হাত থেকে কুরআন মাজিদ পড়ে গেলে কী করবেন?

কারেন্টনউিজ ডটকম ডটবিডি :

ভুল বা বেখেয়ালে হাত অথবা কোনো স্থান থেকে পবিত্র কুরআন মাজিদ পড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। কেননা মানুষ স্বাভাবিকভাবেই ভুল করে থাকে। আল্লাহ তাআলা মানুষকে ইচ্ছা কিংবা অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য প্রার্থনা করলে ক্ষমা করে দেন।

কুরআন আল্লাহ তাআলা কিতাব। আর প্রত্যেক মুসলমানই অন্তর থেকেই পবিত্র কুরআনুল কারিমকে সর্বোচ্চ সম্মান করে থাকে। কোনো ব্যক্তিই চায় না যে পবিত্র কুরআনুল কারিমের বিন্দুমাত্র অসম্মান হোক। তারপরও অনেক সময় ভূলঃবশত হাত থেকে হোক আর কোনো স্থান থেকে হোক কুরআন পড়ে যায়।

কুরআন পড়ে যাওয়া সম্পর্কে এমন অনেক কথাই আমরা শুনে থাকি যে, হাত কিংবা কোনো স্থান থেকে কুরআন পড়ে গেছে, আর তাতে করণীয় কী? এর সাধারণ সমাধান হলো-

হাত থেকে কুরআন পড়ে গেলে যা করবেন
যদি কখনো ভুলে হাত থেকে কিংবা কোনো স্থান থেকে কুরআন মাজিদ নিচের দিকে পড়ে যায়, তবে সঙ্গে সঙ্গে দেরি না করে তা ওঠিয়ে নেয়া এবং পবিত্র কুরআনে চুম্বন করা। এ ভুল কৃতকর্মের ক্ষমা প্রার্থনায় ২ রাকাআত নামাজ আদায় করে নেয়া।

নিচে পড়ে যাওয়ার চেয়েও যে কাজে অসম্মানের
কুরআনের সবচেয়ে বড় অসম্মান হলো তা বন্ধ করে গিলাফে আবদ্ধ করে ঘরে ফেলে রাখা। ন্যূনতম মাসে একবার কুরআন পড়াকে বিরক্ত মনে করা হলো কুরআনের প্রতি সবচেয়ে বড় অসম্মান।

গোনাহের কাজ হলো
এমনকি মুসলিম উম্মাহর সে সব লোকদের জন্য সবচেয়ে বড় গোনাহের কাজ হলো যে, কুরআন পড়া সত্ত্বেও সঠিক বার্তাটি উপলব্ধি না করা। কুরআনের সঠিক কথার আমল না করা। অথচ আল্লাহ তাআলা জীবন পরিচালনার জন্য এ কুরআন অবতীর্ণ করেছেন।

কুরআন থেকে শিক্ষা গ্রহণ না করে তা বক্সে বন্দি করে ফেলে রাখাই সবচেয়ে বড় গোনাহের কাজও বটে।

আফসোস!
বহু মুসলিম এমন আছে যে, যারা অনেক সুরা মুখস্ত জানেন অথচ এ সুরাগুলোর অর্থ এবং হুকুম জানে না। তেলাওয়াতে সেসব নিয়ম-কানুন ও বিধান মুখে উচ্চারিত হয় অথচ কাজ করতে থাকে তার বিপরীত। আর তাতে এসব মানুষের সাওয়াবের চেয়ে পাপই বেশি হয়।

মনে রাখতে হবে
ভুলবশতঃ কারো হাত কিংবা কোনো স্থান থেকে কুরআন পড়ে গেলে, সঙ্গে সঙ্গে তা উঠিয়ে নেয়া এবং তা চুম্বন করা। আর এ ভুলের ক্ষমা প্রার্থনায় ২ রাকআত নামাজ আদায় করে নেয়া।

পাশাপাশি কোনো মুসলমানেরেই উচিত নয় যে, তারা এ পবিত্র গ্রন্থটি গিলাফবদ্ধ অবস্থায় কিংবা বক্সবন্দি করে ঘরে ফেলে রাখা। বরং নির্দিষ্ট একটি সময় করে অর্থসহ পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করাই জরুরি।

কেননা পরকালে বিচার ফয়সালার পর দুনিয়ার সব কুরআন তেলাওয়াতকারীর প্রতি নির্দেশ হবে যে, তুমি কুরআন তেলাওয়াত করতে থাকো। সুতরাং কুরআন তেলাওয়াতকারী যতক্ষণ কুরআন তেলাওয়াত করতে থাকবে তার মর্যাদা তত উঁচু হতে থাকবে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে উল্লেখিত ভুল ও করণীয় গুলোর ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি কুরআনের বিধান বাস্তবায়ন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

প্রশ্নোত্তরে ইসলামী জ্ঞানঃ পর্ব-১ (ঈমান ও আক্বীদা)

প্রশ্নোত্তরে ইসলামী জ্ঞান (১-৯৯) সংকলন ও গ্রন্থনা: মুহা: আবদুল্লাহ্‌ আল কাফী (লিসান্স, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়) ধারাবাহিক-১ ঈমান ও আক্বীদা ১. প্রশ্নঃ আমাদের সৃষ্টিকর্তার নাম কি? উত্তরঃ আল্লাহ্‌। ২. প্রশ্নঃ আল্লাহর কতগুলো নাম রয়েছে? উত্তরঃ আল্লাহ তা’আলার নাম অসংখ্য-অগণিত। ৩. প্রশ্নঃ আমাদের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্‌ কোথায় আছেন? উত্তরঃ সপ্তাকাশের উপর আরশে আযীমে। (সূরা ত্বহাঃ ৫) ৪. প্রশ্নঃ […]

পরিবারে দাওয়াহ : কিছু কৌশল

এই নোটের পাঠকদের মধ্যে বিভিন্ন মানহাজের ভাইবোনেরা আছেন। আসলে আমরা কেউই কিন্তু এই আদর্শিক প্রান্তিকতা থেকে মুক্ত নই। ভালো লাগার দিক থেকে কেউ তাবলীগী, তাসাউউফপন্থী, সালাফী, রেজভী, জামাআতে ইসলামপন্থী, কোন না কোন আদর্শঘেঁষা আমরা সবাই। সবার আদর্শের দালিলিক অংশটুকুর প্রতি শ্রদ্ধা রেখে শুরু করছি। নোটের প্রথমে কিছুটা তবলীগের কথা আছে। বিরক্তি ওভারকাম করে শেষ পর্যন্ত […]

বর্তমান নির্বাচনে হিন্দুদের সুপার মাইনোরিটি ক্ষমতায়ন ও মুসলমানদের করণীয়

সদ্য বিদায়ী আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে বিএনপি শাসনামলের যেসব পদক্ষেপকে বাতিল করেছিল, তার মধ্যে একটি হলো সংবিধানে জিয়াউর রহমান কর্তৃক সংযোজিত ‘মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস’ এই মূলনীতি তুলে দেয়া। এতোবড় গর্হিত কাজের বিরুদ্ধে এবারের নির্বাচনে বিএনপির ইশতেহারে একটি পয়েন্ট থাকতে পারতো, তারা উল্লেখ করতে পারতো যে তারা ক্ষমতায় আসলে “মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস” ফিরিয়ে আনবে। সেক্ষেত্রে তাদের গ্রহণযোগ্যতাও অনেকখানি বৃদ্ধি পেতো।
কিন্তু না, বিএনপি তার প্রতিষ্ঠাতা কর্তৃক সংযোজিত এই মূলনীতি ফিরিয়ে আনা নিয়ে নিয়ে কিন্তু টু শব্দটি পর্যন্ত করে নাই। তারা এখন ব্যস্ত রয়েছে কিভাবে উগ্রপন্থী হিন্দুদের তুষ্ট করে ক্ষমতায় আসা যায় তা নিয়ে, সুতরাং মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রাখার প্রশ্নই ওঠে না! মির্জা ফখরুল কিছুদিন আগেও ঘোষণা দিয়েছে, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে সে ‘সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয়’ নির্মাণ করে ছাড়বেই। (http://bit.ly/2CClsWi)
উল্লেখ্যঃ বিএনপির ইশতেহারে এই ‘সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয়’ যে সংগঠনটির দাবি মেনে অন্তর্ভূক্ত হয়েছে, তা হলো ‘হিন্দু মহাজোট’। সে তার একটি স্ট্যাটাসে লিখেছে, আ.লীগ তাদের ১টি দাবি মেনেছে, বিএনপি মেনেছে ২টি। সুতরাং হিন্দুদের কাকে ভোট দেয়া উচিত? (http://bit.ly/2CCcw3k)
শুধু তাই নয়, বিএনপি তাদের অধিকাংশ দাবি মেনে নেয়ায় তারা সংবাদ সম্মেলন করে আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করে বলেছে, “আ.লীগ হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবি পূরণে আন্তরিক নয়” (http://bit.ly/2SmD7GY)
হয়তো অনেক বিএনপি সাপোর্টার বাকবাকুম হয়ে হিন্দুদের প্রশংসায় নেমে পড়বে এখন, কিন্তু যদি আপনি বিএনপি আওয়ামীলীগ হওয়ার আগে মুসলিম হয়ে থাকেন তাহলে থামুন। গোবিন্দ প্রামাণিক তার এক স্ট্যাটাসে মুসলমানদের “দানব” এবং ইসলাম ধর্মকে “পিশাচ দানব ধর্ম” বলে উল্লেখ করেছে এবং হিন্দুদের উস্কানি দিয়েছে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য। (সূত্রঃ https://goo.gl/PcQuJF, আর্কাইভঃ http://archive.is/PNz3C)
এই গোবিন্দ প্রামাণিক ২০১৪ সালের জুলাই মাসে ঢাকা প্রেস ক্লাবে দাড়িয়ে হিন্দুদেরকে আহবান করেছিলো, মুসলমানদের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে তুলে নেয়ার জন্য। (সূত্রঃ http://bit.ly/2d3jUJM)
উল্লেখ্য, এই গোবিন্দ প্রামাণিক, রানা দাশগুপ্ত বা এজাতীয় হিন্দুরা কিন্তু কোনো দলের সমর্থক নয়। যেমন গোবিন্দ প্রামাণিকের দলে এমন অনেক হিন্দু রয়েছে, যারা আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ও উচ্চপর্যায়ের সদস্য। রানা দাশগুপ্তের হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্যজোট আওয়ামীপন্থী হিন্দুদের দল হিসেবে পরিচিত, কিন্তু এই দলেরই প্রেসিডিয়াম সদস্য সুব্রত চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছে। শিপন কুমার বসু কলকাতায় বসে নিয়মিত শেখ হাসিনার ছবিতে ফাঁসির দড়ি পরিয়ে স্ট্যাটাস দেয়, অথচ সে হলো আওয়ামী লীগের মহিলা এমপি হেপি বড়ালের ভাতিজা।
অর্থাৎ হিন্দুরা যেই স্ট্র্যাটেজি গ্রহণ করেছে, তা হলো তারা কোনো নির্দিষ্ট দলের সমর্থক না হয়ে বিভিন্ন দলের সাথে যুক্ত হয়েছে এবং তাদের হিন্দু পরিচয়কে মূল ধরে বিভিন্ন দলের সাথে দরকষাকষিতে নিযুক্ত হয়েছে। যে দল হিন্দুদের বেশি সুবিধা দেবে, তারা তাকেই সমর্থন দেবে। একারণে প্রতিটি রাজনৈতিক দল হিন্দুদের স্বার্থরক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে এবং এবারের নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক অমুসলিম প্রার্থীকে বিভিন্ন দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে বলে খবরে এসেছে। (http://bit.ly/2BIPvdd)
ঠিক এইভাবেই কিন্তু আমেরিকাকে কব্জায় নিয়েছিলো সংখ্যালঘু ইহুদিরা। আমেরিকায় ইহুদিরা কোনো নির্দিষ্ট দল করে না। বরং তারা ডেমোক্রেট রিপাবলিক উভয় দলের কাছে প্রস্তাব দেয়, যে তাদের স্বার্থ সবচেয়ে বেশি রক্ষা করতে পারবে, তাকেই তারা সমর্থন দেবে। যে কারণে নির্বাচনের আগে সেখানে উভয় দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থীরাই ফিলিস্তিনি নেতাদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়। উভয় দলের প্রার্থীরাই ইসরায়েলের স্বার্থরক্ষায় বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেয়।
বাংলাদেশেও হিন্দুরা সেভাবে ইহুদীদের ন্যায় সুপার মাইনোরিটি হয়ে উঠছে, যে কারণে সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়েও রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে মুসলমানদের কোনো ভাত নেই, সবার মুখে কেবল হিন্দু হিন্দু আর হিন্দু। বিএনপির ইশতেহারে নেই তাদের প্রতিষ্ঠাতার প্রণীত মূলনীতি ‘আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ ফিরিয়ে আনার কথা। এডভোকেট সুব্রত চৌধুরী কিন্তু আওয়ামী শাসনামলে পারেনি রিট করে সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সরাতে, আশঙ্কা হচ্ছে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তাকে ব্যবহার করে সুব্রত চৌধুরী সেই অপকর্মটি করতে সফল হয় কিনা।
এমতাবস্থায় মুসলমানদেরকে যা করতে হবে, তা হলো রাজনৈতিক পরিচয়ের সংকীর্ণতাকে ঝেড়ে ফেলা, মুসলমান পরিচয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে, মুসলমান পরিচয়কে পুঁজি করে নিজের অবস্থানকে শক্ত করা। বিএনপি বা আওয়ামী লীগ যে দলেরই প্রার্থী হোক, কোনো মুসলমান যেন হিন্দু প্রার্থীকে ভোট না দেয়।
কারণ বিভিন্ন দল থেকে যতো হিন্দু প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে, তারা নানা দলের রং ধারণ করে থাকলেও সবার উদ্দেশ্য কিন্তু এক, তা হলো বাংলাদেশের মুসলমানদের ধ্বংস ও হিন্দুত্ববাদ প্রতিষ্ঠা। যেভাবে আমেরিকার পার্লামেন্টে ডেমোক্রেট কিংবা রিপাবলিক, উভয় দলের ইহুদীদেরই লক্ষ্য থাকে ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষা ও মুসলিম বিরোধিতা করা। সুতরাং এদেশের পার্লামেন্টে একটি হিন্দুও যেন এমপি হয়ে যেতে না পারে, তা সে আওয়ামী বিএনপি যে দলেরই হোক না কেন।

অযু চলে যাওয়ার সন্দেহ হলে…

জিজ্ঞাসা–৬১৫: আসসালামু আলাইকুম। হুযুর,আমি অনেকসময় ওযু আছে কি নাই তা বুঝতে পারি না। অনেক সময় নামাজ বা কুরআন পড়ার সময়ও হয়তো অযু চলে যায়। আমি পরে বুঝতে পেরে অযু করে নিই। এখন আমার প্রশ্ন হলো সেই নামাজ টা কি আবার পড়তে হবে? আর কুরআন পড়ার সময় কী করনীয়?–নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।

জবাব: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

আপনি আপনার যে সসমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন; এটা নিঃসন্দেহে ওয়াসওয়াসা বা সন্দেহ। এজন্য আপনার জন্য উপদেশ হচ্ছে- আপনি নামাযে কিংবা নামাযের বাহিরে কোরআন তেলাওয়াতের সময় সন্দেহকে মোটেই ভ্রুক্ষেপ করবেন না।

মনে রাখবেন, যদি আপনি শয়তানসৃষ্ট সন্দেহের এ বাতিককে উপেক্ষা করতে পারেন তাহলে আপনি সেটাই করেছেন, যা করার জন্য রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যখন এক ব্যক্তি তাঁর কাছে অভিযোগ করলেন যে, তার কাছে মনে হয় যে, সে নামাযের মধ্যে কিছু একটা পাচ্ছে। তখন তিনি বললেন, لاَ يَنْصَرِفُ حَتَّى يَسْمَعَ صَوْتًا ، أَوْ يَجِدَ رِيحًا সে যেন শব্দ শুনা কিংবা গন্ধ পাওয়া ছাড়া নামায না ছাড়ে। (সহিহ বুখারী ১৩৭ সহিহ মুসলিম ৩৬১)

এ কথার দ্বারা উদ্দেশ্য হল- অযু ভাঙ্গার ব্যাপারে পরিপূর্ণ নিশ্চিত হওয়া ছাড়া আপনি এটাই মনে করবেন যে, আপনার অযু ভাঙ্গে নি। যেহেতু অযু ভাঙ্গে নি সুতরাং ওই নামায আবার পড়তে হবে না। আর যদি আপনি পরিপূর্ণ নিশ্চিত হন যে, আপনার অযু ভেঙ্গে গিয়েছিল তাহলে যে নামায আপনি অযু ছাড়া পড়েছেন তা পুনরায় পড়ে নিতে হবে।

এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানার জন্য পড়ুন-–জিজ্ঞাসা নং– ৫২৩।

والله اعلم بالصواب

উত্তর দিয়েছেন
মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী নকশবন্দী

The post অযু চলে যাওয়ার সন্দেহ হলে… appeared first on কোরআনের জ্যোতি.

নাপাকি লেগে গেলে করণীয়

জিজ্ঞাসা–৬১৪: আসসালামুয়ালাইকুম। অন্য কোনো সাথী ভাইয়র যদি স্বপ্ন দোষ হয় এবং তা যদি চাদরে বা কাপড়ে লাগে, ওই নাপাক জায়গা হালকা ভেজা থাকা অবস্থায় যদি আমার হাত লাগে। তাহলে আমাকেও ফরয গোসল করতে হবে কিনা? –Nazmul khan

জবাব: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

আপনার উপর গোসল ফরয হয় নি; বরং যার স্বপ্নদোষ হয়েছে তার উপর গোসল ফরয হয়েছে। (সহীহ বুখারী ১/৪২) সুতরাং আপনাকে ফরয গোসল করতে হবেনা। তবে যদি নিশ্চিত হন, আপনার হাতে নাপাকি লেগেছে, তাহলে যতটুকুতে লেগেছে, ততটুকু ধুয়ে ফেলতে হবে। (রদ্দুল মুহতার ১/৩৩৩)

والله اعلم بالصواب
উত্তর দিয়েছেন
মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী নকশবন্দী
The post নাপাকি লেগে গেলে করণীয় appeared first on কোরআনের জ্যোতি.

বিতির নামায সংক্রান্ত কিছু বিভ্রান্তির জবাব

জিজ্ঞাসা–৬১৩: আসসালামু আলাইকুম। আমি কয়েক দিন আগে আমার এলাকার একজন সালাফি আলেমের সাথে কিছু সময় কথা বললাম। আলোচনার এক পর্যায়ে উনি আমাকে বললেন, বিতির নামায এক রাকাত অবশ্যই পড়া যাবে, এ ব্যাপারে সহীহ বুখারীতে স্পষ্ট হাদিস আছে। কিন্তু আমরা হানাফিরা ফিক্বহের অজুহাত দেখিয়ে এক রাকাত পড়ি না। তারপর তিনি বললেন, আমরা হানাফিরা বিতিরের ৩য় রাকাতে দোআ কুনুত পাঠ করার পূর্বে পুনরায় তাকবীর অর্থাৎ আল্লাহু আকবার বলে যে পুনরায় হাত বাঁধি এটা কুরআন -, হাদিসের কোথাও নেই, এটি সম্পূর্ণ বানোয়াট এবং নব্য আবিষ্কৃত। আমার প্রশ্ন হচ্ছেঃ ১.বিতিরের নামায কি এক রাকাত পড়া যাবে ? ২. বিতিরের তৃতীয় রাকাতে আমরা দোআ কুনুতের পূর্বে যে তাকবীর বলে হাত উত্তোলন করে পুনরায় হাত বাঁধি এটার দলিল কি? আশা করি, কুরআন-হাদিসের আলোকে উল্লেখিত দুইটা প্রশ্নের উত্তর দিবেন। জাযাকুমুল্লাহ খয়রান। –Farhan

জবাব: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

এক. সম্মানিত দীনি ভাই, শরীয়তে এমন কোনো নামায নেই, যা শুধু এক রাকাত পড়া যায় কিংবা মাঝে তাশাহহুদ ছাড়া দু’রাকাতের অধিক আদায় করা যায়; বরং শরীয়তে সকল নামাযের মূলকথা এই যে, প্রতি দুই রাকাতে বৈঠক হবে এবং তাশাহহুদ পড়া হবে। হযরত আয়েশা রাযি. থেকে সহীহ মুসলিম (১/১৯৪, হাদীস ৪৯৮)-এ একটি দীর্ঘ হাদীসে রাসূলুল্লাহﷺ-এর এক ব্যাপক বাণী উদ্ধৃত রয়েছে। তাতে তিনি ইরশাদ করেন- فِي كُلِّ رَكْعَتَيْنِ التَّحِيَّةَ ‘প্রতি দুই রাকাতে তাশাহহুদ রয়েছে।’ একই হুকুম একাধিক সাহাবায়ে কেরাম থেকে বর্ণিত রয়েছে। যেমন, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. বলেন, لَيْسَ مِنْ صَلَاةٍ إلَّا وَفِيهَا قِرَاءَةٌ وَجُلُوسٌ فِي الرَّكْعَتَيْنِ সকল নামাযে কিরাত আছে। আর আছে দু’ রাকাতে বসা। (মুসান্নাফ, ইবনে আবী শায়বা ৮৫৭৭)

শরীয়তের এ মৌলিক শিক্ষা পরিহার করে কোন রেওয়ায়াতের মনগড়া ব্যাখ্যা দিয়ে যদি কোনো ব্যক্তি একথা বলে যে, বিতির নামায এক রাকাত কিংবা তিন রাকাত বিতির পড়লে শুধু এক বৈঠকেই পড়তে হবে- তাহলে এতে কোন সন্দেহ নেই যে, এমন ব্যক্তি সালাফের অনুসারী আলেম হতে পারে না। বরং তার এজাতীয় বক্তব্য দীনের মধ্যে নব আবিষ্কৃত বেদআত বৈ কিছু নয়।

দুই. মুতাওয়াতির হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে, বিতির এক রাকাত নয়; তিন রাকাত। যেসব বর্ণনায় তিন রাকাতের অধিক, যথা পাঁচ, সাত বা নয় রাকাত পড়ার কথা বলা হয়েছে সেখানেও মূল বিতর তিন রাকাত। বর্ণনাকারী পূর্বের বা পরের রাকাতসমূহ মিলিয়ে সমষ্টিকে ‘বিতির’ বলে বর্ণনা করেছেন। নিম্নে কিছু প্রমাণ পেশ করা হল-

১. আবু সালামা ইবনে আবদুর রহমান উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাযি. কে জিজ্ঞাসা করেন, রমযানুল মুবারকে নবী ﷺ -এর নামায কীরূপ হত? উম্মুল মুমিনীন বলেন,

مَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَزِيدُ فِي رَمَضَانَ وَلاَ فِي غَيْرِهِ عَلَى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً يُصَلِّي أَرْبَعًا، فَلاَ تَسَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ، ثُمَّ يُصَلِّي أَرْبَعًا، فَلاَ تَسَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ، ثُمَّ يُصَلِّي ثَلاَثًا

নবী ﷺ রমযানে ও রমযানের বাইরে এগারো রাকাতের বেশি পড়তেন না। প্রথমে চার রাকাত পড়তেন-এত সুন্দর ও দীর্ঘ সে নামায, যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। অতঃপর চার রাকাত পড়তেন-এরও দীর্ঘতা ও সৌন্দর্য সম্পর্কে জানতে চেয়ো না। এরপর তিন রাকাত পড়তেন। (বুখারী ১১৪৭ মুসলিম ৭৩৮ নাসায়ী ১৬০৭ আবু দাউদ ১৩৪১ তিরমিযী ৪৩৯ মুসনাদে আহমদ ৬/৩৬, ৩৯, ৭৩, ১০৪)

২. আয়েশা রাযি. বলেন,

كَانَ النَّبِيُّ ﷺ لَا يُسَلِّمُ فِي رَكْعَتَيْ الْوِتْرِ

নবী ﷺ বিতরের দুই রাকাতে সালাম ফেরাতেন না। ( নাসায়ী ১৬৯৮; মুয়াত্তা মুহাম্মাদ ১৫১ (বাবুস সালাম ফিল বিতর) মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৬৯১২ সুনানে দারাকুতনী ১৫৬৫ সুনানে কুবরা বাইহাকী ৩/৩১)

এই হাদীসটি ইমাম হাকেম আবু আব্দুল্লাহ রহ.ও ‘মুস্তাদরাক আলাস সহীহাইন’ কিতাবে বর্ণনা করেছেন। তার আরবী পাঠ এই-

كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لَا يُسَلِّمُ فِي الرَّكْعَتَيْنِ الْأُولَيَيْنِ مِنْ الْوِتْرِ

অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ ﷺ বিতরের প্রথম দুই রাকাতে সালাম ফেরাতেন না।

ইমাম হাকেম রহ. তা বর্ণনা করার পর বলেন- هذا حديث صحيح على شرط الشيخين অর্থাৎ হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের শর্ত মোতাবেক সহীহ। ইমাম শামসুদ্দীন যাহাবী রহ. ‘তালখীসুল মুস্তাদরাক’-এ হাকেম রহ.-এর সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। (মুস্তাদরাক আলাস সহীহাইন ১/৩০৪, হাদীস ১১৮০)

৩. আব্দুল্লাহ ইবনে আবী কাইস বলেন, আমি হযরত আয়েশা রাযি.-এর কাছে জিজ্ঞাসা করলাম যে, নবীজী ﷺ বিতরে কত রাকাত পড়তেন? উত্তরে তিনি বলেন,

كَانَ يُوتِرُ بِأَرْبَعٍ وَثَلَاثٍ وَسِتٍّ وَثَلَاثٍ وَثَمَانٍ وَثَلَاثٍ وَعَشْرَةٍ وَثَلَاثٍ وَلَمْ يَكُنْ يُوتِرُ بِأَكْثَرَ مِنْ ثَلَاثَ عَشْرَةَ وَلَا أَنْقَصَ مِنْ سَبْعٍ

অর্থাৎ চার এবং তিন, ছয় এবং তিন, আট এবং তিন, দশ এবং তিন। তিনি বিতরে তের রাকাতের অধিক এবং সাত রাকাতের কম পড়তেন না। ( আবু দাউদ ১১৯০ তহাবী ১০৬৬ মুসনাদে আহমদ ২৬৬১০ আসসুনানুল কাবীর লিল বাইহাকী ৪৪৭১ মুসনাদে ইসহাক ইবন রাহয়াইহ ১৪৮৫)

লক্ষণীয় বিষয় হল, রাসূলুল্লাহ ﷺ তাহাজ্জুদ নামায কখনো চার রাকাত, কখনো ছয় রাকাত, কখনো আট রাকাত, কখনো দশ রাকাত পড়তেন; কিন্তু মূল বিতর সর্বদা তিন রাকাতই হত।

তিন. দোয়ায়ে কুনূত রুকুর আগে,না পরে? এ বিষয়ে মতভেদ আছে। হানাফী মাযহবের আলিমগণ বলেন, রুকুর আগে পড়া হবে। এর দলিল হল, সহীহ বুখারী (১/১৩৬) ‘বাবুল কুনূত কাবলার রুকু ওয়া বা’দাহ’ শীর্ষক পরিচ্ছেদে আছে, আসিম আহওয়াল বলেন,

سَأَلْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، عَنِ الْقُنُوتِ؟ فَقَالَ: قَدْ كَانَ الْقُنُوتُ، قُلْتُ: قَبْلَ الرُّكُوعِ أَوْ بَعْدَهُ؟ قَالَ: قَبْلَهُ، قُلْتُ: فَإِنَّ فُلَانًا أَخْبَرَنِي عَنْكَ، أَنَّكَ قُلْتَ: بَعْدَ الرُّكُوعِ، فَقَالَ: كَذَبَ، إِنَّمَا قَنَتَ رَسُولُ اللَّهِ – ﷺ– بَعْدَ الرُّكُوعِ شَهْرًا،.

আমি আনাস ইবনে মালিক রাযি.কে কুনূত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, কুনূত আছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, রুকুর আগে, না পরে? তিনি বললেন, রুকুর আগে। আমি বললাম, জনৈক ব্যক্তি আমাকে বলেছেন যে, আপনি রুকুর পরে কুনূত পড়ার কথা বলেছেন? তিনি বললেন, সে ভুল বলেছে। রুকুর পরে তো নবী ﷺ শুধু এক মাস কুনূত পড়েছেন।

এছাড়াও আরো দলিল আছে। তবে রুকুর পরে কুনূতের কথাও হদীসে আছে। হানাফী আলিমগণ উভয় বর্ণনার মাঝে সমন্বয় এভাবে করেন যে, কুনূতে নাযেলা রুকুর পরে ও বিশেষ বিশেষ অবস্থায় পড়া হবে। আর বিতিরের কুনূত রুকুর আগে ও সব সময় পড়া হবে। কেননা, আনাস রাযি. থেকেই অন্য বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ মৃত্যু পর্যন্ত কুনূত পড়েছেন। (বাযযার-মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১৩৯) এই বর্ণনায় বিতরের কুনূতই উদ্দেশ্য। কারণ ফজরের কুনূত সর্বদা পড়ার প্রমাণ পাওয়া যায় না।

চার. যারা উপরোক্ত হাদীসসমূহের ভিত্তিতে রুকুর আগে কুনূত পড়ার কথা বলেন তাদের নিকট কিরাত ও কুনূতের মাঝে তাকবীর দেওয়া সুন্নত। এই তাকবীরের সাথে রাফয়ে ইয়াদাইন (হাত উত্তোলন) আছে। এজন্য ইমাম তহাবী রহ. বলেন, وقد أجمع الذين يقنتون قبل الركوع على الرفع معها ‘যারা রুকুর পূর্বে কুনূত পড়ার কথা বলেন তাদের ইজমা রয়েছে যে, এই তাকবীরের সাথে রাফয়ে ইয়াদাইনও করতে হবে।’ (তহাবী ১/৩৩২) এ প্রসঙ্গে সাহাবায়ে কেরামের আমল থেকে কিছু দলিল উল্লেখ করা হল। কেননা, সাহাবায়ে কেরামের আমল নিশ্চয় নবী ﷺ-এর সুস্পষ্ট শিক্ষা থেকেই গৃহীত আমল।

১. আবু ইসহাক থেকে বর্ণিত, মাসরূক রহ., আসওয়াদ রহ. ও ইবনে মাসউদ রাযি.-এর অন্য শাগরিদগণ বলেছেন,

وَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ لا يَقْنُتُ إلا فِي الْوِتْرِوَكَانَ يَقْنُتُ قَبْلَ الرُّكُوعِ يُكَبِّرُ إِذَا فَرَغَ مِنْ قِرَاءَتِهِ حِينَ يَقْنُتُ

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. শুধু বিতর নামাযে কুনূত পড়তেন আর তিনি কুনূত পড়তেন রুকুর আগে এবং কিরাআত সমাপ্ত হওয়ার পর কুনূত পড়ার সময় তাকবীর দিতেন। (শরহু মুশকিলিল আছার ১১/৩৭৪ মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ২/৩০৭)

২. ইমাম বুখারী রহ. জুয্‌উ রাফয়িল ইয়াদাইন (পৃ. ৬৮)-এ উল্লেখ করেছেন, عن أبي عثمان كان عمر رضي الله عنه يرفع يديه في القنوت আবু উছমান বলেন, ‘উমর রাযি. কুনূতে রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন।’

৩. ইমাম বাইহাকী রহ. উল্লেখ করেছেন, إن عدداً من الصحابة – رضي الله عنهم – رفعوا أيديهم في القنوت ‘নিশ্চয় সাহাবায়ে কেরামের অনেকেই কুনূতে রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন।’ (আস সুনানুল কুবরা ২/২১১)

পাঁচ. রাফয়ে ইয়াদাইন (হাত উত্তোলন) পর হাত কী করবে? এর তিনটি পদ্ধতি হতে পারে- ১. দোয়ার মতো হাত উঠিয়ে রাখবে ২. রাফয়ে ইয়াদাইন (হাত উত্তোলন) করার পর কওমার মত হাত ছেড়ে দিবে ৩. রাফয়ে ইয়াদাইনের পর কিয়ামের মত দুই হাত বেঁধে নিবে।

প্রথম পদ্ধতিটি হানাফী ইমামগণের নিকট পসন্দনীয় নয়। কেননা, যদিও হাত তুলে দোয়া করাই দোয়ার সাধারণ নিয়ম কিন্তু নামাযের যত জায়গায় দোয়া আছে কোথাও হাত ওঠানোর নিয়ম নেই। সুতরাং দোয়ায়ে কুনুতের সময়ও এর ব্যতিক্রম হবে না। এজন্যই ইবনে উমর রাযি. এই পদ্ধতিকে বিদআত বলেছেন। তিনি বলেন,

أرأيتم قيامكم عند فراغ الإمام من السورة هذا القنوت والله إنه لبدعة ما فعله رسول الله ﷺ غير شهر ثم تركه أرأيتم رفعكم في الصلاة والله إنه لبدعة ما زاد رسول الله ﷺهذا قط فرفع يديه حيال منكبيه، رواه الطبراني في الكبير وفيه شهر بن حوشب ضعفه أحمد وابن معين وأبو زرعة وأبو حاتم والناسئي ووثقه أيوب وابن عدي

দেখ,তোমরা যে ফজরের নামাযেও ইমামের কিরাত শেষে কুনূতের জন্য দাঁড়াও,আল্লাহর কসম,এটা বিদআত। নবী ﷺ তা শুধু এক মাস করেছেন। দেখ, তোমরা যে নামাযে হাত তুলে কুনূত পড়, আল্লাহর কসম, এটিও বিদআত। নবী ﷺ তো শুধু কাঁধ পর্যন্ত হাত তুলতেন। (আলমু’জামুল কাবীর তবারানী; মাজমাউয যাওয়াইদ ২/১৩৭)

উপরোক্ত রেওয়ায়েতের সরল অর্থ এটাই যে, নবী ﷺ কুনূতের জন্য যদিও রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন কিন্তু দোয়ার মতো হাত উঠিয়ে কুনূত পড়তেন না।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় পদ্ধতি সম্পর্কে কথা এই যে, কুনূত যদি রুকুর আগে পড়া হয়, যেমন বিতরের কুনূত, তো রুকুর আগের হালত যেহেতু কিয়ামের হালত, আর কিয়ামের হালতে হাত বাঁধা সুন্নত তাই এ সময় হাত বাঁধা থাকবে। পক্ষান্তরে কুনূতে নাযিলা যেহেতু রুকুর পর কওমার হালতে পড়া হয় আর কওমার হালতে হাত বাঁধা সুন্নত নয় এজন্য এ কুনূত হাত ছেড়ে পড়া হবে।

والله اعلم بالصواب
উত্তর দিয়েছেন
মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী নকশবন্দী
The post বিতির নামায সংক্রান্ত কিছু বিভ্রান্তির জবাব appeared first on কোরআনের জ্যোতি.

হাশরের মাঠে মানুষের অবস্থান যেমন হবে

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি :

মানুষের জীবনকাল আল্লাহ তাআলা কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ। হায়াতের বেশি কোনো মানুষই বাঁচতে পারে না। এটাই মহান আল্লাহ তাআলার সুমহান বিধান।

নির্দিষ্ট জীবনকাল অতিবাহিত করার পর মানুষকে আল্লাহ কাছে ফিরে যেতে হবে। কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার পর পৃথিবীতে আগমনকারী সব মানুষকে হাশরের ময়দানে সমবেত করা হবে।

সেখানে মানুষের জীবনকালের সব কাজের হিসাব-নিকাশ করা হবে। যারা হিসাব গ্রহণের দিন সফলতা লাভ করবে এবং ডান হাতে আমলনামা লাভ করবে তারা হবে সফল। আর যারা জীবনকালের হিসাব প্রদানে ব্যর্থ হবে তাদের জন্য রয়েছে শাস্তি।

মানুষের হিসাব গ্রহণের দিনের বর্ণনা দিয়ে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষকে সত্যের পথে চলার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছেন। মানুষের জীবনকালের হিসাব-নিকাশের বর্ণনাও ওঠে এসেছে এ হাদিসে-

হজরত সাহল ইবনু সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,কেয়ামতের দিন (সব) মানুষকে ধবধবে সাদা রুটির মতো জমিনের ওপর একত্রিত করা হবে। তার মাঝে কারো কোনো পরিচয় থাকবে না। (বুখারি, মুসলিম, মিশকাত)

হিসাব নিকাশে দিনে মানুষের পেরেশানি এত বেশি থাকবে যে, তারা পরস্পরের দিকে তাকানোর কোনো সুযোগ পাবে না। হাদিসে এসেছে-

হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি কেয়ামতের দিন সব মানুষ নগ্ন (খালি) পায়ে উলঙ্গ শরীর নিয়ে খৎনাবিহীন অবস্থায় সমবেত হবে।’
আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসুল! নারী-পুরুষ পরস্পর কি কারো দিকে তাকাবে না?
তিনি (প্রিয়নবি) বললেন, ‘হে আয়েশা! (সে দিন) পরস্পরের দিকে তাকানোর চেয়ে বিষয়টা অনেক কঠিন হবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)

সুতরাং মানুষের উচিত পরকালের হিসাব-নিকাশ প্রদানের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণে আল্লাহর বিধি-বিধান পালনে মনোনিবেশ করা। আল্লাহর একান্ত রহমত কামনা করা। কেননা সেদিন কোনো মানুষই তার রহমত ব্যতিত সফলতা লাভ করতে পারবে না।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তাঁর বিধি-বিধান পালনের একান্ত রহমত লাভের তাওফিক দান করুন। হাশরের ময়দানে ডান হাতে আমলনামা লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

রোযার প্রচলিত নিয়তের হুকুম কী?

প্রশ্ন

From: মোঃনেছার উদ্দিন। সরকারি মাদ্রাসা- ই – আলিয়া, ঢাকা
বিষয়ঃ নিয়্যত সংক্রান্ত

প্রশ্নঃ
السلام عليكم ورحمةالله আহলে খবিশের একজন শায়েখের একটা video দেখলাম ওনি আমাদের দেশে প্রচলিত নামাজের নিয়্যত রোজার নিয়্যত এগুলো প্রচন্ড তুচ্ছতাচ্ছিল্ল করলেন। ওনি বল্লেন যে সেহরি খাওয়া হয় ভোররাতে এবং নিয়্যাত করে আছুমা গাদাম মানে আগামীকালের, যারা এই নিয়ত বানিয়েছে তাদেরকে মূর্খ জাহেল বলে তিরস্কার করলেন, এ জাহেলদের কি জবাব দেয়া যায় দয়াকরে হুজুর আপনার নিকট জানতে চাচ্ছি।

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

আমরা আহলে হাদীসদের মাসলাকের বিরোধীতা করি। তাই বলে তাদের ব্যক্তি আক্রমণ করি না। এটা ঠিক নয়। আহলে হাদীসদের আহলে খবীশ বলা উচিত নয়।

আমরা তাদের সব বিষয়ের বিরোধীতা করি না। যেসব বিষয় কুরআন ও সুন্নাহের খেলাফ শুধু সেসবেরই বিরোধীতা করি।

তাদের সঠিক কথাগুলোকে সমর্থন করি। ভুলগুলোকে শুধরে দেই।

যেমন রোযার নিয়ত সংক্রান্ত আমাদের দেশে প্রচলিত যে দুআ রয়েছে “আছুমা গাদাম” বলে এর সত্যিকার কোন প্রমাণ নেই।

তাই এটি পরিত্যাজ্য। নিয়ত মনে মনে করলেই হয়। মুখে বলা জরুরী নয়।

والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা।

উস্তাজুল ইফতা– জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুর, আমীনবাজার ঢাকা।

ইমেইল– [email protected]

The post রোযার প্রচলিত নিয়তের হুকুম কী? appeared first on আহলে হক বাংলা মিডিয়া সার্ভিস.

ইরান আন্তর্জাতিক হিফজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের আহ্বান

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি :

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক কুরআন হিফজ ও ক্বেরাত প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ বরাবরই ধারাবাহিক সাফল্যে সাক্ষর রেখে চলেছে। আন্তর্জঅতিক হিফজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের এ সুযোগ তৈরি করে দিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ সব সময় অগ্রনী ভূমিকা পালন করে আসছে।

২০১৯ সালের ৮-১৫ এপ্রিল ইরানের রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত হবে ৩৬তম আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতা। এ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি নির্বাচনে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪টি বিভাগে দরখাস্ত আহ্বান করেছে।

যারা অংশগ্রহণ করতে পারবে

> হিফজ বিভাগে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী (নারী-পুরুষ) তাজবিদসহ পূর্ন কুরআন হিফজকারী।
> ক্বেরাত বিভাগে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী শুধু পুরুষ প্রার্থী।
> ক্বেরাত বিভাগে ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সী অন্ধ পুরুষ প্রার্থী।

উল্লেখিত বিভাগগুলোতে উপযুক্ত প্রার্থীরা আগামী ০৬-০১-২০১৯ (রোববার)-এর মধ্যে আবেদন করতে হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দ্বীনি দাওয়াত ও সস্কৃতিক বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ সাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান করা হয়েছে।