জুমা’র দিন মসজিদে যাওয়ার সময় ও ফজিলত বণ্টন প্রসঙ্গ

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

জুমআর দিন মুসলিম উম্মাহর জন্য অনেক মর্যাদার দিন। সপ্তাহের দিনগুলোর মধ্যে এ দিনটি উত্তম। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর জন্য এদিনটিকে সেরা দিন হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। এ দিনে মসজিদে গমনের সময়ের ওপর আল্লাহ তাআলা আলাদা আলাদা ফজিলত বর্ণনা করেছেন।

জুমআর দিন মসজিদে গমনের সময় ও তাঁর ফজিলত বর্ণনা করেছেন। জুমআর দিন নামাজ শুরু হওয়ার আগের সময়কে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ৫টি প্রহরে ভাগ করেছেন। আবার এ সব প্রহরের আলাদা আলাদা ফজিলত বর্ণনা করেছেন। হাদিসে এসেছে-

>> ‘যে ব্যক্তি জুমআর দিন অপবিত্রতা থেকে গোসল করার মতো গোসল করবে, অতঃপর প্রথম প্রহরে মসজিদে গমন করবে সে যেন একটি উট কুরবানি করল।’
>> যে ব্যক্তি দ্বিতীয় প্রহরে মসজিদে গমন করবে, সে যেন একটি গরু কুরবানি করল।
>> যে ব্যক্তি তৃতীয় প্রহরে মসজিদে গমন করবে, সে যেন একটি দুম্বা কুরবানি করল।
>> যে ব্যক্তি চতুর্থ প্রহরে মসজিদে গমন করবে, সে যেন (আল্লাহর পথে) একটি মুরগি উৎসর্গ করল।
>> যে ব্যক্তি পঞ্চম প্রহরে মসজিদে গমন করবে, সে যেন (আল্লাহর পথে) একটি ডিম উৎসর্গ করল।
অতঃপর ইমাম মিম্বারে খোতবা প্রদানের জন্য আরোহন করলে ফেরেশতারা সাওয়াব লেখা বন্ধ করে (জিকির) খুতবা শোনার জন্য বসে পড়ে। (বুখারি)

হাদিসে উল্লেখিত ৫টি প্রহর/সময় হলো- ‘জুমআর দিন সূর্য উদয় হওয়া থেকে শুরু করে ইমামের মিম্বারে আরোহন পর্যন্ত সময়কে বুঝানো হয়েছে।’

যারা এ সময়গুলোর মধ্যে আগমন করবে; তারা হাদিসে উল্লেখিত সাওয়াবের অধিকারী হবে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসে ঘোষিত প্রহরগুলোর মধ্যে পবিত্রতার সঙ্গে মসজিদে আসার তাওফিক দান করুন। আমিন।

জাগো নিউজ

হালাল উপার্জন ও খাবারের সঙ্গে নেক কাজের সম্পর্ক

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

দৈনন্দিন জীবন-যাপন ও ইবাদত-বন্দেগির বিষয়ে কুরআনুর কারিমে আল্লাহ তাআলা নবি-রাসুলদের যে সব বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন, সেসব নির্দেশ শুধু নবি-রাসুলদের জন্যই সুনির্দিষ্ট নয় বরং তা তাদের উম্মতের জন্য পালন করাও আবশ্যক।

নবি-রাসুলগণ মানুষের কাছে আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগির করার ব্যাপারে তার নির্দেশের কথা পেশ করেছেন। জীবনের প্রতি কাজই যেন আল্লাহর নির্দেশে হয় সে বিষয়ে অনেক নসিহত পেশ করেছেন। নবি-রাসুলদের নসিহতের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ হলো হালাল উপার্জন থেকে রিজিক গ্রহণ সম্পর্কিত।

আল্লাহ তাআলা নবি-রাসুলদেরকে প্রথমে পূতপবিত্র খাবার খাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। অতঃপর আমলে সালেহ তথা নেক আমলের কথা বলেছেন। আল্লাহ তাআলা নবি-রাসুলদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন-

‘হে রাসুলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তু থেকে আহার গ্রহণ কর এবং সৎকাজ কর; তোমরা যে কাজ কর আমি সে বিষয়ে বিশেষ অবগত।’ (সুরা মুমিনুন : আয়াত ৫১)

এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা নবি-রাসুলদের প্রথমে পূতপবিত্র তথা হালাল বস্তু গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন অতঃপর নেক তথা সৎ কাজ করার কথা বলেছেন। আল্লাহর এ নির্দেশ শুধু নবি-রাসুলদের জন্য নয় বরং তা বিশ্ববাসীর জন্য পালন করা আবশ্যক।

এ নির্দেশের কারণেই ইসলাম মানুষকে উপার্জন করে রিজিকের ব্যবস্থা করতে বার বার উৎসাহিত করেছেন। অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন-

‘হে বিশ্বাসীগণ! আমি তোমাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি, তা থেকে পবিত্র বস্তু আহার কর এবং আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর; যদি শুধু তারই উপাসনা করে থাক।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৭২)

এ আয়াতেও আল্লাহ তাআলা বিশ্বাসী সম্বোধন করে নির্দেশ দিয়েছেন। আর নবি-রাসুলদের চেয়ে বড় বিশ্বাসী আর কে হতে পারে? আর তা ছিল মুমিন বান্দার প্রতিও নির্দেশ। অতঃপর হালাল বস্তু আহার করে তাঁরই কৃতজ্ঞতা প্রকাশের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ কৃতজ্ঞতাই হলো সৎ কাজ তথা ইবাদত-বন্দেগি।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষের নিজেদের কামাইকে উত্তম উপার্জন বলেছেন। হাদিসে এসেছে-

‘নিজের (প্রত্যেক ব্যক্তির) উপার্জিত আয়-ই অতি উত্তম বা বেশি ভালো।’

মানুষ জীবিকা উপার্জনে অলস বসে না থেকে কামাই রোজগার করবে অতঃপর এ খাবার গ্রহণ করার তাওফিক লাভের জন্য তাঁর-ই শুকরিয়া আদায় করবে; তাঁর কাছে কৃতজ্ঞা পেশ করবে। আর এ শুকরিয়া বা কৃতজ্ঞতাই হলো ইবাদত। এ ইবাদত-বন্দেগিই আল্লাহ তাআলা কবুল করবেন।

বর্তমান সময়ে এমন অনেক মানুষ আছে যারা হালাল-হারামের বিচার এভাবে করে থাকে যে, পশুটা হালাল কিনা যেমন- গরু, ছাগল, মহিষ কিংবা হাস-মুরগি কিনা। আবার এগুলো আল্লাহর নাম নিয়ে সঠিক পদ্ধতিতে জবাই হয়েছে কিনা ইত্যাদি বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে থাকে।

কিন্তু এ খোঁজ কেউ নিতে চায় না যে, পশু বা প্রাণীগুলো কেনার জন্য যে অর্থ খরচ করা হয়েছে সে অর্থের উৎস কোথায়। যে কুরবানি করা হলো সে কুরবানির পশু কেনা অর্থ হালাল কিনা।

কিছুদিন আগে মালয়েশিয়ার একজন মন্ত্রী কনফারেন্সে হালাল-হারাম প্রসঙ্গে এক মজাদার বক্তব্যে দিয়েছিলেন-

‘আমরা খাওয়ার সময় হালাল বস্তু খোঁজ করি যে, এটা শুকর না গরু; তা যাচাই-বাচাই করি। যদি শুকর হয় তবে খাই না; আর যদি গরু কিংবা মুরগি হয় তবে খাই।

কিন্তু এসব গরু আর মুরগি কীভাবে অর্জিত হয়েছে, বৈধ অর্থে না অবৈধ পন্থায়, তা খোঁজ করতে যাই না। বরং হালাল-হারামের শেষ পর্যায়টা দেখি।

আবার গরু, মুরগি কিনতে পেরেছি এটা ঠিক আছে। কিন্তু তা ঠিকভাবে জবাই হয়েছে কি না- এটাও কেউ কেউ খোঁজ করি, কিন্তু এগুলো যে অর্থ দিয়ে কেনা হয়েছে তা হালাল না হারাম তা দেখি না।’

ঠিক বর্তমান সময়ে মানুষ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এমনটিই করে থাকে। অথচ এ বিষয়ে করণীয় হলো- হালাল এবং হারাম একেবারে উৎসের শুরু থেকে শেষ ধাপ পর্যন্ত মেনে চলা। আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষের প্রতি এ নির্দেশই করা হয়েছে।

ইসলামের আগমনের আগে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু’টি উপায়ে উপার্জন করেছেন। একটি হলো শ্রমের মাধ্যমে উপার্জন আর অন্যটি হলো ব্যবসার মাধ্যমে উপার্জন। এছাড়াও হাদিসে বর্ণনা করেছেন-

‘যত নবীগণ আগে অতিবাহিত হয়েছেন, (তাদের) সবাই বকরি চরিয়েছেন (কাজ করেছেন)। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞাসা করেছেন, আপনিও? তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ’! আমিও এক কবিলার ছাগল চরিয়েছি।’

ইসলামের আগমনের আগে প্রিয়নবির শ্রম এবং ব্যবসার মাধ্যমে উপর্জনও প্রমাণ করে যে, কাজ বা শ্রমের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে তা দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করাই উত্তম।

তাছাড়া উত্তম ব্যবসার মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ দ্বারাও জীবিকা নির্বাহের কথা হাদিসে এসেছে। যে ব্যবসা ইসলামি শরিয়তের দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হয়, সে ব্যবসার মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করাও উত্তম। যে ব্যবসায় সুদ, ধোঁকা, প্রতারণা ও নিষিদ্ধ বস্তুর বিনিময় থাকবে না।

সুতরাং মানুষের উচিত, ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরি-বাকরি ইত্যাদি ক্ষেত্রে কুরআন-সুন্নাহ নির্দেশিত পন্থায় কাজ করা আবশ্যক। আর তা থেকে উপার্জিত অর্থ দ্বারা জীবিকা নির্বাহ অতি উত্তম।

এ কারণেই হালাল রুটি-রুজিকে ইবাদত কবুলের পূর্ব শর্ত করা হয়েছে। যার উপার্জন ও জীবিকা হালাল হবে। আল্লাহ তাআলার দরবারে কবুল হবে তার সব চাওয়া-পাওয়া। সে সব মুমিনের দোয়া ও প্রার্থনা আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য হবে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে পূতপবিত্র বস্তু আহারের জন্য সঠিক উপায়ে কাজ কিংবা ব্যবসা করার তাওফিক দান করুন। হালাল বস্তু খেয়ে তার বিধান বাস্তবায়নে কাজ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

চোখের অসুস্থতা নিরাময় ও দৃষ্টি শক্তি ফিরে পাওয়ার আমল

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

আল্লাহ তাআলা মানুষকে অনেক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সম্বন্বয়ে সৃষ্টি করেছেন। মানব দেহের প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গই গুরুত্বপূর্ণ। চোখ তার মধ্যে অন্যতম একটি। নানা কারণে মানুষের চোখে সমস্যা হয়। চোখ ওঠা থেকে শুরু করে দৃষ্টি শক্তিও হ্রাস পায়।

চোখের এ সব সমস্যা ও দৃষ্টি শক্তি ফিরে পেতে রয়েছে কুরআন হাদিসের আমল। তা থেকে কিছু তুলে ধরা হলো-

> اَللَّهُمَّ اِنِّى اَعُوْذُبِكَ مِنْ شَرِّ سَمْعِىْ وَ شَرِّ بَصَرِىْ وَ شَرِّ لِسَانِىْ وَ شَرِّ قَلْبِىْ وَ شَرِّ مَنِيِّىْ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন শাররি সাময়ি ওয়া শাররি বাসারি ওয়া সাররি লিসানি ওয়া সাররি ক্বালবি ওয়অ সাররি মানিয়্যি।

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আমার কানের অপকারিতা, চোখের অপকারিতা, জবানের অপকারিতা, অন্তরের অপকারিতা এবং বীর্জের অপকারিতা থেকে আশ্রয় চাই। (মিশকাত, আবু দাউদ)

সুতরাং যাদের চোখে সমস্যা বা অসুস্থতা রয়েছে তারা শুধু এভাবে বলবে-

اَللَّهُمَّ اِنِّى اَعُوْذُبِكَ مِنْ شَرِّ بَصَرِىْ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন শাররি বাসারি।
অর্থ : হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আমার চোখের অপকারিতা থেকে আশ্রয় চাই।

এ ছাড়া চোখের যাবতীয় সমস্যা ও দৃষ্টি শক্তি সুন্দর ও নিরাপদ থাকতে এ আমলগুলোও করা যেতে পারে। যাদের দৃষ্টি শক্তি কম; এমনকি যাদের দৃষ্টি শক্তি পুরোপুরিই হারিয়ে গেছে তারা যদি এ আমলটি করে তবে আল্লাহ তাআলা তাদের দৃষ্টি শক্তি ফিরিয়ে দেবেন।

> প্রত্যেক ফরজ নামাজের পরে আয়াতুল কুরসি পাঠ করা। তা পাঠ করার নিয়ম হলো- আয়াতুল কুরসি পাঠ করার সময় যখন (وَ لَا يَئُوْدُهُ حِفْظُهُمَا) ওয়ালা ইয়াউদুহু হিফজুহুমা’ এ আয়াতাংশটি পড়বে তখন ডান হাতের পাঁচটি আঙ্গুলের মাথা ডান চোখের ওপরে, বাম হাতের পাঁটটি আঙ্গুলের মাথা বাম চোখের ওপরে রেখে ১১ বার পড়তে হবে। (وَ لَا يَئُوْدُهُ حِفْظُهُمَا) ওয়ালা ইয়াউদুহু হিফজুহুমা ১১ বার পড়া হলে আঙ্গুলগুলো চোখ থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে।

অতঃপর (وَ هُوَ الْعَلِىُّ الْعَظِيْم) ‌ওয়া হুয়াল আলিয়ু্যল আজিম’ পড়ার মাধ্যমে আয়াতুল কুরসি পড়া শেষ হলে উল্লেখিত উভয় হাতের আঙ্গুলগুলোতে ফুঁ দিয়ে তা উভয় চোখের ওপর মাসেহ করে নেয়া।

আশা করা যায়, আল্লাহ তাআলা দৃষ্টি শক্তি ফিরিয়ে দেয়াসহ যাবতীয় অসুস্থতা থেকে চোখকে মুক্ত রাখবেন।

> আল্লাহর গুণ বাচক নাম (يَا شَكُوْرُ) ইয়া শাকুরু ৪১ বার পাঠ করে পানিতে ফুঁ দিয়ে; সেই পানি চোখে দিলে ইনশা আল্লাহ চোখকে রোগমুক্ত করবেন।

> প্রত্যেক নামাজের পর আল্লাহর গুণ বাচক নাম (يا نُوْرُ) ইয়া নুরু ১১ বার পাঠ করা। তবে তা পড়ার আগে ও পরে দরূদ শরিফ পাঠ করে নেয়া। দরূদ শরিফ পড়ে ১১ বার পড়ার পর ১০ আঙ্গুলে ফুঁ দিয়ে আগের ন্যায় উভয় চোখের ওপর মাসেহ করে নেয়া। আল্লাহর মেহেরবানী এ আমলেও দৃষ্টি শক্তি ভালো হবে।

> চোখের দৃষ্টি শক্তি ভালো রাখার জন্য ইমাম শাফেয়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহি নিয়মিত ৪টি কাজ করতে বলেছেন। আর তাহলো-
– সব সময় কেবলামুখী হয়ে বসার চেষ্টা করা;
– নিয়মিত ঘুমাতে যাওয়ার সময় উভয় চোখে সুরমা লাগানো;
– সবুজ গাছ-গাছালি তথা সবুজ জিনিসের দিকে বেশি বেশি দৃষ্টি দেয়া;
– পোশাক-পরিচ্ছদ পরিচ্ছন্ন রাখা।

> যদি কোনো ব্যক্তি চোখের ব্যাথা কিংবা চোখের সমস্যা নিপতিত হয়, তবে এ আয়াতটি ৩ বার পড়ে উভয় হাতের বৃদ্ধাঙ্গৃলের নখে ফুঁ দিয়ে উভয় চোখের ওপর মাসেহ করে নেয়।

فَكَشَفْنَا عَنكَ غِطَاءَكَ فَبَصَرُكَ الْيَوْمَ حَدِيدٌ
উচ্চারণ : ফাকাশাফনা আংকা গিত্বাআকা ফাবাসারুকাল ইয়াওমা হাদিদ। (সুরা ক্বাফ : আয়াত ২২)
অর্থ : তোমার সামনে থেকে পর্দা উন্মোচন করেছি; অতএব আজ তোমার দৃষ্টি প্রখর।’

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে চোখের যাবতীয় সমস্যা সমাধানে উল্লেখিত আমলগুলো যথাযথভাবে আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

নামাজে যেসব কাজের গুরুত্ব ও ফজিলত বেশি

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

ঈমান লাভের পর মানুষের প্রথম এবং প্রধান ইবাদত হলো নামাজ। নামাজের একটি বিধান হলো তা জামাআতের সঙ্গে আদায় করা। জামাআতের সঙ্গে নামাজ আদায় করা ওয়াজিব বা আবশ্যক।

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে জামাআতে নামাজ আদায়ের ব্যাপারে জোর নির্দেশ প্রদান করেছেন। আর জামাআতের ব্যাপারে অবহেলায়ও রয়েছে কঠোর সতর্কতা। জামাআতে নামাজে অংশগ্রহণের বিষয়ে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনেক বেশি গুরুত্ব ও ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। সে সম্পর্কে হাদিসের সুস্পষ্ট নির্দেশনাও রয়েছে।

জামাআতে নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত
> কোনো এক নামাজে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিছু লোককে পেলেন না। তখন তিনি বললেন, ‘আমার ইচ্ছে হয়, কাউকে কাঠ-খড়ি সংগ্রহ করতে বলি। তারপর আজান দিতে বলি। তারপর কাউকে নামাজ পড়াতে বলি। অতপর আমি তাদের কাছে যাই যারা জামাতে আসে না এবং কাঠ-খড়ি দিয়ে তাদেরকেসহ বাড়িঘর জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দেই।’ (বুখারি, মুসলিম)

জামাআতে নামাজের ফজিলত বর্ণনা প্রিয়নবি বলেছেন
> একাকি নামাজ আদায়ের চেয়ে জামাআতে নামাজ আদায়ে রয়েছে সাতশ’ গুণ বেশি মর্যাদা। (বুখারি, মুসলিম)

ইশা ও ফজর নামাজের জামাআতের গুরুত্ব
> হজরত উবাই ইবনে কা‘ব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে ফজরের নামায পড়ালেন। সালাম ফিরিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, অমুক কি (জামাআতে) এসেছে? লোকেরা বলল, ‘জী না’। তারপর আরেকজনের নাম নিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, অমুক কি আছে? লোকেরা বলল, ‘জী না’। তিনি বললেন, এ দুই নামাজ (ইশা ও ফজর) মুনাফেকদের জন্য আদায় করা সবচেয়ে কঠিন। তোমরা যদি জানতে যে, এই দুই নামাজে কী পরিমাণ সওয়াব নিহিত রয়েছে, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তাতে (জামাআতে) অংশগ্রহণ করতে।’ (আবু দাউদ, ইবনে খুজায়মা)

ইশা ও ফজর নামাজের গুরুত্ব বেশি হওয়ার কারণ হলো এ সময়ে মানুষ পরিবারের লোকদের সঙ্গে একান্তে সময় কাটায় কিংবা বিশ্রাম করে। ফলে জামাআত দুটিতে মানুষের অবহেলা ও গাফলতি বেশি হয়ে থাকে। তাই হাদিসে এ দুই ওয়াক্তের প্রতি বেশি উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করা হয়েছে।

তাকবিরে উলা ও প্রথম কাতারে অংশগ্রহণের ফজিলত
জামাআতে নামাজ আদায়ের সময় তাকবিরে উলা তথা প্রথম তাকবির থেকে জামাআতে অংশ গ্রহণ করা ও প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর ফজিলত অনেক বেশি। হাদিসে এসেছে-
‘জামাআতের প্রথম কাতার (সম্মান ও মর্যাদার দিক থেকে) ফেরেশতাদের কাতারের অনুরূপ। তোমরা যদি জানতে যে, এটা কত মর্যাদাপূর্ণ তাহলে এর জন্য প্রতিযোগিতা করতে।’

অন্য হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে ৪০ দিন তাকবিরে উলার সাথে জামাতে নামায আদায় করবে তার জন্য দুটি মুক্তিনামা লেখা হবে। (তার একটি হলো) জাহান্নাম থেকে মুক্তি এবং (অন্যটি হলো) নেফাক থেকে মুক্তি।’ (তিরমিজি)

মুসলিম উম্মাহর উচিত জামাআতে নামাজ আদায়ে আগে থেকে প্রস্তুতি গ্রহণ করা আবশ্যক। যেন ধীরস্থির ভাবে মসজিদে গিয়ে যথাযথভাবে সুন্নাত নামাজ আদায় করে প্রথম কাতারে তাকবিরে উলার সঙ্গে নামাজ আদায় করা যায়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জামাআতে নামাজ আদায় করার মাধ্যমে ঘোষিত ফজিলত ও মর্যাদা লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

জাগো নিউজ

আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করা যে কারণে জরুরি

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

মানুষ সাধারণত দুঃখ পেলে বিমর্ষ হয়, মন খারাপ করে, হাহুতাশ করে থাকে আবার সুখ বা খুশির সংবাদে আনন্দ প্রকাশ করে। কিন্তু যে দুঃখ ও সুখ মানুষকে অবৈধ কাজের দিকে ধাবিত করে তা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-
‘এটা এ জন্য যে, তোমরা যা হারিয়েছ তাতে যেন তোমরা বিমর্ষ না হও এবং যা তিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন তার জন্য তোমরা আনন্দিত না হও। গর্বিত ও অহংকারীদেরকে আল্লাহ পছন্দ করেন না।’ (সুরা হাদিদ : আয়াত ২৩)

আল্লাহ তাআলা এ আয়াতে মুমিনদেরকে দুঃখে হাহুতাশ ও আফসোস এবং আনন্দে গৌরব ও অহংকার করা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন।

অনেক সময় মানুষ সুখ ও দুঃখে পড়লে নিজেদের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তাই দুখে পড়লে হায়! হায়! করেন আবর আনন্দের সময় হুররে! হুররে! করে লাফিয়ে ওঠেন। হাদিসে পাকে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন-
‘আমাকে দু’টি শব্দ উচ্চারণ থেকে নিষেধ করা হয়েছে। (তার একটি হলো) দুঃখের সময় বোকামিসুলভ (হায়! হায়! শব্দ) আর (অন্যটি হলো আনন্দের অতিমাত্রায়) পাপসুলভ (হুররে! বা হাহ্হা) শব্দ। (আল্লাহর পক্ষ থেকে) নেয়ামত পেলে (পাপ হয় এমন শব্দে) ‘হুররা বা হাহ্হা’ করা। আর বিপদের সময় বোকিামিবশতঃ হায়!, আফসোস করা। অর্থাৎ বড় নিঃশ্বাস ফেলা।’

অন্য হাদিসে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘অবশ্যই প্রথম আঘাতের সময়ই ধৈর্যের পরিচয় পাওয়া যায়।’

বিপদ ও দুঃখের অনবরত আবেগ মানুষকে অশান্তির মাধ্যমে শেষ করে দিতে পারে। অনেকে এক্ষেত্রে নিজেদের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।

আবার কোনো মানুষ অত্যাধিক সুখী হয় কিংবা নেয়ামত লাভ করে; তাহলে সে সুখ ও আনন্দের অতিশয্যে মহান শ্রষ্ঠার নেয়ামতকে ভুলে যায়। অন্যায় ও অহংকারের দিকে ধাবিত হয় শালিনতা ও ন্যায়বোধের সীমা লঙ্ঘন করে বসে।

এ কারণেই আবেগের অনুগামী হয়ে যেমন কাউকে বেশি তোশামোদ বা ভালোবাসা প্রদর্শন ঠিক নয়; তেমনি রাগ-ক্ষোভ ও দুঃখে কাউকে অতিমাত্রায় ঘৃণা করাও ঠিক নয়। সর্বাবস্থায় আল্লাহর ওপর ভরসা ও ধৈর্যের পরিচয় দেয়া আবশ্যক। হাদিসে এসেছে-

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যাকে তুমি ভালোবাসবে, তাকে তুমি সংযত পরিমাণে ভালোবাসবে। কারণ, এমন দিনও আসতে পারে যখন তুমি তাকে ঘৃণা করবে। আবার যাকে তুমি ঘৃণা করবে তাকে তুমি সংযত পরিমাণে ঘৃণা কর; কারণ, এমন দিন আসতে পারে যখন তুমি তাকে ভালোবাসবে।’

আবেগের অতিশয্য থেকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করতে আল্লাহর কাছে বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা ও আশ্রয় চাওয়া জরুরি। হাদিসে এসেছে-
(اَللَّهُمَّ اِنِّى) اَسْئَالُكَ الْعَدْلَ فِىْ الْغَضَبِ وَ الرِّضَا
উচ্চারণ : (আল্লাহুম্মা ইন্নি) আসআলুকাল আদলা ফিল গাদাবি ওয়ার রিদা।’
অর্থ : (হে আল্লাহ!) আমি আপনার কাছে ক্রোধ ও সন্তুষ্টি উভয় অবস্থায়ই মধ্যমপন্থা কামনা করি।

কোনো ব্যক্তি যখন নিজেদের আবেগের মুখে লাগাম পরিয়ে দেয়, তখন অতি আনন্দ ও দুঃখের মাঝেও তারা সামঞ্জস্য বজায় রাখতে পারে। সুতরাং বিপদাপদ ও হাসি-খুশি উভয় অবস্থায় আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। কেননা এ দুটি জিনিসই মানুষকে আল্লাহর অবাধ্যতায় পৌছিয়ে দেয়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সুখ-দুঃখ সর্বাবস্থায় আল্লাহর ওপর ভরসা ও ধৈর্য ধারণ করার মাধ্যমে একনিষ্ঠ থাকার তাওফিক দান করুন। দুঃখ ও আনন্দের অতিশয্যে তাঁর অবাধ্যতা থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

কুরআন তিলাওয়াতের অডিও/এমপিথ্রি mishary rashid al afasy

কুরআন তিলাওয়াতের অডিও/এমপিথ্রিডাউনলোড করুন সম্পূর্ণ ৩০ পারা কুরআন তিলাওয়াতের অডিও/এমপিথ্রি। কুরআন তিলাওয়াত করেছেন মিশারি রশিদ আল-আফাসি। এখানে আপনি প্রতিটি সূরা আলাদা আলাদা এমপিথ্রি (128 kbps) ফাইল হিসেবে ডাউনলোড করতে পারবেন। আপনার সংগ্রহে না থাকলে পরিস্কার শব্দ সহ মিশারি রশিদ আল-আফাসি’র সুললিত কণ্ঠে কুরআন তিলাওয়াত শুনতে এখনই ডাউনলোড করুন…
Bio: Mishary Rashid Al-Afasy was born in Kuwait in 1976 and is a Kuwaiti national and a qari. He is the Imam of Masjid Al-Kabir (Grand Mosque (Kuwait)) in Kuwait City, and leads the taraweeh prayers in Ramadan every year. He studied in the College of the Quran and Islamic Studies at the Islamic University of Madinah and has specialized in the ten readings and translations of the Quran. Also, he has been certified by a number of scholars of Quran.

Download
001.mp3811.0 KB002.mp3115.6 MB003.mp372.1 MB004.mp373.2 MB005.mp357.7 MB006.mp366.4 MB007.mp376.2 MB008.mp328.0 MB009.mp355.3 MB010.mp341.4 MB011.mp342.5 MB012.mp338.5 MB013.mp318.8 MB014.mp318.7 MB015.mp314.6 MB016.mp338.8 MB017.mp330.5 MB018.mp330.7 MB019.mp319.6 MB020.mp324.8 MB021.mp324.2 MB022.mp327.0 MB023.mp322.9 MB024.mp328.1 MB025.mp316.8 MB026.mp328.2 MB027.mp324.0 MB028.mp329.0 MB029.mp319.6 MB030.mp317.9 MB031.mp310.9 MB032.mp38.0 MB033.mp326.8 MB034.mp317.4 MB035.mp316.1 MB036.mp316.2 MB037.mp322.4 MB038.mp316.3 MB039.mp324.9 MB040.mp324.2 MB041.mp317.7 MB042.mp317.9 MB043.mp318.8 MB044.mp39.0 MB045.mp39.9 MB046.mp314.6 MB047.mp311.3 MB048.mp311.0 MB049.mp37.9 MB050.mp38.6 MB051.mp38.3 MB052.mp37.4 MB053.mp37.1 MB054.mp37.4 MB055.mp310.4 MB056.mp311.0 MB057.mp312.6 MB058.mp39.4 MB059.mp39.6 MB060.mp36.9 MB061.mp34.5 MB062.mp33.3 MB063.mp34.0 MB064.mp35.0 MB065.mp35.5 MB066.mp35.7 MB067.mp37.0 MB068.mp37.0 MB069.mp36.2 MB070.mp34.9 MB071.mp34.3 MB072.mp35.1 MB073.mp33.7 MB074.mp35.0 MB075.mp33.3 MB076.mp34.8 MB077.mp34.6 MB078.mp34.5 MB079.mp33.9 MB080.mp33.4 MB081.mp32.4 MB082.mp32.1 MB083.mp34.8 MB084.mp32.5 MB085.mp33.0 MB086.mp31.6 MB087.mp31.7 MB088.mp32.1 MB089.mp33.3 MB090.mp31.9 MB091.mp31.3 MB092.mp31.7 MB093.mp31.0 MB094.mp3697.6 KB095.mp31.0 MB096.mp31.5 MB097.mp3731.1 KB098.mp32.0 MB099.mp3962.9 KB100.mp31.1 MB101.mp31.0 MB102.mp31.0 MB103.mp3453.9 KB104.mp3932.3 KB105.mp3786.6 KB106.mp3690.3 KB107.mp3925.0 KB108.mp3408.6 KB109.mp3873.5 KB110.mp3571.5 KB111.mp3675.2 KB112.mp3364.6 KB113.mp3542.1 KB114.mp3807.4 KB

ধূমপানের ক্ষতি

>>> ধূমপানের ক্ষতি: <<>> স্বাস্থ্যগত ক্ষতি: <<>> পরিবেশগত ক্ষতিঃ <<>>> নৈতিক ও সামাজিক ক্ষতিঃ <<>>> আর্থিক ক্ষতিঃ <<<
ধূমপানের ফলে কষ্টার্জিত অর্থের বিরাট অপচয় হয়। আল্লাহর দেওয়া আমানত আগুনে পুড়িয়ে শেষ করা হয়।
১. প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা এ ক্ষতিকর খাতে ব্যয় হচ্ছে।
২. ধূমপানের ফলে সৃষ্ট রোগের চিকিৎসায় কত মানুষ সর্বহারা হচ্ছে।
৩. ধূমপান একটি অগ্নিকাণ্ডের মতো, যে অগ্নিকাণ্ডে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার সম্পদ ও আল্লাহর দেওয়া মানুষের অসংখ্য হার্ট (heart) ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
আমাদের বাংলাদেশে প্রতি বছর বিড়ি-সিগারেটের পেছনে খরচ প্রায় ২৯১২ কোটি টাকা। বার্ষিক এ খরচের টাকা দিয়ে ৪৮৫ কোটি ডিম বা ২৯ কোটি এক কেজি ওজনের মুরগি বা ২৯ লাখ গরু বা ১৪ লাখ টন চাল কেনা সম্ভব বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে। (সূত্র: দৈনিক আমারদেশ, ১৯/৫/২০১৪)

মৃত্যুক স্মরণ

>>> মৃত্যুক স্মরণ <<>> এ কারণে পরকালের পাথেয় সঞ্চয় করা : <<<
প্রকৃত বুদ্ধিমান সেই যে দুনিয়াকে পরকালের পাথেয় সঞ্চয়ের স্থান হিসাবে গ্রহণ করে। যেদিন তার সাথে কেউ থাকবে না তার আমল ব্যতীত। যা যথাযথভাবে না থাকলে লজ্জিত হ’তে হবে। ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে ছিলাম। এমতাবস্থায় এক আনসারী সাহাবী, নবী (ﷺ)-এর নিকট এসে তাকে সালাম দিলো। অতঃপর জিজ্ঞাসা করলো,
يَا رَسُولَ اللَّهِ أَىُّ الْمُؤْمِنِينَ أَفْضَلُ قَالَ ‏:‏أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا‏.‏ قَالَ فَأَىُّ الْمُؤْمِنِينَ أَكْيَسُ قَالَ ‏:‏أَكْثَرُهُمْ لِلْمَوْتِ ذِكْرًا وَأَحْسَنُهُمْ لِمَا بَعْدَهُ اسْتِعْدَادًا أُولَئِكَ الأَكْيَاسُ
হে আল্লাহর রাসূল! মুমিনদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উত্তম কে? তিনি বলেনঃ তাদের মধ্যে যার চরিত্র অধিক উত্তম। সে পুনরায় জিজ্ঞেস করলো, মুমিনদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বুদ্ধিমান কে? তিনি বলেন, তাদের মধ্যে যে মৃত্যুকে অধিক স্মরণ করে এবং মৃত্যু পরবর্তী জীবনের জন্য উত্তমরূপে প্রস্তুতি গ্রহণ করে, তারা সর্বাধিক বুদ্ধিমান। (ইবনে মাজাহ ৪২৫৯, হাসান)
.
আর তাই তুমি পরকালের জন্য পাথেয় সঞ্চয় কর এবং ইবাদতে দাঁড়াও আল্লাহর জন্য। আর উত্তম পুঁজির জন্য কাজ কর। দুনিয়ার জন্য বেশী সঞ্চয় করো না কারণ মাল জমা করা হয় নিঃশেষ হওয়ার জন্য। তুমি কি চাও নেককারদের বন্ধু হ’তে যাদের পুঁজি রয়েছে অথচ তুমি পুঁজিহীন’।
.
আর তাই আমাদের প্রার্থনাঃ
رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَتَوَفَّنَا مُسْلِمِينَ
হে আমাদের রব! আমাদের উপর ধৈর্যধারণের ক্ষমতা প্রদান করুন এবং আমাদেরকে মুসলিম হিসাবে মৃত্যু দান করুন। (আ‘রাফ, ৭/১২৬)
আমিন

অশ্লীলতা ও পর্নোগ্রাফি থেকে মুক্ত থাকার দোয়া

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

প্রযুক্তির উচ্চতর আবিষ্কারগুলো আল্লাহর একান্ত রহমত ও তার শ্রেষ্ঠত্বের নিদর্শন। আল্লাহর সৃষ্টির অপার রহস্য উদঘাটনে প্রযুক্তির নানা দিক ও আবিষ্কারগুলোই এর বড় দৃষ্টান্ত।

কিন্তু তথ্য প্রযুক্তি অপব্যবহারের ফলে মানুষ নানান ধরনের অন্যায়-অপরাধ তথা অশ্লীলতায় নিয়োজিত হচ্ছে। যা উঠতি বয়সী কিশোর যুবক থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধদেরকেও অন্যায় অপরাধের দিকে অনেক বেশি ধাবিত করছে।

হাদিসের বর্ণিত দোয়াটির নিয়মিত আমলের ফলে দুনিয়ার সব নিকৃষ্ট কাজ যেমন- পর্নোগ্রাফি, অশ্লীলতা, চারিত্রিক কামনা-বাসনা, পরনারীর প্রতি কুদৃষ্টিসহ বিভিন্ন অপকর্ম থেকে দূরে থাকা যাবে। হাদিসে উল্লেখিত দোয়াটি নামাজের সেজদায় বেশি বেশি পড়াই সর্বোত্তম। আর তাহলো-

হজরত যিয়াদ ইবনে ইলাক্বাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তার চাচা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ مُنْكَرَاتِ الأَخْلاَقِ وَالأَعْمَالِ وَالأَهْوَاءِ
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন মুনকারাতিল আখলাক্বি ওয়াল আ’মালি ওয়াল আহওয়ায়ি।’
অর্থ : হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার কাছে খারাপ চরিত্র, অন্যায় কাজ ও কুপ্রবৃত্তির অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় চাই।’ (তিরমিজি)

সুতরাং তথ্য প্রযুক্তিসহ দুনিয়ার যাবতীয় অশ্লীলতা থেকে মুক্ত থাকতে কুরআন-সুন্নাহর দিক-নির্দেশনা পালনের পাশাপাশি প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শেখানো দোয়া ও আমল অত্যন্ত জরুরি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে নিয়মিত নামাজ আদায়ের পাশাপাশি সিজদায় দোয়াটি বেশি বেশি পড়ার তাওফিক দান করুন। অশ্লীলতা ও বেহায়পনা থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

হজ পালন শেষে দেশে ফেরা হাজিদের বিশেষ আমল

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

বাইতুল্লাহর জেয়ারতকারীরা আল্লাহর মেহমান। অনেক কষ্ট করে শারীরিক ও আর্থিক ইবাদত হজ সম্পাদনের পর হজ পালনকারীদের উদ্দেশ্যে করণীয় ঘোষণা করে আল্লাহ তাআলা বলেন-

‘অতঃপর যখন তোমরা (হজের) যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করে নেবে, তখন (মিনায়) এমনভাবে আল্লাহর (জিকির) স্মরণ করবে, যেমন (জাহেলি যুগে) তোমরা তোমাদের পিতৃপুরুষগণকে স্মরণ করতে অথবা তার চেয়েও বেশি গভীরভাবে (স্মরণ করবে)। এমন কিছু লোক আছে যারা বলে- হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দুনিয়াতে (সাওয়াব) দান কর।’ মূলত তাদের জন্য পরকালে (কল্যাণের) কোনো অংশ নেই।

পক্ষান্তরে তাদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা বলে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দান কর এবং পরকালেও কল্যাণ দান কর। আর আমাদেরকে দোজখের যন্ত্রণা থেকে রক্ষা কর।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ২০০-২০১)

হজ সম্পাদন করতে সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায়। ইসলাম পূর্ব যুগে আরবের লোকেরা হজ সম্পাদন করেই মিনায় মেলার আয়োজন করতো। তাই আল্লাহ তাআলা জাহেলি যুগের সে রীতির পরিবর্তন করে মানুষকে নির্দেশ দেন যে, হজের পর মেলা নয় বরং আল্লাহর স্মরণই সর্বোত্তম। আর তা মৃত্যু পর্যন্ত অব্যাহত রাখা আবশ্যক।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হজের উদ্দেশ্যে যাওয়া লোকদেরকে তাদের নিজ নিজ দেশে ফিরে কি করতে হবে তা বর্ণনা করেছেন প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। হাদিসে এসেছে-

> হজরত কাব বিন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কোনো সফর থেকে ফিরে আসতেন, তখন মসজিদে (নফল) নামাজ আদায় করতেন।’ (বুখারি)

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে আর্থিক ও শারীরিক ইবাদত হজের দীর্ঘ সফর শেষে যখন কোনো মানুষ নিজ বাড়িতে ফিরবে তার উচিত নিজ মহল্লার মসজিদে গিয়ে দু রাকাআত নামাজ আদায় করা অতঃপর ঘরে ফেরা। এ নামাজ আদায় করা প্রিয়নবির অনুসরণীয় সুন্নাত আমল।’

মসজিদ থেকে দু’ রাকাআত নামাজ আদায় করে নিজ ঘরে প্রবেশের পরও শুকরিয়াতান দু’ রাকাআত নামাজ আদায় করা মোস্তাহাব। হাদিসে এসেছে-

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যখন তুমি ঘর থেকে বের হবে, তখন দু রাকাআত নামাজ পড়বে। এ নামাজ তোমাকে ঘরের বাইরের বিপদাপদ থেকে হেফাজত করবে। আর যখন ঘরে ফিরবে, তখনও দু’ রাকাআত নামাজ আদায় করবে। এ নামাজ তোমাকে ঘরের অভ্যন্তরীণ বালা-মুসিবত থেকে হেফাজত করবে।’ (মুসনাদে বাজ্জার)

নিরাপদে হজ পালন করে দেশে ফিরে আসার পর শুকরিয়াস্বরূপ গরিব-মিসকিন ও আত্মীয়স্বজনকে খাবারের দাওয়াত দেয়াও বৈধ। হাদিসে এসেছে-

> হজরত জাবের বিন আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মদিনায় এসেছেন, তখন একটি পশু জবাইয়ের নির্দেশ দেন। জবাইয়ের পর সাহাবায়ে কেরাম তা থেকে আহার করেছেন।’ (বুখারি)

হজ পরবর্তী সময়ে বেশি বেশি এ জিকির করা-

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
উচ্চারণ : রাব্বানা আতিনা ফিদ্‌দুনিয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখেরাতি হাসানাতাও ওয়া ক্বিনা আজাবান নার।’
অর্থ : ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দান কর এবং পরকালেও কল্যাণ দান কর। আর আমাদেরকে দোজখের যন্ত্রণাদায়ক আগুণ থেকে রক্ষা কর।’

মনে রাখতে হবে

লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে হজ পরবর্তী সময়ে বিশাল আয়োজনের ব্যবস্থা করা ইসলাম সমর্থন করে না। যেখানে সমাজের উঁচু থেকে নিচু সব শ্রেণির মানুষ আসবে আর আয়োজনকারীকে বাহবা দেবে। এমনটি যেন না হয়। মূল কথা হলো- হজ পালনকারীর প্রতিটি কাজই হবে আল্লাহ সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে।

সুস্থ শরীরে সুন্দর ও নিরাপদে হজ পালন করে বাড়ি ফেরার পর বেশি বেশি আল্লাহর স্মরণে নিজেকে নিয়োজিত করাই হবে একজন হজ পালনকারীর কাজ। শুধু তা-ই নয়, হজ পরবর্তী জীবনের প্রতিটি কাজই হবে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে।

তাই হজ থেকে ফিরে আসার পর স্থানীয় লোকজন যেমন হজ পালনকারীকে শুভেচ্ছা জানাবে তেমনি হজ পালনকারী ব্যক্তিও তার শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্য কল্যাণের দোয়া করবেন। পরস্পর মুসাহাফা ও কোলাকুলি করবেন। দোয়ার আয়োজন করবেন। এমনটি করা মোস্তাহাব।

তবে কোনোভাবেই ফুল দিয়ে বরণ বা ফুলের মালা বিনিময় কিংবা স্লোগান দেয়াসহ ইত্যাদি আয়োজন করা ঠিক নয়।

হজ পালনকারীরা পবিত্র নগরী মক্কা থেকে আসার সময় যদি জমজমের পানি নিয়ে আসেন তবে তা লোকদেরকে পান করানো মোস্তাহাব। অসুস্থ ব্যক্তিদের আরোগ্য লাভের নিয়তে পান করানোও বৈধ। হাদিসে এসেছে-

‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (বাইতুল্লাহ জেয়ারত করে আসার সময়) জমজমের পানি সঙ্গে নিয়ে আসতেন।’ (তিরমিজি)

সর্বোপরি কথা হলো, হজে মাবরুর নসিব হলে হজপালনকারী ব্যক্তি সদ্য প্রসূত ভূমিষ্ঠ শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে যায়। তাই হজ পালনকারী ব্যক্তি হজ পরবর্তী জীবনে নিজেকে নিষ্পাপ কুলুষমুক্ত রাখতে দুনিয়ার সব কাজেই আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করা একান্ত জরুরি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব হজ পালনকারীকে কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক আমৃত্যু জীবন-যাপন করার তাওফিক দান করুন। হজ করেছেন বিধায় নামাজ আদায় করা দরকার কিংবা লোকে হাজি বলবে এ নিয়ত পরিহার করার তাওফিক দান করুন। আমিন।