রাগান্বিত অবস্থায় শিশুকে প্রহার করা উচিত নয় | মুফতি তাকী উসমানী

হযরত থানভী রাহ. বলেন, ‘রাগান্বিত অবস্থায় কখনও শিশুকে প্রহার করবে না (পিতা ও উস্তাদ) উভয়ের জন্যই এই কথা)। রাগ প্রশমিত হওয়ার পর চিন্তা-ভাবনা করে শাস্তি দিবে। উত্তম শাস্তি হল ছুটি মওকুফ করে দেওয়া। শিশুর উপর এর খুব প্রতিক্রিয়া হয়ে থাকে। মিয়াজী ছাত্র প্রহারে এজন্য স্বাধীন হয়ে যান যে, তাকে প্রশ্ন করার কেউ থাকে না। শিশুর তো প্রশ্ন করার যোগ্যতাই নেই আর অভিভাবক মিয়াজীকে পূর্ণ স্বাধীন করে দিয়েছেন এই বলে যে, ‘হাড্ডি আমাদের, আর চামড়া মিয়াজীর’!

মনে রাখবে, যার অধিকার সম্পর্কে প্রশ্ন করার কেউ থাকে না তার সম্পর্কে প্রশ্নকারী স্বয়ং আল্লাহ। এমনকি কোনো যিম্মী (মুসলিম দেশের অমুসলিম নাগরিক, যার নিরাপত্তা মুসলিম শাসকের যিম্মায়) কাফিরের উপর যদি কোনো শাসক জুলুম করে তাহলে হাদীস শরীফে এসেছে যে, আল্লাহ ও তার রাসূলের কাছে এর জন্য জবাবদিহি করতে হবে। (আনফাসে ঈসা পৃ. ১৭৩)

শিশুদেরকে প্রহার করা অত্যন্ত ভয়াবহ
শিশুদেরকে প্রহার করা খুবই ভয়াবহ। আমাদের পিতা হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ শফী রাহ. বলতেন, অন্যান্য গুনাহ তো তওবার মাধ্যমে মাফ হতে পারে, কিন্তু শিশুদের উপর জুলুম করা হলে এর ক্ষমা পাওয়া খুবই জটিল। কেননা, এটা হচ্ছে বান্দার হক। আর বান্দার হক শুধু তওবার দ্বারা মাফ হয় না, যে পর্যন্ত না যার হক নষ্ট করা হয়েছে সে মাফ করে। এদিকে যার উপর জুলুম করা হয়েছে সে হচ্ছে নাবালেগ। নাবালেগের ক্ষমা শরীয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়। এমনকি শিশু যদি মুখে বলেও যে, আমি মাফ করলাম তবুও তা গ্রহণযোগ্য নয়। এজন্য এই অপরাধের মাফ পাওয়া খুব জটিল। আর তাই শিশুদেরকে প্রহার করা এবং তাদের সঙ্গে মন্দ ব্যবহার করার ব্যাপারে সাবধান হওয়া উচিত।

শিশুদের প্রহারের বিষয়ে বিধিনিষেধ
মাদরাসার কারী সাহেবরা এ অন্যায় করে ফেলেন। আল্লাহ তাআলা তাদের রক্ষা করুন। আমীন। হযরত থানভী রাহ. নিয়ম করেছিলেন যে, মকতবে কোনো কারী সাহেব শিশুদেরকে প্রহার করতে পারবে না। কেউ প্রহার করলে তাকে হযরত রাহ.-এর কাছে জবাবদিহি করতে হত এবং কখনও কখনও শাস্তিও পেতে হত। একবার হযরত একথাও বলেছিলেন যে, এখন থেকে যদি জানতে পারি, কোনো কারী সাহেব কোনো শিশুকে মেরেছে তাহলে ওই কারী সাহেবকে মসজিদের বারান্দায় দাড় করিয়ে ওই শিশুর দ্বারা বেত দেওয়াব। বিষয়টা খুবই নাজুক ও মারাত্মক। এজন্য হযরত থানভী রাহ. এ বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর ছিলেন।

শান্ত হওয়ার পর বুঝে-শুনে শাস্তি দিন
এটা ঠিক যে, শিশুদেরকে পড়ানো খুবই কঠিন কাজ। তাদেরকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ নয় এবং কখনও কখনও প্রহারের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েই যায়। তো এমন পরিস্থিতিতে অন্য কোনো চিকিৎসা ফলপ্রসূ না হলে হযরত রাহ. বলেন, এ ক্ষেত্রেও রাগান্বিত অবস্থায় মারবে না। এ সময় চুপ থাক। যখন ক্রোধ দূর হয়ে যাবে তখন ভেবে চিন্তে শাস্তি দিবে। এতে শাস্তির মাত্রা ঠিক থাকবে। যে পরিমাণ প্রয়োজন সে পরিমাণ শাস্তিই দেওয়া হবে। সীমালঙ্ঘন হবে না। কিন্তু যদি রাগান্বিত অবস্থায় মারতে আরম্ভ কর তাহলে এক থাপ্পড়ের জায়গায় দশ থাপ্পড় দিয়ে ফেলবে। এর কারণে একে তো গুনাহ হল। কেননা, প্রয়োজনের অধিক শাস্তি দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত এতে শিশুর ক্ষতি হবে। কেননা সকল বিষয়ই মাত্রা অতিক্রম করলে ক্ষতিকর হয়ে যায়। তৃতীয়ত এর জন্য পরে অনুতাপ করতে হবে।

এজন্য হযরত রাহ. একেবারে মৌলিক কথাটা বলে দিয়েছেন যে, ক্রুদ্ধ অবস্থায় শাস্তি দিবে না। ক্রোধ ঠান্ডা হওয়ার পর শাস্তি দিবে। #

(‘ইসলাহী মাজালিস’ থেকে গৃহীত অনুবাদে : ইবনে নসীব)

যে সকল কাজ একজন মুসলিমকে কাফেরে পরিণত করে

মানুষ ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমান হয়। আবার মুসলমান হবার পর কুফরী করলে সে কাফির হয়ে যায়। যে ব্যক্তি তার দীন ও ঈমানকে প্রত্যাহার করে কাফির হয় শরীয়তের পরিভাষায় তাকেই মুরতাদ বলা হয়। চাই সে ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলুক, কুফরীর আনুগত্য বা অনুসরণ করুক বা নামায পড়ুক আর না পড়ুক। আমাদের একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে কেউ মুসলিম পরিবারের জন্ম গ্রহণের ফলেই ঈমান তার ওপর জেঁকে বসে। অতএব, ঈমান কার ওপর আনতে হবে, কিভাবে ঈমানকে রক্ষা করতে হবে – এগুলোর জানার কোনই প্রয়োজন নেই। অথচ সমস্ত কুফরকে প্রত্যাখ্যান করে ইসলামী বিধান যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই ঈমানের ওপর টিকে থাকা এবং নিজেকে সত্যিকার মুসলমান হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

একজন মুসলমান হিসেবে আমাদের খুঁজে বের করা প্রয়োজন যে সকল কুফরীর কারণে মুসলমান কাফের হয় অর্থাৎ ইসলামের গন্ডি থেকে বের হয়ে যায় এগুলো নিম্নে দশটি দফায় সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলোঃ

একঃ আস-শিরকঃ আল্লাহর (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) ইবাদতে শরীক করা, এ ব্যাপারে মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ্ বলেছেনঃ

‘‘আল্লাহ কেবল শিরকের গুনাহই মাফ করেন না; উহা ব্যতিত আর যত গুনাহ আছে তা যার জন্য ইচ্ছা মাফ করে দেন। যে লোক আল্লাহর সাথে অন্য কাউকেও শরীক করল; সে তো বড় মিথ্যা রচনা করল, এবং বড় কঠিন গুনাহের কাজ করল।’’ (সূরা আন-নিসা ৪, আয়াত ৪৮)

এবং মহাপরাক্রমশালী আরো বলেনঃ

‘‘… বস্ত্তত আল্লাহর সাথে অন্য কাউকেও যে শরীক করেছে আল্লাহ্ তার ওপর জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন। আর তার পরিণতি হবে জাহান্নাম। এ সব জালেমের কোনই সাহায্যকারী নেই।’’ (সূরা আল-মায়িদাহ ৫, আয়াত ৭২)

কেউ আল্লাহর সাথে যে বিভিন্ন প্রকার শরীক করতে পারে তার মধ্যে রয়েছে ইতিপূর্বে বর্ণিত অলিহাহ, আরবাব, আনদাদ ও তাগুত।

বর্তমান কালের কয়েকটি বড় বড় শিরক সমূহের মধ্যে রয়েছে মাজার ও কবর পুজা, পীর ও অলি আল্লাহ গায়েব জানেন। অসুস্থকে সুস্থ করতে পারেন। বাচ্চা দিতে পারেন, বিপদ থেকে উদ্ধার করতে পারেন কিংবা আমাদের মনের খবর পীর বাবার জানা ইত্যাদি ধারণা পোষণ করা সুস্পষ্ট শিরক। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা একমাত্র আইন ও বিধান দাতা। কুরআন আর সুন্নাহর মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন সমাজ, রাষ্ট্র, শিক্ষা, বিচার ব্যবস্থা, শাস্তি, অর্থনীতি কিভাবে চালাতে হবে এবং এগুলির ব্যাপারে আল্লাহর দেয়া বিধানই প্রত্যেক মুসলিমের একমাত্র সংবিধান। যদি কেউ আল্লাহর দেয়া সংবিধানের উপর নিজেরা আইন তৈরি করে তবে তারা তাগুত (আল্লাহদ্রোহী, সীমালংঘনকারী) এ পরিণত হবে। যারা তাগুতের তৈরি সংবিধানকে মানবে তারা আইন মানার বিষয়ে আল্লাহর সাথে শিরক করে মুশরিকে পরিণত হবে। এমনিভাবে আল্লাহর দেয়া শরীয়া আইন বাদ দিয়ে যে সমস্ত বিচারক মানুষের তৈরী করা আইন দিয়ে বিচার ফায়সালা করে তারাও তাগুত। এবং যে সকল লোক তাদের কাছে নিজের ইচ্ছায় বিচার-ফায়সালা নিয়ে যাবে তারাও শিরকের গুনাহতে লিপ্ত হয়ে ইসলাম থেকে বাদ পড়ে যাবে।

দুইঃ যে ব্যক্তি তার নিজের এবং আল্লাহর (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) মধ্যে মধ্যস্থতা ও যোগাযোগের মাধ্যম বানায় এবং তাদের কাছে তার মনোস্কামনা পূরণের (শাফায়া) জন্য আবেদন-নিবেদন করে এবং তাদের ওপর নির্ভর করে (তাওয়াক্কুল) সে কাফির (অবিশ্বাসী) হয়ে যায়। এটাই অতীত ও বর্তমানকালের মুসলমানদের সর্বসম্মতি (ইজমা)।

‘‘তারা আল্লাহ্কে বাদ দিয়ে এমন বস্ত্তর উপাসনা করে, যা তাদের না করতে পারে কোনো ক্ষতি, না করতে পারে কোনো উপকার। আর তারা বলে, এরা তো আল্লাহর কাছে আমাদের সুপারিশকারী। আপনি বলে দিন, তোমরা কি আল্লাহ্কে এমন বিষয়ে অবহিত করতে চাও, যে সম্পর্কে তিনি আসমান ও জমীনের মাঝে অবহিত নন? তিনি পুতঃপবিত্র ও মহান সে সমস্ত জিনিস থেকে, যে গুলোকে তোমরা শরীক করছো।’’ (সূরা ইউনুছ ১০ঃ আয়াত ১৮)

‘‘জেনে রাখো, নিষ্ঠাপূর্ণ ইবাদত আল্লাহরই নিমিত্ত। যারা আল্লাহ্ ব্যতীত অন্যকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করে এবং বলে যে, আমরা তাদের ইবাদত এজন্যই করি যেনো তারা আমাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেয়। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তাদের মধ্যে তাদের পারষ্পরিক বিরোধপূর্ণ বিষয়ের ফয়সালা করে দিবেন। আল্লাহ্ মিথ্যাবাদী কাফেরকে সৎপথে পরিচালিত করেন না।’’ (সূরা আয্-যুমার ৩৯, আয়াত ৩ )

এর একটি স্পষ্ট উদাহরণ হবে যদি কোন ব্যক্তি একজন পীর (ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব) বা দরবেশের কাছে যায় এবং তাদেরকে সন্তান দেয়ার জন্য দোয়া করার অনুরোধ জানায়, এছাড়াও তাবীজ দিতে বলে আর বিশ্বাস স্থাপন করে পীরবাবার তাবীজে সে সুস্থ হবে অথবা মন কামনা পূর্ণ হবে এসকল কাজ দ্বারা আল্লাহ্ তায়ালা রুবুবিয়াতের সাথে পীরবাবা বা বুজুর্গকে শরীক করা হয় এটা সুষ্পষ্ট শিরক যা কিনা একজন মুসলমানকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়।

তিনঃ যে ব্যক্তি বহুইশ্বরবাদীকে (মুশরিক) প্রত্যাখ্যান অথবা তাদের ধারণায় সন্দেহ করে না সে কাফির হয়ে যায়। উদাহরণ স্বরূপ যদি কোন লোক বলে যে, সে নিশ্চিত নয় একজন খৃষ্টান কাফির কি না, তাহলে সে নিজেই একজন কাফির হয়ে যায় কারণ সে ঈসাকে (আঃ) খোদা হিসেবে গ্রহণকারী খৃষ্টানদের (মুশরিক, পৌত্তলিক) প্রত্যাখ্যান করেনি।

চারঃ যে ব্যক্তি মহানবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর পরিপূর্ণতা ও দিক নির্দেশনা বা ফায়সালায় অবিশ্বাস করে সে কাফির। এর কারণ হচ্ছে আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তার ফায়সালা হচ্ছে সীরাতুল মুসতাকিমের উপর। আর যারা তাগুতের কাছে যাওয়া বেশী পছন্দ করে তারা সত্য সঠিক পথ হতে বহু দূরে।

‘‘যে লোকের কাছে আল্লাহ্র হেদায়াত পরিষ্কারভাবে প্রকাশ পাবার পরও সে রাসূলের বিরোধীতা করে এবং মু’মিনদের পথ ব্যতীত অন্য কারুর পথের অনুসরণ করে, তাকে সেই দিকেই আমি ফিরিয়ে দেব যে দিক সে ফিরে যেতে চায়। আর আমি তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাব, এ জাহান্নাম অত্যন্ত খারাপ আবাস। আল্লাহ্ তায়ালা তাঁর অংশীদারকারীকে যে ক্ষমা করবেন না তা নিশ্চিত কথা। তবে এ ছাড়া অন্যান্য গুনাহ যাকে ইচ্ছে তিনি ক্ষমা করবেন। যারা আল্লাহ্র সাথে কোন কিছু শরীক করে তারা চরমভাবে ভ্রান্তিতে নিমজ্জিত।’’ (সূরা নিসা ৪, আয়াত ১১৫-১১৬)

এ আয়াত দ্বারা পরিস্কার রূপে প্রমাণিত হয় যে রাসূলের প্রদর্শিত পথের বিরোধিতা করা এবং মু’মিনদের পথ ছেড়ে অন্য কোন পথ গ্রহণ করা শিরক। এর শাস্তি হচ্ছে সবচেয়ে নিকৃষ্টতম স্থান জাহান্নামে বন্দি করে রাখা। এ বিষয়ের ওপর এদিক দিয়ে আলোচনা হতে পারে যে এটা আল্লাহ্ তায়ালা এবং তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে প্রমাণিত কি না? যদি আল্লাহ্ তায়ালা ও তাঁর রাসূলের কথা নির্ধারিত হয়, তাহলে তা নিয়ে কানাঘুষা করা এবং হেকমতের পরিপন্থী আখ্যা দেয়া, একে যুগের পরিপন্থী বলা এবং তা ছেড়ে নিজের মনগড়া পথের বা অন্য কারুর অন্ধ অনুকরণে অন্য পথের আশ্রয় নেয়া সুষ্পষ্ট শিরক। আল্লাহ্ শিরককে কখনোই ক্ষমা করবেন না।

পাঁচঃ যে ব্যক্তি নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা কিছু নিয়ে এসেছেন তাতে অসন্তুষ্ট যদিও সে এ অনুযায়ী কাজ করে, সে অবিশ্বাসী (কাফির) হয়ে গেছে। এরকম এক উদাহরণ হতে পারে এমন এক ব্যক্তি যে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ে অথচ সে এগুলো করা অপছন্দ করে অথবা এমন এক মহিলা যে হিজাব পরে অথচ সে তা পরা অপছন্দ করে।

‘‘আর মানুষের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা বলে আমরা আল্লাহ্ ও পরকালের প্রতি ঈমান এনেছি, অথচ প্রকৃতপক্ষে তারা ঈমানদার নয়।’’ (সূরা আল বাক্বারাহ ২, আয়াত ৮)

‘‘না, হে মুহাম্মদ, তোমার রবের নামে কসম, তারা কিছুতেই ঈমানদার হতে পারে না, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে ন্যায়বিচারক হিসেবে মেনে নিবে। অতঃপর তুমি যাই ফয়সালা করবে সে ব্যাপারে তারা নিজেদের মনে বিন্দুমাত্র কুন্ঠাবোধ করবেনা বরং ফয়সালার সামনে নিজেদেরকে সম্পূর্ণরূপে সমর্পন করবে।’’ (সূরা আন-নিসা ৪: আয়াত ৬৫)

ছয়ঃ যে ব্যক্তি দ্বীনের (ধর্মের) আওতার কোনকিছুর ব্যাপারে উপহাস করে বা কৌতুক করে অথবা ইসলামের কোন পুরস্কার বা শাস্তির ব্যাপারে ব্যাঙ্গ করে সে কাফির হয়ে যায়। এর প্রমাণ হচ্ছে আল্লাহর (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) এই কথাঃ

‘‘বল, তোমাদের হাসি-তামাসা ও মন-মাতানো কথাবার্তা কি আল্লাহ্, তাঁর আয়াত এবং তাঁর রসূলের ব্যাপারেই ছিল? এখন টাল-বাহানা করিও না। তোমরা ঈমান গ্রহণের পর কুফরী করেছ …’’ (সূরা আত-তওবাহ ৯, আয়াত ৬৫-৬৬)

সাতঃ জাদু (আস-সিহর)। সকল প্রকার জাদু নিষিদ্ধ কেউ এতে অংশগ্রহণ করুক, সময় ব্যয় করুক বা চর্চার প্রতি সহানুভূতিশীল হোক না কেন। যে ব্যক্তি জাদু চর্চা করে বা জাদুতে খুশী হয়, সে কাফির হয়ে যায়। কারণ আল্লাহ্ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) পবিত্র কুরআনে বলেছেনঃ

‘‘… প্রকৃতপক্ষে সোলাইমান কখনই কুফরী অবলম্বন করে নাই। কুফরী অবলম্বন করেছে সেই শয়তানগণ যারা লোকদেরকে যাদুগিরি শিক্ষাদান করতেছিল।’’ (সূরা আল বাকারা ২, আয়াত ১০২)

আটঃ যে ব্যক্তি একজন মুশরিককে (বহু ইশ্বরবাদী, কাফের) সাহায্য ও সমর্থন করে এবং মুসলমানের বিরুদ্ধে তাকে সহায়তা করে সে কাফির কারণ তার কাছে আল্লাহর (সুবহানু ওয়া তায়ালা) প্রতি বিশ্বাস রাখে এমন একজন মুসলমানের তুলনায় আল্লাহর (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) শত্রু বেশী প্রিয়। এর প্রমাণ হচ্ছে আল্লাহর (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) এই কথাঃ

‘‘হে ঈমানদার লোকেরা, নিজেদের পিতা ও ভাইকেও বন্ধু (সমর্থক ও সাহায্যকারী) হিসেবে গ্রহন করিও না যদি তারা ঈমান অপেক্ষা কুফরকে অধিক ভালবাসে। তোমাদের যে লোকই এই ধরনের লোকদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করবে সে-ই যালেম (অন্যায়কারী) হবে।’’ (সূরা আত-তওবাহ ৯, আয়াত ২৩)

‘‘তোমাদের মধ্যে কেউ যদি তাদেরকে [মুশরিকদেরকে] বন্ধুরূপে গ্রহণ করে তাহলে সে তাদের মধ্যেই গণ্য হবে। নিঃসন্দেহে আল্লাহ্ তায়ালা জালেমদেরকে হেদায়াত করেন না।’’ (সূরা মায়িদাহ ৫, আয়াত ৫১)

নয়ঃ যদি কোন ব্যক্তি বিশ্বাস করে যে, সে শারিয়াহ এর মধ্যে (আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার আইন) বিভিন্ন জিনিস যোগ করা অথবা এর কতিপয় বিষয় বাদ দেওয়ার মাধ্যমে ইসলামের উন্নতি সাধন করতে পারবে তাহলে সে কাফির হয়ে যায়।

এর কারণ হচ্ছে আল্লাহ্ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) পরিপূর্ণভাবে সকল মানুষের জন্য তার নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে ইসলামের বাণী পাঠিয়েছেন এবং যদি কেউ এটা অস্বীকার করে তাহলে সে কুরআনের এই আয়াতের বিরুদ্ধে যায়ঃ

‘‘আজ আমি তোমাদের দ্বীনকে তোমাদের জন্য সম্পূর্ণ করে দিয়েছি এবং আমার নিয়ামত তোমাদের প্রতি পূর্ণ করেছি আর তোমাদের জন্য ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে কবুল করে নিয়েছি।’’ (সূরা আল-মায়িদাহ ৫, আয়াত ৩)

দশঃ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর প্রতি অবতীর্ণ বাণী শিক্ষা না করা অথবা সে অনুযায়ী কাজ না করার মাধ্যমে কেউ আল্লাহ (সুবহানু ওয়া তায়ালার) বাণীর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে সে ইসলামের গন্ডির বাইরে চলে যায়। আল-কুরআনে এর প্রমাণ হচ্ছেঃ

‘‘তার চাইতে বড় যালেম আর কে হবে যাকে তার আল্লাহর আয়াতের সাহায্যে উপদেশ দান করা হয় এবং তা সত্ত্বেও সে তা হতে মুখ ফিরিয়ে থাকে? এসব পাপীদের ওপর তো আমরা প্রতিশোধ নিয়েই ছাড়ব।’’ (সূরা আস-সাজদাহ ৩২, আয়াত ২২)

এগুলোই দশটি বিষয় যা কোন ব্যক্তির ইসলামকে অকার্যকর করতে পারে এবং যদি সে তার ভুলের জন্য আল্লাহ্ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) এর কাছে অনুতপ্ত না হয় এবং সে মৃত্যু বরণ করার আগে আবার ইসলাম গ্রহণ না করে তাহলে একজন মুশরিক (পৌত্তলিক) বা একজন কাফিরের (অবিশ্বাসী) মৃত্যুবরণ করে, আর তার গন্তব্যস্থল হয় অনন্ত কালের জন্য দোজখের আগুন এবং কোনদিনও জাহান্নামের আগুন থেকে বের করা হবে না।

সহজে নামাজ শিক্ষা [ সচিএে নামাজ+সূরা+দোয়া+নামাজের সময়,ওয়াক্ত+ সূরার ফযীলত +ইত্যাদি]

আশা করি সবাই ভালো আছেন [আল্লাহর রহমতে]।
তো আমি আজকে আপনাদের দেখাবো একটা App। যেটাতে আছে::
(১) কী করে নামাজ পড়তে হই (সচিএে নামাজ পড়া)

(২)নামাজের নিয়ম।

(৩)নামাজের প্রয়োজনিও সূরা সমূহ।

(৪)নামাজের পরে দোয়া সমূহ।

(৫)জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবার কিছু দোয়াসমূহ।

(৬)দোয়াসমূহ বা সূরা সমূহ ফযীলত। ইত্যাদি…….

আর আপনারা ব্যাবহার করলে সব বুঝতে পারবেন।

App টা (অফলাইন) এ। কোন এড ঝামেলা নেই।

ডাউনলোড লিংকঃঃ ডাউনলোড করুন

বা (প্লেস্টো এ সাচ্ করুন ঃবাংলা নামাজ শিক্ষা) তাহলেই পেয়ে যাবেন।
App Sizeঃ 2.8MB

পোস্ট এ কিছু ভুল হলে আল্লহর রস্তে মাফ করে দিবেন।।

সবচেয়ে সেরা পবিত্র আল কোরআন ও আল হাদিস এর অ্যাপ ২ টি নিয়ে নিন [Islamic Post] মুসলিম হলে অবশ্যই দেখবেন। 🎁

সবচেয়ে সেরা পবিত্র আল কোরআন ও আল হাদিস এর অ্যাপ ২ টি নিয়ে নিন [Islamic Post] মুসলিম হলে অবশ্যই দেখবেন।

আসালামু আলাইকুম,প্রিয় মুসলমান ভাই

TrickBD এর পক্ষ থেকে আবারো জানাই অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও শুস্বাগতম

প্রতিবার এর মতো আজকেও একটা সুন্দর ও মানসম্মত পোস্ট নিয়ে হাজির হলাম আমি..Mahfuj {EbMahfuj}..
তো চলুন শুরু করা যাক আজকের পোস্ট!!

আমি আমার প্রতি পোস্ট এ সব কিছু ভালো ভাবে বুজিয়ে দেওয়ার সবর্চ্চ চেষ্টা করি।আর আমি Admin,Editor,Author,Contributor এবং সব Visitor দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি যে,আমি কনো বড় আলেম বা হুজুর এই রমক নয়।তবে সর্বদা ইসলামি জীবন বিধান মেনে চলার চেষ্টা করি এবং সকল ভালো জিনিস বা কথা সবার সামনে তুলে ধরার প্রচেষ্টায় থাকি।
আর হে আমি পোস্ট গুলা বিভিন্ন যায়গা থেকে সংগ্রহ করি তা সুন্দর ভাবে সাজিয়ে উপস্থাপন করি।এবং সবাইকে দেখার এবং পড়ার জন্য শেয়ার করি।

আজকের পোস্ট এর Title হলো:-
সবচেয়ে সেরা পবিত্র আল কোরআন ও আল হাদিস এর অ্যাপ ২ টি নিয়ে নিন [Islamic Post] মুসলিম হলে অবশ্যই দেখবেন।
আমি Play Store এর সবচেয়ে সেরা পবিত্র আল কোরআন ও আল হাদিস অ্যাপ শেয়ার করছি।
আমি আসা করছি এই পোস্ট আর নাই
তাই আমি সবচেয়ে সেরা গ্রন্থ ২ টি আপনাদের মাঝে আবার উপস্থাপন করলাম।
আল কোরআনঃ
প্রথম এ কিছু Ss দেখুন::–

এর পর আসি আল হাদিস এর বিষয় এঃ
প্রথম এ Ss দেখুনঃ

[ ÷÷÷Some Info Of App÷÷÷ ]

Name:আল কোরআন
Size: ৯.১৭ MB
Version: ১.১.৫
Type:Apk
Developer:I Don’t No!
🆂🅼🅴 🅵🅴🆃🆄🆁🅴🆂 🅵 :

Nice Style Slide Menu
বাংলা উচ্চারণ + বাংলা মানে সহ
কোরআন শুনে পরার সুবিধা
বাংলাদেশ সহ কয়েক দেশের নামাজ এর সময় সূচি
সুন্দর Setting
আর কি বলবো আরো অনেক কিছু যা Install করলেই বুঝবেন
Click Here To Download

[ ÷÷÷Some Info Of App÷÷÷ ]

Name:Al Hadith
Size: 42 MB
Version:2.0
Type:Apk
Developer:I Don’t No!
🆂🅼🅴 🅵🅴🆃🆄🆁🅴🆂 🅵 :

প্রায় ২৮০০০+ হাদিস আছে
প্রায় ১০+ ধরন এর হাদিস
Slide Menu : dot menu Etc
হেব্বি Style এর Fonts
হাদিয়া কপি,শেয়ার এবং সব ধরন এর সুবিধা
এই অ্যাপ থেকে আপনি আমাদের প্রিয় নবীর সম্পুন জীবন বিধান জানতে পারবেন
আরো কত কিছু যে আছে!তা Installed করলেই বুঝবেন।

Click Here To Download

-.-:-ভিডিও বার্তা দেখুনঃ-.-:-
এই পোস্ট টি আমি ভালো ভাবে বুঝানোর চেষ্টা করেছি তবুও যদি না বুঝেন তাহলে নিচের ভিডিও টি দেখুন অথবা যারা Freebasic দিয়ে দেখছেন তারা নিচে লিনক টি Copy & Past করে ভিডিও টি দেখুন:

অথবা লিনক Past করে দেখুন:

https://youtu.be/NF39p22D2g4

অথবা লিনক Past করে দেখুন:

https://youtu.be/RtEy9IrDTH0

খোদা হাফেজ

বড় ভাই তখনই খারাপ লাগে যখন পোস্ট টি পড়ে না কমেন্ট করেই চলে যান।
একটা হাদিস পড়ুনঃ
আপনাদের সুবিধা এর জন্য কিছু Shortcut Word দিলাম সবাই এইভাবে কমেন্ট করতে পারেন।

T=Thank
N=Nice
S=Super
G=Good
A=Awesome
Or Your Custom Comment

এই পোস্ট টি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়:l

TipsNet24.Com

এই পোস্ট এই প্রথম আমি নিজেই করলাম এই পোস্ট আর কুথাও নেই এবং Google তেও এই মাত্র প্রকাশিত হবে।(ভুলে থাকলে মাফ করবেন)তাই পোস্ট কপি করলে Credit দিবেন Full Credit : Mahfuj
আর কনো সমস্যা হলে কমেন্ট করবেন সমাধান দেওয়া চেষ্টা
Contract Me On:

Go To Top

হায় মুসলমান..! তোমরা হলে এপ্রিলের বোকা। April Fool’s Day এর হৃদয় বিদারক অজানা তথ্য জেনে নিন।

ﺑِﺴۡﻢِ ﺍﻟﻠّٰﮧِ ﺍﻟﺮَّﺣۡﻤٰﻦِ ﺍﻟﺮَّﺣِﯿۡﻢِ
আসসালামু আলাইকুম

“April” ইংরেজী চতুর্থ মাস। ফুল “Fool” একটি ইংরেজী শব্দ, যার অর্থ বোকা । এপ্রিল ফুলের অর্থ “এপ্রিলের বোকা।” এটা সবাই জানি। “এপ্রিল ফুল” ইতিহাসের একটি জঘণ্যতম ঘৃণ্য এবং হৃদয়বিদারক লোমহর্ষক ইতিহাস । আজ আমরা অনেকই এসর্ম্পকে জানিনা বলে ইহুদী খৃষ্টানদের সাথে এপ্রিল ফুল পালন করে থাকি। চলুন আজ ইতিহাস থেকে জানি…..

ইউরোপে মুসলমানরা প্রবেশ করেছিলেন স্পেনের দরজা দিয়ে। ঐতিহাসিক রবার্ট ব্রিফল্ট দি ম্যাকিং অব হিউম্যানিটি গ্রন্থে মুসলমানদের এ প্রবেশকে অন্ধকার কক্ষের দরজা দিয়ে সূর্যের আলোর প্রবেশ বলে অভিহিত করেছেন। কেন এই তুলনা?

রবার্ট ব্রিফল্টের জবাব হলো—যেহেতু স্পেনে মুসলমানদের আগমনের ফলে শুধু স্পেন নয়, বরং গোটা ইউরোপ মুক্তির পথ পেয়েছিল এজ অব ডার্কনেস তথা হাজার বছরের অন্ধকার থেকে। এজ অব ডার্কনেস সম্পর্কে রবার্ট ব্রিফল্টের মন্তব্য হলো—”সেই সময় জীবন্ত অবস্থায় মানুষ অমানুষিকতার অধীন ছিল, মৃত্যুরপর অনন্ত নরকবাসের জন্য নির্ধারিত ছিল।”স্পেন জয়ের ঘটনাটি ঘটে ৭১১ খ্রিস্টাব্দে। (ধৈর্যের অভাব থাকলে সর্বশেষ প্যারা পড়েন)

মুসলিম সেনাপতি তারেক বিন জিয়াদ ভূমধ্যসাগরের উত্তাল তরঙ্গমালা পাড়ি দিয়ে ১২ হাজার সৈন্য নিয়ে রাজা রডরিকের বিরুদ্ধেঅভিযান পরিচালনা করেন। রাজা রডারকের শাসনামল ছিল স্পেনের জন্যে এক দুঃস্বপ্নের কাল। জনগণ ছিল রডারিক ও গথ সম্প্রদায়ের উত্পীড়নের অসহায় শিকার। মরণের আগে স্বাধীনতা ভোগের কোনো আশা তাদের ছিল না। তারেকের অভিযানের ফলে মুক্তির পথ বেরুবে, এই ছিল সাধারণ মানুষের ভাবনা। তারা তারেক বিন জিয়াদকে আশীর্বাদ হিসেবে গ্রহণ করল ৩০ এপ্রিল, ৭১১ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার। রডারক পলায়নের সময় নিমজ্জিত হয়ে মারা যায় গুয়াডেল কুইভারের পানিতে। এরপর জনগণের সহযোগিতায় মুসলমানরা একে একে অধিকার করলেন মালাগা, গ্রানাডা, কর্ডোভা। অল্পদিনেই অধিকৃত হলো থিয়োডমির শাসিত সমগ্র আলজিরিয়াস। এদিকে আরেক সেনাপতি মুসা বিন নুসাইর পূর্বদিকের সমুদ্র পথ ধরে ৭১২ খ্রিস্টাব্দের জুন মাসে আবিষ্কার করেন সেভিল ও মেরিজ। তিনিও স্পেনের বিভিন্ন শহর অধিকার করে টলেডোতে গিয়ে মিলিত হলেন তারিকের সঙ্গে। তারপর তারা এগিয়ে যান আরাগনের দিকে। জয় করেন সারাগোসা, টারাগোনা, বার্সিলোনা এবং পিরেনিজ পর্বতমালা পর্যন্ত গোটা স্পেন।

তারপর মুসা বিন নুসাইর পিরিনিজ পর্বতে দাঁড়িয়ে সমগ্র ইউরোপ জয়ের স্বপ্ন আঁকছিলেন আর স্পেন থেকে বিতাড়িত গথ সম্প্রদায়ের নেতারা পিরিনিজের ওপারে স্পেন পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা আঁটছিলেন। তাদের সঙ্গে যুক্ত হন ইউরোপের খ্রিস্টান নেতারা। মুসলমানরা পিরেনিজ অতিক্রম করে ফ্রান্সের অনেক এলাকা জয় করেন। কিন্তু অ্যাকুইটেনের রাজধানী টুলুরযুদ্ধে ভয়াবহতার সম্মুখীন হয়ে তারা বুঝতে পারলেন যে, অসির পরিবর্তে মসির যুদ্ধের মাধ্যমেই ইউরোপ জয় করা সহজতর। এরপর মুসলমানদের মনোযোগ কেন্দ্রীভূত হলো জ্ঞান-বিজ্ঞানেরচর্চা ও বিস্তারে। তারা সেই যুদ্ধে সফল হন এবং প্রণিধানযোগ্য ইতিহাস তাদের বিজয়কে স্বীকৃতি দিয়েছে। অপরদিকে খ্রিস্টীয় শক্তি পুরনো পথ ধরেই হাঁটতে থাকে। ৭৫৬ খ্রিস্টাব্দের ১৩ মে মাসারার যুদ্ধের পর থেকে স্পেনের ওপর তাদের নানামুখী আগ্রাসন ও সন্ত্রাস চলতে থাকে। ফলে স্পেনের নিরাপত্তা হয়ে পড়ে হুমকির সম্মুখীন। কিন্তু স্পেনের ভেতরে পচন ধরার প্রাথমিক সূত্রগুলো তৈরি হচ্ছিল ধীরে ধীরে। সমাজের নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক বোধ ও সচেতনতা ধীরে ধীরে হারাতে শুরু করছিল। রাজনৈতিক নেতৃবর্গ রাষ্ট্রের শত্রু-মিত্র বিভাজনের কাণ্ডজ্ঞান থেকে সরে আসছিল দূরে।

এদিকে ইউরোপের আকাশে ক্রুসেডের গর্জন শোনা যাচ্ছে। স্পেনের বিরুদ্ধে যে আক্রোশ কাজ করছিল সেটাই তিনশ’ বছরে পরিপুষ্ট হয়ে ১০৯৭ সালে গোটা ইসলামী দুনিয়ার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠে ভয়াবহ তুফানের মতো। ১০৯৮-এর জুনে এন্টিয়ক দখলের সাফল্যজনক কিন্তু নৃশংস ঘটনার মধ্য দিয়ে উত্তাল হয়ে ওঠা এতুফান ১২৫০ সালে অষ্টম ক্রুসেডের পরিসমাপ্তির পর স্পেনের দিকে মোড় ঘোরায়। স্পেনে তখন সামাজিক সংহতি ভঙ্গুর।

খ্রিস্টান গোয়েন্দারা ইসলাম ধর্ম শিখে আলেম লেবাসে বিভিন্ন মসজিদে ইমামতিও করছে। তাদের কাজ ছিলো স্পেনের সমাজ জীবনকে অস্থিতিশীল ও শতচ্ছিন্ন করে তোলা।.১৪৬৯ সালে ফার্ডিনান্ড ও ইসাবেলা স্পেনে মুসলিম সভ্যতার অস্তিত্বকে গুঁড়িয়ে দেয়ার জন্য পরস্পর বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৪৮৩ সালে ফার্ডিনান্ড ও ইসাবেলা একটি শক্তিশালী সৈন্যবাহিনী পাঠান মালাগা প্রদেশে। যাদের প্রতি হুকুম ছিল শস্যক্ষেত্র জ্বালিয়ে দেয়া,জলপাই ও দ্রাক্ষা গাছ কেটে ফেলা, সমৃদ্ধিশালী গ্রাম ধ্বংস করা, গবাদিপশু তুলে নিয়ে যাওয়া ইত্যাদি। সেই সময় মৃত্যু ঘটে স্পেনের শাসক আবুল হাসান আলীর। শাসক হন আজজাগাল। এক পর্যায়ে প্রাণরক্ষা ও নিরাপত্তার অঙ্গীকারের ওপর নগরীর লোকেরা আত্মসমর্পণ করলেও নগরী জয় করেই ফার্ডিনান্ড চালান গণহত্যা। দাস বানিয়ে ফেলেন জীবিত অধিবাসীদের। এরপর ফার্ডিনান্ড নতুন কোনো এলাকা বিজিত হলে বোয়াবদিলকে এর শাসক বানাবে বলে অঙ্গীকার করে। ৪ ডিসেম্বর ১৪৮৯। আক্রান্ত হয় বেজার নগরী। আজজাগাল দৃঢ়ভাবে শত্রুদের প্রতিহত করলেন। কিন্তু ফার্ডিনান্ডের কৌশলে খাদ্যাভাব ঘটে শহরে। ফলে শহরের অধিবাসী নিরাপত্তা ও প্রাণরক্ষার শর্তে আত্মসমর্পণ করে। কিন্তু তাদের ওপর চলে নৃশংস নির্মমতা। আজজাগাল রুখে দাঁড়ালে তাকে কারাগারে পাঠানো হয় এবং পরে করা হয় আফ্রিকায় নির্বাসিত।

ডিসেম্বর ১৪৯১-এ গ্রানাডার আত্মসমর্পণের শর্ত নির্ধারিত হলো। বলা হলো : ছোট-বড় সব মুসলমানের জীবনের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা দেয়া হবে। তাদের মুক্তভাবে ধর্ম-কর্ম করতে দেয়া হবে। তাদের মসজিদ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান অক্ষত থাকবে। তাদের আদবকায়দা, আচার-ব্যবহার, রাজনীতি, ভাষা ও পোশাক-পরিচ্ছদ অব্যাহত থাকবে। তাদের নিজেদের আইনকানুন অনুযায়ী তাদের প্রশাসকরা তাদের শাসন করবেন …।

আত্মসমর্পণের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুললেন মুসা বিন আকিল। তিনি বললেন, গ্রানাডাবাসী! এটা একটা প্রতারণা। আমাদের অঙ্গারে পরিণত করার জ্বালানি কাঠ হচ্ছে এ অঙ্গীকার।সুতরাং প্রতিরোধ! প্রতিরোধ!! কিন্তু গ্রানাডার দিন শেষ হয়ে আসছিল। ১৪৯২ সালে গ্রানাডাবাসী আত্মসমর্পণ করল।রানী ইসাবেলা ও ফার্ডিনান্ডের মধ্যে শুরু হলো চুক্তি লঙ্ঘনের প্রতিযোগিতা। চারদিকে চলছিল ভয়াবহ নির্যাতন। পাইকারি হারে হত্যা বর্বরতার নির্মম শিকার হতে থাকলেন অসংখ্য মুসলমান। স্পেনের গ্রাম ও উপত্যকাগুলো পরিণত হয় মানুষের কসাইখানায়। যেসব মানুষ পর্বতগুহায় আশ্রয় নিয়েছিল, তাদেরও মেরে ফেলা হলো আগুনের ধোঁয়া দিয়ে।

পহেলা এপ্রিল, ১৪৯২। ফার্ডিনান্ড ঘোষণা করলেন, যেসব মুসলমান গ্রানাডার মসজিদগুলোতে আশ্রয় নেবে, তারা নিরাপদ। লাখ লাখ মুসলমান আশ্রয় নিলেন মসজিদগুলোতে। ফার্ডিনান্ডের লোকেরা সবগুলো মসজিদে আগুন লাগিয়ে দিল। তিনদিন পর্যন্ত চললো হত্যার উৎসব। ফার্ডিনান্ড লাশপোড়া গন্ধে অভিভূত হয়ে হাসলেন। বললেন, হায় মুসলমান! তোমরা হলে এপ্রিলের বোকা (এপ্রিল ফুল)।এই গণহত্যার পরও যেসব মুসলমান আন্দালুসিয়ায় রয়ে গিয়েছিলেন, তাদের ফার্ডিনান্ডের ছেলে তৃতীয় ফিলিপ সহায়-সম্বলহীন অবস্থায় সমুদ্রপথে নির্বাসিত করেন। তাদের সংখ্যা ছিল পাঁচ লাখেরও বেশি। ইতিহাস বলে, তাদের মধ্যে খুব অল্পসংখ্যক লোকই জীবিত ছিলেন। বিপুলসংখ্যক মানুষ সমুদ্রের গহিন অতলে হারিয়ে যান চিরদিনের জন্য। এভাবেই মুসলিম আন্দালুসিয়া আধুনিক স্পেনের জন্ম দিয়ে ইতিহাসের দুঃখ হয়ে বেঁচে আছে। সেই বেঁচে থাকা বোয়াবদিলদের বিরুদ্ধে ধিক্কাররূপে ফার্ডিনান্ডের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিবাদরূপে। দুনিয়ার ইতিহাস কী আর কোনো আন্দালুসিয়ার নির্মম ট্রাজেডির সঙ্গে পরিচিত হয়েছিল? সম্ভবত হয়নি এবং হতে চায় না কখনও। স্পেন হয়ে আছে মুসলিম উম্মাহর শোকের স্মারক। পহেলা এপ্রিল আসে সেই শোকের মাতম বুকে নিয়ে। শোকের এই হৃদয়ভাঙা প্রেক্ষাপটে মুসলিম জাহানের জনপদে জনপদে আন্দালুসিয়ার নির্মমতার কালো মেঘ আবারও ছায়া ফেলছে। এশিয়া-আফ্রিকাসহ সর্বত্রই দেখা যাচ্ছে মুসলিম নামধারী একশ্রেণীর বিশ্বাসঘাতক বোয়াবদিল এবং ক্রুসেডীয় উন্মত্ততার প্রতিভূ ফার্ডিনান্ডদের যোগসাজশ। আন্দালুসিয়ার মুসলমানদের করুণ পরিণতি যেন ধেয়ে আসতে চায় এই মানচিত্রের আকাশেও। এ জন্য পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে সমাজ-সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বিপর্যয়ের প্রলয়বাদ্য চলছে।

[তথ্যসূত্র: সৈয়দ আমীর আলী : দ্য স্পিরিট অব ইসলাম অ্যান্ড সারাসিল, সম্পাদনা-মাসউদ হাসয়ান, স্পেনে মুসলিম কীর্তি—এমদাদ আলী, ইউরোপে ইসলাম—তালিবুল হাশেমী, অনুবাদ—আমীনুর রশীদ।]লেখক : প্রাবন্ধিক, কবি। Share করে জানিয়ে দিন সকলকে।

১ জানুয়ারি-র ইতিহাস এখানে

রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেন: ‘চরম সর্বনাশ ঐ ব্যক্তির জন্য যে মানুষকে হাসানোর উদ্দেশ্যে মিথ্যা কথা বলে থাকে । তার জন্য সর্বনাশ, তার জন্য সর্বনাশ ।’ [তিরমিযীঃ ২৩১৫; আবু দাউদঃ ৪৯৯০]

রাসূলুল্লাহ (সা:) আরও বলেন:

‘যে ব্যক্তি যে জাতির অনুকরণ করবে, সে ব্যক্তি সেই জাতিরই একজন বলে গণ্য হবে।’ [আবূ দাঊদঃ ৪০৩১]
( মুসলমানদেরকে উপহাস করার জন্য খৃষ্টানেরা প্রতি বছর ১লা এপ্রিল কে অত্যন্ত ‘এপ্রিল ফুল’ বা এপ্রিলের বোকা দিবস হিসাবে পালন করে আসছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, এপ্রিলের এ দিনে লক্ষ লক্ষ মুসলমান ভাই-বোনেরা নির্মমভাবে প্রাণ হারিয়েছিল,আজ মুসলমানের সন্তানেরা খৃস্টানদের মতো সে দিনটিকেই হাসি-খুশির দিন হিসাবে পালন করে থাকে। এপ্রিলের এই নির্মম ও হৃদয় বিদারক ইতিহাস জানার পরও কোন মুসলমান এই দিনকে হাসি খুশির দিন হিসাবে উদযাপন করতে পারে না। )

জাজাকাল্লাহ খাইরান।

কুরআনে মানুষ সৃষ্টির ধাপ সমূহ

কুরআন শরীফ মানুষের সৃষ্টি প্রক্রিয়ার বিভিন্ন স্তর
নিয়ে আলোচনা করেছে।
আল্লাহ তায়ালা বলেন:
অর্থাৎ, আর আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি মাটির
সারাংশ থেকে। অতঃপর আমি তাকে শুক্রবিন্দুরুপে এক
সংরক্ষিত আধারে স্থাপন করেছি। এরপর আমি
শুক্রবিন্দুকে জমাট রক্তে পরিণত করেছি, অতঃপর
জমাট রক্তকে মাংসপিন্ডে পরিণত করেছি, এরপর সেই
মাংসপিন্ড থেকে অস্থি সৃষ্টি করেছি, অতঃপর
অস্থিকে মাংস দ্বারা আবৃত করেছি। অবশেষে তাকে
একটি নতুনরুপে দাড় করিয়েছি। নিপুণতম সৃষ্টি কর্তা
কতই না কল্যাণময়। (সূরা মু’মিনুন: ১২-১৪)
আরবী ” َﺔَﻘَﻠَﻌْﻟﺍ ” (আলাকা) শব্দের তিনটি অর্থ
রয়েছে।
১. জোক
২. সংযুক্ত জিনিস
৩. রক্তপিন্ড
আমরা যদি জোককে গর্ভস্থ সন্তানের সাথে মেলাতে যাই
তাহলে,আমরা দু’টির মধ্যে সামঞ্জস্য দেখতে পাই।
নিচের ১ নং ছবিতে সেটা স্পষ্ট। (মানবদেহের
প্রবৃদ্ধি-মুর ও পারসাউড, ৫ম সংস্করণ, পৃষ্ঠা-৮) এ
অবস্থায় জোক যেমন অন্যের রক্ত খায় তেমনি উক্ত
ভ্রুন তার মায়ের রক্ত খেয়ে বেচে থাকে। (কুরআন-
হাদীসের আলোকে মানব দেহের প্রবৃদ্ধি –মুর ও
অন্যান্য পৃষ্ঠা-৩৬)
দ্বিতীয় অর্থের আলোকে আমরা যদি তাকে “সংযুক্ত
জিনিস” অর্থে নিই তাহলে দেখতে পাই যে,গর্ভস্থ
ভ্রুন মায়ের গর্ভের সাথে লেপ্টে আছে। (২নং ও ৩ নং
চিত্র দ্রষ্টব্য)
তৃতীয় অর্থের আলোকে আমরা উক্ত শব্দের “রক্তপিন্ড”
অর্থ গ্রহণ করলে দেখতে পাব যে, তার বাহ্যিক অবস্থা
ও তার সংরক্ষিত খাচা (আবরণ) রক্ত পিন্ডের মতই
দেখায়। উক্ত অবস্থায় এখানে প্রচুর পরিমাণ রক্ত
বর্তমান থাকে।(কুরআন-হাদীসের আলোকে মানব দেহের
প্রবৃদ্ধি –মুর ও অন্যান্য পৃষ্ঠা-৩৭ ও ৩৮) (৪র্থ
চিত্র দ্রষ্টব্য)
এতদসত্বেও তিন সপ্তাহ পর্যন্ত এই রক্ত সঞ্চালিত
হয় না। (মানবদেহের প্রবৃদ্ধি-মুর ও পারসাউড, ৫ম
সংস্করণ,পৃষ্ঠা-৬৫) সুতরাং, বলা যায়- এ অবস্থা
রক্তপিন্ডের মতই।
চিত্র-১
চিত্রে জোক ও মানব ভ্রুনকে একই রকম দেখা যাচ্ছে।
(জোকের ছবিটি কুরআন-হাদীসের আলোকে মানব দেহের
প্রবৃদ্ধি –মুর ও অন্যান্য, গ্রন্থের ৩৭ নং পৃষ্ঠা থেকে
নেয়া হয়েছে যা হিলমান ও অন্যান্যদের প্রণিত
“পুর্ণাংগ মৌলিক জীব” গ্রন্থ থেকে সংশোধিত হয়েছে
এবং মানব দেহের চিত্রটি “মানবদেহের প্রবৃদ্ধি, ৫ম
সংস্করণ, ৭৩ পৃষ্ঠা হতে নেয়া হয়েছে)
চিত্র-২
এই চিত্রে দেখা যাচ্ছে উক্ত ভ্রুনটি মায়ের গর্ভের
সাথে লেপ্টে রয়েছে। (চিত্রটি “মানবদেহের
প্রবৃদ্ধি, ৫ম সংস্করণ, ৬৬ পৃষ্ঠা হতে নেয়া হয়েছে)
চিত্র-৩
এ চিত্রে দেখা যাচ্ছে B চিহ্নিত ভ্রুনটি মাতৃগর্ভে
লেপ্টে আছে। এর বয়স মাত্র ১৫ দিন। আয়তন-০.৬
মি.মি. (চিত্রটি “মানবদেহের প্রবৃদ্ধি, ৩য়
সংস্করণ, ৬৬ পৃষ্ঠা হতে নেয়া হয়েছে যা সংকলিত
হয়েছে লেসন এন্ড লেসনের হিস্টোলজী গ্রন্থ থেকে
গৃহীত হয়েছে)
চিত্র-৪
এই চিত্রে দেখা যাচ্ছে ভ্রুন ও তার আবরণকে প্রচুর
রক্ত থাকার কারণে রক্ত পিন্ডের মতই দেখাচ্ছে।
(চিত্রটি “মানবদেহের প্রবৃদ্ধি, ৫ম সংস্করণ, ৬৫
পৃষ্ঠা হতে নেয়া হয়েছে)
উক্ত “আলাকা” শব্দের তিনটি অর্থের সাথেই ভ্রুনের
বিভিন্ন স্তরের গুণাবলী হুবহু মিলে যাচ্ছে।
কুরআন শরীফের আয়াতে উল্লেখিত ভ্রুনের ২য় স্তর
হল-” ًﺔَﻐْﻀُﻣ” (মুদগাহ)। ًﺔَﻐْﻀُﻣ হল চর্বিত দ্রব্য।
যদি কেউ ১ টুকরা লোবান নিয়ে দাতে চর্বন করার পর
তাকে ভ্রুনের সাথে তুলনা করতে যায় তাহলে, দেখতে
পাবে দাতে চর্বন করার পর উক্ত দ্রব্য যেমন দেখায়
সেটার সাথে ভ্রুনের হুবহু মিল রয়েছে। (মানবদেহের
প্রবৃদ্ধি, ৫ম সংস্করণ, পৃষ্ঠা-৮) (৫ ও ৬ নং চিত্র
দ্রষ্টব্য)
আজ বিজ্ঞানীরা মাইক্রোস্কোপসহ অত্যাধুনিক
সরঞ্জামাদি ব্যবহার এবং অক্লান্ত পরিশ্রম করে
এগুলো আবিস্কার করেছে কুরআন নাযিল হওয়ার দেড়
হাজার বছর পর। তাহলে, এত কিছু জানা মুহাম্মদ
(সাঃ)এর জন্য কেমন করে সম্ভব ঐ সময়ে যখন এ সবের
কিছুই আবিস্কৃত হয়নি?
চিত্র-৫
এই চিত্রটি ২৮ দিন বয়সের (মুদগাহ স্তরের) ভ্রুনের
চিত্র। উক্ত চিত্রটি দাত দ্বারা চর্বিত লোবানের
মতই দেখাচ্ছে।(চিত্রটি “মানবদেহের প্রবৃদ্ধি, ৫ম
সংস্করণ, ৭২ পৃষ্ঠা হতে নেয়া হয়েছে)
চিত্র-৬
চিত্রে চর্বিত লোবান ও ভ্রুনের চিত্র উপস্থাপিত
হয়েছে। আমরা উভয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য দেখতে পাই।
উপরের চিত্র A তে আমরা ভ্রুনের গায়ে দাতের মত
চিহ্ন এবং চিত্র B তে চর্বিত লোবান দেখতে
পাচ্ছি।
১৬৭৭ খৃষ্টাব্দে হাম ও লিউয়েনহোক নামক দুই
বিজ্ঞানী মাইক্রোস্কোপ দিয়ে মানুষের বীর্যের মধ্যে
জীবনের অস্তিত্ব (Spermatozoma) খুজে পান
রাসুল(সাঃ) এর যুগের এক সহস্রাধিক বছর পর। এ
দুইজন বিজ্ঞানীই আগে ভূলক্রমে বিশ্বাস করেছিলেন
যে, মানুষের বীর্যের মধ্যে উক্ত কোষের রয়েছে অতি
সামান্য প্রক্রিয়া। নারীর ডিম্বানুতে আসার পর তা
ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে থাকে। (মানবদেহের প্রবৃদ্ধি-
মুর ও পারসাউড, ৫ম সংস্করণ, পৃষ্ঠা-৯)
আর প্রফেসর কেইথ এল. মুর বিশ্বের একজন প্রসিদ্ধ
ভ্রুন বিজ্ঞানী এবং “মানবদেহের প্রবৃদ্ধি” গ্রন্থের
লেখক;যা বিশ্বের আটটি ভাষায় ছাপা হয়েছে।এটা
বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স বই।এ বইটি
আমেরিকার বিশিষ্ট্য একটি গবেষণা বোর্ড কর্তৃক
কোন একক লেখকের শ্রেষ্ঠ বই হিসেবে স্বীকৃতি
পেয়েছে।
কেইথ এল.মুর হচ্ছেন কানাডার টরোন্টো
বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীরবিদ্যা ও কোষ বিভাগের
প্রফসর।তিনি ওখানে মেডিক্যাল ডিপার্টমেন্টের
অধীনে মৌলিক বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী ডীন
হিসেবে এবং আট বছর শরীরবিদ্যা বিভাগের
বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
১৯৮৪ সালে তিনি কানাডায় শরীরবিদ্যা বিভাগের
উপর কৃতিত্বপূর্ণ স্বাক্ষর রাখার জন্য কানাডার
শরীরবিদ্যা বোর্ডের পক্ষ থেকে J.C.B পুরস্কার
পেয়েছিলেন।এছাড়া তিনি “কানাডিয়ান এন্ড
এমেরিকান এসোসিয়শন এবং দি কাউন্সিল অফ দি
ইউনিয়ন অফ বাইয়োলজিকাল সাইন্স” সহ বহু
আন্তর্জাতিক সংস্থায় দায়িত্ব পালন করেছেন।
১৯৮১ সালে সউদীর দাম্মামে অনুষ্ঠিত এক মেডিক্যাল
সেমিনারে তিনি বলেন:আমার জন্য এটা অত্যন্ত
সৌভাগ্যের ব্যাপার ছিল যে, আমি মানব শরীরের
প্রবৃদ্ধির ব্যাপারে ভালোভাবে জানতে কুরআন শরীফের
সহায়তা নিতাম।আমার কাছে এটা স্পষ্ট হয়েছে যে,এ
বিষয়গুলো আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে মুহাম্মদ
(সাঃ)এর উপর অবতীর্ণ হয়েছে।কেননা,এ সকল
বিষয়ের প্রায় সব কিছুই তার ইন্তেকালের কয়েকশত
বছর পর আবিষ্কৃত হয়েছে।এ ব্যাপারটি প্রমাণ করে
যে, মুহাম্মদ (সাঃ)আল্লাহ তায়ালার সত্য নবী।
(“হাজিহী হিয়াল হাকিকাহ তথা এটাই সত্য” নামক
ভিডিও ডকুমেন্টারী থেকে সংগৃহীত)
এ সময় তাকে প্রশ্ন করা হল- তাহলে কি এর অর্থ
দাঁড়ায়-কুরআন আল্লাহ তায়ালার বাণী? তিনি জবাব
দিলেন:”আমি এ কথা মেনে নিতে কুন্ঠাবোধ করি না।”
প্রফেসর মুর একটি কনফারেন্সে বলেছিলেন:”কুরআন ও
হাদীসে মানবভ্রুনের বৃদ্ধি প্রক্রিয়ার সময়কার
বিভিন্ন স্তরকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে বিভিন্ন নামে
ভাগ করেছে।”এর পদ্ধতিগুলো অত্যন্ত চমৎকার ও
বিস্তৃত অর্থ নির্দেশ করে থাকে।যা আধুনিক শরীর
বিজ্ঞানের নতুন নতুন আবিস্কারের সাথে সংগতিপূর্ণ।
বিগত চার বছরে সপ্তম শতাব্দীতে নাযিলকৃত কুরআন ও
হাদীসের আলোকে মানবভ্রুন নিয়ে গবেষণা করে
বিস্ময়কর ফলাফল পাওয়া গেছে।
এরিস্টোটল ভ্রুন বিদ্যার জনক হওয়া সত্বেও
খৃষ্টপুর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে মুরগীর ডিমের উপর
গবেষণা চালিয়ে দেখেন যে,মুরগীর বাচ্চার সৃষ্টি
প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় কয়েকটি স্তরে।তবে, তিনি
স্তরগুলো সম্বন্ধে বিস্তারিত কিছুই জানাতে পারেন
নি।ধরে নেয়া যায় যে,কুরআন নাযিলের সময় খুব কমই
জানা ছিল ভ্রুনের স্তরগুলো সম্বন্ধে;যা সপ্তম
শতাব্দীতে বিজ্ঞানের কোন কিছুর উপর নির্ভর করে
তা জানার সুযোগ ছিল না।
এখানে এসে শুধু একটি মাত্র নির্ভরযোগ্য ফলাফলে
আসা যায় যে, এসমস্ত জ্ঞান মুহাম্মদ (সাঃ) এর কাছে
এসেছে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে। কারণ,
তিনি ছিলেন নিরক্ষর তার এগুলো জানার কথা ছিল
না। এছাড়া অন্য কোথাও থেকে তার মত নিরক্ষর
লোককে যে ট্রেনিং দেয়া হবে তাও ছিল অসম্ভব।
(ভিডিও ডকুমেন্টারী “হাজিজি হিয়াল হাকীকাত”
থেকে)
অনুবাদ : মুহাম্মদ ইসমাইল জাবীহুল্লাহ
সম্পাদনা : মুহাম্মদ শামসুল হক সিদ্দিক

কাদেরকে হাউজে কাওসার থেকে তাড়িয়ে দেয়া হবে

কাদেরকে হাউজে কাওসার থেকে তাড়িয়ে দেয়া হবে

আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لأَذُودَنَّ رِجَالاً عَنْ حَوْضِي كَمَا تُذَادُ الْغَرِيبَةُ مِنَ الإِبِلِ عَنِ الْحَوْضِ
সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, আমি নিশ্চয়ই (কিয়ামতের দিন) আমার হাউজ (কাওসার) থেকে কিছু লোকদের এমনভাবে তাড়াব, যেমন অপরিচিত উট হাউজ হতে তাড়ান হয়। (সহীহুল বুখারী ২৩৬৭)
.
আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত;
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَتَى الْمَقْبُرَةَ فَقَالَ ‏”‏ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ دَارَ قَوْمٍ مُؤْمِنِينَ وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لاَحِقُونَ وَدِدْتُ أَنَّا قَدْ رَأَيْنَا إِخْوَانَنَا ‏”‏ ‏.‏ قَالُوا أَوَلَسْنَا إِخْوَانَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ ‏”‏ أَنْتُمْ أَصْحَابِي وَإِخْوَانُنَا الَّذِينَ لَمْ يَأْتُوا بَعْدُ ‏”‏ ‏.‏ فَقَالُوا كَيْفَ تَعْرِفُ مَنْ لَمْ يَأْتِ بَعْدُ مِنْ أُمَّتِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ ‏”‏ أَرَأَيْتَ لَوْ أَنَّ رَجُلاً لَهُ خَيْلٌ غُرٌّ مُحَجَّلَةٌ بَيْنَ ظَهْرَىْ خَيْلٍ دُهْمٍ بُهْمٍ أَلاَ يَعْرِفُ خَيْلَهُ ‏”‏ ‏.‏ قَالُوا بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ ‏.‏ قَالَ ‏”‏ فَإِنَّهُمْ يَأْتُونَ غُرًّا مُحَجَّلِينَ مِنَ الْوُضُوءِ وَأَنَا فَرَطُهُمْ عَلَى الْحَوْضِ أَلاَ لَيُذَادَنَّ رِجَالٌ عَنْ حَوْضِي كَمَا يُذَادُ الْبَعِيرُ الضَّالُّ أُنَادِيهِمْ أَلاَ هَلُمَّ ‏.‏ فَيُقَالُ إِنَّهُمْ قَدْ بَدَّلُوا بَعْدَكَ ‏.‏ فَأَقُولُ سُحْقًا سُحْقًا
একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি কবরস্থানে এসে বললেন, তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। হে কবরবাসী মু’মিনগণ! ইনশাআল্লাহ আমরাও তোমাদের সাথে এসে মিলত হবো। আমার বড় ইচ্ছা হয় আমাদের ভাইদেরকে দেখি। সাহাবায়ে কিরাম আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা কি আপনার ভাই নই? তিনি বললেন, তোমরা তো আমার সাহাবা। আর যারা এখনো (পৃথিবীতে) আসেনি তারা আমাদের ভাই। সাহাবায়ে কিরাম আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ। আপনার উম্মতের মধ্যে যারা এখনো (পৃথিবীতে) আসেনি তাদেরকে আপনি কিভাবে চিনবেন? তিনি বললেন, “কেন, যদি কোন ব্যক্তি সাদা রঙের কপাল ও সাদা রঙের হাত-পা বিশিষ্ট ঘোড়া অনেকগুলো কালো ঘোড়ার মধ্যে মিশে যায় তবে সে কি তার ঘোড়াকে চিনে নিতে পারবে না? তারা বললেন, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বললেন, তারা (আমার উম্মত) সেদিন এমন অবস্থা আসবে যে, ওযুর ফলে তাদের মুখমণ্ডল, হাত-পা জ্যোতির্ময় হবে। আর হাওযের পাড়ে আমি হব তাদের অগ্রনায়ক। জেনে রাখ, কিছু সংখ্যক লোককে সেদিন আমার হাওয থেকে তাড়িয়ে দেয়া হবে যেমনিভাবে অপরিচিত উটকে তাড়িয়ে দেয়া হবে। আমি তাদেরকে ডাকব, এসো এসো। তখন বলা হবে, “এরা আপনার পরে (আপনার দীনকে) পরিবর্তন করে দিয়েছিল”। তখন আমি বলব, “দূর হও, দূর হও”। (সহীহ মুসলিম ৪৭২)
.
দুই শ্রেণীর লোক হাওযে কাওসারের সামনে পৌছতে পারবে না।
১। বিদআতি এবং ২। শাসকের তোষামদকারী বা অন্ধ শাসকভক্ত।
.
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,
أَتَدْرُونَ مَا الْكَوْثَرُ ‏”‏ ‏.‏ فَقُلْنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ ‏.‏ قَالَ ‏”‏ فَإِنَّهُ نَهْرٌ وَعَدَنِيهِ رَبِّي عَزَّ وَجَلَّ عَلَيْهِ خَيْرٌ كَثِيرٌ هُوَ حَوْضٌ تَرِدُ عَلَيْهِ أُمَّتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ آنِيَتُهُ عَدَدُ النُّجُومِ فَيُخْتَلَجُ الْعَبْدُ مِنْهُمْ فَأَقُولُ رَبِّ إِنَّهُ مِنْ أُمَّتِي ‏.‏ فَيَقُولُ مَا تَدْرِي مَا أَحْدَثَتْ بَعْدَكَ ‏”‏ ‏.‏ زَادَ ابْنُ حُجْرٍ فِي حَدِيثِهِ بَيْنَ أَظْهُرِنَا فِي الْمَسْجِدِ ‏.‏ وَقَالَ ‏”‏ مَا أَحْدَثَ بَعْدَكَ ‏”
তোমরা কি জান কাওসার কি? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তার রাসূলই বেশি ভালো জানেন। তিনি বললেনঃ এটা একটা ঝর্ণা। আমার মহান প্রতিপালক আমাকে তা দেয়ার জন্য ওয়া'দা করেছেন। এর মধ্যে অশেষ কল্যাণ রয়েছে, আমার উম্মতের লোকেরা কিয়ামাতের দিন এ হাওযের পানি পান করতে আসবে। এ হাওযে রয়েছে তারকার মত অসংখ্য পানপাত্র (গ্লাস)। এক ব্যক্তিকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়া হবে। আমি তখন বলবঃ প্রভু! সে আমার উম্মতেরই লোক। আমাকে তখন বলা হবে, তুমি জান না, তোমার মৃত্যুর পর এরা কী অভিনব কাজ (বিদ'আত) করেছে। ইবনু হুজরের বর্ণনায় আরো আছেঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে আমাদের কাছে এসেছেন এবং আল্লাহ বলবেন, এ ব্যক্তি আপনার পরে বিদ'আত চালু করেছে। (সহীহ মুসলিম ৭৮০)
.
কাব ইবনু উজরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বের হয়ে আমাদের সামনে আসলেন। আমরা সংখ্যায় ছিলাম নয় জন; পাঁচ জন আরব এবং চার জন অনারব অথবা এর বিপরীত। তিনি বললেনঃ
اسْمَعُوا هَلْ سَمِعْتُمْ أَنَّهُ سَيَكُونُ بَعْدِي أُمَرَاءُ فَمَنْ دَخَلَ عَلَيْهِمْ فَصَدَّقَهُمْ بِكَذِبِهِمْ وَأَعَانَهُمْ عَلَى ظُلْمِهِمْ فَلَيْسَ مِنِّي وَلَسْتُ مِنْهُ وَلَيْسَ بِوَارِدٍ عَلَىَّ الْحَوْضَ وَمَنْ لَمْ يَدْخُلْ عَلَيْهِمْ وَلَمْ يُعِنْهُمْ عَلَى ظُلْمِهِمْ وَلَمْ يُصَدِّقْهُمْ بِكَذِبِهِمْ فَهُوَ مِنِّي وَأَنَا مِنْهُ وَهُوَ وَارِدٌ عَلَىَّ الْحَوْضَ
তোমরা শোন, তোমরা কি শুনেছ? খুব শীঘ্রই আমার পরে এমন কিছু সংখ্যক শাসক আবির্ভূত হবে, যে লোক তাদের সংস্পর্শে গিয়ে তাদের মিথ্যাচারকে সমর্থন করবে এবং তাদেরকে (ফতোয়া ইত্যাদি দ্বারা) অত্যাচারে সহায়তা দান করবে সে আমার দলের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয় এবং আমিও তার দলে অন্তর্ভুক্ত নই। আর সে ব্যক্তি হাওযে কাওসারে আমার সামনে পৌছতে পারবে না। আর যে লোক তাদের সংস্পর্শে যাবে না, তাদের অত্যাচারে সহায়তা দান করবে না এবং তাদের মিথ্যাচারকে সমর্থন করবে না, সে আমার এবং আমিও তার। সে হাওযে কাওসারে আমার সাক্ষাৎ লাভ করবে। (তিরমিজী: ২২৫৯, সহিহ)

বদলে যাচ্ছে পাঁচ জেলার ইংরেজি নামের বানান

চট্টগ্রাম, বরিশাল, কুমিল্লা, বগুড়া ও যশোর জেলার নামের ইংরেজি বানান পরিবর্তন করা হচ্ছে। বাংলা নামের সঙ্গে মিল করতে এ পরিবর্তন আনছে সরকার। আগামী প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় এ সংক্রান্ত প্রস্তাব উপস্থাপন করা হতে পারে। সব কিছু ঠিক থাকলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার এ সভা অনুষ্ঠিত হতে পারে।

এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘পাঁচটি জেলার নামের ইংরেজি বানানে কিছুটা অসঙ্গতি আছে। এটা দূর করতে নিকার সভায় একটি প্রস্তাব উঠছে। সভাটি হবে সোমবার।’ নতুন বিভাগ, জেলা, উপজেলা, থানাসহ প্রশাসনিক ইউনিট গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়ে থাকে নিকারের বৈঠকে। প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন এ কমিটির প্রধান।

বর্তমানে চট্টগ্রামের ইংরেজি বানান Chittagong, কুমিল্লার বানান Comilla, বরিশাল বানান Barisal, যশোরের বানান Jessore ও বগুড়ার বানান Bogra। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জানা গেছে, Chittagong-এর পরিবর্তে বানান হবে Chattagram, Comilla-এর পরিবর্তে Kumilla, Barisal-এর পরিবর্তে Barishal, Jessore-এর পরিবর্তে Jashore এবং Bogra-এর পরিবর্তে Bogura করার প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য নিকার সভায় উঠছে।

https://www.jugantor.com/todays-paper/second-edition/33115

রিট খারিজ, জাতীয় সঙ্গীত ও ওলামায়ে কেরামের করণীয়

দেশের কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসায় জাতীয় সংগীত গাওয়া বাধ্যতামূলক করে সরকারের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আনা রিট খারিজ করে দিয়ে হাইকোর্ট মন্তব্য করেছেন যে, ‘পবিত্র কুরআনের কোন্ জায়গায় বলা হয়েছে যে জাতীয় সংগীত গাওয়া যাবে না? পবিত্র কুরআনের কোথাও লেখা নেই যে জাতীয় সংগীত গাওয়া যাবে না।’ (২৭ মার্চ, ২০১৮, প্রিয়ডটকম)। মাননীয় আদালতের কাছে বিনীতভাবে […]

হাদীছের উপরে আবূ বকর (রাঃ)-এর দৃঢ়তা

মহানবী (ছাঃ)-এর মৃত্যুর পরে প্রথম খলীফা আবূবকর (রাঃ)-এর আপোসহীন ভূমিকার জন্য তিনি ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসাবে খ্যাত। অত্যন্ত নরম দিলের অধিকারী এই মানুষটি দায়িত্বের ব্যাপারে যেমন সজাগ-সচেতন ও কঠোর ছিলেন তেমনি হাদীছ তথা রাসূলের নির্দেশ পালনে অত্যন্ত দৃঢ় হৃদয়ের অধিকারী ছিলেন। এক্ষেত্রে তিনি কোন ব্যক্তি বিশেষ এমনকি রাসূলের নিকটাত্মীয়দেরও তোয়াক্কা করতেন না। এ সম্পর্কে নিম্নোক্ত হাদীছ। […]