পানি ব্যবহার না করে টিসু ব্যবহার করা

জিজ্ঞাসা–৩২০: পস্রাব করার পর পানি থাকা সত্তেও যদি শধু টিসু ব্যাবহার করে তাহলে কি গুনাহ হবে? আর উত্তম পন্থা কী?– ফারহান: [email protected]

জবাব: টিসু দ্বারা পুরোপুরি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অর্জন হলে টিসু ব্যবহার করার পর পানি ব্যবহার করা জরুরী নয়। তবে প্রথমে ঢিলা বা টিসু ব্যবহার করে এরপর পানি ব্যবহার করা উত্তম।। কেউ যদি টিসু ব্যবহার করার পর পানি ব্যবহার না করে তাহলে তার কোন গুনাহ হবে না। (ফাতহুল কাদীর ১/১৮৯)

উল্লেখ্য, যারা উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করাকে পছন্দ করে তাদের প্রশংসা করে আল্লাহ তাআলা বলেন, وفيه رجال يحبون ان يتطهروا والله يحب المطهرين সেখানে রয়েছে এমন লোক, যারা পবিত্রতাকে ভালবাসে। আর আল্লাহ পবিত্র লোকদের ভালবাসেন। (সূরা তাওবা: ১০৮)

সুতরাং ঢিলা-টিসু এবং পানি; উভয়টাই ব্যবহার করা উচিত।

উত্তর দিয়েছেন
মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী নকশবন্দী
[email protected]

আরো পড়ুন:

☞ ইস্তিঞ্জার (পেশাব-পায়খানার) নিয়ম কি?
☞ শিশুর পেশাব নাপাক কিনা?
☞ পেশাবের শুকিয়ে যাওয়া স্থানে ভেজা পা পড়লে তার হুকুম কি?
☞ কয় দিক ফিরে পেশাব করা নিষেধ?
The post পানি ব্যবহার না করে টিসু ব্যবহার করা appeared first on কোরআনের জ্যোতি.

সুগন্ধিতে কী পরিমাণ এ্যলকোহল থাকলে ব্যবহার করা যাবে?

জিজ্ঞাসা–৩১৯: সুগন্ধিতে কী পরিমাণ এ্যলকোহল থাকলে ব্যবহার করা যাবে?– নোমান: [email protected]

জবাব: যে সব এ্যালকোহল আঙ্গুর, খেজুর অথবা কিসমিস থেকে তৈরি সেসব এ্যালকোহল সম্পূর্ণ নাপাক এবং হারাম। এধরণের এ্যালকোহল-মিশ্রিত সুগন্ধি ব্যবহার করা যাবে না। কেননা, রাসূল ﷺ বলেছেন, كُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ নেশা সৃষ্টিকারী প্রতিটি বস্তুই হারাম। (বুখারী: ৪৩৪৩)

আর উপরোক্ত তিন জিনিস ব্যতীত অন্যান্য জিনিস থেকে যে সব এ্যালকোহল তৈরি করা হয়। যেমন, এখনকার সেন্ট বা বডি স্প্রেগুলোতে সাধারণত আঙ্গুর, খেজুর বা কিসমিস থেকে প্রস্তুতকৃত এ্যালকোহল থাকে না; বরং বিভিন্ন শস্যদানা, গাছ-পালার খাল, মধু, শষ্য, যব, আনারসের রস, গন্ধক ও সালফেট অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান ইত্যাদি থেকে প্রস্তুতকৃত এ্যালকোহল মিশানো হয়। (ইনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা: খ.১, পৃ.৫৪৪, প্রকাশকাল ১৯৫০খৃ.) এগুলো নাপাক নয় এবং নেশার উদ্রেক হয় না পরিমাণ ব্যবহার করা যায়। (তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম: ১/৩৪৮,৩/৩৩৭; ফিকহুল বুয়ূ: ১/২৯৮)

সুতরাং যেহেতু সেন্ট বা বডি স্প্রেগুলোতে সামান্য পরিমাণ পরিশোধিত এ্যালকোহল ব্যবহার করা হয় কেবল তা সংরক্ষণের জন্য এবং মিশ্রণকৃত এ্যালকোহল শরীরের অভ্যন্তরে কোন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে না, এজন্য এগুলোকে হারাম বলা যায় না। মিশ্রণের পরিমাণ স্বল্প হওয়ার কারণে এসব সেন্ট ব্যবহারে আপত্তি নেই। তবে এরূপ সেন্ট পরিত্যাগ করাই উত্তম। (জাদীদ ফিকহী মাসাইল: ১/৩৮)

উত্তর দিয়েছেন
মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী নকশবন্দী
[email protected]

আরো পড়ুন:

মদ বা বিয়ার পান করা কি হারাম?
কোক পেপসি বিয়ার ইত্যাদি পান করা যাবে কি?
ওষুধ হিসেবে এলকোহল ব্যবহার করা যাবে কিনা?
জর্দা খাওয়া যাবে কিনা?

The post সুগন্ধিতে কী পরিমাণ এ্যলকোহল থাকলে ব্যবহার করা যাবে? appeared first on কোরআনের জ্যোতি.

একজন বিধর্মীর ইসলাম গ্রহণ করতে হলে কী করতে হবে?

প্রশ্ন

এক হিন্দু বোন ইসলাম ধর্ম গ্রহন করতে চায়? এখন মুসলিম হতে হলে কি কি করতে হবে?

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

তাকে অন্তরের বিশ্বাসের সাথে কালিমা শাহাদত পড়ে নিলে প্রাথমিক মুসলিম হিসেবে স্বীকৃতি পাবে।

সম্ভব হলে প্রথমে গোসল করে নেয়া উত্তম।

তারপর কালিমা শাহাদত পড়বে। এরপর ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত হয়ে আমল শুরু করলেই প্রকৃত মুসলিম হয়ে যাবেন ইনশাআল্লাহ।

কালিমা পড়ে ইসলাম গ্রহণের পর, সহজতার জন্য উক্ত বোনকে বেহেশতী জেওর বাংলাটি পড়তে বলুন। তাহলে ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো সম্পর্কে সহজে জেনে নিতে পারবেন। তার জন্য আমল করা সহজ হবে।

এছাড়া মাওলানা জয়নাল আবেদীন অনূদিত “নওমুসলিমদের ঈমান জাগানিয়া সাক্ষাৎকার” পড়তে দিন।

এছাড়া মাওলানা কালিম সিদ্দীকী দামাত বারাকাতুহুর লিখিত বাংলায় অনূদিত বিভিন্ন বই পড়তে দিন। মাওলানা আশরাফ আলী থানবী রহঃ এর লিখিত দ্বীন ও আমল সম্পর্কিত কিতাবাদী সংগ্রহ করে দিন।

ইসলামী ফাউন্ডেশ কর্তৃক প্রকাশিত মাওলানা ইদ্রিস কান্ধলবীকৃত “সীরাতে মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম” বইটি পড়তে দিন।

এসব বই পড়ার মাধ্যমে আশা করি ধীরে ধীরে ইসলাম সম্পর্কে আরো সমৃদ্ধ আকীদা বিশ্বাস পূর্ণাঙ্গতা পাবে ইনশাআল্লাহ।

আর বেশি করে প্রতি ওয়াক্তের নামায শেষে রবের দরবারে ইসলাম নামক জান্নাতী ধর্ম প্রাপ্তির জন্য শুকরিয়া এবং আমৃত্যু এর উপর অটল থাকার শক্তি প্রদানের আবেদন করে দুআ করতে বলুন।

আল্লাহ তাআলা উক্ত বোনকে জান্নাতী নারী হিসেবে কবুল করুন। আমীন।

আব্দুল্লাহ বিন উমর রাঃ থেকে বর্ণিতঃ

حَدَّثَنِي أَبِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ قَالَ: بَيْنَمَا نَحْنُ عِنْدَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ يَوْمٍ، إِذْ طَلَعَ عَلَيْنَا رَجُلٌ شَدِيدُ بَيَاضِ الثِّيَابِ، شَدِيدُ سَوَادِ الشَّعَرِ، لَا يُرَى عَلَيْهِ أَثَرُ السَّفَرِ، وَلَا يَعْرِفُهُ مِنَّا أَحَدٌ، حَتَّى جَلَسَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَسْنَدَ رُكْبَتَيْهِ إِلَى رُكْبَتَيْهِ، وَوَضَعَ كَفَّيْهِ عَلَى فَخِذَيْهِ، وَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ أَخْبِرْنِي عَنِ الْإِسْلَامِ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْإِسْلَامُ أَنْ تَشْهَدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَتُقِيمَ الصَّلَاةَ، وَتُؤْتِيَ الزَّكَاةَ، وَتَصُومَ رَمَضَانَ، وَتَحُجَّ الْبَيْتَ إِنِ اسْتَطَعْتَ إِلَيْهِ سَبِيلًا»، قَالَ: صَدَقْتَ، قَالَ: فَعَجِبْنَا لَهُ يَسْأَلُهُ، وَيُصَدِّقُهُ، قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنِ الْإِيمَانِ، قَالَ: «أَنْ تُؤْمِنَ بِاللهِ، وَمَلَائِكَتِهِ، وَكُتُبِهِ، وَرُسُلِهِ، وَالْيَوْمِ الْآخِرِ، وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ»، قَالَ: صَدَقْتَ، قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنِ الْإِحْسَانِ، قَالَ: «أَنْ تَعْبُدَ اللهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ، فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ»، قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنِ السَّاعَةِ، قَالَ: «مَا الْمَسْئُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ» قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنْ أَمَارَتِهَا، قَالَ: «أَنْ تَلِدَ الْأَمَةُ رَبَّتَهَا، وَأَنْ تَرَى الْحُفَاةَ الْعُرَاةَ الْعَالَةَ رِعَاءَ الشَّاءِ يَتَطَاوَلُونَ فِي الْبُنْيَانِ»، قَالَ: ثُمَّ انْطَلَقَ فَلَبِثْتُ مَلِيًّا، ثُمَّ قَالَ لِي: «يَا عُمَرُ أَتَدْرِي مَنِ السَّائِلُ؟» قُلْتُ: اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: «فَإِنَّهُ جِبْرِيلُ أَتَاكُمْ يُعَلِّمُكُمْ دِينَكُمْ»

উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) হাদীস শুনিয়েছেন যে, একদা আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খিদমতে ছিলাম। এমন সময় একজন লোক আমাদের কাছে এসে হাযির হলেন। তাঁর পরিধানের কাপড় ছিল সা’দা ধবধবে, মাথার কেশ ছিল কাল কুচকুচে। তাঁর মধ্যে সফরের কোন চিহ্ন ছিল না। আমরা কেউ তাঁকে চিনি না। তিনি নিজের দুই হাঁটু নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দুই হাঁটুর সাথে লাগিয়ে বসে পড়লেন আর তার দুই হাত নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দুই উরুর উপর রাখলেন।

তারপর তিনি বললেন, হে মুহাম্মদ! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে অবহিত করুন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ইসলাম হল, তুমি এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করবে যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল, সালাত (নামায/নামাজ) কায়েম করবে, যাকাত আদায় করবে, রামাযানের রোযা পালন করবে এবং বায়তুল্লাহ পৌছার সামর্থ্য থাকলে হাজ্জ (হজ্জ) পালন করবে। আগন্তুক বললেন, আপনি ঠিকই বলেছেন। তার কথা শুনে আমরা বিষ্মিত হলাম যে, তিনই প্রশ্ন করেছেন আর তিনই-তা সত্যায়িত করছেন।

আগন্তুক বললেন, আমাকে ঈমান সম্পর্কে অবহিত করুন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ঈমান হল আল্লাহর প্রতি, তার ফেরেশতাদের প্রতি, তার কিতাবসমূহের প্রতি, তার রাসুলগণের প্রতি এবং আখিরাতের প্রতি ঈমান আনবে, আর তাকদিরের ভালমন্দের প্রতি ঈমান রাখবে। আগন্তুক বললেন, আপনি ঠিকই বলেছেন।

তারপর বললেন, আমাকে ইহসান সম্পর্কে অবহিত করুন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ইহসান হলো, এমনভাবে ইবাদত-বন্দেগী করবে যেন তুমি আল্লাহকে দেখছ, যদি তুমি তাকে নাও দেখ, তাহলে ভাববে তিনি তোমাকে দেখছেন।

আগন্তুক বললেন, আমাকে কিয়ামত সম্পর্কে অবহিত করুন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ বিষয়ে প্রশ্নকারীর চাইতে যাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে তিনি অধিক অবহিত নন। আগন্তুক বললেন, আমাকে এর আলামত সম্পর্কে অবহিত করুন। রাসুল বললেনঃ তা হলো এই যে, দাসী তার প্রভুর জননী হবে; আর নগ্নপদ, বিবস্ত্রদেহ দরিদ্র মেষপালকদের বিরাট বিরাট অট্টালিকার প্রতিযোগিতায় গর্বিত দেখতে পাবে।

উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) বললেন যে, পরে আগন্তুক প্রস্হান করলেন। আমি বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলাম। তারপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, হে উমর! তুমি জানো, এই প্রশ্নকারী কে? আমি আরয করলাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই সম্যক জ্ঞাত আছেন। রাসুল বললেনঃ তিনি জিবরীল। তোমাদের তিনি দ্বীন শিক্ষা দিতে এসেছিলেন। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১]

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– [email protected]

[[Islamic]] ♦♦পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শব-ই-বরাতঃ মহিমান্বিত মুক্তির পূণ্যময় রজনী ও দোয়া কবুলের রাত। ↑↑

আস্সালামু আলাইকুম। সবাই কেমন আছেন?
আজ অনেক দিন পরে একটি ইসলামিক শিক্ষা মূলক পোষ্ট শেয়ার করলাম। তো চলুন শুরু করি।
==========?
আগামিকাল ১ মে মঙ্গল বার দিবসরে সূর্য অস্ত
গেলেই এক অপার্থিব পবিত্রতায় আবৃত
রজনীর আবির্ভাব ঘটবে এবং আগামী
কাল মঙ্গলবার সূর্যোদয় অবধি এ রাতের
মহিমাময় ফজিলত অব্যবহত থাকবে।
মাহিমান্বিত এ রাতে মহান আল্লাহর
কাছে পাপ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করে
নিস্কৃতি লাভের পরম সৌভাগ্যের রজনী
শব-ই-বরাত বা মুক্তির রাত।

মধ্য-শাবান
হচ্ছে আরবী শা’বান মাসের ১৫
তারিখ, যা ভারতীয় উপমহাদেশের
মুসলমানদের মধ্যে শবে বরাত বা শব-ই-
বরাত নামে পালিত একটি পূণ্যময় রাত।
‘শব-ই-বরাত’ দু’টি শব্দের সমষ্টি। প্রথম
শব্দটি ‘শব’ ফারসি শব্দ, যার অর্থ রাত
রজনী। দ্বিতীয় শব্দটি ‘বরাত’ আরবি শব্দ,
যার অর্থ মুক্তি। এভাবে শব-ই-বরাত অর্থ
মুক্তির রাত। বাংলা ভাষায় বরাত
শব্দটি ব্যবহৃত ও প্রচলিত যার অর্থ ভাগ্য,
অদৃষ্ট। এ ক্ষেত্রে শব-ই-বরাত অর্থ হবে
ভাগ্যরজনী। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের
মুসলমানগণ বিভিন্ন কারণে এটি পালন
করেন। তবে এক এক দেশে এই মহিমান্বিত
রজনীর নাম আলাদা আলাদা। ইরান ও
আফগানিস্তানে শবে বরাত নিসফে
শাবান, মালয় ভাষাভাষীর কাছে নিসফু
শাবান এবং আরবী ভাষাভাষীর কাছে
এই বরকতময় রজনী নিসফ শাবান নামে
পরিচিত। কোনো কোনো অঞ্চলে
লাইলাতুল দোয়াও বলা হয়। আমাদের
দেশে এই রাত ‘শবেবরাত’এবং লাইলাতুল
বরাত নামে পরিচিত। হযরত ইমাম বাগবী
রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেছেন,
(হযরত মুহাম্মদ ইবনে মাইসারা ইবনে
আখফাশ রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে)
তিনি বলেন, হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
এরশাদ করেন, শাবান মাস থেকে পরবর্তী
শাবান মাস পর্যন্ত মৃত্যুর ফায়সালা করে
দেয়া হয়। এমনকি লোকেরা যে বিবাহ
করবে, সেই বছর তার থেকে কত জন সন্তান
জন্মগ্রহণ করবে তার তালিকা এবং তার
মৃত্যুর তালিকাও প্রস্তুত করা হয় ওই
বছরের অর্ধ শাবানের রাতে অর্থাৎ
শবেবরাতে।
হাদিস শরীফে উল্লেখ আছে, (হযরত
আলী আলাইহিস সালাম উনার থেকে
বর্ণিত) তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল
মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্
নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ
করেন, “যখন শা’বানের পনের তারিখ
রাত্রি উপস্থিত হবে তখন তোমরা উক্ত
রাত্রিতে নামায আদায় করবে এবং
দিনে রোযা রাখবে। কেননা নিশ্চয়ই
আল্লাহ পাক তিনি উক্ত রাত্রিতে
সূর্যাস্তের সময় পৃথিবীর আকাশে আসেন
অর্থাৎ রহমতে খাছ নাযিল করেন।
অতঃপর ঘোষণা করেন, “কোন ক্ষমা
প্রার্থনাকারী আছ কি? আমি তাকে
ক্ষমা করে দিব।” “কোন রিযিক
প্রার্থনাকারী আছ কি? আমি তাকে
রিযিক দান করব।” “কোন মুছিবতগ্রস্থ
ব্যক্তি আছ কি? আমি তার মুছিবত দূর
করে দিব।” এভাবে ফজর পর্যন্ত ঘোষণা
করতে থাকেন।” সুবহানাল্লাহ! (ইবনে
মাজাহ্, মিশকাত) হাদীছ শরীফ-এ আরো
ইরশাদ হয়েছে- ‘যারা ১৪ শাবান
রজনীতে ইবাদত করবে তাদের জন্য
মুক্তি। আর যে ব্যক্তি পরদিন রোজা
পালন করবে, জাহান্নামের আগুন তাকে
স্পর্শ করবে না।’ পবিতো এ রজনীতে
ফজিলত ও ইবাদতের গুরুত্ব অপরিসীম।
নবী করিম (স) স্বয়ং এ রাতের অর্ধেক
সিজদার মাধ্যমে অতিবাহিত করতেন।
হাদিস শরীফে এ সম্পর্কে বর্ণিত আছে
যে, ফেরেশতা জিব্রাইল (আঃ) এসে নবী
করিম (সঃ)-কে বললেন, ‘হে আল্লাহর
রাসূল! আপনি উঠুন, নামাজ পড়ুন এবং
আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করুন। কারণ
এটি ১৪ শাবানের রাত। এ রাতে আল্লাহ
তাঁর বান্দাদের জন্য একশ’টি রহমতের
দরজা উন্মুক্ত করে দেন। আপনি আপনার
উম্মতদের জন্য দোয়া করুন। কিন্তু
মাদকাসক্ত, নেশাখোর, সুদখোর, জাদুকর,
গণক, কৃপণ, পিতা মাতার অবাধ্য ও
দুঃখদানকারী, জেনাকারী ও হিংসা
বিদ্বেষকারীদের জন্য ক্ষমা প্রর্থনা
করবেন না। করণ এদের জন্য আল্লাহর
শাস্তি নির্ধারিত আছে, এসব লোক
তওবা করে নিজ নিজ বদ কার্যাবলি
পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত এ রাতে ক্ষমা
করবেন না।
কুরআন কারিমে শব-ই-বরাত সম্পর্কিত
কোনো আয়াত পাওয়া যায় না তবে এ
প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফে বর্ণিত
রয়েছেঃ “নিশ্চয়ই পাঁচ রাত্রিতে দোয়া
নিশ্চিতভাবে কবুল হয়ে থাকে। যথাঃ (১)
রজব মাসের প্রথম রাতে, (২) শবে
বরাতের রাতে, (৩) ক্বদরের রাতে, (৪)
ঈদুল ফিতরের রাতে, (৫) ঈদুল আযহার
রাতে।”। এ ছাড়াও সিয়াহ সিত্তাহ বা
বিশুদ্ধ ছয়খানা হাদিস গ্রন্থের কোনো
কোনো হাদিসে এই রাতের বিশেষত্ব
নির্দেশক হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
এছাড়াও অন্যান্য হাদিস গ্রন্থেও এই
রাতের বিশেষত্বের উল্লেখ পাওয়া
যায়। এই রাতের কথা ইমাম তিরমিযী
কর্তৃক বর্ণিত হাদিসে পাওয়া যায়, ঐ
হাদিস মতে, এক রাতে আয়েশা [রাঃ] ঘুম
থেকে উঠে পড়লেন কিন্তু হযরত মুহাম্মদ
[সঃ] বিছানায় দেখতে পেলেন না। তিনি
মহানবীকে [সঃ] খুঁজতে বের হলেন এবং
তাঁকে জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে
দেখতে পেলেন। মহানবী [সঃ] বললেন, ১৫
শাবানের রাতে আল্লাহ সর্বনিম্ন
আকাশে নেমে আসেন এবং [আরবের]
কালব্ উপজাতির ছাগলের গায়ের পশমের
থেকে বেশি লোককে কৃতকর্মের জন্য
ক্ষমা করেন। উল্লেখ্য, সেসময় কালব্
গোত্র ছাগল পালনে প্রসিদ্ধ ছিল এবং
তাদের প্রচুর ছাগল ছিল। এই হাদিসের
নিচে ইমাম তিরমিযী উল্লেখ করেন,
“হযরত আবু বকরও [রাঃ] এরূপ হাদিস
বর্ণনা করেছেন বলে জানা যায়। আমি
(ইমাম তিরমিয়ী) শুনেছি ইমাম বুখারীকে
[রঃ] বলতে এই হাদিসের বর্ণনাকারীদের
মাঝে একজন জায়েফ (দূর্বল বা কম
গ্রহণযোগ্য) ছিলেন।” এর ভিত্তিতে বলা
হয়, এই হাদিসটি সম্পুর্ণরূপে গ্রহণযোগ্য
না হলেও মিথ্যা নয়। এটি সত্য হবার
সম্ভবনা আছে। ফিকাহ্ বিশারদদের মতে
জায়েফ হাদিস যদি কুর’আন পরিপন্থী না
হয় তবে তা মানা যায়।
কুরআন কারিমে শবেবরাত সম্পর্কিত
কোনো আয়াত পাওয়া যায় না। ত বে
রাসূল (সাঃ) হাদিসে এবং প্রখ্যাত
আলেম-ওলামা ও তাফসীরকারীগণ
শবেবরাতের বহু তাৎপর্য এবং এই
রাতের মহিমার কথা উল্লেখ করেছেন।
এই রাত সম্পর্কে হযরত মোহাম্মদ (সঃ)
এরশাদ করেছেন, এই রাতে
ইবাদতকারীদের গুনাহরাশি আল্লাহ
তা’আলা ক্ষমা করে দেন। তবে
কেবলমাত্র তারা ক্ষমার অযোগ্য যারা
আল্লাহর সাথে শিরিককারী, সুদখোর,
গণক, যাদুকর, কৃপণ, শরাবী
(মদ্যপানকারী), জিনাকারী এবং পিতা-
মাতাকে কষ্টদানকারী।
অপর এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,
রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, ‘জিব্রাইল
(আঃ) আমাকে বলেছেন, আপনি আপনার
উম্মতদের জানিয়ে দিন, তারা যেন
শবেবরাত রাতকে জীবিত রাখে।’ অর্থাৎ
তারা যেন ইবাদতের মাঝে কাটিয়ে
দেয়।
রাসূল (সঃ.) আরেকটি হাদিসে
বলেছেন, ‘এই রাতে আসমান থেকে ৭০
হাজার ফেরেশতা জমিনে এসে ঘুরে
ফিরে ইবাদতকারীগণকে পরিদর্শন করেন
এবং তাদের ইবাদতসমূহ দেখেন।’অন্য
হাদিসে এসছে, ‘যে ব্যক্তি শাবান
মাসের ১৫ তারিখ রাতে ইবাদত করবে
এবং দিনে রোজা রাখবে, দোজখের
আগুন তাকে স্পর্শ করতে পারবে না।’
পবিত্র শবে বরাত পালনের মূল উদ্দেশ্য
হচ্ছে রাত্রিতে ইবাদত-বন্দেগী করে
পরবর্তী দিনে পবিত্র রোযা রেখে মহান
আল্লাহ পাক তাঁহার ও তঁহার রসূল, নূরে
মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর
সন্তুষ্টি অর্জন করা। পবিত্র শবে বরাতে
কোন কোন ইবাদত-বন্দেগী করতে হবে তা
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ
শরীফ তাঁহাদের মধ্যে নির্দিষ্ট করে
দেয়া হয়নি। তবে ইবাদত-বন্দেগী করার
জন্য তাকীদ ও নির্দেশ মুবারক করা
হয়েছে। যেমন-
* পবিত্র শবে বরাতের নামায পড়বে। ৪, ৮,
১২ রাকায়াত। দুই দুই রাকায়াত করে।
* পবিত্র ছলাতুত তাসবীহ এর নামায
পড়বে, যার দ্বারা মানুষের গুনাহখাতা
ক্ষমা হয়।
* পবিত্র তাহাজ্জুদের নামায পড়বে, যা
দ্বারা মহান আল্লাহ পাক এর নৈকট্য
হাছিল হয়।
* পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করবে,
যার দ্বারা মহান আল্লাহ তায়ালার
সন্তুষ্টি অর্জিত হয়।
* মীলাদ শরীফ, ক্বিয়াম শরীফ ও দুরূদ
শরীফ পাঠ করবে, যার দ্বারা মহান
আল্লাহ পাক ও তাঁর রসূল, হযরত মুহাম্মদ
[সঃ] এর খাছ সন্তুষ্টি অর্জিত হয়।
* পবিত্র যিকির-আযকার করা, যার
দ্বারা দিল ইছলাহ হয়।
* কবরস্থান যিয়ারত করা, যার দ্বারা
মৃত্যুর কথা স্মরণ হয় এবং পবিত্র সুন্নত
আদায় হয়।
* গরিব-মিসকীনকে দান ছদকা করবে ও
লোকজনদের খাদ্য খাওয়ানো।
সর্বোপরি পুরো রাত্রিই অতিবাহিত
করতে হবে পবিত্র যিকির-ফিকির, তওবা-
ইস্তিগফারের মাধ্যমে। যাতে মহান
আল্লাহ পাক ও তাঁর রসূল, নূরে মুজাসসাম,
হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক হযরত মুহাম্মদ
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর
সন্তুষ্টি অর্জিত হয়। আর পবিত্র শবে
বরাতে আল্লাহ পাকের পূর্ণ নিয়ামত
লাভের জন্য সর্বোত্তম উসীলা বা
মাধ্যম হযরত মুহাম্মদ [সঃ] আলাইহিস
সালাম। তাঁর পবিত্রতম ছোহবত মুবারকে
থেকে সারারাত্রি জাগরণ ও পবিত্র
সুন্নত মুতাবিক মক্ববুল দোয়া, মক্ববুল
মুনাজাত শরীফ তাঁর মধ্যে শরীক হওয়া,
অতি উত্তম ও সহজ পদ্ধতিতে পবিত্র
রাত্র ইবাদত বন্দেগীতে অতিবাহিত করা
এবং পরবর্তী দিনে রোযা রাখা।
হাদিস শরীফে বর্ণিত আছে, যে
ব্যক্তি ১৪ শাবানের রাতে নামাজ
আদায় করে, তার সব গুনাহ মাফ হয়ে
যাবে এবং সদ্য প্রসূত নবজাত শিশুর মতো
গুনাহ থেকে পবিত্র হবে। যে ব্যক্তি ১৫
শাবানের দিন রোজা রাখবে, সে
দোজখের আগুন থেকে মুক্তি পাবে। এ
রাতের ইবাদতের কোনো সীমারেখা বা
নির্ধাতির কোনো নিয়ম নেই। অন্যান্য
নফল নামাজের মতো ২ রাকায়াত করে
নফল নামাজের নিয়তে নামাজ আদায়
করলেই শব-ই-বরাতের নামাজ আদায় হয়ে
যাবে। পুণ্যময় শবে বরাতের নামাজের
সঙ্গে সঙ্গে পবিত্র কোরআন-হাদীস পাঠ
ও বিভিন্ন রকম দোয়া-দুরুদ এবং তাসবিহ-
তাহলিল ও জিকির করলেও যথেষ্ট নেকী
পাওয়া যায়।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আল আমিন
পবিত্র কোরআন মজিদের অনেক সূরায়
ঘোষণা করেছেন, ‘আমি সর্বজ্ঞ,
সর্বশ্রোতা এবং মহাপরাক্রমশালী।
আবার বলেছেন, ‘আমি পরম দয়ালু এবং
ক্ষমাশীল।’ আল্লাহ পাক প্রতিনিয়ত
আমাদের গোনাহ মাফ করে দিচ্ছেন।
তবে যে গোনাহার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা
করা হয়েছে আল্লাহর দরবারে মানুষ
হিসেবে আমরা বুঝতেও পারছি না মহান
আল্লাহ সেই অপরাধ মার্জনা করে
দিয়েছেন। কিন্তু যে অপরাধের জন্য
ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়েছে বা হচ্ছে
ক্ষমা প্রার্থনাকারী যদি পুনরায় সেই
অপরাধ কর্মটি করেন; তাহলে তার পূর্বের
ক্ষমা তো বাতিল করাই হবে এবং এজন্য
সেই ক্ষমা প্রার্থনাকারী ব্যক্তির
গোনাহের পাল্লা আরও বেশি ভারী
হবে। আল্লাহ রাব্বুল আল আমিনের
দরবারে সেই ব্যক্তির ক্ষমা প্রার্থনার
দরজা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
তাই আসুন, এই বরকতময় রজনীতে মহান
আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে
আমরা আমাদের গোনাহ মাফের
সর্বোচ্চ সুযোগ কাজে লাগাই। এই
রাতে অনেকে আতশবাজি করেন। এটা
অনুচিত কাজ। ইসলামের দৃষ্টিতে এটি
বেদআদ কাজ। এই রাতে ইবাদত-
বন্দেগিতে নিজেকে নিয়োজিত করুন।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে
সব মানুষের কল্যাণের জন্য প্রার্থনা
করছি। সেই সাথে আল্লাহ রাব্বুল
আলামিন আমার/আপনাদের শত্রুদের
ক্ষমা করে দিয়ে তাদের সুপথে চালিত
করুন। এই রাতে ঘুমিয়ে থাকা অনেক
ফজিলতের তাদের জন্য যারা এই রাতে
আল্লাহর নাফরমানি, চুরি, ডাকাতি,
রাহাজানি, ঘুষ দুর্নিতে লিপ্ত থাকেন।
মহান আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে
পবিত্র শবে বরাত যথাযথ আদায় করার
তাওফীক দান করুন। বিশ্বের সকল
মুসলিমের পবিত্র শবে বরাতে সকল
নিয়ামত অর্জিত হোক এই
কামনায়..আমীন!

ধন্যবাদ সবাইকে।

ফেসবুকে আমি★
Facebook page

কুরআনের বিধান মেনে চলার নির্দেশ ও উপকারিতা

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর জন্য যে কিতাব দান করেছেন তা হলো ‘কুরআনুল কারিম’। এটা এমনই এক মহাপবিত্র গ্রন্থ; যার শুরুতেই আল্লাহ তাআলা এর সন্দেহ সংশয় নিরসন করে ঘোষণা দিয়েছেন-

‘এটা সেই কিতাব; যাতে কোনো সন্দেহ-সংশয়ের অবকাশ নেই। মুত্তাকীদের জন্য পথ প্রদর্শক। (মুক্তাকিদের পরিচয়) যারা গায়েবে (অদৃশ্যে) বিশ্বাস করে, (ঠিকভাবে) নামাজ প্রতিষ্ঠা করে ও তাদের যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে (আল্লাহর পথে) খরচ করে।

যারা বিশ্বাস করে আপনার (রাসুলের) প্রতি যা অবতীর্ণ করেছি এবং তোমার আগে যা অবতীর্ণ করেছি তার প্রতি এবং যারা পরকালের উপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখে। উহারাই স্বীয় রবের প্রদর্শিত পথে অবস্থিত এবং তাহারাই মুক্তি পাবে।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ২-৫)

পবিত্র কুরআনুল কারিমে ঘুরে ফিরে এ সব বিষয়ের বিভিন্ন আলোচনা পর্যালোচনা হয়েছে। যাতে রয়েছে মুসলিম উম্মাহর পথ-নির্দেশনা। যার পরিপূর্ণ বাস্তবায়নেই সফলতা সুনিশ্চিত।

তাইতো যারা কুরআনের অনুসারী; তাদের নিরাপত্তার ব্যাপারে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে পাকে নিশ্চয়তা দিয়েছেন। পরকালের কঠিন বিচারের দিনে তারা যে নিরাপদ ও বক্রতামুক্ত সহজ সরল পথের অনুসারী সে কথাও ওঠে এসেছে প্রিয়নবির পবিত্র বর্ণনায়-

হজরত ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব (কুরআন) অনুসরন করে চলে,আল্লাহ তাআলা তাকে গোমরাহী (অজ্ঞতা) থেকে বাঁচিয়ে সত্যের পথে পরিচালিত করেন এবং কেয়ামতের দিন তিনি তাকে (ওই সব বান্দাকে) হিসাব-নিকাসের ভয়াবহতা থেকে মুক্ত রাখবেন। (তাফসিরে ইবনে কাছির)

কুরআন এমনই এক মহাগ্রন্থ, যা মানুষকে দুনিয়ার যাবতীয় ধ্বংসাত্মক ফেতনা থেকে মুক্ত রাখবে। মানুষ পাবে সঠিক পথের সন্ধান। যা হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু ও প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথপোকথন থেকে বুঝা যায়-

হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেন, ‘শীঘ্রই ফেতনা দেখা দেবে। আমি জানতে চাইলাম হে আল্লাহর রাসুল! ফেতনা হতে বাঁচার উপায় কি?

তিনি বললেন, আল্লাহর কিতাব (কুরআন)।এতে তোমাদের অতীত ও ভবিষ্যতের সব খবরাখবর বিদ্যমান। আর তা তোমাদের চূড়ান্ত বিধান। এটা কোনো তামাশার বস্তু নয়।

যে দাম্ভিক কুরআন বর্জন করবে, আল্লাহ তাকে চূর্ণ করবেন। কুরআনের বাইরে গিয়ে যে ব্যক্তি হেদায়েত খুঁজবে, আল্লাহ তাআলা তাকে বিভ্রান্ত করবেন। এটা আল্লাহর মজবুত রশি। এটা শ্রেষ্ঠ উপদেশগ্রন্থ।

আর এ কুরআনই সিরাতুল মুসতাকিম। যা মানুষের খেয়াল খুশির নিয়ন্ত্রক। ভাষার বিভিন্নতাও কুরআনের বিভিন্নতা তৈরি করতে পারে না। আর কোনোদিনই আলিমগণের কাছে কুরআনের চাহিদা মিটবে না। হাজার চ্যালেঞ্জ দিয়ে ও এটা সৃষ্টি করা যাবে না।

আর (কখনো) কুরআনের বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্যেরও কোনো ঘাটতি দেখা যাবে না। সেই বৈশিষ্ট্যের প্রবল আকর্ষণ জিন জাতিকে পর্যন্ত আকৃষ্ট করেছে। ফলে তারাও বলতে বাধ্য হল- ‘নিশ্চয় আমরা আশ্চর্য এক কুরআন শ্রবণ করেছি। যা সঠিক পথের নির্দেশ দেয়। তাই আমরা ঈমান এনেছি।’ (সুরা জিন)

সর্বোপরি কথা-
যারা পবিত্র কুরআনুল কারিমের আলোকে কথা বলে; নিজেরে জীবনে যাথযথ বাস্তবায়ন করে; সত্যকে অন্যের সামনে তুলে ধরে এবং আমল করে, সে পূণ্য ও সফলতা লাভ করে।

যে কুরআনের ভিত্তিতে রায় দেয়, সে ইনসাফ করে। আর যে নিজেকে ও অন্যকে কুরআনের দিকে আহ্বান করে, সে সিরাতুল মুসতাকিমের দিকে ডাকে। কুরআন ও হাদিসে ঘোষিত সফলতা তাদের জন্যই সুনির্ধারিত।
পক্ষান্তরে

যে কেউ কুরআনের বিধান অমান্য করবে, তার নেক আমল নষ্ট হয়ে যাবে এবং বিচার দিবসে সে হবে ক্ষতিগ্রস্তদের দলভূক্ত। এটাই আল্লাহ পাকের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। আল্লাহ তাআলা বলেন-

‘যে কেহ বিধান অমান্য করবে ব্যর্থ হয়ে যাবে তার নেক এবং পরকালে সে ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভূক্ত হবে।’ (সুরা মায়েদা : আয়াত ৫)

এ কারণেই হজরত আব্বাস রাদিয়াল্লাহু বর্ণনা করেন যে, প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বজ্রেকণ্ঠে ঘোষণা করেছেন-
‘যে ব্যক্তি সন্তুষ্ট চিত্তে আল্লাহ্‌কে নিজের রব, ইসলামকে নিজের দ্বীন এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রাসুল হিসেবে মেনে নিয়েছে, সে ঈমানের স্বাদ গ্রহণ করেছে।’ (মুসলিম)

পরিশেষে…
মুসলিম উম্মাহর সঠিক পথ ও মতের ওপর চলার জন্য কুরআনই একমাত্র অনুকরণীয় গ্রন্থ। যা মানুষকে দুনিয়া ও পরকালের সফলতার চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাবে। আল্লাহ তাআলা কুরআনে সেই কথাই তুলে ধরেছেন-

‘হে আহলে কিতাব সম্প্রদায়! নিঃসন্দেহে তোমাদের কাছে এসেছে আমার রাসুল। সে তোমাদের জন্য সুস্পষ্টভাবে সত্য (আমার বিধান কুরআন) প্রকাশ করছে। অন্যান্য রাসুলের আগমন ধারা বিচ্ছিন্ন থাকার পর যদি তোমরা বল যে, আমাদের কাছে কোনো সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী আসেনি; অনন্তর অবশ্যই তোমাদের কাছে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী (হিসেবে আমার রাসুল তোমাদের কাছে) এসেছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ সব কিছুর ওপর মহাক্ষমতাবান।’ (সুরা মায়েদা : আয়াত ১৯)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দুনিয়া ও পরকালের চূড়ান্ত বিজয় দান করতে কুরআনের ওপর যথাযথ আমল ও প্রিয়নবির যথাযথ অনুসরণ ও অনুকরণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

মুসলমানের জন্য রাসুলের ওপর ঈমান আনার গুরুত্ব কতটুকু?

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

দুনিয়া ও পরকালের সফলতা লাভের মূলমন্ত্র তাওহিদ ও রেসালাত স্বীকৃতি দেয়া। আর তাহলো- ‘লা ইলাহা ল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’। পরকালের নাজাত লাভে তাওহিদ ও রেসালাতে পূরিপূর্ণ বিশ্বাস অর্জন করে কুরআন সুন্নাহ ভিত্তিক জীবন যাপনের বিকল্প নেই।

শুধুমাত্র তাওহিদের প্রতি ঈমান আনলেই চলবে না। প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুল হিসেবে সর্বক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্বীকৃতি দিতে হবে। আর তা হবে পরকালের নাজাতের একমাত্র মূলমন্ত্র।

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ঈমান আনা থেকে যারা বিরত থাকবে; তাদের জন্য প্রস্তুত রয়েছে চিরস্থায়ী জাহান্নাম। প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ প্রসঙ্গে সুস্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন-

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেছেন, ‘সেই সত্তার শপথ! যার হাতে আমার (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জীবন! এ উম্মতের যে কেউ আমার রেসালাতের কথা শুনবে; চাই সে ইয়াহুদি হোক কিংবা নাসারা। অথচ আমি যা (কুরআন) সহকারে প্রেরিত হয়েছি, তার ওপর ঈমান না এনে মৃত্যুবরণ করে; সে অবশ্যই জাহান্নামের অধিবাসী হবে। (মুসলিম)

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ঘোষণা অনুযায়ী তাঁর আনীত জীবন বিধান ইসলামের আগমনের পর অন্য কোনো শরিয়ত বা জীবন ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ নেই। আর আগের শরিয়তের সব অনুসারিদের জন্য আবশ্যক ইসলামের অনুশাসন মেনে নেয়া।

তাওহিদের স্বীকৃতির পাশাপাশি প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রেসালাতের স্বীকৃতি দেয়া। যারা এ দু’টি বিষয়ের প্রতি পরিপূর্ণ আস্থা এবং বিশ্বাস অর্জন করবে, তাদের জন্য জরুরি হবে পরকালের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা। তবেই সফলতা লাভ করবে এ জাতি।

আল্লাহ তাআলা সমগ্র উম্মাহকে তাওহিদের প্রতি বিশ্বাস লাভের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বনবির রেসালাতের প্রতি পরিপূর্ণ বিশ্বাস অর্জন করার সুনসিব দান করুন। পরকালের নাজাত ও সফলতা দান করুন। আমিন।

খতমে কুরআন’র গুরুত্ব

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি:

কুরআন কারীম মুমিনের জন্য রক্ষাকবচ! ভ্রান্তি ও বিচ্যুতি থেকে রক্ষা করে। আল্লাহ তা’আলা বলেন, “নিশ্চয়ই এই কুরআন সর্বাধিক সরল পথের সন্ধান দেয়।” (সূরা ইসরা: ৯)

কুরআনের বরকত লাভ করতে হলে, হিদায়াত লাভ করতে হলে, নিয়মিত তিলাওয়াত করতে হবে। বোঝার চেষ্টা করতে হবে। পাথরে পাথর ঘর্ষণে যেমন আগুন জ্বলে ওঠে, তদ্রূপ কলবের সাথে কুরআনের আয়াতের ঘর্ষণেও কলবে হেদায়াতের আলো জ্বলে উঠবে। জীবনে আল্লাহর মা’রেফাতের নূর জ্বলে উঠবে।

আমরা গল্প পড়ি। উপন্যাস পড়ি। কবিতা পড়ি। কিন্তু কুরআন পড়ি না। সুযোগ পেলেই যদি গল্পের বই নিয়ে বসতে পারি। ফেসবুক-ইন্টারনেট নিয়ে বসতে পারি, কুরআন নিয়েও কিছু সময় বসতে পারব না কেন? এখন তো খুবই সহজ। মোবাইলেই কুরআনুল কারীম পড়া যায়। আয়োজন করে কুরআন নিয়ে বসতে হয় না। যদিও সরাসরি কুরআন থেকে পড়ার ফজিলত অনেক বেশি।

নবীজি সা. নিয়মিত কুরআন খতম করতেন। এক খতম শেষ হলে আরেক খতম শুরু করতেন। এটা সুন্নাত।

তিনি বলেছেন, ‘অন্তত এক মাসে হলেও কুরআন খতম করো।’ (বুখারী)

হাদীসে বিশ দিনে, দশ দিনে, সাত দিনে, তিন দিনে, চল্লিশ দিনে খতম করার কথাও আছে। প্রত্যেকেই তার সামর্থ্য অনুযায়ী খতম করবেন। তবে সময় যতই লেগে যাক, চল্লিশ দিনের বেশি যেন না লাগে। কারণ হাদীসে সর্বোচ্চ চল্লিশ দিনের কথা আছে।

কুরআনুল কারিম বুঝে পড়ার ফজিলত অনেক। তবে না বুঝে হলেও শুধু তিলাওয়াতেরও ফজিলতও কম নয়। রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘কুরআন তিলাওয়াতে (না বুঝে হলেও) প্রতি হরফে দশ নেকী। আর প্রতিটি নেকী দশগুণ হয়ে আসে।’ (তিরমিযী)

প্রতিদিন কমপক্ষে এক পারা পড়া কঠিন কিছু নয়। নিজে পড়তে না পারলে, অন্তত ত্রিশ মিনিট সময় বরাদ্দ করে, একজন কারী সাহেবের মুখ থেকেও শুনে নিতে পারি। রেকর্ড শুনলে নিজে পড়া বা সরাসরি শোনার মতো সওয়াব না হলেও কিছু সওয়াব ও বরকত এতেও রয়েছে।

একটানা সময় না হলে, কাজের ফাঁকে ফাঁকে শুনে বা পড়ে নেয়া যেতে পারে। প্রতি নামাজের আগে বা পরে চার পৃষ্ঠা বা সাধ্যানুযায়ী আরও বেশি শোনার বা পড়ার নিয়ম করে নেয়া যেতে পারে।

কুরআন হলো হিদায়াতের আধার। নিশ্চিতভাবে বলা যায়, কেউ নিয়মিত কুরআন খতম দিতে অভ্যস্ত হলে, ভ্রান্তি বা বিচ্যুতি তাকে গ্রাস করতে পারবে না। চব্বিশ ঘণ্টায় ‘ত্রিশটা মিনিট’ খুব বেশি কিছু তো নয়! এটা নিজের জানমালের নিরাপত্তার জন্য ব্যয় করছি বলেও ধরে নিতে পারি আমরা। আল্লাহও খুশি হবেন নবীজিও খুশি হবেন। ফলে দুনিয়া-আখেরাত উভয়টাই নিরাপদ হয়ে যাবে।

প্রথম প্রথম কষ্ট হয়, যেকোনো আমলই একবার অভ্যস্ত হয়ে গেলে, পালতোলা নাওয়ের মতো তরতর এগুতে থাকে! আর থামাথামি হয় না! পালটা তুলতে যা দেরী! আল্লাহ তাওফীক দেয়ার জন্য তৈরি হয়েই তো আছেন!

-সংগৃহীত

হাদিসের ঘটনায় আয়াতুল কুরসি

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি:

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক রমযান মাসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে যাকাতের সম্পদ রক্ষা করার দায়িত্ব দিলেন। দেখলাম, কোনো এক আগন্তুক এসে খাদ্যের মধ্যে হাত দিয়ে কিছু নিতে যাচ্ছে। আমি তাকে ধরে ফেললাম। আর বললাম, আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই তোমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে নিয়ে যাবো। সে বলল, আমি খুব দরিদ্র। আমার পরিবার আছে। আমার অভাব মারাত্মক। আবু হুরাইরা বলেন, আমি তাকে ছেড়ে দিলাম। সকাল বেলা যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে আসলাম, তখন তিনি বললেন, কী আবু হুরাইরা! গত রাতের আসামির খবর কী? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সে তার প্রচণ্ড অভাবের কথা আমার কাছে বলেছে। আমি তার উপর দয়া করে তাকে ছেড়ে দিয়েছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, অবশ্যই সে তোমাকে মিথ্যা বলেছে। দেখবে সে আবার আসবে।

আমি এ কথায় বুঝে নিলাম সে আবার আসবেই। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সে আবার আসবে। আমি অপেক্ষায় থাকলাম। সে পরের রাতে আবার এসে খাবারের মধ্যে হাত দিয়ে খুঁজতে লাগল। আমি তাকে ধরে ফেললাম। আর বললাম, আল্লাহর কসম আমি অবশ্যই তোমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে নিয়ে যাবো। সে বলল, আমাকে ছেড়ে দাও। আমি খুব অসহায়। আমার পরিবার আছে। আমি আর আসবো না। আমি এবারও তার উপর দয়া করে তাকে ছেড়ে দিলাম। সকাল বেলা যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে আসলাম, তিনি বললেন, কী আবু হুরাইরা! গত রাতে তোমার আসামি কী করেছে? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সে তার চরম অভাবের কথা আমার কাছে বলেছে। তার পরিবার আছে। আমি তার উপর দয়া করে তাকে ছেড়ে দিয়েছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, অবশ্যই সে তোমাকে মিথ্যা বলেছে। দেখো, সে আবার আসবে।

তৃতীয় দিন আমি অপেক্ষায় থাকলাম, সে আবার এসে খাবারের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে খুঁজতে লাগল। আমি তাকে ধরে ফেললাম। আর বললাম, আল্লাহর কসম আমি অবশ্যই তোমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে নিয়ে যাবো। তুমি তিন বারের শেষ বার এসেছ। বলেছ, আসবে না। আবার এসেছ। সে বলল, আমাকে ছেড়ে দাও। আমি তোমাকে কিছু বাক্য শিক্ষা দেবো যা তোমার খুব উপকারে আসবে। আমি বললাম কী সে বাক্যগুলো? সে বলল, যখন তুমি নিদ্রা যাবে তখন আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে। তাহলে আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাকে একজন রক্ষক পাহারা দেবে আর সকাল পর্যন্ত শয়তান তোমার কাছে আসতে পারবে না। আমি তাকে ছেড়ে দিলাম। সকাল বেলা যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে আসলাম, তখন তিনি বললেন, কী আবু হুরাইরা! গত রাতে তোমার আসামি কী করেছে? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে আমাকে কিছু উপকারী বাক্য শিক্ষা দিয়েছে, তাই আমি তাকে ছেড়ে দিয়েছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, তোমাকে সে কী শিক্ষা দিয়েছে? আমি বললাম, সে বলেছে, যখন তুমি নিদ্রা যাবে, তখন আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে। তাহলে আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাকে একজন রক্ষক পাহারা দেবে আর সকাল পর্যন্ত শয়তান তোমার কাছে আসতে পারবে না।

আর সাহাবায়ে কেরাম এ সকল শিক্ষণীয় বিষয়ে খুব আগ্রহী ছিলেন- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, সে তোমাকে সত্য বলেছে যদিও সে মিথ্যাবাদী। হে আবু হুরাইরা! গত তিন রাত যার সাথে কথা বলেছো তুমি কি জানো সে কে?

আবু হুরাইরা বলল, না, আমি জানি না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, সে হল শয়তান। (বর্ণনায় : বুখারী)

এ হাদীস থেকে আমরা যা শিখতে পেলাম তা হল:

(১) জনগণের সম্পদ পাহারা দেয়া ও তা রক্ষা করার জন্য আমানতদার দায়িত্বশীল নিয়োগ দেয়া কর্তব্য। আবু হুরাইরা রা. ছিলেন একজন বিশ্বস্ত আমানতদার সাহাবী।

(২) আবু হুরাইরা রা. দায়িত্ব পালনে একাগ্রতা ও আন্তরিকতার প্রমাণ দিলেন। তিনি রাতেও না ঘুমিয়ে যাকাতের সম্পদ পাহারা দিয়েছেন।

(৩) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এটি একটি মুজেযা যে, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থেকেও আবু হুরাইরার কাছে বর্ণনা শুনেই বুঝতে পেরেছেন শয়তানের আগমনের বিষয়টি।

(৪) দরিদ্র অসহায় পরিবারের বোঝা বাহকদের প্রতি সাহাবায়ে কেরামের দয়া ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ দয়াকে স্বীকৃতি দিলেন। তিনি আবু হুরাইরা রা. কে বললেন না, তাকে কেন ছেড়ে দিলে? কেন দয়া দেখালে?

(৫) সাহাবায়ে কেরামের কাছে ইলম বা বিদ্যার মূল্য কতখানি ছিল যে, অপরাধী শয়তান যখন তাকে কিছু শিখাতে চাইল তখন তা শিখে নিলেন ও তার মূল্যায়নে তাকে ছেড়েও দিলেন।

(৬) খারাপ বা অসৎ মানুষ ও জিন শয়তান যদি ভাল কোনো কিছু শিক্ষা দেয় তা শিখতে কোনো দোষ নেই। তবে কথা হল তার ষড়যন্ত্র ও অপকারিতা সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, সে তোমাকে সত্য বলেছে, তবে সে মিথ্যুক। এ বিষয়টিকে শিক্ষার একটি মূলনীতি হিসাবে গ্রহণ করা যায়।

(৭) জিন শয়তান মানুষের খাদ্য-খাবারে হাত দেয়। তা থেকে গ্রহণ করে ও নষ্ট করে।

(৮) আয়াতুল কুরসী একটি মস্তবড় সুরক্ষা। যারা আমল করতে পারে তাদের উচিত এ আমলটি ত্যাগ না করা। রাতে নিদ্রার পূর্বে এটি পাঠ করলে পাঠকারী সকল প্রকার অনিষ্ট থেকে মুক্ত থাকবে ও জিন শয়তান কোনো কিছু তার উপর চড়াও হতে পারবে না।

(৯) আয়াতুল কুরসী হল সূরা আল বাকারার ২৫৫ নং এই আয়াত :

اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ

অর্থ: আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সুপ্রতিষ্ঠিত ধারক। তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না। তাঁর জন্যই আসমানসমূহে যা রয়েছে তা এবং যমীনে যা আছে তা। কে সে, যে তাঁর নিকট সুপারিশ করবে তাঁর অনুমতি ছাড়া? তিনি জানেন যা আছে তাদের সামনে এবং যা আছে তাদের পেছনে। আর তারা তাঁর জ্ঞানের সামান্য পরিমাণও আয়ত্ব করতে পারে না, তবে তিনি যা চান তা ছাড়া। তাঁর কুরসী আসমানসমূহ ও যমীন পরিব্যাপ্ত করে আছে এবং এ দুটোর সংরক্ষণ তাঁর জন্য বোঝা হয় না। আর তিনি সুউচ্চ, মহান।

-সংগৃহীত

মৃত্যুকামনায় নবীজির নিষেধাজ্ঞা

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি:

আমাদের জীবনে সুবিধা-অসুবিধা থাকেই। বিপদাপদে সবর করে থাকাই ঈমানের দাবি। কিন্তু কেউ কেউ বিপদে পড়লে হা-হুতাশ শুরু করে দেন। নিস্তার পাওয়ার জন্য মৃত্যুকামনা করে বসেন। মনে করেন, মরে গেলেই বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়া যাবে। মনে মনে না চাইলেও মুখে মুখে হলেও মওত কামনা করেন। এটা এক ধরনের পলায়নপর মনোবৃত্তি। রাসূলুল্লাহ সা. বলেন-

لاَ يَتَمَنَّى أَحَدُكُمُ المَوْتَ إِمَّا مُحْسِنًا فَلَعَلَّهُ يَزْدَادُ، وَإِمَّا مُسِيئًا فَلَعَلَّهُ يَسْتَعْتِبُ

“তোমরা মৃত্যু কামনা করবে না। নেককার মানুষ হলে, সে বেঁচে থাকলে আরও বেশি নেককাজ করতে পারবে। সে যদি গুনাহগার হয়, হয়তো সে তওবাহ করে গুনাহ থেকে ফিরে আসবে।” (সুহিহ বুখারী)

অন্য হাদীসে মৃত্যুর কথা স্মরণ করতে বলা হয়েছে। মৃত্যু কামনা করতে বলা হয়নি। বিশেষ করে বিপদে পড়লে। বেঁচে থাকলে একসময় বিপদ কেটে যাবে। সুদিন ফিরবে। আরও ভালো ভালো কাজ করা যাবে। আগে ভালো কাজ কম করা হয়ে থাকলে ভবিষ্যতে তওবার সুযোগ মিলতে পারে। আর মৃত্যু আল্লাহর আওতায়। সেটা নিয়ে বান্দার ব্যতিব্যস্ত হওয়া কাম্য নয়।

তারপরও মাঝে মধ্যে কিছু সময় আসে, টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। বাঁচামরা সমান হয়ে যায়। বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়াকেই বেশি সহজ মনে হয়। এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে? নবীজি সা.-এর সমাধান দিয়ে গেছেন:

لاَ يَتَمَنَّيَنَّ أَحَدُكُمُ المَوْتَ مِنْ ضُرٍّ أَصَابَهُ، فَإِنْ كَانَ لاَ بُدَّ فَاعِلاً، فَلْيَقُلْ: اللَّهُمَّ أَحْيِنِي مَا كَانَتِ الحَيَاةُ خَيْرًا لِي، وَتَوَفَّنِي إِذَا كَانَتِ الوَفَاةُ خَيْرًا لِي

তোমরা বিপদে পড়লে মৃত্যু কামনা করবে না। যদি একান্তই এমন কিছু করতে হয়, তাহলে বেশির চেয়ে বেশি এটুকু বলতে পারো: হে আল্লাহ! যতদিন আমার বেঁচে থাকাটা কল্যাণকর, ততদিন আমাকে বাঁচিয়ে রাখুন! আর যদি মুত্যই আমার জন্য কল্যাণবহ হয়, তবে মৃত্যুই দিয়ে দিন (মুত্তাফাকুন আলাইহি)।

সাথে সাথে এটাও মনে রাখতে হবে: মৃত্যু কামনা করা কিন্তু স্বাভাবিক অবস্থা নয়। মৃত্যুকামনা না করাই স্বাভাবিক প্রবণতা। মনকে এভাবেই গড়ে তুলতে হবে। বিপদ এলে আল্লাহর দিকে মনকে ফেরাতে হবে। সাহায্য চাইতে হবে! সবর করার তাওফীক কামনা করতে হবে!

-সংগৃহীত