রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয় কারা?

রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয় কারা?
প্রশ্ন: হাদীসে এসেছে, আত্মীয়তা সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না। ইসলামের দৃষ্টিতে সে সব আত্মীয় কারা?
——————————
উত্তর:
ইসলামে আত্মীয়তার সম্পর্ক বলতে বুঝায়, মা ও বাবার দিক থেকে রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়দেরকে। সুতরাং –
🔘 মা, নানী, নানীর মা…দাদী, দাদীর মা… এবং তাদের উর্ধস্তন নারীগণ।
🔘 দাদা, দাদার পিতা…, নানা, নানার পিতা… এবং তাদের উর্ধস্তন পুরুষগণ।
🔘 ছেলে, মেয়ে, তাদের সন্তান-সন্তুতি এবং তাদের অধ:স্তন ব্যক্তিবর্গ।
🔘 ভাই, বোন, তাদের সন্তান-সন্তুতি এবং তাদের অধ:স্তন ব্যক্তিবর্গ।
🔘 চাচা, ফুফু, মামা, খালা এবং তাদের সন্তানগণ
এরা সবাই আরহাম বা রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়ের অন্তর্ভূক্ত। এদের সাথে সুসম্পর্ক রক্ষা করা জান্নাতে প্রবেশের অন্যতম কারণ বলে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। তাছাড়া আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَأُولُو الْأَرْحَامِ بَعْضُهُمْ أَوْلَىٰ بِبَعْضٍ
“বস্তুতঃ যারা (রক্ত সম্পর্কীয়) আত্নীয়, আল্লাহর বিধান মতে তারা পরস্পর বেশী হকদার।” (সূরা আনফাল: ৭৫)
আর নবী সা. আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন কারী জান্না‌তে প্র‌বেশ কর‌বে না বলে ঘোষণা করেছেন। যেমন,
জুবাইর বিন মুতঈম (রা) থে‌কে ব‌র্ণিত যে, তি‌নি নাবী (স) কে বল‌তে শু‌নে‌ছেন যে,
(لا يدخل الجنة قاطع الرحم)
“আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্না‌তে প্র‌বেশ কর‌বে না।” [বুখারী ও মুস‌লিম]এছাড়া ও মর্মে বহু হাদীস রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, স্ত্রীর নিকটাত্মীয়গণ স্বামীর নিকটাত্মীয় নয়। অনুরূপভাবে স্বামীর আত্মীয়গণ স্ত্রীর নিকটাত্মীয় নয়। ত‌বে তাদেরকে সাহায্য সহ‌যে‌া‌গিতা কর‌া এবং তাদের সাথে সদারণ করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামে এটি ভা‌লো কা‌জের অন্তর্ভুক্ত এবং এ মাধ্যমে সওয়াব হবে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তওফিক দানকারী।
আল্লাহু আলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *