হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম কী হজ্ব করেছেন?

প্রশ্ন

হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম কী হজ্জ করেছেন? প্রমাণসহ জানালে উপকৃত হবো।

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

ইবরাহীম আলাইহিস সালাম বাইতুল্লাহ নির্মাণের পর থেকেই হজ্ব এর বিধান শুরু হয়। নির্মাণের পর তিনি হজ্ব করেছেন মর্মে কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। আর উম্মতে মুহাম্মদীর উপর আলাদাভাবে আবার তা ফরজ করা হয় কুরআনের নির্দেশের মাধ্যমে।

وَإِذْ بَوَّأْنَا لِإِبْرَاهِيمَ مَكَانَ الْبَيْتِ أَن لَّا تُشْرِكْ بِي شَيْئًا وَطَهِّرْ بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْقَائِمِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ [٢٢:٢٦]

وَأَذِّن فِي النَّاسِ بِالْحَجِّ يَأْتُوكَ رِجَالًا وَعَلَىٰ كُلِّ ضَامِرٍ يَأْتِينَ مِن كُلِّ فَجٍّ عَمِيقٍ [٢٢:٢٧]

যখন আমি ইব্রাহীমকে বায়তুল্লাহর স্থান ঠিক করে দিয়েছিলাম যে, আমার সাথে কাউকে শরীক করো না এবং আমার গৃহকে পবিত্র রাখ তাওয়াফকারীদের জন্যে, নামাযে দন্ডায়মানদের জন্যে এবং রকু সেজদাকারীদের জন্যে।

এবং মানুষের মধ্যে হজ্বের জন্যে ঘোষণা প্রচার কর। তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং সর্বপ্রকার কৃশকায় উটের পিঠে সওয়ার হয়ে দূর-দূরান্ত থেকে। [সূরা হজ্ব-২৬-২৭]

وَقَوْلُهُ: {يَأْتُوكَ رِجَالا وَعَلَى كُلِّ ضَامِرٍ يَأْتِينَ مِنْ كُلِّ فَجٍّ عَمِيقٍ} قَدْ يَستدلّ بِهَذِهِ الْآيَةِ مَنْ ذَهَبَ مِنَ الْعُلَمَاءِ إِلَى أَنَّ الْحَجَّ مَاشِيًا، لِمَنْ قَدَرَ عَلَيْهِ، أفضلُ مِنَ الْحَجِّ رَاكِبًا؛ لِأَنَّهُ قَدَّمَهُمْ فِي الذِّكْرِ، فَدَلَّ عَلَى الِاهْتِمَامِ بِهِمْ وَقُوَّةِ هِمَمِهِمْ وَشِدَّةِ عَزْمِهِمْ، وَالَّذِي عَلَيْهِ الْأَكْثَرُونَ أَنَّ الْحَجَّ رَاكِبًا أَفْضَلُ؛ اقْتِدَاءً بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَإِنَّهُ حَجَّ رَاكِبًا مَعَ كَمَالِ قُوَّتِهِ، عَلَيْهِ السَّلَامُ (تفسير ابن كثير، سورة الحج-3/267، رقم الآيات-27

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা-জামিয়া ফারুকিয়া দক্ষিণ বনশ্রী ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

একই বালতির পানিতে নাপাকি লাগা কাপড় ও অন্যান্য কাপড় ধোয়া যাবে কি?

জিজ্ঞাসা–৪০১: একই বালতির পানিতে নাপাকি লাগা কাপড় ও অন্যান্য কাপড় ধোয়া যাবে কিনা? মহান আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।– মোঃ আশিকুর রহমান।

জবাব: একই বালতির পানিতে নাপাকি লাগা কাপড় ও অন্যান্য কাপড় ধোয়া যাবে তবে বালতি বা এ ধরনের ছোট পাত্রে ধোয়া হলে তিনবার ধুতে হবে এবং প্রতিবার ধোয়ার পর উত্তমরূপে নিংড়িয়ে নিতে হবে। (রদ্দুল মুহতার ১/৩৩৩; আলবাহরুর রায়েক ১/২৩৭; শরহুল মুনইয়া ১৮৩)

আল্লাহ আপনাকেও উত্তম প্রতিদান দান করুন।

উত্তর দিয়েছেন
মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী নকশবন্দী

The post একই বালতির পানিতে নাপাকি লাগা কাপড় ও অন্যান্য কাপড় ধোয়া যাবে কি? appeared first on কোরআনের জ্যোতি.

মাসবুক ইমামের সাথে শুধু সাহু সিজদা করবে কিনা?

জিজ্ঞাসা–৪০২: আসসালামু আলাইকুম। একদিন জামাতে নামায একটু লেট হয়ে গিয়েছিল। ৪র্থ রাকাতে ইমাম সাহেব সালাম ফিরালো। তো স্বাভাবিক আমি সালাম ফিরাইনি কেননা আমি সম্পূর্ন জামাত পাই নি। কিন্তু পরে দেখলাম ইমাম সাহেব সিজদাতে চলে গেলো মানে সেটা সিজদাহে সাহু ছিল! যদিও আমি ১ম সালাম ফিরাইনি তাও আমি সিজদাহে সাহু দিলাম। তারপর যথারীতি ইমাম সাহেবের পুনরায় সালাম ফিরানোর পর বাকি নামায শেষ করলাম। এটা কি ঠিক ছিল! ভবিষ্যতে কখনো এরকম হলে কি আমারও আবার সিজদাহে সাহু দিতে হবে নাকি দেয়া লাগবে না? –ফয়সাল আহমেদ অনিক

জবাব: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রিয় প্রশ্নকারী ভাই, আপনি যা করেছেন, ঠিক করেছেন। কেননা, আপনি মাসবুক হয়েছেন। আর ইমাম যদি সাহু সিজদা করে তাহলে মাসবুকব্যক্তিও ইমামের সাথে শুধু সাহু সিজদা করবে, তবে সাহু সিজদার জন্য যে সালাম দেয়া হয় সে সালাম ফিরাবে না।

মাজমাউল আনহুর ( ১/১৪৯) নামক কিতাবে আছে,
والمسبوق يسجد مع إمامه تبعا له ولا يسلم মাসবুক ব্যক্তি ইমামের সাথে সাহু সিজদা করবে। কেননা, সে ইমামের অনুসারী। এবং সে ইমামের সাথে সালাম ফিরাবে না।

হানাফী মাযহাবের প্রসিদ্ধ ফাতওয়ার কিতাব ফাতওয়ায়ে শামীতে (২/৫৪৬) আছে,
والمسبوق يسجد مع امامه) قيد باسجود لانه لا يتابعه فى السلام بل يسجد معه ويتشهد فاذا سلم الامام قام الى القضاء
অর্থাৎ, মাসবুক ব্যক্তি ইমামের সাথে সাহু সিজদা করবে। সিজদার সাথে এ জন্য মুকাইয়াদ করছে যে, মুক্তাদী ইমামের সাথে সালাম ফিরাবে না। বরং তার সাথে শুধু সিজদা করবে। এবং তাসাহহুদ পড়বে। যখন ইমাম সাহেব সালাম দিবে তখন তার বাকি নামায পড়তে দাঁড়িয়ে যাবে।

উত্তর দিয়েছেন
মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী নকশবন্দী

The post মাসবুক ইমামের সাথে শুধু সাহু সিজদা করবে কিনা? appeared first on কোরআনের জ্যোতি.

ক্যালেন্ডারে দেয়া সময়ের পরেও সাহরি খেলে রোজা হবে কি?

জিজ্ঞাসা–৪০০: সেহরির সময় ছিল ৩:৩৮। সেহেরি করেছি ৩:৩৯-৩:৪০ পর্যন্ত। রোজার কি কোন সমস্যা হবে? উল্লেখ্য ওই দিন ফজরের ওয়াক্ত শুরু হয়েছিল ৩:৪৩ মিনিটে। অনুগ্রহ করে জানাবেন।– Iqbal

জবাব: আমাদের জানা মতে প্রতিটি সাহরী ও ইফতারের সময়সূচির ক্যালেন্ডারেই সতর্কতামূলক দু,/এক মিনিট আগ পিছ করে সময় লেখা থাকে। যেমন, সুবহে সাদিকের প্রকৃত সময় যদি হয় ৩ টা ৪০ মিনিটে, তাহলে ক্যালেন্ডারে সতর্কতামূলক লেখা থাকে ৩ টা ৪২ মিনিট। সে হিসাবে আপনার রোযা হয়ে যাবে।

উল্লেখ্য, সুবহে সাদিকের কাছাকাছি সময় সাহরী খাওয়া মুস্তাহাব। তবে এত দেরি করা মাকরূহ যে, সুবহে সাদিক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা হয়।

আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন-

إنما معاشر الأنبياء أمرنا أن تعجل فطرنا وأن تؤخر سحورنا، قال الهيثمي رجاله رجال الصحيح.

সকল নবীকে সময় হওয়ার পরপরই ইফতার তাড়াতাড়ি করতে এবং সাহরী শেষ সময়ে খেতে আদেশ করা হয়েছে। (আলমুজামুল আওসাত ২/৫২৬; মাজমাউয যাওয়াইদ ৩/৩৬৮)

আমর ইবনে মায়মুন আলআওদী বলেন, সাহাবায়ে কেরাম দ্রুত ইফতার করতেন আর বিলম্বে সাহরী খেতেন। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৭৫৯১; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৯০২৫)

রোযা ভঙ্গের কারণসমূহ বিস্তারিত জানার জন্য পড়ুন–জিজ্ঞাসা নং–৩৫৪

উত্তর দিয়েছেন
মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী নকশবন্দী

আরো পড়ুন–রোজা ও যাকাত সম্পর্কে জরুরি কিছু ফাইল
The post ক্যালেন্ডারে দেয়া সময়ের পরেও সাহরি খেলে রোজা হবে কি? appeared first on কোরআনের জ্যোতি.

দাঁড়ি সোজা করে রাখা যাবে কি?

জিজ্ঞাসা–৩৯৯: আসসালামু আলাইকুম। হুজুর, দাঁড়ি সোজা করা কি শরিয়তে নিষেধ আছে?–Md. Hameem farooq

জবাব: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের সকল মুজতাহিদ-ইমাম বলেন, দাঁড়ি লম্বা রাখা ওয়াজিব এবং তা কমপক্ষে এক মুষ্ঠি পরিমাণ হতে হবে। এক মুষ্ঠি পরিমাণ হলে আপনি সোজা রাখেেন, বাঁকা রাখেন; কোনোটাই শরিয়তে নিষেধ নেই। তবে খেয়াল রাখতে হবে, তা যেন ফ্যাশনের উদ্দেশ্যে না হয়; বরং কেবলমাত্র সৌন্দর্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে হয়।

বিস্তারিত জানার জন্য জিজ্ঞাসা নং-১৪২ পড়তে পারেন।

উত্তর দিয়েছেন
মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী নকশবন্দী

আরো পড়ুন–
☞ দাঁড়ির বিধান ও পরিমাপ কি?
☞ মহিলাদের চুলের বিভিন্ন কাটিং এর বিধান
☞ চুল রাখার সুন্নত তরিকা কী?
☞ মহিলাদের চুল সোনালী রং করা বৈধ কিনা?
☞ পুরুষের জন্য চুলে মেহেদি ও কালো কলপ ব্যবহার জায়েয হবে কি?
☞ চুলে রং করলে অজু-গোসলে সমস্যা হয় কি?
☞ মেয়েদের পায়ে মেহেদী দেয়া জায়েয কি?
The post দাঁড়ি সোজা করে রাখা যাবে কি? appeared first on কোরআনের জ্যোতি.

ক্যারাম বোর্ড খেলা যাবে কি?

জিজ্ঞাসা–৩৯৮: মাঝে মাঝে কেরামবোর্ড খেলা যাবে কি না– আরিফ

জবাব: যে সমস্ত কাজে দুনিয়া, আখেরাত ও স্বাস্থ্যগত কোনো উপকার নেই, ঐ সমস্ত অনর্থক কাজে সময় ব্যয় করা শরীয়তে নিষেধ। ক্যারাম বোর্ড খেলায় কোনো ধরণের উপকারিতা না থাকায় তা নাজায়েয। (আল বাহরুর রায়েক-৮/১৮৯, ফাতাওয়া শামী-৬/৩৯৫)

আবু হুরাইরা রাযি. বলেন, রাসূল্লাহ ﷺ বলেছেন, من حُسنِ إسلام المرءِ تركُهُ ما لا يعنيهএকজন ব্যক্তির ইসলামের পরিপূর্ণতার একটি লক্ষণ হল যে, তার জন্য জরুরী নয় এমন কাজ সে ত্যাগ করে। (জামে তিরমিযী ২২৩৯)

উত্তর দিয়েছেন
মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী নকশবন্দী

আরো পড়ুন–

ভিডিও গেমস খেলা বৈধ কিনা?
দাবা খেলা জায়েয আছে কিনা?
ভিডিও গেম খেলার হুকুম কী?
গল্পের বই পড়া ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে কেমন?
গান শোনা ও বিনা মিউজিকে গান গাওয়া যাবে কি?
কুকুর পালা যাবে কি?
পাখি পালন কি জায়েয?

The post ক্যারাম বোর্ড খেলা যাবে কি? appeared first on কোরআনের জ্যোতি.

মুসলিমরা প্রযুক্তিতে পিছিয়ে। কেন?

মুসলিমরা প্রযুক্তিতে পিছিয়ে। কেন? কারন তারা নাকি শিক্ষা দীক্ষায় অনেক পিছিয়ে। কিন্তু সাম্প্রতিক ইতিহাস দিচ্ছে ভিন্ন তথ্য। আসলে জিহাদ থেকে বিমুখ হওয়ার কারণেই মুসলমানরা প্রযুক্তিতে পিছিয়ে পড়েছে।
.
বর্তমান যেসব প্রযুক্তি আমাদের হাতের নাগালে তার ৯০% ভাগই আবিষ্কৃত হয়েছে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, স্নায়ু যুদ্ধ ও সাম্প্রতিক মার্কিন আগ্রাসনের প্রাক্কালে।
.
যুদ্ধকালীন সময়ে উদ্ভাবিত জিনিসপত্র ও প্রযুক্তির তালিকা দেখলে আপনার চোখ কপালে উঠবে। কি নেই সেখানে? ন্যাপকিন থেকে শুরু করে টি-ব্যাগ কিংবা ইন্টার্নেট থেকে শুরু করে এক্স-রে। সবই যুদ্ধকালীন সময়ের চাহিদা মেটাতে আবিষ্কৃত হয়েছে।

………………………………..
‘ডে-লাইট সেভিং’ সিস্টেম প্রথম কার্যকর হয় ১ম বিশ্বযুদ্ধে। যুদ্ধের সৈনিকদের চা ও খাবারের ব্যবস্থা করতে জার্মানী প্রথম টি-ব্যাগ ও টিনজাত খাবার আবিষ্কার করে। হাতঘড়ির আবিষ্কার হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যুদ্ধরত সেনাদের সময়ের হিসাব রাখার সুবিধার্থে। সর্বপ্রথম প্যান্টের জিপার উদ্ভাবিত হয় আমেরিকান সৈন্যদের জন্যে। বন্দুকের জন্য আরো মজবুত কাঠামো তৈরির চেষ্টা করতে গিয়ে ব্রিটিশ সেনারা ‘স্টেইনলেস স্টীল’ আবিষ্কার করে ফেলে।
.
ড্রোন। এই মাত্র কদিন হলো আমরা ড্রোনের কথা শুনছি, ১৯১৮ সালের ৬ মার্চ সর্বপ্রথম পাইলটবিহীন বিমান দিয়ে বোমা ফেলার চেষ্টা করা হয়। আমেরিকা কর্তৃক এয়ার-ট্রাফিক সিস্টেম আবিষ্কৃত হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়। বহনযোগ্য এক্স-রে মেশিন আবিষ্কৃত হয় ফ্রেঞ্চ আর্মির বদৌলতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে।

………………………………
রাডার আবিষ্কার করতে গিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কাকতালিয়ভাবে মাইক্রোওয়েভ আবিষ্কৃত হয়। পরে রাডারও আবিষ্কার করা হয়। আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে নাসা কর্তৃক আবিষ্কৃত হয় ডিজিটাল ক্যামেরা। আর সেই ক্যামেরায় ধারন করা ছবি পাঠানোর জন্যে উদ্ভাবিত হয়ে পড়ে ইন্টারনেট।
.
খেলনা, চকোলেট, সস, গাম, টেপ, নাইলনের পোশাক সবই যুদ্ধের অবদান। ট্রেন, ট্রাক, ট্যাঙ্ক, জাহাজ, বিমান এগুলোও যুদ্ধের কারণে অস্তিত্বলাভ করেছে। পেনিসিলিন, কেমিক্যাল, রিমোট, টর্চলাইট ইত্যাদি এসবও যুদ্ধের কল্যাণে পেয়েছে মানবসমাজ।
.
এটিএম বুথ, ক্রেডিট কার্ড, ট্রান্সিস্টর, স্যাটেলাইট, মহাকাশ অভিযান, ল্যাজার, কম্পিউটার, সেলফোন, এগুলো সব স্নায়ুযুদ্ধের ফলাফল।

………………………………
২০০২ এর আফগান যুদ্ধের ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে অনেক মার্কিন সেনা মারা যায়। এই রক্তক্ষরণ দ্রূত বন্ধ করার জন্য আবিষ্কৃত হয় “টার্নিকুয়েট” নামের ঔষধ। তৎক্ষণাৎ এনার্জি পেতে এই আফগান আগ্রাসনের সময়েই “ফিব্রিন ব্যান্ডেজ” আবিষ্কৃত হয় যা একইসাথে ঘা সারায় আবার এনার্জি দেয়। তাৎক্ষণিক কাটা-ছেড়া জোড়া লাগানোর প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করতে গিয়েই এই সময়ে মার্কিন চিকিৎসকরা “চিটোসান ব্যান্ডেজ”ও উদ্ভাবন করে ফেলে। ৩৪ থেকে ৪৩ ডিগ্রি তাপমাত্রায় রক্ত সংরক্ষনের মত পাত্রও আবিষ্কৃত হয় এই আফগানে এই আমেরিকান জঙ্গীদের মাধ্যমে যার নাম “গোল্ডেন ব্লাড কন্টেইনার”।
.
ইরাক যুদ্ধের সময়ে রবোটিক মেডিক্যালাইজ প্রথমবারের মত ব্যবহিত হয়। গণহারে মার্কিন সেনাদের আহত হওয়ার কারণে পর্যাপ্ত চিকিতসক দিয়ে সামলানো যাচ্ছিলনা। আবার “ট্রমা” আক্রান্ত সেনার সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছিল, পরে “হাইপারবেরিক অক্সিজেন থেরাপী” আবিষ্কৃত হয় আক্রান্তদের ট্রিটমেন্ট দিতে।

…………………………
এটা সবসময়ের জাগতিক নীতি। যুদ্ধই চাহিদা সৃষ্টি করে। আর চাহিদা আবিষ্কারের প্রসূতি। “মেকানিকাল ঘড়ি” আবিষ্কার হয় উসমানী খেলাফতের যুদ্ধগুলোতে। “স্টীম পাওয়ার”, অবজারভেটরী (পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র), সেক্সট্যান্ট (তারকাদের দূরত্ব মাপার যন্ত্র), মানচিত্র সহ নানান যুদ্ধাস্ত্র উদ্ভাবিত হয়েছিল উসমানী খেলাফতের বিভিন্ন যুদ্ধের প্রাক্কালে।
.
আহযাবের যুদ্ধ দিয়েছিল “পরিখা খনন” পদ্ধতি। তায়েফ যুদ্ধ দিয়েছিল “মিনজানিক” কৌশল। জিহাদের কারণেই “ব্ল্যাকলাইট” সিস্টেম আবিষ্কার করে মুসলিমরা।

……………………………
কি বুঝলেন? প্রযুক্তিতে মুসলমানরা ততদিন পিছিয়ে থাকবে যতদিন জিহাদ বিমুখ হয়ে ফেসবুকে ডুবে থাকবে। আর আমেরিকা এগিয়ে যাবে, ওরা কখনোই যুদ্ধ থামাবেনা। ওরা জেনে গেছে যুদ্ধ কত কিছুর পসরা মেলে ধরে।

Saeedul Mostafa

বিয়ে করা না করার সিদ্ধান্তহীনতায় আছি; কী করব?

জিজ্ঞাসা–৩৯৭: একটি ব্যক্তিগত সমস্যার কথা লিখছি। বেশ কয়েক জায়গায় প্রশ্ন করে উত্তর পায়নি। খুব কষ্টে পড়েছি। ইসলামিক নারী (only for sisters)এই গ্রুপ থেকে অাপনাদের খোঁজ পেয়েছি এবং অামাকে এখানে প্রশ্নটি করতে বলা হয়েছে। ইসলামের অালোকে উত্তর দিলে অামি খুবই উপকৃত হবো । অামি মানুষিকভাবে অসুস্থ ছিলাম। অনেক দিন অসুস্থ ছিলাম। তাই বিয়ে করার কথা ভাবতাম না। কারণ সত্যি কথাটা না বলে কোন ছেলেকে বিয়ে করা সম্ভব নয়, তাহলে তাকে ঠকানো হয়। অার সত্যি কথাটা বললে কোন ছেলে অামাকে বিয়ে করবে না। অামাদের দেশের রীতি অনুযায়ি, মানুষিক অসুস্থতাকে ভালো চোখে দেখা হয় না। তাই বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। শুধু শধু নিজের ব্যক্তিগত সমস্যার কথা জনে জনে বলে বেড়ালে মানুষের করুণার পাত্র হতে হয়। একটা সময় একটি ছেলে অামাকে পছন্দ করে এবং বার বার সে কথা বলতে থাকে। অামি তাকে সব সত্যি কথা বলে দেই,সে সব জেনেশুনে অামাকে বিয়ে করতে রাজি হয় এবং বার বার কথা দিতে থাকে অামাকে বিয়ে করবে বলে। তার সাথে ফেসবুকে কথা হতো এবং বিষয়টি পরিবারের মানুষরাও জানতো। কিন্তুু সে তার ওয়াদা ভঙ্গ করে এবং অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করে ফেলে। অামি খুব কষ্টে পড়ে গেছি, কারণ তিন বছরে তাকে মনে মনে খুব ভালো লেগে যায় এবং তিন বছর ধরে একটু একটু করে মনকে বিয়ের জন্য প্রস্তুুত করি। এখন অন্য কাউকে বিয়ে করার জন্য জোর করে নিজের মনকে রাজি করাতে পারছি না। জোর করে বিয়ে করলে স্বামীর চাহিদা পূরণ করতে পারবো না(মানুষিক সমস্যা থাকায়)। অামার প্রশ্ন হচ্ছে তার প্রথম বউয়ের কোন ক্ষতি না চেয়ে তাকেই বিয়ে করার জন্য অাল্লাহর কাছে দোয়া করা যাবে কি? বা বিয়ে না করে এমনি ইসলামের পথে চললে পাপ হবে কি? অনেকে বলছে বিয়ে না করে অামি ইসলামিক নির্দেশ অমান্য করছি, এতে পাপ হচ্ছে। কেউ এখানে অামার মানুষিক সমস্যার কথাটি বিবেচনা করছে না। ভাবছে ইচ্ছে করেই এমন করছি। অামার সকল অপারগতা সম্পর্কে অাল্লাহ অবগত অাছেন,তাও কি অামার পাপ বা অন্যায় হচ্ছে? বয়স বেড়ে যাচ্ছে। অামাকে সঠিক দিক-নির্দেশনা দিলে খুবই উপকৃত হবো।–রেজওয়ানা অামিন (ঊর্মি)।

জবাব:

এক:

প্রিয় বোন, আপনি আমাদের কাছে স্পষ্টবাদী হয়েছেন- এজন্য আমরা আপনার প্রতি ধন্যবাদ ও সমবেনা নিবেদন করছি। আপনার কথা থেকে বোঝা যাচ্ছে, আপনি এখন অনেকটা সুস্থ। আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করছি তিনি যেন আপনাকে পুরোপুরি সুস্থ করে দেন এবং আপনার জন্য একজন সৎ পাত্র সহজে মিলিয়ে দেন। যাতে করে আপনি তার সাথে নেক সংসার গড়ে তুলতে পারেন। আল্লাহ যেন আপনার উপর তার এ নেয়ামতকে পরিপূর্ণ করে দেন। আপনার তাকওয়া ও লজ্জাশীলতা আরও বাড়িয়ে দেন। আমীন।

আর আপনার প্রতি আমাদের পরামর্শ হল–

১. আপনি যদি নিজের উপর হারাম কাজে লিপ্ত হওয়ার আশংকা করেন তাহলে আপনার উচিত বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়া। কেননা যে ব্যক্তির অবস্থা এমন তার বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত ভুল। হ্যাঁ, মানুষ বিয়ে না করেও মুত্তাকী হতে পারে; তবে এটি খুবই বিরল। বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে যারা বিয়ে করে না তারা দুই শ্রেণীর মানুষ হতে পারে: অক্ষম কিংবা ব্যভিচারী। উমর বিন খাত্তাব রাযি. জনৈক অবিবাহিতকে লক্ষ্য করে এমনটিই বলেছেন। তিনি বলেন, ما يمنعك إلا عجز أو فجور তোমাকে বিয়ে করতে বাধা দিচ্ছে- হয়তো অক্ষমতা; নয়তো পাপাচারিতা।

কোরআন মজিদেও বিয়েকে পোশাকতুল্য বলা হয়েছে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল, এ কথা বুঝানো যে, সামর্থ্য থাকার পরও কোনো নারী-পুরুষের জন্য অবিবাহিত থাকা দোষণীয়। (হুকুকুল জাওযাইন ১৬৬)

২. যতদিন আপনি বিয়ে করতে পারছেন না ততদিন সবর করুন। আপনি যে কঠিন ও কষ্টকর অবস্থার মধ্যে আছেন যদি এতে সবর করেন তাহলে আপনি সওয়াব পাবেন। মুমিনেরা তো মুসিবতের সময় ধৈর্য ধারণ করে থাকে এবং আনন্দের সময় আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে থাকে। মুমিন ছাড়া অন্য কেউ এটা করে না। এই সবর আপনার সকল কষ্ট ঘুচে দিবে, ইনশাআল্লাহ। দেখুন, আল্লাহ দুই বার বলেছেন, فَإِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْراً . إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْراً কষ্টের সাথেই তো স্বস্তি আছে, নিশ্চয় কষ্টের সাথেই স্বস্তি আছে। (সূরা ইনশিরাহ ৫-৬)

দুই:

প্রিয় বোন, আপনি কি ভাবছেন, স্বামীর চাহিদা পূরণ করতে পারবেন না? আপনি এটা কী করে ভাবলেন? যদি আপনি এমনটি ভেবে থাকেন তাহলে ভুলের মধ্যে আছেন। বরং আল্লাহ আপনাকে নারী-দেহ দিয়ে তৈরি করেছেন মানে তিনি আপনার মাঝে মৌলিকভাবে স্বামীর চাহিদা পূরণ করার উপাদান দিয়ে রেখেছেন। সুতরাং এমনটি ভাবা মানে আপনি নিজের উপর জুলুম করা। মনে রাখবেন, এই অহেতুক ভাবনার কারণে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে না চাওয়া আপনার জন্য চরম ক্ষতিকর। আমরা আপনাকে নিশ্চয়তা দিচ্ছি, বিয়ে আপনাকে প্রফুল্লতা দিবে। আপনার মনের এই দুর্বলতা তখন আর থাকবে না। তখন আপনি আপনার এই অহেতুক ভাবনাকে তিরস্কার করবেন। নিজেকে নতুনরুপে আবিস্কার করে বিমোহিত হবেন, ইনশাআল্লাহ।

তিন:

আমাদের উক্ত পরামর্শের পর আমরা যেন আপনাকে বলতে শুনছি, “আমি নিঃসঙ্গ জীবন চাই না; আমি বিয়ে করব”। হ্যাঁ, আমরাও আপনার জন্য এটাই ভাল মনে করি যে, আপনি কোন চরিত্রবান ও দ্বীনদার পাত্র খুঁজে বিয়ে করুন। আমরা বিশ্বাস করি আপনি যদি আপনার রবের সাহায্য চান তাহলে তিনি আপনার জন্য চরিত্রবান ও দ্বীনদার পাত্র মিলিয়ে দিবেন। কিন্তু এক্ষেত্রে আপনার প্রতি আমাদের উপদেশ হল, আপনি যে ছেলেটির কথা ভাবছেন তা আপনার আরেকটি ভুল। যেমন ভুল ছিল তার সঙ্গে অবৈধ প্রেমে জড়ানো এবং তার মিথ্যা প্রলোভনের মায়াজালে আপনার আবদ্ধ হওয়া। আমরা আশা করব, আপনি এই ভুলটি পুনরায় করবেন না। কেননা, হতে পারে তার একাধিক বিয়ে করার ইচ্ছা নাই কিন্তু সে আপনার দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে আপনাকে আল্লাহর আনুগত্য থেকে দূরে সরিয়ে আনবে। আল্লাহ তাআলা তার সাথে আপনার বিয়ে নির্ধারণ করে রাখেন নি; তাহলে তার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকা ঠিক হবে না। কারণ এ ধরণের উন্মুখতার ভয়াবহতা আপনার অজানা নয়। এটি আপনার অন্তরে নানা রোগ সৃষ্টি করবে। গুনাহর দিকে ধাবিত করবে। সুতরাং তার চিন্তা না করে বরং আল্লাহর কাছে দোয়া করতে থাকুন, যেন তিনি আপনার জন্য ভাল পাত্র মিলিয়ে দেন। কোন অবস্থাতেই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হবেন না। ভরসা রাখুন, আল্লাহ আপনার জন্য এর চেয়ে ভাল কোন পাত্রের ব্যবস্থা করে দিবেন। অন্য প্রস্তাবকারী ছেলের মধ্যে চরিত্র ও দ্বীনদারি পেলে তার প্রস্তাব সহজেই গ্রহণ করে নিবেন। অতিরিক্ত বাছাবাছিতে না যাইয়াটাই হবে আপনার জন্য ও আপনার অভিবাবকের জন্য অধিক কল্যাণকর।

আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি তিনি যেন আপনার জন্য এমন কাউকে পাওয়া সহজ করে দেন। আমীন।

আপনি জিজ্ঞাসা নং–৩৩২ প্রশ্নোত্তরটি পড়তে পারেন। সেখানে দ্রুত বিয়ে হওয়ার কিছু আমল তুলে ধরা হয়েছে।

উত্তর দিয়েছেন
মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী নকশবন্দী

আরো পড়ুন–
☞ বিয়ে হচ্ছেনা, কী করব?
☞ বিয়ের আগে প্রেম করা যায় কিনা?
☞ অভিবাবককে না জানিয়ে গোপনে বিয়ে করা যাবে কিনা?
☞ ব্যভিচার থেকে তাওবা এবং ব্যভিচারীর শাস্তি
☞ ছেলে-মেয়ে বালেগ (প্রাপ্তবয়স্ক) কখন হয়?
☞ প্রেম ও বিয়ে সম্পর্কে একটি প্রশ্নের উত্তর
☞ অভিভাবক ছাড়া বিবাহ কি শুদ্ধ হয়?
☞ চেহারা অসুন্দর আলেম-পাত্রের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে গুনাহ হবে কি?
☞ কাজীর ন্যূনতম যোগ্যতা কতটুকু থাকতে হবে?
☞ গোপন বিয়ে বাবা-মা মেনে নিচ্ছেন না; কী করব?
☞ পরপুরুষের সাথে কথা বলা যাবে কি?
The post বিয়ে করা না করার সিদ্ধান্তহীনতায় আছি; কী করব? appeared first on কোরআনের জ্যোতি.

লোভ-লালসা থেকে মুক্ত থাকার যে আমল করবেন

লোভ-লালসা মারাত্মক পাপাকের কাজ। এটা মানুষের চারিত্রিক ব্যাধি। এ ব্যাধি থেকে মুক্ত থাকতে কুরআন-সুন্নাহ জ্ঞান ও আমলের বিকল্প নেই। দুনিয়ার কোনো প্রেসক্রিপশন বা ঔষধ দিয়ে এ রোগমুক্ত হওয়ার উপায় নেই। আল্লাহ তাআলার গুণবাচক নামের আমলেই এ বদ স্বভাব ও গোনাহের কাজ থেকে মুক্ত হওয়া যায়।

আল-গানিয়্যু (اَلْغَنِيُّ) আল্লাহ তাআলার গুণবাচক নামসমূহের একটি। মুমিন বান্দা নিয়মিত এ গুণবাচক নামের আমল করলে লোভ-লালসা নামক অন্তরের মহাব্যাধি থেকে মুক্ত হওয়া যায়।

তাছাড়া প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলার ৯৯টি গুণবাচক নাম আছে। যে ব্যক্তি এ গুণবাচক নামগুলোর জিকির (আমল) করবে; সে জান্নাতে যাবে।’

আল্লাহর গুণবাচক নাম (اَلْغَنِيُّ) ‘আল-গানিয়্যু’-এর জিকিরের আমল ও ফজিলত তুলে ধরা হলো-

উচ্চারণ : ‘আল-গানিয়্যু’
অর্থ : ‘সবকিছু থেকে মুখাপেক্ষীহীন’

ফজিলত ও আমল
– আল্লাহ তাআলার এ গুণবাচক নাম (اَلْغَنِيُّ) ‘আল-গানিয়্যু’-এর আমলে লোভ-লালসা থেকে মুক্ত থাকা যায়।
যে ব্যক্তি লোভ-লালসায় আক্রান্ত সে তার প্রত্যেক অঙ্গে যেমন ধরা যাক বুকের ওপর হাত রেখে আল্লাহ তাআলার এ পবিত্র গুণবাচক নাম (اَلْغَنِيُّ) আল-গানিয়্যু’ পড়বে এবং শরীরের ওপর হাত বুলাবে। আল্লাহ তাআলা তাকে লোভ-লালসার ব্যাধি থেকে মুক্ত করবেন।

– আর যে ব্যক্তি প্রতিদিন মহান আল্লাহ তাআলার এ গুণবাচক নাম (اَلْغَنِيُّ) ‘আল-গানিয়্যু’ ১৭ বার পাঠ করবে, সে ব্যক্তির অর্থ-সম্পদে বরকত হবে এবং সে ব্যক্তি কখনো অন্য কারো ওপর মুখাপেক্ষী হবে না।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তাঁর এ সুন্দর ও ছোট্ট গুণবাচক নাম (اَلْغَنِيُّ) ‘আল-গানিয়্যু’-এর আমল করার মাধ্যমে চারিত্রিক ব্যাধি লোভ-লালসা মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। অস্বচ্ছল ও দারিদ্র ব্যক্তিদেরকে এ আমল করে অর্থ-সম্পদে বরকত লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।