রমজানের পরেও ইবাদত অব্যাহত রাখতে করণীয়

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

রমজান পরবর্তী সময়ে ইবাদত-বন্দেগিতে মনোযোগী হতে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে তার কাছে ধরণা দিতে দোয়া শিখিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা কুরআনে সে দোয়া এভাবে তুলে ধরেছেন-

رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوْبَنَا بَعْدَ اِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَّدُنْكَ رَحْمَةً اِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ

উচ্চারণ : রাব্বানা লা তুঝেগ কুলুবানা বাদা ইজ হাদাইতানা ওয়া হাবলানা মিল্লাদুনকা রাহমাতান ইন্নাকা আংতাল ওয়াহহাব।

অর্থ : ‌হে আমাদের প্রতিপালক! সরল-সঠিক পথ দেখানোর পর তুমি আমাদের অন্তরকে বিপথে নিও না এবং তোমার কাছ থেকে আমাদেরকে করুণা কর। নিশ্চয় তুমি মহান দাতা।

মুমিন বান্দা যেন রমজান পরবর্তী সময়েও সঠিক পথে ইবাদত-বন্দেগিতে নিজেদেরে নিয়োজিত রাখতে পারে, সে তাওফিক কামনায় দোয়া করতেই আল্লাহ তাআলা এ আয়াত তুলে ধরেছেন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজান অতিবাহিত হওয়ার পরও সাহাবায়ে কেরামকে রমজান মাসের ইবাদত অব্যাহত রাখার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন।

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখে, এরপর শাওয়ালের ৬টি রোজা রাখে, সে যেন গোটা বছর রোজা রাখে।’ (ইবনে মাজাহ)

মূলত নামাজের মতো বান্দার সব স্থায়ী আমলগুলো আল্লাহর কাছে অনেক প্রিয়। তাই রমজান পরবর্তী সময়ে নফল নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত, জিকির-আজকার, তাসহিব-তাহলিল, দান-সাদকাসহ যাবতীয় ইবাদত বন্দেগিকে স্থায়ীভাবে করাই হলো রোজাদার মুমিন মুসলমানের প্রকৃত কাজ।

বিশেষ করে রমজানের পরে প্রত্যেক আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ আইয়ামের বিজের রোজা পালন করলে রমজানের আবহ ও পরিবেশ অব্যাহত থাকবে।

সুতরাং যারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শে নিজেদের সাজাতে চান, স্বাভাবিক ভাবেই তারা রমজান মাসের পরেও আল্লাহর আনুগত্যে ইবাদত-বন্দেগিতে নিজেদের নিয়োজিত রাখবে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রমজান পরবর্তী সময়েও ইবাদত বন্দেগিতে নিজেদেরকে নিয়োজিত রাখতে কুরআন ও সুন্নাহর ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। রমজানের পরে নিজেদেরেকে স্থায়ী ইবাদতকারী হিসেবে সাব্যস্ত করতে কুরআনে বর্ণিত দোয়া বেশি বেশি পড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *