, ‘আমি কি তোমাদেরকে এমন লোকদের কথা জানাব, যারা আমলের দিক থেকে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ’?
الَّذِينَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِنُونَ صُنْعًا
দুনিয়ার জীবনে যাদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গেছে, অথচ তারা মনে করছে যে, তারা ভাল কাজই করছে’!
أُولَٰئِكَ الَّذِينَ كَفَرُوا بِآيَاتِ رَبِّهِمْ وَلِقَائِهِ فَحَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فَلَا نُقِيمُ لَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَزْنًا
‘তারাই সেসব লোক, যারা তাদের রবের আয়াতসমূহ এবং তাঁর সাথে সাক্ষাতকে অস্বীকার করেছে। ফলে তাদের সকল আমল নিষ্ফল হয়ে গেছে। সুতরাং আমি তাদের জন্য কিয়ামতের দিন কোন ওজনের ব্যবস্থা রাখব না’। (সূরা কাহাফ : ১০৩ – ১০৫)আল্লাহ তা’আলা আমদেরকে হেফাযত করুন, আমীন।