মানুষের খারাপ আচরণে কষ্ট পাবেন কেন?

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

মানুষ সামাজিক জীব। চলার পথে পরস্পরের মতের মিল বা অবুঝের কারণে খারাপ আচরণ হতে পারে। অন্যের আচরণ যত খারাপই হোক না কেন? তাতে দুঃখ বা কষ্ট পাওয়ার কিছুই নেই। মানুষ কিভাবে আল্লাহকে কষ্ট দেয় সে কথা তিনি তুলে ধরেছেন হাদিসে কুদসিতে। যে বর্ণনা মানুষকে অন্যের আচরণে কষ্ট পাওয়া থেকে নিবৃত রাখে।

আর তিনিই মানুষকে শিখিয়েছেন অন্যের খারাপ আচরণে কি করা উচিত। যার কিছু বিবরণ তুলে ধরা হলো-

হজরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর কিতাবুয যুহদ-এ একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। মানুষ বা পরিবার-পরিজনের কাছ থেকে দুঃখ –বেদনা বা কষ্ট পাওয়ার লোকদের জন্য ধৈয্য ধারণ করার এক বিশেষ টনিক।

– রাসুলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়অ সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা মানুষকে উদ্দেশ্য করেন বলেন, ‘হে আদম সন্তান! তুমি বড়ই অদ্ভূত! আমি তোমাকে সৃষ্টি করেছি অথচ তুমি আমাকে বাদ দিয়ে অন্যের ইবাদত কর; আমি তোমাকে রিজিক দান করলাম অথচ তুমি আমাকে বাদ দিয়ে অন্যের প্রশংসা কর।

তোমাকে আমি নেয়ামত দিয়ে তোমার প্রতি আমার ভালোবাসার প্রকাশ ঘটাই অথচ তোমার কাছে আমার কোনো প্রয়োজন নেই। তুমি পাপ করে আমার অবাধ্যতা করছ অথচ তুমি আমার কাছে ফকির, অভাবী ও মুখাপেক্ষী। আমার কল্যাণ তোমার কাছে অবতীর্ণ হচ্ছে অথচ তোমার পাপ ও মন্দকর্ম আমার দিকে ওঠে আসছে।’

উল্লেখিত হাদিস থেকে প্রতিয়মান হয় যে, নিজ সন্তান বা আপন মানুষ কিংবা যে মানুষের উপকার করেছেন তার দ্বারাই আপনি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বা সেই আপনার বিরোধীতায় সর্বাগ্রে কাজ করছে। মানুষের বা প্রিয়জনের এমন আচরণে কষ্ট পাওয়ার কিছুই নেই।

বরং তাদের হেদায়াত বা মুক্তির ব্যাপারে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করুন। তাদের অনিষ্ট থেকে বেঁচে থাকতে সেই মহান মনিবের দারস্থ হন; যিনি শোকরকারী ও নাশোকরকারী উভয়ের রিজিক দাতা।

– এ সব বিষয়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। হজরত ঈসা আলাইহিস সালাম তাঁর নবুয়তি জিন্দেগিতে আল্লাহর ইচ্ছায় ৩০ জন রোগাক্রান্ত ব্যক্তি ও অন্ধ লোককে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন, সুস্থ করেছিলেন। পরবর্তীতে এ ব্যক্তিরাও হজরত ঈসা আলাইহিস সালামের বিরুদ্ধে চরম শত্রুতা পোষণ করেছিলেন।

– বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবুয়ত লাভের আগে মক্কার ভালো-মন্দ সব মানুষের কাছে ছিলেন আল-আমিন বা বিশ্বস্ত। এমনকি অন্ধকার যুগের চরম অবিশ্বাসের সময়ে মানুষের কাছে তিনি হয়ে ওঠেছিলেন মূল্যবান সম্পদের নিরাপদ আমানতদার।

অথচ সেই বিশ্বাসী ও আমানতদার মানুষটি যখনই ঈমানের দাওয়াত নিয়ে সে মানুষগুলোর সামনে হাজির হলেন, তখনই তিনি সে মানুষগুলোর কাছে হয়ে গেলেন মক্কার সবচেয়ে বড় জাদুকর। তাদের কাছেই তাঁকে সহ্য করতে হয়েছে অসংখ্য অত্যাচার-নির্যাতন ও যন্ত্রণা। যা তিনি ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবেলা করেছিলেন।

– আর তাইতো আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি মানুষের আচরণের কথা তুলে ধরে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইলি ওয়া সাল্লামকে জানিয়ে দিয়েছেন; কোনো মানুষের খারাপ আচরণে কষ্ট পাওয়ার কিছুই নেই। যেখানে আমি সৃষ্টিকর্তা হওয়া সত্ত্বেও মানুষ আমার অবাধ্যতায় চরমভাবেলিপ্ত তথাপিও আমি তাদের রিজিক দিয়ে লালন-পালন করি। এ হাদিস মুসলিম উম্মাহর জন্য এক মহান শিক্ষা।

– সুতরাং মানুষের আচরণে দুঃখ না করে ধৈর্য ধারণ করায় রয়েছে উত্তম পুরস্কার। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘সে সব মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত নয়, যারা ঈমান আনে, সৎকাজ করে, পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয় এবং উপদেশ দেয় ধৈর্য ধারণের।’ (সুরা আসর : আয়াত ৩)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে মানুষের অন্যায় বা খারাপ আচরণে কষ্ট না পেয়ে কুরআন এবং হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী ধৈর্য ধারণ করার তাওফিক দান করুন। পরকালের সর্বোত্তম পুরস্কার লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *