হাদিসের গল্পঃ কা‘ব বিন আশরাফের মৃত্যুকাহিনী

জাবির বিন আব্দুললাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, একদা রাসূলুললাহ্ (ﷺ) বললেন,কা‘ব ইবনু আশরাফকে হত্যা করার জন্য কে প্রস্তুত আছ? কেননা সে আললাহ ও তাঁর রাসূলকে কষ্ট দিয়েছে। মুহাম্মদ ইবনু মাসলামাহ (রাঃ) দাঁড়ালেন এবং বললেন, হে আললাহর রাসূল! আপনি কি চান যে, আমি তাকে হত্যা করি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহ (রাঃ) বললেন, তাহলে আমাকে […]

এক পশুতে ছয়জন শরীক ব্যক্তি সপ্তম ভাগ নবীজীর নামে দিতে পারবে কি?

প্রশ্ন

মাননীয় মুফতি সাহেবের কাছে জানতে চাই ৬ জনে মিলে একটি গরু কুরবানী করবে সেখানে আরেকটি অংশ রাসুল সাঃ এর নামে
এখন রাসুল সাঃ এর অংশের টাকা কে দিবে এবং সে অংশের গোশত কে নিবে?
দয়া করে জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

যেহেতু শরীক ছয়জন। আর ছয়জনের অংশই সমান। তাই একটি গরুর যা মূল্য তা ছয়জনে সমান ভাগ মূল্য প্রদান করে ক্রয় করে নিবে। আর কুরবানী করার সময় এক ভাগে ছয়জনের পক্ষ থেকেই নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামে নফল কুরবানীর নিয়ত করে নিবে।

গোস্ত বন্টনের সময় পূর্ণ গরুর গোস্ত ছয় ভাগে বন্টন করে ছয়জন নিয়ে নিবে।

সপ্তম অংশের আলাদা ভাগ করার কোন প্রয়োজনই নেই।

وإن مات أحد السبعة المشتركين فى البدنة، وقال الورثة: إذبحوا عنه وعنكم صح عن الكل استحسانا لقصد القربة من الكل، ولو ذبحوها بلا إذن الورثة لم يجزهم، لأن بعضها لم يقع قربة (الدر المختار مع الشامى-9/471)

عَنْ حَنَشٍ، قَالَ: رَأَيْتُ عَلِيًّا يُضَحِّي بِكَبْشَيْنِ فَقُلْتُ لَهُ: مَا هَذَا؟ فَقَالَ: «إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوْصَانِي أَنْ أُضَحِّيَ عَنْهُ فَأَنَا أُضَحِّي عَنْهُ»

হযরত হানশ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হযরত আলী রাঃ কে দেখলাম তিনি দু’টি বকরী কুরবানী করলেন। আমি তাকে বললাম, এটি কি? [আপনার উপরতো একটি আবশ্যক ছিল কিন্তু আপনি দু’টি করলেন কেন?] তিনি বললেন, নিশ্চয় রাসূল সাঃ আমাকে অসিয়ত করেছেন তার পক্ষ থেকে কুরবানী করতে। এ কারণে আমি তার পক্ষ থেকে কুরবানী করছি। {আবু দাউদ, হাদীস নং-২৭৯০}

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা-জামিয়া ফারুকিয়া দক্ষিণ বনশ্রী ঢাকা।

ইমেইল– [email protected]

অর্থ না বুঝে “তালাক” লেখা অপশনে টিক চিহ্ন দেবার দ্বারা তালাক হয়ে যায়?

প্রশ্ন

সম্মানিত মুফতি সাহেব আসসালামু আলাইকুম।

আপনি একজন জ্ঞানী মানুষ তাই আপনার নিকট যেকোন সমস্যার সমাধান জানার জন্য আপনাকে মেসেজ করি।আমি একজন প্রবাসী। আমি এখন একটা বিষয় নিয়া খুব চিন্তায় আছি।

এমনিতেই আমি একটা ওয়াসওয়াসা আর সন্দেহের রোগী।আমি একটা হোটেলে জব করি। আমি মহান রবকে ভয় করি তাই আপনাকে একটা প্রশ্ন করছি।

দ্রুত উত্তর দিলে হয়তবা আমার চিন্তা আল্লাহর ইচ্ছাই দুর হতে পারে। আমি আপনাকে বিস্তারিত বলছি প্রশ্নটা কী?

আমি কাজের পরে রেস্ট টাইমে অনলাইনে মোবাইলে ইনকাম করতে চাইছিলাম তাই ইউটিউব এ ভিডিও দেখে zap নামে একটা সফটওয়ার নামাই।

আর এর সার্ভ এ গুলো কাজের জন্য ঢুকি। টপ রিচারজ নামে প্রথম যে সার্ভ সেখানে সৌদি আরব এ কাজ পায়না এটা আসে তখন ইউটিউব এ একজন বল্ল vpn সফটওয়ার এর মাধ্যমে অন্য যেকোন দেশের সার্ভ কাজ করে ইনকাম করা যাবে তাই আমি vpn সফটওয়ার এর মাধ্যমে zap এর টপ রিচারজ এ ঢুকি আর কাজ শুরু করি আমাকে তারা ইংলিশে প্রশ্ন করা শুরু করল।

এর মধ্যে একটা প্রস্ন ছিল রিলেশনশিপ আর ৫ টার মত অপসন ছিল তো আমি মেরিড অপসনে ক্লিক করি আর কন্টিনিউ করি।

এভাবে ১৩ টা প্রস্ন করল আর প্রতিটা প্রশ্নে অনেকগুলি অপসন থাকে আর ১ প্রস্নের উত্তরে যে কোন একটা অপসন ক্লিক করে কন্টিনিউ করি।

সবশেষে ফেইল্ড দেখায়।

তো আমি আবার ট্রাই করি আর আমি না বুঝে জার্মান দেশ সিলেক্ট করে কাজ শুরু করি আর দেখি ভাষাটা জার্মানি আর বর্ণগুলি ইংলিশ কিন্তু জার্মানি ভাষা।আমি কিছু না বুঝে কোন চিন্তাভাবনা না করে দ্রুত একটা করে প্রস্ন আসে আর আমি যেকোন ১ টা অপসনে ক্লিক করি আর কন্টিনিউ করি। কারন আমি জার্মানি ভাষা জানিওনা বুঝিওনা। কিন্তু প্রস্ন গুলিযে আগের ইংলিশ ভাষার সেম সেম আমি বুঝি নাই।

যখন,আমার বাচ্চা নিয়া প্রস্ন করল জারমানি ভাষায় আর ইংলিশ 1 বা 2 লেখা আসলো তখন কিছুটা আন্দাজ করছি এটা মনে হয় আগে যে ইংলিশ ভাষায় বাচ্চার বয়স জানতে চাইছে সেটা।পরে এই প্রস্ন উত্তর গুলিও কোন কাজ হয়নাই।তাই আবার ট্রাই করলাম তখন ইংলিশ এ সব কিছু আর দেখি আবার সব প্রস্ন আর অপসন সব একই।

তখন মাথায় চিন্তা ঢুকলো আমি জার্মানি ভাষায় যে রিলেশনশিপ প্রস্ন আসলো আর আমি তাইলে কোন অপসনে ক্লিক করে কন্টিনিউ করলাম।জার্মানি ভাষায় রিলেশনশিপ এর অপসন গুলি আপনাকে আমি অর্থসহ বলি যা আমি আবার জার্মানি ভাষায় ওই সার্ভ এ ঢুকছিলাম আর রিলেশনশিপ এর প্রস্নটা আর অপসন গুলি জার্মানি ভাষা থেকে বাংলা করছি ইন্টারনেটে ভাষা ট্রান্সলেট এর মাধ্যমে।was ist Ihr Beziehungsstatusst? অর্থ- আপনার সম্পর্কের অবস্থা কি? অপসন

ledig, nie verheiratet.অর্থ-একক, বিবাহিত না।

verheiratet.অর্থ- বিবাহিত

getrennt, geschieden oder verwitwet.অর্থ-আলাদা, তালাকপ্রাপ্ত বা বিধবা।

lebensgemeinschaft/lebenn mit jemandem.অর্থ-জীবিত সম্প্রদায় / কারো সাথে বসবাস।

keine Angabe.অর্থ-কোন তথ্য নেই।

আমি ইংলিশে যখন রিলেশনশিপ প্রস্ন আসছিল তখন বিবাহিত যে অপসন সে অপসনে ক্লিক করে কন্টিনিউ করছি।কিন্তু আমার সমস্যা হইছে যখন জার্মানি ভাষায় রিলেশনশিপ আসছে আমি কোন অপসনে ক্লিক করছি সেটা একদম মনে করতে পারছিনা কারন জার্মনি ভাষার প্রস্ন গুলি আমি দ্রুত আন্দাজে একেকটা প্রস্নের যেকোন ১ টা অপসন ক্লিক করে ফেলছি নাজেনে, নাবুঝে, আন্দাজে। মাথায় অন্য কোন চিন্তা ছিলনা কোন নিয়ত ছিলনা। মুখে কোন শব্দ ছিল না একদম চুপ ছিলাম। আপনার নিকট আমার প্রস্ন এতে কি আমার বিবাহিত জীবনে কোন সমস্যা হইছে? আর আপনি এর একটা সমাধান খুব দ্রত জানান।

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

রিলেশনশিপ বিষয়ে উপরোক্ত ক্লিক তথা টিক চিহ্ন দেবার দ্বারা কোন তালাক পতিত হয়নি। বিবাহিত জীবনে কোন সমস্যা হয়নি। তাই অহেতুক পেরেশান হবার কিছু নেই।

وكذا كل كتاب لم يكتبه بخطه ولم يمله بنفسه لا يقع الطلاق مالم يقر انه كتابه (رد المحتار-4/456، الفتاوى الهندية-1/379)

كُلُّ كِتَابٍ لَمْ يَكْتُبْهُ بِخَطِّهِ وَلَمْ يُمِلَّهُ بِنَفْسِهِ لَا يَقَعُ بِهِ الطَّلَاقُ إذَا لَمْ يُقِرَّ أَنَّهُ كِتَابُهُ كَذَا فِي الْمُحِيطِ (الفتاوى الهندية، كتاب الطلاق، الفصل السادس فى الطلاق بالكتابة-1/379، المحيط البرهانى، كتاب الطلاق، الفصل السادس فى ايقاع الطلاق بالكتاب-4/486، تاتارخانية، كتاب الطلاق، الفصل السادس فى ايقاع الطلاق بالكتاب-3/380)

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা-জামিয়া ফারুকিয়া দক্ষিণ বনশ্রী ঢাকা।

ইমেইল– [email protected]

ঋণ নিতে সম্পদ বন্ধক রাখার বিধান

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

লেনদেনের স্বচ্ছতার জন্য সাক্ষী ও দলিল সম্পাদনে সুস্পষ্ট বর্ণনার পর তাদের বিষয়ে আল্লাহ তাআলা বিধান দিয়েছেন; যারা লেনদেনের সাক্ষী ও দলিল সম্পাদনে অপারগ। তাদের ক্ষেত্রে করণীয় ও উপায় তুলে ধরেছেন পরবর্তী আয়াতে।

যারা দলিল সম্পাদনের জন্য কোনো লোক পাবে না বা সাক্ষী পাবে না; তারা নিজেদের সম্পদ গচ্ছিত রেখে ঋণ গ্রহণ করবে। এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলা কুরআনে পাকে সুস্পষ্ট ঘোষণা প্রদান করেছেন।

ঋণের কাজ-কারবারে যে কোনো বিষয়ে সঠিক দায়িত্ব পালন এবং আল্লাহকে ভয় করার ব্যাপারেও আল্লাহ তাআলা মানুষে নির্দেশ দিয়ে বলেন-

আয়াতের অনুবাদ

আলোচ্য আয়াতটি সফর অবস্থায় লেনদেন সম্পর্কে নাজিল করা হয়েছে। সফর অবস্থায় যদি কারো ঋণ গ্রহণের প্রয়োজন পড়ে আর সেখানে কাগজ-কলম এবং লেখক ও সাক্ষী না থাকে তাহলে ঋণগ্রহণে তার বিকল্প ব্যবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রবাসে কিংবা সফরে যদি কারো ঋণ গ্রহণের প্রয়োজন হয় তবে ঋণগ্রহীতা কোনো জিনিস ঋণদাতার কাছে বন্ধক বা গচ্ছিত রেখে ঋণ গ্রহণ করবে। হাদিসে এসেছে-

যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়া থেকে চির বিদায় গ্রহণ করেন তখন তার লৌহ বর্মটি আবুশ শাহাম নামক একজন ইয়াহুদির কাছে ‘৩ ওয়াসাক’ যবের বিনিময়ে বন্ধক ছিল। যে যব তিনি নিজ পরিবারের খাবারের জন্য গ্রহণ করেছিলেন। (বুখারি ও মুসলিম)

কুরআন ও হাদিসের আলোকে এটা প্রমাণিত যে, বন্ধক রাখা ইসলামি শরিয়ত সম্মত একটি বৈধ প্রক্রিয়া।

তবে বন্ধক রাখা জিনিসটি যদি এমন হয় যে, এর দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়। তবে তার উপকারিতার অধিকারী হবে মূল মালিক। ঋণদাতা নয়।

আর যদি বন্ধক রাখা জিনিসের জন্য ঋণদাতার কোনো কিছু খরচ বা ব্যয় করতে হয়, তবে সে তার খরচ নিতে পারবে। খরচ নেয়ার পর অবশিষ্ট যা থাকবে তা মূল মালিকে দেয়া জরুরি হবে।

আয়াতে আরো বলা হয়েছে যে, ‘ঋণগ্রহীতার ওপর যদি বিশ্বাস থাকে তবে, বন্ধক ছাড়াই লেনদেন করতে পার। আর এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ তাআলাকে ভয় করার কথাও বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন- লেনদেনে সাক্ষী-প্রমাণে কুরআনের বিধান (সুরা বাকারা : আয়াত ২৮২)

ঋণগ্রহীতা যখন তার ঋণ প্রদানের নিশ্চয়তা বা বিশ্বাস থাকবে, ঋণ পরিশোধ করার ভয় যখন থাকবে না; তখন ঋণের বিষয়ে লিখে না রাখলে কিংবা সাক্ষী না রাখলেও কোনো দোষ নেই।

মনে রাখতে হবে
কুরআন সুন্নাহর আলোকে প্রমাণিত সাক্ষী গোপন করায় রয়েছে মারাত্মক শাস্তি। আবার সত্য সাক্ষ্য প্রদানে রয়েছে অনেক ফজিলত ও সাওয়াব। এ আয়াতে বিশেষ ভাবে সাক্ষী গোপন করা থেকে বিরত থাকার কথাও বলা হয়েছে।

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাক্ষ্যদান প্রসঙ্গে বলেন, আমি কি তোমাদেরকে উত্তম সাক্ষীদাতার কথা বলে দেব না? সে হল এমন এক লোক, যার কাছে সাক্ষী চাওয়ার আগে সে নিজেই সাক্ষী নিয়ে উপস্থিত হয়ে যায়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সফর বা প্রবাসে থাকা অবস্থায় ঋণ গ্রহণে কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক ভাবে লেনদেন গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। আল্লাহ তাআলাকে প্রতিটি কাজে বেশি বেশি ভয় করার মাথ্যমে নেকট্য অর্জন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সুদমুক্ত ব্যাংকিং-এর দাবীদার ব্যাংকে চলতি হিসাব খোলা

জিজ্ঞাসা–৪২৪: হুজুর, আসসালামু আলাইকুম। আমার ইসলামি ব্যাংকে সঞ্চয়ী হিসাব আছে। যেহেতেু এই ব্যাংকে চলতি হিসাব ব্যক্তির নামে করে না। মুনাফার টাকা আমি গরীবদের মাঝে খরচ করে ফেলি। নিজে খাই না। অন্যদিকে, আল-আরাফা ব্যাংকে চলতি হিসাব ব্যক্তির নামে করে। আমার গ্রামের বাড়িতে লেনদেন করতে হয় সেখানে আবার ইসলামি ব্যাংকের শাখা আছে বলে সহজ হয়। তাই আমার আল-আরাফা ব্যাংকে চলতি হিসাব করা উচিৎ নাকি উপরের পদ্ধতি ঠিক আছে? নাকি অন্য কোন উপায় আছে জানালে উপকৃত হব। আমি সুদ গুনাহ থেকে বাচতে চাই।–মামুন হোসেন

জবাব: وعليكم السلام ورحمة الله

প্রিয় প্রশ্নকারী দীনি ভাই, প্রশ্নটির উত্তর ইতিপূর্বে দেয়া হয়েছে। জানার জন্য পড়ুন– জিজ্ঞাসা নং–৩১২

The post সুদমুক্ত ব্যাংকিং-এর দাবীদার ব্যাংকে চলতি হিসাব খোলা appeared first on কোরআনের জ্যোতি.

মাসবূক-ব্যক্তি ইমামের সঙ্গে শেষ বৈঠকে তাশাহহুদের পর দুরুদ পড়া

জিজ্ঞাসা–৪২৩: আসসালামুআলাইকুম। জামাতে নামাজের মাঝে যোগ দিয়ে শেষ বৈঠকে যদি ভুলে তাশাহুদের পর দরুদ শরীফ পড়ে ফেলি তাহলে কি সিজদা সাহু দিতে হবে?–Mohammad Tafsir Ahmed

জবাব: وعليكم السلام ورحمة الله

মাসবূক ব্যক্তির জন্য মুস্তাহাব হল, ইমামের শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ এমনভাবে ধীরে ধীরে পড়বে, যাতে তার তাশাহহুদ পড়া শেষ হলে ইমামের সালাম ফিরানোর সময় হয়ে যায়। যদি ইমামের সালাম ফিরানোর আগে তার তাশাহহুদ পড়া শেষ হয়ে যায় তাহলে সে পুনরায় তাশাহহুদ পড়া শুরু করবে অথবা চুপ থাকবে। তার জন্য দুরুদ ও দোয়া ইত্যাদি পড়া জরুরি নয়। তবে যদি পড়ে ফেলে তাহলে এর জন্য নামাজের কোন ক্ষতি হয় না বিধায় এর জন্য তাকে সাহু সিজদা দিতে হয় না। (তাতারখানিয়া ২/১৯৭, ১৯৮)

উল্লেখ্য, যে ইমামের পিছনে এক বা একাধিক রাকাত পায় নি তাকে মাসবূক বলে।

والله اعلم بالصواب

উত্তর দিয়েছেন
মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী নকশবন্দী

The post মাসবূক-ব্যক্তি ইমামের সঙ্গে শেষ বৈঠকে তাশাহহুদের পর দুরুদ পড়া appeared first on কোরআনের জ্যোতি.

তাহাজ্জুদ নামাজ কি? কিভাবে পড়তে হবে?

জিজ্ঞাসা–৪২২: তাহাজ্জুদ নামাজ কি? কিভাবে পড়তে হবে? সঠিক নিয়মটা জানতে চাচ্ছি।– Ar-Rafi Hossain Khan

জবাব: তাহাজ্জুদ নফল-শ্রেণীর নামায। আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَمِنَ ٱلَّيۡلِ فَتَهَجَّدۡ بِهِۦ نَافِلَةٗ لَّكَ عَسَىٰٓ أَن يَبۡعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامٗا مَّحۡمُودٗا

অর্থাৎ রাত্রির কিছু অংশে তাহাজ্জুদ কায়েম কর; এটা তোমার জন্য নফল তথা অতিরিক্ত কর্তব্য। আশা করা যায়, তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন প্রশংসিত স্থানে। (সূরা বানী ইসরাইল ৭৯ )

এটি আদায় করার আলাদা কোনো নিয়ম নেই। স্বাভাবিক নামাযের মতোই উত্তমভাবে অজু করে দুই রাকাত নফল নামায পড়বেন। নফল নামাযের নিয়ত চার রাকাত করেও করা যায়, দুই রাকাত করেও করা যায়। তবে রাতের নামাযে দুই রাকাত করে নিয়ত করা উত্তম। কেননা আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাযি. থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, নবী ﷺ বলেছেন, صَلاَةُ اللَّيْلِ مَثْنَى مَثْنَى রাতের নামায দু’ দু’ রাকাত করে। (সহীহুল বুখারী: ৪৭২, ৯৯৩,১১৩৭, মুসলিম: ৭৪৯)

والله اعلم بالصواب

উত্তর দিয়েছেন
মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী নকশবন্দী

The post তাহাজ্জুদ নামাজ কি? কিভাবে পড়তে হবে? appeared first on কোরআনের জ্যোতি.

নামাজের জন্য উত্তম পোশাকের ব্যবহার

জিজ্ঞাসা–৪২১: নারী-পুরুষের এমন পোষাক পরিধান করে নামাজ পড়া জায়েয হবে কি? যে পোষাকে শরীরের অবকাঠামো স্পষ্ট বুঝা যায়। tanisha

জবাব: পোশাকের প্রধান উদ্দেশ্যই হল সতর ঢাকা। আল্লাহ তাআলা বলেন, يَا بَنِي آدَمَ قَدْ أَنزَلْنَا عَلَيْكُمْ لِبَاسًا يُوَارِي سَوْءَاتِكُمْ وَرِيشًا ‘হে বনী আদম! আমি তোমাদের জন্য অবতীর্ণ করেছি পোশাক, যা তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করে এবং সৌন্দর্য দান করে।’ (সূরা আ’রাফ ২৬)

আলোচ্য আয়াত থেকে বোঝা যায়, যে পোশাক পরিধানের পরও সতর দেখা যায় কিংবা সতরের আকৃতি পোশাকের উপরে ফুটে উঠে তা-ও সতর আবৃত না করার কারণে নাজায়েয পোশাকের অন্তর্ভুক্ত। এ ধরনের পোশাক পরিধান করা হারাম; সুতরাং নামাজে এধরণের পোশাক পরিধান করা যাবে না।

পক্ষান্তরে যে পোশাক পরিধানের পর সতরের আকৃতি পোশাকের উপরে ফুটে উঠে না, তা নামাজে পরিধান করা যাবে। তবে নামাজে কেবল সতর আবৃত করতেই নির্দেশ দেওয়া হয়নি, বরং সাজসজ্জার পোশাকও পরিধান করতে বলা হয়েছে। যেমন, আল্লাহ তাআলা বলেন,يَا بَنِي آدَمَ خُذُواْ زِينَتَكُمْ عِندَ كُلِّ مَسْجِدٍ ‘হে বনী-আদম! তোমরা প্রত্যেক নামাযের সময় সাজসজ্জা পরিধান করে নাও।'(সূরা আ’রাফ ৩১) সুতরাং এমন পোশাক পরেও নামাজ পড়া মাকরুহ, যা পরিধান করে বন্ধু মহল কিংবা সাধারণ লোকের সামনে যাওয়া লজ্জাজনক মনে করা হয়।

উল্লেখ্য, পুরুষের সতর হল নাভির নিচ থেকে নিয়ে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত। পক্ষান্তরে মহিলাদের হাত, পা, মুখ ছাড়া পূর্ণ শরীরই সতর।

والله اعلم بالصواب
উত্তর দিয়েছেন
মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী নকশবন্দী
The post নামাজের জন্য উত্তম পোশাকের ব্যবহার appeared first on কোরআনের জ্যোতি.

নির্ধারিত সময়ে সালাত আদায়ের গুরুত্ব

লেখক: হুসাইন আল-আওয়াঈশাহ্‌ | অনুবাদক: মোছতানছের বিল্লাহ্‌ আল্লাহ্‌ তা‘আলা বলেছেন : “নিশ্চয়ই সালাত মু’মিনদের জন্য উল্লিখিত সময়ে ফরয।” [সূরা আন-নিসা : ১০৩] এ সম্পর্কে আল-বুখারী (রহ.) বলেন : “উল্লিখিত সময় হলো নির্ধারিত (সময়)। তিনি সালাতের জন্য সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন।” আবু আম্‌র আশ-শাইবানী থেকে বর্ণিত : এই ঘরের মালিক (আব্দুল্লাহ ইবনে মাস‘ঊদের ঘরের দিকে ইশারা করে) বলেছেন […]