সুদী ব্যাংকে চাকুরিরত বাবার উপার্জিত টাকা দ্বারা ছেলে ব্যবসা করতে পারবে কিনা?

জিজ্ঞাসা–৫৯৮: আচ্ছা আমার বাবা ব্যাংক এ জব করে ভাল পোস্ট এ আছে। আমার বয়স ২২। আমি কি আমার বাবার টাকা দিয়ে ব্যবসা অথবা অন্য কিছু করতে পারব? আমরা তো জানি, ব্যাংক এর টাকা হারাম এখন একটু দলিলসহ যদি উত্তর দিতেন তাহলে ভাল হত। jonaid

জবাব:

এক. প্রিয় প্রশ্নকারী ভাই, ঈমানের পূর্ণতার জন্য অপরিহার্য শর্ত হল, সুদ ও যাবতীয় হারাম পন্থা পরিহার করে বৈধ উপায়ে সম্পদ উপার্জন করা। যেমন, আল্লাহ তাআলা বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا الرِّبَا أَضْعَافًا مُّضَاعَفَةً ۖ وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

হে ঈমানদারগণ! তোমরা চক্রবৃদ্ধিহারে সুদ খেয়ো না। আর আল্লাহকে ভয় করতে থাক, যাতে তোমরা কল্যাণ অর্জন করতে পারো। (সূরা আলি ইমরান ১৩০)

হাদিসে এসেছে-

لَعَنَ رَسُولُ اللهِ ﷺ آكل الربا وموكله وكاتبه وشاهديه، وقال : هم سواء.

আল্লাহর রসূল রাসূল ﷺ সুদখোর, সুদদাতা, সুদের লেখক এবং তার উপর সাক্ষীদ্বয়কে অভিশাপ করেছেন, আর বলেছেন, ওরা সকলেই সমান। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং-৩৮০৯)

অতএব আপনার বাবার উচিত, সুদী ব্যংকে কাজ করার জন্য আল্লাহ্‌র কাছে তওবা করা এবং যত দ্রুত সম্ভব হালাল উপার্জনের পথ খুঁজে বের করা। যদি তিনি তাওবা করেন তাহলে আশা করা যায়, আল্লাহ তাকে মাফ করবেন। কেননা, আল্লাহ তাআলা বলেন,

فَمَن جَاءهُ مَوْعِظَةٌ مِّن رَّبِّهِ فَانتَهَىَ فَلَهُ مَا سَلَفَ وَأَمْرُهُ إِلَى اللّهِ وَمَنْ عَادَ فَأُوْلَـئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ

অতঃপর যার কাছে তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে উপদেশ এসেছে এবং সে বিরত হয়েছে, পূর্বে যা হয়ে গেছে, তা তার। তার ব্যাপার আল্লাহর উপর নির্ভরশীল। আর যারা পুনরায় সুদ নেয়, তারাই জাহান্নামে যাবে। তারা সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে। (সূরা বাকারা ২৭৫)

দুই. বাকি রইল, আপনি আপনার বাবার উপার্জিত টাকা দ্বারা ব্যবসা করতে পারবেন কিনা? এর উত্তর হল, যদি এছাড়া আপনার অন্য কোনো উপায় না থাকে তাহলে পারবেন। তবে উত্তম হল, এই টাকা না ধরা। এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা হল এই যে,

শরিয়তের দৃষ্টিতে হারাম মৌলিকভাবে দুই প্রকার। ১- মূল সম্পদটাই হারাম। যেমন, চুরি-ডাকাতি বা ছিনতাই করা করা জিনিস, সুদ ও ঘুষের মাধ্যমে প্রাপ্ত টাকা ইত্যাদি। কেউ যদি সরাসরি সেই জিনিসটা উপহার দেয় বা তাহলে তা গ্রহণ করা জায়েয নেই।

২- মূল সম্পদটা হালাল কিন্তু উপার্জনের পদ্ধতিগত কারণে হারাম। যেমন, সুদী ব্যাংক, বীমা ইত্যাদিতে চাকরি করে প্রাপ্ত বেতন, এমন ব্যবসা যাতে হালাল-হারামের মিশ্রণ রয়েছে ইত্যাদি। এ প্রকারের হারাম সম্পর্কে কতক আলেম বলেন, তা কেবল উপার্জনকারীর জন্য হারাম। অন্যরা যদি তা শরিয়তসম্মত কোনো পদ্ধতির মাধ্যমে গ্রহণ করে তাহলে দ্বিতীয় পক্ষের জন্য হারাম হবে না। যেমন, হাদিয়া, দান, বেচাকেনা ইত্যাদির মাধ্যমের গ্রহণ করলে তা দ্বিতীয় পক্ষের জন্য হারাম হবে না। এর দলিল হল, রাসূল ﷺ ইহুদিদের দাওয়াত খেয়েছেন এবং তাদের হাদিয়া গ্রহণ করেছেন। (বুখারী: ২৬১৫-১৮, ‘মুশরিকদের নিকট থেকে হাদিয়া গ্রহণ’ অনুচ্ছেদ) বলা বাহুল্য, ইহুদিরা যে সুদের কারবার করত তা পবিত্র কোরআনেই উল্লেখ আছে।

উক্ত মূলনীতির আলোকে আমরা বলতে পারি, আপনার বাবা সুদি ব্যাংকে চাকরি করার কারণে তিনি অবশ্যই গুনাহগার হচ্ছেন। কিন্তু তাঁর উপার্জিত টাকা আপনাকে দিলে আপনার জন্য তা হারাম হচ্ছে না।

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. হতে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে,

أنه سئل عمن له جار يأكل الربا ، ويدعوه إلى طعامه؟ فقال : أجيبوه ؛ فإنما المهنأ لكم ، والوزر عليه

তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল, সুদ খায় এমন প্রতিবেশী যদি দাওয়াত দিলে তাতে অংশ গ্রহণ করা যাবে কি না? তিনি বলেন, দাওয়াতে অংশ গ্রহণ কর। এটা তোমাদের জন্য স্বাচ্ছন্দে গ্রহণীয় জিনিস। গুনাহ তার উপর বর্তাবে। (জামেউল উলুম ওয়াল হেকাম ৭১)

والله اعلم بالصواب

উত্তর দিয়েছেন
মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী নকশবন্দী

আরো পড়ুন-
☞ সুদমুক্ত ব্যাংকিং-এর দাবীদার ব্যাংকে চলতি হিসাব খোলা
☞ ইসলামী ব্যাংক থেকে মুনাফা গ্রহণ করা যাবে কি?
☞ ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত সুদ কী করবেন?
☞ ব্যাংকের আইটিতে চাকরি করা কি হারাম?
☞ গুগল অ্যাডসেন্স থেকে টাকা ইনকাম করা কি জায়েয?
☞ ইসলামের দৃষ্টিতে নারীর চাকরি
☞ যৌতুকের (হারাম) পোশাকে ইবাদত কবুল হবে কি?
☞ চাকুরির জন্য টাখনুর নীচে পোশাক পরিধানের শর্ত দিলে করণীয় কী?
☞ ট্যাক্স কমাতে সুদভিত্তিক সঞ্চয়পত্র কেনা জায়েয আছে কি?
☞ হোম লোন নেয়া জায়েয আছে কি?
☞ নারী-পুরুষের মিশ্রিত পরিবেশে নারীর শিক্ষকতা বা চাকরি করা
☞ ঘুষ দিয়ে চাকরি নেয়া যাবে কি?
☞ ঘুষ দিয়ে চাকরি নিলে, সেই চাকরির বেতন কি হালাল হবে?
☞ ইউটিউবের মাধ্যমে আয় হালাল হবে কিনা?
☞ ঘুষ দিতে বাধ্য হলে করণীয়
☞ বাবা নামাজ পড়ে না; সন্তানের করণীয় কী?
☞ মা-বাবার খরচ চালানো দায়িত্ব ছেলে না মেয়ের এবং স্বামীর অবাধ্য হয়ে মায়ের দেখাশোনা করা যাবে কি?
☞ যিনি বাবার মৃত্যুর পর তাঁর সঙ্গে কৃত বেয়াদবির কারণে লজ্জিত…
☞ বাবা-মা পর্দা পালনে বাঁধা দিচ্ছে; কী করব?
☞ বাবা একমাত্র মেয়ের নামে সকল সম্পদ লিখে দিতে পারে কিনা?
☞ বাবা-মা ভণ্ড পীরের মুরিদ; সন্তানের করণীয় কি?

The post সুদী ব্যাংকে চাকুরিরত বাবার উপার্জিত টাকা দ্বারা ছেলে ব্যবসা করতে পারবে কিনা? appeared first on কোরআনের জ্যোতি.

প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে মেয়ের জন্য মায়ের সাথে ঘুমানোর বিধান কী?

প্রশ্ন

From: hasnayen
বিষয়ঃ মায়ের সাথে ঘুমানো কি গুনাহ?

প্রশ্নঃ
আমার বাবা মায়ের সম্পর্ক ভালো না। তাই তারা একসাথে ঘুমায় না। আমি আমার মায়ের সাথে ছোটবেলা থেকে একসাথে ঘুমাই। এটা কি গুনাহ। বিস্তারিত জানতে চাই।

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

প্রাপ্ত বয়স্ক হবার পর আলাদা ঘুমানো জরুরী। একসাথে একই বিছানায় ঘুমানো যাবে না।

তবে এক মহিলা আরেক মহিলার সাথে একই বিছানায় ঘুমাতে পারবে, যদি উভয়ের সতর ঢাকা থাকে এবং ফিতনার শংকা না থাকে। তেমনি দুইজন পুরুষ একসাথে একই বিছানায় ঘুমাতে পারবে, যদি সতর ঢাকা থাকে। কিন্তু ফিতনার শংকা থাকলে বৈধ নয়।

عن عمرو بن شعيب، عن ابيه، عن جده، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏”‏ مروا اولادكم بالصلاة وهم ابناء سبع سنين واضربوهم عليها وهم ابناء عشر سنين وفرقوا بينهم في المضاجع ‏”‏

‘আমর ইবনু শু‘আইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের সন্তানদের বয়স সাত বছর হলে তাদেরকে সলাতের জন্য নির্দেশ দাও। যখন তাদের বয়স দশ বছর হয়ে যাবে তখন (সলাত আদায় না করলে) এজন্য তাদেরকে মারবে এবং তাদের ঘুমের বিছানা আলাদা করে দিবে। [সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৪৯৫]

(وَفَرِّقُوا) : أَمْرٌ مِنَ التَّفْرِيقِ (بَيْنَهُمْ) : أَيْ: بَيْنَ الْبَنِينَ وَالْبَنَاتِ عَلَى مَا هُوَ الظَّاهِرُ، وَيُؤَيِّدُهُ مَا قَالَهُ بَعْضُ الْعُلَمَاءِ، وَيَجُوزُ لِلرَّجُلَيْنِ أَوِ الْمَرْأَتَيْنِ أَنْ يَنَامَا فِي مَضْجَعٍ وَاحِدٍ ; بِشَرْطِ أَنْ تَكُونَ عَوْرَتُهُمَا مَسْتُورَةً بِحَيْثُ يَأْمَنَانِ الْتِمَاسَ الْمُحَرَّمِ. وَقَالَ ابْنُ حَجَرٍ: بِهَذَا الْحَدِيثِ أَخَذَ أَئِمَّتُنَا فَقَالُوا: يَجِبُ أَنْ يُفَرَّقَ بَيْنَ الْإِخْوَةِ وَالْأَخَوَاتِ فَلَا يَجُوزُ حِينَئِذٍ تَمْكِينُ ابْنَيْنِ مِنَ الِاجْتِمَاعِ فِي مَضْجَعٍ وَاحِدٍ، (مرقاة الفماتيح، كتاب الصلاة، الفصل الثانى-2/257، رقم الحديث-572

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– ahlehaqmedia2014@gmail.com

শুধু তাকবীরে তাহরীমার সময় রফয়ে ইয়াদাইন সুন্নত

আল্লামা আব্দুল মতীন দামাত বারাকাতুহু

একাধিক হাদীস ও অধিকাংশ সাহাবী ও তাবেয়ীর আমল একথা প্রমাণ করে যে, নামাযে শুধু প্রথম তাকবীরের সময় কান পর্যন্ত হাত তোলা সুন্নত। রুকুতে যাওয়ার সময় এবং রুকু থেকে ওঠার সময় হাত তোলা সুন্নত নয়।

সাহাবীগনের যুগে মদীনা শরীফ এবং কুফা এই দুটি শহরেই অধিকাংশ সাহাবী বসবাস করতেন। কুফা নগরীতে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী পাঁচশ সাহাবীসহ পনেরশ সাহাবী অবস্থান করতেন। তাঁদের মধ্যে তিনশত সাহাবী ছিলেন, যারা বায়আতে রেযওয়ানে শরীক ছিলেন এবং সত্তরজন সাহাবী এমন ছিলেন, যারা বদর যুদ্ধে শরীক ছিলেন।(মুকাদ্দমা নাসবুর রায়াহ দ্রষ্টব্য

তাঁদের মধ্যে হযরত ওয়াইল ইবনে হুজর রা.ও ছিলেন, যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে নামাযে অনেক স্থানে হাত তুলতে দেখেছেন বলে বর্ণনা করেছেন । তাঁদের মধ্যে হযরত আব্দল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. ও হযরত আলী রা.ও ছিলেন, যারা অধিকাংশ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পেছনে প্রথম কাতারেই নামায আদায় করেছিলেন। হযরত আলী রা.ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একাধিক স্থানে রফয়ে ইয়াদাইন করতে দেখেছেন বলে বর্ণিত আছে। এই দুই নগরীর আমল আমাদের সামনে রাখতে হবে।
মদীনা শরীফের আমল:

ইমাম মালেক রহ. -যিনি মদীনা শরীফের বড় মুহাদ্দিস ও ফকীহ ছিলেন- তিনি বলেছেন,
لا أعرف رفع اليدين في شيء من تكبير الصلاة لا في خفض ولا في رفع إلا في افتتاح الصلاة. (المدونة الكبرى صـ ١/٧١

অর্থাৎ নামাযের সূচনা ছাড়া অন্য কোন তাকবীরের সময়, ঝোঁকার সময় বা সোজা হওয়ার সময় হাত তোলার নিয়ম আমার জানা নেই। (আল মুদাওয়ানাতুল কুবরা, ১খ, ৭১পৃ)
কূফা নগরীর আমল:

ইমাম মুহাম্মদ ইবনে নাসর (মৃত্যু ২৯৪ হি.) বলেছেন,
لا نعلم مصرا من الأمصار ينسب إلى أهله العلم قديما تركوا بإجماعهم رفع اليدين عند الخفض والرفع في الصلاة إلا أهل الكوفة، كذا في التمهيد ৯/২১২،২১৩ وزاد في الاستذكار: فكلهم لا يرفع إلا في الإحرام. (رقم ১৪০)

আমরা কূফাবাসী ছাড়া আর কোন শহরবাসী: যারা প্রাচীনকালে ইলমের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন: সম্পর্কে জানি না, যারা সকলে মিলে নামাযে ঝোঁকার সময় ও সোজা হওয়ার সময় হাত তোলা ছেড়ে দিয়েছেন। (দ্র, তামহীদ লি ইবনি আব্দুল বার রহ. ৯/২১২,২১৩) আল ইসতিযকার গ্রন্থে একথাও ইবনে নাসর থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, কূফাবাসী সকলে শুধু তাহরীমার সময় হাত তুলতেন। (হাদীস ১৪০) (টীকা-১)

লক্ষ করুন, সকলে মিলে ছেড়েছেন এমন শহর শুধু কূফাই ছিল। তার মানে অন্যান্য শহরে ছেড়ে দেয়ারও লোক ছিল, হাত তোলারও লোক ছিল।

চিন্তা করুন, কূফার পনেরশ’ সাহাবীর কেউ যদি রুকুতে যাওয়ার সময় এবং রুকু থেকে ওঠার সময় হাত তুলতেন, তাহলে তাঁদের শাগরেদদের কেউ না কেউ অবশ্যই হাত তুলতেন। কিন্তু না, তাঁদের কেউই হাত তুলতেন না। ইমাম তিরমিযীও হযরত ইবনে মাসউদ রা. এর একবার হাত তোলার হাদীসটি উল্লেখ করে বলেছেন,
وبه يقول غير واحد من أهل العلم من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم والتابعين وهو قول سفيان الثوري وأهل الكوفة

অর্থাৎ এ হাদীস অনুসারেই মত দিয়েছেন একাধিক সাহাবী ও তাবেয়ী। সুফিয়ান ছাওরী ও কূফাবাসীদের মতও এই হাদীস অনুসারে।

তামহীদ গ্রন্থে ইবনে আব্দুল বার রহ. বলেছেন,
روى ابن القاسم وغيره عن مالك أنه كان يرى رفع اليدين في الصلاة ضعيفا إلا في تكبيرة الإحرام وحدها وتعلق بهذه الرواية عن مالك أكثر المالكيين وهو قول الكوفيين سفيان الثوري وأبي حنيفة وأصحابه والحسن بن حي وسائر فقهاء الكوفة قديما وحديثا.

অর্থাৎ ইবনুল কাসেম প্রমুখ ইমাম মালেক রহ. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাকবীরে তাহরীমার সময় ছাড়া নামাযে অন্য কোথাও রফয়ে ইয়াদাইনকে দুর্বল মনে করতেন। ইমাম মালেক রহ. থেকে বর্ণিত এ বর্ণনাকেই মালেকী মাযহাবের অধিকাংশ আলেম গ্রহণ করেছেন। সুফিয়ান ছাওরী, আবু হানীফা, তাঁর শিষ্যবর্গ, হাসান ইবনে হায়্য, এমনকি প্রাচীন ও পরবর্তী উভয়কালের সকল কূফাবাসীর মত এটাই। (৯/২১২,২১৩)

সুফিয়ান ছাওরীর জীবনী পড়–ন। তাঁকে ‘আমীরুল মু’মিনীন ফিল হাদীস’ বা হাদীসের সম্রাট উপাধি দেওয়া হয়েছে। রফয়ে ইয়াদাইন নিয়মিত সুন্নত হিসাবে প্রমাণিত থাকলে তিনি তা ছেড়ে দিতেন না। ইমাম মালেক র.ও ছিলেন হাদীসের সম্রাট। মুয়াত্তায় তিনি রফয়ে ইয়াদাইনের হাদীস উদ্ধৃত করেছেন। এতদসত্ত্বেও মদীনা শরীফের অধিকাংশের আমল তদনুযায়ী না থাকার কারণে তিনিও হাত না তোলাকেই অবলম্বন করেছেন। মদীনা ও কূফার এ সকল সাহাবী ও তাবেয়ী একারণেই তো রুকুতে যাওয়ার আগে ও পরে হাত তুলতেন না যে- তাঁদের মতে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাঝে মধ্যে তেমনটা করলেও অধিকাংশ সময় তা করেননি। কিংবা পূর্বে করেছেন বটে, পরে ছেড়ে দিয়েছেন। ভূমিকা স্বরূপ একথাগুলো আরজ করার পর এ বিষয়ের হাদীসগুলো তুলে ধরছি।

শুধু তাকবীরে তাহরীমার সময় রফয়ে ইয়াদাইনের দলিল

১ আলকামা র. বলেন,
قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ أَلاَ أُصَلِّى بِكُمْ صَلاَةَ رَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- قَالَ فَصَلَّى فَلَمْ يَرْفَعْ يَدَيْهِ إِلاَّ في أول مَرَّة. أخرجه أبو داود (٧٤٨) والترمذي (٢٥٧) والنسائي (١٠٥٨) وقال الترمذي : حديث حسن وصححه ابن حزم في المحلى ٤/٨٨ وقال أحمد شاكر في تعليقه على الترمذي : هذا الحديث صححه ابن حزم وغيره من الحفاظ وهو حديث صحيح وما قالوا في تعليله ليس بعلة

অর্থ: আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেছেন, আমি কি তোমাদেরকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামাযের মত নামায পড়বনা? একথা বলে তিনি নামায পড়লেন, এবং তাতে শুধু প্রথম বারই হাত তুললেন। আবূ দাউদ শরীফ, হাদীস নং ৭৪৮, তিরমিযী শরীফ, হাদীস নং ২৫৭, নাসায়ী শরীফ, হাদীস নং ১০৫৮, মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ২৪৫৬, মুসনাদে আহমদ, ১খ, ৩৮৮পৃ।

ইমাম তিরমিযী র. এ হাদীসকে ‘হাসান’ বলেছেন, ইবনে হাযম জাহিরী (যিনি কোন মাযহাব অনুসরণ করতেন না) এটিকে সহীহ বলেছেন। তিরমিযী শরীফের টীকায় শায়খ আহমদ শাকের (তিনি মিসরের কাজী ছিলেন) বলেছেন, এ হাদীসটিকে ইবনে হাযমসহ অনেক হাফেজে হাদীস সহীহ আখ্যা দিয়েছেন। আসলেও এটি সহীহ হাদীস। অনেকে এর যেসব ত্রুটির কথা বলেছেন সেগুলো বাস্তবে কোন ত্রুটি নয়।

আহমদ শাকের রহ. অন্যদের উত্থাপিত যে ত্রুটির প্রতি ইংগিত করেছেন তন্মধ্যে একটি হলো; কেউ কেউ বলেছেন, এ হাদীসটি সম্পর্কে ইমাম তিরমিযী র. বলেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক র. বলেছেন :
ولم يثبت حديث ابن مسعود أن النبي صلى الله عليه وسلم لم يرفع إلا في أول مرة.

অর্থাৎ ইবনে মাসউদ রা. এর এ হাদীসটি প্রমাণিত নয় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধু প্রথমবারই হাত তুলেছেন। এর জবাব এই যে, ইবনে মাসউদ রা. থেকে এ ব্যাপারে দুটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। একটি মৌখিক বর্ণনারূপে, অপরটি নিজে আমল করে দেখানোর মাধ্যমে। ইবনুল মুবারক র. প্রথমটি সম্পর্কে ঐ মন্তব্য করেছেন। উপরে উদ্ধৃত তার বক্তব্য থেকেও তাই প্রমাণিত হয়। দ্বিতীয় বর্ণনা সম্পর্কে তিনি ঐ মন্তব্য করেননি। এর প্রমাণ তিনি নিজেও দ্বিতীয় হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, যা নাসায়ী শরীফে উদ্ধৃত হয়েছে। হাদীস নং ১০২৬।

হযরত বারা ইবনে আযিব রা. থেকে বর্ণিত:
أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان إذا افتتح الصلاة رفع يديه إلى قريب من أذنيه ثم لا يعود. أخرجه أبو داود (٧٥٢) وابن أبي شيبة (٢٤٥٥) وعبد الرزاق في المصنف (২৫৩১) والدارقطني (১/২৯৩، رقم ২১) فرواه عن البراء ثقتان عدي ين ثابت عند الدارقطني وعبد الرحمن بن أبي ليلى عند غيره وعنهما يزيد بن أبي زياد والحكم بن عتيبة وعيسى ، والحكم وعيسى ثقتان ويزيد صدوق عند البخاري ومسلم وصحح حديثه الترمذي (৭৭৭،১১৪) وعن يزيد ابن أبي ليلى والسفيانان وشريك و اسرائيل واسماعيل بن زكريا والإمام أبو حنيفة وغيرهم

অর্থ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায শুরু করার সময় কানের কাছাকাছি হাত তুলতেন। এরপর আর কোথাও হাত তুলতেন না।
আবূ দাউদ শরীফ, হাদীস নং ৭৫২, মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ২৪৫৫। মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক (২৫৩১), দারাকুতনী (১খ, ২৯৩ পৃ.) হাদীস ২১।

হযরত ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত:
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : ترفع الأيدي في سبعة مواطن، افتتاح الصلاة واستقبال البيت والصفا والمروة والموقفين وعند الحجر، أخرجه ابن أبي شيبة (٢٤٦٥) موقوفا والطبراني (١٢٠٧٢) مرفوعا

অর্থ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সাতটি জায়গায় হাত তুলতে হয়। ১. নামাযের শুরুতে, ২. কাবা শরীফের সামনে আসলে, ৩. সাফা পাহাড়ে উঠলে, ৪. মারওয়া পাহাড়ে উঠলে। ৫. আরাফায় ৬. মুযাদালিফায় ৭. হাজরে আসওয়াদের সামনে।

তাবারানী, মুজামে কাবীর(রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্তব্যরূপে) নং ১২০৭২। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ২৪৬৫ (সাহাবীর বক্তব্যরূপে)। সুনানে বায়হবাকী, ৫খ, ৭২-৭৩ পৃ। হায়ছামী র. হযরত ইবনে উমর রা. থেকেও মারফূরূপে এটি উল্লেখ করেছেন।(দ্র. মাজমাউয যাওয়ায়েদ, ২খ, ২২২ পৃ) এখানে উদ্ধৃত হাদীসটি এই শব্দে মুসনাদে বাযযারের বরাত দিয়ে হায়ছামী তার কাশফুল আসতারে উল্লেখ করেছেন। (হা. ৫১৯)

হযরত ইবনে উমর রা. বলেছেন,
كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يرفع يديه إذا افتتح الصلاة ثم لا يعود. رواه البيهقي في الخلافيات من حديث محمد بن غالب ثنا أحمد بن محمد البرتي ثنا عبد الله بن عون الخراز ثنا مالك عن الزهري عن سالم عن ابن عمر. قال الحافظ مغلطائي: لا بأس بسنده. وقال الشيخ عابد السندي: هذا الحديث عندي صحيح لا محالة رجاله رجال الصحيح.(راجع- الإمام ابن ماجه وكتابه السنن صـ ٢٥٢) قلت: ويؤيده أيضا عمل ابن عمر على وفقه كما عند الطحاوي ١/١١٠ وابن أبي شيبة (٢٤٦٧) والبيهقي في المعرفة عن مجاهد قال: صليت خلف ابن عمر فلم يكن يرفع يديه إلا في التكبيرة الأولى من الصلاة. وأخرجه الإمام محمد في الموطا عن محمد بن أبان بن صالح عن عبد العزيز بن حكيم قال: رأيت ابن عمر يرفع يديه حذاء أذنيه في أول تكبيرة افتتاح الصلاة ولم يرفعهما فيما سوى ذلك.

অর্থ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামায শুরু করতেন তখন রফয়ে ইয়াদাইন করতেন। এর পর আর করতেন না। (বায়হাকী, আল খিলাফিয়াত) । হাফেজ মুগলতাঈ র. বলেছেন, এর সনদে কোন সমস্যা নেই। শায়খ আবেদ সিন্ধী র. বলেছেন, আমার দৃষ্টিতে এটি অবশ্যই সহীহ। ইমাম মালেক র. থেকে ইবনুল কাসেম ও ইবনে ওয়াহব র. একবার হাত ওঠানোর যে বর্ণনা পেশ করেছেন, যা আল মুদাওয়ানা’য় বিদ্ধৃত হয়েছে, তা এই বর্ণনার সমর্থন করে। এমনিভাবে হযরত ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত পূর্বের হাদীসটি এবং তাঁর আমলও এর সমর্থক।

ইবনে আবী শায়বা র. স্বীয় মুসান্নাফে ও তাহাবী র. শরহে মাআনিল আছার গ্রন্থে মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন, আমি হযরত ইবনে উমর রা. এর পেছনে নামায পড়েছি। তিনি নামাযের সূচনায় ছাড়া আর কোথাও হাত তোলেন নি। এর সনদ সহীহ। ইমাম মুহাম্মদ র.ও মুয়াত্তায় হযরত ইবনে উমর রা.এর অনুরূপ আমলের কথা উদ্ধৃত করেছেন।

আসওয়াদ র. বলেছেন,
رأيت عمر بن خطاب رض يرفع يديه في أول تكبيرة ثم لا يعود. أخرجه ابن أبي شيبة (٢٤٦٩) والطحاوي ١/١١١ وصححه الزيلعي وقال الحافظ ابن حجر في الدراية : وهذا رجاله ثقات. وقال المارديني في الجوهر النقي ٢/٧٥: هذا سند صحيح على شرط مسلم.

অর্থ: আমি উমর ইবনুল খাত্তাব রা.কে দেখেছি, তিনি প্রথম তাকবীরের সময় হাত তুলতেন; পরে আর তুলতেন না। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ২৪৬৯; তাহাবী শরীফ, ১খ, ১১১পৃ।

যায়লাঈ র. এই হাদীসকে সহীহ বলেছেন। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী র. আদদিরায়া গ্রন্থে লিখেছেন, এর বর্ণনাকারীরা সবাই বিশ্বস্ত। আল্লামা আলাউদ্দীন মারদীনী র. আল জাওহারুন নাকী গ্রন্থে বলেছেন, এসনদটি ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ।

ইমাম তাহাবী এই হাদীসটি উল্লেখ করার পর লিখেছেন,
وفعل عمر رضي الله عنه هذا وترك أصحاب رسول الله صلى الله عليه و سلم إياه علي ذلك دليل صحيح أن ذلك هو الحق الذي لا ينبغي لأحد خلافه

অর্থাৎ উমর রা. কর্তৃক এই আমল করা এবং সাহাবীগণের তার উপর কোন আপত্তি না করা স্পষ্ট প্রমাণ করে যে, এটাই এমন সঠিক পদ্ধতি, যার ব্যতিক্রম করা কোন ব্যক্তির জন্য উচিৎ নয়।

আসিম ইবনে কুলায়ব র. তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন,
أن عليا رضـ كان يرفع يديه في أول تكبيرة من الصلاة ثم لا يرفع بعد. أخرجه ابن أبي شيبة ٢٤٥٧ والطحاوي ١/١١٠ والبيهقي ٢/٨٠ وصححه الزيلعي وقال الحافظ في الدراية : رجاله كلهم ثقات وقال العيني : صحيح على شرط مسلم.

অর্থ: হযরত আলী রা. নামাযে শুধু প্রথম তাকবীরের সময় হাত তুলতেন। এরপর আর কোথাও তুলতেন না। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ২৪৫৭; তাহাবী শরীফ, ১খ, ১১০পৃ।

যায়লাঈ র. এই হাদীসকে সহীহ বলেছেন। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী র. আদদিরায়া গ্রন্থে লিখেছেন, এর বর্ণনাকারীরা সবাই বিশ্বস্ত। আল্লামা আয়নী র. বলেছেন, এটি মুসলিম শরীফের সনদের মানসম্পন্ন।

ইমাম তাহাবী র. এটি উল্লেখ করার পর বলেন,
فإن عليا لم يكن ليرى النبي صلى الله عليه و سلم يرفع ثم يترك هو الرفع بعده إلا وقد ثبت عنده نسخ الرفع

অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হাত তুলতে দেখেও তাঁর ইন্তেকালের পর আলী রা.তো শুধু একারণেই হাত তোলা ছেড়ে দিতে পারেন যে, তার নিকট হাত তোলার বিধান রহিত হওয়ার কোন প্রমাণ বিদ্যমান ছিল।

ইবরাহীম নাখায়ী র. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. সম্পর্কে বর্ণনা করেন,
أنه كان يرفع يديه في أول ما يفتتح ثم لا يرفعهما . أخرجه ابن أبي شيبة (٢٤٥٨) والطحاوي ١/١١١ وعبد الرزاق ٢/٧١ وإسناده صحيح.

অর্থ: তিনি নামায শুরু করার সময় হাত তুলতেন। পরে আর কোথাও হাত তুলতেন না। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ২৪৫৮; তাহাবী শরীফ, ১খ, ১১১পৃ; মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, ২খ, ৭১পৃ। এটির সনদ সহীহ।

হযরত আব্বাদ ইবনুয যুবায়র থেকে বর্ণিত:
أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان إذا افتتح الصلاة رفع يديه في أول الصلاة ثم لم يرفعهما في شيئ حتى يفرغ. أخرجه البيهقي في الخلافيات. كما في نصب الراية ١/٤٠٤

অর্থ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামায শুরু করতেন, তখন শুধু নামাযের শুরুতেই উভয় হাত তুলতেন। এর পর নামায শেষ করা পর্যন্ত আর কোথাও হাত তুলতেন না। বায়হাকী তার ‘আল-খিলাফিয়াত’ গ্রন্থে এটি উদ্ধৃত করেছেন।

এ হাদীসটির সনদ সম্পর্কে আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী র. বলেছেন, এর বর্ণনাকারীরা সকলেই বিশ্বস্ত।

আবূ ইসহাক সাবিয়ী র. বলেন,
كان أصحاب عبد الله وأصحاب علي لا يرفعون أيديهم إلا في افتتاح الصلاة. قال وكيع: ثم لا يعودون. أخرجه ابن أبي شيبة بسند صحيح جدا (٢٤٦١)

অর্থ: আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. এর শাগরেদগণ এবং হযরত আলী রা. এর শাগরেদগণ কেবল মাত্র নামাযের শুরুতে হাত ওঠাতেন। ওয়াকী র. বলেন, এর পর আর হাত ওঠাতেন না।

মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ২৪৬১। এর সনদ অত্যন্ত সহীহ।

রফয়ে ইয়াদাইন কত জায়গায় ছিল?

সহীহ হাদীসসমূহে দেখা যায়, রফয়ে ইয়াদাইন একবার থেকে শুরু করে প্রত্যেক ওঠানামায় ছিল। খোদ হযরত ইবনে উমর রা. এর হাদীসে এক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন বিবরণ উদ্ধৃত হয়েছে। নিম্নে সংক্ষেপে তা তুলে ধরা হলো।

শুধু এক জায়গায় অর্থাৎ নামাযের শুরুতে। যেমনটি পেছনের হাদীসগুলো থেকে জানা গেল।

দুই জায়গায়, অর্থাৎ শুরুতে এবং রুকু থেকে ওঠার পর। হযরত ইবনে উমর রা. থেকে ইমাম মালেক র. মুয়াত্তায় এটি উদ্ধৃত করেছেন। আবূ দাউদ হযরত ইবনে উমর রা. থেকে (৭৪২), ইবনে মাজা র. হযরত আনাস রা. থেকে (৮৬৬)।

তিন জায়গায়, অর্থাৎ নামাযের শুরুতে এবং রুকুর পূর্বে ও পরে। হযরত ইবনে উমর রা. থেকে বুখারী ও মুসলিমসহ অনেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন।

চার জায়গায়, অর্থাৎ উপরোক্ত তিন জায়গায় এবং দুরাকাত শেষ করে দাঁড়ানোর সময়। ইবনে উমর রা. থেকে বুখারী (৭৩৯), আবূ দাউদ(৭৪৩)। আবূ হুমায়দ রা. থেকে ইবনে মাজা (৮৬২) ও তিরমিযী (৩০৪), তিনি এটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। হযরত আলী রা. থেকে আবূ দাউদ (৭৪৪), ইবনে মাজাহ (৮৬৪), ও তিরমিযী (৩৪২৩)। তিনি এটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। হযরত আবূ হুরায়রা রা. থেকে আবূ দাউদ(৭৩৮)।

পাঁচ জায়গায়, উক্ত চার জায়গা ছাড়াও সেজদায় যাওয়ার সময়। বুখারী, ‘জুযউ রাফইল ইয়াদাইন গ্রন্থে’, (পৃ ২৬); এবং তাবারানী ‘আল আওসাত’ গ্রন্থে। হায়ছামী র.বলেছেন, এর সনদ সহীহ। নাসাঈ র. মালেক ইবনুল হুয়ায়রিছ রা. থেকে (১০৮৫) । এর সনদও সহীহ। ইবনে মাজাহ র. হযরত আবূ হুরায়রা রা. থেকে (৮৬০)। আবূ ইয়ালা র. হযরত আনাস রা. থেকে (৩৭৪০)। এর সনদও সহীহ। (দ্র, মাজমাউয যাওয়ায়েদ, ২/২২০)। দারা কুতনী র. হযরত ওয়াইল ইবনে হুজর রা. থেকে। এর সনদও সহীহ। (দ্র, আছারুস সুনান)

এছাড়া হযরত ওয়াইল ইবনে হুজর রা. এর বর্ণনায় ২য় রাকাতের শুরুতে : আবূ দাউদ (৭২৩), এবং হযরত ইবনে আব্বাস রা. এর বর্ণনায় দুই সেজদার মাঝে : আবূ দাউদ (৭৪০), নাসায়ী (১১৪৩)- রফয়ে ইয়াদাইনের উল্লেখ পাওয়া যায়।

প্রত্যেক ওঠানামার সময়। অর্থাৎ রুকু, সেজদা, কেয়াম (দাঁড়ানো), কুউদ (বসা) এবং উভয় সেজদার মাঝখানে রফয়ে ইয়াদাইন। তাহাবী মুশকিলুল আছার গ্রন্থে হযরত ইবনে উমর রা. থেকে (৫৮৩১) । এর রাবীগণ সকলে বিশ্বস্ত। ইবনে মাজাহ র. উমায়ের ইবনে হাবীব থেকে (৮৬১) এর সনদ দুর্বল। প্রত্যেক ওঠানামায় হাত তোলার হাদীসকে ইমাম আহমাদ সহীহ বলেছেন। (দ্র. মুগনী, ১/৩৬৯) আবুল হাসান ইবনুল কাত্তানও তার বায়ানুল ওয়াহাম ওয়াল ঈহাম গ্রন্থে এটিকে সহীহ আখ্যা দিয়েছেন। (৫/৬১২) ইবনে হাযমও (মৃত্যু-৪৫৬হি) আল মুহাল্লা গ্রন্থে এটিকে সহীহ আখ্যা দিয়েছেন। একটু পরেই তার বক্তব্য আসছে।

মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বায় সহীহ সনদে হযরত ইবনে উমর রা.এর দুই সেজদার মাঝেও রফয়ে ইয়াদাইন করার কথা উল্লেখ আছে। এমনিভাবে হযরত আনাস রা., নাফে র., তাউস র., হাসান বসরী র., ইবনে সীরীন র. ও আইয়ুব সাখ্তিয়ানী সকলেই দুই সেজদার মাঝখানে রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন। (দ্র.মুসান্নাফ, ৩খ.,৫০৯পৃ. ২৮১০-২৮১৫ নং হাদীস)

আহলে হাদীস ভাইদের সহীহ হাদীস অনুসরণের দাবী ঠিক রাখতে চাইলে এসবগুলো অনুযায়ী আমল করতে হবে। ইবনে হাযম জাহেরী ও আলবানী সাহেব তাই করেছেন।

হানাফীদের দৃষ্টিভঙ্গি হলো, রাফয়ে ইয়াদাইন অনেক জায়গায়ই ছিল, তবে ক্রমে ক্রমে একবারের মধ্যে এসে ঠেকেছে, যা পূর্বোল্লিখিত হাদীসগুলি থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়। এ দৃষ্টিভঙ্গি অবলম্বনের কারণ হলো, প্রথম দিকে নামাযে চলাফেরা, সালাম-কালাম অনেক কিছুই বৈধ ছিল। ক্রমান্বয়ে স্থিরতা ও কম নড়াচড়ার নির্দেশ কুরআন ও হাদীসে আসতে থাকে। হানাফীগণ মনে করেন পূর্বোল্লিখিত হাদীসগুলো প্রমাণ করে যে, রাফয়ে ইয়াদাইনও স্থিরতার পরিপন্থী। তাই ক্রমে ক্রমে এটিকে কমানো হয়েছে। অন্যথায় হযরত আলী রা., ওয়াইল ইবনে হুজ্্র রা.ও আবু মূসা আশ্আরী রা. প্রমুখ সাহাবীগণ রফয়ে ইয়াদাইনের হাদীস বর্ণনা করা সত্ত্বেও তদনুযায়ী আমল না করার কোন কারণ থাকতে পারে না।

বাড়াবাড়ি কাম্য নয়

আমাদের পূর্বসূরিগণের যুগেও এ মাসআলা নিয়ে দ্বিমত ছিল। তবে বাড়াবাড়ি ছিল না। এখানে দু’জন বড় আলেমের বক্তব্য তুলে ধরা হচ্ছে। একজন ইবনে হাযম জাহেরী এবং অপরজন ইবনুল কায়্যিম হাম্বলী। তারা দু’জনই আমাদের লা-মাযহাবী ভাইদের অত্যন্ত আস্থাভাজন।

ইবনে হাযম জাহিরী আল মুহাল্লা গ্রন্থে হযরত ইবনে মাসউদ রা.এর হাদীসটি উল্লেখ করার পর লিখেছেন:
فَلَمَّا صَحَّ أَنَّهُ عليه السلام كَانَ يَرْفَعُ فِي كُلِّ خَفْضٍ وَرَفْعٍ بَعْدَ تَكْبِيرَةِ الإِحْرَامِ ، وَلاَ يَرْفَعُ , كَانَ كُلُّ ذَلِكَ مُبَاحًا لاَ فَرْضًا , وَكَانَ لَنَا أَنْ نُصَلِّيَ كَذَلِكَ , فَإِنْ رَفَعْنَا صَلَّيْنَا كَمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي , وَإِنْ لَمْ نَرْفَعْ فَقَدْ صَلَّيْنَا كَمَا كَانَ يُصَلِّي. المحلى ٣/٢٣٥

অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকবীরে তাহরীমার পর প্রত্যেক ওঠা-নামার সময় হাত তুলতেন বলে যখন সহীহ হাদীসে প্রমাণিত, তখন এর সব ধরণই মুবাহ বা বৈধ হবে, ফরজ হবে না। আমরা এর যে কোন পদ্ধতি অনুসারেই নামায পড়তে পারি। আমরা যদি রফয়ে ইয়াদাইন করি তাহলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামাযের মতো আমাদের নামায পড়া হবে। আর যদি রফয়ে ইয়াদাইন না করি তবুও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামাযের মতো আমাদের নামায পড়া হবে। (মুহাল্লা, ৩ খ., ২৩৫ পৃ.)

হায়! যদি আমাদের লা-মাযহাবী ভাইয়েরা ইবনে হাযম (তিনিও কোন মাযহাব অনুসরণ করতেন না)এর উপরোক্ত বক্তব্য গ্রহণ করে নিতেন তাহলে ফেতনা অনেকাংশেই কমে যেত।

আল্লামা ইব্নুল কায়্যিম র. (মৃত্যু-৭৫০হি.)ও তাঁর ‘যাদুল-মাআদ’ গ্রন্থে ফজরের নামাযে কুনুত পড়া হবে কি না, সে প্রসঙ্গে লিখেছেন,
وهذا من الاختلاف المباح الذي لا يُعنَّف فيه من فعله، ولا مَنْ تَركه، وهذا كرفع اليدين في الصلاة وتركه، وكالخلاف في أنواع التشهدات، وأنواع الأذان والإِقامة، وأنواع النسك من الإِفراد والقِران والتمتع،

অর্থাৎ এটা এমন বৈধ মতপার্থক্যের অন্তর্ভুক্ত, যে ব্যক্তি এটা করলো এবং যে করলো না কাউকেই দোষারোপ ও নিন্দা করা যায় না। এটা ঠিক তেমনই যেমন নামাযে রাফয়ে ইয়াদাইন করা বা না করা, তদ্রুপ তাশাহহুদ বিভিন্ন শব্দে পড়া,আযান-ইকামতের বিভিন্ন নিয়ম অবলম্বন করা, এবং হজ্জের তিনটি নিয়ম-ইফরাদ,কিরান ও তামাত্তু বিষয়ে মতানৈক্যের মতোই। (দ্র. ১/২৬৬)

নবী ও রাসূলের সংখ্যা কত?

জিজ্ঞাসা–৫৯৭: শোনা যায়, নবী ও রাসূলের সংখ্যা এক কিংবা দুই লাখ চব্বিশ হাজার। কিন্তু আপনার একটা বয়ানে আপনি বলেছেন, এভাবে সংখ্যা নির্ধারণ করা উচিত নয়। আরেক হুজুর বলেছেন, এই সংখ্যার কথা নাকি হাদিসে আছে। তাহলে আমরা কোনটা মানবো?–আরেফিন মা’হাদ।

জবাব:

এক. আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক জাতির কাছে নবী বা রাসূল পাঠিয়েছেন। আল্লাহ বলেন,

إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ بِالْحَقِّ بَشِيرًا وَنَذِيرًا وَإِن مِّنْ أُمَّةٍ إِلَّا خلَا فِيهَا نَذِيرٌ

আমি আপনাকে সত্যধর্মসহ পাঠিয়েছি সংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে। এমন কোন সম্প্রদায় নেই যাতে সতর্ককারী আসে নি। (সূরা ফাতির ২৪)

তাঁদের মধ্য থেকে কিছু সংখ্যকের নাম কোরআন ও হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে। আর অধিকাংশের নাম উল্লেখ করা হয় নি। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَرُسُلًا قَدْ قَصَصْنَاهُمْ عَلَيْكَ مِنْ قَبْلُ وَرُسُلًا لَمْ نَقْصُصْهُمْ عَلَيْكَ

এছাড়া এমন রাসূল পাঠিয়েছি যাদের ইতিবৃত্ত আমি আপনাকে শুনিয়েছি ইতিপূর্বে এবং এমন রাসূল পাঠিয়েছি যাদের বৃত্তান্ত আপনাকে শোনাইনি। (সূরা নিসা ১৬৪)

উক্ত আয়াতের তাফসিরে ইবন আতিয়্যাহ আন্দুলুসি রহ বলেন,

وقوله تعالى : ( ورسلاً لم نقصصهم عليك ) النساء/164 : يقتضي كثرة الأنبياء ، دون تحديد بعدد ، وقد قال تعالى ( وإن من أمة إلا خلا فيها نذير ) فاطر/24 ، وقال تعالى : ( وقروناً بين ذلك كثيراً ) الفرقان/38 ، وما يُذكر من عدد الأنبياء فغير صحيح ، الله أعلم بعدتهم ، صلى الله عليهم

আল্লাহ তাআলার বাণী: ‘এমন রাসূল পাঠিয়েছি যাদের বৃত্তান্ত আপনাকে শোনাই নি।’ এটা দাবী করে যে, নবীগণ অনেক, যাঁদের সংখ্যা নির্দিষ্ট নয়। আল্লাহ তাআলা এও বলেছেন: ‘এমন কোন সম্প্রদায় নেই যাতে সতর্ককারী আসে নি।’ তিনি আরো বলেছেন, ‘তাদের মধ্যবর্তী অনেক সম্প্রদায়কে।’ আর নবীদের সংখ্যার ব্যাপারে যা উল্লেখ করা হয় তা সহিহ নয়। তাঁদের সংখ্যা আল্লাহই ভালো জানেন। আল্লাহ তাঁদের উপর রহমত নাযিল করুন। (আল মুহাররারুল ওয়াজীয ২/১৩৭)

ফাতাওয়া লাজনাতিদ্দায়িমা (২৬/২২৪)-তে এসেছে,

لا يعلم عددهم إلا الله ؛ لقوله تعالى : ( وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلًا مِنْ قَبْلِكَ مِنْهُمْ مَنْ قَصَصْنَا عَلَيْكَ وَمِنْهُمْ مَنْ لَمْ نَقْصُصْ عَلَيْكَ ) غافر/78 ، والمعروف منهم من ذكروا في القرآن أو صحت بخبره السنَّة

‘তাঁদের সংখ্যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না। কেননা, তিনি বলেছেন, ‘আমি আপনার পূর্বে অনেক রাসূল প্রেরণ করেছি, তাঁদের কারও কারও ঘটনা আপনার কাছে বিবৃত করেছি এবং কারও কারও ঘটনা আপনার কাছে বিবৃত করি নি-সূরা গাফির৭৮।’ তাঁদের মধ্যে প্রসিদ্ধ তাঁরা যাঁদের উল্লেখ কোরআনে অথবা বিশুদ্ধ সূত্রে সুন্নাহয় এসেছে।’

দুই. হ্যাঁ, নবী ও রাসূলের সংখ্যার পরিমাণ সম্পর্কিত হাদিসও আছে। যেমন, এক হাদিসে এসেছে,

عن أبي ذر قال : قلت : يا رسول الله ، كم الأنبياء ؟ قال : مائة ألف وأربعة وعشرون ألفًاً ، قلت : يا رسول الله ، كم الرسل منهم ؟ قال : ثلاثمائة وثلاثة عشر جَمّ غَفِير، قلت : يا رسول الله ، من كان أولهم ؟ قال : آدم

আবু যর রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! নবীদের সংখ্যা কত? তিনি উত্তর দিলেন, এক লাখ চব্বিশ হাজার। আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! তাঁদের মধ্যে কতজন রাসূল? উত্তর দিলেন, তিন শত তের জনের একটি বড় দল। আমি বললাম, তাঁদের মধ্যে প্রথম কে? বললেন, আদম। (ইবন হিব্বান ৩৬১)

উক্ত হাদিস সম্পর্কে শায়খ শুয়াইব আল আরনাউত রহ. বলেন, إسناده ضعيف جدّاً ‘হাদিসটির সনদ নিতান্ত দুর্বল।’ (তাহকীকু সহীহ ইবন হিব্বান ২/৭৯)

এই মর্মে আরেকটি হাদিসও আছে। সেখানে এক লাখ চব্বিশ হাজারের কথা নেই। সেখানে আছে এভাবে–

عن أنس قال : قال رسول الله ﷺ : بعث الله ثمانية آلاف نبي ، أربعة آلاف إلى بني إسرائيل ، وأربعة آلاف إلى سائر الناس

আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আল্লাহ তাআলা আট হাজার নবী পাঠিয়েছেন। চার হাজার বনী ইসরাইলের নিকট এবং বাকি চার হাজার গোটা মানবজাতির নিকট। (মুসনাদ আবূ ইয়া’লা ৭/১৬০)

উক্ত হাদিস সম্পর্কে আল্লামা হাইছামী রহ. বলেন, رواه أبو يعلي وفيه : موسى بن عبيدة الربذي ، وهو ضعيف جدّاً ‘হাদিসটি বর্ণনা করেছেন আবু ইয়া’লা। এর সনদে রয়েছে মুসা ইবন উবাইদা আর রাবযী। যিনি নিতান্ত দুর্বল।’ (মাজমাউয যাওয়াইদ ৮/২১০)

ইবন কাসীর রহ. বলেন, وهذا أيضاً إسناد ضعيف ؛ فيه الربذي : ضعيف ، وشيخه الرَّقَاشي : أضعف منه أيضاً ‘এটির সনদও দুর্বল। এতে রয়েছে রাবাযী। যিনি দুর্বল। আর রয়েছে তাঁর শায়েখ রক্কাশী। যিনি আরও দুর্বল।’ (তাফসির ইবন কাসীর ২/৪৭০)

মোটকথা, যেসব বর্ণনায় সংখ্যার উল্লেখ পাওয়া যায়, সবগুলোই দুর্বল এবং পরস্পর সাংঘর্ষিক। আর এটা তো জানা কথা যে, দুর্বল হাদিস দ্বারা আকিদার বিষয় প্রমাণিত হয় না। সুতরাং আমরা কোনো প্রকার সংখ্যা নির্ধারণ না করে বলবো, আল্লাহ যত নবী ও রাসূল পাঠিয়েছেন সকলের উপর আমরা ঈমান এনেছি। ফেরেশতাদের সংখ্যা আমরা জানি না। তবুও আমরা ঈমান এনেছি। অনুরূপভাবে নবী-রাসূলের সংখ্যাও আমরা জানি না। এসবের সংখ্যা আল্লাহই ভালো জানেন। তবে তাঁদের প্রত্যেকের উপর আমরা ঈমান এনেছি। যেমন, আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَالْمُؤْمِنُونَ كُلٌّ آمَنَ بِاللّهِ وَمَلآئِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لاَ نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّن رُّسُلِهِ

এবং মুসলমানরাও সবাই বিশ্বাস রাখে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর গ্রন্থসমুহের প্রতি এবং তাঁর পয়গম্বরগণের প্রতি। তারা বলে আমরা তাঁর পয়গম্বরদের মধ্যে কোন তারতম্য করিনা। (সূরা বাকারা ২৮৫)

The post নবী ও রাসূলের সংখ্যা কত? appeared first on কোরআনের জ্যোতি.

নবীজির পিতা মাতা কি জান্নাতি?

জিজ্ঞাসা–৫৯৬: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাতা পিতা নাজাতপ্রাপ্ত বেহেশতী কিনা? kobir

জবাব: প্রিয় প্রশ্নকারী দীনি ভাই, প্রশ্নটির উত্তর ‘আলহামদুলিল্লাহ’ ইতিপূর্বে দেয়া হয়েছে। জানার জন্য পড়ুন–জিজ্ঞাসা নং–৪১২

The post নবীজির পিতা মাতা কি জান্নাতি? appeared first on কোরআনের জ্যোতি.

অশ্লীলতা ও পর্নোগ্রাফি থেকে মুক্ত থাকার দোয়া!!! জেনে নিন,,ভাল জিনিস আমাদের ভালো লাগে ভাই তাই না আজেবাযে জিনিস আমরা বেশি পছন্দ করি

Welcome to Trickbd

trickbd পহ্মে থেকে সবাইকে স্বাগতম!

প্রযুক্তির উচ্চতর আবিষ্কারগুলো আল্লাহর একান্ত রহমত ও তার শ্রেষ্ঠত্বের নিদর্শন। আল্লাহর সৃষ্টির অপার রহস্য উদঘাটনে প্রযুক্তির নানা দিক ও আবিষ্কারগুলোই এর বড় দৃষ্টান্ত।কিন্তু তথ্য প্রযুক্তি অপব্যবহারের ফলে মানুষ নানান ধরনের অন্যায়-অপরাধ তথা অশ্লীলতায় নিয়োজিত হচ্ছে। যা উঠতি বয়সী কিশোর যুবক থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধদেরকেও অন্যায় অপরাধের দিকে অনেক বেশি ধাবিত করছে।

হাদিসের বর্ণিত দোয়াটির নিয়মিত আমলের ফলে দুনিয়ার সব নিকৃষ্ট কাজ যেমন- পর্নোগ্রাফি, অশ্লীলতা, চারিত্রিক কামনা-বাসনা, পরনারীর প্রতি কুদৃষ্টিসহ বিভিন্ন অপকর্ম থেকে দূরে থাকা যাবে। হাদিসে উল্লেখিত দোয়াটি নামাজের সেজদায় বেশি বেশি পড়াই সর্বোত্তম। আর তাহলো-

ﺍَﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺍِﻧِّﻰ ﺃَﻋْﻮْﺫُﺑِﻚَ ﻣِﻦْ ﻣًﻨْﻜَﺮَﺍﺕِ ﺍﻷﺧْﻠَﺎﻕِ ﻭَ ﺍﻟْﺄﻋْﻤَﻞِ ﻭَ ﺍﻟْﺄﻫْﻮَﺍﺀِ

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন মুংকারাতিল আখলাক্বি ওয়াল আ’মালি ওয়াল আহওয়ায়ি।’

অর্থ : হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার কাছে খারাপ চরিত্র, অন্যায় কাজ ও কুপ্রবৃত্তির অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় চাই।’ (তিরমিজি)

সুতরাং তথ্য প্রযুক্তিসহ দুনিয়ার যাবতীয় অশ্লীলতা থেকে মুক্ত থাকতে কুরআন-সুন্নাহর দিক-নির্দেশনা পালনের পাশাপাশি প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শেখানো দোয়া ও আমল অত্যন্ত জরুরি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে নিয়মিত নামাজ আদায়ের পাশাপাশি সিজদায় দোয়াটি বেশি বেশি পড়ার তাওফিক দান করুন। অশ্লীলতা ও বেহায়পনা থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

ব্যবসায়ীক মুনাফা নাকি সুদ….? ব্যবসায়ীক মুনাফা ও সুদ এক নাকি ভিন্ন…? ইসলাম কি বলে।

ব্যবসায়িক মুনাফা ও সুদ।
ব্যাবসায়িক মুনাফা এবং সুদের মাঝে সম্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। এ পার্থক্যটা বুঝতে হবে। অনেক মানুষ আছে এ পার্থক্যটা না বুঝেই বলতে থাকে,
ব্যাবসায়িক মুনাফা আর সুদ এক
সমান। উভয়টাকে হালাল মনে করে। যেমনটা কুরআনুল কারীমের তথ্য অনুযায়ী নবীজীর যুগের কাফেররাও বলত।
পার্থক্য না বুঝাটা পার্থক্য না থাকার উপর দলিল নয়; বরং এ পার্থক্য বুঝার জন্যে আহলে ইলমগণের শরণাপন্ন হতে হবে। ব্যবসায়িক মুনাফা, যেটা আছে, সেটা হালাল।
চাই সেই মুনাফা কম হোক কিংবা
বেশী। অবশ্য ইসলাম কোন পণ্যের
উপর অতিরিক্ত মুনাফা সমর্থন করে না। ফিকহি পরিভাষায় যেটাকে গবনে ফাহেশ (মাত্রাতিরিক্ত মুনাফা বলা হয়। ফিকহে ইসলামির দৃষ্টিতে
এই গবনে ফাহেশ মাকরুহে
তাহরিমী।

যেমন ধরুণ, কোন ব্যক্তি দশ গজ
কাপড় বিক্রি করল, পাঁচশত টাকার বিনিময়ে। এখন চাইলে ঐ ব্যক্তি উক্ত দশ গজ কাপড় সাতশত টাকা দিয়েও বিক্রি করতে পারবে। তাতে কোন সমস্যা হবে না। এটা হবে ব্যবসায়িক মুনফা। কারণ পাঁচশত টাকাটা যেভাবে পরিপূর্ণ দশ গজ কাপড়ের বিপরীতে আসে, ঠিক সাতশত টাকাটাও দশ গজ কাপড়ের
বিপরীতে আসে। পার্থক্য হচ্ছে
সাতশত টাকাটাও দশ গজ কাপড়ের বিপরীতে আসে। পার্থক্য হচ্ছে পাঁচশতে মুনাফা কম, সাতশতে মুনাফা বেশী ।

কোন ব্যক্তি যদি কাউকে দশটাকা ঋণ দেয় আর বিনিময়ে পরবর্তিতে তার কাছ থেকে বারো টাকা নেয়, তাহলে এটা সুদ হবে। কেননা দশ টাকাটা তার ঋণের বিপরীতে আসবে। কিন্তু অতিরিক্ত দুই টাকা কোন বিনিময় ছাড়া তার কাছে মুনাফা হিসেবে আসছে। কাজেই এই অতিরিক্ত দুই টাকা সুদ।
এটা হারাম। সুদের পরিমান বেশ
কম হলে তার হকুমের উপর কোন
প্রভাব পড়ে না; এক টাকার সুদের
যে হকুম, একশ টাকার সুদেরও একই হকুম।

(ইসলামি মাইশাত কে বুনয়াদি
উসল : ১৮৪)

বাবা মাকে না জানিয়ে কাজি অফিস গিয়ে বিয়ে করা যাবে কি?

জিজ্ঞাসা–৫৯৫: প্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়ে, মা-বাবাকে না জানিয়ে কাজি অফিস গিয়ে বিয়ে করে, তাহলে কি সে বিয়ে ধর্মীয়মতে হালাল হবে? পারিবারিকভাবে বিয়ে এখন কোনোভাবেই সম্ভব না, যদি না আল্লাহ কোনো ব্যবস্থা করেন।–Salma

জবাব: প্রিয় বোন! আলহামদুলিল্লাহ, আমরা ইতিপূর্বে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। জানার জন্য পড়ুন জিজ্ঞাসা নং–৫৫৫, জিজ্ঞাসা নং–৫৬৬, জিজ্ঞাসা নং–২১৬, জিজ্ঞাসা নং–৫১৪।

The post বাবা মাকে না জানিয়ে কাজি অফিস গিয়ে বিয়ে করা যাবে কি? appeared first on কোরআনের জ্যোতি.