লায়লাতুল কদরের ফজিলত এবং রমাদ্বনের শেষ দশকে লায়লাতুল কদর রয়েছে 

>>> লায়লাতুল কদরের ফজিলত এবং রমাদ্বনের শেষ দশকে লায়লাতুল কদর রয়েছে <<<

✔ ✔ লায়লাতুল কদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠঃ

لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ تَنَزَّلُ الْمَلائِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِمْ مِنْ كُلِّ أَمْرٍ سَلامٌ هِيَ حَتَّى مَطْلَعِ الْفَجْرِ

লায়লাতুল কদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। এতে প্রত্যেক কাজের জন্য মালাইকা ও রূহ (জিবরীল) অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশে। এই শান্তি ও নিরাপত্তা ফজর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। আল-কাদর, ৯৭/৩-৫

✔ লায়লাতুল কদর হল বরকতময় রাতঃ

إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُبَارَكَةٍ إِنَّا كُنَّا مُنْذِرِينَ فِيهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ

নিশ্চয় আমি এই কুরআন নাযিল করেছি এক বরকতময় রাতে, আমি তো সতর্ককারী। এই রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় ফায়সালা দেয়া হয়ে থাকে। আদ-দুখান, ৪৪/৩-৪

✔ লায়লাতুল কদরে অতীতের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়ঃ

আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

مَنْ يَقُمْ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ

যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় লায়লাতুল কদরে ইবাদতে রাত্রি জাগরণ করবে, তাঁর অতীতের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। সহীহুল বুখারী: ৩৫, সহিহ মুসলিম: ১৬৬৭

আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্নিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

مَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ، وَمَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ ‏"‏‏.‏

যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় লায়লাতুল কদরে ইবাদতে রাত্রি জাগরণ করবে, তাঁর অতীতের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে এবং যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রমাদ্বনে সওম পালন করবে, তাঁরও অতীতের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। সহীহুল বুখারী: ১৯০১

আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ ‏"‏ ‏.‏

যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রমাদ্বনের সওম পালন করবে তার পূর্ববর্তী গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে আর যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় লায়লাতুল কাদরে ইবাদতে রাত্রি জাগরণ করবে তার পূর্ববর্তী গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। সহীহুল বুখারী: ২০১৪, সহিহ মুসলিম: ১৬৬৬

✔ ✔ রমাদ্বনের শেষ দশকেই লায়লাতুল কদর রয়েছেঃ

আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

تَحَرَّوْا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ

রমাদ্বনের শেষ দশকে তোমরা লায়লাতুল কদর তালাশ কর। সহীহুল বুখারী: ২০২০, সহিহ মুসলিম: ২৬৬৬

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

فَمَنْ كَانَ مُتَحَرِّيْهَا فَلْيَتَحَرَّهَا مِنَ الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ

যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করতে চায় সে যেন রমাদ্বনের শেষ দশকে তা অনুসন্ধান করে। সহীহুল বুখারী: ১১৫৮, সহিহ মুসলিম: ২৬৫৬

আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

رِيتُ لَيْلَةَ الْقَدْرِ ثُمَّ أَيْقَظَنِي بَعْضُ أَهْلِي فَنُسِّيتُهَا فَالْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الْغَوَابِرِ

আমাকে স্বপ্নে কদরের রাত দেখনো হয়েছিল। অতঃপর আমার পরিবারের কেউ আমাকে ঘূম থেকে জাগানোর ফলে আমাকে তা ভূলিয়ে দেওয়া হয়েছে সুতরাং তোমরা শেষ দশকে তা তালাশ কর। সহিহ মুসলিম: হাদিস ২৬৫৮

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

الْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ – يَعْنِي لَيْلَةَ الْقَدْرِ – فَإِنْ ضَعُفَ أَحَدُكُمْ أَوْ عَجَزَ فَلاَ يُغْلَبَنَّ عَلَى السَّبْعِ الْبَوَاقِي

তোমরা রমাদ্বনের শেষ দশকে কদরের রাত অনুসন্ধান কর। তোমাদের কেউ যদি দূর্বল অথবা অপারগ হয়ে পরে তবে সে যেন শেষ সাত রাত অলসতা না করে। সহিহ মুসলিম: ২৬৫৫

আব্দুল্লাহ ইবনু উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

تَحَيَّنُوا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ أَوْ قَالَ ‏"‏ فِي التِّسْعِ الأَوَاخِرِ

তোমরা রমাদ্বনের শেষ দশকে কদরের রাত অনুসন্ধান কর অথবা তিনি বলেছেন, শেষের সাত রাতে অনুসন্ধান কর। সহিহ মুসলিম: ২৬৫৭

✔ রমাদ্বনের শেষ সাত রাতে লায়লাতুল কদর হতে পারেঃ

আব্দুল্লাহ ইবনু উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

تَحَرَّوْا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي السَّبْعِ الأَوَاخِرِ ‏

রমাদ্বনের শেষ সাত রাতে লায়লাতুল কদর অন্বেষণ কর। সহিহ মুসলিম: ২৬৫২

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

أَنَّهُ فِي السَّبْعِ فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ‏.

তা (লায়লাতুল কদর) রমাদ্বনের শেষ দশকের শেষ সাত রাতের মধ্যে রয়েছে। সহীহুল বুখারী: ৪৪৭০

আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত,

أَنَّ رِجَالاً، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أُرُوا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي الْمَنَامِ فِي السَّبْعِ الأَوَاخِرِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ أَرَى رُؤْيَاكُمْ قَدْ تَوَاطَأَتْ فِي السَّبْعِ الأَوَاخِرِ فَمَنْ كَانَ مُتَحَرِّيَهَا فَلْيَتَحَرَّهَا فِي السَّبْعِ الأَوَاخِرِ ‏"‏ ‏.‏

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কতিপয় সাহাবীকে স্বপ্নে দেখান হল যে, (রমাদ্বনের) শেষ সাত রাতের মধ্যে কদরের রাত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমাকেও তোমাদের স্বপ্নের অনুরূপ দেখানো হয়েছে। শেষের সাত রাত সম্পর্কে সকলের স্বপ্ন পরস্পর সামনঞ্জ্যপূর্ণ। অতএব যে ব্যক্তি তা (কদরের রাত) অন্বেষণ করবে, সে যেন রমাদ্বনের শেষ সাত রাতের মধ্যেই অম্বেষণ করে। সহীহুল বুখারী: ২০১৫, সহিহ মুসলিম: ২৬৫১

আব্দুল্লাহ ইবনু উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত,

أَنَّ أُنَاسًا، أُرُوا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي السَّبْعِ الأَوَاخِرِ، وَأَنَّ أُنَاسًا أُرُوا أَنَّهَا فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم"‏ الْتَمِسُوهَا فِي السَّبْعِ الأَوَاخِرِ"‏‏

একদল লোককে লায়লাতুল কদর (রমাদ্বনের) শেষ সাত রাতের মধ্যে রয়েছে বলে স্বপ্নে দেখানো হয়েছে। আর কিছু সংখ্যক লোককে তা শেষ দশ রাতের মধ্যে দেখানো হয়েছে। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা লায়লাতুল কদর শেষ সাত রাতের মধ্যেই তালাশ কর। সহীহুল বুখারী: ৬৯৯১

সালিম ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (র) থেকে বর্ণিত, তার পিতা আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেনঃ

سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ لِلَيْلَةِ الْقَدْرِ ‏ "‏ إِنَّ نَاسًا مِنْكُمْ قَدْ أُرُوا أَنَّهَا فِي السَّبْعِ الأُوَلِ وَأُرِيَ نَاسٌ مِنْكُمْ أَنَّهَا فِي السَّبْعِ الْغَوَابِرِ فَالْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الْغَوَابِرِ ‏"‏ ‏.‏

আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে লায়লাতুল কদর সস্পর্কে বলতে শুনেছি, তোমাদের কতিপয় লোককে দেখান হল যে, তা রমাদ্বনের প্রথম সাত রাতের মধ্যে, আবার কতিপয় লোককে দেখান হয়েছে, তা শেষ সাত রাতের মধ্যে অতএব রমাদ্বনের শেষ দশকের মধ্যে তা অন্বেষণ কর। সহিহ মুসলিম: ২৬৫৪

✔ রমাদ্বনের শেষ দশকের বিজোর রাতে লায়লাতুল কদর হতে পারেঃ

আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহ আনহা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

تَحَرَّوْا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي الْوِتْرِ مِنَ الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ

তোমরা রমাদ্বানের শেষ দশকের বিজোর রাতে লায়লাতুল কদরের তালাশ কর। সহীহুল বুখারী: ২০১৭

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

فَالْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ فِي وِتْرٍ

তোমরা শেষ দশকের বিজোর তারিখে তা (লায়লাতুল কদর) তালাশ কর। সহীহুল বুখারী: ২০১৬, ২০৩৬, ২৬৫৯, ২৬৬২,

সালিম (র) থেকে তার পিতার সুত্রে বর্ণিত। তার পিতা বলেন,

رَأَى رَجُلٌ أَنَّ لَيْلَةَ الْقَدْرِ لَيْلَةُ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ ‏.‏ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ أَرَى رُؤْيَاكُمْ فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ فَاطْلُبُوهَا فِي الْوِتْرِ مِنْهَا ‏"‏ ‏.‏

এক ব্যক্তি (রমাদ্বনের) ২৭তম রাতে লায়লাতুল কদর দেখতে পেল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমাকেও তোমাদের মত স্বপ্ন দেখান হয়েছে যে, রমাদ্বনের শেষ দশকে তা নিহিত আছে অতএব এর বেজোড় রাত গুলোতে তা অনুসন্ধান কর। সহিহ মুসলিম: ২৬৫৩

✔ ২১শে রমাদ্বনের রাত লায়লাতুল কদর হতে পারেঃ

আবু সাঈদ খূদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

وَقَدْ رَأَيْتُ هَذِهِ اللَّيْلَةَ فَأُنْسِيتُهَا فَالْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ فِي كُلِّ وِتْرٍ وَقَدْ رَأَيْتُنِي أَسْجُدُ فِي مَاءٍ وَطِينٍ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ مُطِرْنَا لَيْلَةَ إِحْدَى وَعِشْرِينَ فَوَكَفَ الْمَسْجِدُ فِي مُصَلَّى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَنَظَرْتُ إِلَيْهِ وَقَدِ انْصَرَفَ مِنْ صَلاَةِ الصُّبْحِ وَوَجْهُهُ مُبْتَلٌّ طِينًا وَمَاءً ‏.‏

আমি এই (কদরের) রাত স্বপ্নে দেখেছিলাম কিন্তু আমাকে তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। অতএব তোমরা শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোত তা অনুসন্ধান কর। আমি স্বপ্নে নিজেকে পানি ও কাদার মধ্যে সিজদা করতে দেখেছি। আবু সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ২১তম রাতে আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হয়। তিনি যখন ফজরের স্বলাত থেকে ফিরলেন, তখন আমি তাঁর মুখমন্ডল কাদা ও পানিতে সিক্ত দেখলাম। সহিহ মুসলিম: ২৬৫৯, ২৬৬২

✔ ২৩শে রমাদ্বনের রাত লায়লাতুল কদর হতে পারেঃ

আব্দুল্লাহ ইবনু উনায়স রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

"‏أُرِيتُ لَيْلَةَ الْقَدْرِ ثُمَّ أُنْسِيتُهَا وَأَرَانِي صُبْحَهَا أَسْجُدُ فِي مَاءٍ وَطِينٍ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَمُطِرْنَا لَيْلَةَ ثَلاَثٍ وَعِشْرِينَ فَصَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَانْصَرَفَ وَإِنَّ أَثَرَ الْمَاءِ وَالطِّينِ عَلَى جَبْهَتِهِ وَأَنْفِهِ ‏.‏ قَالَ وَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُنَيْسٍ يَقُولُ ثَلاَثٍ وَعِشْرِينَ ‏.‏‏‏‏

আমাকে কদরের রাত দেখান হয়েছিল অতঃপর তা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। আমাকে ঐ রাতের ভোর সম্পর্কে স্বপ্নে আরও দেখান হয়েছে যে, আমি পানি ও কাদার মধ্যে সিজদা করছি। রাবী বলেন, অতএব ২৩তম রাতে বৃষ্টি হল এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাথে ফজরের স্বলাত আদায় করে যখন ফিরলেন, তখন আমরা তাঁর কপাল ও নাকের ডগায় কাদা ও পানির চিহ্ন দেখতে পেলাম। রাবী বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনু উনায়স রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলতেন, তা ছিল ২৩তম রমাদ্বন। সহিহ মুসলিম: ২৬৬৫

✔ ২৭শে রমাদ্বনের রাত লায়লাতুল কদর হতে পারেঃ

عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ أُبَىٌّ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ وَاللَّهِ إِنِّي لأَعْلَمُهَا وَأَكْثَرُ عِلْمِي هِيَ اللَّيْلَةُ الَّتِي أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِقِيَامِهَا هِيَ لَيْلَةُ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ – وَإِنَّمَا شَكَّ شُعْبَةُ فِي هَذَا الْحَرْفِ – هِيَ اللَّيْلَةُ الَّتِي أَمَرَنَا بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ قَالَ وَحَدَّثَنِي بِهَا صَاحِبٌ لِي عَنْهُ ‏.‏

উবাই ইবনু কা’ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি লায়লাতুল কাদর সস্পর্কে বলেন, আল্লাহর কসম! আমি তা অবশ্যই জানি এবং আমার অধিক ধারণা যে, সেই রাত যে রাত জেগে ইবাদত করার জন্য আল্লাহর রাসুল আমাদের আদেশ দিয়েছিলেন, সেটি সাতাশের রাত। রাবী শুবা এ বাক্যে সন্দেহ পোষণ করছেন, তা সেই রাত যে রাত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমার এক সঙ্গী আমাকে তাঁর কাছ থেকে একথাটি বর্ণনা করেছেন। সহিহ মুসলিম: ১৬৭১, ২৬৬৮

عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ يَقُولُ مَنْ قَامَ السَّنَةَ أَصَابَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ – فَقَالَ أُبَىٌّ وَاللَّهِ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ إِنَّهَا لَفِي رَمَضَانَ – يَحْلِفُ مَا يَسْتَثْنِي – وَوَاللَّهِ إِنِّي لأَعْلَمُ أَىُّ لَيْلَةٍ هِيَ ‏.‏ هِيَ اللَّيْلَةُ الَّتِي أَمَرَنَا بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِقِيَامِهَا هِيَ لَيْلَةُ صَبِيحَةِ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ وَأَمَارَتُهَا أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ فِي صَبِيحَةِ يَوْمِهَا بَيْضَاءَ لاَ شُعَاعَ لَهَا ‏.‏

আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, যে ব্যক্তি সারা বছর ইবাদতে রাত্রি জাগরণ করবে সে লায়লাতুল কাদর পাবে; তখন উবাই রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন, সেই আল্লাহর কসম তিনি ব্যতীত আর কোন মাবুদ নেই। তা অবশ্যই রমাদ্বনে রয়েছে। তিনি কসম করে বলেছিলেন এবং তিনি কোন ব্যতিক্রম ছাড়াই কসম করে বলেছিলেন। আবার তিনি আল্লাহর কসম খেয়ে বললেন, ভাল করেই জানি যে, সেটি কোন রাত; সেটি হল সে রাত যে রাত জেগে ইবাদত করার জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের হুকুম করেছিলেন। যে রাতের ভোর হয়, সাতাশে রমাদ্বন আর সে রাতের আলামত হল এই যে, দিনের সূর্য উদিত হয় উজ্জল হয়ে তাতে (কিরণের) তীব্রতা থাকে না। সহিহ মুসলিম: ১৬৭০, ২৬৬৭

✔ ২২শে, ২৪শে, ২৬শে রমাদ্বনের রাত লায়লাতুল কদর হতে পারেঃ

আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

هِيَ فِي الْعَشْرِ، هِيَ فِي تِسْعٍ يَمْضِينَ أَوْ فِي سَبْعٍ يَبْقَيْنَ ‏"‏‏.‏ يَعْنِي لَيْلَةَ الْقَدْرِ‏.‏ قَالَ عَبْدُ الْوَهَّابِ عَنْ أَيُّوبَ‏.‏ وَعَنْ خَالِدٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ الْتَمِسُوا فِي أَرْبَعٍ وَعِشْرِينَ‏.‏

তা শেষ দশকে, তা অবশিষ্ট নবম রাতে অথবা অবশিষ্ট সপ্তম রাতে অর্থাৎ লাইলাতুল কাদর। ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে অন্য সূত্রে বর্ণিত যে, তোমরা ২৪তম রাতে তালাশ কর। সহীহুল বুখারী: ২০২২

আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়াসাল্লাম বলেছেন:

الْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي تَاسِعَةٍ تَبْقَى، فِي سَابِعَةٍ تَبْقَى، فِي خَامِسَةٍ تَبْقَى ‏"‏‏.‏

তোমরা তা (লাইলাতুল কাদর) রমাদ্বনের শেষ দশকে তালাশ কর। লাইলাতুল কাদর (শেষ দিক হতে গনণায়) নবম, সপ্তম বা পঞ্চম রাত অবশিষ্ট থাকে। সহীহুল বুখারী: ২০২১

উবাদা ইবনু সামিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ

خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِيُخْبِرَ النَّاسَ بِلَيْلَةِ الْقَدْرِ، فَتَلاَحَى رَجُلاَنِ مِنَ الْمُسْلِمِينَ، قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ خَرَجْتُ لأُخْبِرَكُمْ، فَتَلاَحَى فُلاَنٌ وَفُلاَنٌ وَإِنَّهَا رُفِعَتْ، وَعَسَى أَنْ يَكُونَ خَيْرًا لَكُمْ، فَالْتَمِسُوهَا فِي التَّاسِعَةِ وَالسَّابِعَةِ وَالْخَامِسَةِ ‏"

একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদেরকে ‘লায়লাতুল কদর’ সম্বন্ধে জানানোর জন্য বের হলেন। তখন দু’জন মুসলিম ঝগড়া করছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তোমাদেরকে লাইলাতুল কাদরের সংবাদ দিবার জন্য বের হয়েছিলাম, তখন অমুক, অমুক পরস্পর ঝগড়া করছিল। এ জন্যে ঐ খবরের ‘ইলম’ আমার থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে। এটা হয়তো, তোমাদের জন্য কল্যাণকর। অতএব তোমরা তা রমাদ্বনের শেষ দশকের নবম, সপ্তম ও পঞ্চম রাতে (অবশিষ্ট রেখে) তালাশ করবে। সহীহুল বুখারী: ৪৯, ২০২৩, ৬০৪৯

আবু সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

"يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّهَا كَانَتْ أُبِينَتْ لِي لَيْلَةُ الْقَدْرِ وَإِنِّي خَرَجْتُ لأُخْبِرَكُمْ بِهَا فَجَاءَ رَجُلاَنِ يَحْتَقَّانِ مَعَهُمَا الشَّيْطَانُ فَنُسِّيتُهَا فَالْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ الْتَمِسُوهَا فِي التَّاسِعَةِ وَالسَّابِعَةِ وَالْخَامِسَةِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ قُلْتُ يَا أَبَا سَعِيدٍ إِنَّكُمْ أَعْلَمُ بِالْعَدَدِ مِنَّا ‏.‏ قَالَ أَجَلْ ‏.‏ نَحْنُ أَحَقُّ بِذَلِكَ مِنْكُمْ ‏.‏ قَالَ قُلْتُ مَا التَّاسِعَةُ وَالسَّابِعَةُ وَالْخَامِسَةُ قَالَ إِذَا مَضَتْ وَاحِدَةٌ وَعِشْرُونَ فَالَّتِي تَلِيهَا ثِنْتَيْنِ وَعِشْرِينَ وَهْىَ التَّاسِعَةُ فَإِذَا مَضَتْ ثَلاَثٌ وَعِشْرُونَ فَالَّتِي تَلِيهَا السَّابِعَةُ فَإِذَا مَضَى خَمْسٌ وَعِشْرُونَ فَالَّتِي تَلِيهَا الْخَامِسَةُ

হে লোক সকল! আমাকে কদরের রাত সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছিল এবং আমি তোমাদের তা জানানোর জন্য বের হয়ে এলাম। কিন্তু দুই ব্যক্তি পরস্পর ঝগড়া করতে করতে উপস্থিত হল এবং তাদের সাথে ছিল শয়তান। তাই আমি তা ভুলে গেছি। অতএব তোমরা তা রমাদ্বান মাসের শেষ দশের রাতে অন্বেষণ কর। তোমরা তা ৯ম, ৭ম ও ৫ম রাতে অন্বেষণ কর। রাবী বলেন, আমি বললাম, হে আবু সাঈদ! আপনি সংখ্যা সম্পর্কে আমাদের তুলনায় অধিক জ্ঞানী। তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমরাই এ বিষয়ে তোমাদের চেয়ে অধিক হকদার। আমি বললাম ৯ম, ৭ম ও ৫ম সংখ্যাগুলো কি? তিনি বললেন, যখন ২১তম রাত অতিবাহিত হয়ে যায় এবং ২২তম রাত শুরু হয় এই হচ্ছে ৯ম তারিখ। ২৩ রাত অতিক্রান্ত হওয়ার পরবর্তী রাত হচ্ছে ৭ম তারিখ এবং ২৫তম রাত অতিবাহিত হওয়ার পরবর্তী রাত হচ্ছে ৫ম তারিখ। সহিহ মুসলিম: ২৬৬৪

✔ ✔ লায়লাতুল কদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। যা ৮৩ বছর ৪ মাসের সমান। লায়লাতুল কদর পেলে হলে রমাদ্বনের শেষ দশ রাত গুলোতে ইবাদত করতে হবে তবেই লায়লাতুল কদর পাওয়া যাবে। কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

فَمَنْ كَانَ مُتَحَرِّيْهَا فَلْيَتَحَرَّهَا مِنَ الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ

যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করতে চায় সে যেন রমাদ্বনের শেষ দশকে তা অনুসন্ধান করে। সহীহুল বুখারী: ১১৫৮, সহিহ মুসলিম: ২৬৫৬

✔ ✔ লায়লাতুল কদরের প্রস্তুতিঃ আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا دَخَلَ الْعَشْرُ شَدَّ مِئْزَرَهُ، وَأَحْيَا لَيْلَهُ، وَأَيْقَظَ أَهْلَهُ‏.‏

যখন রমাদ্বনের শেষ দশক আসত তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোমর বেঁধে নামতেন (বেশী বেশী ইবাদতের প্রস্তুতি নিতেন) এবং রাত্রে জেগে থাকতেন ও পরিবার-পরিজনকে জাগিয়ে দিতেন। বুখারীঃ ২০২৪, সহিহ মুসলিম: ২৬৭৭

✔ ✔ কদরের রাতের একটি আলামতঃ আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে কদরের রাত সস্পর্কে আলাপ-আলোচনা করছিলাম। তিনি বললেন,

أَيُّكُمْ يَذْكُرُ حِينَ طَلَعَ الْقَمَرُ وَهُوَ مِثْلُ شِقِّ جَفْنَةٍ

তোমাদের মধ্যে কে সেই (রাত) স্বরন রাখবে, যখন চাঁদ উদিত হবে থালার একটি টূকরার ন্যায়। সহিহ মুসলিম: ২৬৬৯

‘লাইলাতুল কদরের দুআ >>>>

যে দুআটি বেশী বেশী পাঠ করা যা নবী (সাঃ) মা আয়েশা (রাযিঃ) কে শিখিয়েছিলেন।

মা আয়েশা নবী (সাঃ) কে জিজ্ঞাসা করেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমি লাইলাতুল কদর লাভ করি, তাহলে কি দুআ পাঠ করবো? তিনি (সাঃ) বলেনঃ বলবে,

اللْهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّ

আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল্ আফওয়া ফা’ফু আন্নী”।

অর্থ, হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাশীল। ক্ষমা পছন্দ কর, তাই আমাকে ক্ষমা কর”। [আহমদ,৬/১৮২]

তিনি বললেন, বল:

“আল্লাহুম্মা ইন্নাকা ‘আফুউউন তুহিব্বুল ‘আফওয়া ফা ‘ফুউ ‘আন্নী”

(হে আল্লাহ আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমাকে ভালোবাসেন, তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন।)” তিরমিযী, হাদীস নং ৩৫১৩।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *