‘রাতে ঘর ঝাড়ু দেয়া যায় না’ কথাটা সত্য কিনা?

জিজ্ঞাসা–৫৮৩: আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আপনার সুস্থতার দোয়া করি। হযরত, রাতে ঘর ঝাড়ু দেয়া যায় না বলে একটি কথা শোনা যায়? এটি কি সত্যি?–বিনতে মুমিনুর রহমান।

জবাব: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

এটি একটি অমূলক ধারণা ও ভিত্তিহীন বিশ্বাস। বরং সাঈদ ইবন মুসায়্যাব রহ. বলেন,

إِنَّ اللَّهَ طَيِّبٌ يُحِبُّ الطَّيِّبَ نَظِيفٌ يُحِبُّ النَّظَافَةَ…فَنَظِّفُواأَفْنِيَتَكُمْ وَلاَ تَشَبَّهُوا بِالْيَهُودِ

আল্লাহ তাআলা পবিত্র, পবিত্রতা তিনি ভালবাসেন; তিনি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা তিনি ভালবাসেন…। সুতরাং তোমাদের ঘর-বাড়ির আঙ্গিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখবে, ইয়াহূদীদের মত হয়ো না। (তিরমিযী ২৭৯৯)

অনেকে রাতে ঘর ঝাড়ু দেয়াকে অলক্ষুণে মনে করে। মনে করে, এর কারণে ঘরে মুসিবত আসে। অথচ রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

الطِّيَرَةُ شِرْكٌ الطِّيَرَةُ شِرْكٌ الطِّيَرَةُ شِرْكٌ وما مِنَّا إلا وَلَكِنَّ اللَّهَ يُذْهِبُهُ بِالتَّوَكُّلِ

শুভ-অশুভ নির্ণয় শিরক, শুভ-অশুভ নির্ণয় শিরক, শুভ-অশুভ নির্ণয় শিরক। আমাদের প্রত্যকেরই মনে কোনো না কোনো অসুবিধা দেখা দেয়, তবে আল্লাহ তাআলা তাওয়াক্কুলের বদৌলতে তা দূর করে দেন। (আবু দাউদ ৩৯১০)

والله اعلم بالصواب

উত্তর দিয়েছেন
মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী নকশবন্দী

আরো পড়ুন-
☞ তাওহীদ বাস্তবায়িত হয় কিভাবে এবং বাস্তবায়নকারী কী পুরস্কার পাবে?
☞ মেডিটেশন (meditation) বা যোগ ব্যায়াম (yoga) হারাম কেন?
☞ গর্ভবতী মায়ের সুস্থ থাকার জন্য ঝাড়ফুঁক করা যাবে কি?
☞ পীর-ওলি ও মাজারের নামে মানতকৃত পশু খাওয়া যাবে কি?
☞ তাবিজ ব্যবহারের ব্যাপারে ইসলাম কী বলে?
☞ রাতে কাপড় ছাদে ঝুলিয়ে রাখলে সমস্যা আছে কি?
☞ বদ নজর বা নজর লাগা কি? এটা কি কোন কুসংস্কার?
☞ শনির দশা থেকে মুক্তির উপায় বিষয়ে ইসলাম কী বলে?
☞ কোন দিন বিয়ে করা যাবে না?
☞ উইন্ড চাইম, ড্রিমক্যাচার সৌন্দর্যের জন্য ঘরে রাখা যাবে কি?

The post ‘রাতে ঘর ঝাড়ু দেয়া যায় না’ কথাটা সত্য কিনা? appeared first on কোরআনের জ্যোতি.

মাহরামকে চুম্বন করার হুকুম কী?

প্রশ্ন

From: আবদুল্লাহ
বিষয়ঃ মাহরামকে চুম্বন করা কি গুণাহ?

প্রশ্নঃ
গায়রে মাহরামের সাথে যে কোনো শারীরিক কার্যকলাপ তো গুণাহ এটা জানি,কিন্তু মাহরামকে চুম্বন করলে কি গুণাহ হবে?

এক্ষেত্রে দুটি বিষয়ঃ মহাব্বতের কারণে ও শাহওয়াতের কারণে। আশা করি উত্তর দিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

মাহরামকে মোহাব্বতের কারণে চুম্বন করা জায়েজ আছে। কিন্তু শাহওয়াতের শংকা হলে কোন স্থানেই চুম্বন করা জায়েজ নয়।

(وَكُرِهَ) تَحْرِيمًا قُهُسْتَانِيٌّ (تَقْبِيلُ الرَّجُلِ) فَمَ الرَّجُلِ أَوْ يَدَهُ أَوْ شَيْئًا مِنْهُ وَكَذَا تَقْبِيلُ الْمَرْأَةِ الْمَرْأَةَ عِنْدَ لِقَاءٍ أَوْ وَدَاعٍ قُنْيَةٌ وَهَذَا لَوْ عَنْ شَهْوَةٍ، وَأَمَّا عَلَى وَجْهِ الْبِرِّ فَجَائِزٌ عِنْدَ الْكُلِّ خَانِيَّةٌ، وَفِي الِاخْتِيَارِ عَنْ بَعْضِهِمْ لَا بَأْسَ بِهِ إذَا قَصَدَ الْبِرَّ وَأَمِنَ الشَّهْوَةَ كَتَقْبِيلِ وَجْهِ فَقِيهٍ وَنَحْوِهِ (الدر المختار مع رد المحتار-9/546)

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

The post মাহরামকে চুম্বন করার হুকুম কী? appeared first on আহলে হক বাংলা মিডিয়া সার্ভিস.

জেনে নিন গোসল সংক্রান্ত মাসআলা-মাসায়েল

জেনে নিন গোসল সংক্রান্ত মাসআলা-মাসায়েল
(গোসল সংক্রান্ত যে সকল বিষয় প্রত্যেক মুসলিমের জন্য জানা জরুরি)
▬▬▬▬▬●●●▬▬▬▬▬
গোসল ফরয (আবশ্যক) হওয়ার কারণ সমূহ:
নিম্ন লিখিত কারণগুলোর যে কোন একটির মাধ্যমে গোসল ফরয (আবশ্যক) হয়:
১) স্বপ্নদোষ বা অন্য কোন কারণে (ঘুমন্ত বা জাগ্রত অবস্থায়-পুরুষ বা মহিলার) বীর্যপাত হওয়া। (বুখারী ও মুসলিম)
২) পুরুষ ও মহিলার লজ্জাস্থান পরস্পর মিলিত হলেই উভয়ের উপর গোসল ফরজ হয়- বীর্যপাত হোক বা না হোক। (আহমাদ, মুসলিম)
৩) মহিলাদের হায়েজ ও নেফাস তথা মাসিক ঋতুস্রাব বা সন্তান প্রসবোত্তর স্রাব বন্ধ হলে গোসলের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করা ফরয। । (সূরা বাকারা: ২২২)
৪) যুদ্ধ ময়দানের শহীদ ব্যতীত মৃত মুসলিম ব্যক্তিকে গোসল দেয়া জীবিতদের উপর ফরয।
৫) ইহুদী বা খৃষ্টান বা যে কোন কাফের ইসলাম গ্রহণ করলে তার উপর গোসল ফরয না কি মুস্তাহাব- এ বিষয়ে মহামতি ইমামদের মাঝে দ্বিমত রয়েছে। ইমাম আহমদ বিন হাম্বলের অভিমত হল, কোন কাফের ইসলামে প্রবেশ করলে তার জন্য গোসল করা ফরয। পক্ষান্তরে জুমহুর (অধিকাংশ) ইমাম তথা ইমাম আবু হানিফা, মালেক ও শাফেঈ প্রমূখের অভিমত হল, ইসলাম গ্রহণের পর গোসল করা মুস্তাহাব; ওয়াজিব নয় এবং এটি অধিক নির্ভরযোগ্য মত।

গোসলের পদ্ধতি:
প্রথমে নিয়ত করবে, অতঃপর বিসমিল্লাহ বলে দু’হাত কব্জি পর্যন্ত তিন বার ধৌত করবে। লজ্জা স্থানে পানি ঢেলে উহা পরিষ্কার করবে। অতঃপর পূর্ণরূপে ওযু করবে। মাথায় পানি ঢেলে আঙ্গুল চালিয়ে চুল খিলাল করবে। যখন বুঝবে যে, চুলের গোঁড়ায় পানি পৌঁছে গেছে তখন মাথায় তিন বার পানি ঢালবে এবং সমস্ত শরীরে পানি ঢালবে। এ ক্ষেত্রে ডান পার্শ্ব থেকে কাজ আরম্ভ করবে।
মা আয়েশা রা. বর্ণিত হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর গোসলের পদ্ধতি এভাবেই এসেছে। (বুখারী ও মুসলিম)

গোসলের ফরয দু’টি। যথা:
১. নিয়ত করা।
খ. সমস্ত শরীরে পানি প্রবাহিত করা (মুখ ও নাখের ভেতর পানি পৌঁছানোও এর অন্তর্ভূক্ত)

যে সকল ক্ষেত্রে গোসল ফরয (আবশ্যক) নয় বরং মুস্তাহাব:
১) জুম’আর দিন গোসল করা। (সহীহ মুসলিম)
২) ঈদের দিন গোসল করা।
৩) হজ্জ বা উমরাহ্‌র জন্য ইহরামের পূর্বে গোসল করা। (জামে তিরমিযী, সুনানে দারাকুত্বনী)
৪) হজ্জ বা উমরা আদায়ের উদ্দেশ্যে ইহরামের পূর্বে গোসল করা। (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)
৫) সাধারণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উদ্দেশ্যে গোসল করা।
৬) ইহুদী, খৃষ্টান, হিন্দু বা যে কোন কাফের ইসলাম গ্রহণ করলে তার উপর গোসল মুস্তাহাব (অধিক নির্ভরযোগ্য মতানুসারে)

গোসলের ক্ষেত্রে কতিপয় ত্রুটি:
১) চুলের গোড়া পর্যন্ত পানি পৌঁছানোর ব্যাপারে নিশ্চিত না হওয়া।
উল্লেখ্য যে, মহিলার জন্য চুলের ঝুঁটি খোলার প্রয়োজন নেই। তবে প্রতিটি চুলের গোঁড়ায় পানি পৌঁছানো আবশ্যক। (মুসলিম)
২) শরীরের প্রতিটি অংশে পানি দিয়ে তা ভালোভাবে ভেজানোর ব্যাপারে অলসতা করা।
৩) গোসলে পানি অপচয় করা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাত্র এক সা’ তথা প্রায় তিন লিটার পানি দ্বারা গোসল করতেন।
৪) সবার সামনে হয়ে বেপর্দা হয়ে গোসল করা।

গোসল ফরয হয়েছে এমন নাপাক ব্যক্তির উপর যে সব কাজ করা হারাম:
১) সালাত আদায় করা।
২) কা’বা ঘরের তওয়াফ করা।
৩) কুরআন স্পর্শ করা (অধিক বিশুদ্ধ মতানুসারে)।
৪) কুরআন তিলাওয়াত করা (আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)
৫) মসজিদে অবস্থান করা। (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ্‌)
গোসল ফরয অবস্থায় উপরোক্ত কাজগুলো ছাড়া আর কোন কিছুই হারাম নয়। যেমন, ঘুমানো, রান্না-বান্না, খাওয়া-দাওয়া, গৃরস্থালীর কাজ..ইত্যাদি।
▬▬▬▬▬●●●▬▬▬▬▬
উৎস: জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইড্ন্সে সেন্টারের পাঠ্যপুস্তক ফিকহ (লেভের-১) থেকে
অনুবাদক: শাইখ আব্দুল্লাহ আল কাফী বিন আব্দুল জলীল মাদানী
সম্পদনা ও পরিমার্জনা: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানী
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব

মসজিদে দুনিয়াবি পড়ালেখা করা কি হারাম?

প্রশ্ন

মসজিদে দুনিয়াবি পড়ালেখা করা কি হারাম?

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

মসজিদ হল, নামায, জিকির, তিলাওয়াত তথা ইবাদতের স্থান। দুনিয়াবী আলাপ আলোচনার স্থান নয়। তাই দুনিয়াবী পড়াশোনার জন্য মসজিদে গমণ বৈধ নয়। কিন্তু যদি মসজিদে ইবাদতের জন্য প্রবেশ করে,তারপর প্রয়োজনীয় দুনিয়াবী কথা বা পড়াশোনা করে তাহলে সেটি যদি কারো ইবাদতের বিঘ্ন না ঘটায় এবং অশ্লীল না হয়,তাহলে জায়েজ আছে।

يكره كل عمل من عمل الدنيا فى المسجد (الهندية-5/321)

وَالْكَلَامُ الْمُبَاحُ؛ وَقَيَّدَهُ فِي الظَّهِيرِيَّةِ بِأَنْ يَجْلِسَ لِأَجْلِهِ

وقال ابن عابدين الشامى رح: قَوْلُهُ بِأَنْ يَجْلِسَ لِأَجْلِهِ) فَإِنَّهُ حِينَئِذٍ لَا يُبَاحُ بِالِاتِّفَاقِ لِأَنَّ الْمَسْجِدَ مَا بُنِيَ لِأُمُورِ الدُّنْيَا. وَفِي صَلَاةِ الْجَلَّابِي: الْكَلَامُ الْمُبَاحُ مِنْ حَدِيثِ الدُّنْيَا يَجُوزُ فِي الْمَسَاجِدِ وَإِنْ كَانَ الْأَوْلَى أَنْ يَشْتَغِلَ بِذَكَرِ اللَّهِ تَعَالَى، (رد المحتار، كتاب الصلاة، باب ما يفسد الصلاة وما يكره فيها، فروع افضل المساجد، مطلب: فى الغرس فى المسجد-2/436

الجلوس فى المساجد لتكلم احاديث الدنيا يحرم بالاتفاق، لان المسجد ما بنى لذلك، كذا فى مجمع البركاة وما سواه.

قيل يجوز الكلام المباح من الدنيا، ولا يجوز الكلام المنكر، كالقصاص وحكايات الدنيا الكاذبة. (نفع المفتى والسائل بجمع متفرقات المسائل، كتاب الحظر والإباحة، باب ما يتعلق بالمساجد وما يفعل فيها وما لا يفعل-448)

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

The post মসজিদে দুনিয়াবি পড়ালেখা করা কি হারাম? appeared first on আহলে হক বাংলা মিডিয়া সার্ভিস.

অযু করার মাঝে বায়ু বের হলে অযু আবার শুরু থেকে করতে হবে?

প্রশ্ন

মোঃ হাবিবুল্লাহ
প্রশ্ন:
ﺑﺴﻢ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ ﺍﻟﺮﺣﻴﻢ
অজু করিতেছি এমতাবস্থায় বা অজুর অধিকাংশ অঙ্গ ধোয়া হয়েছে অথবা অজু শেষ হয়েছে অঙ্গগুলো ভিজা আছে এমতাবস্থায় বায়ূ বের হলে কী পূনরায় অজু করতে হবে?
জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

ﺑﺴﻢ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ ﺍﻟﺮﺣﻴﻢ

জি, পুনরায় অজু প্রথম থেকেই করতে হবে।

عن ابى هريرة رضى الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا وضوء من صوت أو ريح (مسند احمد-2/472، رقم-10095)

سئلت عمن احدث أثناء وضوئه هل يكفيه إتمامه لذلك الوضوء أو يلزمه الاستيناف؟ فالجواب أنه يلزمه الاستيناف كما افتى شيخ الإسلام على الآفندى (الفتاوى الكاملية فى الحوادث الطربلسية-10)

لو ضرب يديه فقبل أن يمسح أحدث لا يجوز المسح بتلك الضربة كما لو أحدث فى الوضوء بعد غسل بعض الأعضاء (الفتاوى الهندية-1/26)

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

The post অযু করার মাঝে বায়ু বের হলে অযু আবার শুরু থেকে করতে হবে? appeared first on আহলে হক বাংলা মিডিয়া সার্ভিস.

মনের অস্থিরতা দূর করার আমল ও দোয়া

জিজ্ঞাসা–৫৮৩: আসসালামু আলাইকুম। কোন কাজ করতে গিয়ে অস্থির (মানসিক) না হয়ে ধীর-স্থির হওয়ার কোন আমলের কথা যদি বলতেন। ইদানীং নামাযেও এরকম হচ্ছে, তাড়াহুড়ো করি।–মো. জামিউল।

জবাব: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রিয় দীনি ভাই, মনের অস্থিরতা দূর করার সবচে’ উত্তম চিকিৎসা হল- ১. আল্লাহর যিকির করা ২. কোরআন তেলাওয়াত করা ৩. নামাযের পাবন্দি করা এবং ৪. অলস সময় অতিবাহিত না করা।

১. কেননা, যিকির সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন,

الَّذِينَ آمَنُواْ وَتَطْمَئِنُّ قُلُوبُهُم بِذِكْرِ اللّهِ أَلاَ بِذِكْرِ اللّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ
যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাদের অন্তর আল্লাহর যিকির দ্বারা শান্তি লাভ করে; জেনে রাখ, আল্লাহর যিকির দ্বারাই অন্তরসমূহ শান্তি পায়। (সূরা রা’দ ২৮)
২. কোরআন সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন,

نُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاء وَرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِينَ وَلاَ يَزِيدُ الظَّالِمِينَ إَلاَّ خَسَارًا
আমি কোরআনে এমন বিষয় নাযিল করি যা রোগের সুচিকিৎসা এবং মুমিনের জন্য রহমত। গোনাহগারদের তো এতে শুধু ক্ষতিই বৃদ্ধি পায়। (সূরা বনু ইস্রাঈল ৮২)
৩. নামায সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন,
إِنَّ الْإِنسَانَ خُلِقَ هَلُوعًا إِذَا مَسَّهُ الشَّرُّ جَزُوعًا وَإِذَا مَسَّهُ الْخَيْرُ مَنُوعًا إِلَّا الْمُصَلِّينَ الَّذِينَ هُمْ عَلَىٰ صَلَاتِهِمْ دَائِمُونَ
মানুষ তো সৃজিত হয়েছে ভীরুরূপে। যখন তাকে অনিষ্ট স্পর্শ করে, তখন সে হা-হুতাশ করে। আর যখন কল্যাণপ্রাপ্ত হয়, তখন কৃপণ হয়ে যায়। তবে তারা স্বতন্ত্র, যারা নামায আদায়কারী। যারা তাদের নামাযে সার্বক্ষণিক কায়েম থাকে। ( সুরা মা’য়ারিজ ১৮-২৩ )
হাদিসে এসেছে, وكان -ﷺ- إذا حزبه أمرٌ فزِعَ إلى الصلاة রাসুলুল্লাহ ﷺ যখন পেরেশান হতেন নামাযে দাঁড়িয়ে যেতেন। (আবু দাউদ ১৩১৯)
রাসুলুল্লাহ ﷺ বেলাল রাযি.-কে বলতেন, أقم الصلاة أرحنا بهاনামাযের ইকামত দাও, এর মাধ্যমে আমাকে প্রশান্তি দাও। (আবু দাউদ ৪৯৮৫)
৪. অলস সময় অতিবাহিত না করা–এটি এমন রোগ যা বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর ও অস্বস্তিকর চিন্তা টেনে আনে। যার কারণে মন অস্থির হয়ে ওঠে। সুতরাং যখনই আপনার মঝে অস্থিরতা দেখা দিবে তখনই মনে না চাইলেও মনে মনে যিকির শুরু করে দিবেন কিংবা সঙ্গে সঙ্গে অজু করে নামায ও কোরআন তেলাওয়াত শুরু করে দিবেন। দেখবেন, ধীরে ধীরে অস্থিরতা দূর হয়ে যাবে এবং মনে স্থিরতা ও প্রশান্তি চলে আসবে।
পাশাপাশি নিম্নের দোয়াটিও পড়তে পারেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, পেরেশানগ্রস্থ লোকের দোয়া হলো–

اَللَّهُمَّ رَحْمَتَكَ أَرْجُو، فَلاَ تَكِلْنِي إِلَى نَفْسِي طَرْفَةَ عَيْنٍ، وَأَصْلِحْ لِي شَأْنِي كُلَّهُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ

অর্থ, হে আল্লাহ! আমি আপনার রহমাতের আশা করি। অতএব, আপনি মুহুর্তের জন্যও আমাকে আমার মনের নিকট সোপর্দ করে দিবেন না এবং আমার সার্বিক অবস্থা সংশোধন করে দিন। আপনি ছাড়া কোন ইলাহ নাই। (আল আদাবুল মুফ্রাদ ৭১২)

পরিশেষে আমরা আপনার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করছি, তিনি যেন আপনার অন্তরে প্রশান্তি ও স্থিরতা দান করেন।

The post মনের অস্থিরতা দূর করার আমল ও দোয়া appeared first on কোরআনের জ্যোতি.

শুধু পানি ব্যবহার করে পেশাব-পায়খানা থেকে পবিত্র হওয়া যায় না?

জিজ্ঞাসা–৫৮১: শুধু পানি ব্যবহার করে পস্রাব-পায়খানা থেকে পবিত্র হওয়া যায় না?– abdul aziz

জবাব: মূল বিষয় হল, পবিত্র হওয়া। কেউ যদি শুধু পানি ব্যবহার করার মাধ্যমে নাপাকি থেকে পবিত্র হতে পারে তাহলে তার জন্য ঢিলা বা টিসু ব্যবহার করা জরুরি নয়। তবে উত্তম হল, প্রথমে ঢিলা বা টিসু ব্যবহার করে এরপর পানি ব্যবহার করা। আনাস ইবনু মালিক রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَدْخُلُ الْخَلاءَ فَأَحْمِلُ أَنَا وَغُلاَمٌ نَحْوِي إِدَاوَةً مِنْ مَاءٍ فَيَسْتَنْجِي بِالْمَاءِ

রাসুলুল্লাহ ﷺ যখন শৌচাগারে থাকতেন, তখন আমি এবং আমার মতই একটি বালক পানির লোটা নিয়ে যেতাম। অতঃপর তিনি পানি দ্বারা ইসতিনজা করতেন। (মুসলিম ৫১৩)

আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

مُرْنَ أَزْوَاجَكُنَّ أَنْ يَسْتَطِيبُوا بِالْمَاءِ فَإِنِّي أَسْتَحْيِيهِمْ مِنْهُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ كَانَ يَفْعَلُهُ

তোমরা তোমাদের স্বামীদের পানির সাহয্যে শৌচক্রিয়া সম্পাদন করতে নির্দেশ দিবে, আমি নিজে তাদের সে কথা বলতে লজ্জাবোধ করি। রাসূল ﷺ নিজেও এইরূপ করতেন। (তিরমিযী ১৯)

উক্ত হাদিসের ব্যাখ্যায় ইমাম তিরমিযী রহ. বলেন,

: وَعَلَيْهِ الْعَمَلُ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ يَخْتَارُونَ الاسْتِنْجَاءَ بِالْمَاءِ وَإِنْ كَانَ الاسْتِنْجَاءُ بِالْحِجَارَةِ يُجْزِئُ عِنْدَهُمْ فَإِنَّهُمْ اسْتَحَبُّوا الاسْتِنْجَاءَ بِالْمَاءِ وَرَأَوْهُ أَفْضَلَ

আলেমগণ এই ধরণের আমল করেন। পাথর বা ঢিলার সাহায্য ইস্তিঞ্জা যথেষ্ট হলেও পানি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করাকে তাঁরা পছন্দনীয় ও উত্তম বলে মত ব্যক্ত করেছেন।

والله اعلم بالصواب

উত্তর দিয়েছেন
মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী নকশবন্দী

আরো পড়ুন-
☞ পানি ব্যবহার না করে শুধু টিসু ব্যবহার করা
☞ পেশাব করার পর লজ্জাস্থান কীভাবে ধুতে হবে?
☞ ইস্তিঞ্জার (পেশাব-পায়খানার) নিয়ম কি?
☞ শিশুর পেশাব নাপাক কিনা?
☞ পেশাবের শুকিয়ে যাওয়া স্থানে ভেজা পা পড়লে তার হুকুম কি?
☞ কয় দিক ফিরে পেশাব করা নিষেধ?
☞ পেশাব করার স্থান থেকে পানির ছিটা আসলে করণীয়
☞ নাপাকি দুই প্রকার
☞ পেশাব প্যান্টে লেগেছে সন্দেহ হলে কী করণীয়?
☞ ইস্তেঞ্জায় ব্যবহৃত পানি কাপড়ে লাগলে তা নাপাক হবে কি?
☞ টয়লেটের মশা শরীর বা কাপড়ে বসলে তা নাপাক হয় কি?
☞ পেশাব ঝরার ব্যপারে সন্দেহ হলে কী করণীয়

The post শুধু পানি ব্যবহার করে পেশাব-পায়খানা থেকে পবিত্র হওয়া যায় না? appeared first on কোরআনের জ্যোতি.

স্ত্রী স্বামীকে বলল ‘তুমি তিন তালাক’ এভাবে বললে তালাক হয়?

প্রশ্ন

From: তারেক হুসাঈন
বিষয়ঃ স্ত্রী স্বামীকে তিন তালাক বলা

প্রশ্নঃ
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
মান্যবর মুফতি সাহেব!
জনৈক স্ত্রী স্বামীর উপর রাগান্বিত হয়ে স্বামীকে বললো “তুমি তিন তালাক”। এমতাবস্থায় শরীয়তের বিধান কি?
জানাতে হুজুরের মর্জি হয়।
(এরপর থেকে স্বামী স্ত্রীর সাথে না কথা বলছে, না দেখা দিচ্ছে।)
আল্লাহ আমাদের উপর রহম করুন।

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

স্বামী স্ত্রীকে তালাকের অধিকার প্রদান করলেই কেবল স্ত্রী নিজের উপর তালাক পতিত করতে পারে।

স্ত্রীকে তালাকের অধিকার প্রদান করা ছাড়াই স্ত্রী নিজের পক্ষ থেকে স্বামীকে বলা যে, “তুমি তিন তালাক” এভাবে তালাক দেবার দ্বারা তালাক হয় না।

ومحله المنكوحة واهله زوج عاقل بالغ مستيقظ (الدر المختار مع رد المحتار-4/431، مجمع الانهر-2/4، النهر الفائق-2/310

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

The post স্ত্রী স্বামীকে বলল ‘তুমি তিন তালাক’ এভাবে বললে তালাক হয়? appeared first on আহলে হক বাংলা মিডিয়া সার্ভিস.

গুগল অ্যাডসেন্স থেকে টাকা ইনকাম করা কি জায়েয?

জিজ্ঞাসা–৫৮০: গুগল এডসেন্স থেকে টাকা ইনকাম কি জায়েয? বিস্তারিত জানতে চাই!–মুহা.এনামুল ইসলাম।

জবাব: মূলত গুগল অ্যাডসেন্স (Google AdSense) হলো একটি অ্যাডভারটাইজিং মাধ্যম। সুতরাং অ্যাডগুলো যদি অশ্লীল ও হারাম পণ্যের হয় তাহলে তাহলে জায়েয হবে না। কেননা, গুনাহর প্রচার ও তার সহযোগিতা করা হারাম। আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَاتَّقُواْ اللّهَ إِنَّ اللّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ

তোমরা সৎকর্ম ও আল্লাহভীতিতে একে অন্যের সহযোগিতা করো, গুনাহ ও জুলুমের কাজে একে অন্যের সহায়তা করো না। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা কঠোর শাস্তিদাতা। (সূরা মায়েদা ২)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

مَنْ دَعَا إِلَى هُدًى كَانَ لَهُ مِنْ الأَجْرِ مِثْلُ أُجُورِ مَنْ تَبِعَهُ لا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْئًا وَمَنْ دَعَا إِلَى ضَلالَةٍ كَانَ عَلَيْهِ مِنْ الإِثْمِ مِثْلُ آثَامِ مَنْ تَبِعَهُ لا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ آثَامِهِمْ شَيْئًا

যে লোক সঠিক পথের দিকে ডাকে তার জন্য সে পথের অনুসারীদের প্রতিদানের সমান প্রতিদান রয়েছে। এতে তাদের প্রতিদান হতে সামান্য ঘাটতি হবে না। আর যে লোক গুনাহর দিকে ডাকে তার উপর সে রাস্তার অনুসারীদের গুনাহর অনুরূপ গুনাহ বর্তাবে। এতে তাদের গুনাহগুলো সামান্য হালকা হবে না। (মুসলিম ৬৫৬০)

পক্ষান্তরে যদি কেউ অনৈসলামিক অ্যাডগুলো বন্ধ রেখে বৈধ অ্যাডগুলো প্রচার করে ইনকাম করতে পারে তাহলে তা থেকে প্রাপ্ত ইনকাম হালাল হবে।

والله اعلم بالصواب

উত্তর দিয়েছেন
মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী নকশবন্দী

আরো পড়ুন-
☞ সফটওয়্যার-পাইরেসি জায়েয আছে কি?
☞ ফেক নাম ইউজ করে ফেসবুকে আইডি খোলা যাবে কি?
☞ ইউটিউবের মাধ্যমে আয় হালাল হবে কিনা?
☞ ফেসবুক ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদিতে ছবি পোস্ট করা জায়েয আছে কিনা?
☞ ভিডিও গেম খেলার হুকুম কী?
☞ ব্যাংকের আইটিতে চাকরি করা কি হারাম?
☞ ফেসবুকে পরনারীর সাথে ম্যাসেজের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখা

The post গুগল অ্যাডসেন্স থেকে টাকা ইনকাম করা কি জায়েয? appeared first on কোরআনের জ্যোতি.

বৈঠকে নির্ধারিত পদ্ধতি “তাওয়াররুক” এর হুকুম কী?

প্রশ্ন

From: মুহাম্মদ ইদ্রিস হোসাইন
মোবাইল/ইমেইলঃ (কুয়েত)
বিষয়ঃ নামায

প্রশ্নঃ
আস সালামু আলাইকুম,চার রাকা’ত বিশিষ্ট নামাযে শেষ বৈঠকে তাওয়াররুক এর বিধান কি জানালে উপকৃত হব,, জাযাকাল্লাহ খাইর।

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

নামাযের বৈঠকে ডান পা খাড়া করে, বাম পা বিছিয়ে তার উপর বসার নাম “তাওয়াররুক”। এভাবে বসা সুন্নত।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেছেন,

إنما سنة الصلاة أن تنصب رجلك اليمنى وتثنى اليسرى. أخرجه البخاري(٨٢٧) والنسائي(١١٥٧-١١٥٨) وابن أبي شيبة (٢٩٤٤).

নামাযে সুন্নত হলো ডান পা খাড়া রাখবে এবং বাম পা বিছিয়ে দেবে। বুখারী শরীফ, হাদীস নং ৮২৭; নাসায়ী শরীফ, হাদীস নং ১১৫৭, ১১৫৮; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ২৯৪৪।

হযরত আয়েশা রা. বলেন,

كَانَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم-( يَقُولُ فِى كُلِّ رَكْعَتَيْنِ التَّحِيَّةَ وَكَانَ يَفْرِشُ رِجْلَهُ الْيُسْرَى وَيَنْصِبُ رِجْلَهُ الْيُمْنَى. أخرجه مسلم في باب صفة الصلاة (٤٩٨) وابن أبي شيبة، (٢٩٤٣)

তিনি ( রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রত্যেক দুই রাকাতে আত্তাহিয়্যাতু পড়তেন। এবং বাম পা বিছিয়ে দিতেন ও ডান পা খাড়া রাখতেন। মুসলিম শরীফ, হাদীস নং ৪৯৮; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ২৯৪৩; আবু দাউদ তায়ালিসী, হাদীস নং ১৬৫১, আব্দুর রাযযাক, হাদীস নং ৩০৫০; মুসনাদে ইসহাক, হাদীস নং ১৩৩১, মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং ২৪০৩০, ইবনে মাজাহ,হাদীস নং ৮৯৩; আবু দাউদ, হাদীস নং ৭৮৩; আবু আওয়ানা, হাদীস নং ২০০৪।

হযরত ওয়াইল ইবনে হুজর রা. বলেন,

قدمت المدينة قلت لأنظرن إلى صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم فلما جلس يعني للتشهد افترش رجله اليسرى ووضع يده اليسرى يعني على فخذه اليسرى ونصب رجله اليمنى. أخرجه الترمذي(٢٩٢ )وقال حسن صحيح وابن أبي شيبة، (٢٩٤٢).

আমি মদীনা আসলাম, আর (মনে মনে) বললাম, আমি অবশ্যই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামায দেখবো। (তিনি বলেন), যখন তিনি বৈঠক করলেন, অর্থাৎ তাশাহহুদের জন্য তখন তাঁর বাম পা বিছিয়ে দিলেন, এবং তাঁর বাম হাত বাম উরুর উপর রাখলেন। আর ডান পা খাড়া রাখলেন। তিরমিযী শরীফ, হাদীস নং ২৯২; তিনি বলেছেন, এটি হাসান সহীহ। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ২৯৪২; নাসাঈ, হাদীস নং ১১৫৯; সুনানে দারিমী, ১/৩১৪, মুসনাদে আহমদ, ৪/৩১৮, তাহাবী ১/১৫২; বায়হাকী, ২/১৩২।

أَمَّا كَيْفِيَّتُهَا فَالسُّنَّةُ أَنْ يَفْتَرِشَ رِجْلَهُ الْيُسْرَى فِي الْقَعْدَتَيْنِ جَمِيعًا وَيَقْعُدُ عَلَيْهَا وَيَنْصِبُ الْيُمْنَى نَصْبًا الخ وَتَفْسِيرُ التَّوَرُّكِ أَنْ يَضَعَ أَلْيَتَيْهِ عَلَى الْأَرْضِ وَيُخْرِجَ رِجْلَيْهِ إلَى الْجَانِبِ الْأَيْمَنِ وَيَجْلِسُ عَلَى وَرِكِهِ الْأَيْسَرِ (بدائع الصنائع، كتاب الصلاة-1/496)

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

The post বৈঠকে নির্ধারিত পদ্ধতি “তাওয়াররুক” এর হুকুম কী? appeared first on আহলে হক বাংলা মিডিয়া সার্ভিস.