হৃদয়ের দারিদ্রতা

বক্তাঃ ইয়াসমিন মোজাহেদ ইউটিউব লিংক আজ আমি বলতে যাচ্ছি দারিদ্রতা নিয়ে।সেই সঙ্গে যে দারিদ্রতা নিয়ে আমি বলতে যাচ্ছি সেটা দৃশ্যমান দারিদ্রতা নয়। আপনারা দেখুন, যখনই আপনি একটি ধারণা নিয়ে কথা বলতে শুরু করতে যাবেন তার আগে আমাদের একটা মানদন্ড দরকার। দরকার যথার্থ বর্ণনা।দারিদ্রতা নিয়ে বলতে গেলে আমাদের বুঝতে হবে যে, একটা বাহ্যিক দারিদ্রতা আর একটা […]

ন্যায় ও ইনসাফের অধিকারী হতে যে দোয়া করবেন

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

রহমত বরকত মাগফেরাত ও নাজাতের মাস রমজান। এ মাসে রোজাদারের প্রতিটি ভালো কাজই ইবাদত। এ বরকতের মাসে ন্যায় ও ইনসাফের অধিকারী হওয়া অনেক মর্যাদা ও সম্মানের।

আল্লাহ তাআলা মাগফেরাত তথা ক্ষমাপ্রাপ্ত লোকদেরকেই ন্যায় ও ইনসাফের অধিকারী করেন। ন্যায় ও ইনসাফগার হওয়ার পাশাপাশি অল্পে সন্তুষ্টি ও তৃপ্তি লাভে আল্লাহর কাছে ধরণা দেয়া মুসলিম উম্মাহর একান্ত কর্তব্য।

পবিত্র রমজান মাসে ন্যায় ও ইনসাফকারী হিসেবে নিজেকে তৈরি করতে এ দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ধরণা দিই। অল্পে সন্তুষ্ট থাকার আবেদন করি নিচের উল্লেখিত ভাষায়-

اَللَّهُمَّ زّيِّنِّى فِيْهِ بِالسِّتْرِ وَالْعَفَافِ
وَاسْتُرْنِىْ فِيْهِ بِلِبَاسِ الْقُنُوْعِ وَالْكَفَافِ
وَاحْمِلْنِىْ فِيْهِ عَلَى الْعَدْلِ وَالْاِنْصَافِ
وَ اَمِنِّى فِيْهِ مِنْ كُلِّ مَا اَخَافُ
بِعِصْمَتِكَ يَا عِصْمَةَ الْخَائِفِيْنَ

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা যাইয়্যিননি ফিহি বিস-সিতরি ওয়াল আফাফি; ওয়াসতুরনি ফিহি বি-লিবাসিল কুনুয়ি ওয়াল কাফাফি; ওয়াহ্‌মিলনি ফিহি আলাল আদ্‌লি ওয়াল ইংসাফি; ওয়া আমিননি ফিহি মিন কুল্লি মা আখাফু; বি-ইসমাতিকা ইয়া ইসমাতাল খায়িফিন।’

আরও পড়ুন > রোজায় ইফতার বিতরণ ও আর্থিক অনুদানের তাৎপর্য

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আজকের দিনে আপনি আমাকে আত্মিক পবিত্রতার অলংকারে ভূষিত করুন। অল্পে তুষ্টি ও পরিতৃপ্তির পোশাকে ঢেকে দিন। ন্যায় ও ইনসাফে আমাকে সুসজ্জিত করুন। আপনার পবিত্রতার ওসিলায় আমাকে ভীতিকর সবকিছু থেকে নিরাপদে রাখুন। হে আল্লাহভীরুদের রক্ষাকারী।’

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কম প্রাপ্তিতে সন্তুষ্ট থাকার পাশাপাশি ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠাকারী হিসেবে কবুল করুন। আমিন।

দরূদ পাঠকারীর জন্য প্রিয়নবির দোয়া

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

রমজান মাসের ফজিলতপূর্ণ ইবাদতের মধ্যে প্রিয়নবির প্রতি দরূদ পাঠ করা অন্যতম। হাদিসে পাকে দরূদ পাঠের অনেক ফজিলত ঘোষণা করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা রোজাদারকে নিজ হাতে যেমন প্রতিদান দেবেন।

ঠিক তেমনি প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও তার প্রতি দরূদ পাঠকারীর জন্য বিশেষ কল্যাণ ও নেকির দোয়া করেছে। হাদিসে এসেছে-

হজরত আম্মার ইবনু ইয়াসির রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্রাল্রাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, মহান আল্লাহর এমন একজন ফেরেশতা আছেন; যাকে বান্দার কথা শ্রবণ করার শক্তি দান করেছেন। যে কেউ আমার ওপর দরূদ পাঠ করলে তার নাম আমার কাছে ওই ফেরেশতার মাধ্যমে পৌছানো হয়।

আর আমি আমার প্রতিপালকের কাছে প্রার্থনা করেছি, কোনো বান্দা যখন আমার ওপর দরূদ পাঠ করে; তার বিনিময় যেন তাকে ১০টি নেকি দেয়া হয়।’ (জামেউস সগির)
রমজানের দিনে প্রিয়নবির প্রতি দরূদ পাঠ অনেক ফজিলতপূর্ণ ইবাদত। এ ইবাদত পালনে আল্লাহ তাআলা অন্যান্য সময়ের চেয়ে বহুগুণ বেশি সাওয়াব দান করবেন। প্রিয়নবির সুপারিশও বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রমজান মাসে রোজাদারকে বেশি বেশি দরূদ পাঠের তাওফিক দান করুন। প্রিয়নবির সুপারিশ বেশি বেশি নেকি পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

শিশুদের কি রোজা রাখতে দেয়া উচিত?

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

জার্মানির চিকিৎসকরা অভিভাবকদের অনুরোধ করেছেন যেন তারা তাদের শিশু সন্তানদের রোজা রাখতে না দেন।

দেশটির শিশু চিকিৎসকদের সংগঠন বলছেন, রোজা শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে।

অভিভাবকদের প্রতি আহবান জানিয়ে সংগঠনটি বলছে, ”আপনাদের বাড়তি বয়সের সন্তানরা যাতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করে, সে নিশ্চিত করুন।”

চাঁদ দেখা গেলে বৃহস্পতিবার থেকে রোজা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সারা বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমান রোজা পালন করেন। এ সময় সূর্য ওঠার আগে থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার বন্ধ থাকে।

এ বছর ইউরোপে গ্রীষ্মকাল থাকায় দীর্ঘ দিন থাকবে। ফলে ইউরোপে প্রায় ১৮ ঘণ্টা ধরে রোজা রাখতে হবে।

রোজা কীভাবে শিশুদের ওপর প্রভাব ফেলে?

ইসলাম ধর্মে ১৪ বছর বা সাবালকত্ব হওয়ার পর থেকেই প্রত্যেকের জন্য রোজা রাখার নিয়ম রয়েছে। এর নীচের শিশুদের রোজা রাখা বাধ্যতামূলক নয়। তবে জার্মান শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক পরিবারই শিশুদেরও রোজা রাখতে উৎসাহিত করে।

কিন্তু এ বছর রোজার সময় যেহেতু জার্মানির স্কুলগুলোয় গুরুত্বপূর্ণ সময়, তাই খাবার না খেলে বা পর্যাপ্ত পানির অভাব থাকলে তা পড়াশোনার ফলাফলে খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে।

”রোজার সময় আমরা সবসময়েই দুর্বল আর অমনোযোগী শিশু দেখে আসছি,” একটি বিবৃতিতে বলছেন জার্মান চিকিৎসকরা। এই শিশুদের অনেকেই স্কুলে আসার মাথাব্যথা আর পেটব্যথা ভোগে বলেও তারা জানিয়েছেন।

তবে শুধু চিকিৎসকরাই এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন নন। জার্মান শিক্ষক সমিতি বেশ কয়েকবার সতর্ক করে দিয়েছে যে, রমযানে রোজা রাখার কারণে মুসলিম শিশুগুলো ক্লান্ত হয়ে পড়ে।

তবে শিশুদের রোজা রাখতে না দেয়ার কোন আইনি বাধ্যবাধকতা নেই ইউরোপের দেশগুলোয়।

জার্মানির সংস্কৃতি, যুব আর ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সুসানে আইজেনমান বলেছেন, ”এমনকি তরুণ মুসলিমদেরও রমজানের সময় রোজা রাখার স্বাধীনতা রয়েছে।”

কিন্তু তিনি বলছেন, শিশুদের স্বাস্থ্যের বিষয়টি অভিভাবকদেরই দেখার দায়িত্ব, বিশেষ করে যারা স্কুলের শুরুর দিকে রয়েছে।

”তাদের এটা নিশ্চিত করতে হবে যে, তাদের শিশু সন্তানরা স্বাস্থ্যকর ভাবে রমজান পালন করতে পারে, যাতে স্কুলে তাদের কর্মকাণ্ড আর মনোযোগের ক্ষমতা ব্যাহত না হয়।” তিনি পরামর্শ দিয়েছেন।

অতীতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান শিশুদের রোজা রাখা থেকে বিরত করার চেষ্টা করেছে। ২০১৫ সালে লন্ডনের একটি প্রাথমিক স্কুল রমজানে শিশুদের রোজা রাখা নিষিদ্ধ করেছিল, যাকে বোকার কাজ বলে বর্ণনা করেছিলেন একজন মুসলিম নেতা।

তবে যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা দপ্তর বলেছেন, রোজা রাখা শিশুদের জন্য ক্ষতিকর নয়।

তবে সাত বা আট বছরের নীচের শিশুদের রোজা রাখার প্রসঙ্গে তারা বলেছে, রোজা রাখতে হলে কি করতে হবে, সেটা শিশুদের শেখানো এবং প্রথমদিকে কয়েক ঘণ্টা করে রোজা রাখার অভ্যাস করা ভালো হবে।

সব মুসলিমকে কি রোজা রাখতে হয়?

ইসলামে পাঁচটি ফরজ বা বাধ্যতামূলক কর্মকাণ্ডের মধ্যে রোজা একটি। সব প্রাপ্তবয়স্ক নারীপুরুষের জন্য রোজা রাখা বাধ্যতামূলক, যখন পানাহার, ধূমপান ব যৌনতার মতো সব কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ।

তবে শিশুদের জন্য রোজা বাধ্যতামূলক নয়। এছাড়া যারা অসুস্থ, ভ্রমণে রয়েছেন, বয়স্ক, গর্ভবতী, শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান, ডায়াবেটিক বা রজঃস্বলা হয়েছেন, তাদের জন্য বাধ্যতামূলক নয়।

তারা বছরের অন্য যেকোনো সময় এই ত্রিশ দিনের রোজা রাখতে পারেন অথবা খাবার বা টাকার বিনিময়ে জরিমানা দিতে পারেন।

একসময়ের শিশু রোজাদাররা কী ভাবেন?

শ্রীলঙ্কায় বড় হওয়া রিয়াজ ইজাদ্দেন সাতবছর বয়সে রোজা শুরু করেন। তিনি বলছেন, রোজার সময় পরিবার আর বন্ধুদের তুলনায় বিচ্ছিন্ন থাকতে চাননি।

সাতবছর বয়সের সময় আমরা পুরো মাস রোজা থাকতাম না। হয়তো আমরা সপ্তাহে একদিন রোজা থেকেছি। কিন্তু স্কুল খোলা থাকলে আমাকে রোজা ভেঙ্গে ফেলার অনুমতি দেয়া হতো। প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করে বিবিসি বাংলা।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, রোজার দিনে আলাদা কিছু মনে হয়নি। আমরা বাইরে খেলতে যেতাম, সাইকেল চালাতাম বা অন্য খেলাধুলা করতাম।

অবশ্যই খুব ক্ষুধা লাগতো বা পানির পিপাসা হতো। তখন আমরা অপেক্ষা করতাম কখন সন্ধ্যা হবে। কিন্তু তাই বলে আমরা শারীরিকভাবে কোন সমস্যায় পড়তাম না।

মি. ইজাদ্দেনের এখন সাতবছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। তিনি তাকে রোজা রাখার জন্য বাধ্য করবেন না। তবে সে যদি রোজা রাখতে চায়, তাকে নাও বলবেন না।

রোজা অবস্থায় স্বপ্নদোষ হলে কী করবেন?

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

কিশোর কিংবা বয়:সন্ধি কাল পার করা প্রায় প্রতিটি মানুষ স্বপ্নদোষ শব্দটির সাথে পরিচিত। তবে এ বিষয়ে অনেকের মধ্যেই রয়েছে অস্পষ্টতা। রোজা অবস্থায় মানুষের স্বপ্নদোষ হলে করণীয় কী তা জানতে অনেকেই লজ্জাবোধ করেন। এ অবস্থায় রোজা ভেঙে গেছে মনে করে অনেকেই দিনের বেলায় পানাহার করে থাকে। আসলে এ বিষয়টি জেনে নেয়া লজ্জার কোনো বিষয় নয়। রোজা অবস্থায় স্বপ্নদোষে করণীয় তুলে ধরা হলো-

কেউ কেউ মনে করেন, রোজা অবস্থায় যদি স্বপ্নদোষ হয়, তাহলে রোজা ভেঙে যায়। তাদের এ ধারণা ঠিক নয়। স্বপ্নদোষের কারণে রোজা ভাঙে না। হাদিসের বর্ণনায় এসেছে, তিনটি বস্তু রোজা ভঙ্গের কারণ নয়-

০১. বমি
০২. শিঙ্গা লাগানো ও
০৩. স্বপ্নদোষ। (মুসনাদে বাযযার, মাজমাউয যাওয়ায়েদ তিরমিজি, বাইহাকি)

সুতরাং রোজা অবস্থায় স্বপ্নদোষ হলে রোজা ভেঙে যায় ভেবে পানাহার করা ঠিক নয়। বরং রোজা পালন করে তা পরিপূর্ণ করা।

মসজিদ নিয়ে আল্টিমেটাম দেওয়া নতুন কোনো ঘটনা নয়, বরং ইংরেজ আমলে প্রতিষ্ঠিত দেওবন্দীদের পুরনো বদ খাসলত

মসজিদ নিয়ে আল্টিমেটাম দেওয়া নতুন কোনও ঘটনা নয়

বরং ইংরেজ আমলে প্রতিষ্ঠিত দেওবন্দীদের পুরনো বদ খাসলত

সম্প্রতি এই রমাদান মাসে সিলেটে অবস্থিত দুটো সালাফী মসজিদ উচ্ছেদের জন্য ৭২ ঘণ্টা আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছিল ও কিশোরগঞ্জের একটি হামলা করে ভাঙচুর করা হয়েছে। নিকট অতীতে খুলনার একটি সালাফী মসজিদও ভাঙচুর করা হয়েছিল। দুঃখজনক ব্যাপার হল এগুলো যারা করেছে, তারা কোন ইহুদী-খৃস্টান বা মুশরিক নয়, বরং ঈমানের দাবীদার মুসলিম! অথচ আমরা মুশরিকদের মাধ্যমে বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার বিষয়ে আন্দোলন করি, মাসজিদুল আকসার মধ্যে ইয়াহুদী নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করি!
অনেকেই এই ধরণের ঘটনা শুনে হয়তো চোখ ছানাবড়া করে ফেলেছেন! তারা ভাবছেন এ ধরণের ঘৃণিত কাজ কীভাবে সম্ভব! তবে যারা ইতিহাস সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখেন তারা এই সমস্ত ঘটনা নিয়ে অবশ্যই দুঃখিত, কিন্তু মোটেই বিস্মিত নন। কারণ তারা বেশ ভালভাবেই জানেন যে, ভারতীয় উপমহাদেশে আহলে হাদীসের বিরুদ্ধে মসজিদ নিয়ে হানাফী মুকাল্লিদদের মামলা-হামলা এবং মসজিদ থেকে বলপূর্বক বের করে দেওয়ার ঘটনা সেই ইংরেজ আমল থেকেই অহরহ ব্যাপার। জোরে আমীন বলা, রফঊল ইয়াদাইন করা, সূরা ফাতিহা পড়ার কারণে তারা আহলে হাদীসের বিরুদ্ধে শত শত মামলা করেছে।
নিম্নে আহলে হাদীসদের বিরুদ্ধে এরূপ দশটা মামলা তুলে ধরা হল:
১) মুকদ্দমা অমৃতসর ১৮৭০, ১৮৭৫।
২) উলূ মসজিদ মদনপুর, বানারাস।
৩) কাসগঞ্জ জেলা ইটা, ১৯২৯।
৪) দিল্লী, ১৮৮৩।
৫) পাটনা, ১৮৯৭।
৬) দুমারো, আরাহ, ১৮৯৭।
৭) যোধপুর, মারুওয়ার, ১৯০৩।
৮) মধুপুর, জীপুর, ১৯১১।
৯) রতনপুর, মুরাদাবাদ, ১৯১২।
১০) কাটপাহ, ১৯১২।
মুকাল্লিদ ভাইয়েরা শুধু মামলা করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং মিথ্যা সব অভিযোগের পসরা সাজিয়ে কিতাব লিখেছে, যেন এর মাধ্যমে জনসাধারণকে খেপিয়ে তুলে আহলে হাদীসদেরকে মসজিদ থেকে বের করে দেয়া সহজ হয়। সেসব কিতাবে তারা এতোটাই হীন মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে যা ভাবতেই গাঁ শিউরে উঠে। তারা সেসব কিতাবে আহলে হাদীসদেরকে মসজিদ থেকে বের করে দেওয়ার ফাতওয়া প্রদান করে। তারা এও লিখে যে, আহলে হাদীস কুকুরের চেয়েও নিকৃষ্ট। কুকুর মসজিদে প্রবেশ করলে নাপাক হয় না। কিন্তু আহলে হাদীসেরা মসজিদে প্রবেশ করলে মসজিদ নাপাক হয়ে যায়। মসজিদে ধৌত করলেও নাপাকী দূর হবেনা। বরং মসজিদের কার্পেট বাইরে ফেলে দিতে হবে।

আমরা সেসব ফাতওয়া সম্বলিত কিতাব থেকে লেখকের নামসহ মাত্র দশটি কিতাবের নাম উল্লেখ করলাম:

১) জামিউশ শাওয়াহেদ ফী ইখরাজিল ওয়াহাবিয়্যিন আনিল মাসাজিদ। লেখক, ওয়াসী আহমাদ পিলীভিনী। উক্ত কিতাবের বিরুদ্ধে মাওলানা আবুল কালাম আযাদ রহি. মুখ খুলতে বাধ্য হন। তার বক্তব্য দেখুন ‘আযাদ কী কাহানী আযাদ কী যুবানী’ পৃষ্ঠা ১০৬।
২) ইন্তিযামুল মাসাজিদ বিইখরাজে আহলিল ফিতান ওয়াল মাফাসিদ। লেখক, মৌলবী মুহাম্মাদ লুধিয়ানী।
৩) ইখরাজুল মুনাফিকীন আন মাসাজিদিল মুসলিমীন। লেখক, মৌলবী নবী বখশ হালওয়ায়ী।
৪) সাইফুল জাব্বার। লেখক, ফজলে রাসূল বাদাইউনী।
৫) তাসহীহুল মাসায়েল। লেখক, ফজলে রাসুল বাদাইউনী।
৬) আল-বাওয়ারিকুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিরাজমে শায়াতীনে নাজদীয়্যাহ। লেখক, ফজলে রাসুল বাদাইউনী।
৭) ইহকাকে হাক্ব ও ইবতালে বাতেল। লেখক, ফজলে রাসুল বাদাইউনী।
৮) তুহফায়ে মুহাম্মাদিয়্যাহ ফী রাদ্দে ওয়াহাবিয়্যিহ। লেখক, আব্দুল ফাত্তাহ গুলশানাবাদী।
৯) তুহফায়ে হারামাইন শারিফাইন। মৌলবী সেরাজুল হক।
১০) শামসুল ঈমান। লেখক, ঈমাদুদ্দীন সাম্ভালী।

কেউ কেউ হয়তো আপত্তি করবেন, আহলে হাদীসেরা এসব ফুরূয়ী মাস’আলা বাড়াবাড়ি করেছে বিধায় তাদের বিরুদ্ধে হানফি মুকাল্লিদেরা এরূপ পদক্ষেপ নিয়েছেন। তবে তাদের এই বক্তব্য সঠিক নয়। তাই আসুন জেনে নেই, ফুরূয়ী মাস’আলা নিয়ে কারা প্রথমে বাড়াবাড়ি করেছে? ইতিহাস ঘটলে খুব সহজেই জানা যায় যে, ফুরূয়ী মাস’আলা সর্বপ্রথম হানাফীরা বাড়াবাড়ি করে। এমনকি, এসব মাস’আলার কারণে সালাত বাতিলের হুকুম জারি করে।

নিম্নে কয়েকটি ফুরূয়ী মাস’আলার বাড়াবাড়ির ইতিহাস তুলে ধরা হলঃ
১) রফউল ইয়াদাইন করলে সালাত বাতিল হয়ে যাবে। আমীর কাতিব ইতকানী হানাফী রফউল ইয়াদাইন করলে সালাত বাতিল হয়ে যাবে- মর্মে এক স্বতন্ত্র পুস্তিকা লেখেন। তার প্রতিবাদ করেছেন আল্লামা লাখনাভী রাহিমাহুল্লাহ্। (আল-ফাওয়াইদুল বাহিয়াহ, ৫০)
২) ফাতিহাহ খালফাল ইমাম, ইমামের পিছনে সুরা ফাতিহা পড়লে নামাজ বাতিল হয়ে যাবেঃ ইমামের পিছনে সূরাহ ফাতিহাহ পড়লে সালাত বাতিল হয়ে যাবে, তার মুখে আগুন লাগিয়ে দিতে হবে এবং সে ফাসেক হয়ে যাবে। ( ইমামুল কালাম, ৪০; দুররুল মুখতার, ১/৫৪৪,৫৫৫)
৩, ৪, ৫) তাশাহহুদে আঙ্গুল ইশারা করা, উঁচু আওয়াজে বিসমিল্লাহ বলা ও জোরে আমীল বলা সালাতের হারাম বস্তু- এরুপ মত দিয়েছেন হানাফী আলেম কীদানী। (খোলাসায়ে কীদানী, ১৫, ১৬)

অনেকেই আবার এভাবে অভিযোগ করে থাকেন যে, আপনারা ‘আহলে হাদীস মসজিদ’ নাম দিয়ে কেন বিভক্তি সৃষ্টি করছেন? এক্ষেত্রে আমাদের সংক্ষিপ্ত জবাব হচ্চগে, আসলে আমরা কোনদিন মসজিদ বিভক্ত করতে চাইনি। আমরা এক মসজিদেই মিলেমিশে থাকতে চেয়েছিলাম। শাইখুল কুল ফিল কুল নাযীর হুসাইন দেহলভী আমৃত্যু হানাফী মসজিদে সালাত আদায় করেছেন। এমন অসংখ্য নজির আছে যে, আহলে হাদীসদেরকে যেন হানাফী মসজিদে বাধা প্রদান না করে সলাত আদায় করার সুযোগ করে দেওয়া হয়, সেজন্য তারা কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।

এখানে এরুপ দশটি ঘটনা উল্লেখ করা হলঃ
১) নাসীরাবাদ, আজমীর, ১৮৮৪।
২) মীরাঠ, ১৮৮৬।
৩) আলীগড়, ১৮৯৯।
৪) আরাহ, ১৮৯৩।
৫) বানারস, ১৮৯৬।
৬) কিকড়ী আজমীর, ১৯০৫।
৭) আম্বালা ছাউনি, ১৯১২।
৮) কোটা রাজপুতানা, ১৯১২।
৯) কিশানগড়, ১৯১২। ১০) আগরা, ১৯০৪।
এতো কিছুর পরেও যখন হানাফী মুকাল্লিদেরা ঘারধাক্কা দিয়ে আহলে হাদীসকে মসজিদ থেকে বের করে দেয়, তখন তারা কী করবে? হয় সালাত ঘরে বসে আদায় করবে বা সালাত পরিত্যাগ করবে অথবা কুরআন ও সহীহ হাদীস অনুযায়ী বিশুদ্ধভাবে সলাত আদায় করার উদ্যেশ্যে আলাদা মসজিদ নির্মাণ করবে? এক্ষেত্রে প্রথম দুটি অভিমত শরিয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সুতরাং তারা নিরুপায় হয়ে তৃতীয় পন্থা অবলম্বন মসজিদ নির্মাণ করে আহলে হাদীস মসজিদ নাম দেয়। যাতে যে কোনো মুসলিম সেই মসজিদে প্রবেশ করে নির্ভয়ে সলাতটা আদায় করতে পারে। আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে যখনই নিরুপায় হয়ে এরুপ মসজিদ নির্মাণ করা হয়, তখন আহলে হাদীসদের উপর উম্মতের মধ্যে বিভক্তি ও ফিতনা ছড়ানোর অভিযোগ আরোপ করা হয়, যা নিতান্তই হাস্যকর ও কাণ্ডজ্ঞানহীন ব্যাপার! মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে হিদায়াত দান করুন।
লেখক- Abdullah Mahmud

শিশু ওযু ছাড়াই কোরআন ধরতে পারবে কি?

জিজ্ঞাসা–৩৬০: হুজুর, আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রশ্ন ছিলো যে, ছোট ৪ বছরের বাচ্চার হাতে বাচ্চার ওযু ব্যাতীত কোরআন শরীফ দেওয়া জায়েজ আছে নাকি?–মোঃ আশিকুল ইসলাম।

জবাব: শিশু বালেগ হওয়ার আগ পর্যন্ত তার ওপর শরীয়তের কোনো বিধান চাপানো যায় না। কেননা, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

رفع القلم عن ثلاثة: عن الصغير حتى يبلغ، وعن النائم حتى يستيقظ، وعن المجنون حتى يفيق

তিন ব্যক্তির উপর থেকে (দায়িত্বের) কলম উঠিয়ে নেয়া হয়েছে, (১) ঘুমন্ত ব্যক্তি জাগ্রত হওয়া পর্যন্ত (২) শিশু বালেগ হওয়া পর্যন্ত এবং (৩) পাগল বিবেকবুদ্ধি ফিরে পাওয়া পর্যন্ত। (আবু দাউদ ৪৪০৩ তিরমিযী ১৪২৩ নাসাঈ ৩৪৩২ ইবনে মাজাহ ২০৪১)

সুতরাং নাবালেগ শিশু ওযু ছাড়াই কোরআন ধরলে তার কোন গুনাহ হবে না। তবে বড়দের উচিত, শিশুকে এই শিক্ষা দেয়া যে, কোরআন ওযু ছাড়া ধরা যায় না।

والله اعلم بالصواب

উত্তর দিয়েছেন
মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী নকশবন্দী

The post শিশু ওযু ছাড়াই কোরআন ধরতে পারবে কি? appeared first on কোরআনের জ্যোতি.

বুখারী শরীফে বিশ রাকাত তারাবীর হাদীস নেই তাই মানবো না?

প্রশ্ন

হযরত
আসসালামু আলাইকুম

তারাবি ২০ না ৮ এ নিয়ে তর্ক বিতর্কে, একজন জানতে চেয়েছে ২০ রাকাত অন্যান্য হাদিসে আছে বেশ তবে বুখারি শরীফ থেকে সে দেখতে চায়।

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

তাকে প্রশ্ন করুন যে, বুখারীতে না থাকলে কী তিনি সেই মাসআলা মানবেন না?

বুখারীতে মাত্র নয় হাজার বিরাশিটি বর্ণনা এসেছে। এর মানে কি নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূর্ণ তেইশ বছরের নবুওয়াতের জীবনে বলা ও করা শরয়ী বিধানাবলী বুখারীতেই সীমাবদ্ধ?

এমন ধারণা করাতো হাদীস অস্বিকারেরই নামান্তর।

যদি বুখারীতেই সব হাদীস থাকে, তাহলে অন্যান্য হাদীসের কিতাব লেখারই বা কী দরকার ছিল?

বুখারী থাকার পরও ইমাম বুখারীর ছাত্র ইমাম মুসলিম আবার সহীহ মুসলিম লিখতে গেলেন কেন?

অন্যান্য হাদীসের কিতাব কেন লেখা হল?

হাদীসের বিশাল ভান্ডার সম্পর্কে অজ্ঞ উক্ত ভাইকে প্রশ্ন করুন যে, যদি বুখারীতেই সব মাসআলার সমাধান থেকে থাকে, তাহলে নামায সংক্রান্ত মাত্র দশটি মাসআলার সমাধান একটু বুখারী থেকে দেখাতে বলুনঃ

বুখারী থেকে দুই রাকাত নামাযের পূর্ণাঙ্গ তরীকা দেখান।

নামাযের সব ক’টি সুন্নাত বুখারী থেকে দেখান।

নামাযের সব ক’টি ওয়াজিব বুখারী থেকে দেখান।

নামাযের সব ক’টি মুস্তাহাব বুখারী থেকে দেখান।

তাশাহুদের শব্দাবলী কী? তাশাহুদের শব্দাবলী বুখারী থেকে দেখান।

ঈদের নামাযের পূর্ণাঙ্গ তরীকা বুখারী থেকে দেখান।

জানাযা নামাযের পূর্ণাঙ্গ তরীকা বুখারী থেকে দেখান।

কী শব্দে আজান দিবে? শব্দাবলী বুখারী থেকে দেখান।

কী শব্দে ইকামত দিবে? শব্দাবলী বুখারী থেকে দেখান।

১০

ঈদের তাকবীর কয়টি হবে?বুখারী থেকে দেখান।

নামায সংক্রান্ত মাত্র দশটি প্রশ্ন করলাম। ঐ ভাইকে বলুন বুখারীতেই সব থাকলে উপরোক্ত দশটি মাসআলার সমাধান বুখারী থেকে দেখান। অন্য কোন কিতাব থেকে দেখানো যাবে না।

আসলে এমন সব উক্তি ও মন্তব্য হাদীস অস্বিকারকারীদের একই নতুন চালাকী।

বুখারী মুসলিম ছাড়াও সহীহ হাদীসের উপর অনেক হাদীস গ্রন্থ রচিত হয়েছে। বুখারী ও মুসলিমের মূলনীতি অনুপাতে যেসব হাদীস সহীহ। এমন হাদীস যা ইমাম বুখারী ও মুসলিম আনেননি। কিন্তু তা বুখারী ও মুসলিমে আনা হাদীসের মতই সহীহ। এমন হাদীস একত্র করে “মুস্তাদরাক আলাস সহীহাইন” নামে আলাদা কিতাবও রচিত হয়েছে। যা এক সুবিশাল কিতাব। যে কিতাবে আট হাজার আটশত তিনটি হাদীস রয়েছে। যার কোনটিই বুখারী মুসলিমে বর্ণিত হয়নি।

এসব হাদীসকে সহীহ হওয়া থেকে বের করে দেয়া পাগলের প্রলাপ ছাড়া আর কী’ হতে পারে?

ইমাম বুখারী রহঃ নিজেই বলেছেনঃ

فَقَدْ رُوِّينَا عَنِ الْبُخَارِيِّ أَنَّهُ قَالَ: ” مَا أَدْخَلْتُ فِي كِتَابِي (الْجَامِعِ) إِلَّا مَا صَحَّ، وَتَرَكْتُ مِنَ الصِّحَاحِ لِحَالِ الطُّولِ

ইমাম বুখারী রহঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আমি আমার কিতাবে [সহীহ বুখারীতে] সহীহ হাদীস ছাড়া অন্য হাদীস আনিনি। কিন্তু আমি অনেক সহীহ হাদীস আমার কিতাবের কলেবর বড় হবার শংকায় বাদ দিয়েছি। [মুকাদ্দিমায়ে ইবনুস সালাহ-১/১৯]

ইমাম মুসলিম বলেছেনঃ

وَرُوِّينَا عَنْ مُسْلِمٍ أَنَّهُ قَالَ: ” لَيْسَ كُلُّ شَيْءٍ عِنْدِي صَحِيحٌ وَضَعْتُهُ هَاهُنَا – يَعْنِي فِي كِتَابِهِ الصَّحِيحِ –

ইমাম মুসলিম থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেছেনঃ আমার কাছে “সহীহ” হিসেবে গণ্য সব হাদীসই আমার কিতাবে আনিনি। [মুকাদ্দিমায়ে ইবনুস সালাহ-১/২০]

এ বিষয়ে ইবনুস সালাহ রহঃ এর বক্তব্যটি প্রণিধানযোগ্যঃ

وَقَدْ قَالَ الْبُخَارِيُّ: ” أَحْفَظُ مِائَةَ أَلْفِ حَدِيثٍ صَحِيحٍ، وَمِائَتَيْ أَلْفِ حَدِيثٍ غَيْرِ صَحِيحٍ “، وَجُمْلَةُ مَا فِي كِتَابِهِ الصَّحِيحِ سَبْعَةُ آلَافٍ وَمِائَتَانِ وَخَمْسَةٌ وَسَبْعُونَ حَدِيثًا بِالْأَحَادِيثِ الْمُتَكَرِّرَةِ. وَقَدْ قِيلَ: إِنَّهَا بِإِسْقَاطِ الْمُكَرَّرَةِ أَرْبَعَةُ آلَافِ حَدِيثٍ،

ইমাম বুখারী বলেছেনঃ আমার এক লাখ সহীহ হাদীস মুখস্ত। আর দুই লাখ গায়রে সহীহ হাদীস মুখস্ত।

অথচ সহীহ বুখারীতে তাকরার [এক বর্ণনা একাধিকবার উল্লেখকরণ]সহ মোট হাদীস সংখ্যা হল,সাত হাজার, দুইশত পঁচাত্তরটা। আর কেউ বলেছেনঃ তাকরার ছাড়া হাদীস সংখ্যা হল চার হাজার। [মুকাদ্দিমায়ে ইবনুস সালাহ-১/২০]

আর তালীক ও তাকরারসহ হাদীস সংখ্যা হল নয় হাজার বিরাশিটি।

এখন প্রশ্ন হল, ইমাম বুখারী রহঃ বলেছেন, তার সহীহ হাদীসই মুখস্ত ছিল এক লাখ। বুখারীতে উল্লেখ আছে মাত্র নয় হাজার। তাও তাকরারসহ। বাকি একান্নবই হাজার সহীহ হাদীস গেল কোথায়?

সুতরাং বুঝা গেল, যারা শুধু বুখারীর হাদীস হলেই মানার দাবী করেন, তারা মূলত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসের সুবিশাল ভান্ডার অস্বিকারকারী। আল্লাহ তাআলা উক্ত ভাইকে হাদীস অস্বিকারের ভয়ানক মানসিকতা থেকে তওবা করার তৌফিক দান করুন।

তারাবীহ নামায বিশ রাকাত সংক্রান্ত দালিলীক লেখা ও ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা-জামিয়া ফারুকিয়া দক্ষিণ বনশ্রী ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

বদলী হজ করলে আগে নিজের হজ করতে হয় কিনা?

জিজ্ঞাসা–৩৫৯: মৃত মা-বাবা, আত্মীয়স্বজন বা যে কোন মুসলিমের পক্ষ থেকে হজ্জ বা উমরা আদায় করা জায়েজ রয়েছে। তবে শর্ত হল, যে ব্যক্তি বদলি আদায় করবে তাকে ইতোপূর্বে নিজের হজ্জ বা ওমরা আদায় করতে হবে। মৃত্যু ব্যক্তির পক্ষ থেকে উমরা আদায়ের জন্য একমাত্র নিয়ত ছাড়া আর কোন পার্থক্য নেই। এর দলীলভিত্তিক সমাধান দিতে অনুরোধ করছি। Saeed khan: saydurrahman1994@gmail.com

এক. বদলী হজ এমন লোককে দিয়ে করানো উচিত, যিনি নিজের ফরয হজ আদায় করেছেন। যে ব্যক্তি নিজের হজ আদায় করেনি সে যদি এমন হয় যে, তার উপর হজ ফরয নয় তাহলে তাকে দিয়েও বদলী করানো জায়েয আছে। তবে তা মাকরূহ তানযীহি। আর যদি তার উপর হজ ফরয হয়ে থাকে, কিন্তু সে এখনও তা আদায় করেনি তাহলে তার জন্য বদলী হজ করা মাকরূহ তাহরীমী তথা নাজায়েয। তবে কেউ এমন ব্যক্তির দ্বারা বদলী হজ করালে প্রেরণকারীর হজ আদায় হয়ে যাবে। পুনরায় তাকে বদলী করাতে হবে না। এর দলিল হচ্ছে,

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ এক ব্যক্তিকে হজের ইহরাম করার সময়-لَبَّيْكَ عَنْ شُبْرُمَةَ (শুবরুমার পক্ষ থেকে লাববাইক) এভাবে বলতে শুনে বললেন, ‘শুবরুমা কে?’ লোকটি বলল, ‘আমার ভাই (বর্ণনাকারী বলেন) অথবা বলল, আমার নিকটাত্মীয় এক লোক।’ রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, ‘তুমি কি নিজের হজ করেছ?’ সে বলল, ‘না।’ নবী করীমﷺ বললেন, ‘আগে তোমার নিজের হজ কর তারপর শুবরুমার পক্ষ থেকে কর। (সুনানে আবু দাউদ ১/২৫২)

হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত আছে-كان لا يرى بأسا أن يحج الصرورة عن الرجل যে ব্যক্তি নিজের হজ্ব করেনি যে অন্যের পক্ষ থেকে বদলী হজ্ব করাকে তিনি দোষের বিষয় মনে করতেন না।

বিশিষ্ট তাবেয়ী হযরত মুজাহিদ, হাসান বসরী ও সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যিব রহ.ও এমনই মনে করতেন। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৮/১৮৯ মাবসূত, সারাখসী ৪/১৫১; আলবাহরুল আমীক ৪/২২৬৩; ফাতহুল কাদীর ৩/৭৯; রদ্দুল মুহতার ২/৬০৩)

দুই. উমরাহর বদলী করাও জায়েয আছে। এর দলিল হচ্ছে,

হযরত আবু রাযীন আলউকায়লী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার বাবা অতিশয় বৃদ্ধ মানুষ। তিনি হজ্ব ও উমরাহ করতে সক্ষম নয়। (আমি কী করতে পারি?)’ রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, ‘তোমার বাবার পক্ষ থেকে তুমি হজ্ব ও উমরাহ আদায় কর।’ (জামে তিরমিযী ১/১১২)

তিন. বদলী হজ বা উমরাহর ইহরাম বাঁধার সময় প্রেরণকারীর পক্ষ থেকে নিয়ত করতে হবে। এর জন্য উত্তম হল, মুখে এভাবে বলা যে, আমি অমুকের পক্ষ থেকে হজ বা উমরাহর ইহরাম করছি বা নিয়ত করছি, এমনকি তালবিয়া বলার সময়ও তার নাম যুক্ত করে দেওয়া যেতে পারে। যেমন এভাবে বলবে, লাববাইক আন ফুলান (ব্যক্তির নাম)।

যদি তার নাম জানা না থাকে বা স্মরণ না থাকে তাহলে এভাবে বলবে যে, যিনি আমাকে বদলী হজ বা উমরাহর জন্য প্রেরণ করছেন বা যার পক্ষ থেকে বদলী হজ বা উমরাহ করছি তার পক্ষ থেকে হজ বা উমরাহর নিয়ত করলাম। ইহরামের সময় একবার এই নিয়ত করা যথেষ্ট। হজ বা উমরাহর প্রতিটি কাজে ভিন্ন ভিন্নভাবে প্রেরণকারীর পক্ষ থেকে নিয়ত করতে হবে না। এর দলিল হচ্ছে,

বিখ্যাত তাবেয়ী হযরত হাসান বসরী রহ. বলেন, কারো পক্ষ থেকে বদলী হজ করলে তালবিয়া পড়ার সময় তার নাম নিয়ে একবার এভাবে বলাই যথেষ্ট যে,لَبَّيْكَ عَنْ فُلَانٍ (অমুকের পক্ষ থেকে লাববাইক।)

অনুরূপ বক্তব্য হযরত আতা রহ. থেকেও বর্ণিত আছে। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৮/২৩৪)

যদি মুখে প্রেরণকারীর নাম উল্লেখ করতে ভুলে যায়, কিন্তু মনে মনে তার পক্ষ থেকে নিয়ত করেছে, তাহলেও কোনো অসুবিধা নেই। কেননা, অন্তরের নিয়তই যথেষ্ট।

হযরত হাসান বসরী ও আতা রহ. বলেছেন-

إِذَا حَجَّ الرَّجُلُ عَنِ الرَّجُلِ فَنَسِيَ أَنْ يُسَمِّيَهُ فَقَدْ أَجْزَأَ عَنْهُ الْحَجُّ، فَإِنَّ اللهَ قَدْ عَلِمَ عَمَّنْ حَجَّ.

যদি কেউ কারো পক্ষ থেকে (বদলী) হজ করে আর সে (ইহরামের সময়) প্রেরকের নাম উচ্চারণ করতে ভুলে যায় তাহলেও তার হজ আদায় হবে যাবে। কারণ আল্লাহ তাআলা জানেন, সে কার পক্ষ থেকে হজ করেছে। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৮-/২৩৫)

যেভাবে নিজের হজ বা উমরাহ আদায় করা হয় সেভাবেই বদলী হজ বা উমরাহ আদায় করা হবে। পার্থক্য শুধু এইটুকু যে, নিয়ত ও তালবিয়ার সময় প্রেরণকারীর পক্ষ থেকে নিয়ত করা হয়। এরপর সকল কাজ এক ও অভিন্ন।

والله اعلم بالصواب

উত্তর দিয়েছেন
মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী নকশবন্দী

The post বদলী হজ করলে আগে নিজের হজ করতে হয় কিনা? appeared first on কোরআনের জ্যোতি.

সহিহ হাদিসে বর্ণিত সূরা ইখলাসের ফজিলত

জিজ্ঞাসা–৩৫৮: আসসালামু আ’লাইকুম, আমার এক বড় ভাই আমাকে প্রতিদিন ওযু সহকারে দুইশত বার সূরা ইখলাস পড়তে বলেন। তিনি বলেন, এটা করলে মহান আল্লাহ এক হাজার রাস্তা হতে আমলকারীর রিজিকের ব্যবস্থা করবেন। ওনার কথা অনুযায়ী আমল করা কী ঠিক হবে?– মোঃ আশিকুর রহমান।

জবাব: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

সূরা ইখলাসের ফজিলত সম্পর্কে বহু হাদিস রয়েছে। সুতরাং আপনি ২০০ বার কিংবা এর চেয়ে কম-বেশি তেলাওয়াত করতে পারেন। তবে ২০০ বারের জন্য যে ফজিলতের কথা আপনার বড় ভাই উল্লেখ করেছেন; তা নির্ভরযোগ্যসূত্রে প্রমাণিত নয়। নির্ভরযোগ্যসূত্রে প্রমাণিত সূরা ইখলাসের ফজিলতসমূহ নিম্নে পেশ করা হল–

১। কাতাদা ইবনু নুমান রাযি.বলেছেন, রাসূল ﷺ এর সময় এক ব্যক্তি শেষ রাতে সালাতে শুধুমাত্র “কুল হুআল্লাহু আহাদ” ছাড়া আর কোনো সূরাই তিলাওয়াত করেন নি। পরদিন সকালে কোন এক ব্যক্তি রাসূল ﷺ-এর কাছে আসলেন। তখন রাসূল ﷺ বললেন, وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّهَا لَتَعْدِلُ ثُلُثَ الْقُرْآنِ সে সত্তার কসম, যার হাতে আমার জীবন। এ সূরা হচ্ছে সমগ্র কোরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান। (বুখারি ৪৬৪৫)

২। আবূ সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল ﷺ তাঁর সাহাবীদেরকে বলেছেন, أَيَعْجِزُ أَحَدُكُمْ أَنْ يَقْرَأَ ثُلُثَ الْقُرْآنِ فِي لَيْلَةٍ তোমাদের কেউ কি এক রাতে কোরআনের এ-তৃতীয়াংশ তিলাওয়াত করতে অসাধ্য মনে কর? এ প্রশ্ন তাদের জন্য কঠিন ছিল। এরপর তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে কার সাধ্য আছে যে, এমনটি পারবে? তখন তিনি বললেন, اللَّهُ الْوَاحِدُ الصَّمَدُ ثُلُثُ الْقُرْآنِ “কুল হুআল্লাহু আহাদ” অর্থাৎ সূরা ইখ্‌লাস কোরআন শরীফের এক-তৃতীয়াংশ। (বুখারি ৪৬৪৬)

৩। আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ এক সাহাবিকে একটি মুজাহিদ দলের আমীর করে জিহাদে পাঠালেন। তিনি যখন নামাজে ইমামতি করতেন, তখনই (প্রত্যেক রাকআতে সূরা পড়ার পর) ‘কুল হুআল্লাহু আহাদ’ (সূরা ইখলাস) দিয়ে (কিরাআত) শেষ করতেন। মুজাহিদগণ সেই অভিযান থেকে প্রত্যাবর্তন করে নবি ﷺ এর খিদমতে বিষয়টি আলোচনা করলেন। তিনি বললেন, سَلُوهُ لأَيِّ شَيْءٍ يَصْنَعُ ذٰلِكَ؟ ‘তাকে জিজ্ঞাসা কর, কেন সে এ কাজটি করেছে?’ সুতরাং তারা তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উত্তরে বললেন, لأَنَّهَا صِفَةُ الرَّحْمٰنِ فَأَنَا أُحِبُّ أنْ أقْرَأ بِهَا ‘এই সূরাটিতে পরম করুণাময় (আল্লাহ)র গুণাবলী রয়েছে। এই জন্য সূরাটি তেলাওয়াত করতে আমি ভালবাসি।’ তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, أخْبِرُوهُ أنَّ اللهَ تَعَالَى يُحِبُّهُ ‘তাকে জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাআলাও তাকে ভালবাসেন।’ (বুখারি ৭৩৭৫, মুসলিম ৮১৩, নাসায়ি ৯৯৩)

৪। আবু হুরাইরা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ এক ব্যক্তিকে সূরা ইখলাস পড়তে দেখে বলেন, وَجَبَتْ ‘অবধারিত হয়ে গিয়েছে’। সাহাবায়ে কেরাম বললেন, ‘কী অবধারিত হয়ে গিয়েছে?’ রাসূলুল্লাহ ﷺ উত্তর দিলেন, وَجَبَتْ له الجنة‘তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে গিয়েছে’। (মুসনাদ আহমদ ৭৬৬৯)

৫। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

من قرأ { قل هو الله أحد } عشر مرات بنى الله له بيتا في الجنة

‘যে ব্যক্তি সুরা ইখলাস দশ বার পড়বে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি প্রাসাদ তৈরী করবেন।’ (সহিহ জামে সগীর ৬৪৭২)

৬। আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত,

أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ إِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ كُلَّ لَيْلَةٍ جَمَعَ كَفَّيْهِ ثُمَّ نَفَثَ فِيهِمَا فَقَرَأَ فِيهِمَا قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ وَ قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ وَ قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ ثُمَّ يَمْسَحُ بِهِمَا مَا اسْتَطَاعَ مِنْ جَسَدِهِ يَبْدَأُ بِهِمَا عَلَى رَأْسِهِ وَوَجْهِهِ وَمَا أَقْبَلَ مِنْ جَسَدِهِ يَفْعَلُ ذَلِكَ ثَلاثَ مَرَّاتٍ

নবী ﷺ প্রত্যেক রাতে যখন ঘুমাবার জন্য শয্যা গ্রহণ করতেন তখন দু’ হাতের চেটো একত্রে জমা করতেন এবং তাতে তিন ক্বুল পড়ে ফুঁ দিতেন। তারপর তার দ্বারা দেহের ওপর যতদূর সম্ভব বোলাতেন; মাথা, চেহারা ও দেহের সামনের অংশ থেকে শুরু করতেন। এরূপ তিনি তিনবার করতেন। (বুখারি ৪৪৩৯)

৭। উবাই ইবনু কাব রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يُوتِرُ بِـ ‏{سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى}‏ وَ ‏{قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ}‏ وَ ‏{قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ‏}

রাসূলুল্লাহ ﷺ বিতরের নামাযে সূরাহ আলা, সূরাহ কাফিরূন ও সূরাহ ইখলাস পড়তেন। (ইবন মাজাহ ১১৭১)

والله اعلم بالصواب

উত্তর দিয়েছেন
মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী নকশবন্দী

The post সহিহ হাদিসে বর্ণিত সূরা ইখলাসের ফজিলত appeared first on কোরআনের জ্যোতি.