নারী ও পুরুষ ইতেকাফকারীদের যে ইবাদাত জরুরি

ইতেকাফ মানে সুনির্দিষ্ট স্থানে নির্ধারিত সময় আবদ্ধ থাকা বা অবস্থান করা। পবিত্র রমজান মাসের শেষ ১০ দিন দুনিয়ার যাবতীয় কাজ ও পরিবার পরিজন বিচ্ছিন্ন থেকে মসজিদে অথবা ঘরের নির্ধারিত পবিত্র স্থানে ইবাদতের নিয়তে অবস্থানই ইতেকাফ। ইতেকাফকারীদের জন্য কিছু বিষয় জানা জরুরি।

সে হিসেবে ১৪৩৯ হিজরি সনে আগামী (০৬ জুন) বুধবার ২০ রমজান রাতেই ইতেকাফের প্রস্তুতি গ্রহণ করে মসজিদে বা ঘরের নির্ধারিত পবিত্র স্থানে অবস্থান করা আবশ্যক।

রাসুলে আরাবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোজা ফরজ হওয়ার পর থেকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ইতেকাফ থেকে বিরত থাকেননি।

এ ইতেকাফের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো পবিত্র লাইলাতুল কদর লাভ করা। যা হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম।’ অর্থাৎ লাইলাতুল কদরের রাতের যে কোনো ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের সমান সাওয়াব ও মর্যাদার অধিকারী।

নারী ও পুরুষ ইতিকাফকারীর ইতেকাফে বসা সম্পর্কে রয়েছে কিছু আবশ্যক করণীয়। যা তুলে ধরা হলো-

>> ২০ রমজান ইফতারের আগে ইতেকাফেরে নিয়তে মসজিদের সুনির্দিষ্ট স্থান বা ঘরের নির্ধারিত সুনির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করা আবশ্যক। সে হিসেবে এ বছর ০৬ জুন (বুধবার) ইফতারের আগেই মসজিদে চলে যাওয়া।

>> ইতেকাফের স্থানে গিয়েই ১০ দিন মসজিদে অবস্থানে ইতেকাফের নিয়ত করা আবশ্যক। ১০ দিনের কমে সুন্নাত ইতেকাফ আদায় হবে না। ১০ দিনের কম হলে তা নফল ইতেকাফে পরিণত হবে।

>> যদি কেউ ১০ দিনের জন্য সুন্নাত ইতেকাফের নিয়ত করে; তবে তার জন্য ইতেকাফ আদায় করা আবশ্যক। ওজর ছাড়া তা থেকে বিরত থাকা বৈধ নয়।

>> ইতেকাফকারীর জন্য মসজিদে অবস্থানকালীন সময়ে স্ত্রী সহবাস করা হারাম। কুরআনে পাকে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন-
‘আর যতক্ষণ তোমরা ইতেকাফ অবস্থায় মসজিদে অবস্থান কর; ততক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রীদের সাথে মেলমেশা কর না। এটা হলো আল্লাহ কর্তৃক বেঁধে দেয়া সীমারেখা।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৭) এমনকি স্ত্রীকে চুমু খাওয়া, আলিঙ্গন করাও বৈধ নয়।

>> মাসনুন ইতেকাফ শুরু করার পর কোনো ব্যক্তির যদি ২/১ দিন ইতেকাফ ভঙ্গ হয় তবে সে কয়দিনের ইতেকাফ পরে কাজা আদায় করে নিতে হবে।

>> পারিশ্রমিমের বিনিময় বা ইফতার-সাহরির বিনিময়ে ইতেকাফ করা ও অন্য কাউকে দিয়ে ইতেকাফ করানো; উভয়টির কোনোটিই বৈধ নয়।

>> ইতেকাফকালীন সময়ে কুরআন তেলাওয়াত, তাসবিহ-তাহলিল করা, দ্বীনি মাসআলা-মাসায়েল আলোচনা করা, নিজের শিক্ষা অর্জন করা এবং অন্যকে শিখানো বৈধ এবং সর্বোত্তম কাজ।

>> ইতেকাফকালীন সময়ে চুপচাপ থাকাকে ইবাদাত-বন্দেগি মনে করে চুপ থাকা উচিত নয়, বরং তাতে ইতেকাফ মাকরূহ হবে। তবে মুখের গোনাহ থেকে বিরত থাকতে চুপ থাকা অবশ্যই বড় ইবাদত।

>> ইতেকাফের স্থানকে ব্যবসাস্থল বানানো মাকরূহ। ওয়াজিব ইতেকাফ ফাসিদ বা বাতিল হয়ে গেলে পরবর্তীতে তা কাজা আদায় করাও ওয়াজিব।

>> ইতেকাফ নিজের কারণে ফাসিদ/বাতিল হোক অথবা হায়েজ (ঋতুস্রাব) বা নিফাসের (রক্তস্রাব) কারণে বাতিল হোক। পরবর্তীতে তা আদায় করা ওয়াজিব।

>> মহিলারা নিজেদের বাসস্থানের নির্ধারিত স্থানে কাপড় দিয়ে পর্দা টেনে ইতেকাফে বসতে পারবে। তবে সেখানে যেন কোনো গায়রে মাহরাম তথা বেগানা পুরুষ না আসে।

>> যে সব নারীদের স্বামী আছে, অবশ্যই তাদেরকে ইতেকাফের আগে স্বামীর অনুমতি নিতে হবে। স্বামীর অনুমতি না থাকলে সে নারীর জন্য ইতেকাফ বৈধ নয়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব পুরুষ ও নারীকে ইতেকাফ পালনে উল্লেখিত বিষয়গুলো যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *