সন্তানের জন্য যে দোয়া করবেন বাবা-মা

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

সন্তানের জন্য পিতামাতার দোয়ার চেয়ে মূল্যবান আর কিছু নেই। সন্তানের জন্য পিতামাতার দোয়া কতটা কার্যকরী তার প্রমাণ দিয়েছেন প্রিয়নবি। তিনি বলেছেন, কোনো সন্তান যদি পিতামাতার প্রতি ভালোবাসার দৃষ্টিতে তাকায়, আল্লাহ তাআলা সে সন্তানকে সাদকার সাওয়াব দান করেন।

মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম যখন প্রাণপ্রিয় সন্তান ও স্ত্রীকে জনমানবহীন মরুভূমি মক্কার সাফা-মারওয়া পাহাড়ের উপত্যকায় রেখে যান। তখন তাদের জন্য কল্যাণের দোয়া করেছিলেন। দোয়াটি মহান আল্লাহ কবুল করেন এবং পছন্দ করেন।

কুরআনুল কারিমে সে দোয়াটি পুনরায় উল্লেখ করে দুনিয়ার মানুষকে তাদের সন্তানদের জন্য এভাবে দোয়া করতে উদ্বুদ্ধ করেন। যাতে মানুষ সন্তানদের জন্য এভাবে দোয়া করেন। দোয়াটি তুলে ধরা হলো-

رَبَّنَا لِيُقِيمُوا الصَّلَاةَ فَاجْعَلْ أَفْئِدَةً مِّنَ النَّاسِ تَهْوِي إِلَيْهِمْ وَارْزُقْهُم مِّنَ الثَّمَرَاتِ لَعَلَّهُمْ يَشْكُرُونَ

উচ্চারণ : রাব্বানা লিয়ুক্বিমুস সালাতা ফাঝআল আফ্‌ইদাতাম মিনান নাসি তাহ্‌ওয়ি ইলাইহিম ওয়ারযুক্হুম মিনাছ ছামারাতি লাআল্লাহুম ইয়াশকুরুন। (সুরা ইবরাহিম : আয়াত ৩৭)

অর্থ : হে আমার প্রতিপালক! তারা (সন্তান-সন্তুতি) যাতে নামাজ প্রতিষ্ঠা করে। কাজেই তুমি মানুষের অন্তরকে তাদের প্রতি অনুরাগী করে দাও। আর ফল-ফলাদি দিয়ে তাদের জীবিকার ব্যবস্থা কর; যাতে তারা (আল্লাহ তাআলার) শুকরিয়া আদায় করতে পারে।’

প্রাণপ্রিয় সন্তানের জন্য পিতামাতার পক্ষ থেকে এ রকম উত্তম দোয়া করা হলে, আল্লাহ তাআলা সে সন্তানকে নামাজি হিসেবে কবুল করবেন। উত্তম বন্ধু ও রিজিক দান করবেন। আল্লাহর পরিপূর্ণ শুকরিয়অ আদায় করবে সন্তান।

পিতামাতা যদি সন্তানের জন্য এভাবে দোয়া করেন, আর আল্লাহ তাআলা পিতামাতার সে দোয়া কবুল করেন। তবে বংশ পরম্বরায় এসব পিতামাতাকে আল্লাহ তাআলা সাদকায়ে জারিয়া দান করবেন। যা তাদের পরকালের জীবনের মহা পাথেয়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব পিতামাতাকে সন্তানের জন্য কল্যাণের দোয়া করার তাওফিক দান করুন। পিতামাতার দোয়ায় সন্তানদেরকে নামাজি হওয়ার তাওফিক দান করুন। দুনিয়ায় উত্তম বন্ধু ও উত্তর রিজিক দান করুন। সর্বোপরি মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

স্বামী-স্ত্রীর যে নিয়ম মেনে চলা জরুরি

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

মুসলিম যুবক-যুবতির মাঝে ইজাব-কবুলের মাধ্যমে যে সম্পর্কের সূচনা হয় তাহলো বিয়ে। ইসলাম এ বিয়ের মাধ্যমেই দুই পরিবারের দুইজন যুবক-যুবতির মাঝে আজীবনের জন্য সেতুবন্ধন তৈরি করে দেয়। বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর নারী-পুরুষ উভয়ের সুসম্পর্ক বজায় রাখতে প্রত্যেকেরই রয়েছে আলাদা আলাদা দায়িত্ব ও কর্তব্য। যা পালনে ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে শান্তি সুনিশ্চিত হয়।

ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনের শান্তি ও স্বস্থি বজায় রাখতে স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক অধিকারগুলো যথাযথ আদায় করা জরুরি। আর তাহলো-

স্ত্রীর সঙ্গে স্বামীর করণীয়

> স্ত্রীর সাথে সবসময় ভালো আচরণ করা।
> স্ত্রীর কোনো কথায় বা কাজে কষ্ট পেলে ধৈর্য্য ধারণ করা।
> স্ত্রী উচ্ছৃঙ্খল, বেপর্দা চলাফেরা করতে থাকলে নম্র ভাষায় তাকে বোঝানো।
> সামান্য বিষয় নিয়ে স্ত্রীর সাথে ঝগড়া-বিবাদ না করা; কথায় কথায় ধমক না দেয়া এবং রাগ না করা।
> স্ত্রীর আত্মমর্যাদায় আঘাত আসে এমন বিষয়ে কথা না বলা এবং সংযত থাকা।
> সন্দেহবশতঃ শুধু শুধু স্ত্রীর প্রতি কুধারণা না করা।
> স্ত্রীর সম্পর্কে উদাসীন না থাকা।
> সামর্থ্যানুযায়ী স্ত্রীর খোরপোষ দেয়া। তবে খোরপোষের নামে অযথা অপচয় যেন না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা।
> স্ত্রীকে নামাজ পড়া এবং দ্বীনের আহকাম মেনে চলার জন্য উৎসাহ দিতে থাকা।
> স্ত্রীদেরকে হায়েয-নেফাসের মাসআলাগুলো ভালোভাবে শিক্ষা দেয়া। ইসলামি শরীয়তের পরিপন্থী কাজ থেকে বিরত রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করা।
> একের অধিক স্ত্রী থাকলে সবার মাঝে সমতা রক্ষা করা জরুরি।
> স্ত্রীদের চাহিদানুযায়ী তাদের সাঙ্গে মেলামেশা করা। তাদের চাহিদার প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া। তাদের কল্যাণকর মতামতের ব্যাপারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া।
> স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া আজল না করা। অর্থাৎ মেলামেশার সময় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত স্বাভাবিক স্থান ত্যাগ না করা।
> একান্ত নিরুপায় না হলে স্ত্রীকে তালাক না দেয়া। কেননা ইসলামে সবচেয়ে নিকৃষ্ট বৈধ কাজ হলো তালাক। যদি তালাক দিতেই হয় তবে ইসলামি শরিয়তের আলোকে তালাক প্রদান করা।
> স্ত্রীর স্বাভাবিক চাহিদা অনুযায়ী থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা।
> স্ত্রীকে নিয়ে মাঝে মাঝে নিকটাত্মীয়দের সাথে দেখা-সাক্ষাত করা। স্বামী সময় না পেলে অন্তত স্ত্রীদেরকে আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাতের সুযোগ করে দেয়া।
> কোনোভাবেই স্ত্রীর সঙ্গে মেলামেশা বর্ণনা বা চিত্র অন্যের কাছে প্রকাশ না করা।
> স্ত্রীর অধিকারের প্রতি সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরও যদি স্ত্রী বেপরোয়া হয় তবে প্রয়োজনে স্ত্রীকে প্রথমে বারবার সতর্ক করা। অতঃপর শাসন করা। তবে ইসলামি শরীয়ত যতটুকু অনুমতি দিয়েছে তার চেয়ে বেশি শাসন না করা।

স্বামীর সঙ্গে স্ত্রীর করণীয়

> সব সময় স্বামীর মন জয় করার চেষ্টা করা।
> স্বামীর সাথে অসংযত আচরণ না করা। স্বামীকে কষ্ট না দেয়া।
> শরীয়তসম্মত প্রত্যেক কাজে স্বামীর আনুগত্য করা। গুনাহ এবং শরীয়ত বিরোধী কাজে অপারগতা তুলে ধরা এবং স্বামীকে নরম ভাষায় বোঝানো।
> প্রয়োজনাতিরিক্ত ভরণ-পোষণ দাবি না করা।
> পরপুরুষের সাথে কোনো ধরনের সম্পর্ক না রাখা।
> স্বামীর অনুমতি ছাড়া কাউকে ঘরে ঢোকার অনুমিত না দেয়া।
> অনুমতি ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়া।
> স্বামীর সম্পদ হেফাযত করা। অনুমতি ছাড়া সেখান থেকে কাউকে কোনো কিছু না দেয়া।
> স্বামীকে অসন্তুষ্ট করে অতিরিক্ত নফল নামাযে মশগুল না থাকা। অতিরিক্ত নফল রোযা না রাখা।
> স্বামী মেলামেশার জন্য আহবান করলে শরীয়তসম্মত কোনো ওযর না থাকলে আপত্তি না করা।
> স্বামীর আমানত হিসেবে নিজের ইজ্জত-আব্রু হেফাযত করা। কোনো ধরনের খেয়ানত না করা।
> স্বামী দরিদ্র কিংবা অসুন্দর হওয়ার কারণে তাকে তুচ্ছ না করা।
> স্বামীকে কোনো গুনাহের কাজ করতে দেখলে আদবের সাথে তাকে বিরত রাখা।
> স্বামীর নাম ধরে না ডাকাই উত্তম।
> কারো কাছে স্বামীর বদনাম, দোষ-ত্রুটি বর্ণনা না করা।
> শ্বশুর-শাশুড়িকে সম্মানের পাত্র মনে করা। তাদেরকে ভক্তি-শ্রদ্ধা করা। ঝগড়া-বিবাদ কিংবা অন্য কোনো উপায়ে তাদের মনে কষ্ট না দেয়া।
> সন্তানদের লালন-পালনে অবহেলা না করা।

সুখী দাম্পত্য জীবন গঠনে স্বামী-স্ত্রীকে তাদের পারস্পরিক দায়িত্ব ও অধিকারগুলোর প্রতি যথাযথ ভূমিকা পালন করা জরুরি।

আল্লাহ তআলা মুসলিম উম্মাহর সব স্বামী-স্ত্রীকে তাদের দায়িত্বগুলো যথাযথ পালনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

নির্ধারিত সময়ে নামাজ পড়তে না পারলে কী করবেন?

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

আল্লাহ তাআলা বান্দার জন্য প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন। আর এ নামাজ নির্ধারিত সময়ে আদায় করাও ফরজ। প্রত্যেক ওয়াক্ত নামাজের জন্যই নির্ধারণ করা আছে। ওয়াক্ত বা সময় চলে গেলে সে নামাজের কাজা আদায় করা যায়। নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন-

‘নিশ্চয় নামাজকে ঈমানদারের জন্য নির্ধারিত সময়ে (আদায় করা) আবশ্যক কর্তব্য করা হয়েছে।’ (সুরা নিসা : আয়াত ১০৩)

এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা মানুষকে ওয়াক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নামাজ আদায়ের তাগিদ দিয়েছেন। তাই কোনো শরয়ি প্রয়োজন ছাড়া এক ওয়াক্তের নামাজ অন্য ওয়াক্তে পড়া শুদ্ধ নয়।

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেছেন নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায়কে সবচেয়ে বেশি ফজিলতময়। হাদিসে এসেছে-

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম; কোন আমলটি সবচেয়ে বেশি ফজিলতময়? তিনি বলেন, ‘নামাজকে তার সময় মতো (নির্ধারিত সময়ে) আদায় করা।’ (বুখারি ও মুসলিম)

যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে নির্ধারিত ওয়াক্তে নামাজ ছেড়ে দেয় তথা আদায় না করে তবে সে কুফরি করলো। ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ ছেড়ে দেয়া কবিরা গোনাহ। নামাজ ছেড়ে দেয়া সম্পর্কে অনেক সতর্কতা এসেছে। যার কয়েকটি তুলে ধরা হলো-

– হজরত জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি- মানুষের এবং শিরক ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হলো নামাজ পরিহার করা।’ (মুসলিম)

– হজরত বুরাইদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ণনা করেছেন, আমাদের এবং মুনাফিকদের মধ্যে পার্থক্য হলো নামাজের অঙ্গীকার। যে নামাজ ছেড়ে দিল সে কাফের হয়ে গেল।’ (তিরমিজি)

বিখ্যাত তাবেয়ি হজরত শফিক বিন আব্দুল্লাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবাদের নামাজ ছাড়া অন্য কোনো আমল পরিহারকে কুফরি মনে করতেন না।’ (তিরমিজি)

সুতরাং কোনো কারণে কেউ নির্ধারিত সময়ে নামাজ পড়তে না পারলে পরবর্তী সময়ে তা আদায় করার হুকুম হলো-

> ফরজ নামাজের কাজা আদায় করা ফরজ।
> ওয়াজিব নামাজের (বিতরসহ) কাজা আদায় করা ওয়াজিব।
> কোনো কারণে কেউ নির্ধারিত সময়ে কোনো নামাজ আদায় করার মানত করলে তা যদি যথাসময়ে আদায় করতে না পারে তবে তা পরে আদায় করা ওয়াজিব।
> কোনো ব্যক্তি নফল নামাজ পড়া শুরু করলে সে নামাজ যদি কোনো কারণে বাতিল হয়ে যায় কিংবা ছেড়ে দেয় তবে সে নফল নামাজ পুনরায় আদায় করা ওয়াজিব। যদি ওই সময় এ নফল নামাজ আদায় করতে না পারে তবে তা পরে কাজা আদায় করাও ওয়াজিব।
> সুন্নাতে মুয়াক্কাদা (ফজর ও জোহরের আগে যথাক্রমে দুই ও চার রাকাআত নামাজ) এবং নফল নামাজের কাজা নেই। তবে ফজর নামাজের সুন্নাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হাদিসে ফজরের সুন্নাত আদায়ের ব্যাপারে বেশি জোর দেয়া হয়েছে। তাই ফজরের সুন্নাত কাজা হলে জোহরের নামাজের আগেই তা কাজা আদায় করা উত্তম। যদি জোহরের সময় অতিবাহিত হয়ে যায় তাহলে ফজরের সুন্নাত কাজা পড়তে হবে না।

> জোহরের ফরজের আগের চার রাকাআত সুন্নাত কোনো কারণবশতঃ ফরজ নামাজ পড়ার আগে আদায় করা না হয় তবে ফরজের পর পড়ে নিতে হবে। আর জোহরের ওয়াক্ত শেষ হয়ে গেলে তা আর পড়ার দরকার নেই।

সুতরাং কেউ যদি নির্ধারিত সময়ে নির্ধারিত ফরজ এবং ওয়াজিব কিংবা মান্নতের নামাজ আদায় করতে না পারে তবে দেরি না করে তা পরবর্তীতে আদায় করে নেয়া জরুরি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে নির্ধারিত সময়ে ফরজ, ওয়াজিব ও মান্নতের নামাজগুলো যথাযথভাবে আদায় করার তাওফিক দান করুন। নামাজ না পড়ার কুফরি থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

কুরআন সংকলনের ইতিহাস

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

পবিত্র কুরআন সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন, بَلْ هُوَ قُرْآنٌ مَّجِيدٌ. فِي لَوْحٍ مَّحْفُوظٍ “বরং এটা মহান কুরআন, লাওহে মাহফুজে লিপিবদ্ধ।” –সূরা বুরুজ: ২১,২২

এরপর পবিত্র কুরআনের নাযিল ও সংরক্ষণের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ “নিশ্চয়ই আমিই কুরআন অবতীর্ণ করেছি, আর আমি নিজেই এর সংরক্ষণকারী।” –সূরা হিজর: ৯

উপরের আয়াতগুলোতে আমরা দেখলাম আল্লাহ তাআলা নিজেই কুরআনকে অবতীর্ণ করেছেন এবং তিনি নিজেই যে তাঁর গ্রন্থ কুরআনের সংরক্ষণ করবেন, এ কথা বলে দিচ্ছেন। যেন এ নিয়ে সত্যতা ও যে কোন প্রকার ভ্রান্তি থেকে এর পবিত্রতা সম্পর্কে কোন প্রশ্ন বা সংশয় সন্দেহের অবকাশ না থাকে।

পবিত্র গ্রন্থ আল কুরআন বর্তমানে যে ধারাবাহিকতায় বিন্যস্ত, আল্লাহর নির্দেশনা অনুসারেই তা রাসূল (সা.) এর হাতেই সম্পন্ন হয়েছে। যখনই কুরআন মাজীদের কোন সূরা বা সূরার অংশবিশেষ আল্লাহর রাসূল (সা.) এর উপর অবতীর্ণ হতো, তখনই আল্লাহর রাসূল (সা.) তার সাহাবীদের নির্দেশনা প্রদান করতেন, কুরআনের কোন অংশের সাথে নতুন অবতীর্ণ এই আয়াতসমূহ সংযোজিত হবে।

নামাজে বা অন্যান্য সময়ে কুরআন তেলাওয়াতে রাসূল (সা.) এই বিন্যাস বজায় রেখেই কুরআন তেলওয়াত করতেন। আল্লাহর রাসূলের সাহাবীরাও রাসূল (সা.) এর অনুসারে একই বিন্যাস বজায় রেখে কুরআন তেলওয়াত করতেন।

এটি ঐতিহাসিক সত্য যে কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত কুরআন সংকলন অব্যাহত ছিল। কুরআন নাযিলের সমাপ্তির সাথে সাথে কুরআনের আয়াতের সংকলনের সমাপ্ত ঘটে। সুতরাং, কুরআনের বিন্যাস তখন যেভাবে সাজানো হয়েছিলো, এখনো সেই বিন্যাসেই কুরআন সজ্জিত। মুসলমানদের উপর যখন নামাজ আদায় করা ফরজ করা হয়, নামাজের মধ্যে কুরআন তেলাওয়াত করা তখনও আবশ্যিক করে দেওয়া হয়। ফলে নামাজের প্রয়োজনে মুসলমানরা কুরআন মুখস্ত করা শুরু করেন। অনেকেই সম্পূর্ণ কুরআন মাজীদ তাদের স্মরণশক্তিতে গেঁথে নেন।

কুরআন সংরক্ষনের জন্য শুধু মানুষের স্মরণশক্তির উপর নির্ভর করা হয়নি। বরং তখনই তা বিক্ষিপ্তভাবে গাছের পাতা, চামড়ার খন্ড, পাথর, পশুর হাড়, কাগজ ইত্যাদিতে লিখে রাখার মাধ্যমে সংরক্ষণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

কুরআন সংকলন
রাসূল (সা.) এর ইন্তেকালের পর সমগ্র আরবে বেদুইনদের ভেতর বিদ্রোহের দাবানল জ্বলে উঠে। এই বিদ্রোহ দমন করতে গিয়ে রাসূল (সা.) এর এমন অনেক সাহাবীও শাহাদাত বরণ করেন, যাদের স্মরণশক্তিতে সম্পূর্ণ কুরআন গাঁথা ছিলো।

এরূপ অবস্থায় হযরত উমর (রা.) তৎকালীন খলীফা হযরত আবু বকর (রা.) এর কাছে মানুষের স্মরণশক্তির পাশাপাশি লিখিতভাবে কুরআনকে সংকলন করার জন্য প্রস্তাব পেশ করেন।

প্রথমে হযরত আবু বকর (রা.) বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্তহীন ছিলেন। কেননা, রাসূল (সা.) তার জীবিত থাকাকালীন সময়ে এরূপ কোন আদেশ প্রদান করেননি। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি হযরত উমর (রা.) এর সাথে একমত হয়ে তিনি লিখিতভাবে কুরআন সংকলনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। একাজের জন্য তিনি রাসূল (সা.) এর কাতেব হযরত যায়েদ বিন সাবিত (রা.) এর নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করেন।

তারা রাসূল (সা.) এর সময়কালীন লিখিত কুরআনের বিভিন্ন বিক্ষিপ্ত লিখিত অংশ এবং কুরআনের হাফিজদের সহায়তায় সংকলনের কাজে অগ্রসর হন। দুটি উৎসের সমন্বয়ে তারা সতর্কভাবে কুরআন সংকলন করেন।

সংকলন কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর তা হযরত আবু বকর (রা.) কাছে সংরক্ষিত রাখা হয়। হযরত আবু বকর (রা.) এর ইন্তেকালের পর তা হযরত উমর (রা.) এর কাছে এবং তার শাহাদাতের পর এটি তার কন্যা ও রাসূল (সা.) এর স্ত্রী হযরত হাফসা (রা.) কাছে সংরক্ষিত করে রাখা হয়।

কুরআন যদিও কুরাইশদের উপভাষাতে অবতীর্ণ হয়েছিল, তথাপি প্রাথমিক যুগে আরব গোত্রগুলোকে তাদের নিজস্ব উপভাষায় কুরআন তেলাওয়াত করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু ইসলামের বিস্তারের সাথে সাথে আরবী ভাষারও বিস্তার ঘটে। ফলে কুরআনের ভাষার মধ্যে অন্যভাষার অনুপ্রবেশ ঘটার শংকা দেখা দিয়েছিলো। এর মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে বিভক্তির আশংকা দেখা দিয়েছিল।

এর ফলে হযরত উসমান (রা.) এর সময়কালে তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন, হযরত আবু বকর (রা.) এর সময়ে সংকলিত কুরআনকে একমাত্র পাঠ্য হিসেবে রাখার এবং অন্যান্য উপভাষার কুরআন সমূহ পরিত্যক্ত করার। তিনি হযরত হাফসা (রা.) এর কাছে সংরক্ষিত আবু বকর (রা.) এর সংকলিত কুরআনটি নিয়ে এর আরো প্রতিলিপি তৈরি করেন এবং মুসলিম খেলাফতের বিভিন্ন স্থানে তা প্রেরণ করেন। একইসাথে এই প্রতিলিপি ব্যতীত কুরআনের অন্যান্য প্রতিলিপি সমূহ তিনি বিনষ্ট করার জন্য আদেশ প্রদান করেন। বর্তমানে আমাদের হাতে কুরআনের যে প্রতিলিপি বিদ্যমান, তা হযরত আবু বকর (রা.) এর সংকলিত এবং হযরত উসমান (রা.) নকলকৃত কুরআনের কপিরই প্রতিলিপি। হযরত উসমান (রা.) এর নকলকৃত কুরআনের কপিসমূহের মধ্যে অনেকগুলো কপিই বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে সংরক্ষিত আছে।

নামাযে অজু নিয়ে সন্দেহ হলে করনীয়

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

শুধু সন্দেহের কারনে আপনার অজু নষ্ট হবে না যতক্ষণ না আপনি অজু ভেঙ্গে যাওয়ার স্পষ্ট ও নিশ্চিত কোন আলামত না পান। হ্যাঁ, যখন নিশ্চিত হবেন যে আপনার অজু ভেঙ্গে গিয়েছে তখন নামায ছেড়ে পুনরায় অজু করে আবার নামায পড়ে নিবেন। আর অহেতুক সন্দেহের কারনে জামাআতে আদায় করা নামায পুনরায় পড়বেন না।

উল্লেখ্য যে, এটা এক প্রকার ওয়াসওয়াসা। এটা আপনি যত আমলে নিবেন তা তত বাড়তে থাকবে। তাই নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আপনি এর দিকে কোন ভ্রূক্ষেপ করবেন না।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করা হয়েছিল : “হে আল্লাহর রাসূল, কোন ব্যক্তির ধারণা হয় যে, তার নামাযে কিছু বের হয়েছে। উত্তরে তিনি বলেন : لَا يَنْصَرِفْ حَتَّى يَسْمَعَ صَوْتًا أَوْ يَجِدَ رِيحًا “সালাত ত্যাগ করবে না, যতক্ষণ না সে আওয়াজ শোনে, অথবা গন্ধ পায়।” –সহীহুল বুখারী, হাদীস নং ১৩৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৮৩০

প্রত্যেক ভালোকাজের সমষ্টি হল নামায

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

নামায হল প্রত্যেক ভালোকাজের সমষ্টি। নিম্নে কুর’আনের দুটি বর্ণনা তুলে ধরা হল, উভয় বর্ণনায় বেশ কিছু উত্তম কর্মের কথা বর্ণিত হয়েছে। এখানে প্রত্যেক উত্তম আমলের পূর্বে এবং পরে নামাযের বর্ণনা এসেছে।

ক. সূরা আল-মু’মিনুন (২৩: ১-১১)

قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ ﴿١﴾ الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ ﴿٢﴾ وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ ﴿٣﴾ وَالَّذِينَ هُمْ لِلزَّكَاةِ فَاعِلُونَ ﴿٤﴾ وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ ﴿٥﴾ إِلَّا عَلَىٰ أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ ﴿٦﴾ فَمَنِ ابْتَغَىٰ وَرَاءَ ذَٰلِكَ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الْعَادُونَ ﴿٧﴾ وَالَّذِينَ هُمْ لِأَمَانَاتِهِمْ وَعَهْدِهِمْ رَاعُونَ ﴿٨﴾ وَالَّذِينَ هُمْ عَلَىٰ صَلَوَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ ﴿٩﴾ أُولَٰئِكَ هُمُ الْوَارِثُونَ ﴿١٠﴾ الَّذِينَ يَرِثُونَ الْفِرْدَوْسَ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ ﴿١١﴾

“নিশ্চয় সফলতা অর্জন করেছে মুমিনগণ- যারা তাদের নামাযে আন্তরিকভাবে বিনীত। যারা অহেতুক বিষয় থেকে বিরত থাকে। যারা যাকাত সম্পাদনকারী। যারা নিজ লজ্জাস্থানের সংরক্ষণ করে। নিজেদের স্ত্রী ও তাদের মালিকানাধীন দাসীদের ছাড়া অন্য সকলের থেকে, কেননা এতে তারা নিন্দনীয় হবে না। তবে কেউ এ ছাড়া অন্য কিছু কামনা করলে তারাই হবে সীমালঙ্ঘনকারী। এবং যারা তাদের আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে। এবং যারা নিজেদের নামাযের পরিপূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ করে। এরাই হল সেই ওয়ারিশ, যারা জান্নাতুল ফিরদাউসের মীরাস লাভ করবে। তারা তাতে সর্বদা থাকবে।”

খ. সূরা আল-মাআরিজ (৭০: ১৯-৩৫)

إِنَّ الْإِنسَانَ خُلِقَ هَلُوعًا ﴿١٩﴾ إِذَا مَسَّهُ الشَّرُّ جَزُوعًا ﴿٢٠﴾ وَإِذَا مَسَّهُ الْخَيْرُ مَنُوعًا ﴿٢١﴾ إِلَّا الْمُصَلِّينَ ﴿٢٢﴾ الَّذِينَ هُمْ عَلَىٰ صَلَاتِهِمْ دَائِمُونَ ﴿٢٣﴾ وَالَّذِينَ فِي أَمْوَالِهِمْ حَقٌّ مَّعْلُومٌ ﴿٢٤﴾ لِّلسَّائِلِ وَالْمَحْرُومِ ﴿٢٥﴾ وَالَّذِينَ يُصَدِّقُونَ بِيَوْمِ الدِّينِ ﴿٢٦﴾ وَالَّذِينَ هُم مِّنْ عَذَابِ رَبِّهِم مُّشْفِقُونَ ﴿٢٧﴾ إِنَّ عَذَابَ رَبِّهِمْ غَيْرُ مَأْمُونٍ ﴿٢٨﴾ وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ ﴿٢٩﴾ إِلَّا عَلَىٰ أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ ﴿٣٠﴾ فَمَنِ ابْتَغَىٰ وَرَاءَ ذَٰلِكَ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الْعَادُونَ ﴿٣١﴾ وَالَّذِينَ هُمْ لِأَمَانَاتِهِمْ وَعَهْدِهِمْ رَاعُونَ ﴿٣٢﴾ وَالَّذِينَ هُم بِشَهَادَاتِهِمْ قَائِمُونَ ﴿٣٣﴾ وَالَّذِينَ هُمْ عَلَىٰ صَلَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ ﴿٣٤﴾ أُولَٰئِكَ فِي جَنَّاتٍ مُّكْرَمُونَ ﴿٣٥﴾

“মানুষ তো সৃজিত হয়েছে ভীরুরূপে। যখন তাকে অনিষ্ট স্পর্শ করে, তখন সে হা-হুতাশ করে। আর যখন কল্যাণপ্রাপ্ত হয়, তখন কৃপণ হয়ে যায়। তবে তারা স্বতন্ত্র, যারা নামায আদায়কারী। যারা তাদের নামাযে সার্বক্ষণিক কায়েম থাকে। এবং যাদের ধন-সম্পদে নির্ধারিত হক আছে যাঞ্ছাকারী ও বঞ্চিতের। এবং যারা প্রতিফল দিবসকে সত্য বলে বিশ্বাস করে। এবং যারা তাদের পালনকর্তার শাস্তির সম্পর্কে ভীত-কম্পিত। নিশ্চয় তাদের পালনকর্তার শাস্তি থেকে নিঃশঙ্কা থাকা যায় না। এবং যারা তাদের যৌন-অঙ্গকে সংযত রাখে, কিন্তু তাদের স্ত্রী অথবা মালিকানাভূক্ত দাসীদের বেলায় তিরস্কৃত হবে না। অতএব, যারা এদের ছাড়া অন্যকে কামনা করে, তারাই সীমালংঘনকারী। এবং যারা তাদের আমানত ও অঙ্গীকার রক্ষা করে। এবং যারা তাদের সাক্ষ্যদানে সরল-নিষ্ঠাবান। এবং যারা তাদের নামাযে যত্নবান। তারাই জান্নাতে থাকবে সম্মানজনকভাবে।”

এই আয়াতসমূহে মুমিনদের কয়েকটি চারিত্রিক ও আমলগত বৈশিষ্ট্যের আলোচনা করা হয়েছে। যার মধ্যে প্রথম বৈশিষ্ট্যে হল নামাযে আন্তরিকভাবে বিনীত হওয়া। মুমিনদের অন্যান্য বৈশিষ্ট্য হলঃ

– তারা অহেতুক বিষয় থেকে বিরত থাকে।
– তারা যাকাত আদায় করে।
– তারা নিজেদের স্ত্রী ও তাদের মালিকানাধীন দাসীদের ছাড়া অন্য সকলের থেকে নিজ লজ্জাস্থানের হিফাজত করে এবং অবৈধ ও অনৈতিক সম্পর্ক থেকে বিরত থাকে।
– তারা আমানত ও অঙ্গীকার রক্ষা করে।
– তারা তাদের সাক্ষ্যদানে সরল-নিষ্ঠাবান থাকে।

এই পাঁচটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আবারো নামাযের কথা উল্লেখ করেন।

সূরা আল-মাআরিজ ও সূরা আল-মু’মিনুন উভয় বর্ণনায় আল্লাহ উত্তম আমল বা বৈশিষ্ট্যের শুরুতে এবং শেষে নামাযের আদেশ করেছেন। এতে বুঝা যায় যে, নামায হল একটি দুর্গ। এমন দুর্গ যা প্রত্যেক উত্তম আমলের রক্ষণাবেক্ষণ করে। একজন ব্যক্তির নামায ঠিক থাকলে তার বাকি সৎ কর্মও ঠিক থাকবে। তাই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

“নামায হল দ্বীনের স্তম্ভ”

তিনি আরো বলেন,
“হাশরের ময়দানে মানুষকে সর্ব প্রথম যে প্রশ্ন করা হবে তা হল নামায। যদি নামাজ সঠিক হয় তবে বাকি সব আমল তার ঠিক হবে। আর যদি নামাজ বিনষ্ট হয় তাহলে বাকি সবআমলই তার বিনষ্ট হবে।”- (আত তাবারানি)

দৈনন্দিন জীবনে তওবার গুরুত্ব

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

তাওবাহ মানে অন্ধকার ছেড়ে আলোর অভিমুখে বান্দার পুণ্যযাত্রা। তাওবাহ মানে অপরাধের অন্ধকার জগত ছেড়ে আল্লাহর আলোয় বান্দার ফিরে আসা। মহা মহিম রবের কাছে এ কাজ অত্যধিক পছন্দনীয়। কোন মানুষ যখন অপরাধের পর অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ফিরে আসে এবং সংঘটিত গুনাহের জন্য তাওবাহ করে, আল্লাহ তার তাওবাহ কবুল করে নেন এবং এর মাধ্যমে বান্দাকে তাঁর প্রিয়দের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি মুমিন বান্দাদেরকে তাওবার নির্দেশ দিয়ে বলছেন-

وَتُوبُوٓاْ إِلَى ٱللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ ٱلۡمُؤۡمِنُونَ لَعَلَّكُمۡ تُفۡلِحُونَ

“হে মুমিনগণ! তোমরা সকলে আল্লাহর দিকে তাওবা [প্রত্যাবর্তন] কর, নিশ্চয় তোমরা সফলকাম হবে”। -সূরা নূর আয়াত: ৩১

আর যারা তাওবা করে না, তাদের আল্লাহ তাআলা নিজেদের উপর যুলুমকারি বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَمَن لَّمۡ يَتُبۡ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلظَّٰلِمُونَ

“যারা তাওবা করবে না, তারাই অত্যাচারী”। -সূরা হুজরাত:১১

উল্লেখিত আয়াতদ্বয়ে আল্লাহ তাআলা মুমিনদের দুটি দলে বিভক্ত করেছেন। এক. তাওবাহকারী, তাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, তারাই সফলকাম। দুই. যারা তাওবাহ করে না। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, তারাই অত্যাচারী ও যালিম। এ দুই দলের পর কোন তৃতীয় দলের কথা আল্লাহ বলেননি। আমাদেরকে এখন নিজেদের থেকে জেনে নিতে হবে, আমরা কোন দলের অন্তর্ভূক্ত?

বান্দা যখন কোন অপরাধের পর তাওবাহ করে, আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন এবং তার প্রতি অত্যধিক খুশি হন। আনাস বিন মালেক রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-

لله أشد فرحا بتوبة عبده حين يتوب إليه من أحدكم كان راحلته بأرض فلاة فانفلتت منه وعليها طعامه وشرابه فأيس منها فأتى شجرة فاضطجع في ظلها قد أيس من راحلته فبينما هو كذلك إذ هو بها قائمة عنده فأخذ بخطامها ثم قال من شدة الفرح : اللهم أنت عبدي وأنا ربك أخطأ من شدة الفرح ” . رواه مسلم .

“আল্লাহ তাআলা স্বীয় বান্দার তাওবায় ঐ ব্যক্তির চেয়েও অধিক খুশি হন, যে ব্যক্তি তার বাহন সাওয়ারী নিয়ে কোন জনমানব শূন্য মরু প্রান্তরে অবস্থান করছিল, হঠাৎ তার সাওয়ারীটি পালিয়ে গেল। সাওয়ারীটির সাথেই ছিল তার পানাহারের সবকিছু। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও বাহন জন্তুটি আর পাওয়া গেলো না। অবশেষে হতাশ হয়ে একটি গাছের নিচে এসে তার ছায়ায় শুয়ে পড়ল। কিছুক্ষণ পর ঘুম থেকে উঠে সে দেখতে পেলো তার সাওয়ারিটি তার পার্শ্বে এসে দাঁড়িয়ে আছে। তখন সে সাওয়ারির লাগাম চেপে ধরলো আর অধিক খুশিতে বলে ফেললো, হে আল্লাহ! তুমি আমার বান্দা এবং আমি তোমার রব! লোকটি অত্যধিক আনন্দের কারণে ভুলভাল বলে ফেলল”। (সহিহ মুসলিম)

প্রিয় মুসলিম ভাই! মনে রাখবেন, আল্লাহ আমাদের হিসাব নেয়ার আগে আমরা যেন নিজেদের হিসাব করে নেই। এতে আপনার হিসাব দেয়া সহজ হবে।

সম্ভব হলে প্রতিদিন একবার, নয়তো সপ্তাহে বা কমপক্ষে মাসে একবার তাওবা করুন এবং আপনি নিজের হিসাব গ্রহণ করুন। নিজের কাছে থেকে জবাবদিহিতা নিন। নিজেকে প্রশ্ন করুন।

তাওবাহ কাকে বলে?

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

‘তাওবাহ’ অর্থ ফিরে আসা। যে কোন খারাপ কাজ – অন্যায়, অবিচার, গুনাহ, পাপচার ও আল্লাহর নাফরমানি হতে একনিষ্ঠ ক্ষমা চেয়ে নিয়ে নেক কাজের মাধ্যমে আপন রবের দিকে ফিরে আসাই তাওবাহ।

অনেকে হয়তো মনে করে, শুধুমাত্র খারাপ কাজ বা গুনাহের কাজ থেকে ক্ষমা চাওয়া বা তা থেকে ফিরে আসার নামই তাওবাহ। কিন্তু তাদের এ ধরনের ধারণা মোটেও ঠিক নয়। বরং, এ ক্ষেত্রে সঠিক, ও গ্রহণযোগ্য কথা হল, যে সব নেক আমল করতে আল্লাহ আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন তা ছেড়ে দেয়া বা তার প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনও বড় গুনাহ ও অন্যায়।

যারা এ সব নেক আমলগুলো পালন করা ছেড়ে দেয় তাদের জন্য অবশ্যই তা ছেড়ে দেয়া হতে তাওবাহ করা এবং আল্লাহর আদেশের দিকে ফিরে আসা, নিষিদ্ধ কাজ করার অপরাধ থেকে তাওবাহ করার চেয়ে আরও অধিক গুরুত্বপুর্ণ।

অধিকাংশ মানুষ আল্লাহর অনেক আদেশ, অন্তরের কার্যাদি, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমল বা যিকির ছেড়ে দেয়, অথচ তারা জানেই না যে এগুলো সবই আল্লাহর আদেশের অন্তর্ভুক্ত এবং এ গুলো ছেড়ে দেয়া বা এ সব আমল পালন করা হতে বিরত থাকাও অন্যায়।

মোট কথা, তাওবাহ বান্দার জীবনের শেষ ও শুরু। তবে তার প্রয়োজন যেমনিভাবে জীবনের শেষাংশে জরুরী, অনুরূপভাবে জীবনের প্রথমাংশেও জরুরী। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন-

وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَا الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

“হে ঈমাদারগণ তোমরা সকলে আল্লাহর নিকট তাওবাহ করো, যাতে তোমরা সফলকাম হও”। -সূরা নূর:৩১

উল্লেখিত আয়াতটি মদীনায় অবতীর্ণ হয়েছে। এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা শুধু ঈমানদার নয় বরং তখনকার সময়ের সর্বোত্তম মানব ছিলেন, যারা জিহাদ, সবর, হিজরতসহ যাবতীয় নেক কাজের জন্য কিয়ামত পর্যন্ত ইতিহাস হয়ে থাকবেন, সেই পুন্যাত্মা সাহাবীদেরকেও তাওবাহ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং এরপর তিনি তাওবাহ করাকে সফলতা ও কামিয়াবী লাভের কারণ নির্ধারণ করেছেন।

সুতরাং, কামিয়াবী বা সফলতা পাওয়ার একমাত্র উপায় হল আল্লাহর নিকট যাবতীয় গুনাহ ভুলত্রুটি হতে একনিষ্ঠ তাওবাহ করা। এ ছাড়া কোন ঈমানদারই সফল হতে পারে না।

দাজ্জালের বর্তমান অবস্থান

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

আদম সৃষ্টি থেকে কিয়ামত পর্যন্ত মানব জাতির জন্য দাজ্জালের চেয়ে বড় ফিতনা আর নেই। সে এমন অলৌকিক বিষয় দেখাবে যা দেখে মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়বে। দাজ্জাল নিজেকে প্রভু ও আল্লাহ হিসেবে দাবী করবে। তার দাবীর পক্ষে এমন কিছু প্রমাণও উপস্থাপন করবে যে সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আগেই সতর্ক করেছেন। মুমিন বান্দাগণ এগুলো দেখে মিথ্যুক দাজ্জালকে সহজেই চিনতে পারবে এবং আল্লাহর প্রতি তাদের ঈমান আরো বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু দুর্বল ঈমানদার লোকেরা বিভ্রান্তিতে পড়ে ঈমান হারা হবে। সেই দাজ্জাল এখন কোথায় আছে – চলুন সহিহ মুসলিমে বর্ণিত একটি হাদিস থেকে জেনে নেই।

ফাতেমা বিনতে কায়স (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- আমি মসজিদে গমণ করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে নামায আদায় করলাম। আমি ছিলাম মহিলাদের কাতারে। তিনি নামায শেষে হাসতে হাসতে মিম্বারে উঠে বসলেন। প্রথমেই তিনি বললেন, প্রত্যেকেই যেন আপন আপন জায়গায় বসে থাকে। অতঃপর তিনি বললেন, তোমরা কি জানো আমি কেন তোমাদেরকে একত্রিত করেছি? তাঁরা বললেন, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। অতঃপর তিনি বললেন, আমি তোমাদেরকে এ সংবাদ দেয়ার জন্যে একত্রিত করেছি যে তামীম দারী ছিল একজন খৃষ্টান। সে আমার কাছে আগমণ করে ইসলাম গ্রহণ করেছে। অতঃপর সে মিথ্যুক দাজ্জাল সম্পর্কে এমন ঘটনা বলেছে যা আমি তোমাদের কাছে বর্ণনা করতে চাই।

লাখ্‌ম ও জুযাম গোত্রের ত্রিশ জন লোকের সাথে সে সাগর পথে ভ্রমণে গিয়েছিল। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার শিকার হয়ে এক মাস পর্যন্ত তারা সাগরেই ছিল। অবশেষে তারা সাগরের মাঝখানে একটি দ্বীপে অবতরণ করলো। দ্বীপের ভিতরে প্রবেশ করে তারা মোটা মোটা এবং প্রচুর চুল বিশিষ্ট একটি অদ্ভুত প্রাণীর সন্ধান পেল। চুল দ্বারা সমস্ত শরীর আবৃত থাকার কারণে প্রাণীটির অগ্রপশ্চাৎ নির্ধারণ করতে সক্ষম হলো না। তারা বলল, অকল্যাণ হোক তোমার! কে তুমি? সে বললো, আমি সংবাদ সংগ্রহকারী গোয়েন্দা। তারা বললো, কিসের সংবাদ সংগ্রহকারী? অতঃপর প্রাণীটি দ্বীপের মধ্যে একটি ঘরের দিকে ইঙ্গিত করে বললো, হে লোক সকল! তোমরা এই ঘরের ভিতরে অবস্থানরত লোকটির কাছে যাও। সে তোমাদের কাছ থেকে সংবাদ সংগ্রহ করার জন্যে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

তামীম দারী বলেন, প্রাণীটি যখন একজন লোকের কথা বললো, তখন আমাদের ভয় হলো যে হতে পারে সে একটি শয়তান। তথাপি আমরা ভীত হয়ে দ্রুত অগ্রসর হয়ে ঘরটির ভিতরে প্রবেশ করি। সেখানে আমরা বৃহদাকার একটি মানুষ দেখতে পাই। এত বড় আকৃতির মানুষ আমরা ইতিপূর্বে আর কখনও দেখিনি। তার হাত দু’টিকে ঘাড়ের সাথে একত্রিত করে হাঁটু এবং গোড়ালীর মধ্যবর্তী স্থানে লোহার শিকল দ্বারা বেঁধে রাখা হয়েছে।

আমরা বললাম, মরণ হোক তোমার! কে তুমি? সে বললো, তোমরা আমার কাছে আসতে সক্ষম হয়েছ। তাই আগে তোমাদের পরিচয় দাও। আমরা বললাম, আমরা একদল আরব মানুষ নৌকায় আরোহন করেছিলাম। সাগরের প্রচন্ড ঢেউ আমাদেরকে নিয়ে একমাস পর্যন্ত খেলা করলো। অবশেষে তোমার দ্বীপে উঠতে বাধ্য হলাম। দ্বীপে প্রবেশ করেই প্রচুর পশম বিশিষ্ট এমন একটি জন্তুর সাক্ষাৎ পেলাম, পশমের কারণে যার অগ্রপশ্চাৎ চেনা যাচ্ছিল না। আমরা বললাম, অকল্যাণ হোক তোমার! কে তুমি? সে বললো, আমি সংবাদ সংগ্রহকারী গোয়েন্দা। আমরা বললাম, কিসের সংবাদ সংগ্রহকারী? অতঃপর প্রাণীটি দ্বীপের মধ্যে এই ঘরের দিকে ইঙ্গিত করে বললো, হে লোক সকল! তোমরা এই ঘরের ভিতরে অবস্থানরত লোকটির কাছে যাও। সে তোমাদের নিকট থেকে সংবাদ সংগ্রহ করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

তাই আমরা তার ভয়ে তোমার কাছে দ্রুত আগমণ করলাম। হতে পার তুমি একজন শয়তান- এভয় থেকেও আমরা নিরাপদ নই। সে বললো, আমাকে তোমরা ‘বাইসান’ সম্পর্কে সংবাদ দাও। আমরা তাকে বললাম, বাইসানের কি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছো? সে বললো, আমি তথাকার খেজুরের বাগান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছি। সেখানের গাছগুলো এখনও ফল দেয়? আমরা বললাম, হ্যাঁ। সে বললো, সে দিন বেশী দূরে নয় যে দিন গাছগুলোতে কোন ফল ধরবে না।

অতঃপর সে বললো, আমাকে বুহাইরাতুত্‌ তাবারীয়া সম্পর্কে সংবাদ দাও। আমরা তাকে বললাম, বুহাইরাতুত্‌ তাবারীয়ার কি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছো? সে বললো, আমি জানতে চাই সেখানে কি এখনও পানি আছে? আমরা বললাম, তথায় প্রচুর পানি আছে। সে বললো, অচিরেই তথাকার পানি শেষ হয়ে যাবে।

সে পুনরায় বললো, আমাকে যুগার নামক ঝর্ণা সম্পর্কে সংবাদ দাও। আমরা তাকে বললাম, সেখানকার কি সম্পর্কে তুমি জানতে চাও? সে বললো, আমি জানতে চাই সেখানে কি এখনও পানি আছে? লোকেরা কি এখনও সে পানি দিয়ে চাষাবাদ করছে? আমরা বললাম, তথায় প্রচুর পানি রয়েছে। লোকেরা সে পানি দিয়ে চাষাবাদ করছে।

সে আবার বললো, আমাকে উম্মীদের নবী সম্পর্কে জানাও। আমরা বললাম, সে মক্কায় আগমণ করে বর্তমানে মদীনায় হিজরত করেছে। সে বললো, আরবরা কি তার সাথে যুদ্ধ করেছে? বললাম, হ্যাঁ। সে বললো, ফলাফল কি হয়েছে? আমরা তাকে সংবাদ দিলাম যে, পার্শ্ববর্তী আরবদের উপর তিনি জয়লাভ করেছেন। ফলে তারা তাঁর আনুগত্য স্বীকার করে নিয়েছে। সে বলল, তাই না কি? আমরা বললাম তাই। সে বললো, তার আনুগত্য করাই তাদের জন্য ভাল।

এখন আমার কথা শুনো। আমি হলাম দাজ্জাল। অচিরেই আমাকে বের হওয়ার অনুমতি দেয়া হবে। আমি বের হয়ে চল্লিশ দিনের ভিতরে পৃথিবীর সমস্ত দেশ ভ্রমণ করবো। তবে মক্কা-মদীনায় প্রবেশ করা আমার জন্য নিষিদ্ধ থাকবে। যখনই আমি মক্কা বা মদীনায় প্রবেশ করতে চাইবো তখনই ফেরেশতাগণ কোষমুক্ত তলোয়ার হাতে নিয়ে আমাকে তাড়া করবে। মক্কা-মদীনার প্রতিটি প্রবেশ পথে ফেরেশতাগণ পাহারা দিবে।

হাদীছের বর্ণনাকারী ফাতেমা বিনতে কায়েস বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাতের লাঠি দিয়ে মিম্বারে আঘাত করতে করতে বললেন, এটাই মদীনা, এটাই মদীনা, এটাই মদীনা। অর্থাৎ এখানে দাজ্জাল আসতে পারবে না। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষকে লক্ষ্য করে বললেন, তামীম দারীর ঘটনা আমার কাছে খুবই ভাল লেগেছে। তার বর্ণনা আমার বর্ণনার অনুরূপ হয়েছে। বিশেষ করে মক্কা ও মদীনা সম্পর্কে। শুনে রাখো! সে আছে শাম দেশের সাগরে (ভূমধ্য সাগরে) অথবা আরব সাগরে। আর নয়তো সে আছে পূর্ব দিকে। সে আছে পূর্ব দিকে। সে আছে পূর্ব দিকে। এই বলে তিনি পূর্ব দিকে ইঙ্গিত করে দেখালেন। ফাতেমা বিনতে কায়েস বলেন, “আমি এই হাদীসটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট থেকে মুখস্থ করে রেখেছি”। (সহিহ মুসলিম, কিতাবুল ফিতান)

বিশ্বজুড়ে ‘মুহাম্মদ’ নামের জনপ্রিয়তা বাড়ছে!

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

ইসলামের শেষ ও শ্রেষ্ঠ রাসুলের নাম ‘মুহাম্মদ’। হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামানুসারে বিশ্বব্যাপী নবজাতক সন্তানদের নাম ‘মুহাম্মদ’ রাখা জনপ্রিয় হচ্ছে।

ভারতীয় উপমহাদেশে সাধারণত মুসলমানদের নামের শুরুতে ‘মুহাম্মদ’ লেখার রীতি দীর্ঘকালের। তবে নামের শুরুতে ‘মুহাম্মদ’ লেখা কোনো ধর্মীয় বিধান নয়। উপমহাদেশ ছাড়া পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে সাধারণত এ প্রচলন দেখা যায় না।

তবে পশ্চিমা বিশ্বে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামানুসারে নবজাতক সন্তানের মূল নাম ‘মুহাম্মদ’ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে। এ তালিকায় প্রথমেই চলে আসছে ব্রিটেনের নাম।

ব্রিটিশ পরিসংখ্যান অফিস ঘোষণা থেকে জানা যায়, লন্ডনে শিশুদের প্রিয় নাম হিসেবে মুহাম্মাদ নামটি দশম স্থানে অবস্থান করছে।

লন্ডনের পশ্চিম মিডল্যান্ডস এবং ইয়র্কশায়ারের সবচেয়ে অধিক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ‘মুহাম্মদ’ নাম।

উল্লেখ্য যে, ‘মুহাম্মদ শব্দের অর্থ হলো প্রশংসিত’। এ নাম পবিত্র কুরআনের একটি সুরার নাম করণ করা হয়েছে। কুরআনের ৪টি সুরায় এ নামটি ৪ বার এসেছে। আর তাহলো সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৪৪, সুরা আহজাব : আয়াত ৪০, সুরা মুহাম্মদ : আয়াত ২ এবং সুরা ফাতাহ : আয়াত ২৯)